Wednesday, August 31, 2022

আমাদের ন্যায়পালিকা : তিস্তা থেকে বিলকিস


একটা রাষ্ট্ৰের জাতীয় দিবস তার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ আর এর মধ্যে যদি স্বাধীনতার ৭৬ তম বর্ষ উদযাপন হয় তো এর মাহাত্ম্য কতটুকু হতে পারে বোঝতেও পারছেন।এরমানে দেশ কতটা এগোচ্ছে এর একটা প্রমাণ আমরা ওয়াকিবহাল। নিৰ্দিষ্ট শ্ৰেণীর কয়েকজন কারাবন্দীদের মুক্ত করে দেয়া কোন ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। ভারতীয় আইনে এই ধরনের ব্যবস্থা আছে। গৃহ বিভাগ সচিব, আইন বিভাগের সচিব এবং কারাগার বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যাক্তিদ্বয়ের প্ৰস্তুত করা তালিকা মন্ত্রীসভাতে অনুমোদিত হওয়ার পর রাজ্যপালের কাছে প্রেরণ করা হয়। সেই তালিকাতে রাজ্যপাল সন্মতি জানালে তবেই তালিকাভুক্ত সকল কারাবন্দী মুক্তি পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়। এই তালিকাতে ভয়ংকর অপরাধীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না এবং নির্বাচিত সকল কারাবন্দীদের সেলে থাকা সময়ের আচার-আচরণ (বিশেষভাবে বিগত তিন বছরের) সন্তোষজনক হতে হব। উল্লেখিত সময়ে অসদাচরণের জন্য তাদেরকে আলাদা কোন শাস্তি ভোগ করতে হবে এমন নয়।

এইবার স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের গৃহ বিভাগ এমনি এক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে রাজ্য সরকারের কাছে আবশ্যকীয় নির্দেশিকা প্রেরণ করে।বন্দীমুক্তির এই ব্যবস্থা চলিত বছরের ১৫ আগষ্ট, আগামী বছরের ২৬ জানুয়ারি এবং ১৫ আগষ্টের ভিতরে কাৰ্যকরি করতে হবে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। বলাবাহুল্য, গৃহ বিভাগের নির্দেশাবলীতে মুক্তির জন্য নির্বাচিত কারাবন্দীদের মধ্যে হত্যাকারী এবং ধর্ষণকারী থাকতে পারবে না বলেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে।

কিন্তু এই নিৰ্দেশাবলীর অহেতুক সুবিধা নিয়ে গুজরাট সরকার প্রথম খেউয়ে যে ১১জন লোককে মুক্তি করে দেয়, সমগ্র দেশবাসীর চোখ কপালে তুলতে তারা সফল হয়। পিএম মোদী স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোর কিছু সময়ের পরই এই গুরুতর কয়েকটি অপরাধীদের মুক্তি করে দেয়া হয়। তার থেকেও বিস্ময়কর এবং উদ্বেগজনক কথাটা হ'ল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মকর্তারা তাদেরকে কারাগারের সম্মুখে মিষ্টিমুখ করিয়ে দেয়, তিলক লাগানো হয়, পা স্পর্শ করে সম্মান জানানো হয়। কথাটা বিস্ময়কর এবং উদ্বেগজনক বলে একারণেই বলছি যে সেই সকল কারাবন্দীরা কোনো রাজনৈতিক বন্দী ছিল না, দেশ তথা জনতার হিতে সংগ্রাম করে দণ্ডিত করা হয় নি। তারা ছিলেন হত্যাকারী এবং ধৰ্ষণকারী। অথচ গৃহ বিভাগের নির্দেশাবলীতে উল্লেখ আছে, হত্যাকারী এবং ধর্ষণকারীকে মুক্তির তালিকায় সন্নিবিষ্ট করতে দেয়া হবে না। ২০০২ সনের গুজরাটের সাম্প্রদায়িক সংঘৰ্ষে সেই ১১জন বেকসুর খালাসীরা বিলকিস বানো নামের ইসলাম ধর্মীয় পাঁচ মাসের অন্তসত্ত্বা এক মহিলাকে দলবদ্ধভাবে ধৰ্ষণ করেছিল। কেবল বিলকিস কে ধৰ্ষণ করাতে এরা থেমে থাকে নি, তার চোখের সম্মুখেই তার তিন বছরের কন্যা সন্তান সালেহা কে হত্যা করার পরও পরিবারের আরও সাতজন লোকের হত্যা করা হয়েছিল। এরা যে কতটা ভয়ংকর অপরাধী, তা বলে জানানোর আবশ্যকতা নাই। 

