Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

Sunday, August 7, 2022

নীল দরিয়ার মাঝি


১) মরুগোলাপ

লোকমুখে প্রচলিত, ওটা ঈশ্বরের বাড়ি, যিনি ঘুঙুর কি
মটরদানা থেকে সৃষ্টি করেছিলেন আপেল -
পৃথিবী জমিনে সেঁটে দিয়েছিলেন পাহাড়, স্তনকামনা—
পিপাসা খররৌদ্রের।

অতএব আমাকে যেতে হয়েছিল প্রমিত উপাসনালয়ে
বাঁধানো খিলানের কাছে
সেখান থেকে ফিরে এসেছিলাম কতগুলো উভলিঙ্গ হুর
আর তাম্বূল ঐশীবাণী নিয়ে

বস্তুতপক্ষে উপাসনালয় থেকে ফিরে এসেছিলাম
রংজ্বলা ছাতা মাথায়—বৃদ্ধ

অথচ জলসাঘরে আমি যৌবনপ্রাপ্ত হয়েছিলাম…

২) সিগারেট

সিগারেট আর তুমি একই
যার দাগ হৃদয়েই লেগে থাকে 
তোমার মতো সিগারেটও রেখে যায় ঠোঁটের স্পর্শ
বিসর্জন ঘাট বা শম্ভুসাগর পাড়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী।

পার্থক্য একটাই
সিগারেট নিজেই জ্বলে শেষ হয়ে যায়
আর তুমি
কলিজা পুড়ে ছাই কর

 ছাই হয়ে পড়ে থাকি আমি
 অন্ধকার রাতের পরিত্যক্ত শহরে।

৩) একটি অঙ্কুরিত জীবন

শর্ত ছিল
জীবন্ত কবিতা নিয়ে আসলে প্রস্তাব গ্রহণ করবো
প্রান্তিক কবিদের দিয়ে শুরু সব কবিকে বলেছি
স্থানীয়রা বলল,
আমি এখনো চেষ্টা করে জীবন্ত কবিতা লিখছি।

বিদেশীরা বলল,
কবির জীবন্ত কবিতা নেই।ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করো
মৃত মানুষকে জীবিত করা সম্ভব!
আমি চেম্বারে ধাক্কা দিলাম আর ভেতর থেকে একটা আওয়াজ হলো-
জীবন্ত কবিতা নেই, ফ্রিজে আছে জীবন্ত হৃদয়
তুমি এটা দেখতে পারো।

 আমি অসহায় হয়ে মন্ত্রীকে বললাম,
 স্যার, আপনি জীবন্ত মানুষ বিক্রি করেন
 একটি জীবন্ত কবিতা বিক্রি করবেন?
 - ধুর! ছাই!  আমি শুধুমাত্র জীবিত দেশ বিক্রি করি
 জীবন্ত নারীদের কারখানা আছে বলে ব্যবসায়ীরা
 নারী কবিতা থেকে আলাদা নয়।

 সবার কাছে গেলাম
 কোম্পানির মালিক থেকে দেশের মালিক
 জীবন্ত কবিতা পেলাম না

তাই এসব বিষয়ে খেয়াল রাখা প্রয়োজন
চরের জমি রন্টুর ছেলে মন্টুর দখলে
শোকে আমার বাবা পাড়ায় নৈশ প্রহরী হিসেবে চিৎকার করে বললেন--
আমি জেগে আছি...সবাই ঘুমাতে যান।

দুঃখের গাড়িতে উঠে বিষণ্ণ বাতাস নিয়ে ফিরলাম
একজন পোস্টম্যান এসে আমাকে একটা চিঠি দিলো
আমি দুঃখিত নই, একটি জীবন্ত কবিতা পেয়েছি
কবি লিখেন নি 
মৃত তারারা লেখে জীবন্ত কবিতা।

৪) একটা নদী উপাখ্যান

নদী-মানুষের সম্পর্ক বড় নিবিড় 
তার বলে যাওয়া কত কথা অশ্রু গড়িয়ে নদীর 
আকাশের ছায়াপথে, ধুসুর মেঘলোকে
ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলিয়ে গহন নদী জলসিড়ি হয়ে 
কুশিয়ারার জল ছোঁওয় আমার স্বপ্নশিশির-
দীর্ঘশ্বাস বাড়ে।

রক্ত,লাশ,দেশ ভাগ, সংগ্রাম
এসবেরই তো সাক্ষী এ নদী
আজ তার ব্যস্ততায় এপার-ওপার এক ভাষাতেই,
এ সম্পর্ক বুঝি চিরন্তন।

নদী তো বোঝে- 
আর মানুষ কবে বোঝবে
নদী বাঁচলে মানুষও বাঁচবে!

৫) স্বদেশ আমার 

এখন আর কিছু ঠিক রইল না 
যতবার চললাম মানুষ হয়ে ওঠার রাস্তায়
অমানুষ হয়ে গেলাম টের পাওনি
তুমি টের পাওনি বলে, 
অর্ধমানবের মতো শিম্পাঞ্জির খেলা দেখে হাততালি দাও
তারও দুঃখ আছে, মানুষ হয়ে উঠতে পারেনি 
যে সাদা ফানুস উড়িয়েছিলে, সুতোয় বাঁধা 
দু একটা গেরুয়া ও সবুজ রং এর ও ছিল 
ওরা যে এক একটা মরা লাশ -- তা কি জানতে ?

প্রিয়তমা, তুমি টের পাওনি বলে
উদাসীনতা আমাকে অমানুষ করে তোলেছে
তোমার সম্মানে মৌনতা নিয়ে লালকেল্লা
তার প্রতিটা কিলায় লাইভ টেলিকাস্ট চালায় 
বিলকিস রার স্বাধীনতা
গোধরা কনসাইন্টমেন্টে!

প্রিয়তমা, জানি তোমার গলা শুকিয়েছে 
মহোৎসবের অমৃত পানে
আজাদী, জল জীবন কেড়ে নেয় বিনা দ্বিধায় ---
মন্বন্তর থেকে ছিয়াত্তরতম স্বাধীনতা
ফুল এপিসোডে ফারাক অবশ্যই
ক্ষুধা মানুষ খেয়েছিল আর আজ রাজনীতি জীবন।

হোক না খোলা সব পতাকা
একবার তোমার মুখে হাসি দেখে যাই প্রিয়তমা ,
লিখা হোক যত মহাসভা সংবিধান 
উড়ুক যত ধর্ম পতাকা 
শিকল ভাঙ্গবে স্বদেশ আমার ।

৬) নীল দরিয়ার মাঝি 

কতিপয় শব্দের যুগলবন্দী 
ক্লিটোরিসের উপর সন্ধ্যার অন্তরালে 
কালিমাখা লন্ঠন জ্বলতো ধীরে ধীরে।

আজও আকাশটা কয়লার মতো কালো হয়ে আসে
অথচ সে মেঘ থেকে একফোঁটা বৃষ্টি হয়না
মাধবীলতারা বৃষ্টিতে করেনা আনন্দ স্নান,
অণুপরমাণুতে বিভক্ত হয়ে যাওয়া পৃথিবী
পরেছে ভিন্ন রং এর জামা
তবু সম্প্রীতি আর সম্পর্কের বাতাস করে শুধু হাহাকার।
ছাদহীন ফুটপাতে আমিও দাঁড়ানো
ক্রমশ ঢুকে যাচ্ছি তাপহীন এক লাভায়-

রাস্তায় পথ খোঁজা হয়রান 
অম্লজান বায়ুহীন ফুসফুস কম্পাসদৃষ্টি মেলে তাকাতেই-
আমার চোখ থেকে নির্গত ব্রিজের সুতা ছিঁড়ে গেল।
এই দেখ আমি হাত ধুয়ে ফেলেছি
এবার আমি সবচেয়ে জমকালো পোশাকটা পরে
জনতার দরবারে যাব
গোধূলীর অন্তর্বাসে হুঁকো টেনে যথার্থ উপলব্ধি আসে 
মৃত্যু নেই কবির অথবা প্রেমের ।

৭) জলভসকা

সুখ-সমৃদ্ধি-উন্নতি হারিয়ে
তিনভাগ জল মাঝে ডুবে যায় দালান-গাড়ী
খোঁজে একটুকরো শুকনো পাতা
বাঁচার অন্বেষা।
আশ্রয় হারিয়ে দূরত্ব বাড়ে ----
সবুজ নৈঃশব্দ্য তার তৈলচিত্র
জলতলা শেওলার ভেতর অস্থির প্রহর কাটায়
কর্পোরেশন নর্দমায়।

তিলোত্তমা শহর বলো আর গ্রাম বরাক
দখলে তার পার্ক,চেনা-অচেনা গলি, রাজপথ, ট্রাফিক পয়েন্ট, যত মল, বক্তৃতা মঞ্চ।
জঠরে ভরা যত শব ধ্বনিত হয়
ক্ষুধা - তৃষ্ণার আর্তনাদে 
প্রাণভিক্ষার আবেদন।

বন্যা - হয়েছ এক বিভীষিকা
চোখে ঘুম হারিয়ে।

৮) নেপথ্য 

তার অপেক্ষায় আছি 
যেখানে কার্বনশ্বাস নিতে হয় আমার
বিষধর ভাইপার, সোনালী বালির ভেতরে ক্রমশ ডুবে যাচ্ছে
লুকিয়ে আছে সুপ্ত বাসনা।

পূর্ণতা খোঁজে জিওনার্দো ব্রুনো কিংবা লোরকার মতো
ছিঁড়ে কুচি কুচি করাই দস্তুর-
রীতিমতো গণতান্ত্রিক হওয়ায় মৌলিক অধিকারও
এরোপ্লেন বানিয়ে উড়িয়ে দেওয়া নেপথ্য।

একটা কলসি তার উদরে দাবিদাওয়া তুলে ধরে
কেউ মরে গেলে নীরবতায়,
শোকহীন এক সভ্যতা হাসিল করেছে
জ্যান্ত পুঁতে দেওয়া দস্তাবেজ।

৯) আবার বৃষ্টি নেমেছে এ শহরে

আবার বৃষ্টি এসেছে নেমে
আমার ব্যস্ত শহরের বুকে
আমি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছি
হাত বাড়িয়ে মেখে নিচ্ছি
জলকণার ভিজে ভাব
মুখ খুলে জিভে টানি তার স্বাদ
কেমন আছো, কি করছো
সবই কেমন যেন আবছা
বাইরে এখন ব্যাস্ততার কোলাহল
কিছুটা নৈরাশ্য হয়ে পড়েছে,
চাপা হতাশায়,
মুখ ঘুরিয়ে
উঠতে গিয়ে দেখি,
ঘোলাটে পৃথিবী,
তার উষ্ণতার ঠোঁটে
চুম্বন করছে,
আমার
অন্তর্নিহিত
ব্যথার বেদনাকে..

১০) কবিতা'র শ্বাস প্রশ্বাস 

একটি গাছ যেখানে বাসা বাঁধে
রোজকার পৃথিবীর হাসি জাগানো ডকুমেন্টারি 
নাভীমূল ছেঁড়া পাতা তার ডাল কতনা
যাপনকথা
দুঃখ নেই কার কার
পিলসুজটাকে যদি দেখি।

সন্ধ্যা শহরে কত নির্জনে বাসা বাঁধে
ভোররাতে ঠোঁটে ছাপ ছেড়ে চলে যায় পাখিরাও।

শূণ্যতা পূরণ, সে তো
খালি বাক্সে সঠিক শব্দ ব্যবহার নয়
সেখানে মিশে থাকে দ্রোহ, ক্ষোভ, অভিমান 
আর কবিতা, কয়েকটি প্রাণের শ্বাস ফেলার জায়গা।

কবি'রা আসে স্নান করে, ঘুমোয়
দ্রোহবীজ পোতে আবার গাছ হয়
বাসা বাঁধে, শ্বাস নেয়
যন্ত্রণা ভুলা কয়েকটা মানুষ।

১১) রেসকোর্সের ঘোড়া

তুমি সুন্দর, তোমায় শারীরিক
বসন্তের কামে আলুথালু
ফুলদের পাশে শুয়ে শুয়ে দেখে যাচ্ছি।

কথা কমছে, শ্বাস বাড়ছেই
মাথাভর্তি যেন চুল নয়,
কচি ধানক্ষেত
আঙুল ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে খুব হচ্ছে।
রেসকোর্সের ঘোড়া যেন এক
এসে সামনেই নত, বলছে—
আর কিছু নয়, দিগ্বিজয় নয়
চাই তোমাকেই, হৃদয় টলছে।
ধরছ না, হায়, এমন তপ্ত
গলিত লোহা এ
আগ্নেয়মুখে অগ্নিস্নানে লাল…

প্রেম নাকি পাপ
কটেজের রাত মুছে দিচ্ছে এ সমস্তই।
মনে পড়ছে না সেই ব্যথাদেরও যারা
প্রশমিত হতে পারে নাই।
ওই বাহুডাল যেন রাস্তাই,
দুর্ঘটনার নেই শঙ্কাও।
ফোঁটা বৃষ্টির মতো রোমকূপ জুড়ে কম্পন,
তুমি কাঁপছ, কী যে টের পাই!
স্তনবৃন্ত এত ভালো লাগে যেন সমতলে
অমসৃণ গোল ভূমি আর সামান্য ঝোপঝাড়
নাকে ঘষছি।

১২) সিনোটাফ

আমি তোমাকে আরো ভালোবাসি
মাংস এবং হাড়ের চেয়ে, শুধুমাত্র সত্য বলে
আমাতে তোমার আকৃতি খোঁজে পেয়ে 
আর যদি বলি, ভালোবাসি বল, 
ভালোবাসি তোমার মুখ,
পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত 
আড়ালে যে তোমার চোখ ছুঁয়ে যায়
প্রেমের প্রদীপ হয়ে!
আর আমার
আসলে কোন চোখ নেই আছে দুটো জোনাকির আলো
খোঁজে পায় নিঃশর্ত গহীন হৃদয়ে।


 আমার ভেতরে যা আছে ভালোবাসা 
 তোমার হাসি, এবং তোমাকে ধরে রাখা
 সেই প্রিয় অংশের কাছাকাছি থাকতে
হাতড়ে বেড়াই ক্যানভাসের ছবি হয়ে।

সিনোটাফে
আমার প্রতিদিনের প্রয়োজন, তুমি 
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত।
যেন তুমি 
ফিলিস্তিন থেকে কাশ্মীর, আথের জিয়া থেকে মাহমুদ দারবিশ  
দুনিয়া শরীরী আকর্ষণ – এইখানে।

১৩) কবিতা এবং শূন্য থেকে মহাবিশ্ব

দেখলেই কি আর সব দেখা হয়ে যায়
রয়েছে আকাশগঙ্গা থেকে পৃথিবীর সঙ্গম পথ
 তুমি কে । অপহরণ কবিতা
 নাকি র‌্যাঁবো, সে এক বিশাল ইতিহাস।

এখানে যখন সূর্য ক্লান্ত হয়
বদলেয়ার,মাতিস সবুজ রেস্তোরাঁয় গড়ে
কবিতার নকশা ;
শুধু আমি টক্সিন প্রেমে, চলি 
নরকে ঋতু পর্যবেক্ষণ।
সাম্রাজ্যিক ইন্দ্রজালে
কবিতারা ও জানে
'হিউম্যান ল্যান্ডস্কেপ ফ্রম মাই কান্ট্রি'।

১৪) হাফলং এ প্রশ্ন করা এক বনসাই বৃক্ষ 

আসলে এই গোলকটা প্লুটোনিয়াম ঘেঁষা
ব্যালকোনির শোভা বর্ধনে ঠিক বিশাল বট বৃক্ষের বনসাইয়ের মতো। টবে বার্ধক্য রোধে করণীয় কি সে বিষয়ে
এখন রীতিমতো অনুসন্ধান চলছে তার, গবেষণাগারে
জন্মপত্র থাকলে বয়স হয়তো পাহাড়ের আয়তন ও ঝাটিংগার জল্পনা ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতো !

হিলিয়াম ভরে দেওয়া স্তন পড়ে থাক আ'ম-মানুষে…
গাছ উড়ে যায় বনসাই হয়ে 
বৃদ্ধ হয়
এপাশে ভ্যাম্পায়ার ওদিকে ড্রাকুলা
তাদের পাশ ঘেঁষে দজ্জাল 
তৃতীয় চক্ষু-স্ফুরণে বিশ্বাস জন্মায়
আমিই খোদা!

নীরব দ্রোহে কাল্পনিক প্রেমিকারা —
তারা মাঝে মাঝে উপস্থিতি ফেলে যায়
আমার পাশে ছোট রেস্তোরাঁর টেবিলে
আর মলিন এন্টারটেইনার বনসাই বৃক্ষ
মোলায়েজের গানে দূরের পৃথিবীতে ডুবে গেছে
শুধু তার পাওনা ছিল পাহাড় কে জড়িয়ে ধরবার।

১৫) নীলজলে নৌকা 

তোমার কোমল মুগ্ধতা
সকালের সোনা রোদের মতো 
এটি চায় কাছে এসে জড়াতে, এক অদ্ভুত ইশারায়
জানালা খুলে দেই সেই মুগ্ধতা আরও ভেসে আসে 
স্প্যানিশ গিটারের ক্লাসিক্যাল হয়ে।

যেন মনোযোগ আকর্ষণ করা তোমার
বিমূর্ত শিল্পের বাস্তবতায় মূর্ত আকাঙ্খা,
শেষ থেকে শেষ পর্যন্ত ঠোঁটে হাসি
বিকেলে সূর্য, বইপড়া, একটি অবিশ্বাস্য কথোপকথন 
এবং প্রচুর হাসি একটি কৌতূহলী শিশুর চোখ
কল্পনার ইচ্ছেডানা আলগে রেখে
তুমি যা চাও, তা উন্মুক্ত হওয়ার স্বাধীনতা।

তোমার নীলজলে আমার নৌকা
ডোবাবো কীভাবে, গভীর শ্বাস ফেলে খোঁজে পাই শরীরী মানচিত্র,
কমে আসে ওষ্ঠের দূরত্ব
পড়ে থাকে শুধু পরিভাষাহীন
মৃগতৃষ্ণায় নগ্ন বুক।

১৬) বেঁচে থাকা ফ্লুরোসেন্ট রোদে

পৃথিবীর বুকে এতো হাঁটাহাঁটি করেও
একটু ঘুমোনোর জায়গায় মধ্যাকর্ষণে ঝুলে যাই
তবুও সেখানে আমার শরীরটা ছেড়ে দিতে সাধ হয়
যেখানে সামান্য সেঁকা রুটি অবশিষ্ট ছিলো।

মতবাদ দিওনা বন্ধু এখানে নৈঃশব্দ্য, হিরোশিমার জেনেটিক্যাল ফিউশন। তবু পৃথিবীর মুখ নিঃসঙ্গ ব্ল্যাকহোলে টাইট্রন থেকে প্রক্সিমা পর্যন্ত  জীবনানন্দ কলিং বাজায় ইস্কাপনের রাজা। আর দেরি হলে প্রাচীরের অর্থহীন অবরোধে লিখা হবে ইতিহাস তোমার! পৃথিবীর প্রাক্তনভাগে আমরা বেঁচে ছিলাম ক্ষুধায়। আবার লিখা হবে নয়াগণতন্ত্র।

১৭) ভায়া অনুভব

প্রতিটা ভোরের জন্মলগ্নে একরাশ আশা ডানা মেলে
পুরোনো ঝেড়ে লোনা জলের তিক্ততা মুছে
চেয়েছিল বিধ্বস্ত অবহেলার বুকে আসবে,
বিভাজন ভেঙ্গে প্রেম-আনন্দ জিহ্বায় স্বাদ অনুভবে-----
শৈল্পিক সাজে পরিত্যক্ত কাঁটাতার!

