Monday, October 7, 2019
ডিটেনশন ক্যাম্প : মানছি না মানব না
Sunday, October 6, 2019
নিজের ভাষা স্বাধীন হোক
পেরিয়ার : মানবতার পথ প্রদর্শক
ঈশ্বর বলে আদৌ কিছু হয় না।
যে ঈশ্বরের সৃষ্টিকর্তা সে আসলে এক নির্বোধ
যে বা যারা ঈশ্বরের প্রচার করে তারা পাঁজির পা ঝাঁড়া
আর যারা ঈশ্বরের উপাসনা করে ?
তাদের বর্বর ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।
-- ই . ভি. রামস্বামী পেরিয়ার
তিনি লিখেছিলেন “সমাজতান্ত্রিক দেশে কোনো ঈশ্বর নেই, ধর্ম নেই বা শাস্ত্রে বিশ্বাস নেই। কোনও মানুষের প্রতিই উচ্চ নিচ ভেদাভেদ করা হয় না। "
Tuesday, September 24, 2019
একজন দৃশ্যমান ইউম্যানিষ্ট ‘ঈশ্বর'
আজ রাষ্ট্রীয় শাসন কী সমাজ জীবন স্বাভাবিক বা স্বস্তিতে নেই। নিরাপদে শ্বাস নেওয়া কঠিন, বেঁচে থাকা দুঃসাধ্য। হয়তো এই পরিস্থিতি গোটা পৃথিবী জুড়েই। সনাতনী ধ্যান-ধারণা, ধর্মীয় কুসংস্কার ও গোঁড়ামি, মানববিমুখ রীতিপ্রথার ঘন অন্ধকার মেঘ ভেঙে দীপ্তিমান সূর্যের মতোই একজন ঈশ্বরের ভূমিকা নিয়ে যে মানুষটির আবির্ভাব ঊনিশ শতকের বঙ্গদেশকে পুণ্যভূমিতে পরিণত করেছিল, তিনি হচ্ছেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। উনিশ শতকে বাংলায় যে কয়েকজন সমাজ সংস্কার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকায় ছিলেন তাদের মধ্যে ঈশ্বরচন্দ্র অন্যতম। নবজাগরণের ভাবাদর্শের মূর্ত প্রতীক ঈশ্বরচন্দ্রের মধ্যে পাশ্চাত্য চিন্তাধারার এক অপূর্ব সমন্বয় পাওয়া যায়। ছিলেন পিতামহের অত্যন্ত আদরের। তাইতো নাম দিয়েছিলেন 'ঈশ্বর'।
'দেশের লোক কোনও শাস্ত্র মানিয়া চলে না, লোকাচার ইহাদের ধর্মও' - আজীবন এই ছিল বিদ্যাসাগরের ধারণা, তাই তিনি লোকাচার স্বরূপ কুসংস্কার থেকে ধর্মকে মুক্ত করতে গিয়ে সংশয়বাদী হয়ে ওঠেন।
' দুঃখের বিষয় আমি এ বিষয়ে ব্যালেনটাইনের সঙ্গে একমত নই।-----শাস্ত্রে যার বীজ আছে এমন কোনও বৈজ্ঞানিক সত্যের কথা শুনলে সেই সত্য সম্পর্কে শ্রদ্ধা ও অনুসন্ধিৎসা জাগা দূরে থাক, তার ফল হয় বিপরীত। ----শাস্ত্রীয় কুসংস্কার আরও বাড়তে থাকে, তারা মনে করেন যেন শেষ পর্যন্ত শাস্ত্রেরই জয় হয়েছে। বিজ্ঞানের জয় হয় নি।'
'চোখের সামনে মানুষ অনাহারে মরবে; ব্যাধি, জরা, মহামারীতে উজাড় হয়ে যাবে; আর দেশের মানুষ ভগবান ভগবান করবে- এমন ভগবৎ প্রেম আমার নেই; আমার ভগবান আছে মাটির পৃথিবীতে'।
উত্তরকালের Raionalist বা যুক্তিবাদীদের জন্য তিনি এক মহামন্ত্র দিয়ে গিয়েছিলেন যা যুগে যুগে যুক্তির আকাশে ধ্রুবতারর মতো জ্বলজ্বল করবে। উক্তিটি ছিল, 'ধর্ম যে কি তাহা মানুষের জ্ঞানের অতীত এবং বর্তমান অবস্থায় ইহা জানিবার কোনও প্রয়োজন নাই।' তাঁর মৃত্যুতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, "আশ্চর্যের বিষয়, কি করে ভগবান ৪ কৌটি বাঙালির মধ্যে একটি মানুষ সৃষ্টি করেছিলেন। “One wonders how God, in the process of producing forty million Bengalis, produced a man!”