যাইহোক, কেন্দ্ৰের গৃহবিভাগ সমগ্র দেশের জন্য জারি করা নীতি গুজরাট সরকার বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পদদলিত করে উক্ত দুর্ধর্ষ অপরাধীদের সসম্মানে মুক্ত আকাশের নিচে বাহির করে আনার সাহস করলো কিভাবে ? উল্লেখ্য যে এই ১১জন কারাবন্দীর মধ্যে একজন বন্দী, যে ইতিমধ্যে ১৫ বছর কারাবাসের সাজা কাটাচ্ছিল, তা লাগব করার উদ্দেশ্যে সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ে আবেদন দাখিল করেছিল। সেই আবেদনের ভিত্তিতে ন্যায়ালয় গুজরাট সরকারকে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তির বিষয়টি বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছিল। সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ের সেই নির্দেশের উপর আমল করে গুজরাটের বিজেপি সরকার বাকী ১০জন লোককে মুক্তি দিয়ে দেয়।

ইতিহাসের পাতায় গুজরাট সরকারের এহেন কার্য নিশ্চয় কোনো সোণালী অক্ষরে লিখা থাকবে না বরং স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসব বৰ্ষে এই ঘটনা কলংকিত করে রাখবে। কলংকিত করে রাখবে, কারণ রাজ্য সরকারের এই কুকার্যে কেন্দ্রীয় সরকারের পরোক্ষ সমর্থন আছে বিজ্ঞ মহলে চর্চিত। সমর্থন আছে এজন্যই কেন্দ্রের জারি করা নীতি উলংঘন করে রাজ্য সরকার যে কার্য সংঘটিত করেছে, কেন্দ্রীয় সরকার তার বিরুদ্ধে একটা কিছু লিখিত বা অন্তত একটা কথাও আজ পর্যন্ত বলে নাই দেশবাসীর প্রতি সম্বোধন করে। দেশের অগণিত মানুষ গুজরাট সরকারের এইকাজের প্ৰতিবাদে সবর হয়ে উঠেছে দেখেও কেন্দ্রীয় সরকার এখনও নির্বিকার হয়ে আছেন৷ উনাদের মৌনতা এই কথার স্পষ্ট আভাস দেয় যে বিলকিস বানো তথা তার পরিবারের মধ্যে আসতে পারে সম্ভাব্য দুশ্চিন্তা এবং বিপদ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার একদমই উদ্বিগ্ন নয়, বরং আম আদমি পার্টির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা তাদের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে ৷ একজন সোসিয়াল এক্টিভিস্ট বলেন 'সম্ভবত গোধরা বিধায়ক সি কে রাহুলের .. they are Brahmins. Anyway, the sanskar of Brahmins is very good." এই মন্তব্য আপ্তবাক্য রূপে মোদী-শাহ অন্তস্থল থেকে বিশ্বাস করেন। উল্লেখযোগ্য যে, সাজা লাগব করা পর্যালোচনা সমিতিতে রাহুল জি'র ছাড়াও আরও একজন মহিলা বিধায়িকা সুমন চৌহান ও ছিলেন !'