অবশেষে সত‍্যটা জানলাম।
সুখপাঠ‍্যের মালা- জপা রোদপোড়া দিনগুলো
অন্ধকারে জাহাজ ডুবানো প্ল্যানে,
আর, ঐযে সবুজের সমারোহে
ক‍্যান ভর্তি অক্সিজেন ও হীনবীর্যে
ভাগ্যে পুনরাবৃত্তি মল আর মলের শোধন।

১৮) একটি আলোক এবং আমি

পৃথিবীটা...জীবের কাছে,
ঠিকানা-বিহীন ঠিকানা!
তবুও ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়
একটা অভিলাষা কবিতার দেহে।
সে ক্ষত বিক্ষত, উষ্ণ সম্ভোগে নয় 
জমাট আধাঁরে বেড়ে ওঠা প্রগাঢ় আর্তনাদে।

এটা আসলে সাঁঝের নির্বিকার প্রদীপ 
বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়া
ব্যাবলিনের শূন্য মাজারে।
বুক চিরা স্বাধীনতা, নীতির দুর্নীতিতে
মাউথ অর্গান, রবীন্দ্র সংগীত বাদ দিয়ে
সঙ্গম সভায় ভাষণ দেয়
চে গুয়েভার বলিভিয়ার রাজপথে।
তবুও পরজীবীরা ক্ষুধার্ত অট্টালিকার 
 ফিসফিস হয়ে ওঠে
অপূর্ণতার প্লাবিত প্রেমে।
আর সরাইখানা পরস্পরের বুকে টানছে
শর্তহীন দ্রাঘিমা রেখা।

১৯) দীর্ঘশ্বাস

সত্য আজ একটা অপ্রীয় 
গোপনীয়তা প্রকাশ কাল কিছু বন্ধুদের কাছে
 যদিও সত্যটা ছিল উন্মুক্ত আকাশে মুক্ত হবার
হাতে হাত বাড়িয়ে দিন বদলাবার, কিন্তু
কোমল গ্রীবায় ভালোবাসা ছেড়ে জড়িয়েছে চাবুক,

 অনুভূতিতে আচ্ছন্ন সমাজ-সংসার রসাতলে
আপোষহীন তাপমাত্রা মাপছে গৃহত্যাগী জোৎস্না
 যে আমি কিছু ভুল করেছি!

  কথা কম করে দেখুন যতই মুখ বন্ধ রাখবে
 ততই ভালো হয়
 কিন্তু আমি তাও করতে পারি
 আমি মাইন স্থাপন করছি
 আমার পথে
 আমি তাদের উপর পা রেখে -- চাই
 বিস্ফোরণ
এবং
 আমি একটি বিন্দু পর্যন্ত পৌঁছতে চাই
 যেখানে আমার জন্য কোন প্রত্যাবর্তন নেই।

এমন একটি বিন্দু যেখান থেকে বের হওয়ার কোন পথ নেই
এই পৃথিবী দেখতে
 যোদ্ধাদের জন্য
 শক্তিশালী মানুষের জন্য
 ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন মানুষের জন্য
 আমি তাদের একজন নই,
 আমি দুর্বল
 আমি কাপুরুষ
 তাই প্রত্যেক কাপুরুষ যা করে আমি তাই করতে যাচ্ছি
 এক সহজ উপায়ে!

২০) আমি সরে যাই

কি সেই আওয়াজটা আবার অন্ধকারে ভেসে এলো?
 আলোর এই গোলকধাঁধাটা কি আমাদের ছেড়ে দেয় ?
গোধূলির পড়ন্ত রবিটার মতো!
 আমরা কি এই অবস্থান গ্রহণ করি,
 মুখ ফিরিয়ে নিয়ে তারপর ফিরে যেতে?
 আমরা কি শুনলাম?
 আমরা যখন প্রথম দেখা করি তখন আমরা সেই নিঃশ্বাস নিয়েছিলাম।
 শুনছো। এটা এখানে....!

২১) মানুষের পৃথিবী টা

মানুষের পৃথিবীটা আস্ত একটা যৌনখানা
ন্যাংটো হয়ে যেই বিছানাটা নাচতে শুরু করলো
ফরমান এলো
মানচিত্রের কাঁধের কাছ থেকে আড়াই কেজি মাংস কেটে নেয়া হবে
অবাক হবেন না।

শুকনো জিহ্বা কত টানবে উপচে পড়া ব্লাউজের রস
রয়েল-বেঙ্গল টা ন‍্যাশনেল পার্কে
স্বপ্ন বিহারে বিভোর
আর্য-শ্লোকের বর্জ‍্য চিৎকারে
থালায় প্রসাদ, চেষ্টায় ঘুম ভাঙানো।

২২) পরকীয়া

ক্ষণে ক্ষণে তীব্র প্রতিক্রিয়া
এক আকারে সঞ্চিত পুঁজি মোহনবাগানে
ঢেউ খেলে অতৃপ্ত চাহনি,
আশার পূর্ণ কিরণে নৈরাশ্য ঝড়ে
ভোগের অংশটি হাতছাড়া।
অদৃশ্যের চাওয়াটা অন‍্যরকম হাঁটে
সড়কের ঠিক মাঝখানে
মনে হয় অম্লান কামনা মহীরুহ মেহগনি ছায়া ফেলে
তোমার আমার পথে,
ব‍্যবহৃত শরীর টা দুজনার,শরমে-সংকোচে
সামাজিক মুখ তোমার আঁচলে ডেকে
দেখিনা তো কোনো ভুল তাতে----
তবু কেন সম্মুখীন প্রশ্নবোধকে?
জীবনের মরণপারে আমি আর প্রেম
মিলে যাই পারাবারে।

২৩) কামনার দংগোল

মধ‍্য রাত্রি.....
তা ও শান্তি জুটলো না,
বসে ছিলাম কাগজের পাশে
ভাবছিলাম কয়েকটি পরিচিত শব্দ জোড়ো করে
সারিতে সাজাবো,
নিঃশব্দ......
হঠাৎ নগ্ন ব্রা'টা কাঁধে, শিউরে উঠি
দেখি দুলে ওঠা জোড়া স্তনের উপচে পড়া প্রদর্শন
আর তার চূড়ায় পিকাসোয়ী কারুকার্য;
ধীরে ধীরে সুপ্ত রাক্ষস জাগ্রতের পথে।

আলগা হয়ে যাওয়া বসনখানি শরমে........
নগ্ন কটিদেশে তোমার নিক্কণে,
নিঃশ্বাসে বেড়ে যাওয়া উষ্ণতা
বেপরোয়া,পরিচয় ভুলে পরিণত অন্য রূপে
কামনার দংগোলে নগ্ন শরীরে
জাগ্রত প্রশ্রবন ডাকছে মাতাল বেসে
তৈরী সে তীক্ষ্ম বর্শার আঘাত সইতে
দীর্ঘ পরিশ্রম ঝরা ঘামে, আনন্দ আর আনন্দ
সর্পিল বাঁধনে আমায় বাঁধো তুমি কাম রঙে।।

২৪) পঁচা হৃৎপিণ্ডের মিলনায়তন

বিলাস প্রাসাদে আজ কাপুরুষ মেলা
নিত‍্য নতুন ছোরা, নাম সভ‍্যতা !
দিকে দিকে ছিটা রক্তের জখম;
শুকছে নষ্ট শকুন, স্বাধীনতা হরণ
পঁচা হৃৎপিণ্ডের মিলনায়তন---
বোকারা পুড়ছে, দ‍্যাখ্
স্মিতহাস‍্য শয়তানের মুখ, ওরে ঐ নির্বোধ।

থাক্..... থাক যতসব আঁচলে বাঁধা
মরুক না ওরা, কাজ টা পদলেহা;
লোহিতে মিশুক নিষ্পাপ লাল কণা,
চিহ্নহীন গোরে-----
এ-সভ‍্যতা, সূচনায় নতুন যুগ আবিষ্কার মূহুর্তে!

২৫) ভেতরের কন্ঠে

আত্মহত্যার আগে অপেরা শোনালে ভালো লাগবে আমার
আমি রবীন্দ্র সংগীত শুনেছি সাথে নজরুল ও
আর কবিতা.....
একটু হলেও শুনবো "আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে"
বাকি রাখিনি শক্তি থেকে সুনীল
তৃষ্ণাটা মেটতো,কিন্তু------
মানুষ সঙ্গমের সময় 'ভালোবাসি' শব্দটা বেশী বলে,
এর মতই।
ঘুরে আসুন গণতন্ত্র---
হিউম‍্যানিটি মিথ্যার ভিড়ে,লেট মি ফাক্।

মানুষগুলো এই গোলকের ভিতর
উচ্ছিষ্ট পাহাড়ের ঢলের মতো,
থিয়েটারে ন‍্যাংটো আদম-ইভ ফুল মুভি
ঠিক মূহুর্ত অবিকল শ্রীজাতের 'অভিশাপ'
ক্ষুধা নিবৃত্তি,
চলমান সংঘর্ষ সেই ট্রেডিশনে
আরও অপরিপক্ক মস্তিষ্ক জন্মালো।
শ্বাসরোধ সফলতা রক্তবমিতে ইষ্টিশন।

২৬) সিঁধ

ফিরে এসে দেখি জমাট বেঁধেছে
অজস্র ভুলের অভিজ্ঞতা;
নীড় ভাঙা প্রজাপতিরা বাৎসল‍্য রোদে পোড়া,
মিছিলের স্মরণ সভায়
বরফ গলে গলে অসুস্থ সূর্য চলে যাচ্ছে
সিঁধ কাটা ঘরে। আর,
রক্তের সাথে ভূমি--বুলেটের মিলনে
নতুন কিছু দুর্বল জীবনের উৎপত্তি,
নগরের সুইসাইড স্কোয়াডে স্বৈরশাসক
বিলোনিয়া বর্ডারে সহবাসের তাস খেলে------
অহংকার উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে বিশ্বাসী অন্ধকার
সম্পাদক ও কবি একপাতে ভাত খাচ্ছে।

ওদের জানা নেই
বই কিভাবে খোলে রোদে দিতে হয়,
বাক-ধ্বনির ব‍্যলান্স টা ওরা জানে
বেমালুম এসিড-পাঞ্জাব চালে,
কিন্তু.....
লেকচারের ঘনিষ্ঠ ধনুকে
প্রতিশ্রুতি শব্দগুলো তিরবিদ্ধ।

২৭) চুক্তি

আমাদের তো প্রেমিক হবার কথা ছিল।
আমাদের কথা ছিল না মূল,কান্ড,শাখা-প্রশাখা পেরিয়ে যাবার---
অনেক পথ হেঁটে মৌলবাদে যাত্রা করবার!
আমাদের তো কথাই ছিল
ডানা মেলবার।

সেই কবে এলাম,দেখছি---
হে উদাসীন,হে প্রিয়তম,প্রিয়তমাগণ,
হে দম্ভ,আর কত!
আর কত কথা না রাখবার,কাজ না করবার কথা!
ভাবতে ভাবতে, নিজেকে বলি---
ভালোই তো ছিলে, মরতে গেলে কেনো?
শ‍্যাম্পেনের চুমুকে উপচে পড়া স্তনের নৃত‍্য
ফেরারি'র নৈশ ভোজনে।
তুমিও পাবে !

২৮) রোজনামচা

পৃথিবীর ক্লান্ত পথে ব‍্যর্থতার ভীড়ে
দলাদলির অন্ধকার জোৎস্নার মুখ
হলদেটে রুদ্দুরের ছায়াপথে
খোদ্দের খোঁজে ।
ঘুনপোকের সহবাসের নিঃশব্দ শিৎকারে
আর শিরোনামের ভালোবাসা আবেশে
মিশে যায় ক্লেদাক্ত ভুঁইফোড়া গন্ধ।

অবিধান হাঁপিয়ে ওঠে ভ্রষ্টের সমবাহু সংলাপে
রোজনামচায় অসংখ্য ভক্তদের ভীড়ে
পীরাকি দেখায় বিষাক্ত বিষে।

২৯) ধূসর শহর

মিলনের গানে শুধু উপেক্ষিত;
ক্ষুধা আর প্লাবনের ঢেউ নিশীথ বিকট ছায়ায়
লোলুপ আমন্ত্রন, সংশয়ে.....
সমৃদ্ধ ইতিহাস মাকড়সা ঝালে।

সত্যিই, মানুষগুলো বড়ই আলোড়িত করে আমায়।
নৈরাশ‍্যের বাজারে ওরা----
মানুষ রুপী খেকো;
মৃত ভালোবাসা পরিযায়ী বুকে।
মধুবনে মদের যজ্ঞ---
আমি চিৎকার করে বলছি এই ধূসর শহরে
ঝুলন্ত গ্রহগুলো,
বিশ্বাসের পিঠে হৃদয় হন্তা।

৩০) এক ঝাঁক মিথ‍্যার মুক্ত বিচরণে

অজস্র নীতিমালার প্রেক্ষাপটে এক দুরভিসন্ধি,
সুরাহার সন্ধানে বিমূর্ত প্রতিমা
তপ্ত রক্ত খোঁজে লোকালয়ে,
রাজধানীর খেকোগুলো আরেক ভঙ্গিমায়
হামাগুড়ি দিয়ে পাড়ি দেয় মফস্বলে।
ক‍্যনভাসে পুরাতন রবে দলবদ্ধ যৌবন ভাঙছে আশ্বাসের মিউজিয়াম
পুড়ছে যত হরিৎ ইতিহাস,আর
ভালোবাসার শান্তনা দাউদাউ করে---
সিগারেটের মতো ক্রমশ ছোট হওয়া সংক্ষিপ্ত জীবনটা
পঁচা স্বপ্নগুলোর শোকের অগ্নুৎপাতে ভস্ম।

৩১) যাও, তাকে ডাক দাও

যাও, তাকে ডাক দাও---
অনেক শুনেছে
এবং এসে দেখে যাক একবার ঐ ঘুমন্ত শহরকে,
যেখানে অজস্র ভিখিরি আর ভিখিরি......
ওরা নির্মম ---
ক্রংক্রিটের দেয়ালে প্রাইমার ঘষে ছলনার মিশ্রণে।
ওরা অভিজ্ঞ!---
মূহুর্তে আবেগ কে জয় করে শিল্পের নিয়মে।
ওরা রবিন হুড---
বারুদ নিয়ে খেলে যৌবন প্রশিক্ষণ শিবিরে।
ওরা ধার্মিক---
নিমেষে গুটি হাটায় তোমার আমার মাঝে।

যাও.... তাকে ডাক দাও
একবার দেখে যাক ঘুমন্ত শহরকে।

৩২) আমাদের গ্রাম

চেন এই সুজলা সুফলা ধরা
স্নিগ্ধ পরশতা, অমল মূরতি যেথা
গাঙ চিল কুয়াশার দেশ,
লক্ষীপেঁচার ডাক, কাক ভোরে ঘাসে ভেজা নূপুরের হাক,
শুনেছো কাঠটুকরির বেলগাছে কান্না
বা জীবনানন্দের কবিতার মতো---- ধানসিঁড়ির
সেই নৌকা যার পাল ছেঁড়া !
ছিল এক দিঘিতে জল খাওয়া
দশমী তে সলমনের ঘরে মদ ফিরনি আর গলাগলি করা
ঠিক বিপরীতে  পার্টি হতো
অর্জুনের ঘরে ঈদের সে.....টা।

সেই কবের কথা..... আজ বেমানান
আজ একদল পুবে মুতে আর একদল পশ্চিমে,
ঈশ্বর প্রাপ্তিতে মন্দিরের চূড়া ভাঙে
মসজিদে মাইকের শব্দে !

হারিয়ে গেছে বিকেলের চা-য়ের আড্ডা।

৩৩) হোক কবিতা

বাতাসে ভুঁইফোড়া গন্ধ
ঢেউ বাতাস জল কাদায় মূর্তি গড়ি স্থবির,
শকুনিরা হাসে ধর্মের ঘরে তালা মেরে।
এ শহর কবির নয়, নয় কোন বীর একাদশের
এ শহর বর্বর ধর্মান্ধদের।

নিঝুম রাত্তিরে তার কানে কানে
জানিয়ে দেয় -----
শীতকালীন দূরত্ব শহরে নেমে এসেছে
প্রতি সন্ধ্যায়;
ধূসর রাস্তায়
খোলা কন্ডমের বার্তায়।
এরসঙ্গে মিশে গেছে অহেতুক ভয়
সর্বত্র আগুন জ্বলছে;
ব‍্যস্ত
অপুষ্টির কঙ্কালেরা বানিজ‍্যে দেবতারে নিয়ে
গলে পড়ে যাচ্ছে প্রাচীন স্থাপত্য;
শহুরে কুকুরদের দাপটে
ঠকবাজ সব মক্কা বারানসী
সুটকানো স্তনে কস্তুরী লেপে!
তাই ঘোষণা একটাই
মৃত ঈশ্বর বলে।

৩৪) ফুসফুস
       (গল্প কবিতা)

যার হৃদয় নেই তার ভালোবাটাও দুর্জয় সন্ত্রাসে। আসলে হৃদয়টা মানে দিশেহারা পাগলামি, অনুরাগ, স্তুতিপাঠ। যারা, দেহে হৃদয়ের মুক্ত বাতাস মানে ভাবে বিবর। আমার হৃদয় রাত্রি অমানিশায় লুকিয়ে থাকা চাঁদ। হৃদয় মানে আলগে যাওয়া প্রতিটা জোড়া। উদারতার সাজসজ্জায় কাঁটা ফোঁটানোর ছোট্ট প্রয়াস।অন্ধকার আর মাকড়সার জাল। হৃদয়হীন যৌনতা। শুধু মানসিক সান্ত্বনা। মনুষ্যত্বটাও ওর উপর ভরম্ভর। তবে আজকাল আর ছাইপোঁকার মধ্যে।

একবার ভেবে দেখ ঐ আশেপাশে। না সুদূর আসমুদ্র হিমালয় পারে। স্বর্গের বিচরিত নন্দন কাননে শয়তানের আশ্রয় স্থান। নরকের ভয়ে খুঁজে দেখ নিজে কয়গজ নীচে। টিপে দিচ্ছে গলাটাও রঙিন স্বপ্নের বাসর রাতে, কালো চুলের কালো স্বপ্নে।

তুঁই তো রাজা নস্? তবে কেন? কেন,
হা করে গিলে খাস তার মাংস। এই হৃদয়টা ও তোর নয়। আছে শুধু ফুসফুস। শুন্ মাঝে মাঝে ডাক্তার দেখাস্ ঐ জীবন্ত হাসপাতালে।

৩৫) একাকীত্বের নিদারুণ আর্তনাদ

এ জীবন ফুরিয়ে অচিরেই
ঝরে যাবে আশার সঞ্চার বাণী অশ্রু জলে
সিক্ত হয়ে পড়ন্ত বিকেলে,
আধম‍রা ভালোবাসাগুলোও
হৈমন্তিক রস শুষে কঙ্কাল প্রায়
নিরেট বরফ, ঐ আদিম কালের।

আলোর শেষ বিন্দুটাকেও অভিলাষী মন
চেয়ে ছিল বেশি নাহলেও----
কম সোহাগ দেবে
বুকের উর্বর জমিতে পুঁতে রাখা জীবন কে,
কিন্তু কৈ, পাঁজরে ধমনী ছেড়া শব্দে
শিরায় শিরায় বাজছে
একাকীত্বের নিদারুণ আর্তনাদ।

৩৬) তৃতীয় শ্রেণীর এক আমি

তৃতীয় শ্রেণীর জীবন,কুকুরের মত কুন্ডলী পাকিয়ে শুয়ে থাকি ছানাপোনা নিয়ে।নিজেই বানিয়েছি নিজের নিয়ম।রোজ রোজ ফলের দোকানে ঢু মেরে আসি,আরেকটু কম দাম হলেই কিনে আনব পোয়া খানেক আঙ্গুর বা কোন প্রিয় ফল।প্রেমিকা ছিল সুচরিতা সেন,বিভোর ছিল মন সঙ্গম স্বপ্নে।বিকিয়েছিলাম আমি তারে হৃদয়।
পাইনি তারে তবু কি হয়েছে?রাহেলা বেগম তো বউ হয়েছে হাসিমুখে সব মেনে নিয়ে।বিছানায় শুধু গদি আটা নেই।কঠিন তক্তপোষে শুয়ে তবু সুখটান দেই।
পুঁটি মাছের ঘ্রান আসে রান্নাঘর থেকে।জুতোর সুকতলি খুইয়ে জুটিয়েছি তবু মাস ইনকাম।বাবার জমি বেচা টাকায় ডিগ্রিও জুটিয়েছি তিনখান।
গুমোট জানালাহীন ঘরে তৃতীয় শ্রেণীর জীবন।
মাইনেটা বাড়লেই একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নেব।তিন রুমের।রাহেলাকে কথা দিয়েছি।ওর ফোলা ফোলা গালে এখন আন্দামান নিকোবর এর মত মেসতার দাগ।আমি বোধহয় বুড়িয়েছি কিছুটা।ছেলেটার অসুখ করেছে খুব,ডাক্তার দেখাতে হবে,,সেও এক রকম টাকার খেলা খুব।বাবার ভিটেটা এবার বেচেই দেব।
কন্যাটাকে সামনের বছর এ স্কুল ছাড়িয়ে সস্তা কোন
স্কুলে দেব,খরচ কমে যাবে বেশ।
তবু রাস্তার মোড়ে ভিক্ষুককে দেখে আমি মনে মনে আত্মপ্রসাদ লাভ করি,,,আমি ওর চে তবু ভাল আছি।

৩৭) ক‍্যাসান্দ্রা

রাফখাতায় পড়ন্ত বিকেলের মতো খশে পড়ছে অশৃঙ্খল শব্দগুলো
ইস্তাহার-ম‍্যেমোরেণ্ডামে শুধু দিচ্ছে মিছিল
পরিবর্তন করে রাজসাক্ষী নতুন ইতিহাসে,
কারাগারে পুলিশ রাজপথে নেতারা ধর্ণায় অজুহাত,
বহুগামিতার কারণে, উচ্ছৃঙ্খলতার কারণে
একের পর এক গড়ছে পতিতাপল্লি রাষ্ট্রের বুকে।

আমার সুইসাইড নোটে থাকবে রাষ্ট্র তথা সেইসব ছেলে মেয়েদের কথা
মানসিক বিকারগ্রস্তদের কথা, যারা লুটছে-----
পীড়নের দায়ে ফাঁসির দাবি জানাই !

