Sunday, August 7, 2022

নীল দরিয়ার মাঝি


১) মরুগোলাপ

লোকমুখে প্রচলিত, ওটা ঈশ্বরের বাড়ি, যিনি ঘুঙুর কি
মটরদানা থেকে সৃষ্টি করেছিলেন আপেল -
পৃথিবী জমিনে সেঁটে দিয়েছিলেন পাহাড়, স্তনকামনা—
পিপাসা খররৌদ্রের।

অতএব আমাকে যেতে হয়েছিল প্রমিত উপাসনালয়ে
বাঁধানো খিলানের কাছে
সেখান থেকে ফিরে এসেছিলাম কতগুলো উভলিঙ্গ হুর
আর তাম্বূল ঐশীবাণী নিয়ে

বস্তুতপক্ষে উপাসনালয় থেকে ফিরে এসেছিলাম
রংজ্বলা ছাতা মাথায়—বৃদ্ধ

অথচ জলসাঘরে আমি যৌবনপ্রাপ্ত হয়েছিলাম…

২) সিগারেট

সিগারেট আর তুমি একই
যার দাগ হৃদয়েই লেগে থাকে 
তোমার মতো সিগারেটও রেখে যায় ঠোঁটের স্পর্শ
বিসর্জন ঘাট বা শম্ভুসাগর পাড়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী।

পার্থক্য একটাই
সিগারেট নিজেই জ্বলে শেষ হয়ে যায়
আর তুমি
কলিজা পুড়ে ছাই কর

 ছাই হয়ে পড়ে থাকি আমি
 অন্ধকার রাতের পরিত্যক্ত শহরে।

৩) একটি অঙ্কুরিত জীবন

শর্ত ছিল
জীবন্ত কবিতা নিয়ে আসলে প্রস্তাব গ্রহণ করবো
প্রান্তিক কবিদের দিয়ে শুরু সব কবিকে বলেছি
স্থানীয়রা বলল,
আমি এখনো চেষ্টা করে জীবন্ত কবিতা লিখছি।

বিদেশীরা বলল,
কবির জীবন্ত কবিতা নেই।ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করো
মৃত মানুষকে জীবিত করা সম্ভব!
আমি চেম্বারে ধাক্কা দিলাম আর ভেতর থেকে একটা আওয়াজ হলো-
জীবন্ত কবিতা নেই, ফ্রিজে আছে জীবন্ত হৃদয়
তুমি এটা দেখতে পারো।

 আমি অসহায় হয়ে মন্ত্রীকে বললাম,
 স্যার, আপনি জীবন্ত মানুষ বিক্রি করেন
 একটি জীবন্ত কবিতা বিক্রি করবেন?
 - ধুর! ছাই!  আমি শুধুমাত্র জীবিত দেশ বিক্রি করি
 জীবন্ত নারীদের কারখানা আছে বলে ব্যবসায়ীরা
 নারী কবিতা থেকে আলাদা নয়।

 সবার কাছে গেলাম
 কোম্পানির মালিক থেকে দেশের মালিক
 জীবন্ত কবিতা পেলাম না

তাই এসব বিষয়ে খেয়াল রাখা প্রয়োজন
চরের জমি রন্টুর ছেলে মন্টুর দখলে
শোকে আমার বাবা পাড়ায় নৈশ প্রহরী হিসেবে চিৎকার করে বললেন--
আমি জেগে আছি...সবাই ঘুমাতে যান।

দুঃখের গাড়িতে উঠে বিষণ্ণ বাতাস নিয়ে ফিরলাম
একজন পোস্টম্যান এসে আমাকে একটা চিঠি দিলো
আমি দুঃখিত নই, একটি জীবন্ত কবিতা পেয়েছি
কবি লিখেন নি 
মৃত তারারা লেখে জীবন্ত কবিতা।

৪) একটা নদী উপাখ্যান

নদী-মানুষের সম্পর্ক বড় নিবিড় 
তার বলে যাওয়া কত কথা অশ্রু গড়িয়ে নদীর 
আকাশের ছায়াপথে, ধুসুর মেঘলোকে
ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলিয়ে গহন নদী জলসিড়ি হয়ে 
কুশিয়ারার জল ছোঁওয় আমার স্বপ্নশিশির-
দীর্ঘশ্বাস বাড়ে।

রক্ত,লাশ,দেশ ভাগ, সংগ্রাম
এসবেরই তো সাক্ষী এ নদী
আজ তার ব্যস্ততায় এপার-ওপার এক ভাষাতেই,
এ সম্পর্ক বুঝি চিরন্তন।

নদী তো বোঝে- 
আর মানুষ কবে বোঝবে
নদী বাঁচলে মানুষও বাঁচবে!

৫) স্বদেশ আমার 

এখন আর কিছু ঠিক রইল না 
যতবার চললাম মানুষ হয়ে ওঠার রাস্তায়
অমানুষ হয়ে গেলাম টের পাওনি
তুমি টের পাওনি বলে, 
অর্ধমানবের মতো শিম্পাঞ্জির খেলা দেখে হাততালি দাও
তারও দুঃখ আছে, মানুষ হয়ে উঠতে পারেনি 
যে সাদা ফানুস উড়িয়েছিলে, সুতোয় বাঁধা 
দু একটা গেরুয়া ও সবুজ রং এর ও ছিল 
ওরা যে এক একটা মরা লাশ -- তা কি জানতে ?

প্রিয়তমা, তুমি টের পাওনি বলে
উদাসীনতা আমাকে অমানুষ করে তোলেছে
তোমার সম্মানে মৌনতা নিয়ে লালকেল্লা
তার প্রতিটা কিলায় লাইভ টেলিকাস্ট চালায় 
বিলকিস রার স্বাধীনতা
গোধরা কনসাইন্টমেন্টে!