সম্প্রতিকালে ভারতের ন্যায়ব্যবস্থা নিয়ে যে সকল অবাঞ্ছিত প্ৰশ্নের অবতরণ হয়েছে, বিলকিস বানোর ঘটনাই সব 'দুধ কা দুধ, পানি কা পানি' হয়ে গেছে । এর আগে তিস্তা সিতালভাড় এবং শ্রীকুমারকে নিয়ে সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ে দেয়া রায়ের বিষয়ে বিভিন্ন লোক ভারতীয় বিচার ব্যবস্থাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে তুলেছেন। অবশ্য দুই একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে ন্যায় ব্যবস্থাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের ন্যায়লয়ের উপর আমার আস্থা আছে এবং তা রাখতে হবে। যদিও কয়েকটি রায় ন্যায়ালয়ের মর্যাদা অবনমিত করেছে বলে অনেক লোকের মন্তব্য। এমনকি সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ের প্রাক্তন বিচারপতি এবং জ্যেষ্ঠ আধিকারিকের কাছ থেকেও মন্তব্য শোনা যায়। তিস্তা সিতালভাড় এবং শ্রীকুমারের বিষয়টি আন্তরাষ্ট্রীয় পর্যায়েও তোলপাড় শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের বিশ্ববরণ্য কিছু ভালো মানুষ সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়কে অনুরোধ জানিয়ে এইবলে আবেদন দাখিল করেছে যে স্বতস্ফূর্ত উদ্যোগ নিয়ে ন্যায়ালয়ে সিতালভাড় এবং শ্রীকুমারের কেইস দুটো তাৎক্ষণিকভাবে রফা-দফা করতে হবে। এই আবেদনে সকল স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন—— ব্ৰিটিশ সাংসদ এবং রাজনৈতিক তত্ত্ববিদ ভিখু পারেথ, ভাষাতত্ত্ববিদ তথা স্বনামধন্য বুদ্ধিজীবী নোয়াম চমস্কি, ভারতীয় মূলত আমেরিকান নৃতত্ত্ববিদ অর্জুন আপ্পাডুরাই, মার্কিন রাজনৈতিক তত্ত্ববিদ ওয়েণ্ডি ব্রাউন, ভারতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃত পণ্ডিত শেল্ডন পল ক., অর্থনীতিবিদ রবাৰ্ট পলিন, দার্শনিক কেওল বরেন, চাৰ্লস টেইলব, মার্কা নুসবাউম, আকিল বিলগ্রামী আরও অন্যান্য। এর দ্বারা দুটো কথা স্পষ্ট হয়। এক, এতো দিন ধরে আমাদের সরকারের — “ভারতের ন্যায়পালিকা স্বতস্ফূর্ত'— কথাগুলোর আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। দুই, ন্যায়পালিকাকে প্রহসনমূলক করার ক্ষেত্ৰে বিজেপি সরকারের ভূমিকা সুস্পষ্ট।জরুরীকালীন অবস্থায় ইন্দিনা গান্ধী ন্যায়পালিকাকে নিজ স্বাৰ্থে ব্যবহার করেন নি, কিন্তু সাম্প্রতিক কালে ন্যায়পালিকার গতি-বিধি জরুরী কালীন অবস্থা কে তুচ্ছ করে তোলেছে।

এখনও আমাদের দেশে জরুরিকালীন অবস্থা জারি করা হয় নি। যদিও এর আবশ্যকতাও নেই৷ কারণ ফ্যাসিবাদ ঘোষণার মাধ্যমে ইহা আসে না, এটা আসে হস্তক্ষেপে একজনে দুজনের ভাগ আত্মসাৎ করার জন্য । ইতিমধ্যে আমার ঘটি, লোটা, বাটি আমার বহু বস্তু নেয়া হয়েছে । কিন্তু আমি অন্ন যোজনা, অরুণোদয়, সোনা রূপার মোহে বন্দী, আজমল মুখ্যমন্ত্ৰী হওয়ার আতংকে আক্রান্ত। একটা সময়ে আনোয়ারা তাইমুরও মুখ্যমন্ত্ৰী হয়েছিলেন। আমরা এতোটাই অন্ধ হয়ে গিয়েছি যে পরনের কাপড়টা যেদিন হারাবো, সেইদিন আর রাজার বিরুদ্ধে বাহিরে এসে প্রতিবাদ করতে পারবো না। ইতিমধ্যে আমরা 'বইলিং ফ্রগ সিমড্রমে' আক্রান্ত হয়েছি।

https://acrobat.adobe.com/link/review?uri=urn:aaid:scds:US:34b142c8-55b5-395e-87d8-7132a7c91985

Saturday, August 27, 2022

রুশদির উপর হামলা ও অন্যান্য

প্ৰথমত সৎকারের প্ৰসংগ নিয়ে কিছু কথা বলি। দুই যুগ আগে একজন শৰ্মা একজন কোচ রাজবংশীকে বিয়ে করেন। প্ৰকৃতির নিয়ম মতে মানুষ মরবেই। এই শৰ্মাই মরেছিলেন। তাঁর সৎকার করার জন্য (সহজ ভাষায় পুড়ানোর জন্য) কেহই অগ্রসর হয়ে আসেন নি। কেনো আসবেন? ঈশ্বরের মুখপত্র বেদ চারটি বর্ণের কথা বলে। গীতাতেও আছে। আমি এত কিছু জানি না।তবে এটা নিশ্চিত যে বেদে আছে। ঈশ্বরের বাণী এমন একটি ধর্মগ্রন্থকে উল্টে দেওয়ার ক্ষমতা কি মানুষের আছে? আপনিও বেদে বিশ্বাস করবেন এবং চার বর্ণের বিরোধিতা করবেন। হয় ধর্মগ্রন্থ পড়ে এই জঘন্য মানসিকতাকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে বা স্বীকার করতে হবে যে গ্রামের লোকেরা যা করছে তা ধর্মের নির্দেশ অনুযায়ীই করেছে।