৩৮) ঈশ্বরের মৃত্যু হয়েছে ----

যুগে যুগে ঈশ্বর জন্মায়
কালের বেলায় ওবেলায় আবার মরে যায়
দরিদ্র মানুষের ঘরে কিবা ক্ষুধার্তের ভাত ভাত শব্দ ফায়ারে
সোমালিয়া, আফগান,আরাকান কিবা সুদানের গলিতে
মরতে দেখেছি কত ঈশ্বরকে
রক্তে ঐশ্বী বাণী নিয়ে দাঙ্গার কোন রাতে যুদ্ধের হুংকারে।

মন্দির, মসজিদ, প‍্যাগোডায় কত মরেছে ঈশ্বর
কিম,স‍্যুকি,বাগদাদি রা এখন ইয়ার
ঈশ্বর তো সম্পদ কিবা পুঁজির হাতিয়ার !!
আজ মরে গেছে
মমি হয়ে মৃত মিশরের পিরামিডে,হেরা-শাবরিমালায়

নীল নদ , টাইগ্রীস,সাঙ্গু,নাফ নদীর তীরে
কত ভেসেছে, দেখেছি
মৃত মায়ের স্তন টানছে ফুটপাতে
ক্ষুধার্ত ঐ শিশুটি
দেখেছি লাশের স্তুপে মাছির সাথে
শেষ মৃত্যু পাঞ্জা লড়তে !!

আমিও পাল্টাতে চাই---
ক্ষুধা থেকে বড় ধ‍র্ম আর অন্ন থেকে বড় ঈশ্বর থাকলে।

৩৯) নীরবতার ক‍্যালিগ্রাফি

ওই শ্রাবন্তীর স্বর্গোদ‍্যানে
এখন উঁকুনদের বাস।হারিয়ে গেছে বেহিসেবি উতল বাতাস,
নির্ভেজাল জল,বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত,
মেঘমালার নির্জর সঙ্গীত,
নিঃসঙ্গ গলি আজকাল এক একটা বিস্ফোরিত রাজপথ।
মহামান্য রাষ্ট্র--
উঁচু করে রাখা ঐ কবিদের মাথার দাম কত!!?
যেগুলোর উলুধ্বনি.... শঙ্খধ্বনি শুনে
গণতন্ত্রের কথা বলে একনায়কেরা।

ভাঙা টেবিলে
শতাব্দীর শেষ প্রান্তে
দেহ থেকে ভেসে আসা নাভিকাটা আর্তনাদ
শুধু খব‍রের কাগজে হেডলাইন।

চিলেকোঠায় পুরোনো পোশাক
কুচকুচে কালো আঁধারে,
রাম রহিমরা মৌলবাদের জিগির তোলে
---ঐ শহরে, বন‍্যা আসছে
গোড়ালি ফাঁটা রক্তক্ষরণে লাল হয়ে।

৪০) নাট‍্যশালার গ্রীনরুম থেকে

এবং তাদের হত্যা করা হল
ব‍্যস্ততার ভীড়ে,
অত‍্যন্ত দক্ষতার সাথে প‍্যাঁচানো ইন্দ্রজালে
মেয়াদ ভিত্তিক লাইসেন্স পেয়ে কসাইরা---
অবৈধ ক্ষমতার সুফলে
উলঙ্গ চোখে অন্ধ কানুন হ‍্যালোজেন হাতে,আজও!!

রক্তে ভাসছে আমার দেশের আঙিনা
এসেছিলাম ফিরে যাচ্ছি
বুলেটের চেয়ে মুখোশ ভয়ংকর
কি আছে আর; তরুণ তরুণীর হাতে মোমবাতি
ছাড়া।নিজের ছায়া নিজে গ্রহণ করা,
অভ‍্যস্থ এখন জনগন, নাট‍্যশালার গ্রীনরুম থেকে
নকল রাজা অট্টহাসিতে!!

৪১) ফোঁটা ফোঁটা উত্থান

অস্তিত্ব জুড়ে শুধু বিস্মরণের বক্ররেখা
বুঝিনি এমন নিঝুম ভাষ‍্য,
নির্মোহ মন,আবেদন করে ট্রেন্ড
অলিখিত রোদ্দুর আর
অজানা উঠোন জুড়ে পড়ে থাকা
আঁচলস্পর্শী বিনম্র নিবেদন।

এই শহরে সন্ধ্যায় নেমে আসতেই
ত্রিযামায় লুকোনো অজানিত স্বপ্ন
মায়াবী নক্ষত্রে শুধু প্রবাসী ভাবনা।
জমাট অভিমান
নিথর রূপকথার রাজত্বে
ঠিক একপশলা বৃষ্টি!
সুতোর ম‍্যাজিকের মতো
ক্রমশ কমছে তার দৈর্ঘ্য,
শুধু অনন্ত অজ্ঞাত ঢেউয়ে
গতিমুখ বদলে দিচ্ছে।

৪২) নামহীন একজন 

 অবশ্য মনের গন্তব্য তার গভীরতার দৈর্ঘ্য মাপে
সেন্টিমিটার বাই সেন্টিমিটার
জীবনের প্রতিটা মূহুর্ত হিসেব কষে
মূলরোম থেকে জলস্তর পর্যন্ত।

নিয়তির খেলা সাময়িক প্রসঙ্গ
যা আস্বাদন দুঃখবোধ আর বিলাপও।

পঞ্চভূতের পাঠশালা ফাঁটা জিন্সের পৃথিবী
নেশাতুর সালসা আর গিটারের গুঞ্জণে
লাফিং বুদ্ধের ভঙ্গিতে নিমগ্ন দ্রাক্ষাবন।

৪৩) ভবিষ্যৎ বদলাচ্ছে নিঝুম রাত্তিরে
নৈশব্দিক রহস্যময় জগত টা
শব্দ বাণে স্থিতধী।

চাহিদার গুণগ্রাহী সুরক্ষার জোট আর
       সীমান্ত-নদী-পাহাড় বেয়ে
কিম্বদন্তি হ্লাফ পেন্ট মানুষগুলো
সাক্ষী এই ধুসর সময়ে।

৪৪) প্রেম--
আর আসে না, দুর্মুখ স্বপ্নগুলোর
ইচ্ছেমত ফরমানে, এখন
                হিউমাস দেখে।

৪৫) এশহর এখন ফ‍্যাকাশে
পুরোনো চোখগুলোর অভাব, শুধু আভিজাত্য আর আভিজাত্য
শর্ট স্কার্টের পরদেশী হাওয়া সওদাগরি মেজাজে।

পদবী বসছে চাঁদের হাটে
মিঠাজলে রাম আর উইস্কির ককটেল
সঙ্গে চলছে উৎসব গীত।

৪৬) কুশিয়ারা বেয়ে খাঁড়া ডাকবাংলা ঘাটে
দু-পার বাংলার ঘ্রাণ উদ্ধার করেছি
খানিকটা বিষ্ঠা খেয়ে।

ল.সা.গু- গ.সা.গু উৎপাদক বের করে
স্রোতের প্রবাহে দিনশেষে একটাই চিত্র তুলে
সেটা হলো মান যোগ হুশ।

রাস্তা খুঁড়লেই কী মীমাংসা হয়
এ যে নাড়ির সাথে নাড়ির টান
স্মৃতিমধুর রুমন্থন উপাখ্যান,
একটা রিফিলের মতো
সম্পর্কে যতিচিহ্ন বসে !

৪৭) একটি ফুল---
হাত পা ছাড়া সাবলীল গঠন
সমুদ্র মন্থনের পাশ দিয়ে
হারিয়ে যাচ্ছে নদীর দু'পারের মতো
আলগে।

ভালো থাকার কথায়
দেহতত্ব গায়,তবু নির্যাস হারিয়ে
দিতে চায় একচিলতে রুদ্দুর।

রক্তপাত শেষে বিয়োগান্তুক মূহুর্ত
ক্লেদাক্ত বাগান আর সয়না
নিয়তির নিঝুম ভাষ‍্য।

৪৮) 'হামসফর' চড়ে কী উপলব্ধি করার!
পিছনে ঠেলে দেয় আলোক ফোয়ারা ষ্টেশনগুলো
স্বৈরাচারী আবেগে।

যাচ্ছে তো যাচ্ছে
একটার পর একটা টপকে
পু ঝিক ঝিক করে, সাড়ম্বরে
'এয়ার ব্রেকের' শব্দে অসুবিধে নেই বোঝাতে
থামতে হয় কোন না কোন ষ্টেশনে।

৪৯) বৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে হয়
কিঞ্চিৎ সুরাপানে;
ফ‍্যানের শব্দটাও
তাল দিচ্ছে ,আধ মোজা চোখগুলোর সাথে
ইজিচেয়ারে বেশ হেলিয়ে বসে
ছোট হয়ে যাওয়া জ্বলা সিগারেট টাও।

সময় হারিয়ে যায় ইতিহাসে
কমলাকান্ত ও দপ্তর থেকে মুক্তি
তাই নেপোলিয়ন
দহন উৎসব শেষে ফিরে গেছে।

৫০) কেইসড্রাট

স্ট্রিট লাইট
নেই তেল, চারদিক ঘিরে আছে অন্ধকার
হামাগুড়ি দেয়া ইঁদুর ছানা 
রেখাহীন গর্ভে সুড়ঙ্গ খোদে ওরা, এখন বাহুবলী।
আমি জড়পদার্ধ 
বিউগল বাজাতে জানি, বড় বিউগল!
আমার কী দোষ - না স্বেচ্ছায় এসেছি এখানে
এই দুর্দশা গ্রস্থে ভরপুর মাঠে।

আমাদের এ জীবন যেহেতু কমার্শিয়াল চিন্তার,
ব‍্যাপার চলছে 
এক চিলতে রুদ্দুর ও,
জলন্ত অঙ্গারে পরাজিত জীবন্ত আত্মারা 
গলায় দড়ি দিয়ে সময়ের দাবি রাখে
কেইসড্রাটের ডালে।

Wednesday, June 29, 2022

জলভসকা


সুখ-সমৃদ্ধি-উন্নতি হারিয়ে
তিনভাগ জল মাঝে ডুবে যায় দালান-গাড়ী
খোঁজে একটুকরো শুকনো পাতা
বাঁচার অন্বেষা।
আশ্রয় হারিয়ে দূরত্ব বাড়ে ----
সবুজ নৈঃশব্দ্য তার তৈলচিত্র
জলতলা শেওলার ভেতর অস্থির প্রহর কাটায়
কর্পোরেশন নর্দমায়।

তিলোত্তমা শহর বলো আর গ্রাম বরাক
দখলে তার পার্ক,চেনা-অচেনা গলি, রাজপথ, ট্রাফিক পয়েন্ট, যত মল, বক্তৃতা মঞ্চ।
জঠরে ভরা যত শব ধ্বনিত হয়
ক্ষুধা - তৃষ্ণার আর্তনাদে 
প্রাণভিক্ষার আবেদন।

বন্যা - হয়েছ এক বিভীষিকা
চোখে ঘুম হারিয়ে।

Friday, June 3, 2022

ম্যা নি ফে স্টো



১) হাংরি জেনারেশন

জাতীয় নিরাপত্তা’ বলতে বুঝি জীবন ছাড়া
 বিবেকের কাছে বেঁচে থাকার বিনিময় প্রথা 
 এবং যে কোন কিছুর জন্য অন্ধ ‘হ্যাঁ’ হয়ে থাকা
 অশ্লীল বলে বিবেচিত হওয়া মনে,
অনুকূলতার সামনে সেজদা করতে শেখেছে
‘জাতীয় নিরাপত্তা’ বিপন্ন লবণাক্ত ঠোঁটে।
 'সবচেয়ে বিপজ্জনক' কথা
 শ্রম লুট শ্লোগান ধরেছে ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন।
 এমনকি লোভ থেকে বিশ্বাসঘাতকতা
 আর কোনো সতর্কতা ছাড়াই গ্রেফতার
 এতোটা ভয়ঙ্কর হয় না
 নীরবতা ভয় পায় যতটা।

নিজের ভিতর থেকে
পৃথিবীর সভ্যতায় গজিয়ে ওঠা ধাবমান ট্রেনগল্পে
ইন্টেলিকচ্যুয়েল বার্তাজীবি লিখছে 'ঘুম পাড়ানি মাসিপিসি মোদের বাড়ি এসো'।
 ক্ষীণ কৃমির আলোয় পড়া
 ভ্রুকুটি নিয়ে জীবনের মধ্য দিয়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে ভালো নয়,
 তবু স্বমূত্র গোমূত্র স্নানজল পান করা ফোবিয়া
 নিজের জন্য নিষ্ক্রিয়তায় কমিয়ে দেয় 
 ইচ্ছা তীব্রতার অভাবে।

সবকিছু সহ্য করতে
রুটিনের প্রাণী হয়ে ওঠা স্বপ্ন- মৃত্যু
ক্লান্ত ঝোকা কাঁধে 'উলঙ্গ রাজার কলিং বেল বাজায়
শব্দ আসে - হাংরি জেনারেশন।

২) গরীবের ক্লিওপেট্রা

স্তব্ধতার মৌন মিছিলে একটি দীর্ঘ এবং নীরব রাস্তা
তবু হাঁটো, ট্রেপে পড়ো ;আওয়াজ তো আসবেই 
ওঠো আর অন্ধভাবে পদক্ষেপ নাও
কিন্তু এখন বুলডোজার সাম্রাজ্য
যেখানে ছাদ ভাঙে আমার দেশ
যেখানে নিঃশব্দ পাথর আর শেকড় ছেঁড়ে আমার দেশ,
ভয় আর কংক্রিট মিক্সার যৌন উত্তেজনায় ক্ষুধা মেটায়
বংশের চিরাগ জ্বালিয়ে,
দেখি নতুন ইতিহাসবিদ গর্বমুখে।

থালা আর বাটিতে লাভ কোথায়
দুবার রাসনের চাল মিলে তবু অভাবীরা বলে তেল দাও
অদ্ভুত ইশারায় পৃথিবী
 দৌড়ে দৌড়ে ঘুরছে শুকনো জিহবাটা নামিয়ে
চিৎকার দিয়ে বলে 
 সবকিছু কালো, প্রস্থান কর...!

এবং ভুনা গোস্ত আর রেড ওয়াইন
 নীল পৃথিবীর রাস্তায় নিয়ে যায়
ভালোবাসা ছেড়ে আদিমতার এক ফ্লোক কনসার্টে,
যেখানে কেউ আমার অপেক্ষা করে না,অনুসরণ করে না,
আছে কিছু হ্যাংলা মানুষ।

৩) পৃথিবীর মুখ
( চে গুয়েভারা কে মনে রেখে )

থেকেছ আর বীরের মতো লড়াই করেছ
একা মরার শব্দ নেই, কিন্তু চে'তনার কোন মৃত্যু নেই
অক্লান্ত গিরিখাত বা খাদে সত্তার প্রাচীন টুকরো আছে,
তবু পৃথিবীর মুখ কেঁপে যায়,আমায় ভয় দেখিয়ে।
আমাকে সরিয়ে দিয়ে বলে উচ্ছৃঙ্খল চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়না
 আমার মধ্যে রয়েছে তিনটি উপাদান: ভয়, অপমান, মৃত্যু
 একটি ঝাপসা ছবি আর অপেক্ষা করা 
 এবং যাকে আমরা প্রেম বলি!

সেই তৃতীয় শ্রেণীর ইন্টারলকার, যা বেঁচে থাকার বিনিময় তৈরি করেছে,
 মূল্যটা যুদ্ধ দিয়ে।
মাথার খুলির ভিতরে তাকিয়ে দেখো
 আমি এক দুঃসময়ের যুবক,
যার হাসিতে নেমে আসে ধ্বংস, ব্লক জীবন নিয়ে
এখন খুব ধীরে ধীরে লোমগুলো কালো থেকে সাদার পথে, 
চোখের গোলাগুলিতে, এখন শুধু খালি সকেট
 যার চোখ দেখেছে
পৃথিবীর মুখ।
 যার ঠোঁটে একবার চুমু খেয়েছিল 
 টর্চলাইটের আলোতে একা একজন মহিলা।

 মৃত্যু একটি কবিতা, একটি সময়ের গান
 একজন সৈনিকের মৃত্যু হল- ফাঁক গল্প,
 যারা তাকে একবার ভালোবাসতো তাদের জন্য ট্র্যাজেডি,
 যারা গণনা করতে চেয়েছিলেন তাদের জন্য শুকনো সংখ্যা।
মনে রাখতে হবে মেরে ফেলা মানে মুছে ফেলা নয়।

৪) হুইস্কির একটি ফ্লাক্স ও গ্রেনেড
     ( ভালোবাসার কাশ্মীর )

 এখনও যে চিৎকার কানে আসে না
 ঢাল উজ্জ্বল থার্মোপাইলে যা গর্বিত
 স্পার্টানে এখন ইম্পেরিয়াল স্বর্গরাজ্য সংজ্ঞায়িত করে
 লাল জামা পরে,
গেটিসবার্গ দাসত্বের অত্যাচার- জীবন
শাম্মী কাপুরের 'ইয়া-হু' বলা বরফের উচ্ছৃঙ্খলতা হারিয়ে
হুইস্কির একটি ফ্লাক্স ও গ্রেনেড শরীরীগরম শেষে
গণকবরের মেতে ওঠা শব্দ আসছে বরাবর।

অগণিত হাজার হাজার অজানা যুদ্ধমৃত শতাব্দী নিচে
জিভ কেটে ঝুলিয়ে আছে কাঁটাতারে
 যুদ্ধের অকথ্য ভাষা আমাদের মধ্যে
 বীরত্বের কবিতা পরে ঘুমের দেওয়ালে কারফিউ
লকডাউন এখন প্রত্যেকটা শালায়
লিগেছি যুক্ত দেশের স্ট্যাম্পে পরিচয় গুপ্ত 
 ফিরিয়ে আনতে পারে, সেই হৃদয় কোথায়?