প্রিয়তমা, জানি তোমার গলা শুকিয়েছে 
মহোৎসবের অমৃত পানে
আজাদী, জল জীবন কেড়ে নেয় বিনা দ্বিধায় ---
মন্বন্তর থেকে ছিয়াত্তরতম স্বাধীনতা
ফুল এপিসোডে ফারাক অবশ্যই
ক্ষুধা মানুষ খেয়েছিল আর আজ রাজনীতি জীবন।

হোক না খোলা সব পতাকা
একবার তোমার মুখে হাসি দেখে যাই প্রিয়তমা ,
লিখা হোক যত মহাসভা সংবিধান 
উড়ুক যত ধর্ম পতাকা 
শিকল ভাঙ্গবে স্বদেশ আমার ।

৬) নীল দরিয়ার মাঝি 

কতিপয় শব্দের যুগলবন্দী 
ক্লিটোরিসের উপর সন্ধ্যার অন্তরালে 
কালিমাখা লন্ঠন জ্বলতো ধীরে ধীরে।

আজও আকাশটা কয়লার মতো কালো হয়ে আসে
অথচ সে মেঘ থেকে একফোঁটা বৃষ্টি হয়না
মাধবীলতারা বৃষ্টিতে করেনা আনন্দ স্নান,
অণুপরমাণুতে বিভক্ত হয়ে যাওয়া পৃথিবী
পরেছে ভিন্ন রং এর জামা
তবু সম্প্রীতি আর সম্পর্কের বাতাস করে শুধু হাহাকার।
ছাদহীন ফুটপাতে আমিও দাঁড়ানো
ক্রমশ ঢুকে যাচ্ছি তাপহীন এক লাভায়-

রাস্তায় পথ খোঁজা হয়রান 
অম্লজান বায়ুহীন ফুসফুস কম্পাসদৃষ্টি মেলে তাকাতেই-
আমার চোখ থেকে নির্গত ব্রিজের সুতা ছিঁড়ে গেল।
এই দেখ আমি হাত ধুয়ে ফেলেছি
এবার আমি সবচেয়ে জমকালো পোশাকটা পরে
জনতার দরবারে যাব
গোধূলীর অন্তর্বাসে হুঁকো টেনে যথার্থ উপলব্ধি আসে 
মৃত্যু নেই কবির অথবা প্রেমের ।

৭) জলভসকা

সুখ-সমৃদ্ধি-উন্নতি হারিয়ে
তিনভাগ জল মাঝে ডুবে যায় দালান-গাড়ী
খোঁজে একটুকরো শুকনো পাতা
বাঁচার অন্বেষা।
আশ্রয় হারিয়ে দূরত্ব বাড়ে ----
সবুজ নৈঃশব্দ্য তার তৈলচিত্র
জলতলা শেওলার ভেতর অস্থির প্রহর কাটায়
কর্পোরেশন নর্দমায়।

তিলোত্তমা শহর বলো আর গ্রাম বরাক
দখলে তার পার্ক,চেনা-অচেনা গলি, রাজপথ, ট্রাফিক পয়েন্ট, যত মল, বক্তৃতা মঞ্চ।
জঠরে ভরা যত শব ধ্বনিত হয়
ক্ষুধা - তৃষ্ণার আর্তনাদে 
প্রাণভিক্ষার আবেদন।

বন্যা - হয়েছ এক বিভীষিকা
চোখে ঘুম হারিয়ে।

৮) নেপথ্য 

তার অপেক্ষায় আছি 
যেখানে কার্বনশ্বাস নিতে হয় আমার
বিষধর ভাইপার, সোনালী বালির ভেতরে ক্রমশ ডুবে যাচ্ছে
লুকিয়ে আছে সুপ্ত বাসনা।

পূর্ণতা খোঁজে জিওনার্দো ব্রুনো কিংবা লোরকার মতো
ছিঁড়ে কুচি কুচি করাই দস্তুর-
রীতিমতো গণতান্ত্রিক হওয়ায় মৌলিক অধিকারও
এরোপ্লেন বানিয়ে উড়িয়ে দেওয়া নেপথ্য।

একটা কলসি তার উদরে দাবিদাওয়া তুলে ধরে
কেউ মরে গেলে নীরবতায়,
শোকহীন এক সভ্যতা হাসিল করেছে
জ্যান্ত পুঁতে দেওয়া দস্তাবেজ।

৯) আবার বৃষ্টি নেমেছে এ শহরে

আবার বৃষ্টি এসেছে নেমে
আমার ব্যস্ত শহরের বুকে
আমি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছি
হাত বাড়িয়ে মেখে নিচ্ছি
জলকণার ভিজে ভাব
মুখ খুলে জিভে টানি তার স্বাদ
কেমন আছো, কি করছো
সবই কেমন যেন আবছা
বাইরে এখন ব্যাস্ততার কোলাহল
কিছুটা নৈরাশ্য হয়ে পড়েছে,
চাপা হতাশায়,
মুখ ঘুরিয়ে
উঠতে গিয়ে দেখি,
ঘোলাটে পৃথিবী,
তার উষ্ণতার ঠোঁটে
চুম্বন করছে,
আমার
অন্তর্নিহিত
ব্যথার বেদনাকে..

১০) কবিতা'র শ্বাস প্রশ্বাস 

একটি গাছ যেখানে বাসা বাঁধে
রোজকার পৃথিবীর হাসি জাগানো ডকুমেন্টারি 
নাভীমূল ছেঁড়া পাতা তার ডাল কতনা
যাপনকথা
দুঃখ নেই কার কার
পিলসুজটাকে যদি দেখি।

সন্ধ্যা শহরে কত নির্জনে বাসা বাঁধে
ভোররাতে ঠোঁটে ছাপ ছেড়ে চলে যায় পাখিরাও।

শূণ্যতা পূরণ, সে তো
খালি বাক্সে সঠিক শব্দ ব্যবহার নয়
সেখানে মিশে থাকে দ্রোহ, ক্ষোভ, অভিমান 
আর কবিতা, কয়েকটি প্রাণের শ্বাস ফেলার জায়গা।

কবি'রা আসে স্নান করে, ঘুমোয়
দ্রোহবীজ পোতে আবার গাছ হয়
বাসা বাঁধে, শ্বাস নেয়
যন্ত্রণা ভুলা কয়েকটা মানুষ।

১১) রেসকোর্সের ঘোড়া

তুমি সুন্দর, তোমায় শারীরিক
বসন্তের কামে আলুথালু
ফুলদের পাশে শুয়ে শুয়ে দেখে যাচ্ছি।

কথা কমছে, শ্বাস বাড়ছেই
মাথাভর্তি যেন চুল নয়,
কচি ধানক্ষেত
আঙুল ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে খুব হচ্ছে।
রেসকোর্সের ঘোড়া যেন এক
এসে সামনেই নত, বলছে—
আর কিছু নয়, দিগ্বিজয় নয়
চাই তোমাকেই, হৃদয় টলছে।
ধরছ না, হায়, এমন তপ্ত
গলিত লোহা এ
আগ্নেয়মুখে অগ্নিস্নানে লাল…

প্রেম নাকি পাপ
কটেজের রাত মুছে দিচ্ছে এ সমস্তই।
মনে পড়ছে না সেই ব্যথাদেরও যারা
প্রশমিত হতে পারে নাই।
ওই বাহুডাল যেন রাস্তাই,
দুর্ঘটনার নেই শঙ্কাও।
ফোঁটা বৃষ্টির মতো রোমকূপ জুড়ে কম্পন,
তুমি কাঁপছ, কী যে টের পাই!
স্তনবৃন্ত এত ভালো লাগে যেন সমতলে
অমসৃণ গোল ভূমি আর সামান্য ঝোপঝাড়
নাকে ঘষছি।