এই বিষয়ে একটু আলোচনা করা যাক। কেউ কেউ বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে নয়, কাজের ভিত্তিতে জাত বিচার করা উচিত। তার মানে কি পরিশ্রমী কৃষক, নাপিত, লন্ড্রিম্যান এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিকৃষ্ট বর্ণের? আর যারা মানুষের টাকা মেরে সম্পদের পাহাড় গড়ে তারা উচ্চ বর্ণের! কি ভয়ানক মানসিকতা আমাদের! মানুষের আবার জাতিগত বিচার কি? আমি একবার পড়েছিলাম যে জাপানের একটি কারখানার মালিক নিজে টয়লেট পরিষ্কার করেছিলেন। টয়লেট ক্লিনার কেন নিম্ন বর্ণের হবে? আমি একবার অফিসে গিয়ে দেখি, থুতু ফেলে বেসিন নোংরা করে ফেলেছেন কোন এক বড়বাবু , আর ঝাড়ুদার পরিষ্কার করছেন। নিজের থুতু নিজে পরিষ্কার করতে আপত্তি কেন? বন্ধুরা, জাতপাতের এই কুৎসিত মানসিকতা পরিহার করুন। ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলুন কোনো বই বা মানুষ (তা কাজ বা ধর্মের ভিত্তিতেই হোক) যারা জাত নিয়ে কথা বলে ।

কিছু নিচু মনের মুসলমানও এই জাতপাতের খেলা থেকে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে। সেই অংশের সাথে সতর্ক থাকুন। নূপুর যা বললেন তার আড়ালে সারা বিশ্বে যে নৃশংস খেলা চলছে তা নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। তবে নূপুর যা বলেছেন তা ইসলামের প্রাসঙ্গিক পবিত্র গ্রন্থ হাদিস থেকে উদ্ধৃত। তারাই চার্লি হেবডোরের উপর হামলা চালিয়েছে এবং ফরাসি শিক্ষককে হত্যা করেছে। তারা উপন্যাস লিখার জন্য সালমান রুশদিকে নিষিদ্ধ করেছে। তার প্রাণ কেড়ে নিতে তারা হামলা চালায়। তাদের মানসিকতাও শাস্ত্র দ্বারা পরিচালিত। তাদের ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে, কিন্তু তারা যে ধর্মগ্রন্থ দ্বারা প্রভাবিত তাতে কি কোনো ভুল আছে?

'একজন লেখকের কাজ শুধু পাঠকের রুচি অনুসারে লেখা পরিবেষণ করা নয়। একজন লেখকের কাজ পাঠককে শুধু আনন্দ জোগানো নয়। একজন লেখকের কাজ পাঠককে বিরক্ত করা এবং অপশক্তিকে উত্যক্ত করা। লিও টলস্টয় নিজেকে বলতেন 'প্রফেশনাল ট্রাবলমেকার'। একজন লেখক তো তাই, তিনি বিঘ্ন সৃষ্টি করবেন পাঠকের সরল জীবনপথে, কাঁকড় বিছিয়ে দেবেন। পাঠক হোঁচট খাবে, এবং চোখ তুলে তাকাবে। সে তবেই বুঝবে তার চারপাশে কী ঘটছে। প্রুস্তু বলেছিলেন স্মৃতির মধ্যেই আছে বাস্তবিকতা। অতএব পাঠককে সেই বাস্তবিকতা উপলব্ধি করাতে হলে একজন লেখককে তাঁর লেখাকে স্মরণীয় করতে হবে, আজকের তথাকথিত জনপ্রিয় লেখকদের মতো ইউজ অ্যান্ড থ্রো সাহিত্য রচনা করলে চলবে না।' সলমান রুশদী একাধিক কারণে আমার খুব প্রিয় সাহিত্যিক নন। কিন্তু তাঁর মেরুদণ্ডটা খুব শক্ত, তাই আমার পছন্দ । এই ছুরিকাঘাত বিশ্বসাহিত্যের উপরেই হয়েছে। এ সাহিত্যের পরাজয় নয়। এটা জয়।তবে বুঝা গেল সাহিত্যের শক্তির মোকাবিলা কেবলমাত্র পশুশক্তি দিয়েই করতে পারে কিছু গোষ্ঠী।

