Monday, April 1, 2019

তুমি ওয়াশিকুরই

দেখতে দেখতে ৪ বছর পেরিয়ে গেল।

"একসময় সবাই মানুষ ছিল।
তারপর ঈশ্বরের আবির্ভাব হল ;
মানুষ হয়ে গেল
হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, ইহুদি, শিখ ....."
-- ওয়াশিকুর রহমান বাবু

মুক্তচিন্তার প্রতীক, শাহবাগ আন্দোলনের অন্যতম কমরেড ওয়াশিকুর রহমানের জন্ম বাংলাদেশের একটি মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে ১লা জুন ১৯৮৮ সালে। সামাজিক ও পারিবারিক ধর্মীয় বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসা বাবুর জন্য খুব সহজ ছিল না। আর্থিক অসচ্ছলতার কারনে নাম করা কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে না পড়ালেও পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিকূল অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার অবিরাম সংগ্রাম করেছে সে। যে দেশে এই বয়সের বেশিরভাগ তরুণেরা আড্ডা মেরে সময় কাটায়, সেখানে সে বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে নিজেকে প্রস্তুত করছিলো ভবিষ্যতের জন্য। এই অল্প বয়সী রুগ্ন ছেলেটি তার লেখনীর মাধ্যমে যেভাবে ধর্মের ভীত ধরে নাড়া দিতে সক্ষম হয়েছিল, তা দেশের শক্তিশালী আর প্রতিষ্ঠিত অনেক লেখক আর বুদ্ধিজীবিরাও পারেননি।

মাত্র সাতাশ বছরের রুগ্নদেহী এই তরুণ সারা বিশ্বের মানুষকে নিজের জীবন দিয়ে দেখিয়ে গেছে কিভাবে মেধা, যুক্তি আর সাহস দিয়ে কুসংস্কার, ভন্ডামী, ধর্মান্ধতা আর ধর্ম-ব্যবসার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়।
তিনি 'এথিস্ট বাংলাদেশ' এবং 'বাংলার শার্লি' সহ বেশ কয়েকটি ফেসবুক গ্রপের সদস্য ছিলেন।

২০১৫ সালের ৩০শে মার্চ ঢাকার তেজগাঁওয়ে ওয়াশিকুর বাবুকে বাসা থেকে পাঁচশ গজ দূরে অফিসে যাবার পথে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে খুন করে কিছু ধর্মের ভাইরাস। ফেসবুকে ওয়াশিকুরের সবশেষ প্রোফাইল ছবিটিই ছিল 'আই এ্যাম অভিজিৎ' লেখা একটি পোস্টার। তাতে ইংরেজিতে আরো লেখা আছে 'শব্দের মৃত্যু নেই'।

ছেলেটি বলেছিল - “কেউ আমাকে ধর্মবিদ্বেষী বলে অভিযুক্ত করলে আমি সেটা প্রত্যাখান করি না। কারণ ধর্মবিদ্বেষ অপরাধ নয়। মানববিদ্বেষ অপরাধ। পৃথিবীর সব ধর্মই মানববিদ্বেষে পূর্ণ। মানববিদ্বেষী ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা পবিত্র দায়িত্ব মনে করি।”

No comments:

Post a Comment

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...