"বাদ বাংলার কবিতায় রীতির বিপরীত রীতি"
লেখক --- রবীন্দ্র গুহ
প্রচ্ছদ --- প্রশান্ত সরকার
প্রকাশক --- সুমিত পাল ধর
প্রকাশনা --- স্রোত
__________________________
লেখক --- রবীন্দ্র গুহ
প্রচ্ছদ --- প্রশান্ত সরকার
প্রকাশক --- সুমিত পাল ধর
প্রকাশনা --- স্রোত
__________________________
" বতর্মান কালখণ্ডের সূচনাপর্ব থেকে আমরা এক ভয়ংকর অবস্থার মধ্যে দাঁড়িয়ে "।
বইটির প্রথম পর্বের প্রথম লাইন দিয়েই শুরু করলাম। এই শব্দগুলো উচ্চারণের সময় বুকে খুব জোরে একটা ধাক্কা লাগলো। যা সহজে হয় না। বিশ্বায়নের বাজারে এতটাই আগ্রাসন চলছে যে আমরা আজ একাকীত্ব, অসম্পূর্ণতা, ঈর্ষা, সংকট নিয়ে ফিরছি। ক্রমশ ফুরিয়ে যাচ্ছে পোষ্ট মর্ডানের মতাদর্শ। বোধের এই চিন্তনভূমিতে এখন আইডেন্টিটি ক্রাইসিস।
বইটি পাঠ করলে বোঝা যায় অস্তিত্ব সংকট নিয়ে ভীত নয় এমন কবি তথা লিটল ম্যাগাজিনই সাহিত্যের মূলস্রত বিশ্বাসীদের। তার সাথে নকশাল ও হাংরি আন্দোলনের ছোঁয়াও মিলে। যেখানে সমীর রায়চৌধুরী, সুবিমল বসাক থেকে শুরু করে তপোধীর ভট্টাচার্য, বিশ্বজিৎ চৌধুরি, বিজিত কুমার ভট্টাচার্য, পীয়ূষ রাউত, সেলিম মোস্তফা,গোবিন্দ ধর, উদয়ন ঘোষ, বীরেন্দ্র নাথ রক্ষিত প্রমুখ। যেমন মলয় রায় চৌধুরী থেকে শুরু করে স্বদেশ সেন কবিতার মুক্তি, আধিপত্য- ধর্মীয় তথা মৌলবাদ থেকে মুক্তি, নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে ছুটলেন আর প্রবীণরা বললেন শৃঙ্খলার কথা, খোলস-খাঁচা-সুপ্রচলিত ব্যবস্থাপনার কথা, তবেই নিপুণ সৃষ্টি সম্ভব। বাদ-বাংলায় পোষ্ট-স্ট্রাকচারাল কবি কিরণশংকর রায় বিশ্বাস, পীয়ূষ রাউত,তপোধীর ভট্টাচার্য, বিশ্বজিৎ চৌধুরি, তাঁদের কথায় এটাই পরিষ্কার যে আমরা ক্রমশ বন্ধুহারা হয়ে পড়ছি।
বইটিতে লেখক ম্যাসকুলিন ভাষায় অনেক কিছুই বলেছেন। যা সত্য তাই বলেছেন। তা আমারও প্রিয়। সাহিত্য মানেই সত্যের শ্বাসজল। তো এই ম্যারাথন রেসে ব্রাহ্মণদের একচেটিয়া ঘাঁটি আর থাকছে না। প্রতিষ্ঠান বিরোধীরা খুঁজে বের করল দেরিদা, ফুকো,লিওতার,গায়ত্রী চক্রবর্তীকে। তার সাথে পা মিলিয়ে প্রতিষ্ঠান বিরোধী লিটল ম্যাগাজিন দিল্লি হাটার্স, জলজ,স্রোত,জোনাকি, শতক্রতু,ত্রিভুজ, খনন,মিলন,বিনির্মাণ,শহর,ঘায়ামেঘ,সাহিত্য,প্রমুখ। তার সাথে কুমার অজিত দত্ত বাদ-বাংলার কবিদের নিয়ে যে বড় ধরণের কাজ করেছেন তা প্রশংসার যোগ্য। সংকলনটির নাম "উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কবিতা''। একসময় দেখা গেলো গৌড় বাংলাকে পিছনে ফেলে দিলো বাদ-বাংলার কবিতার রীতির বিপরীত রীতি। আর পাওয়া যাবেই না বা কেন, কারণ যেখানে কবি বিশ্বজিৎ চৌধুরি, সুব্রত কুমার রায়, দিলীপকান্তি লস্কর, প্রাণেশ কর, মজিদুর রহমান, মলয় নাগের কবিতায় অনুভূতির গভীরতা,দৃষ্টির নতুনত্ব, বিচারশীল আত্মনিয়ন্ত্রণ শক্তির কথা তাঁদের কবিতায় প্রকাশ পায়।
বেশ কিছু তথ্য ও বাদ- বাংলার সাহিত্য-সংস্কৃতি নিয়ে লেখক এই বইয়ে আলোচনা করেছেন। তা সত্যিই প্রশংসনীয়। না পড়লে হয়তো এতটা জানা হতো না। যেখানে লেখক ল্যাটিন আমেরিকা, হাভার্ডের কনসেপ্টের সাথে নাগপুর, দিল্লি, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চিন্তাচেতনার এক সূক্ষ্ম বাঁধ এঁকেছেন খুব যন্ত্র সহকারে। বাদ- বাংলার কবিদের মিল-অমিল, পুঁজিবাদ-মার্ক্সবাদ, ধর্মান্ধতা,মুক্তচিন্তা, রোমান্টিকতা, যা এককথায় 'দ্যা পয়েট্রি আব্যাউট পয়েট্রি' বিষয়ে জানা যায়। অনেক কিছুই রয়ে গেলো। পোষ্টের দীর্ঘতার কথা চিন্তা করে এখানেই শেষ করতে হলো। শেষে কবি শক্তিপদ ব্রহ্মচারীর কথায়---
" কিছু কিছু বন্ধু, আর আরও কিছু বন্ধুও আসে
আমাকে তেমন নয়,আসলে আড্ডাকে ভালোবাসে।"
(অল্প পরিসরে অনেক কিছুই বলতে পারতেন কবি শক্তিপদ)
" কিছু কিছু বন্ধু, আর আরও কিছু বন্ধুও আসে
আমাকে তেমন নয়,আসলে আড্ডাকে ভালোবাসে।"
(অল্প পরিসরে অনেক কিছুই বলতে পারতেন কবি শক্তিপদ)

No comments:
Post a Comment