Monday, April 8, 2019

সমকামিতা : এক সুস্থ মানসিকতা

সমকামিতার মতো একটা স্পর্ষকাতর বিষয় নিয়ে  লিখতে বসে ভাবছিলাম কোথা থেকে শুরু করবো। আজ পর্যন্ত সমকামিতা নিয়ে অনেক লেখালেখিবা বিশ্লেষণ হয়েছে। তবুও নিজেকে সামলে রাখতে না পেরে এই লেখা। উদ্দেশ্য হল পক্ষে আওয়াজ তোলা। যাইহোক,আজকের পৃথিবীতে সমকামিতার ব্যাপারটা আর লুকোচুরির পর্যায়ে নেই।  Gay Pride Day এখন আর শুধু সমকামিদের অধিকার আর গৌরব বহন করে না অনেকের জন্যই এটার অর্থ আরও  ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করেছে।  এটাকে সামগ্রিক মানবাধিকারের একটা অংশ হিসেবেও দেখা হয়।   কিন্তু এই লেখাটা সেরকম কোন নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়,  এই পোষ্ট টা লিখছি দুটা কারণে।  প্রথমত, আমি এ পর্যন্ত কোন লেখা পড়িনি যেখানে কোন গে বা লেসবিয়ান কে  খুব কাছ থেকে দেখার (আমি ভালো পরিচয় ইত্যাদি বুঝাচ্ছি না) অভিজ্ঞতা আছে, আর দ্বিতীয়ত আমার কিছু পরিচিতদের মধ‍্যে অনেক ব্লগার সাধারণত এই ধরনের আলোচনায় অংশ নেন না। সমকামিতা বলতে আমরা সকলেই বুঝি একই সেক্স বা লিঙ্গের মানুষের প্রতি যৌন আকর্ষন বোধ করা। লেসবিয়ান, গে দিয়ে আমরা মেয়ে ও ছেলেদের মাঝে সমকামীতা বুঝিয়ে থাকি।
সমকামিতা একটি যৌন প্রবৃত্তি, যার দ্বারা সমলিঙ্গের দুই ব্যক্তির মধ্যে প্রেম কিংবা যৌন আচরণ বোঝায়। প্রবৃত্তি হিসেবে, সমকামিতা বলতে বোঝায় মূলত সমলিঙ্গের কোনো ব্যক্তির প্রতি জেগে ওঠা "এক যৌন, স্নেহ বা প্রণয়ঘটিত এক ধরনের স্থায়ী স্বাভাবিক প্রবণতা"; "এছাড়া এর দ্বারা এই ধরনের সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ব্যক্তিগত বা সামাজিক পরিচিতি, এই ধরনের আচরণ এবং সমজাতীয় ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত এক সম্প্রদায়ের সদস্যতাও নির্দেশিত হয়। সহজ ভাষায় কোন ছেলের প্রতি ছেলের আকর্ষন অথবা কোন মেয়ের প্রতি মেয়ের আকর্ষনকে সমকামীতা বলে।
সমকামিতার ইংরেজী প্রতি শব্দ হোমোসেক্সুয়ালিটি, যা ১৮৬৯সালে প্রথম ব্যবহার করেন Karl Maria Cutberry তার লেখা ছোট একটি আইনি পুস্তিকায়। Homosexual শব্দটি গ্রীক হোমো এবং ল্যাটিন সেক্সাস শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। সমকামিতা নিয়ে অনেকেই বেজায় বিব্রত থাকেন। অনেকে দাবি করে থাকেন যে, শহুরে সমাজে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অনুপ্রবেশের ফলস্বরূপ নাকি সমকামিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাঠমোল্লার কাছে তো আর রক্ষাই নাই। ফতুয়ার জড়ে বিকৃত মস্তিষ্ক, পুরুষত্বহীন,নোংরা স্বভাবের ইত্যাদি আপত্তিকর মন্তব্য করে। তাই তারা নিজেদের জনসমক্ষে আনতে পারেনা।  এতো গেল আমার নিজস্ব উপলব্ধি। এবার দেখে নিন সমকামিরা যে অত্যাচারের স্বীকার হয়ে জনসমক্ষে আসেনা তার সপক্ষে নিউজ লিংক।

