Friday, August 5, 2022

আজাদী কা অমৃত মহোৎসব


"কত বিপ্লবি বন্ধুর রক্তে রাঙা, বন্দিশালার ওই শিকল ভাঙা..." - স্বাধীনতা দিবস প্রকৃত অর্থে ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের একটি জাতীয় দিবস। আমরা ভারতীয় নাগরিক। বিশ্বের কোথাও বা যে দেশেই থাকি না কেন, আমরা নিজেদেরকে ভারতীয় হিসাবে পরিচয় দিয়ে থাকি, ভারতীয় বলে গর্ববোধ করি।ছোটবেলার স্বাধীনতা দিবস আসলেই নস্টালজিক ব্যাপার। সকালে স্নান সেরে বাঁশের কাঠিতে কাগজে রং করা পতাকা গম দিয়ে লাগিয়ে স্কুলে যাওয়া। সহপাঠীদের সঙ্গে জাতীয় সংগীত গাওয়া, খেলাধুলা করা ইত্যাদি ইত্যাদি। বড় হওয়ার সাথে সাথে এর মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব আরও বাড়তে থাকে। আসলে স্বাধীনতা নিজের মধ্যে অনুভব করা।

এবারের স্বাধীনতা দিবসের মূল আকর্ষণীয় বিষয় হল 'হর ঘর তিরঙ্গা '। দেশজুড়ে চলছে 'হর ঘর তেরঙ্গা' ক্যাম্পেন ৷ স্বাধীনতার ৭৫ বছর উদযাপনে 'আজাদি কা অমৃত মহোৎসব'-এর অঙ্গ হিসেবে প্রত্যেক নাগরিক তাঁর বাড়িতে তেরঙা উত্তোলন করবে ৷ ১৫ অগস্টের আগে ২০ কোটিরও বেশি বাড়িতে জাতীয় পতাকার দেখা মিলবে বলে মনে করা হচ্ছে ৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রোফাইলের ছবিতে তিন রঙা পতাকার (Har Ghar Tiranga) ছবি দিয়েছেন ৷ জনসাধারণকেও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে এই ছবি শেয়ার করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি (All about Har Ghar Tiranga campaign) ৷

পতাকা উত্তোলন সংক্রান্ত 'দ্য ফ্ল্যাগ কোড অফ ইন্ডিয়া, ২০০২' (The Flag Code of India 2002) ও প্রকাশ করা হয়েছে ৷ এখানে পতাকার ব্যবহার, সাজানো এবং উত্তোলন সংক্রান্ত যাবতীয় নির্দেশিকা দেওয়া আছে ৷ এই পতাকা উত্তোলন আসলে দেশ গড়ায় প্রত্যেক নাগরিকের অবদানের একটা প্রতীক ৷

আর হাতে গোনা কদিন পর স্বাধীনতা দিবস। ২০০ বছরের ব্রিটিশ দমন-পীড়ন সত্ত্বেও ১৯৪৭ সালে হাজার হাজার ভারতীয়দের আত্মত্যাগের ফল স্বাধীনতা দিবস। স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন দেখতে অনেকেই সবকিছু ছেড়ে দিয়েছিলেন। এই আত্মত্যাগের কারণেই এই শুভ উপলক্ষে নীল আকাশে ভারতের জাতীয় পতাকা উড়ে। ভারতের স্বাধীনতা লাভের মাত্র তিন বছর পর ১৯৫০ সালে ভারতের সংবিধান প্রস্তাব করা হয়েছিল। আমরা সবাই জানি যে স্বাধীনতার আগে ভারতের জাতীয় পতাকা এবং স্বাধীনতার পরের ভারতের জাতীয় পতাকার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, সেটি হল অশোক স্তম্ভ।

 ৭৫ বছর আগে, আমাদের সংবিধান জাতীয় পতাকার প্রতিটি অংশকে বর্ণনা করেছে। প্রতিটি ধারার দ্বারা সংবিধানের প্রতিফলিত বিষয়গুলি বিশদভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে আজও সংবিধান নিয়ে আলোচনা ও অধ্যয়নে সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন আগ্রহ নেই। সংবিধান, ভারতের একতা ও সার্বভৌমত্বের ঢাল, ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা উচ্চ স্তরের কোর্স ছাড়া খুব কমই দেখা যায় এবং খুব কমই আলোচনা করা হয়। অতএব, স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরে, অনেক ভারতীয় এখনও ভারতের সংবিধানের চেতনা জানেন না।