১২) সিনোটাফ

আমি তোমাকে আরো ভালোবাসি
মাংস এবং হাড়ের চেয়ে, শুধুমাত্র সত্য বলে
আমাতে তোমার আকৃতি খোঁজে পেয়ে 
আর যদি বলি, ভালোবাসি বল, 
ভালোবাসি তোমার মুখ,
পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত 
আড়ালে যে তোমার চোখ ছুঁয়ে যায়
প্রেমের প্রদীপ হয়ে!
আর আমার
আসলে কোন চোখ নেই আছে দুটো জোনাকির আলো
খোঁজে পায় নিঃশর্ত গহীন হৃদয়ে।


 আমার ভেতরে যা আছে ভালোবাসা 
 তোমার হাসি, এবং তোমাকে ধরে রাখা
 সেই প্রিয় অংশের কাছাকাছি থাকতে
হাতড়ে বেড়াই ক্যানভাসের ছবি হয়ে।

সিনোটাফে
আমার প্রতিদিনের প্রয়োজন, তুমি 
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত।
যেন তুমি 
ফিলিস্তিন থেকে কাশ্মীর, আথের জিয়া থেকে মাহমুদ দারবিশ  
দুনিয়া শরীরী আকর্ষণ – এইখানে।

১৩) কবিতা এবং শূন্য থেকে মহাবিশ্ব

দেখলেই কি আর সব দেখা হয়ে যায়
রয়েছে আকাশগঙ্গা থেকে পৃথিবীর সঙ্গম পথ
 তুমি কে । অপহরণ কবিতা
 নাকি র‌্যাঁবো, সে এক বিশাল ইতিহাস।

এখানে যখন সূর্য ক্লান্ত হয়
বদলেয়ার,মাতিস সবুজ রেস্তোরাঁয় গড়ে
কবিতার নকশা ;
শুধু আমি টক্সিন প্রেমে, চলি 
নরকে ঋতু পর্যবেক্ষণ।
সাম্রাজ্যিক ইন্দ্রজালে
কবিতারা ও জানে
'হিউম্যান ল্যান্ডস্কেপ ফ্রম মাই কান্ট্রি'।

১৪) হাফলং এ প্রশ্ন করা এক বনসাই বৃক্ষ 

আসলে এই গোলকটা প্লুটোনিয়াম ঘেঁষা
ব্যালকোনির শোভা বর্ধনে ঠিক বিশাল বট বৃক্ষের বনসাইয়ের মতো। টবে বার্ধক্য রোধে করণীয় কি সে বিষয়ে
এখন রীতিমতো অনুসন্ধান চলছে তার, গবেষণাগারে
জন্মপত্র থাকলে বয়স হয়তো পাহাড়ের আয়তন ও ঝাটিংগার জল্পনা ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতো !

হিলিয়াম ভরে দেওয়া স্তন পড়ে থাক আ'ম-মানুষে…
গাছ উড়ে যায় বনসাই হয়ে 
বৃদ্ধ হয়
এপাশে ভ্যাম্পায়ার ওদিকে ড্রাকুলা
তাদের পাশ ঘেঁষে দজ্জাল 
তৃতীয় চক্ষু-স্ফুরণে বিশ্বাস জন্মায়
আমিই খোদা!

নীরব দ্রোহে কাল্পনিক প্রেমিকারা —
তারা মাঝে মাঝে উপস্থিতি ফেলে যায়
আমার পাশে ছোট রেস্তোরাঁর টেবিলে
আর মলিন এন্টারটেইনার বনসাই বৃক্ষ
মোলায়েজের গানে দূরের পৃথিবীতে ডুবে গেছে
শুধু তার পাওনা ছিল পাহাড় কে জড়িয়ে ধরবার।

১৫) নীলজলে নৌকা 

তোমার কোমল মুগ্ধতা
সকালের সোনা রোদের মতো 
এটি চায় কাছে এসে জড়াতে, এক অদ্ভুত ইশারায়
জানালা খুলে দেই সেই মুগ্ধতা আরও ভেসে আসে 
স্প্যানিশ গিটারের ক্লাসিক্যাল হয়ে।

যেন মনোযোগ আকর্ষণ করা তোমার
বিমূর্ত শিল্পের বাস্তবতায় মূর্ত আকাঙ্খা,
শেষ থেকে শেষ পর্যন্ত ঠোঁটে হাসি
বিকেলে সূর্য, বইপড়া, একটি অবিশ্বাস্য কথোপকথন 
এবং প্রচুর হাসি একটি কৌতূহলী শিশুর চোখ
কল্পনার ইচ্ছেডানা আলগে রেখে
তুমি যা চাও, তা উন্মুক্ত হওয়ার স্বাধীনতা।

তোমার নীলজলে আমার নৌকা
ডোবাবো কীভাবে, গভীর শ্বাস ফেলে খোঁজে পাই শরীরী মানচিত্র,
কমে আসে ওষ্ঠের দূরত্ব
পড়ে থাকে শুধু পরিভাষাহীন
মৃগতৃষ্ণায় নগ্ন বুক।

১৬) বেঁচে থাকা ফ্লুরোসেন্ট রোদে

পৃথিবীর বুকে এতো হাঁটাহাঁটি করেও
একটু ঘুমোনোর জায়গায় মধ্যাকর্ষণে ঝুলে যাই
তবুও সেখানে আমার শরীরটা ছেড়ে দিতে সাধ হয়
যেখানে সামান্য সেঁকা রুটি অবশিষ্ট ছিলো।

মতবাদ দিওনা বন্ধু এখানে নৈঃশব্দ্য, হিরোশিমার জেনেটিক্যাল ফিউশন। তবু পৃথিবীর মুখ নিঃসঙ্গ ব্ল্যাকহোলে টাইট্রন থেকে প্রক্সিমা পর্যন্ত  জীবনানন্দ কলিং বাজায় ইস্কাপনের রাজা। আর দেরি হলে প্রাচীরের অর্থহীন অবরোধে লিখা হবে ইতিহাস তোমার! পৃথিবীর প্রাক্তনভাগে আমরা বেঁচে ছিলাম ক্ষুধায়। আবার লিখা হবে নয়াগণতন্ত্র।

১৭) ভায়া অনুভব

প্রতিটা ভোরের জন্মলগ্নে একরাশ আশা ডানা মেলে
পুরোনো ঝেড়ে লোনা জলের তিক্ততা মুছে
চেয়েছিল বিধ্বস্ত অবহেলার বুকে আসবে,
বিভাজন ভেঙ্গে প্রেম-আনন্দ জিহ্বায় স্বাদ অনুভবে-----
শৈল্পিক সাজে পরিত্যক্ত কাঁটাতার!

