কিছুই লিখবো না ভাবছিলাম। কিন্তু যখন দেশ ও সেনার উপর হামলা তখন শত বাধা থাকলেও তা অতিক্রম করে জাতীয় শোকে শোকাহত হওয়া প্রতিটা মানুষের দায়িত্ব এবং কর্তব্য। আমার ক্ষেত্রেও ঠিক একই অবস্থা। শোকের সময় নীরবতাও অনেক কথা বলে ।এক একটা মর্মান্তিক ঘটনা একদিকে স্তব্ধ করে,অন্য দিকে বিস্মিত করে । আমি পাকিস্তান রাষ্ট্র ব্যবস্থার ঘোর বিরোধী। সেখানে মানবাধিকার পদদলিত, নারীর অধিকার অবহেলিত,মৌলবাদী শক্তির যথেচ্ছাচার,রুটি রুজির ব্যবস্থা নাই,কৃষক তার মূল্য পায় না,শিক্ষা স্বাস্থ্য নূন্যতম সুযোগ থেকে বঞ্চিত।
আমাদের তথাকথিত শিক্ষিত ভদ্রলোক সমাজের ভেতরকার ঘৃণ্য পশুত্বকে বেআব্রু হতে দেখে।তাও চুপ করে থাকতাম ।কিন্তু সকাল থেকে বিভিন্ন রাজ্যে থেকে যা খবর আসছে তা উদ্বেগজনক। কোথাও আবার নীরিহ জনতার উপর হামলা,কাশ্মীরিদের ফিরে যেতে বাধ্য করা, এবসব ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক।সবই হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনের সামনে ।ভুলে যাবেন না আমার দেশ এখনও ধর্ম নিরপেক্ষ ।চল্লিশ জন গরীব সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যু যেমন যন্ত্রণা বিষাদের তেমনি গর্হিত অপরাধ সন্ত্রাসী আর মুসলিম সমার্থক শব্দ করে তোলা।দেশকে ভালবাসলে উগ্র জাতীয়তাবাদের জোয়ারে গা নাভাসিয়ে মেরুকরনের রাজনীতিকে প্রতিহত করা আমাদের খুব জরুরি ।ধর্ম ও জোট নিরপেক্ষ ভারতের জয় হোক ।
কিন্তু নিহত হয়েছে আমার দেশের ৪২টি তরতাজা প্রাণ।আমার ভাই।গরীব মায়ের সন্তান। যার মাইতে চলতো পুরো পরিবার।কাদের গাফলতিতে এদের মৃত্যু হয়েছে, এই প্রশ্ন করা কি আমাদের প্রয়োজন নয় না শুধু মোমবাতি জ্বালিয়ে সমবেদনা জানাতে হবে। একদম,মোমবাতি জ্বালিয়ে সমবেদনা জানানো তার পাশাপাশি উত্তর জানতে হবে। তাহলে এই তরুণ আত্মারা শান্তি পাবে। দেশের অভ্যন্তরে যে মীরজাফর,জগৎ শেঠ,দুর্লভরা রয়েছে,যারা নিজ স্বার্থে দেশের গোপন তথ্য ফাঁস করে,তাদের কে চিহ্নিত করা হোক।
শ্রীনগরের জঙ্গীহানা তুলে দিলো কিছু প্রশ্ন! কী কী প্রশ্ন? আসুন প্রশ্নগুলো তোলা যাক!
প্রশ্ন ১:
আগামী ১০ - ১৫ দিনের ভিতর বড়ো জঙ্গীহানার সম্ভাবনা আছে এই গোয়েন্দা রিপোর্ট থাকা সত্ত্বেও এতবড়ো আক্রমন হলো কি করে? তাহলে কি কোনো "বিশেষ উদ্দেশ্য" সাধনের জন্য গুরুত্বহীন করে রাখা হয়েছিলো এই রিপোর্টকে?
প্রশ্ন ২:
এতবড়ো আক্রমন নিখুত পুর্বপরিকল্পনা ছাড়া সম্ভব নয়! সেই পরিকল্পনার সবথেকে গুরুত্বপূর্ন অংশ হলো কবে, কোন রাস্তা দিয়ে, কোন সময়, কতজন জওয়ান, কিসে করে যাচ্ছেন তার পুঙ্খানুপুঙ্খ খবর হামলার অন্ততঃ ৭ দিন আগে জঙ্গীদের কাছে পৌছে যাওয়া! বাহিনীর একদম ভেতরের এই খবর কারা পৌছে দিল জঙ্গীদের কাছে?
প্রশ্ন ৩:
হামলা হতে পারে এই খবর থাকা সত্বেও এতবড় বাহিনীর যাওয়ার পথের প্রতি ৪০ - ৫০ মিটার অন্তর অন্তর রাস্তার দুইধারে যে পাহারা থাকার কথা তা ছিলো না কেন?
প্রশ্ন ৪:
খুব তাৎপর্যপূর্ন ঘটনা যে এই জঙ্গীহানা নিয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার সময় জেনারেল শংকর রায়চৌধুরী সহ অনান্য প্রাক্তন আর্মি অফিসাররা কেন বারবার রাজনৈতিক নেতাদের কথা বলছেন? তাহলে কি তাদের বিপুল অভিজ্ঞতায় তারা এই ঘটনার পিছনে অন্যকিছুর হাত দেখতে পাচ্ছেন যেটা তারা সরাসরি মিডিয়াকে বলতে পারছেন না, কিন্তু আকারে, ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন?
