Sunday, August 4, 2019

বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও

উন্নাও, যোগীরাজ। দেশের প্রথম সন্ন্যাসী মুখ্যমন্ত্রীর স্বর্গ রাজ্যে একটি চিত্তাকর্ষক ঘটনাপঞ্জি।
হিন্দি সিনেমায় ভিলেনদের যেমন করতে দেখি, তবে এ সব বাস্তব ঘটনা। লিখেছেন সুজন ভট্টাচার্য।

২০ জুন, ২০১৭
জনৈক মহিলা থানায় অভিযোগ করলেন ১১ তারিখে তাঁর নাবালিকা কন্যাকে (১৭ বছর) চাকরি দেবার নাম করে ডেকে পাঠিয়ে বারংবার ধর্ষণ করা হয়েছে। এমনকি তাকে বিক্রিও করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ FIR করে।

২২ জুন, ২০১৭
মেয়েটিকে পুলিশ একটি গ্রাম থেকে উদ্ধার করে। তার মেডিকেল এক্সামিনেশন হয় এবং বয়ানও নথিভুক্ত করা হয়। আরেকটি FIR-ও রুজু করা হয় POSCO আইনে।

১৭ আগস্ট, ২০১৭
মেয়েটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নামে একটি খোলা চিঠি লেখে। সেই চিঠিতে সে বলে, ৪ জুন তারিখে স্থানীয় বিধায়কের বাড়িতেও তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল যাতে স্বয়ং বিধায়কও অংশীদার। সে আরও লেখে, ২২ জুন পুলিশের কাছে সে এই অভিযোগ করেছিল। কিন্তু পুলিশ তাকে বিধায়কের নাম লেখাতে বাধা দেয়।

৫ এপ্রিল, ২০১৮
মেয়েটির বাবাকে আচমকাই গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানেই তাকে চরমভাবে শারীরিক নিগ্রহ করে কিছু দুষ্কৃতী। মেয়েটির বাবা জানান বিধায়কের ভাইয়ের উদ্যোগে এবনফ তার উপস্থিতিতেই আক্রমণ চালানো হয়েছিল।

৮ এপ্রিল, ২০১৮
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে মেয়েটি রাজ্যের সচিবালয়ের সামনে গায়ে আগুন দেয়।

৯ এপ্রিল, ২০১৮
হাসপাতালেই মেয়েটির বাবার মৃত্যু হয়।

১০ এপ্রিল, ২০১৮
এই ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে হইচই শুরু হল।

১২ এপ্রিল, ২০১৮
রাজ্য সরকার তদন্তের দায়িত্ব তুলে দিলেন সি বি আইয়ের হাতে। মামলা জেলা কোর্ট থেকে হাই কোর্টে স্থানান্তরিত হল।

১৩ এপ্রিল, ২০১৮
সি বি আই FIR করল এবং অভিযুক্ত বিধায়ককে তদন্তের জন্য ডেকে পাঠাল। সেদিনই হাই কোর্টের নির্দেশে বিধায়ককে গ্রেপ্তার করা হল।

২১ নভেম্বর, ২০১৮
বিধায়কের বিরুদ্ধে মেয়েটির ধর্ষণ ও তার বাবাকে খুন করার অভিযোগে লাগাতার প্রচার চালিয়ে আসছিল মেয়েটির কাকা। ১৮ বছরের পুরনো একটি গুলি চালনার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হল।

২৮ জুলাই, ২০১৯
মামলা সংক্রান্ত কাজে মেয়েটি তার দুই মাসী ও তার উকিলের সঙ্গে গাড়িতে করে যাচ্ছিল। একটি ট্রাক সেই গাড়িতে ধাক্কা মারে। মেয়েটির দুই মাসীর মৃত্যু হয়। মেয়েটি এবং তার উকিল এখনো হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। প্রসঙ্গত হাই কোর্টের নির্দেশে মেয়েটির সর্বক্ষণ পুলিশি নিরাপত্তা পাবার কথা। কিন্তু ঘটনার সময় কোনো পুলিশ পাহারা তার সঙ্গে ছিল না। যে ট্রাকটি ধাক্কা মেরেছিল, তার নাম্বার কালো রঙ দিয়ে মুছে দেওয়া ছিল।

আজ্ঞে হ্যাঁ, মেয়েটি হিন্দু। কিন্তু এখনো পর্যন্ত একটি হিন্দু মাউথ পিসও এই লাগাতার অন্যায়ের প্রকাশ্য বিরোধিতা করেননি। কেন? কারণ কি এটাই যে সেই অভিযুক্ত বিধায়কও শুধু হিন্দু নন, ‘গরব সে কহো’ হিন্দু? তার মানে কি তাহলে এটাই দাঁড়াল, ‘গরব সে কহো’ হিন্দুদের হাতে হিন্দু নাবালিকারও নিরাপত্তা নেই?

কী বলছেন টিম ৬২?

http://www.newindianexpress.com/nation/2019/jul/30/samajwadi-party-leaders-truck-involved-in-unnao-rape-survivor-accident-2011513.html

No comments:

Post a Comment

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...