অবশেষে সত‍্যটা জানলাম।
সুখপাঠ‍্যের মালা- জপা রোদপোড়া দিনগুলো
অন্ধকারে জাহাজ ডুবানো প্ল্যানে,
আর, ঐযে সবুজের সমারোহে
ক‍্যান ভর্তি অক্সিজেন ও হীনবীর্যে
ভাগ্যে পুনরাবৃত্তি মল আর মলের শোধন।

১৮) একটি আলোক এবং আমি

পৃথিবীটা...জীবের কাছে,
ঠিকানা-বিহীন ঠিকানা!
তবুও ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়
একটা অভিলাষা কবিতার দেহে।
সে ক্ষত বিক্ষত, উষ্ণ সম্ভোগে নয় 
জমাট আধাঁরে বেড়ে ওঠা প্রগাঢ় আর্তনাদে।

এটা আসলে সাঁঝের নির্বিকার প্রদীপ 
বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়া
ব্যাবলিনের শূন্য মাজারে।
বুক চিরা স্বাধীনতা, নীতির দুর্নীতিতে
মাউথ অর্গান, রবীন্দ্র সংগীত বাদ দিয়ে
সঙ্গম সভায় ভাষণ দেয়
চে গুয়েভার বলিভিয়ার রাজপথে।
তবুও পরজীবীরা ক্ষুধার্ত অট্টালিকার 
 ফিসফিস হয়ে ওঠে
অপূর্ণতার প্লাবিত প্রেমে।
আর সরাইখানা পরস্পরের বুকে টানছে
শর্তহীন দ্রাঘিমা রেখা।

১৯) দীর্ঘশ্বাস

সত্য আজ একটা অপ্রীয় 
গোপনীয়তা প্রকাশ কাল কিছু বন্ধুদের কাছে
 যদিও সত্যটা ছিল উন্মুক্ত আকাশে মুক্ত হবার
হাতে হাত বাড়িয়ে দিন বদলাবার, কিন্তু
কোমল গ্রীবায় ভালোবাসা ছেড়ে জড়িয়েছে চাবুক,

 অনুভূতিতে আচ্ছন্ন সমাজ-সংসার রসাতলে
আপোষহীন তাপমাত্রা মাপছে গৃহত্যাগী জোৎস্না
 যে আমি কিছু ভুল করেছি!

  কথা কম করে দেখুন যতই মুখ বন্ধ রাখবে
 ততই ভালো হয়
 কিন্তু আমি তাও করতে পারি
 আমি মাইন স্থাপন করছি
 আমার পথে
 আমি তাদের উপর পা রেখে -- চাই
 বিস্ফোরণ
এবং
 আমি একটি বিন্দু পর্যন্ত পৌঁছতে চাই
 যেখানে আমার জন্য কোন প্রত্যাবর্তন নেই।

এমন একটি বিন্দু যেখান থেকে বের হওয়ার কোন পথ নেই
এই পৃথিবী দেখতে
 যোদ্ধাদের জন্য
 শক্তিশালী মানুষের জন্য
 ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন মানুষের জন্য
 আমি তাদের একজন নই,
 আমি দুর্বল
 আমি কাপুরুষ
 তাই প্রত্যেক কাপুরুষ যা করে আমি তাই করতে যাচ্ছি
 এক সহজ উপায়ে!

২০) আমি সরে যাই

কি সেই আওয়াজটা আবার অন্ধকারে ভেসে এলো?
 আলোর এই গোলকধাঁধাটা কি আমাদের ছেড়ে দেয় ?
গোধূলির পড়ন্ত রবিটার মতো!
 আমরা কি এই অবস্থান গ্রহণ করি,
 মুখ ফিরিয়ে নিয়ে তারপর ফিরে যেতে?
 আমরা কি শুনলাম?
 আমরা যখন প্রথম দেখা করি তখন আমরা সেই নিঃশ্বাস নিয়েছিলাম।
 শুনছো। এটা এখানে....!

২১) মানুষের পৃথিবী টা

মানুষের পৃথিবীটা আস্ত একটা যৌনখানা
ন্যাংটো হয়ে যেই বিছানাটা নাচতে শুরু করলো
ফরমান এলো
মানচিত্রের কাঁধের কাছ থেকে আড়াই কেজি মাংস কেটে নেয়া হবে
অবাক হবেন না।

শুকনো জিহ্বা কত টানবে উপচে পড়া ব্লাউজের রস
রয়েল-বেঙ্গল টা ন‍্যাশনেল পার্কে
স্বপ্ন বিহারে বিভোর
আর্য-শ্লোকের বর্জ‍্য চিৎকারে
থালায় প্রসাদ, চেষ্টায় ঘুম ভাঙানো।

২২) পরকীয়া

ক্ষণে ক্ষণে তীব্র প্রতিক্রিয়া
এক আকারে সঞ্চিত পুঁজি মোহনবাগানে
ঢেউ খেলে অতৃপ্ত চাহনি,
আশার পূর্ণ কিরণে নৈরাশ্য ঝড়ে
ভোগের অংশটি হাতছাড়া।
অদৃশ্যের চাওয়াটা অন‍্যরকম হাঁটে
সড়কের ঠিক মাঝখানে
মনে হয় অম্লান কামনা মহীরুহ মেহগনি ছায়া ফেলে
তোমার আমার পথে,
ব‍্যবহৃত শরীর টা দুজনার,শরমে-সংকোচে
সামাজিক মুখ তোমার আঁচলে ডেকে
দেখিনা তো কোনো ভুল তাতে----
তবু কেন সম্মুখীন প্রশ্নবোধকে?
জীবনের মরণপারে আমি আর প্রেম
মিলে যাই পারাবারে।

২৩) কামনার দংগোল

মধ‍্য রাত্রি.....
তা ও শান্তি জুটলো না,
বসে ছিলাম কাগজের পাশে
ভাবছিলাম কয়েকটি পরিচিত শব্দ জোড়ো করে
সারিতে সাজাবো,
নিঃশব্দ......
হঠাৎ নগ্ন ব্রা'টা কাঁধে, শিউরে উঠি
দেখি দুলে ওঠা জোড়া স্তনের উপচে পড়া প্রদর্শন
আর তার চূড়ায় পিকাসোয়ী কারুকার্য;
ধীরে ধীরে সুপ্ত রাক্ষস জাগ্রতের পথে।