 এখনও সময় আসেনি, সময় শুধু
ধোঁয়া আর ধ্বংসস্তুপ থেকে মারজানা আর ইয়াকুবরার
জিভ,দুর্লভ চোখ,যৌবন, আর কিছু হাড়, খুড়ে নেওয়ার
পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে নিয়েছে শুধু নিষ্পাপ উপত্যকা।

এখানে কবরের রাস্তায় আপেল গাছ
সাত দশকের প্রতিক্ষায় সে ---
তৃষ্ণা নেই, ক্ষুধা নেই
দাসের মতো বেঁচে থাকা, যে দড়ি দিয়ে সে বাঁধা
শুধু একটা আওয়াজ 'আমি ভালো আছি'।

৫) পুরুষফুল

মুক্তি এবং বিপ্লবের মধ্যে,
এটা সেই ক্ষুরের কিনারা কাটা রক্ত-
রাজপথে তাদের বিদ্রোহে কালো মানুষ,
পার্টি নেতাদের উৎসাহে মৃত্যু স্থবিরতায় হরিণেরা 
একটি উদযাপন মাত্র, বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক।
আমার নির্ভুল আবিষ্কার
স্পন্দিত নিঃশ্বাসে আধখানা শরীর খুলে রেখে 
তুলে নেয় একটি বন্দুক,আর
সমীকরণ মেলায় দর্শকদের ওমর খৈয়াম।

৬) আত্মকথন

তবু নিজেকে নিয়ে কাজ করাটা বড় কঠিন
শূণ্যে  কি আর যোগ করে লাভ হয়?
কোন এক দশকের তো আর আমি কবি নই

শুধু আপাদমস্তক কবিতাময় জীবন

আমি দেশ-বিদেশ তো দূরের
করিমগঞ্জ শিলচর বা কলকাতা বা ঢাকা কেন্দ্রিক ও কোন কবি নই

আদৌ কোনো নাগরিক কবি বা রাজকবিও নই
আমি চাই শুধু এই পৃথিবীর বাসযোগ্য একটুকরো জমি 

আমি নই কোন করপোরেট মিডিয়া- মদদপুষ্ট 
আমার অনীহা আকাদেমি বা একাডেমির সহায়তা
রাজনৈতিক মদদপুষ্ট বুদ্ধিজীবী কবি নই 

শুধুমাত্র জল, জমি, জঙ্গল জীবন চাই

মৌলবাদ বা প্রগতিশীলতার বাধাদানকারী
আমি ঘৃণা করি।

একমাত্র আমার চেতনার কম্পাসই আমার দিক নির্দেশনায় চলি
প্রয়োজন নেই আমার কোন পত্রিকায় বা সামাজিক মাধ্যমে বাহ্ বাহ্ নেবার

তাতে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই

নেই কোন পা চেটে পুরষ্কারের আসক্তি
প্রত্যাখ্যান করি তৈলমর্দন করে কারো ঠোঁটে ওঠে প্রশংসা কোড়াবার, এতে প্রবল বিতৃষ্ণা

আমি অমুক কবি তমুক কবি নই
আমি নিতান্তই এক সাধারণ মানুষ 

কেউ পড়ুক বা না ই পড়ুক
কিছু বলুক বা না ই বলুক 
অনুরাগে বুকে তুলে নিক বা দূরে ছুঁড়ে দিক
আমার ইচ্ছে শুধু
লক্ষ চোখের অন্তরালে আগুন ভরা স্বপ্নগুলো
আঁধার থেকে টেনে আনা।

কারণ দুর্ভিক্ষের চেয়ে অশ্লীলতা আর কিছু হতে পারে
আমার জানা নেই!
ঝাপসা আর স্বচ্ছের মধ্যবর্তী ফ্রেমে আটকা
শুধু এই

আত্মকথন।

৭) কন্ডোম আর ক্যাপাচিনো সংলাপ

প্রিয়তমা, বলেছিলে এই পৃথিবী আমাদের বাসযোগ্য হয়েছে
প্রেম শিখেছে, ঠোঁটে ঠোঁট ঘনত্ব মাপছে, শরীর বিছানা বিছিয়ে স্বপ্নাতুর  ভাষায় কথা বলছে

কিন্তু প্রিয়তমা শরণার্থী চোখে 
নিপীড়িত পাশাখেলার জীবনযাপন
কুম্ভীরাশ্রু দেখে শ্রেণী আর মেরুদণ্ডের ফারাক ভুলে গেছো

এটা কলেজ লাইফ নয়
হাতে হাত চোখে চোখ রেখে কথাবলা
ক্যান্টিনে অনার্স ক্লাস বাদ দিয়ে হাসিঠাট্টা,
এখানে প্রিয়তমা বাজি রেখে রেসকোর্সে ঘোড়া ছুটানো হয়।

তুমিতো জানো কিভাবে ককটেল খেতে হয়
কাছাড় ক্লাবে সেদিনের মত
গ্ল্যামার-শিল্পের আলোকসজ্জার সিন্ডিকেট
এখানে যৌন-উত্তেজনার আওয়াজটাও পুঁজিবাদী

ভয় নেই প্রিয়তমা এমন দিন এনে দেবো
ভুলে যাবে -যত গণহত্যার অশ্লীলতাকে,
শিল্পের বাস্তবতায় প্রতি রাতে ধর্ষণকে,
উপোস থাকার যন্ত্রণাকে,
বেকারত্বের অভিশাপ থেকে,

এ লড়াই তোমার আমার, 
এ লড়াই বাঁচার লড়াই, 
এই লড়াইয়ে জিততে হবে...
শুধু একটি কাজ তোমায় দিলাম প্রিয়তমা 
ঝান্ডার রঙ যদি ফিকে হয় রক্তে রাঙিয়ে দিও।

৮) সিনোটাফ

আমি তোমাকে আরো ভালোবাসি
মাংস এবং হাড়ের চেয়ে, শুধুমাত্র সত্য বলে
আমাতে তোমার আকৃতি খোঁজে পেয়ে 
আর যদি বলি, ভালোবাসি বল, 
ভালোবাসি তোমার মুখ,
পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত 
আড়ালে যে তোমার চোখ ছুঁয়ে যায়
প্রেমের প্রদীপ হয়ে!
আর আমার
আসলে কোন চোখ নেই আছে দুটো জোনাকির আলো
খোঁজে পায় নিঃশর্ত গহীন হৃদয়ে।


 আমার ভেতরে যা আছে ভালোবাসা 
 তোমার হাসি, এবং তোমাকে ধরে রাখা
 সেই প্রিয় অংশের কাছাকাছি থাকতে
হাতড়ে বেড়াই ক্যানভাসের ছবি হয়ে।

সিনোটাফে
আমার প্রতিদিনের প্রয়োজন, তুমি 
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত।
যেন তুমি 
ফিলিস্তিন থেকে কাশ্মীর, আথের জিয়া থেকে মাহমুদ দারবিশ  
দুনিয়া শরীরী আকর্ষণ – এইখানে।

৯) হিমুর ভুবন

এবং ছায়ার মত দূরে বিবর্ণ হয়ে আছি
কয়েক বছর আগে এই সব ছিল স্বপ্নের মতো
আমি যেখানে ছিলাম সেখান থেকে শুরু করেছি আবার 
কয়েক বছর আগেও আমার অস্তিত্ব কেউ জানত না
যেভাবে এটি শুরু হয়েছিল
বর্তমানের কাছে ফিরে এসেছি এখন তারা জানে
একটি শিশু থেকে একটি কিশোর যেভাবে বড় হয়
আমার যেভাবে হওয়া উচিত সেভাবেই করছি
এক মুহুর্তের জন্য বিরতি এবং তারপর একটি ঠাঁই
আজ এখানে আছি
আর ছায়ার মত আমি বিবর্ণ।

  গান দিয়ে শুরু তারপর আবার কবিতায়
  জ্যামিতির মত লাইন যে সব
  আমার মতো জীবন ফিরিয়ে দিতে চায়।
  
অনেক প্রশ্ন ছিল আমার দাঁড়ানো নিয়ে 
আমি অভদ্র ছিলাম না, ভালোও ছিলাম না
ওরা যেভাবে ভালো শব্দের উদাহরণ দিয়ে থাকে!

১০) নীলজলে নৌকা 

তোমার কোমল মুগ্ধতা
সকালের সোনা রোদের মতো 
এটি চায় কাছে এসে জড়াতে, এক অদ্ভুত ইশারায়
জানালা খুলে দেই সেই মুগ্ধতা আরও ভেসে আসে 
স্প্যানিশ গিটারের ক্লাসিক্যাল হয়ে।

যেন মনোযোগ আকর্ষণ করা তোমার
বিমূর্ত শিল্পের বাস্তবতায় মূর্ত আকাঙ্খা,
শেষ থেকে শেষ পর্যন্ত ঠোঁটে হাসি
বিকেলে সূর্য, বইপড়া, একটি অবিশ্বাস্য কথোপকথন 
এবং প্রচুর হাসি একটি কৌতূহলী শিশুর চোখ
কল্পনার ইচ্ছেডানা আলগে রেখে
তুমি যা চাও, তা উন্মুক্ত হওয়ার স্বাধীনতা।

তোমার নীলজলে আমার নৌকা
ডোবাবো কীভাবে, গভীর শ্বাস ফেলে খোঁজে পাই শরীরী মানচিত্র,
কমে আসে ওষ্ঠের দূরত্ব
পড়ে থাকে শুধু পরিভাষাহীন
মৃগতৃষ্ণায় নগ্ন বুক।


১১) ম্যানিফেস্টো

দীর্ঘ একটা সময় নেই তবে এতে অবাক হওয়ার কিছু নয়
পৃথিবীতে আসতে আর কতক্ষন
সময় লাল রঙ ফিকে হলে রক্ত ঢেলে দেয়ার
পরজীবিরা তো  বাধা দেবেই, আগামীর দ্বারপ্রান্তে স্যাটেলাইট বিক্রির রমরমা ব্যবসা এখন
পৃথিবীর গলাটিপে পাড়ি জমাবে বর্হিগ্রহে।

প্রেম-গোপনতায় শব্দচাষিরাও পুঁজির তল্লাশে
কলম ধার নেয় সত্তাকে রূপান্তর করে
তবু হ্যাংলা চোখে পোঁদপোছা উপন্যাস লেখে
জব কার্ডের হ্রদ খোদা বিশ্ব বীজ।

লন্ঠন হাতে ঝিমিয়ে থাকা শহর
ব্রেনগুলো ড্রেন থেকে তুলে
ম্যানিফেস্টো পড়।

১২) আমার ঔপনিবেশিকতায় 

এপিটাফের কারুকার্য বারবার প্রমাণিত করে
সুরের আড়ালে ক্ষয়ের আর্তনাদ,
শ্রেণীসাপেক্ষ নীরবতায় আহা ভেসে থাকা 
ঔপনিবেশ কথোপকথন
একটু দূরত্ব রাখে
বর্ণমালার আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বক্তব্য অনুযায়ী
শ্রদ্ধাবনত স্তোত্র পাঠ করে।

শহিদ মিনার,ভাষা শহিদ স্মৃতিসৌধ, ভাষা শহিদ স্টেশন
ধূলোবালি ঝেড়ে মাকড়ের জাল মুছে রঙ পড়ে প্রতিবার
ফিরে পায় নতুন উদ্যম, শপথ নেয় একটি সত্তাকে জাগ্রত করার, আমি পারি!

দিনশেষে অজ্ঞান উলঙ্গ জলভেজা হয়ে
ফিরে যাই পৃথক ক্ষেত্রসীমায়,
ব্যুরো রিপোর্ট তদন্তে
নিজেকে খুব ছোট্ট প্রাণহীন মাছ মনে হয়!

১৩) ভিড়ের মধ্যে তার মুখ দেখেছি

ভিড়ের মধ্যে তার মুখ দেখেছিলাম,
তার চোখে গর্বের যৌবন-ভেদন ইস্পাত এর ঝলক
যা
বিশ্বকে জাগ্রত করার দৃঢ়প্রতিজ্ঞায়
মে দিবসে।
                                                                                                                                         
শ্রমিকের ক্লান্ত জামায়
প্রতিরোধ ও ভালোবাসার গোলাপ শুকায়
 এই দিনে প্রতিরোধের প্রতীক রূপে,
 সে রেড স্কোয়াডে অন্যদের সাথে মিছিল করে,
 আমি আমার দেশে তার মত আর দেখিনি!
 তার সাহস গোলাপের মতো বিরল।

 এখন আমাদের অসন্তোষের বসন্ত
ধারাভাষ্যকার মানুষ সে ছিল ঠিকই
ঈশ্বর চেহারা খোঁজার চেষ্টায় জেলভরে সে,
দেয়াল লিখনের শব্দ মিছিলে, এখন 
হাতরিয়ে উঠে আসে স্নিগ্ধময় নগ্ন কবিতা।

১৪) বেঁচে থাকা ফ্লুরোসেন্ট রোদে

পৃথিবীর বুকে এতো হাঁটাহাঁটি করেও
একটু ঘুমোনোর জায়গায় মধ্যাকর্ষণে ঝুলে যাই
তবুও সেখানে আমার শরীরটা ছেড়ে দিতে সাধ হয়
যেখানে সামান্য সেঁকা রুটি অবশিষ্ট ছিলো।

মতবাদ দিওনা বন্ধু এখানে নৈঃশব্দ্য, হিরোশিমার জেনেটিক্যাল ফিউশন। তবু পৃথিবীর মুখ নিঃসঙ্গ ব্ল্যাকহোলে টাইট্রন থেকে প্রক্সিমা পর্যন্ত  জীবনানন্দ কলিং বাজায় ইস্কাপনের রাজা। আর দেরি হলে প্রাচীরের অর্থহীন অবরোধে লিখা হবে ইতিহাস তোমার! পৃথিবীর প্রাক্তনভাগে আমরা বেঁচে ছিলাম ক্ষুধায়। আবার লিখা হবে নয়াগণতন্ত্র।

১৫) মাহমুদ দারবিশের মৃত্যু

আমি আমার প্রতিবেশী শিল্পীকে বলি: অস্ত্র আঁকো না,
এবং অপেক্ষা করো, যদি না হতে পারো তুমি লেখক!
 মাহমুদ দারবিশ

 মাহমুদ দারবিশ তার কোনো মৃত্যু নেই,
 তিনি শব্দ ও জলের অমর পাত্র
 ফিলিস্তিনের,
 তার মুখ, তার অঙ্গভঙ্গি ইতিহাসে আবির্ভূত হয়েছে,
 অলিভ গাছের কাঠে,
 আল-বিরওয়া গ্রামে প্রতিধ্বনিত তার প্রতিদিনের কণ্ঠে,
 রামাল্লার রাস্তায় যেখানে বিক্রেতারা
 তার প্রশংসায় গান গায়।

১৬) কুশিয়ারার পরিষ্কার আকাশে মেঘ

 নীলের মধ্যে মেঘগুলোকে খুব সুন্দর লাগছে
 ভেসে যায় দেখি কুশিয়ারার অবাধ আকাশে
 শীতল বাতাসের জন্য চাওয়াটুকু তার অবাধ স্বাধীনতা
 যেন অনেক উঁচুতে ওঠার চেষ্টায়....।

নির্ধারিত ভাবে আকাশ আর গিরগিটির পোশাক বদলে শীতকালের সকাল আর গ্রীষ্মের দুপুরে ডাহুক পাখির ডাকে। সময়ক্ষণটির ছায়ার পিছনে আবদ্ধ হয়।
ডাকছে আর ভাঙছে শীততাপনিয়ন্ত্রিত ঈষদুষ্ণ শরীরী কারু-কোষ ।

রাতের নক্ষত্রখচিত আকাশ। জোৎস্নার শব্দহীন উল্লাস। ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে তার কত রূপে রঙিন হয়ে। আবছায়া হয়ে আছে ক্লান্ত ছবি, তীব্র আন্দোলন, মায়াবী আকর্ষণ। যানজট পেরিয়ে চাঁদ ন্যুড সোসাইটির সিলগালাতে খোঁজে পায় তার জোৎস্না।

১৭) হাফলং এ প্রশ্ন করা এক বনসাই বৃক্ষ 

আসলে এই গোলকটা প্লুটোনিয়াম ঘেঁষা
ব্যালকোনির শোভা বর্ধনে ঠিক বিশাল বট বৃক্ষের বনসাইয়ের মতো। টবে বার্ধক্য রোধে করণীয় কি সে বিষয়ে
এখন রীতিমতো অনুসন্ধান চলছে তার, গবেষণাগারে
জন্মপত্র থাকলে বয়স হয়তো পাহাড়ের আয়তন ও ঝাটিংগার জল্পনা ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতো !

হিলিয়াম ভরে দেওয়া স্তন পড়ে থাক আ'ম-মানুষে…
গাছ উড়ে যায় বনসাই হয়ে 
বৃদ্ধ হয়
এপাশে ভ্যাম্পায়ার ওদিকে ড্রাকুলা
তাদের পাশ ঘেঁষে দজ্জাল 
তৃতীয় চক্ষু-স্ফুরণে বিশ্বাস জন্মায়
আমিই খোদা!

নীরব দ্রোহে কাল্পনিক প্রেমিকারা —
তারা মাঝে মাঝে উপস্থিতি ফেলে যায়
আমার পাশে ছোট রেস্তোরাঁর টেবিলে
আর মলিন এন্টারটেইনার বনসাই বৃক্ষ
মোলায়েজের গানে দূরের পৃথিবীতে ডুবে গেছে
শুধু তার পাওনা ছিল পাহাড় কে জড়িয়ে ধরবার।

১৮) পাবলো নেরুদার জন্ম

 নেরুদা, ভেজা মাটিতে তোমার কবর থেকে,
 যেখানে তুমি এখন ঘুমাও, তোমার কবিতা মুখস্ত ও উচ্চারিত হয়
 মহাবিশ্বের ইতিহাসের মতো--
 স্মৃতিস্তম্ভের সেই মহান স্ল্যাগগুলো,
 জনগণের মধ্যে এখানে-সেখানে উঠছে,
 যেখানে তুমি প্রাচীন চিলি থেকে এসেছিলে।

 আমি কি তোমাকে ভুলতে পারি, 
এমনকি শব্দ ছাড়াই, তুমি প্যারালে জন্মেছিলে,
 যেখানে প্লাম গাছ, প্লাজা আর রেলপথ
 পৃথিবী জুড়ে দেখা যায়,
 প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে বরাবর রেশম ফিতায়।

 জুলাইয়ের উত্তপ্ত আলোড়নের মধ্যে এই দিনে,
 যেমন মার্কিন আগ্নেয়গিরির মতো বিস্ফোরিত হয়
 তার মানুষের রক্ত ​​দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে
 দেশ জুড়ে লাভার মত,
 নৃশংস গণহত্যায় ভেঙে পড়েছে তাদের ‘অসাধারণ’ জীবন,
 ভ্রাতৃহত্যা এবং কোভিড প্লেগে,
 পাবলো নেরুদা, আমি তোমার জন্মকে সম্মান করি,
 তোমার জীবন যা মানুষের ভাষা তৈরি করেছে,
 আগুন, পাথর এবং জলের সেই ভাষা
 আমারও জীবন জ্বালানো,
তোমার আমেরিকা কবিতা যা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল---
অন্ধকার ধ্বংসাবশেষে তারা দেখতে পায়
ডোরাকাটা দাগে ।

আমার কথাগুলো তোমার শরীরের সূর্যালোকিত মুক্তো ভালোবেসে, গোলমাল চরিত্রগুলো দেখে ঠিক বোঝতে পারি, সিংহ এখন দাঁত দেখায় কেনো? 
তোমার কবিতা লাল সুতোয় বোনা জামা
উপহার দিয়েছে আমায়।

১৯) জাল দৃশ্যকল্প

জাল দৃশ্যকল্প,
সর্বত্র
প্রতিটি মুখেই হাসি লেগে আছে
ক্যামোফ্লেজে আক্রান্ত আত্মায় 
শুধু দুহাতে ধরতে চায় এই গোলার্ধ
অথচ এই আকাশ থেকে একফোঁটাও বৃষ্টি হয় না,
অপরমাণুতে বিভক্ত পৃথিবীর বায়ুহীন ফুসফুসে
সাধারণত মিথ্যা বলা হয়ে থাকে।

 মাঝে মাঝে মন খারাপ হয়।
 যা কিছুই নয়, শুধু 
 অলসতা?
মূর্দাকে যতই ডাকো
বার্মীকম্পোজ ছিটাও, গণিতের নিয়ম মেনে  
সে কি আর মুঠি তোলে
অস্তিত্বের মহীরুহে হলদে গোলাপ ফোঁটা ছাড়া,
 মানুষ তার পছন্দকে
ফ্ল্যাক্সিবেল এপয়েন্টমেন্টে চায় করুণাময় ঈশ্বরের কাছে, 
ভরসা হারায়, শুধু শান্তনা দেয় জাল দৃশ্যকল্পে।

 এই কবিতা শেষ হওয়ার পর,
 তুমি কি আবার জিজ্ঞেস করবে,
 "কেমন ছিলে?"

