"ধর্মের বেশে মোহ যারে এসে ধরে
অন্ধ সে জন মারে আর মরে"
উপরের কথাগুলো লিখার শুধু একটাই উদ্দেশ্য যে কোন ধর্মের ধর্মীয় মৌলবাদ এর বৈশিষ্ট্য এক। সারা পৃথিবী জুড়ে ধর্মীয় মৌলবাদ। আমার ধর্মই ভালো, আমার ধর্মই শ্রেষ্ঠ এই মনোভাব নিয়েই অন্য ধর্মের মানুষের উপর অত্যাচার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গা, ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধ ভাঙ্গা, এই নোংরা খেলা চলছে। যেমন ধরে নেয়া যায় ঐ শ্লোগানটা (মন্দির ওঁহি....)। মজার বিষয় হলো প্রত্যেকটা ধর্মগ্রন্থ এবং ধর্মই বলছে অন্য ধর্মের উপর আঘাত করা অত্যন্ত নিন্দনীয় অতএব যখন ধর্মীয় গুরুদের নেতৃত্বে এই অত্যাচার ধ্বংসলীলা চলছে সেদেশের মানুষ হাসিমুখে সেটাকে মেনেও নিচ্ছে।
আশ্চর্যের বিষয় কিছুদিন আগে যখন বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির হবে এই রায় দিল একশ্রেণীর মানুষ তারা রাগ প্রকাশ করলেন এটা ঠিক নয় এটা করা উচিত হয়নি ,সেই একই মানুষ যখন ঐতিহাসিক সোফিয়া মিউজিয়াম কে মসজিদ হল, পাকিস্তানে গুরুদুয়ারা ভেঙে মসজিদ হল তখন তারা আনন্দ প্রকাশ করছে । আবার উল্টোটা যদি দেখি যারা বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে রাম মন্দির হয়েছে বলে আনন্দ প্রকাশ করছে তারা আবার গুরুদুয়ারা ভেঙে মসজিদ হচ্ছে বলে বিরোধিতা করছে এটার থেকে পরিষ্কার হয়ে যায় ধর্মীয় মৌলবাদ যে দেশে যেখানে তারা শক্তিশালী বা সেই দেশের সরকারকে মদদ দিয়ে চালিত করে সেখানে অন্য ধর্মের উপর অত্যাচার হবে এটা স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাই পৃথিবীর যে কোন ধর্মের মৌলবাদকে আমি তীব্র ঘৃণা প্রদর্শন করি ও তাদের এই ক্রিয়াকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাই।
ভারতবর্ষে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারি ইত্যাদির স্বল্পতা কোনদিনই ছিলোনা, দুর্দশা নিয়েই তাদের নিত্যি বেঁচে থাকা, তার সাথে গত ২৭ বছর ধরে ‘অযোধ্যা মামলা’ গন্ধমাদন যোগ হয়ে জীবন আজ দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন রাজীব গান্ধী সেই যে অযোধ্যায় কল্পিত ‘রামমন্দির’র তালা খুলে দিলেন, যার ফলস্বরূপ ভারতীয় জনতার জীবনে এক অশুভ, অনাকাঙ্ক্ষিত অধ্যায় শুরু হয়ে গেলো। সাম্প্রদায়িকতা, যা শাসকের অস্ত্র হিসাবে আগেও ব্যবহৃত হতো, তা এক প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হিসাবে ভারতীয় উপমহাদেশে একেবারে গেড়ে বসলো। ইতিহাস সাক্ষী আছে, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পরে, শুধু এই দেশেই নয়, সমগ্র উপমহাদেশেই এক চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা গেছিলো। এই তুরুপের তাসটি এখন ভারতীয় রাজনীতির ‘শক্তিশেল’।
সাম্প্রদায়িকতা ভারতীয় উপমহাদেশে ধর্মীয় বিভেদবোধের হাত ধরে প্রকাশ পেয়েছে, পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও যে তার অস্তিত্ব একেবারেই নেই, তা হয়তো বলা চলে না, তবে এই ভূখণ্ডে এটি যেন সামাজিক-সাংস্কৃতিক অভিশাপের স্থায়ী রূপ নিয়েছে, যাকে কেউ কেউ এক ঐতিহাসিক ভবিতব্য বলে অভিহিত করেছেন। ধর্মীয় আচার-আচরণকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় বিভেদ-চেতনার সহিংস প্রকাশ ঘটতে দেখা গেছে বারবার। ধর্মীয় উদারতা, এই প্রবণতাকে শেষ পর্যন্ত রুখতে পারেনি, প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের এতটাই জোর। রবীন্দ্রনাথ ব্যক্ত করেছেন, প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম তার ধর্ম নয়। অর্থাৎ তিনি মানবিকতাকেই ধর্মবোধ বিবেচনা করেছেন। ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্যবোধের সুড়সুড়ি কতটা হিংস্র হতে পারে, তা আমরা প্রত্যক্ষ্য করেছি ১৯৯২ সালের ৬ ই ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মধ্যে দিয়ে, যা ভারতবর্ষের বুকে একটা দগদগে ক্ষত এঁকে দিয়েছে একদল ধর্মোন্মাদের বিষাক্ত কালো হাত ধরে। তারা আজও সমানভাবে সক্রিয়, তাদের যাবতীয় বিভাজনের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ পূরণের স্বার্থে ব্যবহৃত ধর্মীয় দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতা বারবার এসেছে রক্তের ঢেউ তুলে, এর বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক প্রতিবাদও হচ্ছে, কিন্তু ধর্মীয় সংস্কৃতির শক্তি আমাদের এই উপমহাদেশে, অতিমাত্রায় প্রবল বলেই বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যুক্তিবাদ বা প্রতিবাদ গৌণ পর্যায়ে রয়ে গেছে। রাষ্ট্রনীতি ও রাজনীতি তাই ক্ষমতার উচ্চাকাঙ্ক্ষায় ধর্ম ও ধর্মীয় সংস্কৃতিকে ব্যবহার করেছে অমানবিক ধারায় এবং সফলও হয়েছে।
বাবরি মসজিদ-রাম মন্দির নিয়ে হিন্দু-মুসলমানের শতাব্দী প্রাচীন বিরোধের আইনি নিষ্পত্তি হয় গত বছরের নভেম্বরে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চের রায়ে অযোধ্যার বিতর্কিত স্থানে রাম মন্দির নির্মাণ ও বিকল্প স্থানে মুসলমানদের মসজিদ নির্মাণের জমি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। মন্দির নির্মাণে একটি ট্রাস্ট গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয় ওই রায়ে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুসারে গঠিত হয় শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট। মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য তারা পাঁচ আগস্ট চূড়ান্ত দিন নির্ধারণ করে। সেই অনুযায়ী, আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় অযোধ্যায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
ও হ্যাঁ, অনেকটা কথা তো বলে ফেললাম। শেষটাই বলে ফেলি ,একটা বছর হলো আজও শব্দ শুনি "কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি" ? তবে কতটা উন্নয়নের শিখরে উঠতে পেরেছে ,এটাই ভবিতব্য ! উল্টো সুরে এখন কাশ্মীরি পণ্ডিতরা ৩৭০ ধারা এবং পূর্ণ রাজ্যের দাবিতে সরব।
আমি ভাবলে অবাক হই , এই অর্থহীন লেখালিখির কি কোন মানে আছে ? লিখেবা কি হবে ? আমি সাধারণ একজন মানুষ, জনারণ্যে মিশে থাকা হাস্যকর শান্তিপ্রিয় লোক , যে যাবতীয় বাহ্যিক সামাজিক উত্তেজনা থেকে নিজেকে এক পাশে সরিয়ে রেখে ,এক কাল্পনিক ভারতবর্ষে বাস করে , ভাবে , শান্তিপ্রিয় এক মানবিক স্বর্গরাজ্যে আছি | এই চূড়ান্ত মূর্খের স্বর্গে বাস করতে করতে , কখনো মনে হয় নি , অশনি সংকেতের বারুদ যে কোনো সময় আমার পায়ের নিচে নিরাপত্তাহীনতার মাটিকে টলিয়ে দিতে পারে এক মুহূর্ত্বে....|
সুন্দর। ব্লগটা আরো খানিক সাজাও।
ReplyDeleteওয় স্যার আপনার সাহায্যে সাজাইতে ওইবো।
Delete