আলগা হয়ে যাওয়া বসনখানি শরমে........
নগ্ন কটিদেশে তোমার নিক্কণে,
নিঃশ্বাসে বেড়ে যাওয়া উষ্ণতা
বেপরোয়া,পরিচয় ভুলে পরিণত অন্য রূপে
কামনার দংগোলে নগ্ন শরীরে
জাগ্রত প্রশ্রবন ডাকছে মাতাল বেসে
তৈরী সে তীক্ষ্ম বর্শার আঘাত সইতে
দীর্ঘ পরিশ্রম ঝরা ঘামে, আনন্দ আর আনন্দ
সর্পিল বাঁধনে আমায় বাঁধো তুমি কাম রঙে।।

২৪) পঁচা হৃৎপিণ্ডের মিলনায়তন

বিলাস প্রাসাদে আজ কাপুরুষ মেলা
নিত‍্য নতুন ছোরা, নাম সভ‍্যতা !
দিকে দিকে ছিটা রক্তের জখম;
শুকছে নষ্ট শকুন, স্বাধীনতা হরণ
পঁচা হৃৎপিণ্ডের মিলনায়তন---
বোকারা পুড়ছে, দ‍্যাখ্
স্মিতহাস‍্য শয়তানের মুখ, ওরে ঐ নির্বোধ।

থাক্..... থাক যতসব আঁচলে বাঁধা
মরুক না ওরা, কাজ টা পদলেহা;
লোহিতে মিশুক নিষ্পাপ লাল কণা,
চিহ্নহীন গোরে-----
এ-সভ‍্যতা, সূচনায় নতুন যুগ আবিষ্কার মূহুর্তে!

২৫) ভেতরের কন্ঠে

আত্মহত্যার আগে অপেরা শোনালে ভালো লাগবে আমার
আমি রবীন্দ্র সংগীত শুনেছি সাথে নজরুল ও
আর কবিতা.....
একটু হলেও শুনবো "আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে"
বাকি রাখিনি শক্তি থেকে সুনীল
তৃষ্ণাটা মেটতো,কিন্তু------
মানুষ সঙ্গমের সময় 'ভালোবাসি' শব্দটা বেশী বলে,
এর মতই।
ঘুরে আসুন গণতন্ত্র---
হিউম‍্যানিটি মিথ্যার ভিড়ে,লেট মি ফাক্।

মানুষগুলো এই গোলকের ভিতর
উচ্ছিষ্ট পাহাড়ের ঢলের মতো,
থিয়েটারে ন‍্যাংটো আদম-ইভ ফুল মুভি
ঠিক মূহুর্ত অবিকল শ্রীজাতের 'অভিশাপ'
ক্ষুধা নিবৃত্তি,
চলমান সংঘর্ষ সেই ট্রেডিশনে
আরও অপরিপক্ক মস্তিষ্ক জন্মালো।
শ্বাসরোধ সফলতা রক্তবমিতে ইষ্টিশন।

২৬) সিঁধ

ফিরে এসে দেখি জমাট বেঁধেছে
অজস্র ভুলের অভিজ্ঞতা;
নীড় ভাঙা প্রজাপতিরা বাৎসল‍্য রোদে পোড়া,
মিছিলের স্মরণ সভায়
বরফ গলে গলে অসুস্থ সূর্য চলে যাচ্ছে
সিঁধ কাটা ঘরে। আর,
রক্তের সাথে ভূমি--বুলেটের মিলনে
নতুন কিছু দুর্বল জীবনের উৎপত্তি,
নগরের সুইসাইড স্কোয়াডে স্বৈরশাসক
বিলোনিয়া বর্ডারে সহবাসের তাস খেলে------
অহংকার উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে বিশ্বাসী অন্ধকার
সম্পাদক ও কবি একপাতে ভাত খাচ্ছে।

ওদের জানা নেই
বই কিভাবে খোলে রোদে দিতে হয়,
বাক-ধ্বনির ব‍্যলান্স টা ওরা জানে
বেমালুম এসিড-পাঞ্জাব চালে,
কিন্তু.....
লেকচারের ঘনিষ্ঠ ধনুকে
প্রতিশ্রুতি শব্দগুলো তিরবিদ্ধ।

২৭) চুক্তি

আমাদের তো প্রেমিক হবার কথা ছিল।
আমাদের কথা ছিল না মূল,কান্ড,শাখা-প্রশাখা পেরিয়ে যাবার---
অনেক পথ হেঁটে মৌলবাদে যাত্রা করবার!
আমাদের তো কথাই ছিল
ডানা মেলবার।

সেই কবে এলাম,দেখছি---
হে উদাসীন,হে প্রিয়তম,প্রিয়তমাগণ,
হে দম্ভ,আর কত!
আর কত কথা না রাখবার,কাজ না করবার কথা!
ভাবতে ভাবতে, নিজেকে বলি---
ভালোই তো ছিলে, মরতে গেলে কেনো?
শ‍্যাম্পেনের চুমুকে উপচে পড়া স্তনের নৃত‍্য
ফেরারি'র নৈশ ভোজনে।
তুমিও পাবে !

২৮) রোজনামচা

পৃথিবীর ক্লান্ত পথে ব‍্যর্থতার ভীড়ে
দলাদলির অন্ধকার জোৎস্নার মুখ
হলদেটে রুদ্দুরের ছায়াপথে
খোদ্দের খোঁজে ।
ঘুনপোকের সহবাসের নিঃশব্দ শিৎকারে
আর শিরোনামের ভালোবাসা আবেশে
মিশে যায় ক্লেদাক্ত ভুঁইফোড়া গন্ধ।

অবিধান হাঁপিয়ে ওঠে ভ্রষ্টের সমবাহু সংলাপে
রোজনামচায় অসংখ্য ভক্তদের ভীড়ে
পীরাকি দেখায় বিষাক্ত বিষে।

২৯) ধূসর শহর

মিলনের গানে শুধু উপেক্ষিত;
ক্ষুধা আর প্লাবনের ঢেউ নিশীথ বিকট ছায়ায়
লোলুপ আমন্ত্রন, সংশয়ে.....
সমৃদ্ধ ইতিহাস মাকড়সা ঝালে।

সত্যিই, মানুষগুলো বড়ই আলোড়িত করে আমায়।
নৈরাশ‍্যের বাজারে ওরা----
মানুষ রুপী খেকো;
মৃত ভালোবাসা পরিযায়ী বুকে।
মধুবনে মদের যজ্ঞ---
আমি চিৎকার করে বলছি এই ধূসর শহরে
ঝুলন্ত গ্রহগুলো,
বিশ্বাসের পিঠে হৃদয় হন্তা।

