Saturday, August 10, 2019

অদৃশ্য স্বত্বার উদ্দেশ্যে বলি/কোরবানি বন্ধ হোক

আর মাত্র কয়েকটা ঘন্টার পর কোরবানির ইদ । এ সময় পৃথিবীতে কোটি কোটি পশু হত্যা করা হয়। হিন্দুরাও পশু বলি দেয়। আমার কাছে মনে হয় এই দুই প্রজাতির পশুরা মিলে নিরীহ পশুদের হত্যা করে এক নিকৃষ্ট অদৃশ্য সত্ত্বার উদ্দেশ্যে। এ এমন এক নিকৃষ্ট সত্ত্বা যে রক্তের হোলি খেলা তার বড্ড পছন্দ।

ছোট বেলা যেদিন মায়ের উপর রাগ করে ভাত খাইনি , সেদিন দেখেছি মা আমার না খেয়ে থেকেছে যতক্ষন আমি খাইনি। নিজের হাজার কষ্ট হলেও কখনো মুখ ফুটে বলেনি। সব থেকে ভাল খাবারটি আমাকে খাইয়েছে, সব থেকে ভাল পোশাকটি আমাকে পরিয়েছে। আমার কাছে ঈশ্বর / আল্লাহ আমার মা বাবা। কোন অদৃশ্য স্বত্বাকে আমি ঈশ্বর / আল্লাহ বলে স্বীকার করি না।

এই স্বত্বার কারণে আজ পৃথিবীর কোথাও শান্তি খুঁজে পাবেন না । এই স্বত্বা আজ একজনকে পাঠিয়েছে এক কথা বলে, কাল আর একজনকে পাঠিয়েছে আরেক কথা বলে। এই স্বত্বা এতটাই হিংস্র যে তাকে রক্ত দিয়ে শান্ত করতে হয়।

আমাদের এখানে বন্যায় লাখ লাখ মানুষ অসহায় জীবন যাপন করছে। যে অর্থ ব্যয় করে পশু হত্যায় তার সামান্য ঐ দুঃখী মানুষের জন্য ব্যয় করলে মানুষ গুলো বেঁচে থাকার শান্তি খুঁজে পেত। মন্দির মসজিদে যত অর্থ ব্যয় হয় সেই অর্থ যদি পৃথিবীর দুঃখী মানুষের কল্যানে ব্যয় হত তাহলে দুঃখী মানুষগুলোর মুখে হাসি ফুটতো। এই অদৃশ্য স্বত্বার কারনে আজ পৃথিবীতে হাজারও কাঁটাতার । এই কাঁটাতার মজবুত করবার জন্য সামরিক ব্যয় কোটি কোটি ডলার। অথচ এই কাঁটাতার কিংবা মন্দির বা মসজিদে ব্যয় না করে যদি মানুষের কল্যানে ব্যয় করা হত তাহলে পৃথিবী হত শান্তিময়।

এই অদৃশ্য স্বত্বা তো শান্তি চায় না, কেননা শান্তি বিরাজ করলে এই স্বত্বার মার্কেট ভ্যালু শূণ‍্যে নেমে আসবে। সেটার প্রমাণ উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালেই সহজেই প্রমাণিত হয়ে যায়। যে দেশ যত শিক্ষিত তারা তত উন্নত জীবন যাপন করে, সেখানে আল্লাহ/ ঈশ্বরের ভাত নেই। আল্লাহ ঈশ্বর রাজত্ব করছে অশিক্ষা কুশিক্ষার মাঝে।

এই আল্লাহ ঈশ্বর বিভিন্ন সময়ে মানবতা বিবর্জিত কিছু মতবাদ দিয়েছেন বলে অশিক্ষিত বিবেকহীন একদল মানুষ প্রচার করে বেড়ায়। সেই মানবতা বিবর্জিত মতবাদ যুগের পর যুগ মানুষকে তিলে তিলে মারছে। সেটারই একটা নিয়ম হল - পশু হত্যা।কি নিকৃষ্টভাবে ছোট ছোট বাচ্চাদের সামনে পশুর গলায় ছুরি চালিয়ে পৈশাচিক আনন্দ লাভ করে কিছু অন্ধ মানুষ, আমি বুঝি না। চারিদিকে এত হত্যা জখম সব এই পশু হত্যার বিধান থেকে ট্রেনিং প্রাপ্ত বলেই মনে হয়।

অনেকে প্রশ্ন করে - আমি কি মাংস খাই না ?

তাদের জন্য বলি - আমি খাবার জন্য পশু হত্যার বিরোধিতা করছি না। আমি বিরোধিতা করছি - কোন অদৃশ্য স্বত্ত্বার উদ্দেশ্যে পশু হত্যা। দুটো ভিন্ন জিনিস, দুটিকে গুলিয়ে ফেললে হবে কি করে।

তাই আমি চাই -

- উৎসব করে উৎসবের জন্য পশু হত্যা বন্ধ হোক।

- শিশুদের দূরে রাখা হোক এই পৈচাশিক কাজ থেকে ।

No comments:

Post a Comment

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...