২০) কবিতা এবং শূন্য থেকে মহাবিশ্ব

দেখলেই কি আর সব দেখা হয়ে যায়
রয়েছে আকাশগঙ্গা থেকে পৃথিবীর সঙ্গম পথ
 তুমি কে । অপহরণ কবিতা
 নাকি র‌্যাঁবো, সে এক বিশাল ইতিহাস।

এখানে যখন সূর্য ক্লান্ত হয়
বদলেয়ার,মাতিস সবুজ রেস্তোরাঁয় গড়ে
কবিতার নকশা ;
শুধু আমি টক্সিন প্রেমে, চলি 
নরকে ঋতু পর্যবেক্ষণ।
সাম্রাজ্যিক ইন্দ্রজালে
কবিতারা ও জানে
'হিউম্যান ল্যান্ডস্কেপ ফ্রম মাই কান্ট্রি'।

২১) তিনটি মুখ 

ফিরে যাই পৃথক ক্ষেত্রসীমায়
দিন দিন বৃষ্টি নামে, এক একটা ফোটা ঘেঁষে
অঙ্কুরহীন শরীরী অরণ্যে 
এই অরণ্য, মনের শূন্য লোকালয়
ঘাস নেই পাখি নেই
আছে ঘর তবু স্বাদ নেই।

বুক জুড়ে চাষ হয় নীল সমুদ্র
জীবন ভাসিয়ে চলা ছায়ায় মাছেরা সাঁতার কাটে
ফুলকায় খবরাখবর রাখে
শরীরে শরীর মিলে
কী পরিপক্কতা পায় ?

কারণ, একটা সূর্যাস্ত একটা জীবনের মৃত্যু
নীবিড়তা পেরিয়ে নাভিশ্বাস শব্দ শোনা পৃথিবী
বেঁচে থাকে প্লাটফর্ম মানুষ হয়ে।

২২) আরও একবার

আমাদের কবে সর্বনাশ হয়ে গেছে 
সাহস ভরো বন্ধু 
উত্তেজিত হও অনিবার্য বিপ্লবের জন্য
প্রস্তুতি, শুরু করে দাও 
প্রজ্জ্বলিত ক্রোধ নিয়ে
দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে যেভাবে রুখে দাঁড়ায় 
আক্রান্ত দুর্বল
বিধ্বস্ত জাহাজ যাত্রীরা 
আঁকড়ে ধরে ভাসমান পাটাতন
তেমনি একাগ্রতা নিয়ে
আসন্ন বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নাও।

তোমার শত্রু 
যে কথা বলতে ভয় পায়
যে পুঁজিপতি সাপের মত পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে
সম্পদ লুট করে
ভালোবাসতে গিয়ে মিথ্যা কারণ ছড়ায়

প্রস্তুতি বুকে নাও সিন্ধুর চেতনা নিয়ে 
তোমার কন্ঠে বাজুক 
নয়া অরণ্যের গান।

Wednesday, June 1, 2022

একটি ভালোবাসার পর.....


যুগে যুগে শতচ্ছিন্ন অবাস্তব স্বপ্নেরা
মুঠোভরা বীজমন্ত্রে শারীরিক নেশা হারায়
মনে রাখেনা সানাইয়ের সুর।
গলায় হাহাকার আর তিক্ত কঠিন জীর্ণ নূড়িপাথর
পতিত সৈন্যদের গর্ভধারণে স্মৃতিযোগ্য হয়
লুকিং গ্লাসে অক্সিজেন দেয়া  ভেন্টিলেশনে!
রুটি আর গানের সাথে, স্বপ্নকবিতা সহ,
জীবনের বিশালতা ফিতা টেনে দৈনন্দিন জরিপ চালায়
বিস্তৃত প্রত্যেকের সাথে ফুসফুস পর্যন্ত---
দ্বিতীয় ও প্রতিটি নিঃশ্বাসের সাথে, যোগ্য হতে চায় ডিমেনশিয়া রোগির মতো!

লোকেদের !
হৃদয় যখন মনে রাখেনা
সুখের দাম কি ছিল,
অনুগ্রহও করে, দাঁড়িপাল্লার কড়ায়গণ্ডায় !
গানগুলো আকাশভ্রমণে ইনহেলার নেয়া অ্যান্টিবডিতে
চলছে টু-লেট বিজ্ঞাপন দূরবীনচোখে,
তাদের সম্পর্কে, যারা গাইবে না, - মনে রাখবেনা!

অনন্ত পৃথিবীর সমস্ত সময়
ক্লাইন্ট জুটাচ্ছে স্পেসশিপগুলির তারার কাছে,
বসন্ত দেখা, পৃথিবীর সব মানুষ.
যুদ্ধ হত্যা,
অভিশাপ,
বিছানাযুদ্ধ!
বছরের পর বছর স্বপ্নবহন জীবন
অনুভব করে ধূসর ম্যানুস্ক্রীপ্ট
কিন্তু মনে রাখেনা
আগ্রাসন একতরফা হয়না,অ্যাজিত্রমাইসিন গেলার পর
বির্য পতনে শুধু পৌরুষ হারে থেকে যায় প্রীয়তমার ক্ষুধা।

Friday, May 20, 2022

গর্বের রঙধনু


সাদা এবং ধূসরে এই বিশাল উদাসীনতার সাগর
জলন্ত মস্তিষ্ক উপকূলে
যদিও শিশুর হৃদয় খেলতে বাধ্য হয়,
যুদ্ধের জন্ম আর হৃদয় ছিঁড়ে যাওয়া ঘৃণাকল্পনার কাহিনী,
রসায়ন চলে প্যারাডক্সিকেল কথোপকথনে  ।
নিরপরাধ কটূক্তি - বিচ্ছেদের ট্যাগলাইনে
রক্ত ​​ঝরায় বিপথগামী পথে
এখানেই সে উদ্দীপ্ত করে আর আমি তাকে
সমান্তরাল ভালোবাসি, পুরুষতান্ত্রিক যুদ্ধ ছাড়া।

কিন্তু তারপর ........
বৈদ্যুতিক গান আর আত্মার চার্জ ভালোবাসা শেখায়,
কীভাবে গ্রহণ করবো কীভাবে কোমল হব
সবকিছু যাবতীয় বাস্তব আর স্নায়ুচরিত্রে।

আমার ক্লিভেজ শহর এখন বাধ্য চাষাবাদ ছেড়ে ধূতরোর বীজ চিবোতে।
কব্জি কেটে তার নাম ধরে ডাকলাম,
দেখি এই শহরে সূর্য ডুবে যাচ্ছে বয়সের দেয়ালে
শুধু গুগোল ম্যাপ স্ট্রিট লাইট জীবন কাটায়।

বসন্তের বিনিময়ে ভয়ের শহর নিক্ষিপ্ত আমাদের বন্দি জীবন
চোখ অশ্রুতে আমাকে কাছে রেখেছিল তার টান
যার সাহসে ছিল স্ফুলিঙ্গ।
কিলিমানজারো পর্বত শহরকে রংধনুর রঙে রাঙিয়ে দেয় ইতিহাসের উত্তরসূরীরা।

সাহসীরা নিজেদের রক্ষা করে এবং লড়াই করে
কিন্তু আমি রেখেছিলাম
ক্ষমতাহীন ছোট অন্ধকারে নিজেকে বন্দী করে,
বিচারের আযাবে গোনাহের ক্ষমতা থেকে,
 সাহসহারা গোপন ভালবাসা 
ঘর থেকে বেরিয়ে জানালা দিয়ে বাইরে দেখে,
ভয়ের শহর আর নেই।

আমাদের শহর আর সাদা এবং ধূসরতা হারিয়ে
কিশোর উল্লাসে দৈনন্দিন জীবন 
দেয়ালে রঙধনু আঁকতে ব্যাস্ত,
যেখানে আমি তাকে ভালবাসি এবং সে আমাকে,
যেখানে আমি গর্ব করতে শিখেছি,
বিপন্নতার তৃষ্ণা শরীর পেরিয়ে।

Wednesday, May 18, 2022

চেতনায় উনিশ


আমি বাংলায় হাসি বাংলায় কাঁদি
করি বাংলায় প্রতিবাদ
যখনই করি ব্যথা অনুভব
আমি বাংলায় গাই গান।

 বাংলা আমার মাতৃভাষা
 বাংলা আমার প্রাণ.....
 বাংলা আমায় স্বপ্ন দেখায়
ভাইহারা উনিশ - একুশের গান।

 বাংলা আমার চোখের আলো
 বাঙালি আমার শক্তি
 বাংলা ভাষাকে সম্মান করি
 নেই কোন প্রতিদ্বন্দ্বী।

বাংলা আমায় কথা শেখায়
জন্মের শুরুয়াতে
জন্মেছে কত রবি, নজরুল
এই বাংলার ধরা তলে।

বাঙালি তুমি উদীয়মান সূর্য 
গর্বিত ভালবাসা, 
রক্ত ​​এবং আত্মত্যাগে
 একষট্টির পরিভাষা।

বাংলা তুমি শুদ্ধ হয়েছ
প্রতিবাদে রাজপথে
জাতির রক্তে উনিশ মে'
চেতনার অনুভূতিতে।

Monday, May 16, 2022

আশার এক ঝলক

বাস্তবতার ভিতরে আটকে থাকার জায়গা নেই
যখন উড়ার স্বপ্ন দেখা হয়, তখন
কল্পনায় পূর্ণ করাটাই স্বাভাবিক
জীবন কি প্রয়োগ করছে তা না দেখে।

আমি জানালার বাইরে তাকাই না, দেখি
শৈশবের স্বপ্নগুলো পাশ কেটে যাচ্ছে,
বিভেদের শান্তিবাণী ডিগবাজি খায় ধর্মের ছাল পড়ে
আরো অনেক কিছু আছে জেনেও, 
চেষ্টার আকাশে উড়াচ্ছে ফানুস,
আদমখোর সন্তানেরা মুখোশের আড়ালে।

আমার সৃষ্টির হাত ধরে মিথ্যে অবগাহন
এবং তৈরি করা সৌন্দর্য ও আছে....
কিন্তু বাস্তবতা নিজেকে নিয়ে যায় সুপথে
হতাশার জগত ছেড়ে।

 কেন এভাবে বাঁচতে হবে অন্ধকার আবদ্ধে
 একটি বুদ্ধির সুযোগ না করে,
 আমি একটা স্মৃতিচারণে আটকে আছি
 যেখানে কখনো অনুষ্ঠান তৈরি হয় না।

কবে হবে সুযোগের জানালা খোলা
পাগড়ি আর পৈতার মাঝখানে পরিযায়ী পৃথিবীর ইন্টেলিকচ্যুয়েল বার্তালাপ ঘটনা ঘটাচ্ছে 
তবুও চারপাশে নিজস্ব একতা রোপণ করে......
এই বিস্ময়কর পৃথিবীর সব দেখার জন্য?

 এই একই জায়গায় আটকে আছি
 যখন গভীর ঘুমে জন্মেছি
 এবং নিজেকে একটি নতুন মুখে আঁকা চাই
 কারণ, পৃথিবীর ওয়াল জুড়ে রয়েছে অদৃশ্যের এপিটাফ।

আজ ভাঙ্গা প্রতিশ্রুতিতে শরীরী জীবন যেহেতু কঠোর বাস্তবতার কোভিডকালে
কৃষ্ণগহ্বর ও বয়স থাকার সঠিক জায়গা খুঁজে বের করে
ঈশ্বর কণার দূরত্ব বজায় রেখে।

Thursday, May 12, 2022

একটি আলোক এবং আমি


পৃথিবীটা...জীবের কাছে,
ঠিকানা-বিহীন ঠিকানা!
তবুও ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়
একটা অভিলাষা কবিতার দেহে।
সে ক্ষত বিক্ষত, উষ্ণ সম্ভোগে নয় 
জমাট আধাঁরে বেড়ে ওঠা প্রগাঢ় আর্তনাদে।

এটা আসলে সাঁঝের নির্বিকার প্রদীপ 
বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়া
ব্যাবলিনের শূন্য মাজারে।
বুক চিরা স্বাধীনতা, নীতির দুর্নীতিতে
মাউথ অর্গান, রবীন্দ্র সংগীত বাদ দিয়ে
সঙ্গম সভায় ভাষণ দেয়
চে গুয়েভার বলিভিয়ার রাজপথে।
তবুও পরজীবীরা ক্ষুধার্ত অট্টালিকার 
 ফিসফিস হয়ে ওঠে
অপূর্ণতার প্লাবিত প্রেমে।
আর সরাইখানা পরস্পরের বুকে টানছে
শর্তহীন দ্রাঘিমা রেখা।

Monday, May 9, 2022

রোলার কোস্টার


তারা তোমাকে একটি হারিয়ে যাওয়ার কারণ মনে করে
 তারা মনে করাতে চায় যে তারা জিতেছে
 বিশ্বাস করতে চায় যে তারা অনেক বেশি
 আর তুমি শুধু একজন।

ওরা বিশ্বাসী চিরকাল এখানে বিদ্যমান
 তারা বিশ্বাস জন্মায় তুমি হেরেছ লড়াইয়ে।
আমি বাজি ধরব জার্মান জনগণও ভেবেছিল,
"নাৎসিরা এখন এখানে থাকার জন্য।"

অত্যাচারী এবং স্বৈরাচারীদের একটি শেলফ লাইফ আছে
ঠিক যেমন ঘরকান্নার ইতিহাস ছিল -
তারা পড়ে যায়!
কিন্তু আসল প্রশ্ন হল
তুমি কি করবে?
তুমি কি তোমার ভয়ের কাছে নতি স্বীকার করবে, 
নাকি লম্বা হয়ে দাঁড়াবে?

Sunday, May 8, 2022

আমার রবীন্দ্রনাথ


প্রিয় আলোকে ধরে রাখো
যে আলো বিকিরণ করে সবুজ সমারোহে
আমার আত্মা প্রতিধ্বনিত এবং ফিসফিস করে
খুব ভালবাসা । লুকিয়ে আছে
এই গুহা এবং পান্থশালার মধ্যে।
.

আমার মধ্যে আমি শান্তির স্বপ্ন দেখি
তবুও যুদ্ধ হয়
তোমায় পাঠ করার পর
মা গাইয়া বেড়ায় সন্তানদের বাঁচাও
পাছে তার মরা পড়ে
ক্রোধ উন্মোচন ওহ রেস কোর্স!
ক্রোধের ঢেউ নিস্তেজ হোক
'এই ভারতের মহামানবের সাগর তীরে'।
আমি আশ্রয় চাই এই পুণ্য তীর্থে।
.

আশ্রয় সে ইকো করে অনুনয় বিনয়ে
প্রেমিকের সেই কবে বন্ধ হওয়া
সুস্থ আবেদন।
তবু আমার রবীন্দ্রনাথ আর্কাইভে 
সকাল সন্ধ্যে কর্ণসার্ট দেয়
পৃথিবীর সকল মানুষ ভালোবাসুক।।

আজ ২৫শে বৈশাখ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১তম জন্মজয়ন্তীতে আমার শ্রদ্ধাঞ্জলী।

Monday, April 25, 2022

দীর্ঘশ্বাস


সত্য আজ একটা অপ্রীয় 
গোপনীয়তা প্রকাশ কাল কিছু বন্ধুদের কাছে
 যদিও সত্যটা ছিল উন্মুক্ত আকাশে মুক্ত হবার
হাতে হাত বাড়িয়ে দিন বদলাবার, কিন্তু
কোমল গ্রীবায় ভালোবাসা ছেড়ে জড়িয়েছে চাবুক,

 অনুভূতিতে আচ্ছন্ন সমাজ-সংসার রসাতলে
আপোষহীন তাপমাত্রা মাপছে গৃহত্যাগী জোৎস্না
 যে আমি কিছু ভুল করেছি!

  কথা কম করে দেখুন যতই মুখ বন্ধ রাখবে
 ততই ভালো হয়
 কিন্তু আমি তাও করতে পারি
 আমি মাইন স্থাপন করছি
 আমার পথে
 আমি তাদের উপর পা রেখে -- চাই
 বিস্ফোরণ
এবং
 আমি একটি বিন্দু পর্যন্ত পৌঁছতে চাই
 যেখানে আমার জন্য কোন প্রত্যাবর্তন নেই।

এমন একটি বিন্দু যেখান থেকে বের হওয়ার কোন পথ নেই
এই পৃথিবী দেখতে
 যোদ্ধাদের জন্য
 শক্তিশালী মানুষের জন্য
 ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন মানুষের জন্য
 আমি তাদের একজন নই,
 আমি দুর্বল
 আমি কাপুরুষ
 তাই প্রত্যেক কাপুরুষ যা করে আমি তাই করতে যাচ্ছি
 এক সহজ উপায়ে!

Wednesday, April 20, 2022

লকডাউন (ii)

 আমি ব্যথা অনুভব করছি।

 আমি শোক অনুভব করছি।


 তবে সবচেয়ে বেশি, আমি পার্থক্য অনুভব করছি।

  স্ক্রীন এবং বোতাম এখন আমাদের সবচেয়ে কাছের বন্ধু

 আমার বিদ্যালয় হারিয়েছে খেলার মাঠ

হারিয়েছে জীবনের সংগিত

এবং এটা পছন্দ করি না।

এবং এটা ঘৃণা করি,

এবং এটা ঘৃণা।

হয়েগেছি একঘেয়েমি একটা গিরিখাতের মতো,

 যেটা প্রসারিত।

 এবং প্রসারিত, অস্বস্তির একটি সীমাহীন শূন্যতা।

  এবং বিরক্ত, ক্লান্ত এবং খুঁত ধরা।

  যাহোক

  আমরা একসাথে

  আপনি, আমি আমাদের পরিবার এবং পোষা প্রাণী, আমরা

  এখানে সমর্থনের জন্য

  বিচ্ছিন্ন হয়েও মানুষ ঐক্যবদ্ধ, মানুষ

  আমরা দেয়ালের আড়ালে থাকলেও একসাথে।

  আমাদের দেয়াল আমাদের ঘর, কারাগার এবং

  নিরাপত্তা

  তারা আমাদের নিরাপদ রাখে, কিন্তু রাখে

  আমাদের মধ্যে

  এবং যদিও এই মহামারীটি ভয়ঙ্কর, এটি যাবে এবং পাস করবে।

  অবশেষে.

  অবশেষে.

  অবশেষে.

  আমরা যদি শক্ত থাকি।

তারিখ -- ০৪-০৬-২০২১ ইং

সময় -- সন্ধ্যা ০৬.৫৭ মিনিট 

লকডাউনে জীবন


শহরগুলো যেন তাদের আনন্দ হারিয়ে ফেলেছে
 রাস্তাগুলি - দুঃখজনক কারণে ,
একটি মেয়ে বা ছেলেও নেই অলিতে গলিতে
হাসপাতালগুলো ব্যস্ত মৌমাছির আমবাতের মতো
আর প্রাণ হারায় মানুষগুলো
COVID 19 মহামারি!
বিজ্ঞানীরা কর্মব্যাস্তায় এক সেকেন্ডের বিরতি না নিয়ে
তারা ভালোর জন্য একটি ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছে
NHS একটি পুনরুদ্ধারের ক্লু পেতে কর্মক্ষেত্রে তাদের জীবনের ঝুঁকি নেয়
--- আমরা আপনার কাছে ঋণী।

হাহাকারে মানুষ দল, খাবার ফুরিয়ে যাচ্ছে
আর নেই মানুষ ভালো মেজাজে
তারপরও রোগ ছড়াচ্ছে
লকডাউন শুরু !
পরিবারগুলো একা হয়ে যায়
বাচ্চাদের মতো আমিও
 প্রতিটি বন্ধুকে মিস করি, পার্ক, সিনেমা হল আর শপিং মল
কারণ সম্পর্ক কখনো শেষ হবে না।

তারিখ -- ১৪-০৪-২০২০
সময় -- ০৫.৪৫ মিনিট ভোর

Tuesday, April 19, 2022

আমি সরে যাই !