সাটানিক ভার্সে কি আছে? আমি ঠিক জানি না, আমি তা পড়িও নি। কিন্তু বিভিন্ন আলোচনা পড়ে ও শুনে যা বুঝলাম তা হলো তিনি তার উপন্যাসে ইসলামের নবী মুহাম্মদের জীবনের একটি ঘটনাকে খুব কৌশলগত ভাবে তুলে ধরেছেন। একজন লেখকের অবশ্যই সেই অধিকার আছে। হিন্দু ধর্মের দেবদেবীদের নিয়ে অনেক রসিকতা ও সাহিত্য রয়েছে। সেখানে তো, কেউ আপত্তি করে না, তবে একজন সাহিত্যিক হিসাবে তিনি এটি উপভোগ করেন। যদিও বর্তমানে কিছু হিন্দুও উপরোক্ত বর্ণের মুসলমানদের মত আচরণ করছে এবং তারা ক্রমশ সংখ্যাগরিষ্ঠ হচ্ছে। এটা আমাদের দেশের জন্য এক ভয়াবহ ভবিষ্যতের ইঙ্গিত।
সালমান রুশদিকে কোপানো জিহাদি হাদি মাটারের বয়স ২৪ বছর। রুশদি দেশছাড়া হয়েছেন ৩৩ বছর আগে। দ্য স্যাটানিক ভার্সেস বইয়ের বয়স ৩৪ বছর। অর্থাৎ রুশদি যখন এই বইটা লিখেছিলেন তখন তাকে আক্রমণ করা এই জিহাদি ছেলেটার জন্মও হয়নি। অথচ সে এমন এক ঘৃণার পরিবেশে বড় হয়েছে যেখানে তাকে শেখানো হয়েছে সালমান রুশদিকে হত্যা করতে হবে তার বইয়ের জন্য। রুশদী কি লিখেছেন সে আদৌ পড়ে দেখেছে কিনা সন্দেহ আছে।

একইভাবে বাংলাদেশে মৌলবাদীরা তসলিমা নাসরিনকে ঘৃণার শিক্ষা নিয়ে বড় হয়েছে। কেউকেউ তাকে হত্যা করার জন্য তৎপর । অনেকেই তো আবার তার মাথার দাম নির্ধারণ করেছে। পূর্বসূরি হুমায়ুন আজাদ, তসলিমা নাসরিন থেকে উত্তরসূরী অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, আসিফ মহিউদ্দিন, সবাই কমবেশি ভুক্তভোগী। ভারতেও দাভল কার, গৌরী লঙ্কেস সহ বহু বুদ্ধিজবী কে হত্যা করা হয়েছে। এত হত্যা, খুন, ধর্ষণ, বোমাবাজি করার পরেও দেখবেন তারা বলবে সারা দুনিয়া তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। পশ্চিমারাতো ইসলামোফোবিয়ার চাষ করছে। যারা বইয়ের জবাব দেয় চাপাতি দিয়ে, যাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ এইসব হত্যা দেখা উল্লাসে ফেটে পড়ে, একজন সুস্থ-স্বাভাবিক, জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ মাত্রই এদের দেখে ফোবিয়ায় ভুগবে।

আচ্ছা যাইহোক রুশদির কথায় আবার আসা যাক। আমার ভুল হলে আমাকে সংশোধন করাবেন। নবী মুহাম্মদ একবার মক্কায় জনসমক্ষে প্রার্থনা করার সময় মূর্তি পূজারীদের দেব-দেবীর প্রশংসা করে একটি আয়াত পাঠ করেছিলেন। যাতে মুশরিকরা মুহাম্মাদের সাথে একত্রে সিজদা করে। এই মিল দেখে ইতিমধ্যে হিজরত করা মুসলমানরা মক্কায় ফিরে যেতে শুরু করে। পরে তিনি আয়াতটিকে ভুল বুঝেছিলেন এবং শয়তানের প্ররোচনা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তাফসীর কিতাবে বা বিভিন্ন ইসলামী গ্রন্থে এ ঘটনার বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। আগ্রহীরা নিজেদের জন্য এটি পড়া উচিত। রুশদি খুব কৌশলগত ভাবে এই ঘটনাটিকে তার উপন্যাসে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এটি ইসলামে বিশ্বাসী বেশিরভাগ লোককে তার মৃত্যুদণ্ডের জন্য আকাঙ্ক্ষায় আছে এবং তারা তা বাস্তবায়নেরও চেষ্টা করে।

