Everybody's talking about
Minister, Sinister, Banisters and Canisters
Bishops, Fishops, Rabbis, and Pop Eyes, Bye bye, Bye byes
All we are saying is give peace a chance
All we are saying is give peace a chance
আজ অনেক দিন পর লেননের গান শুনলাম। বাবার বড় প্রিয় গায়ক ছিলেন। আজ আর বাবা নাথাকায় এই গানগুলো শোনা হয় না। বিটলস-র প্রখ্যাত গায়ক জন লেনন। ১৯৭০ সালে ৩০শে এপ্রিল; আমেরিকা কম্বোডিয়া আক্রমণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এর চারদিন পরেই কেন্ট প্রদেশে প্রতিবাদীদের ওপরে গুলিচালনার ঘটনায় ৪ জন ছাত্রের মৃত্যু হলে আন্দোলনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। আমেরিকা জুড়ে বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক প্রতিবাদ সভা হতে থাকে এবং সেই সভাগুলোতে, লেনন-র ১৯৬৯-এ গাওয়া উপরোল্লিখিত বিখ্যাত গান ‘give peace a chance’, যেটি তৎকালীন সময়ে প্রায় ‘অ্যানথেম’-এ পরিণত হয়েছিল, লক্ষ মানুষের কণ্ঠে ধ্বনিত হতে থাকে, যা প্রশাসনের রাতের ঘুম তাড়ানোর কারণ হয়ে ওঠে। যদিও তার বিরুদ্ধে তৎকালীন সরকারের ষড়যন্ত্র চলে। সরকার প্ররোচিত চার বছরের মামলা থেকে মুক্তি পান। নিউইয়র্কের সুপ্রিম কোর্ট তাকে আমেরিকা থেকে বিতাড়িত করার সরকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রায় দেয় এবং তাকে সেখানেই আইনত তাঁর নিজের বাড়িতে থাকার অনুমতি দেয়। লিওন ওয়াইল্ডস, যিনি এই চার বছর ধরে লেনন-র মামলাটি তদারক করছিলেন, রায়দানের পরে বলেন, “He understood that what was being done to him was wrong. It was an abuse of the law, and he was willing to stand up and try to show it—to shine the big light on it." এই জয় তাই লেনন-র একার নয়, এই জয় সেই অগণিত মানুষের, যারা সাম্রাজ্যবাদের পাখসাট থেকে মানবাধিকারের আত্মাকে বাঁচিয়ে রাখতে চায়।
Minister, Sinister, Banisters and Canisters
Bishops, Fishops, Rabbis, and Pop Eyes, Bye bye, Bye byes
All we are saying is give peace a chance
All we are saying is give peace a chance
আজ অনেক দিন পর লেননের গান শুনলাম। বাবার বড় প্রিয় গায়ক ছিলেন। আজ আর বাবা নাথাকায় এই গানগুলো শোনা হয় না। বিটলস-র প্রখ্যাত গায়ক জন লেনন। ১৯৭০ সালে ৩০শে এপ্রিল; আমেরিকা কম্বোডিয়া আক্রমণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এর চারদিন পরেই কেন্ট প্রদেশে প্রতিবাদীদের ওপরে গুলিচালনার ঘটনায় ৪ জন ছাত্রের মৃত্যু হলে আন্দোলনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। আমেরিকা জুড়ে বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক প্রতিবাদ সভা হতে থাকে এবং সেই সভাগুলোতে, লেনন-র ১৯৬৯-এ গাওয়া উপরোল্লিখিত বিখ্যাত গান ‘give peace a chance’, যেটি তৎকালীন সময়ে প্রায় ‘অ্যানথেম’-এ পরিণত হয়েছিল, লক্ষ মানুষের কণ্ঠে ধ্বনিত হতে থাকে, যা প্রশাসনের রাতের ঘুম তাড়ানোর কারণ হয়ে ওঠে। যদিও তার বিরুদ্ধে তৎকালীন সরকারের ষড়যন্ত্র চলে। সরকার প্ররোচিত চার বছরের