বিদ্যাসাগর, সমকালে যেমন গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় ছিলেন, আজকের সময়েও তাঁর গুরুত্ব বর্তমান। তেমনিভাবে নিন্দুকদের উৎপীড়ন আর প্রতিরোধ সেকাল একালও সমান্তরাল।বিদ্যাসাগরের গুরুত্ব নিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য থেকে সেটি অনুধাবন করা যায়, ‘তিনি বিজ্ঞ, শাস্ত্রজ্ঞ, দেশহিতৈষী এবং সুলেখক, ইহা আমরা বিস্মৃত হই নাই। বঙ্গদেশ তাঁহার নিকট অনেক ঋণে বদ্ধ। এ কথা যদি আমরা বিস্মৃত হই, তবে আমরা কৃতঘ্ন।’ কিন্তু দু শতক আগে, অনগ্রসর ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন যুগে একজন বিদ্যাসাগর যে মানবিক-সামাজিক-নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করলেন, স্বচেষ্টায় দেশকালকে ছাপিয়ে হয়ে উঠলেন অতুলনীয় ও কীর্তিমান—পুরো ব্যাপারটি ভাবলে বিস্ময় জাগে! আমাদের প্রযুক্তির ঝলমল সময়ে, এখন বিদ্যাসাগরীয় দূরে থাকুক, তাঁর ছায়াতুল্য ব্যক্তিত্বের গড়ে ওঠাটুকুও দুর্লভ হয়ে পড়েছে। এই সমাজ ও সময়ে যথেষ্ট মননশীল, চিন্তাশীল, মুক্তমনের মানবিক, তাত্ত্বিক মানুষ কেন তৈরি হচ্ছে না!
Tuesday, September 10, 2019
নৈতিকতার নিরিখে শিক্ষক দিবস
"শিক্ষকের দায়িত্বপূর্ণ কর্তব্যভার গ্রহণ করিতে পারে, এমন একদল লোক সৃষ্টি করিতে হইবে; তাহা হইলেই আমাদের উদ্দেশ্য সফল হইবে। মাতৃভাষায় সম্পূর্ণ দখল, প্রয়োজনীয় বহুবিধ তথ্যে যথেষ্ট জ্ঞান, দেশের কুসংস্কারের কবল হইতে মুক্তি -- শিক্ষকদের এই গুণগুলি থাকা চাই। এই ধরণের দরকারী লোক গড়িয়া তোলাই আমার সংকল্প।" ---- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
শিক্ষা হল একটি জাতির মূল চালিকাশক্তি। 'শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড'। শিক্ষার আলো মানুষের মনকে আলোকিত ও বিকশিত করে। তাই শিক্ষাই ভালো মানুষ তৈরি করে। আর এর কারিগর হলেন শিক্ষক। আমি মনে করি একটা কথা আমাদের মনে রাখা খুবই জরুরি, একজন আদর্শ শিক্ষকই মানুষকে সুষ্ঠ ও সমৃদ্ধ সামাজিক জীব হিসেবে তৈরি করতে পারেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিক্ষা সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেছেন," বিশ্ব সত্যের সাথে ব্যক্তিসত্বার সামঞ্জস্য বিধানের অর্থই হল শিক্ষা"। প্রত্যেকটা জাতি তার প্রগতিশীল চিন্তা ও মননের অনুশীলনে কল্যানকামী সমাজে পৌঁছে। প্রগতিশীল এই পৃথিবীতে একজন শিক্ষক কে শুধু উচ্চ ডিগ্রি অর্জন করলে চলবে না। তারজন্য প্রয়োজন গুণ ও নীতিগত আদর্শের, যুক্তিবাদী ও কুসংস্কার মুক্ত চারিত্রিক দৃঢ়তা, এবং বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তার প্রতিফলন। আমাদের জীবনে শিক্ষা পর্যায়ক্রমে চলে। জন্ম থেকে আমৃত্যু পর্যন্ত। প্রথমে মা, তারপর পরিবার, প্রতিবেশী, পরিবেশ- এভাবেই চলতে থাকে শিখন প্রণালী।
