আজ ১৪'ই -এপ্রিল- ভারতরত্ন বাবাসাহেব আম্বেদকর এর ১২৮-তম জন্মদিন। আজ ভারতবর্ষ তথা পৃথিবীতে যে মানুষটিকে নিয়ে সব থেকে বেশি গবেষণা বা চর্চা চলছে তা হলো বাবাসাহেব আম্বেদকর এবং তার দর্শন।ভারতবর্ষে জনসংখ্যা প্রায় ৯০%- শতাংশের উপর মানুষ দলিত-আদিবাসী এবং অনগ্রসর-এদের মধ্যে সংখ্যালঘুও পড়ে যাচ্ছে।এই ৯০% জনতা যারা এদেশের মূলনিবাসী এরা আজও সমস্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত: শিক্ষা -স্বাস্থ্য - খাদ্য -বস্ত্র -সম্মান সমস্ত অধিকার থেকে।
এদেশের সম্পত্তির ৭৩% চলে গেছে ১%-শতাংশ মানুষের হাতে। চাকরি- জমি- ব্যবসা সমস্ত কিছুর প্রায় ৯0%-ই মাত্র এই ৮-১0% মানুষের হাতে। এবার প্রশ্ন হল এই ১%-শতাংশ বা ৮-১0%- শতাংশ মানুষ কারা?? হ্যাঁ যতক্ষণ না আমরা এদেরকে চিনতে পারব- ততক্ষণ আমরা আমাদের অধিকারের জন্য লড়াইটা লড়তে পারবো না। আমরা সেই শূদ্র পরিচয় আজও বয়ে চলেছি -তারপর ইতিহাসের কালক্রমে বহু মানুষ এই মূলনিবাসী সমাজ থেকেই ইসলাম -ক্রিশ্চিয়ান শিখ- দলিত -আদিবাসী বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে যায়।
বাবাসাহেব আম্বেদকর আমাদের ভোটাধিকার দিয়ে গেছেন -যাতে আমরা নিজেরা রাজা হতে পারি- এই দেশের শাসক হতে পারি - কিন্তু আমরা নিজেদের অধিকার সম্বন্ধে সচেতন নই -আমরা আমাদের ভোটাধিকার সম্বন্ধে সচেতন নই -আমরা খুব সহজে বিক্রি হয়ে যাই -আমরা ২00 টাকায় এক বোতল মদ- সামান্য একটা পদের জন্য -সামান্য একটা চাকরির জন্য -আমাদের অধিকার গুলো বিক্রি করে দিই আমরা। আজ যেখানে দেশে-- গরু ও ধর্ম নিয়ে রাজনীতি চরমে ,নিরিহ মানুষ মরছে ফ্যাসীবাদের কবলে,কৃষকরা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত, আত্মহত্যা করার পূর্বে সুইসাইড নোট লিখছে,নারীরা হারাচ্ছে তাঁর স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হচ্ছে। আমাদের এখন বুঝতে হবে বর্তমানে কতটুকু সংবিধান অনুযায়ী আমল করা হচ্ছে।
আর নয় চলুন
মানুষের মধ্যে পৌঁছে দেই বাবাসাহেব আম্বেদকর-এর বিচারধারা, তাহলেই আগামী ভবিষ্যৎ -আমাদের সমাজের আগামী দিনের ছেলে মেয়েরা নিজেদেরকে চিনতে শিখবে। নিজেদের অধিকার সম্বন্ধে সচেতন হবে- লড়াই করতে শিখবে। তা না হলে আমাদের মতই এরা গোলামী করে ব্রাহ্মণের পা ধুয়ে জল খেয়ে সারা জীবন গোলামি করে কাটিয়ে দেবে। তাই বাবাসাহেবের আম্বেদকরের জন্মদিনে আমাদের শপথ হোক -----
"গোলামী নয় আজাদি চাই আত্মসম্মানের লড়াইয়ে নিজেদেরকে উৎসর্গ করবো।"
জয় ভীম
No comments:
Post a Comment