Showing posts with label অনুগল্প. Show all posts
Showing posts with label অনুগল্প. Show all posts

Monday, July 4, 2022

কোরবানি


ইদ এলেই কী প্রচণ্ড টানটান উত্তেজনা কাজ করতো! কিন্তু ইদানীং প্রায়ই নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত আকিদ। হয়ত বয়স বাড়ছে। তাই ভাবতো বুশরা। 

বিয়ের বারোটা বছর পেরিয়েছে সত্য কিন্তু আকিদ তার ছোটবেলার এই উৎসবের কথা কতবার শেয়ার করেছে তা বলার ইয়াত্তা রাখে না।শৈশবের-কৈশোরের রৈ রৈ। আকাশে চাঁদ দেখা গেলেই ছুটে যাওয়া মসজিদে ইমাম সাহেবের কাছে! 

কোরবানির ইদে কতবড় গরু জবাই করা হতো!  আরও কত কী! কিন্তু বছর দুয়েক থেকে তার মধ্যে একটা আলাদা রকম একটা পরিবর্তন ঘটেছে। 

বিছানায় এপাশ ওপাশ করতে থাকে বুশরা এগুলো ভেবে।

এবারও আনন্দ-উৎসবের দিব সমাগত প্রায়। কিন্তু আকিদের ভাবসাব অন্যরকম। বুশরা নিজেকে আর সামলাতে না পেরে আকিদের হাত ধরে বলেই ফেললো "কারো সাথে কোরবানিতে শরিক হয়েছো"! উত্তরটা না আসলো। নাছোড়বান্দা হয়ে যখন বুশরা "না" টার কারণ জানতে চাইলো, আকিদ আর নিজেকে সামলাতে  পারলোনা।

বলল সে--
" ইব্রাহিম তো তার আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রাণ- প্রিয় ছেলেকে কোরবানি করতে চেয়েছিলেন। এরজন্য কি আমাদের এইদিনে এতোগুলো নিষ্পাপ পশু জবাই করতে হবে? এবার যে ভয়াবহ ফ্লাড হয়েছে, আমাদের জরুরি নয় বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো! তুমি-ই বলো। 

-- জানতাম এটাই তোমার উত্তর হবে। অামার মতে তোমার এই কোরবানি স্বার্থক।

চারচোখ এক মুহুর্তের জন্য ঝলক  দিয়ে উঠে।

Friday, June 24, 2022

সমতুল্য


তখন রোদ্দুর সীমার গাইনোকলজিস্ট এর সাথে ফোনে কথা বলছিল। চারিদিকে জল এমনকি রোদ্দুররার গ্রাউন্ড ফ্লোরটা পর্যন্ত। তাই চেকাপেরর জন্য মেডিকেল এ নেয়া সম্ভব হচ্ছিল না। উপরের তলায় খুব কষ্ট হচ্ছে সীমার। আর চার পাঁচ দিন সময় হাতে। জল নিয়ে রোদ্দুর খুব চিন্তায়। ফ্লাডে একতো খাবার শেষ হওয়ার পথে আর পান করার জলটাও প্রায় শেষ। মিনারেল ও পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু সীমার দিকে তাকিয়ে সব ম্যানেজ করতে জানে রোদ্দুর। খুব ভালোবাসে।

গর্ভবতী স্ত্রী কথোপকথন শেষে সত্যিই নিজে মেয়ে জাতি হওয়ার এবং নিজের পেটে নিজের বাচ্চা সৃষ্টির, লালন পালনের আনন্দে আনন্দিত হয়ে এই বাস্তবতার জ্ঞানে সমৃদ্ধ স্বামীকে গর্বে জড়িয়ে ধরে সীমা। রোদ্দুর চোখ মুছে বলে তোমাদের ঋণ শোধ করতে নেই মনে রাখতে হয়। পুরুষ কখনোই নারীর সমতুল্য হতে পারে না।

Wednesday, May 25, 2022

অনুগল্প : অপেক্ষা


 মলে আংটিটা দেখেই সাথে সাথে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় কবির। দ্বিতীয়বার কোনো চিন্তা না করেই কিনে নেয় ।করিমগঞ্জ এসে পৌঁছে সে। বাসস্ট্যান্ড থেকে নিজের ঘরে পৌঁছতে পৌঁছতে রাত দুটো বাজে।