৩০) এক ঝাঁক মিথ‍্যার মুক্ত বিচরণে

অজস্র নীতিমালার প্রেক্ষাপটে এক দুরভিসন্ধি,
সুরাহার সন্ধানে বিমূর্ত প্রতিমা
তপ্ত রক্ত খোঁজে লোকালয়ে,
রাজধানীর খেকোগুলো আরেক ভঙ্গিমায়
হামাগুড়ি দিয়ে পাড়ি দেয় মফস্বলে।
ক‍্যনভাসে পুরাতন রবে দলবদ্ধ যৌবন ভাঙছে আশ্বাসের মিউজিয়াম
পুড়ছে যত হরিৎ ইতিহাস,আর
ভালোবাসার শান্তনা দাউদাউ করে---
সিগারেটের মতো ক্রমশ ছোট হওয়া সংক্ষিপ্ত জীবনটা
পঁচা স্বপ্নগুলোর শোকের অগ্নুৎপাতে ভস্ম।

৩১) যাও, তাকে ডাক দাও

যাও, তাকে ডাক দাও---
অনেক শুনেছে
এবং এসে দেখে যাক একবার ঐ ঘুমন্ত শহরকে,
যেখানে অজস্র ভিখিরি আর ভিখিরি......
ওরা নির্মম ---
ক্রংক্রিটের দেয়ালে প্রাইমার ঘষে ছলনার মিশ্রণে।
ওরা অভিজ্ঞ!---
মূহুর্তে আবেগ কে জয় করে শিল্পের নিয়মে।
ওরা রবিন হুড---
বারুদ নিয়ে খেলে যৌবন প্রশিক্ষণ শিবিরে।
ওরা ধার্মিক---
নিমেষে গুটি হাটায় তোমার আমার মাঝে।

যাও.... তাকে ডাক দাও
একবার দেখে যাক ঘুমন্ত শহরকে।

৩২) আমাদের গ্রাম

চেন এই সুজলা সুফলা ধরা
স্নিগ্ধ পরশতা, অমল মূরতি যেথা
গাঙ চিল কুয়াশার দেশ,
লক্ষীপেঁচার ডাক, কাক ভোরে ঘাসে ভেজা নূপুরের হাক,
শুনেছো কাঠটুকরির বেলগাছে কান্না
বা জীবনানন্দের কবিতার মতো---- ধানসিঁড়ির
সেই নৌকা যার পাল ছেঁড়া !
ছিল এক দিঘিতে জল খাওয়া
দশমী তে সলমনের ঘরে মদ ফিরনি আর গলাগলি করা
ঠিক বিপরীতে  পার্টি হতো
অর্জুনের ঘরে ঈদের সে.....টা।

সেই কবের কথা..... আজ বেমানান
আজ একদল পুবে মুতে আর একদল পশ্চিমে,
ঈশ্বর প্রাপ্তিতে মন্দিরের চূড়া ভাঙে
মসজিদে মাইকের শব্দে !

হারিয়ে গেছে বিকেলের চা-য়ের আড্ডা।

৩৩) হোক কবিতা

বাতাসে ভুঁইফোড়া গন্ধ
ঢেউ বাতাস জল কাদায় মূর্তি গড়ি স্থবির,
শকুনিরা হাসে ধর্মের ঘরে তালা মেরে।
এ শহর কবির নয়, নয় কোন বীর একাদশের
এ শহর বর্বর ধর্মান্ধদের।

নিঝুম রাত্তিরে তার কানে কানে
জানিয়ে দেয় -----
শীতকালীন দূরত্ব শহরে নেমে এসেছে
প্রতি সন্ধ্যায়;
ধূসর রাস্তায়
খোলা কন্ডমের বার্তায়।
এরসঙ্গে মিশে গেছে অহেতুক ভয়
সর্বত্র আগুন জ্বলছে;
ব‍্যস্ত
অপুষ্টির কঙ্কালেরা বানিজ‍্যে দেবতারে নিয়ে
গলে পড়ে যাচ্ছে প্রাচীন স্থাপত্য;
শহুরে কুকুরদের দাপটে
ঠকবাজ সব মক্কা বারানসী
সুটকানো স্তনে কস্তুরী লেপে!
তাই ঘোষণা একটাই
মৃত ঈশ্বর বলে।

৩৪) ফুসফুস
       (গল্প কবিতা)

যার হৃদয় নেই তার ভালোবাটাও দুর্জয় সন্ত্রাসে। আসলে হৃদয়টা মানে দিশেহারা পাগলামি, অনুরাগ, স্তুতিপাঠ। যারা, দেহে হৃদয়ের মুক্ত বাতাস মানে ভাবে বিবর। আমার হৃদয় রাত্রি অমানিশায় লুকিয়ে থাকা চাঁদ। হৃদয় মানে আলগে যাওয়া প্রতিটা জোড়া। উদারতার সাজসজ্জায় কাঁটা ফোঁটানোর ছোট্ট প্রয়াস।অন্ধকার আর মাকড়সার জাল। হৃদয়হীন যৌনতা। শুধু মানসিক সান্ত্বনা। মনুষ্যত্বটাও ওর উপর ভরম্ভর। তবে আজকাল আর ছাইপোঁকার মধ্যে।

একবার ভেবে দেখ ঐ আশেপাশে। না সুদূর আসমুদ্র হিমালয় পারে। স্বর্গের বিচরিত নন্দন কাননে শয়তানের আশ্রয় স্থান। নরকের ভয়ে খুঁজে দেখ নিজে কয়গজ নীচে। টিপে দিচ্ছে গলাটাও রঙিন স্বপ্নের বাসর রাতে, কালো চুলের কালো স্বপ্নে।

তুঁই তো রাজা নস্? তবে কেন? কেন,
হা করে গিলে খাস তার মাংস। এই হৃদয়টা ও তোর নয়। আছে শুধু ফুসফুস। শুন্ মাঝে মাঝে ডাক্তার দেখাস্ ঐ জীবন্ত হাসপাতালে।

৩৫) একাকীত্বের নিদারুণ আর্তনাদ

এ জীবন ফুরিয়ে অচিরেই
ঝরে যাবে আশার সঞ্চার বাণী অশ্রু জলে
সিক্ত হয়ে পড়ন্ত বিকেলে,
আধম‍রা ভালোবাসাগুলোও
হৈমন্তিক রস শুষে কঙ্কাল প্রায়
নিরেট বরফ, ঐ আদিম কালের।

আলোর শেষ বিন্দুটাকেও অভিলাষী মন
চেয়ে ছিল বেশি নাহলেও----
কম সোহাগ দেবে
বুকের উর্বর জমিতে পুঁতে রাখা জীবন কে,
কিন্তু কৈ, পাঁজরে ধমনী ছেড়া শব্দে
শিরায় শিরায় বাজছে
একাকীত্বের নিদারুণ আর্তনাদ।