1 in 3 Chennai LGBT students drops out of school due to bullying
http://timesofindia.indiatimes.com/city/chennai/1-in-3-chennai-lgbt-students-drops-out-of-school-due-to-bullying/articleshow/61695670.cms?utm_campaign=andapp&utm_medium=referral&utm_source=other

সমকামিতা কেউ বেছে নেয় না, সমকামিতার পেছনে এপিজেনিক ফ্যাক্টর আছে। বিষমকামী এবং সমকামিদের DNA  এর মধ্যেও significant difference আছে। যা এটাই প্রমাণ করে যে সমকামীরা নিতান্তই নিজের ইচ্ছায় সমকামী হয়না। বরং কোনো মানুষ নিজ লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হবে, নাকি বিপরীত লিঙ্গের প্রতি এটা তাদের মায়ের গর্ভে থাকাকালীন অবস্থাতেই নির্ধারিত হয়। এগুলির পাশাপাশি পরিবেশগত এবং অন্যান্য ফ্যাক্টরও কাজ করে।

https://news.stanford.edu/pr/95/950310Arc5328.html

http://www.patheos.com/blogs/warrenthrockmorton/2017/12/12/new-biological-basis-male-homosexuality/

মানুষের sexual orientation যে মায়ের গর্ভেই নির্ধারিত হয় তার সপক্ষে প্রমান স্বরূপ নিচের সায়েন্টিফিক জার্নাল টিতে পাবেন।

http://www.pnas.org/content/early/2017/12/05/1705895114.full?sid=8ce9452d-dc37-4375-997b-5796b04fe9bf

এব্যাপারে আরেকটি স্টাডি সাজেস্ট করছি।

https://labs.psych.ucsb.edu/roney/james/other%20pdf%20readings/Blanchard%25202001%2520Fraternal%2520birth%2520order%2520homosexuality.pdf

কোনো মানুষের সমকামী কিংবা বিষমকামী হওয়া যে dna ঠিক করে দেয় তার প্রমান নিচের সায়েন্টিফিক জার্নালটিতে পাবেন।

https://www.nature.com/articles/s41598-017-15736-4

একজনের sexual orientation এর পেছনে যে এপিজেনিক ফ্যাক্টর আছে তার ব্যাপারে নিচের লিঙ্কে জানতে পারবেন।

https://mobile.the-scientist.com/article/33773/can-epigenetics-explain-homosexuality

এব্যাপারে মুক্তমনা ব্লগে অভিজিৎ রায়ের একটি পুরোনো বিজ্ঞানভিত্তিক লেখা ‘সমকামিতা : একটি বৈজ্ঞানিক এবং সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান’ (২০০৯) আছে। বইটি প্রকাশ করেছে ‘শুদ্ধস্বর’। পড়ে দেখতে পারেন।

https://blog.mukto-mona.com/2009/11/05/3041/

আমরা যৌন সংখ্যালঘুদের অধিকারের সপক্ষে কথা বলছি। এর মাধ্যমে আমরা কোনোভাবে বিষমকামিতার ওপরে সমকামিতাকে প্রমোট করছিনা। সমকাম, উভকাম, বিষমকাম — এগুলি স্বাভাবিক behaviour, কেউ জিনগত ভাবে সমকামী হয়ে জন্ম নেয়, কেউ জিনগত ভাবে বিষমকামী হিসেবে জন্ম নেয়।

