Sunday, October 6, 2019

নিজের ভাষা স্বাধীন হোক

ছোটবেলায় ২৬ জানুয়ারিতে খুব খেলতাম গো এজ ইউ লাইক। আজকাল ভারত নামক দেশে এই খেলাই চলছে। রাজনীতি নিয়ে কিছু বলার মতো জ্ঞান নেই। তাই ভুল হলে বলবেন। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় রাষ্ট্র ভাষা বলে কিছু হয় না। রাষ্ট্রিয় ভাষা তো দূর ভারতে হিন্দি বলে কোনো  মাতৃভাষা নেই। এই ভাষা আগে কংগ্রেস চাপানোর চেষ্টা করেছিল। এখন বিজেপি তাদের হিন্দুত্ববাদী মডেল কে সামনে রেখে এইসব করছে। 

ভারতীয় উপমহাদেশে সমস্ত জাতির ওপর যে ভাবে দিল্লি ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়া চেষ্টা করছে, সেটা কোনোদিন সম্ভব নয়। এই সব কর্মকাণ্ডের জন্য আমরা হিন্দুত্ববাদী ভারত রাষ্ট্র কে ধিক্কার জানাই এবং তাদের দেখা দেখি কিছু বুর্জুয়া জাতীয়তাবাদী সংগঠন বাংলা ভাষা কে রাষ্ট্রিয় ভাষা করার দাবি জানাচ্ছে, আমরা তাদেরও ধিক্কার জানাই। এদের সবাই কে স্পষ্ট ভাবে বলে দিতে চাই যে কোনো জাতির ওপর কোনো কিছুই চাপিয়ে দেওয়া আমরা আগেও বরদাস্ত করি নি এখনো করবো না, এই চাপানো যদি অবিলম্বে না বন্ধ হয় তাহলে আগামী এরফল ভীষণ খারাপ হতে চলেছে। আজ যে খেলা দেশের মানুষের বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদীরা শুরু করেছে, সেই খেলার ফল ভারত রাষ্ট্র কে খতম করেই চোকাতে হবে। যে আগুন জ্বালাচ্ছে সেই আগুনে আগামী দিনে ভারত জ্বলে_পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। 

      কিন্তু যেটা জানি সেটা হল আমি হিন্দী ভাষাটা ভালো বলতে বা লিখতে পারিনা। আমি নিরামিষ খেতে ভালোবাসি না, মাংস চলতে পারে কিন্তু মাছের চেয়ে প্রিয় কিছু নেই।ইলিশ আর অমৃতের ফারাক বুঝি না। মাসে বা দুমাসে একদিন পাঁঠার মাংস না খেলে বেঁচে থাকার অর্থ আছে বলে মনে করি না। বিফ কাবাব আর বিফ বিরিয়ানি  দুর্দান্ত প্রিয়। বাংলা ভাষায় নিজের বক্তব্য টাইপ করতে ভালোবাসি, হিন্দীতে লেখার কেপাবিলিটি নেই, ইংরাজিতে বানান ভুল হতে পারে তাই লিখি কম। আমি ভারত-বাংলাদেশ খেলা হলে ভারতকে সমর্থন করি, ভারত বাদে অন্য কারও সাথে বাংলাদেশ খেললে বাংলাদেশকে সাপোর্ট করি। স্টেডিয়ামে ভারত আর বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত শুনলে গায়ে সমানভাবে কাঁটা দেয়, এর অন্যতম কারণ ভাষা।

 উরি সিনেমাটা প্রাথমিকভাবে চেপে গেলেও পরে আর রেশ থাকে নি।মিশন মঙ্গলের কথা বাদই দিলাম। চাক দে ইন্ডিয়া এখনো গায়ে কাঁটা দেওয়ার জন্য দেখি মাঝে মাঝেই ভারতের ক্রিকেট বা ফুটবল ম্যাচের আগে।আমি ভারতকে ভালোবাসি।

আমি এটুকু জানি ভারতের সংবিধান আমাকে এই প্রত্যেকটা ইচ্ছেকে বাস্তবায়িত করার অধিকার ও স্বীকৃতি দেয়। ছয়টি মৌলিক অধিকারের আওতায় এই সবকটা রয়েছে। 
আমি বিশ্বাস করি এই সহজ সরল ইক্যুয়েশনটা প্রত্যেকটা মানুষের ভেতর নিজের নিজের ভ্যারিয়েবল নিয়ে পাস করে। এই দ্বন্দ্ব, এই ভাঙন একটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধি ছাড়া কিচ্ছু না,রাষ্ট্র নামক যন্ত্রের ইডিওলজির স্যাম্পেল ইনজেক্ট করে এই একটা ইচ্ছেকেও আপনি জোর করে মন থেকে মুছে দিতে পারবেন না।
সুতরাং, মাধ্যমিকে স্যারের কথাটা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলাই বোধ হয় ভালো-
অঙ্ক খুব সোজা তাকে জটিল করতে গেলেই আর মিলবে না...

যেখানে আমাদের সংবিধান বলছে---
THE CONSTITUTION (SEVENTY-FIRST AMENDMENT) ACT, 1992
৯২তম সংবিধান সংশোধন আইন, ২০০৩ এর মাধ্যমে ৪টি ভাষা স্বীকৃতি পায়- বোদো, ডোগরী, মৈথিলি সাঁওতালি।
The Constitution (Ninety-Second Amendment) Act, 2003
এই সংশোধনীর মাধ্যমে মোট সরকারি ভাষা হয় ২২ টি।
অতএব " ভারতের কোনো রাষ্ট্রভাষা নেই। রয়েছে ২২ টি সরকারি ভাষা। হিন্দি ও ইংরাজি হল কেন্দ্র সরকারের দাপ্তরিক ভাষা। "

 এটাই যদি হয়ে থাকে আমাদের সংবিধানের ভাষ‍্য। তবে এতটা এগ্রেসিভ কেন হিন্দি কে রাষ্ট্র ভাষা তকমায় ঝুলানো। যেখানে ২০১১ সালের আদমসুমারি মতে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৬ জনের মাতৃভাষা হিন্দি নয়। তাহলে এটাই বুঝা গেল আমরা একত্রিকরণের মন্ত্রে মুগ্ধ হয়ে তার পদাংক অনুসরণ করছি !

“যাবতীয় নৈশঃব্দ্য খেয়ে ফেলবো অনিঃসীম এক অজগরের ক্ষিদে আমার জিহ্বায় চাষ করে নিয়ে। / এ নৈশঃব্দ্য পুড়ে পুড়ে চাতকের তৃষ্ণার মতো খাঁটি হলে আরণ্যকের কবির মতো শুয়ে যাবো বনজ্যোৎস্নার ভয়াবহ আগুন সাঁকোয়।” ---- তাই নীচে রইল উজান উপাধ‍্যায়ের কবিতার ছোট্ট অংশ।

সঙ্গে রইল উকিপিডিয়ার একটা লিংক --- 

https://en.m.wikipedia.org/wiki/Languages_with_official_status_in_India?fbclid=IwAR1vFyL7fpV9GEedjZ9ULUSYrgVZbzjuptnoiXnIHN1PPuu1fkEsCZwW4MI

No comments:

Post a Comment

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...