আর এযাবৎ পৃথিবীতে যিনি শিক্ষাদান করে থাকেন 'শিক্ষক'। উনার গুণগত কর্মের প্রতিফলনে গোটা বিশ্ব আলোকিত। কারণ আদর্শের স্বরূপ হিসেবে একজন শিক্ষক তার জীবনের ব্রতী হয়ে যায় সমাজ সংস্কার। তাই এটা নৈতিকতা যে আমাদের প্রয়োজন এই সমাজ সংস্কারক ব্যক্তিত্বের অন্ধকার থেকে আলো দেখানো পথে চলা এবং এই বিশেষ ব্যক্তিদের নিয়ে অনুসন্ধানমূলক কাজ করা। যাতে পরবর্তী প্রজন্ম সুরাহার সূত্র সন্ধান পায়। আজ বিশ্ব ক্যালেণ্ডারের বিভিন্ন তারিখে শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। ইউনেস্কো ১৯৯৪ সাল থেকে ৫ অক্টোবর কে 'বিশ্ব শিক্ষক দিবস' ঘোষণা করে। আমাদের দেশ ভারতবর্ষে ও ৫ সেপ্টেম্বর প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জন্মদিনে শিক্ষক দিবস পালন করে। তিনি রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরই ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস হিসেবে মর্যাদা লাভ করে। ছাত্র ও গুণমুগ্ধ বন্ধুরা যখন তাঁর জন্মদিন পালন করতে চাইলে তিনি বলেন 'জন্মদিনের পরিবর্তে ৫ সেপ্টেম্বর যদি শিক্ষক দিবস উদযাপন হয় তবে আমি বিশেষরূপে অনুগ্রহ লাভ করবো।
এই রাষ্ট্রনেতার জন্মদিনে আমরা শিক্ষক দিবস অনেক উৎসাহ এবং উদ্দীপনার সাথে উদযাপন করে থাকি। এইদিন শিক্ষক দিবস পালনের মধ্যে কতটা সুবিধা অসুবিধা সেটা নিয়ে লেজটানা অপ্রাসঙ্গিক। কিন্তু প্রগতিশীল চিন্তনে যা বারবার প্রশ্ন জন্মায় ---- এই রাষ্ট্রনেতারই জন্মদিনে শিক্ষক দিবস কতটা যুক্তিপূর্ণ, নৈতিকতার নিরিখে যদি বিচার করা যায় তবে প্রশ্ন এটাই আসে আদর্শের ভিত্তিতে তিনি কোন মতাদর্শে বিশ্বাসী? এই লেখনীতে ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের বিরূপ বা বিরোধিতা করার কোন উদ্দেশ্য নয়। শুধু নিদৃষ্ট এই দিন কে আমরা কেন শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করবো এই নিয়ে আলোচনা।
ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ দর্শনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তার বিষয় ছিল, " বেদান্ত দর্শনের বিমূর্ত পূর্বকল্পনা " ( The Ethics of the Vedanta and it's Metaphysical Presuppositions)। একজন আদর্শ শিক্ষক তাঁর চিন্তা ও আচরণে প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে থাকেন। ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক কর্তব্যে ধারা ৫১ (ক)র ৮ নং কর্তব্যে বলা হয়েছে বিজ্ঞানমনস্কতা,মানবতাবাদ, অনুসন্ধান ও সংস্কারের বিকাশ"। আধ্যাত্মতত্ত্ববাদ দিয়ে কিভাবে আদর্শ শিক্ষক হওয়া যায় তা জানা নেই। তবে এটা স্পষ্ট যে, আধ্যাত্ববাদের শেকড়ে ধরে কুসংস্কার, গোঁড়ামিমুক্ত তথা বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তার কখনই বিকশিত হতে পারে না।
ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণাণ মনে করতেন, নারীশিক্ষা এমন হওয়া উচিত, যাতে একজন নারী আদর্শ মা এবং গৃহকর্মে নিপুণা হয়ে ওঠেন [১] Dr Sitaram Jaiswal, Bharatiya Shiksha ka Itihaas, 1981, Prakashan Kendra, Sitapur Road, Lucknow, Page 259।তিনি বর্ণ(কাস্ট)-প্রথায় বিশ্বাস রাখতেন। তিনি মনে করতেন জ্ঞান আহরণ করা শুধুমাত্র ব্রাহ্মণের কর্তব্য। অন্যান্য বর্ণের মানুষরা 'মনু সংহিতা' মেনে কর্ম করবে [২] Sarvepalli Radhakrishnan, Bharatiya Darshan (Hindi translation of Indian Philosophy), Volume 1, 2004, Rajpal & Sons, Delhi, Page 422।রাধাকৃষ্ণাণ তাঁর বই 'দ্য হিন্দু ভিউ অফ লাইফ'-এ দাবি করেছেন 'হিন্দু' সংস্কৃতি ৪০০০ বছরের পুরনো। বলা বাহুল্য, যা সঠিক নয়। তিনি তাঁর 'ইন্ডিয়ান ফিলোজফি' বইতে বলেন, হিন্দুবাদ একটি যাপন ধারা এবং হিন্দুধর্ম সবচেয়ে সহনশীল ধর্ম। গৌতম বুদ্ধ অজ্ঞেয়বাদী ছিলন, কিন্তু রাধাকৃষ্ণাণ দাবি করেছেন যে বুদ্ধ 'প্রার্থণা মার্গী' ছিলেন এবং সর্বোচ্চ শক্তিতে বিশ্বাস করতেন। বুদ্ধ সম্পর্কে বিশ্বের দার্শনিকদের মধ্যে তিনিই একমাত্র এই মত পোষণ করতেন। তিনি মনে করতেন গীতা বুদ্ধের আগেকার সময়ে লেখা। আম্বেদকর প্রমাণ করেন এই ধারণা সঠিক নয় [৩] Dr Babasaheb Ambedkar Writing and Speeches, Volume 3, 1987, Chapter 13। রাধাকৃষ্ণাণ বিশ্বাস করতেন, ভারতবর্ষে ভগবান মানুষ সৃষ্টি করেছেন। এই বিশ্বাসের পথ ধরেই আসে 'ব্রহ্মার মুখ থেকে ব্রাহ্মণের সৃষ্টিকথা'। যা শুধু বৈজ্ঞানিক বিবর্তনবাদ কে অস্বীকার করে না, উপরন্তু সামাজিক শোষণের প্রতিষ্ঠান বর্ণাশ্রমকে স্বীকার করে। এইসব বহুবিধ কারনে রাহুল সংকীর্তায়ন রাধাকৃষ্ণাণকে যথার্থই 'একজন সংকীর্ণ ধর্ম প্রচারক' হিসেবে অভিহিত করেছেন [৪], Rahul Sankrityayan, Darshan Digdarshan, 1944, Preface, Page 5 বলেছেন 'feeder to exploitation in India." দার্শনিক দিক ছাড়াও ব্যক্তি রাধাকৃষ্ণাণের বিরুদ্ধে কুম্ভীলকবৃত্তি (রচনা চুরি)-র অভিযোগ ওঠে। ১৯২৯ সালে যদুনাথ সিনহা অভিযোগ করেন, তাঁর থিসিস থেকে রাধাকৃষ্ণাণ বেশ কিছুটা অংশ 'ইন্ডিয়ান ফিলোজফি, খন্ড ২'-তে ব্যবহার করেন কোনরকম ঋণস্বীকার ছাড়াই।
যেখানে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর শাস্ত্রীয় শিক্ষাকে সম্বলিত করে নিজেকে তৈরি করেন এক মানবতাপ্রেমী ও যুক্তিবাদী সমাজ সংস্কারক। ঈশ্বরচন্দ্র বলেন," কতগুলো কারণে সংস্কৃত কলেজে বেদান্ত ও সাংখ্য আমাদের পড়াতেই হয়। কিন্তু সাংখ্য ও বেদান্ত যে ভ্রান্ত সে সম্পর্কে এখন আর বিশেষ মতভেদ নেই।' আমরা বাবা সাহেব আম্বেদকর কে কীভাবে ভুলতে পারি! সারা বিশ্ব যেখানে 'Symbol of Knowledge' বলে তাঁকে জানে। যে আমাদের সংবিধান প্রণয়ন করেন। তিনি শিক্ষা সম্পর্কে বলেন, যদি দুই টাকা উপার্জন কর তবে এক টাকা দিয়ে ক্ষুধা নিবারণ কর। আর এক টাকা দিয়ে বই কিনে সন্তানদের শিক্ষিত কর।
