Tuesday, April 16, 2019

নূসরাতের_মৃত্যু_ও_ইসলামিক শরিয়া

সূরা আন-নিসা, আয়াত-১৫

وَ الّٰتِیۡ یَاۡتِیۡنَ الۡفَاحِشَۃَ مِنۡ نِّسَآئِکُمۡ فَاسۡتَشۡہِدُوۡا عَلَیۡہِنَّ اَرۡبَعَۃً مِّنۡکُمۡ ۚ فَاِنۡ شَہِدُوۡا فَاَمۡسِکُوۡ ہُنَّ فِی الۡبُیُوۡتِ حَتّٰی یَتَوَفّٰہُنَّ الۡمَوۡتُ اَوۡ یَجۡعَلَ اللّٰہُ  لَہُنَّ  سَبِیۡلًا ﴿۱۵﴾

""আর তোমাদের  মধ্য থেকে যারা ব্যভিচার করে, তোমরা তাদের উপর তোমাদের মধ্য থেকে চার জন সাক্ষী উপস্থিত কর। অতঃপর যদি তারা সাক্ষ্য দেয় তবে তোমরা তাদেরকে ঘরের মধ্যে আবদ্ধ রাখ যতক্ষণ না মৃত্যু তাদের জীবন শেষ করে দেয়। অথবা আল্লাহ তাদের জন্য কোন পথ তৈরি করে দেন""

#নূসরাতের ধর্ষন প্রমানের জন্য চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী লাগবে,,। বেচারি এখন সাক্ষি কোথায় পাবে,,? তার নির্যাতনের সময় কেউ'ই ওখানে উপস্থিত ছিলোনা।

ব্যাভিচারের প্রমান সরূপ চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী উপস্থিত করতে হবে।

তারপর'ও  নূসরাত বিচারের জন্য ইসলামি খলিফার কাছে গেল এবং নিজের নির্যাতনের অভিযোগ পেশ করলো।

কিন্তু এক'ই,,,,!

সূরা আন-নূর আয়াত-৪

وَ الَّذِیۡنَ یَرۡمُوۡنَ الۡمُحۡصَنٰتِ ثُمَّ لَمۡ یَاۡتُوۡا بِاَرۡبَعَۃِ  شُہَدَآءَ فَاجۡلِدُوۡہُمۡ ثَمٰنِیۡنَ جَلۡدَۃً  وَّ لَا تَقۡبَلُوۡا لَہُمۡ شَہَادَۃً  اَبَدًا ۚ وَ اُولٰٓئِکَ ہُمُ  الۡفٰسِقُوۡنَ ۙ﴿۴﴾

""আর যারা সচ্চরিত্র নারী বা পুরুষের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারপর তারা চারজন সাক্ষী নিয়ে আসে না, তবে তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত কর এবং তোমরা কখনই তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করো না। আর এরাই হলো ফাসিক""

ইবনে কাসির,,,,,

""এই আয়াতে ব্যভিচারের অপবাদদাতাদের শাস্তির বর্ণনা দেয়া হয়েছে। ঘোষণা করা হচ্ছেঃ যারা কোন স্ত্রীলোক বা পুরুষ লোকের উপর ব্যভিচারের অপবাদ দেয় তাদের শাস্তি হলো এই যে, তাদেরকে আশিটি চাবুক মারতে হবে। হ্যা, তবে যদি তারা সাক্ষী হাযির করতে পারে তবে এ শাস্তি হতে তারা বেঁচে যাবে""

খলিফা, ব্যাভিচারের প্রমান হিসেবে চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী না পেয়ে নূসরাতকে আবার আশিটি বেত্রাঘাত করার অনুমতি দিলেন।

ধর্ষিতা যদি চারজন প্রত্যক্ষদর্শী প্রমান হিসেবে  পেশ না করে তাহলে সে আশিটি বেত্রাঘাত ভোগ করবে।

ধর্ষকদের প্রতি মোহাম্মদের ছিলো অগাধ ভালোবাসা
ও ব্যাভিচারের প্রতি মোহাম্মদ ছিলো শ্রদ্ধাশীল,,
যা এই হাদিসটি থেকে প্রমান হয়।

সূনান ইবনে মাজহা, হাদিস নং ২৫৯৮

""ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে এক মহিলাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কোনরূপ শাস্তি দেননি, কেননা সে এমন তওবা করেছিলো যা কোন মদিনাবাসী করলে তা কবুল হয়ে যেত""

ধর্ষককে হাতেনাতে ধরে'ও মোহাম্মদ  তাকে কোন শাস্থি দেয় নি। মোহাম্মদ নিশ্চিত ভাবে'ই কোরান অমান্য করেছিলো।

কিন্তু পরষ্পরেকে ভালোবেসে যারা নিজেদের ভিতর যৌনসম্পর্ক করে তাদের প্রতি মোহাম্মদের ছিলো প্রচন্ড হিংসা।

সহীহ বুখারি, হাদিস নং ১৩২৯

""আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট ইয়াহূদীরা তাদের এক পুরুষ ও এক স্ত্রীলোককে হাযির করল, যারা ব্যাভিচার করেছিল। তখন তিনি তাদের উভয়কে রজমের (পাথর নিক্ষেপে হত্যা) নির্দেশ দেন। মসজিদের পাশে জানাযার স্থানের নিকটে তাদের দু’জনকে রজম করা হল""

পরিশেষে বলা যায় ইসলামি আইনে নূসরাত কোন বিচার'তো পেত'ই না বরং তাকে উলটা আশিটি বেত্রাঘাত সয্য করা লাগতো।

No comments:

Post a Comment

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...