৩৬) তৃতীয় শ্রেণীর এক আমি

তৃতীয় শ্রেণীর জীবন,কুকুরের মত কুন্ডলী পাকিয়ে শুয়ে থাকি ছানাপোনা নিয়ে।নিজেই বানিয়েছি নিজের নিয়ম।রোজ রোজ ফলের দোকানে ঢু মেরে আসি,আরেকটু কম দাম হলেই কিনে আনব পোয়া খানেক আঙ্গুর বা কোন প্রিয় ফল।প্রেমিকা ছিল সুচরিতা সেন,বিভোর ছিল মন সঙ্গম স্বপ্নে।বিকিয়েছিলাম আমি তারে হৃদয়।
পাইনি তারে তবু কি হয়েছে?রাহেলা বেগম তো বউ হয়েছে হাসিমুখে সব মেনে নিয়ে।বিছানায় শুধু গদি আটা নেই।কঠিন তক্তপোষে শুয়ে তবু সুখটান দেই।
পুঁটি মাছের ঘ্রান আসে রান্নাঘর থেকে।জুতোর সুকতলি খুইয়ে জুটিয়েছি তবু মাস ইনকাম।বাবার জমি বেচা টাকায় ডিগ্রিও জুটিয়েছি তিনখান।
গুমোট জানালাহীন ঘরে তৃতীয় শ্রেণীর জীবন।
মাইনেটা বাড়লেই একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নেব।তিন রুমের।রাহেলাকে কথা দিয়েছি।ওর ফোলা ফোলা গালে এখন আন্দামান নিকোবর এর মত মেসতার দাগ।আমি বোধহয় বুড়িয়েছি কিছুটা।ছেলেটার অসুখ করেছে খুব,ডাক্তার দেখাতে হবে,,সেও এক রকম টাকার খেলা খুব।বাবার ভিটেটা এবার বেচেই দেব।
কন্যাটাকে সামনের বছর এ স্কুল ছাড়িয়ে সস্তা কোন
স্কুলে দেব,খরচ কমে যাবে বেশ।
তবু রাস্তার মোড়ে ভিক্ষুককে দেখে আমি মনে মনে আত্মপ্রসাদ লাভ করি,,,আমি ওর চে তবু ভাল আছি।

৩৭) ক‍্যাসান্দ্রা

রাফখাতায় পড়ন্ত বিকেলের মতো খশে পড়ছে অশৃঙ্খল শব্দগুলো
ইস্তাহার-ম‍্যেমোরেণ্ডামে শুধু দিচ্ছে মিছিল
পরিবর্তন করে রাজসাক্ষী নতুন ইতিহাসে,
কারাগারে পুলিশ রাজপথে নেতারা ধর্ণায় অজুহাত,
বহুগামিতার কারণে, উচ্ছৃঙ্খলতার কারণে
একের পর এক গড়ছে পতিতাপল্লি রাষ্ট্রের বুকে।

আমার সুইসাইড নোটে থাকবে রাষ্ট্র তথা সেইসব ছেলে মেয়েদের কথা
মানসিক বিকারগ্রস্তদের কথা, যারা লুটছে-----
পীড়নের দায়ে ফাঁসির দাবি জানাই !

৩৮) ঈশ্বরের মৃত্যু হয়েছে ----

যুগে যুগে ঈশ্বর জন্মায়
কালের বেলায় ওবেলায় আবার মরে যায়
দরিদ্র মানুষের ঘরে কিবা ক্ষুধার্তের ভাত ভাত শব্দ ফায়ারে
সোমালিয়া, আফগান,আরাকান কিবা সুদানের গলিতে
মরতে দেখেছি কত ঈশ্বরকে
রক্তে ঐশ্বী বাণী নিয়ে দাঙ্গার কোন রাতে যুদ্ধের হুংকারে।

মন্দির, মসজিদ, প‍্যাগোডায় কত মরেছে ঈশ্বর
কিম,স‍্যুকি,বাগদাদি রা এখন ইয়ার
ঈশ্বর তো সম্পদ কিবা পুঁজির হাতিয়ার !!
আজ মরে গেছে
মমি হয়ে মৃত মিশরের পিরামিডে,হেরা-শাবরিমালায়

নীল নদ , টাইগ্রীস,সাঙ্গু,নাফ নদীর তীরে
কত ভেসেছে, দেখেছি
মৃত মায়ের স্তন টানছে ফুটপাতে
ক্ষুধার্ত ঐ শিশুটি
দেখেছি লাশের স্তুপে মাছির সাথে
শেষ মৃত্যু পাঞ্জা লড়তে !!

আমিও পাল্টাতে চাই---
ক্ষুধা থেকে বড় ধ‍র্ম আর অন্ন থেকে বড় ঈশ্বর থাকলে।

৩৯) নীরবতার ক‍্যালিগ্রাফি

ওই শ্রাবন্তীর স্বর্গোদ‍্যানে
এখন উঁকুনদের বাস।হারিয়ে গেছে বেহিসেবি উতল বাতাস,
নির্ভেজাল জল,বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত,
মেঘমালার নির্জর সঙ্গীত,
নিঃসঙ্গ গলি আজকাল এক একটা বিস্ফোরিত রাজপথ।
মহামান্য রাষ্ট্র--
উঁচু করে রাখা ঐ কবিদের মাথার দাম কত!!?
যেগুলোর উলুধ্বনি.... শঙ্খধ্বনি শুনে
গণতন্ত্রের কথা বলে একনায়কেরা।

ভাঙা টেবিলে
শতাব্দীর শেষ প্রান্তে
দেহ থেকে ভেসে আসা নাভিকাটা আর্তনাদ
শুধু খব‍রের কাগজে হেডলাইন।

চিলেকোঠায় পুরোনো পোশাক
কুচকুচে কালো আঁধারে,
রাম রহিমরা মৌলবাদের জিগির তোলে
---ঐ শহরে, বন‍্যা আসছে
গোড়ালি ফাঁটা রক্তক্ষরণে লাল হয়ে।

৪০) নাট‍্যশালার গ্রীনরুম থেকে

এবং তাদের হত্যা করা হল
ব‍্যস্ততার ভীড়ে,
অত‍্যন্ত দক্ষতার সাথে প‍্যাঁচানো ইন্দ্রজালে
মেয়াদ ভিত্তিক লাইসেন্স পেয়ে কসাইরা---
অবৈধ ক্ষমতার সুফলে
উলঙ্গ চোখে অন্ধ কানুন হ‍্যালোজেন হাতে,আজও!!