আর এখানেই কী শেষ! সাবিত্রী বাই ফুলে, জ্যাতিবা ফুলের কথা আমরা কিভাবে ভুলতে পারি। যে সাবিত্রী বাই পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন। যে যুগে নারী শিক্ষা শব্দটাই অজানা। সেই যুগে আধুনিক নারী শিক্ষার গোড়াপত্তন করেছিলেন। এইসবের জন্য তৎকালীন সমাজ তাদের ছেড়ে কথা বলে নি। তাদের সহ্য করতে হয় অকথ্য নির্যাতন। তো প্রশ্ন হলো, আমরা যারা বিজ্ঞানমনস্ক, প্রগতিশীল-আধুনিকতায় বিশ্বাসী, আমরা তাহলে কি সংবিধান মানছি!? না, আমরাও প্রথাগত আধ্যাত্ববাদ দর্শনকে ফলোআপ করছি। শিক্ষার লক্ষ্য যদি পরমাত্মা বা বিশ্ব আত্মার উপলব্ধি বোঝায় তবে এই শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য কী -- তা নিয়ে অবশ্যই মনে প্রশ্ন জাগে?
আজও ভারতবর্ষে শিক্ষার খাতে অনেকটা উদাসীনতা লক্ষ্য করা যায়। পড়াশোনা খরচ বাড়ার সাথেই মাঝ পথে ছেড়ে দিচ্ছে পড়ুয়ারা। তাই বাড়ছে বিদ্যালয় ছুট ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা। আর অন্যদিকে বিজ্ঞানের অস্বিকৃতের পাশাপাশি চলছে বিকৃত ইতিহাসের উপর মননচর্চা। অনেক ক্ষেত্রে নামধারী শিক্ষক যে রচনা করছেন জাতির অধঃপতনে বিকৃত ইতিহাস। অবৈজ্ঞানিক ধ্যানধারণার পাশাপাশি চলছে বৈদিক সিলেবাসের সুপারিশ। তাই তলিয়ে যাচ্ছে বিশ্বের অগ্রগামীর সাথে নিজের প্রগতিশীলতা। সেইজন্য বোধহয় শিক্ষার উদ্দেশ্য কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি বা বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ হারিয়ে অন্তরের মধ্যে বুদ্ধি অগম্য যে সত্তা বর্তমান, তার উপলব্ধিতে আমরা মরিয়া। আর সংবিধানকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে কমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিজ্ঞানমনস্কতার বিপরীত চিন্তা।
একজন শিক্ষক যেখানে ' Friend, Philosopher & Guide ' সেখানে আমরা শিক্ষক হিসেবে প্রয়োজন ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে প্রগতিশীল চিন্তার বিকাশ ঘটানো। নচেৎ শুধু নিদৃষ্ট একজনের গলায় মালা পরিয়ে শিক্ষার ব্যাপকতাকে সংকীর্ণ করা। শিক্ষার ক্ষেত্রে যারা বিশ্বের মানসিকতার সাথে তাল মিলিয়ে সংস্কারের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। তাঁদের মতাদর্শকে সামনে রেখেই শিক্ষার প্রসার ঘটানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। যিনি ঊষর মরুতে বৃষ্টি নামান, তিনিই যদি হয়ে থাকেন শিক্ষক। তবে অনৈতিক কাজে না জড়িয়ে শৈক্ষিক অবক্ষয়ে হাত বাড়াই। এটাই হোক মূল লক্ষ্য।
Thursday, August 29, 2019
বাদ বাংলার কবিতায় রীতির বিপরীত রীতি
লেখক --- রবীন্দ্র গুহ
প্রচ্ছদ --- প্রশান্ত সরকার
প্রকাশক --- সুমিত পাল ধর