কি সেই আওয়াজটা আবার অন্ধকারে ভেসে এলো?
 আলোর এই গোলকধাঁধাটা কি আমাদের ছেড়ে দেয় ?
গোধূলির পড়ন্ত রবিটার মতো!
 আমরা কি এই অবস্থান গ্রহণ করি,
 মুখ ফিরিয়ে নিয়ে তারপর ফিরে যেতে?
 আমরা কি শুনলাম?
 আমরা যখন প্রথম দেখা করি তখন আমরা সেই নিঃশ্বাস নিয়েছিলাম।
 শুনুন।  এটা এখানে....!

শেষ দেখা !


চারিদিকে বারুদের গন্ধ,

যেকোনো দিন মৃত্যু হতে পারে,আবার কবে দেখা হবে কেউ জানে না। 
হয়তো এটাই শেষ দেখা।

রাষ্ট্র নিরাপত্তা দিতে ব্যার্থ। রাষ্ট্র নেতারা উপহার দিয়েছে একরাশ ভয়। রাষ্ট্র নেতাদের বিরুদ্ধে কথা বলা নাকি দেশদ্রোহীতা। 

আজ মানবতা হেরেছে নগ্ন সভ্যতার কাছে। 
যুদ্ধই নাকি আধুনিক সভ্যতা।

Tuesday, June 30, 2020

কেইসড্রাট

স্ট্রিট লাইট
নেই তেল, চারদিক ঘিরে আছে অন্ধকার
হামাগুড়ি দেয়া ইঁদুর ছানা 
রেখাহীন গর্ভে সুড়ঙ্গ খোদে ওরা, এখন বাহুবলী।
আমি জড়পদার্ধ 
বিউগল বাজাতে জানি, বড় বিউগল!
আমার কী দোষ - না স্বেচ্ছায় এসেছি এখানে
এই দুর্দশা গ্রস্থে ভরপুর মাঠে।

আমাদের এ জীবন যেহেতু কমার্শিয়াল চিন্তার,
ব‍্যাপার চলছে 
এক চিলতে রুদ্দুর ও,
জলন্ত অঙ্গারে পরাজিত জীবন্ত আত্মারা 
গলায় দড়ি দিয়ে সময়ের দাবি রাখে
কেইসড্রাটের ডালে।

Monday, June 3, 2019

পেডিস্টল (দুঃসময়ের কবিতা)


১) আমি জানি ওরা আর বাঁচাতে দেবেনা
কারণ, পাড়ায় পাড়ায় একটা গুজব
প্রতিটা গলির মোড়ে রক্তের কালিতে লিখা
রক্তিম সাইনবোর্ড।

২) 'দুঃখ' শব্দটার যে ঠিক কতটা অর্থ
তা এক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
সরকারের মতো!

পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে রিফ‍্যুজি লতার মতো
সম্মিলিত অস্তিত্ব মৌন
বেশ‍্যাদের মৃত্যু মিছিল দেখে! !

৩) হারিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে মনে একটি বারের জন‍্যও
উঃ শব্দটা আসে না, মানে আসেই না
আজকাল এসব সহজাত
অর্থাৎ ' আপনা টাইম আয়েগা'।

৪)'রাষ্ট্র' আর 'বিপ্লব' দুটিই একে অপরের পরিপূরক
কেউবা থালা নিয়ে হাজির
কেউবা মালা নিয়ে
মূল অধ‍্যায়ের মূল‍্যায়ন নেহাত দুর্বল
আর বন্দুকের নলের আগে স্বাধীনতা
এসব আড়াল আজ শুধু চিত্রকল্প
সেই কৃষক ও নেই সেই ভার্সিটির ছাত্রও নেই
আছে কেবল কয়েকটা বলির পাঠা
তাই কবির ভাষায় খিস্তি হোক রাষ্ট্রীয় অ্যানথেম।

৫) অবশ্য মনের গন্তব্য তার গভীরতার দৈর্ঘ্য মাপে
সেন্টিমিটার বাই সেন্টিমিটার
জীবনের প্রতিটা  মূহুর্ত হিসেব কষে
মূলরোম থেকে জলস্তর পর্যন্ত।

যেখানে নিয়তির খেলা সাময়িক প্রসঙ্গ
যা আস্বাদন দুঃখবোধ আর বিলাপও।

পঞ্চভূতের পাঠশালা ফাঁটা জিন্সের পৃথিবী
নেশাতুর সালসা আর গিটারের গুঞ্জণে
লাফিং বুদ্ধের ভঙ্গিতে নিমগ্ন দ্রাক্ষাবন।

৬)
ভবিষ্যৎ বদলাচ্ছে নিঝুম রাত্তিরে
নৈশব্দিক রহস্যময় জগত টা
শব্দ বাণে স্থিতধী।

চাহিদার গুণগ্রাহী সুরক্ষার জোট আর
       সীমান্ত-নদী-পাহাড় বেয়ে
কিম্বদন্তি হ্লাফ পেন্ট মানুষগুলো
সাক্ষী এই ধুসর সময়ে।

৭) প্রেম--
আর আসে না, দুর্মুখ স্বপ্নগুলোর
ইচ্ছেমত ফরমানে, এখন
                হিউমাস দেখে।

৮) এশহর এখন ফ‍্যাকাশে
পুরোনো চোখগুলোর অভাব, শুধু আভিজাত্য আর আভিজাত্য
শর্ট স্কার্টের পরদেশী হাওয়া সওদাগরি মেজাজে।

পদবী বসছে চাঁদের হাটে
মিঠাজলে রাম আর উইস্কির ককটেল
সঙ্গে চলছে উৎসব গীত।

৯) কুশিয়ারা বেয়ে খাঁড়া ডাকবাংলা ঘাটে
দু-পার বাংলার ঘ্রাণ উদ্ধার করেছি
খানিকটা বিষ্ঠা খেয়ে।

ল.সা.গু- গ.সা.গু উৎপাদক বের করে
স্রোতের প্রবাহে দিনশেষে একটাই চিত্র তুলে
সেটা হলো মান যোগ হুশ।

রাস্তা খুঁড়লেই কী মীমাংসা হয়
এ যে নাড়ির সাথে নাড়ির টান
স্মৃতিমধুর রুমন্থন উপাখ্যান,
একটা রিফিলের মতো
সম্পর্কে যতিচিহ্ন বসে !

১০) একটি ফুল---
হাত পা ছাড়া সাবলীল গঠন
সমুদ্র মন্থনের পাশ দিয়ে
হারিয়ে যাচ্ছে নদীর দু'পারের মতো
আলগে।

ভালো থাকার কথায়
দেহতত্ব গায়,তবু নির্যাস হারিয়ে
দিতে চায় একচিলতে রুদ্দুর।

রক্তপাত শেষে বিয়োগান্তুক মূহুর্ত
ক্লেদাক্ত বাগান আর সয়না
নিয়তির নিঝুম ভাষ‍্য।

১১) 'হামসফর' চড়ে কী উপলব্ধি করার!
পিছনে ঠেলে দেয় আলোক ফোয়ারা ষ্টেশনগুলো
স্বৈরাচারী আবেগে।

যাচ্ছে তো যাচ্ছে
একটার পর একটা টপকে
পু ঝিক পু ঝিকে, সাড়ম্বরে
'এয়ার ব্রেকের' শব্দে অসুবিধে নেই বোঝাতে
থামতে হয় কোন না কোন ষ্টেশনে।

১২) চতুর্ভূজ চারটা সমান বাহু
সমান তালে জ‍্যামিতির প‍্যাঁচালো প‍্যাশন
অন্তত বিশেষ কেউ নেই এই ঢেউয়ের তালে
অর্থাৎ সমান বিভাজনে
যান্ত্রিক সভ‍্যতায় ১:২ বা ২:১ উৎপাদক বিশ্লেষণে
ত্রেতাযুগ ঘোর গ্লোবাল ওয়ার্মিং ।

১৩) সেই চোখ জোড়া এখন কন্টেন্ট ল‍্যান্সের কয়দখানায়
উত্তাপীত মমদেহ বিগলিত ধারায়
একপ্রান্ত থেকে অন‍্যপ্রান্ত
নির্লিপ্ত হয়ে চলছে
প্রবাহিত ঝর্ণার মত।

এই ধুসর সময়ে
অভিমানে বিষাদ আগুন ইঙ্গিত দেয়
হারাপ্পা সভ‍্যতার মত হারিয়ে যাবো
স্ফুট বিষাদে।

১৪) প্লাস্টিক পেইন্টের শহরগুলোতে
প্লাস্টিকের শ্বাস-প্রশ্বাসটাও
ব্রহ্মপুত্র থেকে ব‍রাক তার চরাই উৎরাই
খাশি পাহাড় থেকে ভুবন পর্যন্ত
হয়তো বলতে পারো ---
মানসিক অসংগতি।

মাটিতে দাঁড় করানো আর্কিটেক্ট
প্রাচুর্য অলঙ্করণে পড়ে আছে কম্পিটিশনে
নিজ থেকে দুর্বলের দলে।

১৫) আলো হারিয়ে ঋণ করে আলোকিত
এই জাগতিক সংসার,
শোষিত ভূগর্ভ রস
কনভার্টেড নিয়ন আর সোলার প্যানেলে।

প্রতিযোগিতার রেস কোর্সে
ফর্মুলা ওয়ান গেম---
ইঙ্গিত দিচ্ছে, শোষণে প্রেমও বেশরম
সুযোগ বুঝে খোপ মারে।

১৬) এবং ----
স্বপ্নরা জোৎস্নার মলিন আবহে
এখন পড়ন্ত বিকেল, দ্রোহের করমর্দন
সূর্য ওঠার আর নাম নেই,
এখন---
ট‍্যাঙ্কে মিসাইল মানুষ‍্য প্লাজমার
শ্রেণী ঘৃণায় সর্বভুক শ্লাট্
অস্তিত্ব টিকিয়ে আছে
বিলাপিত শিউলি ঝরা রাতের মতো।
আর---
রেড করিডোর সংস্কার কর্মসূচির আইন পাশ করে
--গণ-নাট‍্য সংস্থা।

১৭) বৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে হয়
কিঞ্চিৎ সুরাপানে;
ফ‍্যানের শব্দটাও
তাল দিচ্ছে ,আধ মোজা চোখগুলোর সাথে
ইজিচেয়ারে বেশ হেলিয়ে বসে
ছোট হয়ে যাওয়া জ্বলা সিগারেট টাও।

সময় হারিয়ে যায় ইতিহাসে
কমলাকান্ত ও দপ্তর থেকে মুক্তি
তাই নেপোলিয়ন
দহন উৎসব শেষে ফিরে গেছে।

১৮) কালের বহমানতায় অনেকেই মিশেছে
ইতিহাসের পাতায় প্রকাশিত লেখা
কড়ির গন্ধ শুকে বানিজ্যিক প্রচারে,
আস্তা হারিয়ে সস্তা বাজারে
পৌরুষ  রূপান্তর ভক্ত আর ভগবানে।

বিদ্রোহের বাগানে যাতে দূষণ না ছড়ায়
মহালাভজনক বিনিয়োগ বিকিনিতে,
খিদে সব একজায়গায় কেন্দ্রবিন্দু।

১৯) পাহাড়ের চূড়া আকাশ ভেদে দম্ভে
বাসর রাতে স্ত্রী জয়ের খুশির মতো
আসলে খুব সোজা ব‍্যাপার হচ্ছে
দুর্বল অতি সহজে হার মানে।

আগুনখেকো শ্রমিক উপঢৌকন খোলে
অস্ত্র হাতে একটা কথা উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ
আমাদের বাঁচতে হবে।

যুদ্ধ
নির্যাতন
বাঁচতে দাও বাঁচতে চাই;
শুনো মৃতের ঘোষণা
শবগুলো পায়ে ছাপ দেবে
ভ‍্যালোটে।
ভবিষ্যৎ বদলাবে পরিশ্রমী সভ‍্যতার
দেশলাইর কাঠি জ্বেলে।

২০) চিৎকার করে বলতে গেলে কি নিশ্চিত পাওয়া যায়
চাই সাহস আর জানতে হয় অধিকার
যা কেড়ে আনতে হয়।
কনভার্ট হচ্ছে আধুনিক প্রকৌশল
অঞ্চল থেকে শুরু করে বাধ্যতামূলক সংস্করণ।

উত্তাপীত মমদেহ উত্তেজনা হারিয়ে
সময়ের খরস্রোতে
লাফিং বুদ্ধও ভাঙ্গা পেডিস্টল।

আর এ শহরে ফুটে উঠবে না
গরিবুল্লাহদের ভয়ে
শুধু অক্সিজেনে আছে বিষাক্ত কার্বন।

--- জাহিদ রুদ্র
০৪-০৬-২০১৯ ইং

Saturday, February 23, 2019

কবিতা রা


১) কথা ছিলো
--------------------------------

কথা ছিলো----
মার্টারের গগনবিদারী চিৎকারে স্তব্দ হবেনা প্রকৃতি,
তাঁর আঁচলে মুখ লুকাবেনা কোনো মুখোশধারী প্রেমিক!

কথা ছিলো----
গৌরি,কুলদীপ,সুজাত'রা অবাধ স্বাধীনতায় আকাশের বুক ছুঁবে,
তপ্ত রৌদ্রে চৌচির মাঠে বর্ষার ঢল নামাবে!

কথা ছিলো----
নির্ভয়াদের ছোপ ছোপ রক্তের দাগ লেগে থাকা কামিজ দেখে
পথিক অট্টহাসি দিবেনা,
মাতৃত্বের শাশ্বত টানে চিত্তে শ্রদ্ধা ধারণ করবে!

কথা ছিলো----
রুক্ষ জমিনে আবার সোনার ফসল হবে
শেখুবাইর মতো আরও কত শত লংমার্চে !

কথা ছিলো----
কর্মে মহান হবে ধর্মে মহান হবে
প্রতিটা বিশ্বাসালয় ঠাসা বয়স্ক রচনাগারে !

কথা ছিলো----
বোশেখের প্রথম প্রহরে মঙ্গল স্নান হবে,
নরনারী জাতীয় সত্তায় আলোকিত 'মি টু' শ্লোগানে  !

কথা ছিলো----
হিমুর চোখের ভিতরে অনুরাগের জল থাকবে,
প্রেমিকের দেয়া ধোকার আড়ালে পরকীয়া লাজ পাবে !

কথা ছিলো----
রাজপথ নতুন করে আর রক্ত-স্নানে রঞ্জিত হবেনা,
রাজপথের বুকে শুধু স্লোগান ধরবে!

২)
মানুষের পৃথিবী টা
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
মানুষের পৃথিবীটা আস্ত একটা যৌনখানা
ন্যাংটো হয়ে যেই বিছানাটা নাচতে শুরু করলো
ফরমান এলো
মানচিত্রের কাঁধের কাছ থেকে আড়াই কেজি মাংস কেটে নেয়া হবে
অবাক হবেন না।

শুকনো জিহ্বা কত টানবে উপচে পড়া ব্লাউজের রস
রয়েল-বেঙ্গল টা ন‍্যাশনেল পার্কে
স্বপ্ন বিহারে বিভোর
আর্য-শ্লোকের বর্জ‍্য চিৎকারে
থালায় প্রসাদ, চেষ্টায় ঘুম ভাঙানো।

৩) হলুদ হ‍্যালোজেন

মিথ্যাগুলো কে লুকালেই আবারও নতুন আরও কিছু মিথ্যা নিয়ে উঠে
রাজপথে দিয়ে যেতে যেতে দেখা পাই
শুয়ে আছে ভারি কোন নারীর মতো অনাসক্ত চাঁদের কোয়া;
নিজের জন্য উপযোগী করে আবার
অনেক কিছু ঐ উত্তেজনার স্বীকার,
-------- হলুদ হ‍্যালোজেন !

হ্যাঁ, তার বুক জুড়ে ভিখারির গীত,
ভাড়াটে উপচে পড়া স্তন, চাটবেই !
ভীষন বিভক্ত হয়ে কেঁদে চলে মোমের মিছিল
দুর্দশারা চলুক ভিসুবিয়াস ছেড়ে আরও.......
কোথাও নেই কোথাও নেই, চেঁচিয়ে লাভ হবে !
এসিড রেইন এ আহত
এক এক ফোঁটা অক্সিজেন।

৪) লাল সেলাম

অস্তাগমে লাল রবি টার চিলতে হাসি
বিষাদ সাগরে এক লক্ষণ রেখা টানে
ঢলে পড়া বিকেল অতিত সময়ে,
দুর্ভিক্ষের থালা কাড়ে, এক আশির্বাদ রূপে
অজস্র কঙ্কাল রূপী হাসি নীলছবির রাবণালয়ে
সাদা কাপড় ও অগ্নিপরীক্ষা দেয়।

বিভাজনে মন্দ ঈশপের গল্প ঐতিহ্য
বেশ‍্যা যেমন কিছু সময়ের জন্য শরীরের কয়েকটি অংশ ভাড়া দেয়
মানুষ গুলোও শিখেছে অন্তর ভাড়া দেওয়া
প্রেম, ভক্তি, শ্রদ্ধা-------
যদি পারে ন‍্যাপকিন বানাবে !

মুখ গহ্বরে গুংগানির আওয়াজ শুনে
শুধু স্তব্ধ অশ্রু টা পড়ে
গড়ে যায় চোখের পাশ নালা দিয়ে,
হঠাৎ উতলে পড়া দুধাঘাতে
আহতরা প্রতিদিন সংযমী মেহনতে
--------- লাল সেলাম ঐ সংযত মনকে।

৫) পরকীয়া

ক্ষণে ক্ষণে তীব্র প্রতিক্রিয়া
এক আকারে সঞ্চিত পুঁজি মোহনবাগানে
ঢেউ খেলে অতৃপ্ত চাহনি,
আশার পূর্ণ কিরণে নৈরাশ্য ঝড়ে
ভোগের অংশটি হাতছাড়া।
অদৃশ্যের চাওয়াটা অন‍্যরকম হাঁটে
সড়কের ঠিক মাঝখানে
মনে হয় অম্লান কামনা মহীরুহ মেহগনি ছায়া ফেলে
তোমার আমার পথে,
ব‍্যবহৃত শরীর টা দুজনার,শরমে-সংকোচে
সামাজিক মুখ তোমার আঁচলে ডেকে
দেখিনা তো কোনো ভুল তাতে----
তবু কেন সম্মুখীন প্রশ্নবোধকে?
জীবনের মরণপারে আমি আর প্রেম
মিলে যাই পারাবারে।

৬) কামনার দংগোল

মধ‍্য রাত্রি.....
তা ও শান্তি জুটলো না,
বসে ছিলাম কাগজের পাশে
ভাবছিলাম কয়েকটি পরিচিত শব্দ জোড়ো করে
সারিতে সাজাবো,
নিঃশব্দ......
হঠাৎ নগ্ন ব্রা'টা কাঁধে, শিউরে উঠি
দেখি দুলে ওঠা জোড়া স্তনের উপচে পড়া প্রদর্শন
আর তার চূড়ায় পিকাসোয়ী কারুকার্য;
ধীরে ধীরে সুপ্ত রাক্ষস জাগ্রতের পথে।

আলগা হয়ে যাওয়া বসনখানি শরমে........
নগ্ন কটিদেশে তোমার নিক্কণে,
নিঃশ্বাসে বেড়ে যাওয়া উষ্ণতা
বেপরোয়া,পরিচয় ভুলে পরিণত অন্য রূপে
কামনার দংগোলে নগ্ন শরীরে
জাগ্রত প্রশ্রবন ডাকছে মাতাল বেসে
তৈরী সে তীক্ষ্ম বর্শার আঘাত সইতে
দীর্ঘ পরিশ্রম ঝরা ঘামে, আনন্দ আর আনন্দ
সর্পিল বাঁধনে আমায় বাঁধো তুমি কাম রঙে।।

৭) জন্ম নয়, মৃত্যু......