আমি যৌন সংখ্যালঘুদের পছন্দের মানুষটিকে ভালোবাসার  স্বাধীনতা নিয়ে মুখ খুললে একবার এক তথাকথিত যুক্তিবাদী খুন আর সমকামিতাকে এক কাতারে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টা করে গোঁজামিল দিয়েছিলেন। খুন কনসেন্ট নিয়ে হয়না, তাই তা শাস্তিযোগ্য। কিন্তু যখন কেউ সমলিঙ্গের ব্যক্তির কনসেন্ট বা অনুমতি নিয়ে তার সঙ্গে রোম্যান্টিক সম্পর্ক স্থাপন করে, তা সম্পূর্ণ রূপে তাদের মধ্যেকার ব্যক্তিগত বিষয়। এখানে সমাজ এবং রাষ্ট্রের নাক গলানোর অধিকার নেই।

অনেকে আবার সমকামিতার বিরোধিতা করতে গিয়ে পশুকামের সঙ্গে সমকামিতাকে মিলিয়ে দিয়ে থাকেন। মায়ের গর্ভ থেকে কেউ পশুকামী হয়ে আসেনা। আর এখানে এপিজেনিক ফ্যাক্টরও নেই। যা সমকামিতার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

তাছাড়া, পশুকামে পশুর অনুমতি নেওয়া হয়না। শিশুকামে শিশুর অনুমতি নেওয়া হয়না। ধর্ষণে ধর্ষিতা/ধর্ষিত ব্যক্তির অনুমতি নেওয়া হয়না। খুন করলে যাকে খুন করা হলো তার অনুমতি নেওয়া হয়না।

অপরদিকে একজন সমকামী যদি তার সমলিঙ্গের মানুষের অনুমতি সাপেক্ষে তারসঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে সেটাকে কোনোভাবেই এগুলির সাথে তুলনা করা যায়না। তুলনা করলে তা হয় অপযুক্তি যাকে যুক্তিবিদ্যায় false equivalence বলা হয়।

অনেক সময় এলজিবিটি ফ্রেন্ডলি বিষমকামী বন্ধুরা সমকামিতার সমর্থন করলেই তাঁদের সমকামী বলে কটাক্ষ করা হয়। কোনো পুরুষ নারী অধিকারের সপক্ষে বললেই তিনি যেমন  নারী হয়ে যান না, ঠিক তেমনই সহৃদয় বিষমকামী বন্ধুরা আমাদের এলজিবিটি কমিউনিটির অধিকারের সপক্ষে কথা বললেই তাঁরা যৌন সংখ্যালঘু হয়ে যান না।

সাধারণত মুমিন, চাড্ডি এবং ফান্ডামেন্টালিস্ট খ্রীষ্টানদের এধরণের স্ট্রম্যান এবং অ্যাড হোমিনেমের আশ্রয় নিতে দেখা যায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো আজকাল অনেক বাম ঘেঁষা তথাকথিত "যুক্তিবাদীদের" মুখেও এধরণের কথা শুনতে পাচ্ছি। অবশ্য তাঁদের মন্তব্য অজস্র logical fallacy দেখে "যুক্তিবাদী" শব্দটা ব্যবহারে ইতস্তত বোধ করছিলাম, যাইহোক উনাদের সম্মানার্থে শেষমেষ শব্দটা ব্যবহার করেই ফেললাম। এখন আশা করি তাঁরা সত্যিকারের যুক্তিবাদী হয়ে শব্দটার সম্মান রক্ষা করবেন।

যারা প্রশ্ন করছে “অনেক সময় পিতা-কন্যা,  মাতা-পুত্র ও সহমতের ভিত্তিতে যৌনতা করে। 
তাকে কি আমরা স্বীকৃতি দেব??”, তাদের জন্য এক বালতি সমবেদনা। এরূপ প্রশ্নকারীদের জ্ঞাতার্থে জানাই এটা ইনসেস্ট। ‌অবশেষে incest এর সাথে সমকামিতার তুলনা করলেন? বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে জানা যায় যে বায়োলজিক্যাল সম্পর্ক যুক্ত কারোর মধ্যে যৌনতার ফলে দুর্বল offspring এর জন্ম হয়।

Offspring এই কথা না হয় নাই বললাম। Zoology মতে আমরা তো Primate order (Hominidea family) এর প্রাণী, Carnivora order এর প্রাণী নই। আর primate order এর প্রাণীদের ক্ষেত্রে ইনসেস্ট এ লিপ্ত হওয়া বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে অস্বাভাবিক।