প্রকাশনা --- স্রোত
__________________________
" কিছু কিছু বন্ধু, আর আরও কিছু বন্ধুও আসে
আমাকে তেমন নয়,আসলে আড্ডাকে ভালোবাসে।"
(অল্প পরিসরে অনেক কিছুই বলতে পারতেন কবি শক্তিপদ)
Saturday, August 24, 2019
ইন্সটেন্ট তালাক : বিলোপ মধ্যযুগিয় প্রথা
যাইহোক অবশেষে দক্ষযজ্ঞ শেষ হলো। এতদিন মুসলিম মহিলাদের সুরক্ষার ব্যাপারে যে লুকোচুরি চলছিল তার ইতিটানা হলো। মুখে আর বুকে আত্মহংকারের খুশি সবদিকে গদগদ করে বাড়ছে। যেন মোদীই সব পারে অর্থাৎ মোদী ম্যাজিক। বাকিরা সব টাইটাই ফিস। এই বিল নিয়ে যত জল্পনা কল্পনা। তো কী দেশোদ্ধার হলো এই বিল নিয়ে? যে বিলটা পাশ করানো হলো তা "তাৎক্ষণিক তালাক বিল"। কিন্তু প্রচার করা হচ্ছে তিন তালাক বিল। যেন "আজব দেশকি গজব কাহানি"।
তালাক, তালাক,তালাক অর্থাৎ এককথায় ইন্সটেন্ট তালাক। তিনবার বললেই এখন আইনত অপরাধ। এরজন্য সত্যিই মোদীজির অক্লান্ত পরিশ্রম, সফল হয়েছে। যদিও শাহবানু বা এর কয়েক দশক পর সায়রাবানুরা সুপ্রিম কোর্টের কড়া না নাড়লে হয়তো এই সুযোগটুকু আসতো না। আজ দেশের পক্ষে এক ঐতিহাসিক দিন। দীর্ঘ পাঁচঘন্টার আলোচনা ও ভোটাভুটি পর্ব শেষে ৩০ জুলাই,২০১৯ ইং রাজ্যসভায় পাশ হয়ে গিয়েছে "Muslim Women (Protection of Right on Marriage) Bill,2019" তথা তিন তালাক বিল। বিরোধীদের প্রবল আপত্তির মাঝেই ৯৯-৮৪ ভোটে পাশ হয়ে গিয়েছে এই বিল। যার জেরে তাৎক্ষণিক তালাক ভারতীয় আইনে একটি ফৌজদারী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। যদিও ২৫ জুলাই লোকসভায় ৩০৩-৮২ ভোটে পাশ হয়েছিল বিলটি।
এই বিলের সুবিধাগুলো এবার জেনে নেই--
_____________________________________
এই বিলের ক্লস '৩' অনুযায়ী, লিখিত বা বৈদ্যতিন মাধ্যমে তাৎক্ষণিক তালাক বা বিবাহ বিচ্ছেদ (তালাক-ই-বিদাত) অবৈধ। তাৎক্ষণিক তিন তালাক একটি ফৌজদারী অপরাধ যার ফলে তিন বছরের জেল ও জরিমানা হতে পারে। মুসলিম স্বামী কর্তৃক তাঁর স্ত্রীর উপর মৌখিক, লিখিত, ও বৈদ্যুতিন তাৎক্ষণিক তালাক জ থেকে অবৈধ।
যে মুসলিম মহিলাকে তাঁর স্বামী এই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় তালাক দিয়েছেন তিনি তাঁর বিচ্ছিন্না স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণের জন্য ম্যাজিষ্ট্রেটের নির্ধারিত খোরপোষ দিতে বাধ্য থাকবেন। এছাড়া নাবালক সন্তানদের হেফাজতে রাখার অধিকারও পাবেন স্ত্রী। Code of Criminal Procedure,1973 এর আইনের পাশাপাশি ধার্য হবে এই আইনও। একমাত্র ম্যাজিষ্ট্রেটের সম্মতিতে ধার্য হবে বিবাহ বিচ্ছেদ। তাৎক্ষণিক তিন তালাকের অভিযোগ নিতে বাধ্য কর্তব্যরত পুলিশও। যতক্ষণনা ম্যাজিষ্ট্রেট ও অভিযোগকারীণির বয়ান শোনা হচ্ছে, তাৎক্ষণিক তিন তালাকে অভিযুক্ত জামিন পাবেনা। বয়ান শোনার পর সন্তোষজনক ভিত্তিতে জামিন পেতে পারেন অভিযুক্ত।