এতো রাতে কী রেখাকে ফোন দেয়া ঠিক হবে!! না কাল সকালে ফোন দিয়ে বলবো আমি করিমগঞ্জে। তাছাড়া গত মাসখানেক ধরে যে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল ওর সাথে সেটা সামনাসামনি দেখা করে ডিসিশন জানিয়ে ওকে আংটিটা গিফট করব।

নিতার হাজবেন্ড মারা যাওয়ার পর একমাত্র মেয়েকে নিয়ে মায়ের সাথে থাকে। ওর একটা বেসরকারি ব্যাংকে জব

কৌশিক একা। পাঁচ বছর আগে বিয়ে করেছিল মাহীকে। বিয়ের পর কিছুদিন সুখেই কাটছিল কিন্তু হঠাৎ করেই একটা সমস্যা এসে সুখের মধ্যে কাঁটা হয়ে যায়। মাহী নেশাগ্রস্ত ছিল। প্রচণ্ড রকমভাবে হ্যালুসিনেশনে ভুগতো। সারাদিন মনের ভেতর মনগড়া কাল্পনিক গল্প ফেঁদে সেটা সত্যি মনে করে অশান্তি করতো। চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দিতো। পরিবারের সবার উপদেশ মতো একটা বাচ্চা নেয়ার পরেও ঠিক হয়নি মাহী।

কৌশিক মনে মনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছিল তাদের ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে। মাহীর বাবা-মায়ের সাথে কথা বলার পর তারা মাহীকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে আর ছেলে আদি কে লালন পালন করতে নিয়ে যায় তাদের কাছে। সেই থেকে কৌশিক একা।

বছর খানেক আগে নিতার সাথে পরিচয়। তারপর ঘনিষ্ঠতা হয়, জানাশোনা হয় দুজনের মাঝে। নিতা কোনোদিন বিয়ের জন্য কৌশিককে জোর করেনি কিন্তু কৌশিকের বাবা-মা প্রচণ্ড জেদাজেদি করছিল ছেলের সাথে।

 আংটিটা দেখেই সাথে সাথে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় কৌশিক এবার নিতাকে বিয়ের কথা বলবে।

লিংকরোডে নিতারর রুমে সন্ধ্যায় পৌঁছে যায় কৌশিক। নিতাকে খুব সুন্দর লাগছে আজ। কফি শেষ করে পকেটে হাত দেয় কৌশিক আংটিটা স্পর্শ করে। আংটিটা পকেট থেকে বের করতে না করতেই মোবাইল ফোন বেজে উঠলো।

----- হ্যালো কৌশিক রায় বলছেন?

------ হ্যাঁ ,কে বলছেন?

----- নিউ মুক্তি ক্লিনিক থেকে বলছি। আপনার সাথে একজন কথা বলতে চাইছেন।

---- হ্যাঁ, দিন।

------ কৌশিক আমি মাহী। তুমি কেমন আছো? বাবু কেমন আছে? এক বছর হয়ে গেছে তুমি আমাকে দেখতে আসোনি। প্লিজ কৌশিক একবার এসো। তোমাকে আমার খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। মিস ইউ সো মাচ।

---- আচ্ছা আমি আসবো মাহী।

কৌশিক আংটিটা পকেটেই রেখে দেয়। নিতার রুম থেকে বের হয়ে আসতে আসতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরায়। ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে সামনে আসতেই দরজা খুলে ভেতরে বসে।

----- স্যার এখন কোথায় যাবেন?

কৌশিক চমকে উঠে বলে
----- ‘চলো, হোটেল নক্ষত্রে যেতে হবে। একটা মিটিং আছে। অফিসাররা ওয়েট করছে।’

কৌশিক মনে মনে বলে

আমরা সবাই এ জীবনে কারো না কারো জন্য অপেক্ষা করি।

Tuesday, January 29, 2019

পরিবর্তন

--- আমি চললাম।
--- আচ্ছা শুনো,আসার সময় এক প‍্যাকেট স‍্যানিটারি ন‍্যাপকিন আনবে, একস্ট্রা লার্জ।
--- ঠিক আছে। এভাবে নিরামিষ বেরিয়ে যাবো!
--- আচ্ছা বাবা দিচ্ছি, দুই সন্তানের বাবা হয়েছো ঠিকই কিন্তু স্বভাব পাল্টালো না।

অফিস থেকে ফিরে আসার সময় আমি আর হাসান প্রায়ই একসাথে আসি। আজও এর ব‍্যাতিক্রম নয়। অফিস থেকে আসা অব্দি দুজনের জমিয়ে অন্তরঙ্গ। একসাথে বাজার, একসাথে জিমে যাওয়া, কফি হাউসে একসাথে আড্ডা দেওয়া ইত্যাদি। তবে আজ বাস থেকে নামার পর দেখা হয়েছে হাসানের সাথে। কাজের প্রেসারে ক‍্যান্টিনে দেখা হয়নি।