আড়ষ্টতায় পিছু হটে বৃথা সংলাপ
দালালেরা দলিত হয় দালানের ওপারে।
সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটে।
অবসাদে শরীর এলিয়ে দিয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে
ঘুম আসে ,
আমি ও চন্দ্রালোকের ভেতরে পিদিম জ্বালি
মর্তের পৃথিবীতে নামাই রোগ জরা...
শিহরিত প্রতিটা অঙ্গচুল নিরব----
মুখগহ্বরের গোঙানিতে।

রেহাই নেই ,মুখে ফেবিকুইক আঠা!
তবে জন্মাতে পারে রক্ত হিংসার মাঝে;
'শান্তি'র' দৌড়ে বেটারা
স্বীকৃতি পাওয়া প্রাদান‍্য!!

৮) পঁচা হৃৎপিণ্ডের মিলনায়তন

বিলাস প্রাসাদে আজ কাপুরুষ মেলা
নিত‍্য নতুন ছোরা, নাম সভ‍্যতা !
দিকে দিকে ছিটা রক্তের জখম;
শুকছে নষ্ট শকুন, স্বাধীনতা হরণ
পঁচা হৃৎপিণ্ডের মিলনায়তন---
বোকারা পুড়ছে, দ‍্যাখ্
স্মিতহাস‍্য শয়তানের মুখ, ওরে ঐ নির্বোধ।

থাক্..... থাক যতসব আঁচলে বাঁধা
মরুক না ওরা, কাজ টা পদলেহা;
লোহিতে মিশুক নিষ্পাপ লাল কণা,
চিহ্নহীন গোরে-----
এ-সভ‍্যতা, সূচনায় নতুন যুগ আবিষ্কার মূহুর্তে!

৯) #মি...টু

এই মেয়ে শুন্, রাখ তোর ভেল্কিবাজী
ক্ষমতায় কে জানিস তো----
বেশ বেড়েছে তোর মাদার ইন্ডিয়া পনা
নিজেকে কি ভাবছিস
তাসলিমা, না এঞ্জেলা।
তোর শ্লোগানে, কলমে
কাঁপবে বেটাদের শিবলিঙ্গ---!
বন্ধ হবে কলঙ্কিত সিথিঁর সিঁদুর
কিবা যোনির রসটানা,
ভেবেছিস শুধরোবে সমাজ?
বালও ছিড়তে পারবি না।

হাসি পায় তোদের নৌটক্কিতে
-----বলে কি #মি....টু।
দ‍্যেখ্ গুরু থেকে শুরু
সংস্কারি বাবাও ঐ লিষ্টে;
সাহস এলো কোত্থেকে,
জানিস তো কতশত নজির রেখেছি
আরও রাখবো, আমি ক্ষুধার্ত.......
হ‍্যাঁ করেছি যৌন নির্যাতন, স্ফূর্তি
কোন অসুবিধা, আমার জন্মগত অধিকার।
কে, ও.... প্রসাশন
টানবে ব্রা-পেন্টি নীচে ঐ উলস গদিতে।
গলাটা আর ফাটিয়ে লাভ নেই
দ‍্যাখ্ .......দ‍্যাখ্
মন্দির টা আমার মসজিদ টাও
তোর কোনটা বল্,
গোলাম কিনেছি ক‍্যেশে
আরও কিনবো অফারে।
সুখী হতে পারিস----
কাঙালের চাহিদা পূরণে।।

১০) ভেতরের কন্ঠে
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
আত্মহত্যার আগে অপেরা শোনালে ভালো লাগবে আমার
আমি রবীন্দ্র সংগীত শুনেছি সাথে নজরুল ও
আর কবিতা.....
একটু হলেও শুনবো "আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে"
বাকি রাখিনি আল-মাহমুদ বলো আর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
তৃষ্ণাটা মিটতো,কিন্তু------
মানুষ সঙ্গমের সময় 'ভালোবাসি' শব্দটা বেশী বলে,
এর মতই।
ঘুরে আসুন গণতন্ত্র---
হিউম‍্যানিটি মিথ্যার ভিড়ে,লেট মি ফাক্।

মানুষগুলো এই গোলকের ভিতর
উচ্ছিষ্ট পাহাড়ের ঢলের মতো,
থিয়েটারে ন‍্যাংটো আদম-ইভ ফুল মুভি
ঠিক মূহুর্ত অবিকল শ্রীজাতের 'অভিশাপ'
ক্ষুধা নিবৃত্তি,
চলমান সংঘর্ষ সেই ট্রেডিশনে
আরও অপরিপক্ক মস্তিষ্ক জন্মালো।
শ্বাসরোধ সফলতা রক্তবমিতে ইষ্টিশন।

১১) লিফলেটে প্রত‍্যাশা
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
জানেন তো?
নির্বাচন এলে এদেশে সবচেয়ে বেশি শঙ্কায় থাকে সংখ্যালঘুরা।
আশ্বাসের নিঃশ্বাস ফেলা লিফলেটে
ঘরে ঘরে নির্বাচনী প্রচারে বিষাদ সাগরে অমৃত মন্থন।
যাক গে সে কথা
পর পুরুষের যৌনাঙ্গ চষি কোন লাভে !

জানেন তো যু্দ্ধ হলো পৃথিবীর অর্ধেক মা বাবার বুক খালি করার উপায়!
দেখাযায় নীতিমালাও বেশ‍্যার সাথে একপাতে,
নারী ও শিশু বিক্রির একমাত্র স্বর্ণসূত্র হলো যুদ্ধই!

যুদ্ধের কথা শুনলে
আমার স্ত্রীর ঠোঁটের আয়না ভেঙে পড়ে,
গহনাগুলো খোলেপড়ে ব‍্যাথার গোপনে;
যুদ্ধের গন্ধে শাড়ি মরে, শরীরও মরে।

যাওয়ার আগে জেনে যান
নারীর স্তন পৃথিবীর অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর জিপ তাই
এই শহর গ্রামের ক্ষুধা যখন মিটে যায় তখনও সে দ্রৌপদীর হাতের সূর্যথালি।

বেঁচে থাকতে থাকতে আর দুর্দশায় একরাশ দুশ্চিন্তার চিন্তার মগজটা !

১২) ভায়া অনুভব

প্রতিটা ভোরের জন্মলগ্নে একরাশ আশা ডানা মেলে
পুরোনো ঝেড়ে লোনা জলের তিক্ততা মুছে
চেয়েছিল বিধ্বস্ত অবহেলার বুকে আসবে,
বিভাজন ভেঙ্গে প্রেম-আনন্দ জিহ্বায় স্বাদ অনুভবে-----
শৈল্পিক সাজে পরিত্যক্ত কাঁটাতার!

অবশেষে সত‍্যটা জানলাম।
সুখপাঠ‍্যের মালা- জপা রোদপোড়া দিনগুলো
অন্ধকারে জাহাজ ডুবানো প্ল্যানে,
আর, ঐযে সবুজের সমারোহে
ক‍্যান ভর্তি অক্সিজেন ও হীনবীর্যে
ভাগ্যে পুনরাবৃত্তি মল আর মলের শোধন।

১৩) সিঁধ

ফিরে এসে দেখি জমাট বেঁধেছে
অজস্র ভুলের অভিজ্ঞতা;
নীড় ভাঙা প্রজাপতিরা বাৎসল‍্য রোদে পোড়া,
মিছিলের স্মরণ সভায়
বরফ গলে গলে অসুস্থ সূর্য চলে যাচ্ছে
সিঁধ কাটা ঘরে। আর,
রক্তের সাথে ভূমি--বুলেটের মিলনে
নতুন কিছু দুর্বল জীবনের উৎপত্তি,
নগরের সুইসাইড স্কোয়াডে স্বৈরশাসক
বিলোনিয়া বর্ডারে সহবাসের তাস খেলে------
অহংকার উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে বিশ্বাসী অন্ধকার
সম্পাদক ও কবি একপাতে ভাত খাচ্ছে।

ওদের জানা নেই
বই কিভাবে খোলে রোদে দিতে হয়,
বাক-ধ্বনির ব‍্যলান্স টা ওরা জানে
বেমালুম এসিড-পাঞ্জাব চালে,
কিন্তু.....
লেকচারের ঘনিষ্ঠ ধনুকে
প্রতিশ্রুতি শব্দগুলো তিরবিদ্ধ।

১৪) চুক্তি

আমাদের তো প্রেমিক হবার কথা ছিল।
আমাদের কথা ছিল না মূল,কান্ড,শাখা-প্রশাখা পেরিয়ে যাবার---
অনেক পথ হেঁটে মৌলবাদে যাত্রা করবার!
আমাদের তো কথাই ছিল
ডানা মেলবার।

সেই কবে এলাম,দেখছি---
হে উদাসীন,হে প্রিয়তম,প্রিয়তমাগণ,
হে দম্ভ,আর কত!
আর কত কথা না রাখবার,কাজ না করবার কথা!
ভাবতে ভাবতে, নিজেকে বলি---
ভালোই তো ছিলে, মরতে গেলে কেনো?
শ‍্যাম্পেনের চুমুকে উপচে পড়া স্তনের নৃত‍্য
ফেরারি'র নৈশ ভোজনে।
তুমিও পাবে !

১৫)
রোজনামচা

পৃথিবীর ক্লান্ত পথে ব‍্যর্থতার ভীড়ে
দলাদলির অন্ধকার জোৎস্নার মুখ
হলদেটে রুদ্দুরের ছায়াপথে
খোদ্দের খোঁজে ।
ঘুনপোকের সহবাসের নিঃশব্দ শিৎকারে
আর শিরোনামের ভালোবাসা আবেশে
মিশে যায় ক্লেদাক্ত ভুঁইফোড়া গন্ধ।

অবিধান হাঁপিয়ে ওঠে ভ্রষ্টের সমবাহু সংলাপে
রোজনামচায় অসংখ্য ভক্তদের ভীড়ে
পীরাকি দেখায় বিষাক্ত বিষে।

১৬) ধূসর শহর

মিলনের গানে শুধু উপেক্ষিত;
ক্ষুধা আর প্লাবনের ঢেউ নিশীথ বিকট ছায়ায়
লোলুপ আমন্ত্রন, সংশয়ে.....
সমৃদ্ধ ইতিহাস মাকড়সা ঝালে।

সত্যিই, মানুষগুলো বড়ই আলোড়িত করে আমায়।
নৈরাশ‍্যের বাজারে ওরা----
মানুষ রুপী খেকো;
মৃত ভালোবাসা পরিযায়ী বুকে।
মধুবনে মদের যজ্ঞ---
আমি চিৎকার করে বলছি এই ধূসর শহরে
ঝুলন্ত গ্রহগুলো,
বিশ্বাসের পিঠে হৃদয় হন্তা।

১৭) তথাস্তু

ভুলের সাতকাহনে মিথ্যার মোড়ক উন্মোচনে
মৌলিক বুভুক্ষিত জীবন,
উৎসবে মাতে জনতার প্রাণ কেঁড়ে।
কত জননীর সন্তান কফিন বন্দি
কত সোহাগি শাঁখা ভাঙে নিশ্চুপ পাথরে
কত শ্রবণকুমার মরছে ঐ জলাশয় পারে----
জননীর বুকে হিংস্র আঘাত কষে
পুড়া গন্ধ বারুদের দেশে।

বলছো স্বাধীনতা !
চুলের খোপা ধরে আছাড় মারছে যারা
সম্প্রীতি ফসিলে ভাগাড়ে পুড়ছে তারা----
বিষন্ন সন্ধ্যায় মৃত আকাঙ্খারা,
তথাস্তু, একটু সময় দেবে !

১৮) ফণী

একটি ভোরের গোপন হত্যা
দাঁড়িয়ে রয়েছে ঠিক আমার মতই,
নশ্বর দেহের কারিগরি শিক্ষা
---------- করুণায় অশ্রুসিক্ত।
কাল রাতের অসম্ভব আনন্দগুলো
অন্তরের কালো শিরোনামের নাটকে
বিশ্বাসের হাত ধরে বাতি নিভে
------অন্ধকারে।

সৃজনী শব্দগুলো মৃত, জঠর ভেদ করে
মৃত‍্যুকে স্বীকার জন্মানো কঠিন
---- ফণী।

১৯) এক ঝাঁক মিথ‍্যার মুক্ত বিচরণে
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
অজস্র নীতিমালার প্রেক্ষাপটে এক দুরভিসন্ধি,
সুরাহার সন্ধানে বিমূর্ত প্রতিমা
তপ্ত রক্ত খোঁজে লোকালয়ে,
রাজধানীর খেকোগুলো আরেক ভঙ্গিমায়
হামাগুড়ি দিয়ে পাড়ি দেয় মফস্বলে।
ক‍্যনভাসে পুরাতন রবে দলবদ্ধ যৌবন ভাঙছে আশ্বাসের মিউজিয়াম
পুড়ছে যত হরিৎ ইতিহাস,আর
ভালোবাসার শান্তনা দাউদাউ করে---
সিগারেটের মতো ক্রমশ ছোট হওয়া সংক্ষিপ্ত জীবনটা
পঁচা স্বপ্নগুলোর শোকের অগ্নুৎপাতে ভস্ম।

এক ঝাঁক মিথ্যার মুক্ত বিচরণে.........

২০) নশ্বর পৃথিবীটা

নশ্বর পৃথিবীটার বিরাট আস্ফালন!
একমুঠো পরিধির রাসানাগারে
জঠর ভেদ... চলছে....
উদারতার সাজসজ্জায় অনৈতিক মূল‍্যায়ন!
শবের মিছিলে লাল অক্ষরে ব‍্যনার
ফ‍্যেশন, যুগের বিবর্তন।

লিখতে বসলেই দেখি....
ভুলের সাতকাহন প্রাচীন থেকে বর্তমান স্বমহিমায়।
তবু একগাদা বুর্জোয়ামী খেলাফতে
নির্দ্বিধায় শ্রেষ্ঠ জীবরা, ব‍্যস্ত পদ-লেহনে
ম‍রুক না বুড়ো পাগুলো রাজধানী তটে
......শষ‍্যের গুরুত্ব হ্রাসে।
কুর্নিশ তোমায়!

আরও কুর্নিশ......
ঐ দলবদ্ধ যৌবনের সেনাপতিকে।
'জয় শ্রীরাম' হবে মানবতার শ্লোগান!
ধর্মের রাজনীতিতে সুমহান----
বাবরি আর রামমন্দির এখন অমৃত সমান!
রাজপথে পুড়ুক ওরা, রক্তে হোলি খেলা
থামাসনে ঈশ্বরবাদী মনুমেন্ট গড়া।

২১) এইসময়

কালের মহীরুহে জীর্ণ স্তবক দ্বিধায়
চূর্ণ শব্দের বিচরণে, বেলা শেষে হিসাব কষে আঙ্গুলে
দীর্ঘশ্বাস ফেলা সময়গুলো জমাট বেঁধে যবনিকা টানে,
বোধহয় ক্ষণিকের রঙ্গমঞ্চ মিছে।
দাবার গুটির মতো এ জীবনের বৈশিষ্ট্য
হাতি,পেয়াদার পথচলা। কখনও ঘোড়ার মতো;
কখনও বা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত ক্ষমতা
ঠেলে দেয় আঁতুরঘরে।
ভরসার কাঁধে মাথা রাখা... নিজের পায়ে কুড়াল মারা
কম নয় তাতে ভাগ‍্যের জিম্মাদার ও,
সুযোগে পুতুল নাচায় সেও।

ভোররাতের শেষ লগ্নে আবারও কড়া নাড়ে প্রশ্নরা
বিচ্ছেদ এইসময়----ছয় ঋতু বারোমাস ভেজা যন্ত্রণা,
পরিযায়ী বুকে কী লিখি
যেতে হবে......
ডাক দিয়েছে এলার্মঘড়ি।

২২) ভুঁইফোড়া গন্ধে লালকেল্লা

একগাদা মিথ‍্যার বিজয় অভিযানে
গোড়ালি ফেটে রক্ত ক্ষরণ সাক্ষী রাজভবন
বয়স্ক হাড় আওয়াজ তোলে
ন‍্যায‍্য দাও বাঁচাতে চাই রণভেরি আহ্বান,
জীবনের ঘ্রাণে মূল্যহীনে রক্তাক্ত পতাকা;
কালজয়ী গানে বিরহী নিনাদ ছলনায় সারথী
ঝুলন্ত মানচিত্রে ক্ষুধিতের কান্না
" মিত্রোঁও..... আর না ..........আর না।

চাবুকের অধিকারে মখমলি চাদর
হাই ভোল্টেজ চেতনা
গড়াসনে আর বিবেকের ফুটবল, সাবধান বেঢপ কারিগর,
সুটকানো স্তনে অমৃত খোঁজে
আঁধারে ধ্রুবতারা,
চল্ চল্ সব হোক দুর্গম পথ
আজ যে সাম‍্যের গান বড়ই দুর্বল।

গর্জে ওঠো গ্রাম শহর বন্দর, জেগেছে জননী সন্তান বীরদর্পে
ভুঁইফোড়া গন্ধে লালকেল্লা,  ধনতেরাসে মগ্ন
ঘিরে ফেল সিংহাসন, নিপীড়িত সমাজ
প্রতিবাদ প্রতিবাদ প্রতিবাদ, ইনকিলাব জিন্দাবাদ।

২৩)  যাও, তাকে ডাক দাও

যাও, তাকে ডাক দাও---
অনেক শুনেছে
এবং এসে দেখে যাক একবার ঐ ঘুমন্ত শহরকে,
যেখানে অজস্র ভিখিরি আর ভিখিরি......
ওরা নির্মম ---
ক্রংক্রিটের দেয়ালে প্রাইমার ঘষে ছলনার মিশ্রণে।
ওরা অভিজ্ঞ!---
মূহুর্তে আবেগ কে জয় করে শিল্পের নিয়মে।
ওরা রবিন হুড---
বারুদ নিয়ে খেলে যৌবন প্রশিক্ষণ শিবিরে।
ওরা ধার্মিক---
নিমেষে গুটি হাটায় তোমার আমার মাঝে।

যাও.... তাকে ডাক দাও
একবার দেখে যাক ঘুমন্ত শহরকে।

২৪) বিকল্প পৃথিবী সন্ধানে

বিকল্প পৃথিবী সন্ধানে--ওরা জোট বেঁধেছিল
বপেছিল বুক চেরা সাহসের বীজ
আর------
গড়েছিল রক্তিম পাহাড়চূড়া ইষ্টিশন,
যেখানে ন'টার গাড়ি ঠিক সময়েই আসতো।
মুখোশ পদবীর স্খলিত বুলেটে
চৌচির বজ্রসুঠাম, মহিমা অমাবস্যার চাদরে,
নষ্ট স্বর্গটাও জং লাগা কলিজার গন্ধে
সভ‍্যতা শেষ,ফিরেছে প্রাচীনে।

এখানে ডুবে গেছে সূর্য-দর্শন-হিষ্ট্রি
পড়ছে ভ্রূণ রাস্তায় ধুলোর মতো,কন্ডম ফেটে
বুড়ো ভামেরা টানছে যোনি, অবাধে অতর্কে
ডেগে জ্বাল হচ্ছে কৃষ্টি-সংস্কৃতি।

বিকল্প পৃথিবী সন্ধানে.........
চল্ জোট হই আবার মর্তের বিপরীতে।

২৫) এই প্রজন্ম শুকনো কনক্রিটের মতো

একটি নিভৃত অঞ্চল
হারিয়েছে তার মান-যশ লাবনি সবুজ
বর্ণিল স্নিগ্ধতার তাজা প্রাণগুলোও
         যা বিলিয়ে ছিল স্বেচ্ছায়----- অনুরণনে সেই গান !
সেই গান--- ছিল মিছিলের আর্তনাদ, অগ্নিবীণার টান
                 পরিবর্তন.........
ডিজে'র তালে লেট মি ফাক।

এই প্রজন্ম শুকনো কনক্রিটের মতো
নির্লজ্জ..... গরু আর কুকুরের লড়াই, লিগ‍্যাসির লড়াই
রক্ত কেটে দেখে স্বর্গেরর শয়তানরাই,
অন‍্যদের অবিকলে
৩১শে ডিসেম্বর সেলিব্রেশনে, নিজেরটা গলা টিপে।

এই প্রজন্ম কিনেছে দাসত্ব
     গুম--ইতিহাস কারারুদ্ধ
ডি' এর অভিশাপে এই প্রজন্ম আবদ্ধ।।

২৬) ।। একবিংশের যীশু।।

(কলকাতার যীশু নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী প্রয়াণে ।)

একমুঠো মিঠেল রোদ ফুটপাতে ছিল রাখা
ধার চেয়েছিলাম তার সর্দারের কাছে----
রক্ত-মাংসের অভিনয়ে নয়
পুতুল নাচের পর্দা উঠে গেলো
মূকাভিনয়ে।

মিঠেল রোদগুলো ও তাৎক্ষণিকতাতে বিশ্বাসী,
সভ‍্যতার প্রাচীন কাল থেকে
পাহাড়--মরু স্খলিত ট‍্যাটু,ভিসুবিয়াসের মতো,
বিষাদের কালো মেঘ--
বৃষ্টি নামুক এই শহরে।

লালবাতি,ফেরিওয়ালা, বাঘমার্কা ডাবল-ডেকার,কলকাতা শহর--
ষ্টেটবাসটাও ভিখারি জনতার আর্তনাদে,
বদলায় নি 'সম্পূর্ণ এক উলঙ্গ শিশুও'।

কলকাতার যীশুর কথায়-
' এখন রোদ্দুর ফের অতিদীর্ঘ বল্লমের মতো
মেঘের হৃৎপিণ্ড ফুঁড়ে'

নির্বাক শহরটা আজও আসে নাই
অগ্নিবীণার মিছিলে!

