Sunday, October 13, 2019

ম্যানুয়াল স্ক্যাভেঞ্জার : এক দুর্বল টিআরপি'র প্রচার

নীচে যার ছবি দেখছেন তাদের বলা হয় 'ম্যানুয়াল স্ক্যাভেঞ্জার'।এরা খালি হাতে মানুষের মলমূত্র থেকে শুরু করে গোটা শহরের বিষাক্ত আবর্জনা ম্যানহোলের নোংরা কালো জলে ডুব মেরে পরিস্কার করে থাকে।খুব কম মজুরি দিয়ে,কোনোরকম সেফটি মেজার্স ছাড়াই এদেরকে ম্যানহোলের বিষাক্ত আবর্জনার মধ্যে নামিয়ে দেওয়া হয়।মানুষ হওয়া সত্ত্বেও আমাদের সমাজ এদের দিয়েছে নিম্নবর্ণ তকমা।সমাজ হাজার বছর ধরে যাদেরকে নিচু জাত তকমা দিয়ে সমাজের মূল স্রোত থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে তারা আজকের ডিজিটাল ইণ্ডিয়াতেও মানুষের প্রস্রাব-পায়খানায় ডুব মেরে আবর্জনা পরিষ্কার করে।
ধীরে ধীরে ম্যানুয়াল স্ক্যাভেঞ্জিং জাতপাতভিত্তিক পেশা হয়ে ওঠায় তাদের সম্মানজনক পেশায় ফেরাতে ১৯৯৩ সালে ভারত সরকার অনেক টালবাহানার পর এই পেশায় নিযুক্তিকরণকে আইনত দণ্ডনীয় বলে ঘোষণা করে।অর্থাৎ যে বা যারা হিউম্যান এটসেট্রা পরিষ্কার করতে ম্যানুয়াল স্ক্যাভেঞ্জার নিয়োগ করবে তাদের শাস্তি হবে এবং একইসাথে এই পেশার মানুষদের rehabilitate  করবে সরকার।
তারপর ২৬ বছর কেটে গেছে।এখনো প্রতি বছর খালি হাতে ম্যানহোলে আবর্জনা পরিস্কার করতে নেমে বিষাক্ত গ্যাস দ্বারা আক্রান্ত  হয়ে কিংবা শরীরে ইনফেকশান হয়ে মারা যান অজস্র নিম্নবর্ণের মানুষ।সরকারি হিসাবের চেয়ে বাস্তব চিত্র ঢের বেশি সংকটজনক।আসলে ম্যানুয়াল স্ক্যাভেঞ্জিং বন্ধ হয়ে গেলে আবর্জনা পরিস্কারের খরচা অনেক বেড়ে যাবে,যেটা কেউই কখনও চায় না।
এসব রোজ আমাদের চোখের সামনে ঘটছে।ম্যানুয়াল স্ক্যাভেঞ্জারদের মৃত্যুর খবর টিআরপির অভাবে খবরের কাগজের এক কোণায় জায়গা পাচ্ছে।আর আমরা ফাইভ স্টার হোটেলের প্রাইভেট বীচে প্লাস্টিক কুড়োনোর ফটোশ্যুট দেখে জল খসিয়ে চলেছি।পারলে চলুন না ম্যানুয়াল স্ক্যাভেঞ্জারদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে ম্যানহোলের পাঁকে ডুব মেরে ফটোশ্যুট করে আসি।

No comments:

Post a Comment

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...