ইসলামের দৃষ্টিতে তালাক ও তালাক-ই-বিদাত---
-------------------------------------------------------------
বিবাহ যতদিন পর্যন্ত থাকবে ততদিন বিবাহ বিচ্ছেদও থাকবে। কারণ যোগ থাকলে তো বিয়োগের ও স্থান আছে। এটাই তো ধরণ। কারোর কী কোন ক্ষমতা আছে স্বামী স্ত্রীকে জোরকরে সংসার করানোর। মোদীজি কেন ট্রাম্প বাবাজি আসলেও কাজ হবেনা। দাম্পত্য কলহ চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছনো মানে বিবাহ বিচ্ছেদ।
জীবনের চুড়ান্ত বিপর্যয় থেকে স্বামী স্ত্রী উভয়কে রক্ষার জন্য ইসলামে তালাকের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে যখন চরমভাবে বিরোধ দেখা দেয়,পরস্পর মিলেমিশে স্বামী স্ত্রী হিসেবে শান্তিপূর্ণ ও মাধুর্য মণ্ডিত জীবন যাপন যখন একেবারেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়, পারস্পরিক সম্পর্ক যখন হয়ে পড়ে তিক্ত, বিষাক্ত, একজনের মন যখন অপরজন থেকে এমন ভাবে বিমুখ হয়ে যায় যে,তাদের শুভ মিলনের আর কোন সম্ভাবনাই থাকছে না, ঠিক তখনই এই চুড়ান্ত পন্থা(তালাক) অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ইসলামে।তালাক হচ্ছে নিরুপায়ের উপায়। স্বামী স্ত্রী পরস্পরকে বেঁধে রাখার শেষ চেষ্টাও যখন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় তখনই তালাক একমাত্র সঠিক রাস্তা।
তালাকের প্রকার--
১) আহসান বা সর্বোত্তম তালাক, ২) হাসান বা উত্তম তালাক, ৩) বিদাত বা শরিয়া বিরুদ্ধ তালাক।
চলুন তাহলে তিন তালাক বিলের 'ক্লস-৩' অনুযায়ী তালাক-ই-বিদাত সম্পর্কে দু-চারটা কথা বলা যাক। তালাক-ই-বিদাত হলো একসাথে তিন তালাক দেওয়া বা যাকে আমরা ইন্সটেন্ট তালাক বলি। লিখিত, বৈদ্যুতিন, বা দুই-তিনজন সাক্ষী দাতার সামনে স্বাক্ষর করলেই তালাক হয়ে যায়। এমন ধরণের প্রকাশ্য তালাককে বিদায়ীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে এবং যারা এধরণের তালাক অনুষ্টিত করে থাকেন তারা সবাই গুনাহগার হবেন। এভাবেই তৈরী ইসলামী শরীয়াহ আইন।
আজকের ভারতে এই বিল সংশোধন খুবই জরুরী এবং অত্যাবশ্যক। কারণ এরজন্য ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছিল শায়রা বানুকে। তিনি প্রথম নারী যিনি তাঁর মৌলিক অধিকারের দাবিতে ব্যক্তিগত আইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ছিলেন। তাঁর ১৫ বছরের বিবাহিত জীবনে তাকে বারবার গর্ভপাত ঘটাতে বাধ্য করা হয়েছে। সাধারণ সাক্ষীতে তাকে তালাক দেওয়া হয়। এই সেই শায়রা বানু যে অত্যন্ত সাহসীকতার সাথে এই ইন্সটেন্ট তালাকের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেন।