বিরোধিতা করলে কলম দিয়ে করো, তলোয়ার দিয়ে কেন? নাকি আপনি কলম ব্যবহার করতে জানেন না? আজকের যুগে কলম ছাড়া অস্ত্র বানানো যায় না। যারা কল্লা নামানোর কথা বলেন শুধু কথা বলার অধিকার স্তব্ধ করতে তারা; ফ্যাসিস্ট দের বিরোধিতা করে কোন মুখে? সলমন রুশদির কি কথা বলার অধিকার নেই । যদিও লোকটা সাম্রাজ্যবাদী পুঁজির সমর্থক। তাই কলম ধর, অস্ত্র নয়, বল নয়, হিংসা নয়। যা খুশি লিখুন, যা খুশি শপথ করুন, অভদ্র ভাষায় শপথ করুন, শুধু বর্ণবাদী আচরণ করবেন না, হিংসা ছড়াবেন না।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কি উচ্চাকাঙ্ক্ষা নীতীশ কুমারের আবার ক্ষমতা দখল !


বিহার রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল রাজ্য। এখানকার লোকেরা তাকে তাদের নেতা হিসাবে বিবেচনা করে বা পছন্দ করে, যার 'অর্ধেক প্র্যাঙ্কস্টার' এবং 'অর্ধেক দাবাং গিরি' রয়েছে। কিন্তু ৭১ বছর বয়সী নীতীশ কুমার আত্মবিশ্বাসী যে তিনি নিজেকে একজন সুদক্ষ রাজনীতিবিদ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। যদিও তিনি ক্রমাগতভাবে তার রাজনৈতিক অংশীদার পরিবর্তন করে আসছেন। আজ তিনি বিজেপির বদলে পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বী তেজস্বী যাদবের সঙ্গে জোট বেঁধেছেন। আর এসবই করা হচ্ছে অত্যন্ত তীক্ষ্ণ নজরে।

 পাঁচ বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার বিজেপির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে, নীতীশ কুমার দেখিয়েছেন যে তিনি তার দল জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ) এবং বিহারকে খুব শক্ত হাতে শাসন করছেন। একই সময়ে, এটাও দেখা গেছে যে বর্তমানে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ক্ষমতার জন্য অন্য কোন প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কংগ্রেস এবং তেজস্বী যাদবের সাথে একসাথে সরকার চালাচ্ছিলেন।তেজস্বী যাদব ছিলেন RJD-এর প্রধান এবং কংগ্রেসও সেই জোটে যুক্ত ছিল। কিন্তু তেজস্বী যাদবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে বিজেপির দ্বারস্থ হন নীতিশ কুমার।

 নীতীশ কুমার কয়েক দশক ধরে বিজেপির জাতীয় দলেও ছিলেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই গত এক দশক ধরে তার মিত্রদের সম্পর্কে অস্পষ্টতা দেখা যায় । তেজস্বী যাদবের সাথে সমস্ত তিক্ততা সত্ত্বেও, যিনি তাকে "পল্টু চাচা" বলে ডাকতেন, নীতীশ কুমার তার সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এই আশায় যে তিনি সম্ভবত ২২ বছরে অষ্টমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন। এবং যদি তিনি সফল হন তবে এটি একটি বিশাল কৃতিত্ব হবে কারণ বিজেপি (৭৪) বা তেজস্বী যাদবের (৮০) তুলনায় তার কম (৪৩) আসন রয়েছে।

তেজস্বী যাদব অনুমতি দিয়েছেন কারণ এটি কেবল তাকে ক্ষমতায় ফিরে আসার সুযোগই দেবে না, বিহারের রাজনীতিতে একটি চমৎকার বর্ণ-সংমিশ্রণ থেকেও উপকৃত হবে। বিহারে আরজেডির ১৪.৪ শতাংশ যাদব ভোট এবং ১৭ শতাংশ মুসলিম ভোট রয়েছে। চরম পশ্চাদপদ ভোটার নীতীশ কুমারের সঙ্গে দাঁড়িয়েছেন। নীতীশ কুমার নিজে একজন কুর্মি কিন্তু বিহারে চার শতাংশ কুর্মি ভোটার তেমন একটা ব্যাপার নয়।তেজস্বী যাদবের সাথে সম্প্রতি জুন মাসে আসাদুদ্দিন ওয়াইসির এআইএমআইএম-এর পাঁচ বিধায়কের মধ্যে চারজন যোগ দিয়েছেন। ওয়াইসি দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিজেপির ‘বি-টিম’ বলে অভিযোগ করে আসছেন। এবং এটাও একটা সত্য যে বিহারের সমস্ত আঞ্চলিক দল চায় না ওয়েসির দল বিহারে পা ছড়িয়ে পড়ুক। 

