Monday, April 22, 2019

কিসের ভয় হবেই জয়: লেনিন

"লড়াই করো, লড়াই করো, লড়াই করো, লড়াই
যতদিন না বিজয়ী হও
যদি একবার হারো, বারবার লড়ো, বারবার লড়ো, বারবার
যতদিন না বিজয়ী হও
কিসের ভয়, হবেই জয়
দূর করে ফেলো যত সংশয়
এবার তৈরি হও
এই তো যুক্তি জনগণের
এ পথে মুক্তি জনগণের
অমিত শক্তি জনগণের
তুমি তো তাদেরই একজন
তুমি একাকী কখনও নও
তাদেরই সঙ্গে এক হয়ে আজ মুক্তি শপথ নাও
যুদ্ধে শামিল হও আজ, যুদ্ধে শামিল হও"

তার পুরো নাম ভ্লাদিমির ইলিচ উইলিয়ানভ। কিন্তু বিশ্বের অসংখ্য মুক্তিকামী ও প্রতিবাদী মানুষের কাছে তার পরিচয় তাদের প্রিয় নেতা লেনিন।
১৮৭০ সালের ২২ এপ্রিল জন্ম নেওয়া এই মহান নেতা তার জীবদ্দশায় মুক্তিকামী মানুষের জন্য করেছেন অনেক কিছু। জন্ম রাশিয়ায় হলেও সারা পৃথিবীর মানুষের কাছেই তার সমান মর্যাদা। মুক্তিকামী সব মানুষের প্রিয় এই নেতা ছিলেন অক্টোবর এবং মহান নভেম্বর বিপ্লবে বলশেভিকদের প্রধান নেতা। তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান এবং লেনিনবাদ তত্ত্বের প্রবক্তা।১৯১৭ সালের মহান নভেম্বর বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন লেনিন। নভেম্বর বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়। বিংশ শতাব্দীর মানব সভ্যতার ইতিহাসে অন্যতম দিকচিহ্নকারী ঘটনা হলো নভেম্বর বিপ্লব। এই বিপ্লব শোষণভিত্তিক সমাজের অবসান সূচিত করল। পুঁজি ও মুনাফার স্বার্থে নয়, শোষিত-বঞ্চিত জনগণের স্বার্থে রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে তার প্রথম প্রতিফলন ঘটল। বিপ্লব সফল করা, শিশু সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে সমস্ত ষড়যন্ত্র ও আক্রমণ থেকে রক্ষা করা এবং একটি পশ্চাত্পদ পুঁজিবাদী দেশে সমাজতন্ত্র গড়ে তোলার কাজ এই সমস্ত ক্ষেত্রেই ছিল লেনিনের অসাধারণ নেতৃত্ব। পুঁজির শোষণ, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও যুদ্ধ— এ সমস্ত কিছুর বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী সংগ্রামকে সম্পূর্ণ নতুন স্তরে উন্নীত করার ক্ষেত্রে সোভিয়েত ইউনিয়ন অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছে।

মার্কসবাদ-লেনিনবাদ

মার্কসীয় মতবাদকে নানাভাবে বিকশিত করলেন ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন। সে জন্যই তার মৃত্যুর পর বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, এই মতবাদকে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ হিসাবে অভিহিত করাই হবে সঠিক। তারপর থেকেই সমগ্র বিশ্বে এই মতবাদকে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ হিসাবে অভিহিত করা হয়। মার্কসবাদী মতাদর্শকেও সমৃদ্ধ করলেন লেনিন সমগ্র জীবন ধরেই বিপ্লবী সংগ্রামের মধ্যে নিয়োজিত ছিলেন লেনিন। লেনিনের মধ্যে প্রকৃত মার্কসবাদী হিসাবে তত্ত্ব ও কর্মের অসাধারণ সমন্বয় ঘটেছিল। মাত্র ৫৪ বছর বয়সে এই মহান বিপ্লবী নেতার জীবনাবসান ঘটে। সমগ্র জীবন বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের মধ্যে ব্যাপৃত থাকার সঙ্গে সঙ্গে মার্কসবাদী মতাদর্শ আত্মস্থ করা ও তাকে আরও সমৃদ্ধ করার কাজেও তিনি ঐতিহাসিক অবদান রেখে গেছেন। আজ মহামতি লেনিনের ১৫০তম জন্মদিনে জানাই শ্রদ্ধার্ঘ্য।

লাল সেলাম কমরেড।

No comments:

Post a Comment

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...