সংবিধানের প্রতিটি অনুচ্ছেদ ভারতের জনগণের পক্ষে কী বলছে তা নিয়ে পুরো বিষয়টি থেকে অনেকেই দূরে রয়েছেন। আগে, স্বাধীনতা দিবস বা প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের সময় সংবিধানের তাৎপর্য সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে অবহিত করা একটি ঐতিহ্য ছিল। তবে বর্তমানে রাজনৈতিক নেতাদের মূল্যবান সময় বাঁচাতে শুধু পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমেই অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত রাখা হয়। ফলে সংবিধানের প্রকৃত ধারণা থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হয়েছে।

 আক্ষরিক অর্থে, ভারত আজ একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সবাই বলে গণতন্ত্রে জনগণই রাজা। কিন্তু এটা কি সত্যিই হয়? 'বাক স্বাধীনতা' দেশের সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকদের মৌলিক অধিকার।
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না যে রাজনীতির তাড়নায় সংবিধানের চেতনায় কোথায় আঘাত করা হয়েছে। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং ভারতের এই ধর্মনিরপেক্ষতা সংবিধান দ্বারা আবদ্ধ। তবে সাধারণ জনগণও এই সংবিধানের প্রাথমিক জ্ঞান থেকে বঞ্চিত।

ভারতের সংবিধানও প্রত্যেক ভারতীয়কে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ প্রদান করে। কিন্তু অনেকেরই ধারণা আজ ভারত শুধু নামেই ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে আছে। এখন কথা হলো আমরা নিশ্চয় দেখতে পাবো ভারত ধর্মনিরপেক্ষতার দিকে কতটা এগিয়ে যাচ্ছে। বেশিরভাগ মানুষ জানেন কেন জাতীয় পতাকার তিনটি রঙ রয়েছে বা তিনটি রঙ কী প্রতিনিধিত্ব করে তবে জাতীয় পতাকার অশোক স্তম্ভ কী এবং অশোক স্তম্ভের মাঝখানের বারগুলি কী প্রতিনিধিত্ব করে সে সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। যারা প্রায়ই বিভ্রান্ত হয়। এমন অনেক লোকের উদাহরণ রয়েছে যারা কখনও কখনও অশোক স্তম্ভের ২৪ টি স্তম্ভকে ভাষার প্রতিনিধিত্বকারী হিসাবে ভুলভাবে উপস্থাপন করে এবং দর্শকদের ভুলভাবে উপস্থাপন করে। অতএব, তরুণ প্রজন্মের জানা উচিত ভারতের জাতীয় পতাকা ও অশোক চক্রের বারগুলি আসলে কী কাজে ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি শাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বহন করে।

 জাতীয় পতাকা গেরুয়া,সাদা ও সবুজ এই তিন রং এ তৈরি। উপরের গেরুয়া রং ত্যাগ, দেশপ্রেম ও সাহসের প্রতীক। মধ্যে সাদা রং সত্য ও শান্তির প্রতীক। নীচের সবুজ রং কৃষিকাজ ও অগ্রগতির প্রতীক। শোক চক্রের ২৪টি দণ্ডের অর্থ প্রেম, সাহস, ধৈর্য, ​​শান্তি, মহত্ত্ব, কল্যাণ, বিশ্বাস, উদারতা, নিঃস্বার্থতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, আত্মত্যাগ, সত্য, পবিত্রতা, ন্যায়বিচার, করুণা, সৌন্দর্য এবং নম্রতা, সহানুভূতি, সহানুভূতি, ধর্মীয় জ্ঞান, মূল্যবোধ, ঐশ্বরিক জ্ঞান, ঈশ্বরের ভয় এবং আশা। 

টমাস জেফারসনের ভাষায় বলতে গেলে, “মানুষের সমঅধিকার, এবং প্রতিটি ব্যক্তির সুখের অধিকার, এখন স্বীকৃত।” প্রত্যেক ভারতীয়কে আমাদের জাতীয় পতাকা সম্পর্কে, সংবিধান সম্পর্কে জানতে হবে।এই দিনটি কেবল একটি আচার-অনুষ্ঠান হওয়া উচিত নয়, আমাদের এইসকল দেশবাসীর কথা ভাবা উচিত যারা এখনও দারিদ্র্য, ক্ষুধা এবং দাসত্ব থেকে মুক্ত নয়। স্বাধীনতা প্রত্যেক ভারতীয়র জন্য আনন্দ নিয়ে এসেছে। ৭৫তম স্বাধীনতা দিবসের রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

No comments:

Post a Comment

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...