বেশ কিছুদিন ধরেই বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন নীতীশ কুমারও। তিনি প্রকাশ্যে নতুন অগ্নিপথ আর্মি রিক্রুটমেন্ট স্কিম নিয়ে কটাক্ষ করেন। নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ তখনও এ বিষয়ে শান্ত ছিলেন। একের পর এক অনাস্থা দেখিয়ে ছিলেন নীতীশ কুমার। NITI আয়োগ সভায় যোগ দিতে অস্বীকার করেছিলেন এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুরের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজও বয়কট করেছিলেন। প্রাক্তন ঘনিষ্ঠ সহযোগী আরসিপি সিংয়ের সাথে নীতীশ কুমারের প্রকাশ্য ঝগড়া, যাকে রাজ্যসভার আসন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল, আসলে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং অমিত শাহের সাথে "সেডোও বক্সিং" ছিল।

গত জুন মাসে উদ্ধব ঠাকরের সরকার পতনের পর, মিত্রদের খরচে বিজেপির আধিপত্যের ভয়ে নীতীশ কুমার সোনিয়া গান্ধীকে ডেকেছিলেন। খবরে প্রকাশ যে সোনিয়া গান্ধী নীতীশ কুমারের উদ্বেগের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল ছিলেন এবং যাদব পরিবারকে সহযোগিতা করতে রাজি হয়েছিলেন। লালু যাদবের সঙ্গেও কথা বলেছেন সোনিয়া গান্ধী। লালু যাদবও তাঁর ছেলে তেজস্বীকে অতীত ভুলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তেজস্বীর প্রস্তুত হওয়াতেই সবুজ সংকেত পেয়ে যায় নতুন ‘টিম নীতীশ’। দলগুলোর একই ক্ষমতা বণ্টন থাকবে যেভাবে তারা গতবার একসঙ্গে কাজ করেছিল। আর নীতীশ কুমার থাকবেন মুখ্যমন্ত্রীর আসনে।

নীতীশ কুমার ২০ অক্টোবর ২০২০-এ ভাগলপুরের একটি নির্বাচনী জনসভায় কটূক্তি করেছিলেন যে লালু প্রসাদ টাকা কোথা থেকে আনবেন.. জেল থেকে নাকি জাল নোট ছাপবেন? কাজ নিয়ে 'তু-তু, ম্যায়-ম্যায়'-এর লড়াইয়ে তেজস্বী তখন টুইট করে জবাব দিয়েছিলেন যে আপনি এটা বুঝবেন না। অন্যদিকে, নীতীশের তৎকালীন মিত্র বিজেপি, যে প্রথম দিকে তেজস্বীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মিথ্যা অপবাদ দিয়ে রটিয়েছিল কিন্তু নির্বাচনের মরসুমে নীতীশ কুমারের থেকে আলাদা অবস্থান নিয়ে ১৯ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থানের জন্য একটি নির্বাচনী প্রস্তাব ঘোষণা করে বিজেপি। এর জন্য দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে সেই রেজুলেশন লেটারের উন্মোচন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পাটনায় পাঠিয়েছিল, যাতে জনগণ বোঝাতে পারে যে কর্মসংস্থানের পথে অর্থের অভাব নেই। তবে নির্বাচনের পর বিজেপি ও জেডিইউ-র সরকার অক্ষত থাকলেও রাজ্যে যুবকদের কর্মসংস্থানের কোনও অর্থবহ উদ্যোগ হয় নি।

এখন, যখন নীতীশ কুমার এবং বিজেপি আলাদা হয়ে গেছে এবং মনে করা হচ্ছে যে নীতীশ কুমার ২০২৪ সালের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং বিজেপির বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই শুরু করেছেন, তখন তিনি পুরোনো অবস্থান থেকে ইউ টার্ন মেরে একটা বড় ঘোষণা করেন। ঠিক সেই দিনেই বেছে নেওয়া হয়েছিল, যখন প্রধানমন্ত্রী মোদি ২০৪৭ সালের বিকশিত ভারতের জন্য লাল কেল্লা থেকে 'পঞ্চ প্রাণ' আহ্বান করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি ঐতিহাসিক ভবন থেকে কোনো নতুন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ঘোষণা করেননি বা মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব, কৃষক, দরিদ্র সম্পর্কিত কোনো জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে কথা বলেননি, তবে তিনি পরিবারবাদ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন। পিএম মোদী এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের আখ্যান নির্ধারণের চেষ্টা করেছিলেন।