যদিও মোদী সরকার এই বিলে ইন্সটেন্ট তালাক প্রথা বন্ধ করেছে। এরজন্য গত উনিশ মাসে মোট তিনবার তারা লোকসভা থেকে এই বিলের ছাড়পত্র আদায় করে নেয়। কিন্তু রাজ্যসভায় বিজেপি বা তার সহযোগী সংখ্যাগরিষ্টতা না থাকায় বারবার আটকে যায় বিলটি। তবে এবার তারা এই বিল অর্থাৎ 'মুসলিম মহিলা (বিবাহ অধিকার সংরক্ষণ) বিল ২০১৯, পাস করিয়ে নিলো।
বেশতো এটা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে মোদী সরকার। কিন্তু এখানেই আম জনতার কাছে ভুল ম্যাসেজ পাঠানো হচ্ছে মিডিয়া থেকে শুরু করে সরকার পক্ষ থেকেও। যে তিন তালাক বিল এবার অবৈধ। দৈনিক পত্রিকাগুলোর হেডলাইনে বড় বড় হরফে লিখা হচ্ছে। যেহেতু ইসলামী শরীয়াহ আইনে বিবাহ একটি চুক্তি, তো ভারতীয় আইনেও ইসলামী শরীয়াহ আইন অনুযায়ী যে তালাকের কথা উল্লেখ আছে সেটা অবৈধ হয় নাই। বলে রাখা ভালো, শুধু মৌখিক, লিখিত, এস এম এস, হোয়াটসআপ, অন্যকোনো বৈদ্যতিন মাধ্যম বা ইন্সটেন্ট তিনবার তালাক বলা এইসব এখন থেকে অবৈধ।
তিন তালাক বৈধ। এই বিলে মুসলমানদের তালাকের বৈধতায় কোন ধাক্কা খায়নি। আর তাৎক্ষণিক তালাক, ওটাতো এমনিতেই ইসলামে বিদাত বা অবৈধ। তো সরকার এটাকে কী অবৈধ আর নিষেধ করবে। কিন্তু মজার ব্যপার হলো এই তালাক নিয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষ তাস খেলে ফেললো। আর তার সাথে সরকার এই ক'জন মহিলাদের প্রতি মুহ্যমান হয়ে পড়লো। আইনত বিবাহ বিচ্ছেদ হয়নি অথচ স্বামী স্বীকার করছে না এমন মহিলার সংখ্যা অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যেও কম নয়। আর যদি বিবাহ বিচ্ছেদের কথা বলি তবে মুসলিম সমাজ থেকে হিন্দু সমাজে বিবাহ বিচ্ছেদ অনেক গুণ বেশি, ২০১১ সালের জনগণনা রিপোর্টমতে।
প্রশ্ন হলো,তাৎক্ষণিক তালাক বিল যে পাশ হলো তাতে মুসলমানদের কি আর এলো গেলো। এই তালাক তো ইসলামে আগে থেকেই নিষিদ্ধ। শুধু শুধু ঠোঁটে ওঠা ছাড়া আর কিছু নয়। এইতো যদি মুসলিম সমাজ ও মুসলিম নারীদের উন্নয়নের কথা সরকার পক্ষ থেকে শুনা যায় তবে একটা কাজ তো নিঃশ্চয়ই করা যায়- স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সমানাধিকার, কর্মসংস্থান, এইসব সেক্টরে রাজেন্দ্র সাচার কমিটি ০৫, যে সুপারিশগুলো দিয়েছিল সংখ্যালঘু উন্নয়নের জন্য এই কাজগুলো করা যাক। কী বলেন!
'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'
পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...
-
ভারতের আকাশে ছিল বসন্তের বজ্রনির্ঘোষ। এই ট্যাগলাইনটা আজকের বা আমার কথা নয়। গত শতকের সত্তরের দশকে এক বিপ্লবী অভূত্থান। যা ঠিক আ...
-
যদি সত্যি বলতে হয়, বোড়োরা যা করে দেখালো বরাকের প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ মানুষের ঝুলিতে মিলল একরাশ দুর্ভোগ। না না ভুল বুঝবেন না। হিংস...
-
উধমসিংহ মুভিতে, ভগত সিং ব্রিটিশদের সম্পর্কে বলেছেন, "এই লোকেরা আমাদের বিদ্রোহী বলে, আপনার অধিকার চাওয়া হলে যদি বিদ্রোহ হই, হ্যাঁ আমরা ...