এর থেকেই পরিষ্কার যে incest বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে করা কখনোই স্বাভাবিক নয়। অন্যদিকে সমকামিতার বৈজ্ঞানিক basis রয়েছে। এর ব্যাপারে গবেষণা পত্রের লিংক দিচ্ছি। তাহলেই বুঝতে পারবেন incest কে বিজ্ঞান কেন বৈধতা দেয়না। তারপর আমার দেওয়া আগের সমকামিতা সম্পর্কিত গবেষণার লিংকগুলির সাথে মিলিয়ে দেখুন। তাহলেই বুঝবেন ইনসেস্ট কেন অস্বাভাবিক, আর সমকামিতা কেন স্বাভাবিক।

https://www.psychologytoday.com/us/blog/animals-and-us/201210/the-problem-incest?amp=

যাঁরা নিজেদের যুক্তিবাদী হিসেবে পরিচয় দেন অথচ সমকামিতার বিরোধিতা করেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে বলছি, সমকামিতার বিপক্ষে অবস্থান তো রক্ষণশীলরা নিয়ে থাকে। আমাদের সংবিধানে সমকামিতা বিরোধী আইন ইন্ডিয়ান পেনাল কোড ৩৭৭ তো ব্রিটিশ শাসকরা প্রথম introduce করেছিল, তাও আবার তাদের খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে, যা পরবর্তী কালে আর পুনর্বিবেচনা না করেই সংবিধানে অক্ষুন্ন রাখা হয়েছে। তেমনই বিভিন্ন স্পর্শকাতর ধারা অপরিবর্তিত থেকে গেছে। যেমন ১২৪ এ sedition act ভারতীয় সংবিধানে থেকে গেছে, যেটা ব্যবহার করে JNU এর কানহাইয়া কুমার সহ আরও অনেককে harass করা হয়েছে। তাই বলে sedition act যে সঠিক সেটা তো বলা যায়না। ঠিক তেমনই এই ৩৭৭ ধারারও পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি স্বাভাবিকতার গন্ডিতে থেকে কাকে ভালোবাসবে এবং কাকে বিয়ে করবে তা রাষ্ট্র ঠিক করে দিতে পারেনা। এতো গেল আইনের কথা।

আমরা যদি বিভিন্ন দেশের আইনগুলির তুলনামূলক আলোচনা করি তাহলে দেখবো রক্ষণশীল দেশগুলি এখনও সমকামীদের শাস্তিদান করে, অন্যদিকে বিজ্ঞানের নতুন গবেষণা এবং মানুষের ব্যক্তিগত জীবন ধারণের কথা বিবেচনা করে অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা সহ প্রগতিশীল দেশগুলি সমকামী বিবাহকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই এটা suggest করা বোধহয় ভুল হবে যে সভ্যতার অগ্রগতিকে সমকামিতা বাধাপ্রাপ্ত করছে। তাছাড়া সমকামীরা তো প্রগতিশীলতায় বাধাদান করছেনা।