মামলা থেকে মুক্তি পান। নিউইয়র্কের সুপ্রিম কোর্ট তাকে আমেরিকা থেকে বিতাড়িত করার সরকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রায় দেয় এবং তাকে সেখানেই আইনত তাঁর নিজের বাড়িতে থাকার অনুমতি দেয়। লিওন ওয়াইল্ডস, যিনি এই চার বছর ধরে লেনন-র মামলাটি তদারক করছিলেন, রায়দানের পরে বলেন, “He understood that what was being done to him was wrong. It was an abuse of the law, and he was willing to stand up and try to show it—to shine the big light on it." এই জয় তাই লেনন-র একার নয়, এই জয় সেই অগণিত মানুষের, যারা সাম্রাজ্যবাদের পাখসাট থেকে মানবাধিকারের আত্মাকে বাঁচিয়ে রাখতে চায়।
আমার স্বপ্নের ভারতে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারি ইত্যাদির স্বল্পতা কোনদিনই ছিলোনা, দুর্দশা নিয়েই তাদের নিত্যি বেঁচে থাকা, তার সাথে গত ২৭ বছর ধরে ‘অযোধ্যা মামলা’ গন্ধমাদন যোগ হয়ে জীবন আজ দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন রাজীব গান্ধী সেই যে অযোধ্যায় কল্পিত ‘রামমন্দির’র তালা খুলে দিলেন, যার ফলস্বরূপ ভারতীয় জনতার জীবনে এক অশুভ, অনাকাঙ্ক্ষিত অধ্যায় শুরু হয়ে গেলো। সাম্প্রদায়িকতা, যা শাসকের অস্ত্র হিসাবে আগেও ব্যবহৃত হতো, তা এক প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হিসাবে ভারতীয় উপমহাদেশে একেবারে গেড়ে বসলো। ইতিহাস সাক্ষী আছে, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পরে, শুধু এই দেশেই নয়, সমগ্র উপমহাদেশেই এক চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা গেছিলো।
‘অযোধ্যা মামলা’-যা আজ প্রায় ২৭ বছর ধরে চলে আসছে, তার ভবিষ্যতও রাজনীতির অন্ধগলিতে আটকে আছে, কারণ এই তুরুপের তাসটি ভারতীয় রাজনীতির ‘শক্তিশেল’ হিসাবেই দেখা হয়। সুপ্রীম কোর্টে আটকে থাকা অযোধ্যা মামলার শুনানি অবশেষে শেষ হলো। তবে শেষ দিন পরতে পরতে নাটকীয় ঘটনা ঘটল এজলাসে। সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করছিলেন প্রাত্যহিক ভিত্তিতে।
শুনানি শুরু হয়েছিল গত ৬ অগাস্ট। ঠিক ছিল প্রতিদিন শুনানি হবে। অযোধ্যা মামলায় সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসে বিষয়টির সমাধানসূত্র খুঁজে বার করতে বলেছিল শীর্ষ আদালত। কিন্তু সেই বৈঠক নিষ্ফলা হয়। তারপরই সুপ্রীম কোর্ট প্রাত্যহিক শুনানি করে মামলা নিষ্পত্তির কথা জানায়। গত ৬ অগাস্ট মামলার প্রাত্যহিক শুনানি শুরুর পর মাঝে দশেরা ইত্যাদির জন্য ছুটি ছিল আদালত। তারপর তা খোলার পরে ফের শুরু হয় শুনানি। বুধবার শুনানি চলাকালীন সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড-এর তরফে এই মামলায় আইনজীবী হিসাবে দাঁড়ানো রাজীব ধবন রাম জন্মস্থানের ছবি দেওয়া একটি ম্যাপ আদালতের মধ্যেই ছিঁড়ে দেন। এরপরই প্রথম ওয়াক আউট করার কথা জানান প্রধান বিচারপতি। তারপর জানান অনেক হয়েছে, এদিনই শেষ হবে অযোধ্যা মামলার শুনানি। সেইমত বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন তিনি।