২৭) গ্রাম

চেন এই সুজলা সুফলা ধরা
স্নিগ্ধ পরশতা, অমল মূরতি যেথা
গাঙ চিল কুয়াশার দেশ,
লক্ষীপেঁচার ডাক, কাক ভোরে ঘাসে ভেজা নূপুরের হাক,
শুনেছো কাঠটুকরির বেলগাছে কান্না
বা জীবনানন্দের কবিতার মতো---- ধানসিঁড়ির
সেই নৌকা যার পাল ছেঁড়া !
ছিল এক দিঘিতে জল খাওয়া
দশমী তে সলমনের ঘরে মদ ফিরনি আর গলাগলি করা
ঠিক বিপরীতে  পার্টি হতো
অর্জুনের ঘরে ঈদের সে.....টা।

সেই কবের কথা..... আজ বেমানান
আজ একদল পুবে মুতে আর একদল পশ্চিমে,
ঈশ্বর প্রাপ্তিতে মন্দিরের চূড়া ভাঙে
মসজিদে মাইকের শব্দে !

হারিয়ে গেছে বিকেলের চা-য়ের আড্ডা।

২৮) হোক কবিতা

বাতাসে ভুঁইফোড়া গন্ধ
ঢেউ বাতাস জল কাদায় মূর্তি গড়ি স্থবির,
শকুনিরা হাসে ধর্মের ঘরে তালা মেরে।
এ শহর কবির নয়, নয় কোন বীর একাদশের
এ শহর বর্বর ধর্মান্ধদের।

নিঝুম রাত্তিরে তার কানে কানে
জানিয়ে দেয় -----
শীতকালীন দূরত্ব শহরে নেমে এসেছে
প্রতি সন্ধ্যায়;
ধূসর রাস্তায়
খোলা কন্ডমের বার্তায়।
এরসঙ্গে মিশে গেছে অহেতুক ভয়
সর্বত্র আগুন জ্বলছে;
ব‍্যস্ত
অপুষ্টির কঙ্কালেরা বানিজ‍্যে দেবতারে নিয়ে
গলে পড়ে যাচ্ছে প্রাচীন স্থাপত্য;
শহুরে কুকুরদের দাপটে
ঠকবাজ সব মক্কা বারানসী
সুটকানো স্তনে কস্তুরী লেপে!
তাই ঘোষণা একটাই
মৃত ঈশ্বর বলে।

২৯) ফুসফুস
       (গল্প কবিতা)

যার হৃদয় নেই তার ভালোবাটাও দুর্জয় সন্ত্রাসে। আসলে হৃদয়টা মানে দিশেহারা পাগলামি, অনুরাগ, স্তুতিপাঠ। যারা, দেহে হৃদয়ের মুক্ত বাতাস মানে ভাবে বিবর। আমার হৃদয় রাত্রি অমানিশায় লুকিয়ে থাকা চাঁদ। হৃদয় মানে আলগে যাওয়া প্রতিটা জোড়া। উদারতার সাজসজ্জায় কাঁটা ফোঁটানোর ছোট্ট প্রয়াস।অন্ধকার আর মাকড়সার জাল। হৃদয়হীন যৌনতা। শুধু মানসিক সান্ত্বনা। মনুষ্যত্বটাও ওর উপর ভরম্ভর। তবে আজকাল আর ছাইপোঁকার মধ্যে।

একবার ভেবে দেখ ঐ আশেপাশে। না সুদূর আসমুদ্র হিমালয় পারে। স্বর্গের বিচরিত নন্দন কাননে শয়তানের আশ্রয় স্থান। নরকের ভয়ে খুঁজে দেখ নিজে কয়গজ নীচে। টিপে দিচ্ছে গলাটাও রঙিন স্বপ্নের বাসর রাতে, কালো চুলের কালো স্বপ্নে।

তুঁই তো রাজা নস্? তবে কেন? কেন,
হা করে গিলে খাস তার মাংস। এই হৃদয়টা ও তোর নয়। আছে শুধু ফুসফুস। শুন্ মাঝে মাঝে ডাক্তার দেখাস্ ঐ জীবন্ত হাসপাতালে।

৩০) প্রত‍্যাশা

তখন কোথায় ছিল বোরখা নামক বস্তা?
তখন কোন বিধাতা সৃষ্টি করতে পারে নাই, সম্মান বাঁচানোর জন্য এক টুকরো কাপড়!
মিথ্যা অজুহাতে ছুঁড়া হলো এই মর্ত‍্যধামে, লজ্জা কোথায় ছিল---গড়বার সময়ে।

তখন কোথায় ছিল বিধাতা আর বিধাতার সৃষ্টি।
কাঁপে নি পৃথিবী, কাঁপে নি কোন জালিমের বুক।
আজও রাস্তায় অবুঝ শিশুর মাথা  খাওয়া দেহটা পড়ে থাকে নর্দমায়,
ঈশ্বরের অস্তিত্ব আরো বেশি বিলীন হয়ে যায়।
আমরা মেনেই নিয়েছি আমাদের অত্যাচারিত রক্তাত্ব দেহ। সাথে বিধাতাকেও।

কিন্তু শোষণের জবাব দিতে যেদিন ফারাক ধরলো আল্লার নির্দেশিত পুস্তকে,সেদিন মেনে নিলাম এই দুনিয়ায়  সৃষ্টিকর্তা নিতান্তই একটা নিষ্প্রয়োজনের নাম।
নিজের অস্তিত্ব যে বিধাতা এই সময়ে প্রমাণ করে না কি দরকার সেই বিধাতার?
কি দরকার সেই গাদা গাদা নাজিলকৃত পুস্তক যা একজন মানুষকে মানুষ হতে শিক্ষা দেয় না।
রজস্রাবে পূঁজিলে যারে প্রবেশ নেই তাঁর অশুদ্ধ মন্দিরে!

ভেঙে ফেল মন্দির-মসজিদ নামে কল্পিত ঈশ্বরের দালানকোঠা পুড়া হোক এর গায়ে লেগে থাকা প্রতিটি ইট,বিকৃত পুস্তক তার সাথে ঐ মগজ।
সেখানে গড়বে ল‍্যাব,যুক্তিবাদী মঞ্চ,শিল্পকলা একাডেমি,মুক্তমনা চিন্তা।
আরও.........চাই।

৩১) একাকীত্বের নিদারুণ আর্তনাদ

এ জীবন ফুরিয়ে অচিরেই
ঝরে যাবে আশার সঞ্চার বাণী অশ্রু জলে
সিক্ত হয়ে পড়ন্ত বিকেলে,
আধম‍রা ভালোবাসাগুলোও
হৈমন্তিক রস শুষে কঙ্কাল প্রায়
নিরেট বরফ, ঐ আদিম কালের।

আলোর শেষ বিন্দুটাকেও অভিলাষী মন
চেয়ে ছিল বেশি নাহলেও----
কম সোহাগ দেবে
বুকের উর্বর জমিতে পুঁতে রাখা জীবন কে,
কিন্তু কৈ, পাঁজরে ধমনী ছেড়া শব্দে
শিরায় শিরায় বাজছে
একাকীত্বের নিদারুণ আর্তনাদ।

৩২)  একটি ক্ষণস্থায়ী হেঁচকি

একটি ক্ষণস্থায়ী হেঁচকি
যার সম্মুখীন হচ্ছে গোড়ালি ফাঁটা
কিছু জীবন
যেখানে রয়েছে ভয় আর অহংকারের মিশ্রণ।
যন্ত্রণারা এক একটা শ্বাস নিচ্ছে
ফোলা ফুসফুসে বিষাক্ত অক্সিজেন,
নিখোঁজ রয়েছে আজও
গৌরবের ইতিহাস‍,
শ্লোগান এসেছে জনগণেরা এখানে রাজা!
চারিদিকে হৈ হৈ রব........
প্রজাতন্ত্র........প্রজাতন্ত্র!
তবে যে পুড়ছে গণতন্ত্র
সংবিধানের দরজা খোলা
উন্মাদ শাসনতন্ত্র।

ক্রমশ বাড়ছে দুর্দিন
জ্বলছে নগর, স্বপ্ন প্রহর রোজনামচায়
গো-মাংস আর গো-মাতার লড়াই
সহস্রাব্দে ক্রুসেডে
হাওয়ার ডালিম থেকে বেরিয়ে আসা ঐ সাপটা
আমার পায়ে নেতিয়ে পড়তেই বুঝলাম
মানুষগুলো বিষাক্ত ,সাপের প্রতি।

৩৩) তৃতীয় শ্রেণীর এক আমি

তৃতীয় শ্রেণীর  জীবন,কুকুরের মত কুন্ডলী পাকিয়ে শুয়ে থাকি ছানাপোনা নিয়ে।নিজেই বানিয়েছি নিজের নিয়ম।রোজ রোজ ফলের দোকানে ঢু মেরে আসি,আরেকটু কম দাম হলেই কিনে আনব পোয়া খানেক আঙ্গুর বা কোন প্রিয় ফল।প্রেমিকা ছিল সুচরিতা সেন,বিভোর ছিল মন সঙ্গম স্বপ্নে।বিকিয়েছিলাম আমি তারে হৃদয়।
পাইনি তারে তবু কি হয়েছে?রাহেলা বেগম তো বউ হয়েছে হাসিমুখে সব মেনে নিয়ে।বিছানায় শুধু গদি আটা নেই।কঠিন তক্তপোষে শুয়ে তবু সুখটান দেই।
পুঁটি মাছের ঘ্রান আসে রান্নাঘর থেকে।জুতোর সুকতলি খুইয়ে জুটিয়েছি তবু মাস ইনকাম।বাবার জমি বেচা টাকায় ডিগ্রিও জুটিয়েছি তিনখান।
গুমোট জানালাহীন ঘরে তৃতীয় শ্রেণীর জীবন।
মাইনেটা বাড়লেই একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নেব।তিন রুমের।রাহেলাকে কথা দিয়েছি।ওর ফোলা ফোলা গালে এখন আন্দামান নিকোবর এর মত মেসতার দাগ।আমি বোধহয় বুড়িয়েছি কিছুটা।ছেলেটার অসুখ করেছে খুব,ডাক্তার দেখাতে হবে,,সেও এক রকম টাকার খেলা খুব।বাবার ভিটেটা এবার বেচেই দেব।
কন্যাটাকে সামনের বছর এ স্কুল ছাড়িয়ে সস্তা কোন
স্কুলে দেব,খরচ কমে যাবে বেশ।
তবু রাস্তার মোড়ে ভিক্ষুককে দেখে আমি মনে মনে আত্মপ্রসাদ লাভ করি,,,আমি ওর চে তবু ভাল আছি।

৩৪) ক‍্যাসান্দ্রা

রাফখাতায় পড়ন্ত বিকেলের মতো খশে পড়ছে অশৃঙ্খল শব্দগুলো
ইস্তাহার-ম‍্যেমোরেণ্ডামে শুধু দিচ্ছে মিছিল
পরিবর্তন করে রাজসাক্ষী নতুন ইতিহাসে,
কারাগারে পুলিশ রাজপথে নেতারা ধর্ণায় অজুহাত,
বহুগামিতার কারণে, উচ্ছৃঙ্খলতার কারণে
একের পর এক গড়ছে পতিতাপল্লি রাষ্ট্রের বুকে।

আমার সুইসাইড নোটে থাকবে রাষ্ট্র তথা সেইসব ছেলে মেয়েদের কথা
মানসিক বিকারগ্রস্তদের কথা, যারা লুটছে-----
পীড়নের দায়ে ফাঁসির দাবি জানাই !

৩৫) ঈশ্বরের মৃত্যু হয়েছে ----

যুগে যুগে ঈশ্বর জন্মায়
কালের বেলায় ওবেলায়  আবার মরে যায়
দরিদ্র মানুষের ঘরে কিবা ক্ষুধার্তের ভাত ভাত শব্দ ফায়ারে
সোমালিয়া, আফগান,আরাকান কিবা সুদানের গলিতে
মরতে দেখেছি কত ঈশ্বরকে
রক্তে ঐশ্বী বাণী নিয়ে দাঙ্গার কোন রাতে যুদ্ধের হুংকারে।

মন্দির, মসজিদ, প‍্যাগোডায় কত মরেছে ঈশ্বর
কিম,স‍্যুকি,বাগদাদি রা এখন ইয়ার
ঈশ্বর তো সম্পদ কিবা পুঁজির হাতিয়ার !!
আজ মরে গেছে
মমি হয়ে মৃত মিশরের পিরামিডে,হেরা-শাবরিমালায়

নীল নদ , টাইগ্রীস,সাঙ্গু,নাফ নদীর তীরে
কত ভেসেছে, দেখেছি
মৃত মায়ের স্তন টানছে ফুটপাতে
ক্ষুধার্ত ঐ শিশুটি
দেখেছি লাশের স্তুপে মাছির সাথে
শেষ মৃত্যু পাঞ্জা লড়তে !!

আমিও পাল্টাতে চাই---
ক্ষুধা থেকে বড় ধ‍র্ম আর অন্ন থেকে বড় ঈশ্বর থাকলে।

৩৬) রক্তিম অ আ ক খ

অতঃপর বুঝলাম
আমার পরিচয় গোপন রাখার তথ্য,
শ্বাসের দৈর্ঘ্য মেপে হৃৎপিণ্ডের ধুক ধুকানি
প্রতিদ্বন্দ্বীরা এখন মেরুকরণের পাটাতনে
উল্টো পুরাণ, হাতে কলমে সবকিছুতেই
বর্ণমালার শব্দ মিছিল। আর প্লাস্টিকের ঘোরপ‍্যাঁচে
বুকের রক্ত ঢেলেছি ষ্ট্রিটে
যুথিবদ্ধ শব্দ উচ্চারণে।

ভাষা হোক উন্মুক্ত
বাতাসে ধ্বনিত রক্তিম অ আ ক খ।

৩৭) নীরবতার ক‍্যালিগ্রাফি

----- ওই শ্রাবন্তীর স্বর্গোদ‍্যানে
এখন উঁকুনদের বাস।হারিয়ে গেছে বেহিসেবি উতল বাতাস,
নির্ভেজাল জল,বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত,
মেঘমালার নির্জর সঙ্গীত,
নিঃসঙ্গ গলি আজকাল এক একটা বিস্ফোরিত রাজপথ।
মহামান্য রাষ্ট্র--
উঁচু করে রাখা ঐ কবিদের মাথার দাম কত!!?
যেগুলোর উলুধ্বনি.... শঙ্খধ্বনি শুনে
গণতন্ত্রের কথা বলে একনায়কেরা।

ভাঙা টেবিলে
শতাব্দীর শেষ প্রান্তে
দেহ থেকে ভেসে আসা নাভিকাটা আর্তনাদ
শুধু খব‍রের কাগজে হেডলাইন।

চিলেকোঠায় পুরোনো পোশাক
কুচকুচে কালো আঁধারে,
রাম রহিমরা মৌলবাদের জিগির তোলে
---ঐ শহরে, বন‍্যা আসছে
গোড়ালি ফাঁটা রক্তক্ষরণে লাল হয়ে।

৩৮) নাট‍্যশালার গ্রীনরুম থেকে

এবং তাদের হত্যা করা হল
ব‍্যস্ততার ভীড়ে,
অত‍্যন্ত দক্ষতার সাথে প‍্যাঁচানো ইন্দ্রজালে
মেয়াদ ভিত্তিক লাইসেন্স পেয়ে কসাইরা---
অবৈধ ক্ষমতার সুফলে
উলঙ্গ চোখে অন্ধ কানুন হ‍্যালোজেন হাতে,আজও!!

রক্তে ভাসছে আমার দেশের আঙিনা
এসেছিলাম ফিরে যাচ্ছি
বুলেটের চেয়ে মুখোশ ভয়ংকর
কি আছে আর; তরুণ তরুণীর হাতে মোমবাতি
ছাড়া।নিজের ছায়া নিজে গ্রহণ করা,
অভ‍্যস্থ এখন জনগন, নাট‍্যশালার গ্রীনরুম থেকে
নকল রাজা অট্টহাসিতে!!

৩৯) ফোঁটা ফোঁটা উত্থান

অস্তিত্ব জুড়ে শুধু বিস্মরণের বক্ররেখা
বুঝিনি এমন নিঝুম ভাষ‍্য,
নির্মোহ মন,আবেদন করে ট্রেন্ড
অলিখিত রোদ্দুর আর
অজানা উঠোন জুড়ে পড়ে থাকা
আঁচলস্পর্শী বিনম্র নিবেদন।

এই শহরে সন্ধ্যায় নেমে আসতেই
ত্রিযামায় লুকোনো অজানিত স্বপ্ন
মায়াবী নক্ষত্রে শুধু প্রবাসী ভাবনা।
জমাট অভিমান
নিথর রূপকথার রাজত্বে
ঠিক একপশলা বৃষ্টি!
সুতোর ম‍্যাজিকের মতো
ক্রমশ কমছে তার দৈর্ঘ্য,
শুধু অনন্ত অজ্ঞাত ঢেউয়ে
গতিমুখ বদলে দিচ্ছে।


৪০) একবিংশের যীশু


 (কলকাতার যীশু নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী প্রয়াণে ।)


একমুঠো মিঠেল রোদ ফুটপাতে ছিল রাখা

ধার চেয়েছিলাম তার সর্দারের কাছে----

রক্ত-মাংসের অভিনয়ে নয়

পুতুল নাচের পর্দা উঠে গেলো

মূকাভিনয়ে।


মিঠেল রোদগুলো ও তাৎক্ষণিকতাতে বিশ্বাসী,

সভ‍্যতার প্রাচীন কাল থেকে

পাহাড়--মরু স্খলিত ট‍্যাটু,ভিসুবিয়াসের মতো,

বিষাদের কালো মেঘ--

বৃষ্টি নামুক এই শহরে।


লালবাতি,ফেরিওয়ালা, বাঘমার্কা ডাবল-ডেকার,কলকাতা শহর--

ষ্টেটবাসটাও ভিখারি জনতার আর্তনাদে,

বদলায় নি 'সম্পূর্ণ এক উলঙ্গ শিশুও'।


কলকাতার যীশুর কথায়-

' এখন রোদ্দুর ফের অতিদীর্ঘ বল্লমের মতো

মেঘের হৃৎপিণ্ড ফুঁড়ে'


নির্বাক শহরটা আজও আসে নাই

অগ্নিবীণার মিছিলে!

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...