--- কবির সাহেব, কোথায়? আজ একটি বারও আপনাকে দেখলাম না যে।
--- না, পুরোনো পেনডিং কাজ ছিল। তাই দেখা করতে পারিনি।
--- তাই ক‍্যান্টিনে আপনাকে দেখিনি।
--- আচ্ছা চলুন না ঐ গ্রোসারি সোপে,একটু খরচা করে চলে যাবো।
--- চলুন, আমিও দু-একটা জিনিস কিনে নি। নইলে আবার আসতে হবে।

গ্রোসারি দোকানে স‍্যানিটারি ন‍্যাপকিন সাজানো ছিল। তাই আর জিজ্ঞেস করতে হয়নি। নিয়ে নিলাম জীবন সঙ্গীর প্রয়োজনে। কর্মচারী কে বললাম আর বাঁধার প্রয়োজন নেই। কাগজ বা পলিথিন দিয়ে আর আবর্জনা বাড়াবো না। আমার এইসব দেখে হাসান সাহেব ঠিক যেন হজম করতে পারছিলেন না।

--- কবির সাহেব এসব কি করছেন? চোখে একটু লজ্জা রাখুন।
--- কেন, কি হয়েছে? আর কি লজ্জার কথা বলছেন।
--- আরে মশাই, কি এসব!
--- ও এটা! স‍্যানিটারি ন‍্যাপকিন, কেনো?
--- আজ্ঞে হ‍্যাঁ জানি, তবে এটা ওভাবে খোলামেলা নিয়ে যায় নাকি। ছিঃ লজ্জা। মেয়েলি জিনিস।
--- মেয়েলি শব্দটা আমাদের ই তৈরী। পুরুষ হলে স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে নেই এরকম কোন বাধা ধরা নিয়ম আছে না কি!
--- নিয়ম নেই ঠিক। তবে এসব মাসিক টাসিকের জিনিস আমরা নেওয়া বা লুকিয়ে নিলে ভালো।
--- কেন, লুকিয়ে কেন?
--- আরে মাসিক হওয়া লজ্জার। লোকজন বলবে এইবাড়ীতে মেয়েলোকের আজ মাসিক হয়েছে।
--- তাতে কি। হতেই পারে। এতো সবার ঘরের একই কাহিনী। এখানে লজ্জা কোত্থেকে এলো হাসান সাহেব, তা আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারেনি।
--- আপনি এসব বুঝবেন না। আমি তো এই ব‍্যপারে খুব বেশি সেনসিটিভ।আলাদা থাকি। খাওয়া দাওয়া টাও একটু দূর থেকে করি। এই তিন চারটে দিন ঘেষাঘেষি একদম পছন্দ করি না।
--- হাসান সাহেব এসব কি বলছেন। নিজেকে ফোর-জি, ফাইব-জি ভার্সন বলে পরিচয় দেন। আর এই নগন্য বিষয়ে হীনমন্যতা!
শুনেন, মাসিক বা রজস্রাব মহিলাদের শরীর বৃত্তিয় প্রক্রিয়া। এরজন্য আমাদের বিশেষ করে পুরুষদের সচেতনতা ও সহযোগিতার প্রয়োজন। লজ্জা বা অস্পৃশ‍্যতা নয়। আমাদের মায়েদের মাসিক হয় বলেই কিনা আপনি আমি এই পৃথিবীর মুখ দেখতে পেরেছি, সভ্যতা এতদূর এগিয়েছে। আমরাতো এরজন্য এওয়ারন‍্যাস প্রোগ্রাম ও করে থাকি। প্রতি মাসে আমরা চার-পাঁচজন বন্ধু চাঁদা তুলে প্রত‍্যন্ত অঞ্চলগুলোতে হাইজিন ক‍্যাম্প করি। তার সাথে মহিলাদের ফ্রীতে স‍্যানিটারি ন‍্যাপকিন দিয়েও আসি।

কথা বলতে বলতে কোনদিকে ঘরে চলে আসলাম বুঝতেই পারলাম না। শুধু বুঝলাম মাসিক এবং হাইজিন নিয়ে মেয়েদের পাশাপাশি পুরুষদের সচেতন করাও ভীষন প্রয়োজন।

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...