যদিও তার আগেই শেষ হয় অযোধ্যা মামলার শুনানি। গত ১৫ তারিখ শুনানি শেষ হলেও আরও ৩ দিন সবপক্ষকে সময় দিয়েছে আদালত। তাদের জানানো হয়েছে তাদের যদি এখনও মনে হয় যে তাদের আরও কিছু বলার ছিল বা তথ্য তুলে ধরার দরকার ছিল তাহলে তারা তা লিখিত আকারে আদালতে জমা দিতে পারে। আদালত আরও জানিয়েছে এই মামলার রায় আগামী ১৭ নভেম্বরের মধ্যে দেওয়া হবে। এদিকে খবরের সূত্র অনুযায়ী জানা গেছে, সুপ্রীম কোর্টে শুনানি শেষ হওয়ার আগেই ফের বিতর্ক উস্কে দিয়ে বর্তমান সরকারের এক সাংসদ জানিয়েছে, অযোধ্যায় রাম মন্দির তৈরি শুরু হবে আগামী ৬ ডিসেম্বর থেকে। এটাই আসল উদ্দেশ্য; দেশ যখন এক চরম আর্থিক দুরবস্থার সম্মুখীন, তখন সেখান থেকে দৃষ্টি সরানোর জন্য কখনো কাশ্মীর, কখনো এনআরসি ইত্যাদিকে সামনে আনা হচ্ছে, এবার সেই তালিকায় ‘রাম মন্দির’ গঠনের ইস্যুটি কেন্দ্রীয় স্থান দখল করতে চলেছে। ওরা শুধু সারা দেশজুড়ে এক অরাজক পরিস্থিতি তৈরী করার চেষ্টায়।
চলতি বছরের বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ১০২তম স্থানে নেমে গিয়েছে ভারত। ক্ষুধার মেটানোর তালিকায় ভারতের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপালের পরে স্থান হয়েছে ভারতের।অপুষ্টি, শিশুমৃত্যু, পাঁচ বছরের চেয়ে কমবয়সি শিশুর উচ্চতার তুলনায় কম ওজনের মতো কয়েকটি মাপকাঠিতে বিভিন্ন দেশকে বিচার করে বিশ্ব ক্ষুধা সূচক। ২০১৯ সালের সেই সূচক অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কমবয়সি শিশুর উচ্চতার তুলনায় কম ওজনের বিষয়টি (চাইল্ড ওয়েস্টিং) সবচেয়ে বেশি প্রকট ভারত, ইয়েমেন ও জিবুতিতে। ভারতে এই ধরনের ঘটনার হার ২০.৮ শতাংশ। ক্ষুধা সূচক অনুযায়ী, চাইল্ড ওয়েস্টিং-এর এমন হার তালিকায় থাকা অন্য কোনও দেশে নেই। ভারতের জাতীয় সমীক্ষার রিপোর্টও বলছে, ভারতে চাইল্ড ওয়েস্টিং-এর হার ২১ শতাংশ। ২০১৫-১৬ সালের জাতীয় জনস্বাস্থ্য সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, যে সব রাজ্যে চাইল্ড ওয়েস্টিং-এর হার বেশি সেগুলির মধ্যে রয়েছে গুজরাট। এ ছাড়া ওই তালিকায় রয়েছে ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কর্নাটকের নাম।
ক্ষুধা সূচক অনুযায়ী, বিপুল জনসংখ্যার কারণে বিভিন্ন মাপকাঠিতে ভারতের পরিস্থিতির বড় প্রভাব পড়ে গোটা অঞ্চলের উপরে। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে ৬ থেকে ২৩ মাস বয়সি শিশুদের মধ্যে মাত্র ৯.৬ শতাংশ সুষম খাদ্য পায়। ক্ষুধা সূচকে ভারতের থেকে পিছিয়ে রয়েছে মাত্র ১৫টি দেশ। এরপরেও বর্তমান সরকার 'দেশ এগিয়ে চলছে', 'দেশের আর্থিক উন্নতি হচ্ছে', 'সিনেমার টিকিট ধুমধাম বিক্রি হচ্ছে' এসব বলে বলে ছক্কা হাঁকছে নির্বাচনীয় জনসভায়; তা চরম বর্বরতা হিসেবে চিহ্নিত হওয়া উচিত।
উপরে উল্লেখিত লেননের যে গান বা তার চিন্তাধারার সঠিক মূল্যায়ন করা হয়েছিল। আজ এই 'সময় সংকটে' ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা। বোধহয় এখনই এইধরণের মননশীল চর্চার প্রয়োজন। চক্রান্তকে পরাস্ত করতে, মানুষের ঐক্য গড়ে তোলাটাই হোক আজকের সার্বজনীন নৈতিক দায়িত্ব।

No comments:
Post a Comment