প্রশ্ন ৫:
উরির আর্মি ক্যাম্পে অভুতপুর্ব জঙ্গীহানার পরে প্রশ্ন উঠেছিলো যে ওইদিনই উরি ক্যাম্পে একটি রেজিমেন্টের ডিউটি শেষ হচ্ছে আর আরেকটি রেজিমেন্ট সবে ঢুকেছে এবং যে কারনে বেশ কিছু জওয়ান বাইরে অস্থায়ী তাবুতে আছে এই অত্যন্ত গোপন খবর জঙ্গীদের কাছে কিভাবে গেলো?
প্রশ্ন ৬:
উরির জঙ্গী আক্রমনের পর আক্রমনের কায়দা থেকে সন্দেহ হয়েছিলো যে এই ঘটনার সাথে ভিতরের কারো যোগসাজশ আছে এবং আর্মির তরফ থেকে এই ঘটনার সর্বোচ্চ পর্যায়ের তদন্তের কথা বলা হয়েছিলো! তারপর কি হলো? কেন চাপা পরে গেলো তদন্ত? কাদের ইশারায় দেশের নিরাপত্তার সাথে এমন ভয়ংকর কম্প্রোমাইজ করা হলো?
প্রশ্ন ৭:
দেশে কোনো বড়ো সিভিল ঘটনা ঘটার আশেপাশেই কেন হয় বড়ো জঙ্গীহানা? উরির জঙ্গীহানা ও সার্জিকাল স্ট্রাইকের সাথে নোটবন্দী, কালকের জঙ্গীহানার সাথে লোকসভা ইলেকসনের সময়ের মধ্যে এমন অদ্ভুত মিল কিভাবে হয়? যখনই অন্যকিছু কাজ করেনা এবং দেশপ্রেমের চাদর দিয়ে আসল ইস্যুকে ঢেকে দিয়ে কাজ হাসিল করার প্রয়োজন হয় তখনই যেন রক্তে লাল হয়ে ওঠে জওয়ানদের শরীর! নিছকই কাকতালীয় নাকি পিছনে আছে অন্য কোনো খেলা?
প্রশ্ন ৮:
কেমন একটু সন্দেহ হচ্ছে না? ভেবে দেখুন আমার আপনার দেশপ্রমের আগুনকে উশকে দিয়ে সেই আঁচে অন্য কেউ হাত সেকছে নাতো? শুধুমাত্র ক্ষমতা দখলের জন্য আমাদের দেশপ্রেমকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করার তাগিদে সরকার নিঃশব্দে, আমাদের সবার চোখের আড়ালে নিজেরাই খুন করছে নাতো আমাদের জওয়ান ভাইদের?
আমাদের পরিবারের, আমাদের ভাই, দেশের সীমানায় অতি কঠিন পরিস্থিতিতে ডিউটি দেয়, প্রবল তুষারপাতে, প্রচন্ড গরমে, প্রকৃতপক্ষে এতো কষ্ট সহিষ্ণু সেনা বাহিনী পৃথিবীতে খুব কম আছে।(প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে বলছি)। তাদের এই কঠিন কষ্টকর জীবনের শরিক কেউ নয় - নেতা মন্ত্রী, আমলা, সামরিক অফিসার, কেউ নয়। তাদের জামা জুতো কেনায় দুর্নীতি হলে চুপ করে থাকবো ? এমনকি কফিন, বুলেট প্রুফ জ্যকেটেও দুর্নীতি, আর আমরা প্রতিবাদ করবো না ? 42 টি মৃতদেহ দেখিয়ে এই প্রশ্নগুলো থামিয়ে দেওয়া যাবে না। বরং আমাদের ভাইয়ের রক্ত প্ৰশ্ন তুলতে বলে।
এই প্রশ্ন ক্ষমতাকে। যাদের উপর দেশ চালনার দায়িত্ব তাকে। তা সে যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন। এই প্রশ্ন করাটাই গণতন্ত্র। যখন যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন এই প্রশ্ন করতে যেন আমরা পিছু পা না হই। সর্বদাই যেন আঙ্গুল তুলে প্ৰশ্ন করতে পারি, তুমি যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে শাসক হয়েছ, যে দলেরই হও। পুলওয়ামার সন্ত্রাসের দায়িত্ব নিয়েছে জৈশ ই মোহাম্মদ আর আমাদের মাথায় ঢোকানো হচ্ছে দোষ সব নন্দ ঘোষের।
বদলা চাই বদলা চাই বলে চিৎকার করে অথবা বিচ্ছিন্ন ভাবে ধামাচাপা দিয়ে প্রশ্নগুলো যেমন লুকানো যায় না।উরি, পাঠানকোট,পুলওয়ামা একটার পর একটা ঘটনা ঘটে আর সেনাদের প্রাণ যায়। আমাদের নিরাপত্তায় বোধহয় কোথায় গলদ আছে।তেমন ভাবে ভবিষ্যৎ এ আরও একটা পুলওয়ামা হওয়াতেও আটকানো সম্ভব নয়।
#নিন দেশদ্রোহী বলে গালিগালাজ শুরু করে দিন।
No comments:
Post a Comment