Monday, August 5, 2019

কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি

তাহলে কাশ্মীর কি স্বাধীন হয়ে গেল? একটা পোস্টে পড়লাম ৩৭০ ধারা বিলোপ মানে  কাশ্মীরের ভারতভুক্তির অন্যতম শর্ত।
৩৭০ ধারা নাকচ করে রাষ্ট্রপতির আদেশনামা এবং জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে লাদাখ ও জম্মুকাশ্মীর এই দুটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে বিভাজিত করা ভারতীয় সংবিধানে অন্তর্ঘাত চালানো ছাড়া আর কিছু নয়। স্বভাবসিদ্ধ লুকোছাপা, ষড়যন্ত্র ও অবৈধ পথে মোদি সরকার কাশ্মীরের সাথে বাকী ভারতের সাংবিধানিক ও ঐতিহাসিক যোগসূত্রকে ধ্বংস করছে। 

এই অন্তর্ঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে মোদি সরকার গত সপ্তাহ জুড়ে কাশ্মীরকে অন্তরীণ করে ফেলে। ৩৫,০০০ অতিরিক্ত সেনা নিয়োগ করেছে কাশ্মীর উপত্যকায়, এই এলাকা এমনিতেই বিশ্বের সর্বোচ্চ সেনা অধ্যুষিত এলাকাগুলির অন্যতম। পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের কাশ্মীর উপত্যকা ত্যাগ করার জন্য সতর্কতা জারি করায় ব্যাপক ভীতির সঞ্চার হয়; অন্যদিকে কাশ্মীরী জনতা কিন্তু যাত্রীদের জন্য নিজেদের বাড়ির দরজা খোলা থাকার ঘোষণা দেয়। এরপর আবার বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের রাতারাতি গৃহবন্দী করা হয়, ইনটারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়, পেট্রল বিক্রী বন্ধ করা হয় এবং সিআরপিএফ বাহিনী পুলিশ থানাগুলির দখল নেয়।

সংবিধান অনুসারে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ৩৭০ ও ৩৫-ক ধারা সংক্রান্ত কোনও পরিবর্তন রাজ্য বিধানসভার সম্মতি ব্যতিরেকে করা সম্ভব নয়। ২০১৮ সালে জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভা বেআইনীভাবে ভেঙে দেওয়া হয় কোনও পক্ষকেই সরকার গড়ার কোনওরকম সুযোগ না দিয়ে। এরপর কেন্দ্রীয় সরকার  জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন ও লোকসভা নির্বাচন সংঘটিত করা এড়িয়ে যায়। সুতরাং একথা স্পষ্ট যে রাষ্ট্রপতির আদেশনামা আসলে এক অন্তর্ঘাত।

বিমুদ্রাকরণ দেশে দূর্ণীতি ও অবৈধ টাকার সমস্যা দূর করেনি - বরং তা দূর্ণীতিকে আরও সুবিধা করে দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে নতুন দুর্ভোগ এনে হাজির করেছে। একইভাবে জম্মু ও কাশ্মীর সংক্রান্ত এইসব অত্যাচার ও ষড়যন্ত্রমূলক সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হল এমন সময়ে যখন সে রাজ্যে কোনও নির্বাচিত সরকার আর নাই। এ পথে কাশ্মীর সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হবেনা । বরং পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে। আরও তীব্র সেনা আধিপত্য ও বিরোধী দলগুলির ওপর দমন কাশ্মীরের জনতাকে আরও বিচ্ছিন্ন করবে। তাছাড়া, এই অন্তর্ঘাত কেবল কাশ্মীরের পরিস্থিতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, এটা সংবিধানের ওপরেই আক্রমণ এবং তা সমগ্র ভারতকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

জম্মু ও কাশ্মীরে এই উদ্যোগ এবং নাগরিকত্ব আইনে সংশোধনী ও এন আর সি - বিজেপি দেশকে ১৯৪০এর দশকের মত অস্থিরতার দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। জম্মু ও কাশ্মীরকে কার্যত জরুরি অবস্থার মধ্যে ফেলে দেওয়া হল - ভারতকে জেগে উঠতে হবে , প্রতিরোধ গড়তে হবে। কারণ এই জরুরি অবস্থা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়বে গোটা দেশে।

No comments:

Post a Comment

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...