এবার যদি প্রমিনেন্ট যুক্তিবাদীদের কথায় আসি তাহলে দেখতে পাবেন রিচার্ড ডকিন্স, স্যাম হ্যারিস, আরমিন নবাবী, হেমন্ত মেহেতার মতো তাবড় তাবড় যুক্তিবাদীরা কিন্তু সমকামীদের অধিকারের পক্ষেই কথা বলে থাকেন। তাদের মধ্যে আবার রিচার্ড ডকিন্স নামকরা জীববিজ্ঞানী, রয়্যাল সোসাইটি অফ সায়েন্সের ফেলো। অন্যদিকে বিশ্বের নামকরা নাস্তিক হিউম্যানিস্টদের সংগঠন যেমন এথেইস্ট রিপাবলিক, হিউম্যানিস্ট ইউকে ইত্যাদি সংগঠনগুলিও কিন্তু সমকামীদের অধিকার নিয়ে সরব, তা আপনি তাদের ফেসবুক পেজ অথবা গ্রুপগুলো ঘুরে দেখলেই জানতে পারবেন। তাদের মধ্যে এথেইস্ট রিপাবলিক বিশ্বের মধ্যে সবথেকে বড় নাস্তিকদের সংগঠন। এখন কি এমন হলো যে আমাদের দেশের কিছু "যুক্তিবাদী" ঠিক রক্ষণশীলদের মতোই সমকামিতাকে অপরাধের চোখে দেখছেন? আপনি যদি প্রগতিশীলতার জন্যই সমকামিতাকে অপরাধের চোখে দেখেন, তাহলে তো বলতে হয় রিচার্ড ডকিন্স দের মতো মুক্তমনা রা কিংবা এথেইস্ট রিপাবলিকের মতো মুক্তমনাদের সংগঠনগুলি প্রগতিশীল নয়।

অনেকে সমকামিতাকে নগ্নতা/অশালীনতার সঙ্গে এক করে দেয়। তাদের বলতে চাই, নগ্নতা আর সমকামিতাকে এক পর্যায়ে নিয়ে আসা বোধহয় ঠিক হবেনা। কারণ কেউ চাইলে নগ্ন নাও থাকতে পারে। এটা তাদের ইচ্ছার ওপর  নির্ভর করে। কিন্তু অন্যদিকে মাতৃগর্ভেই নির্ধারণ হয়ে যায় কে সমকামী হবে আর কে বিষমকামী হবে। Sexual orientation কেউ ইচ্ছার দ্বারা নির্ধারণ করতে পারেনা। Homosexuals are born that way.

আর যাঁরা সমকামিতার বিরোধিতার কারণস্বরূপ যৌনরোগ হওয়ার অজুহাত দিয়ে থাকেন, তাঁদের কাছে আমার প্রশ্ন, যৌনরোগ কি বিষমকামী দের ক্ষেত্রে হয়না? একজন তথাকথিত যুক্তিবাদী আমার সঙ্গে বিতর্ক চলা কালে হাস্যকর দাবী করেছিলেন যে, সমকামীরা নাকি বিছানায় ১০০% সন্তুষ্টি পায়না। যাঁরা নিজে সমকামী না হয়েও এধরনের প্রমান বিহীন স্ট্রম্যান আর্গুমেন্টে যান, তাঁদের বলি, ১০০% sexual satisfaction পেল কি না পেল তা বিচার করে সমকামীদের শারীরিক সম্পর্ক থেকে নিবৃত করা আপনার ব্যক্তিগত এখতিয়ারে পড়ে না। বিশ্বের তাবড় তাবড় বিজ্ঞানীরা সমকামিতাকে স্বাভাবিক বলছে, আর আপনি রেফারেন্সবিহীন কথার দ্বারা তার কাউন্টার করছেন। হাস্যকর! কখনো আশা করিনি যে তথাকথিত যুক্তিবাদীরা রক্ষণশীলের মতো আচরণ করবেন।

আসুন আমরা যারা নিজেদের যুক্তিবাদী বলে পরিচয় দিয়ে থাকি, তারা হোমোফোবিয়া এবং বিগোট্রি ত্যাগ করে নিজেদের আদর্শ যুক্তিবাদী রূপে গড়ে তুলি। একসাথে মিলে সেই পৃথিবীর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করি, যেখানে কোনো ঘৃণা থাকবেনা, থাকবে শুধু ভালোবাসার অনুভূতিটুকু। আসুন সেই সমাজ গঠনে বদ্ধপরিকর হই, যেখানে বিনা বাধায় ধর্ম, বর্ণ, জাতি, লিঙ্গ নির্বিশেষে আমরা নিজেদের পছন্দের মানুষটিকে মন-প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতে পারবো।

https://www.dandc.eu/en/article/world-health-organization-considers-homosexuality-normal-behaviour

No comments:

Post a Comment

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...