রক্তে ভাসছে আমার দেশের আঙিনা
এসেছিলাম ফিরে যাচ্ছি
বুলেটের চেয়ে মুখোশ ভয়ংকর
কি আছে আর; তরুণ তরুণীর হাতে মোমবাতি
ছাড়া।নিজের ছায়া নিজে গ্রহণ করা,
অভ‍্যস্থ এখন জনগন, নাট‍্যশালার গ্রীনরুম থেকে
নকল রাজা অট্টহাসিতে!!

৪১) ফোঁটা ফোঁটা উত্থান

অস্তিত্ব জুড়ে শুধু বিস্মরণের বক্ররেখা
বুঝিনি এমন নিঝুম ভাষ‍্য,
নির্মোহ মন,আবেদন করে ট্রেন্ড
অলিখিত রোদ্দুর আর
অজানা উঠোন জুড়ে পড়ে থাকা
আঁচলস্পর্শী বিনম্র নিবেদন।

এই শহরে সন্ধ্যায় নেমে আসতেই
ত্রিযামায় লুকোনো অজানিত স্বপ্ন
মায়াবী নক্ষত্রে শুধু প্রবাসী ভাবনা।
জমাট অভিমান
নিথর রূপকথার রাজত্বে
ঠিক একপশলা বৃষ্টি!
সুতোর ম‍্যাজিকের মতো
ক্রমশ কমছে তার দৈর্ঘ্য,
শুধু অনন্ত অজ্ঞাত ঢেউয়ে
গতিমুখ বদলে দিচ্ছে।

৪২) নামহীন একজন 

 অবশ্য মনের গন্তব্য তার গভীরতার দৈর্ঘ্য মাপে
সেন্টিমিটার বাই সেন্টিমিটার
জীবনের প্রতিটা মূহুর্ত হিসেব কষে
মূলরোম থেকে জলস্তর পর্যন্ত।

নিয়তির খেলা সাময়িক প্রসঙ্গ
যা আস্বাদন দুঃখবোধ আর বিলাপও।

পঞ্চভূতের পাঠশালা ফাঁটা জিন্সের পৃথিবী
নেশাতুর সালসা আর গিটারের গুঞ্জণে
লাফিং বুদ্ধের ভঙ্গিতে নিমগ্ন দ্রাক্ষাবন।

৪৩) ভবিষ্যৎ বদলাচ্ছে নিঝুম রাত্তিরে
নৈশব্দিক রহস্যময় জগত টা
শব্দ বাণে স্থিতধী।

চাহিদার গুণগ্রাহী সুরক্ষার জোট আর
       সীমান্ত-নদী-পাহাড় বেয়ে
কিম্বদন্তি হ্লাফ পেন্ট মানুষগুলো
সাক্ষী এই ধুসর সময়ে।

৪৪) প্রেম--
আর আসে না, দুর্মুখ স্বপ্নগুলোর
ইচ্ছেমত ফরমানে, এখন
                হিউমাস দেখে।

৪৫) এশহর এখন ফ‍্যাকাশে
পুরোনো চোখগুলোর অভাব, শুধু আভিজাত্য আর আভিজাত্য
শর্ট স্কার্টের পরদেশী হাওয়া সওদাগরি মেজাজে।

পদবী বসছে চাঁদের হাটে
মিঠাজলে রাম আর উইস্কির ককটেল
সঙ্গে চলছে উৎসব গীত।

৪৬) কুশিয়ারা বেয়ে খাঁড়া ডাকবাংলা ঘাটে
দু-পার বাংলার ঘ্রাণ উদ্ধার করেছি
খানিকটা বিষ্ঠা খেয়ে।

ল.সা.গু- গ.সা.গু উৎপাদক বের করে
স্রোতের প্রবাহে দিনশেষে একটাই চিত্র তুলে
সেটা হলো মান যোগ হুশ।

রাস্তা খুঁড়লেই কী মীমাংসা হয়
এ যে নাড়ির সাথে নাড়ির টান
স্মৃতিমধুর রুমন্থন উপাখ্যান,
একটা রিফিলের মতো
সম্পর্কে যতিচিহ্ন বসে !

৪৭) একটি ফুল---
হাত পা ছাড়া সাবলীল গঠন
সমুদ্র মন্থনের পাশ দিয়ে
হারিয়ে যাচ্ছে নদীর দু'পারের মতো
আলগে।

ভালো থাকার কথায়
দেহতত্ব গায়,তবু নির্যাস হারিয়ে
দিতে চায় একচিলতে রুদ্দুর।

রক্তপাত শেষে বিয়োগান্তুক মূহুর্ত
ক্লেদাক্ত বাগান আর সয়না
নিয়তির নিঝুম ভাষ‍্য।

৪৮) 'হামসফর' চড়ে কী উপলব্ধি করার!
পিছনে ঠেলে দেয় আলোক ফোয়ারা ষ্টেশনগুলো
স্বৈরাচারী আবেগে।

যাচ্ছে তো যাচ্ছে
একটার পর একটা টপকে
পু ঝিক ঝিক করে, সাড়ম্বরে
'এয়ার ব্রেকের' শব্দে অসুবিধে নেই বোঝাতে
থামতে হয় কোন না কোন ষ্টেশনে।

৪৯) বৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে হয়
কিঞ্চিৎ সুরাপানে;
ফ‍্যানের শব্দটাও
তাল দিচ্ছে ,আধ মোজা চোখগুলোর সাথে
ইজিচেয়ারে বেশ হেলিয়ে বসে
ছোট হয়ে যাওয়া জ্বলা সিগারেট টাও।

সময় হারিয়ে যায় ইতিহাসে
কমলাকান্ত ও দপ্তর থেকে মুক্তি
তাই নেপোলিয়ন
দহন উৎসব শেষে ফিরে গেছে।

৫০) কেইসড্রাট

স্ট্রিট লাইট
নেই তেল, চারদিক ঘিরে আছে অন্ধকার
হামাগুড়ি দেয়া ইঁদুর ছানা 
রেখাহীন গর্ভে সুড়ঙ্গ খোদে ওরা, এখন বাহুবলী।
আমি জড়পদার্ধ 
বিউগল বাজাতে জানি, বড় বিউগল!
আমার কী দোষ - না স্বেচ্ছায় এসেছি এখানে
এই দুর্দশা গ্রস্থে ভরপুর মাঠে।

আমাদের এ জীবন যেহেতু কমার্শিয়াল চিন্তার,
ব‍্যাপার চলছে 
এক চিলতে রুদ্দুর ও,
জলন্ত অঙ্গারে পরাজিত জীবন্ত আত্মারা 
গলায় দড়ি দিয়ে সময়ের দাবি রাখে
কেইসড্রাটের ডালে।

No comments:

Post a Comment

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...