নীতীশ কুমার সর্বদা বলেন যে তিনি কেবল তার বিবেকের কণ্ঠে পদক্ষেপ নেন। যদিও তার সমালোচকরা তাকে ‘কুরসি কুমার’ বলে উপহাস করে। তবুও এই সত্যটি অস্বীকার করা যায় না যে নীতীশ কুমার এখনও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কোমলতা লালিত করে, কয়েক দশকের পুরনো আকাঙ্ক্ষা বজায় রেখেছেন। বিরোধীদের কাছে তার ফিরে আসা তাকে বুঝতে দেয় যে এখন তিনি সুযোগ পাবেন কারণ অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইমেজ ক্ষুণ্ন হয়েছিল যখন তার সহকর্মী মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জির কাছ থেকে বিপুল অর্থ উদ্ধার করা হয়েছিল

স্বাথী চতুর্বেদীর একটা কথা আমাদের মনে করিয়ে দেয়,যেখান তার কলামে লিখেছিলেন 'নীতীশ কুমারের খুব কাছের এক নেতার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেন, "নীতীশ বাবু উত্তর ভারতে একজন গ্রহণযোগ্য নেতা। পাওয়ার এবং ব্যানার্জিকে এটা বিশ্বাস করা উচিত"। নতুন মিত্রদের সাথে শপথ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এবং তাই নতুন উচ্চাকাঙ্ক্ষার বাতাসে ভাসছেন। একে সংক্ষেপে নীতীশ কুমার বলে।'

হয়তো নীতীশ কুমারের মেজাজ বদলেছে, অথবা নতুন তরুণ সঙ্গী তেজস্বী যাদবের প্রভাবে তিনি বিহারে ১০ লাখ চাকরিসহ ২০ লাখকে রোজগার দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। প্রকৃতপক্ষে, এর মাধ্যমেও নীতীশ লম্বা লাইন টানার চেষ্টা করেছেন। তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রী মোদি তার ২ কোটি লোককে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আলোচনা করতে চান না, তিনি মিত্রদের প্রতিশ্রুতিরও যত্ন নেন। ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিহার শাসন করা নীতীশ কুমার যদি ২০২৪ সালের আগে ১০ লক্ষ লোককে যদি চাকরি দেন, তবে এটি তার অপরাজেয় প্রান্ত হতে পারে এবং এই রাজনৈতিক কৌশলে নীতীশ ও তেজস্বী উভয়ের জন্যই ' সাপ ও মরবে লাঠিও ভাঙবে না '।


Sunday, August 14, 2022

মরুভূমির বুকে ‘প্রথম মাধ্যাকর্ষণহীন শহর


অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের দিকে যাত্রা শুরু করেছে সৌদি আরব। বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্থাপনা তৈরি করতে যাচ্ছে তাঁরা। এই স্থাপনাটি মূলত 'দ্য মিরর লাইন' LINE বা নিওম NEOM শহর নামেও পরিচিত। যার নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ কোটি ডলার বা প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার এর উপর। এছাড়া এই প্রকল্পে আইন প্রণয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার। এটি প্রায় ১২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এবং উপকূলীয়, পর্বত ও মরুভূমি অঞ্চল জুড়ে ৭৫ মাইল সমান্তরালে মিশরের মরুর বুকে অবস্থিত।এর উত্তরদিকে লোহিত সাগর এবং পূর্বদিকে আকবা উসাগরে অবস্থিত।এর ক্ষেত্রফল প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার।এর আকৃতি হবে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস রাজ্যের কাছাকাছি।এটি দুটি কাচের প্রতিফলিত ভবনের সমন্বয়ে গঠিত। এখানে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ ৫ মিনিটে হেটে একে অপরের সঙ্গে দেখা করতে পারবে।ধারণা করা হচ্ছে,এটি তৈরি করতে সময় লাগবে প্রায় অর্ধ-শতক বা ৫০ বছর এবং এতে ৫০ লক্ষ বা ১ মিলিয়ন মানুষ বসবাস করতে পারবে।

এতে থাকবে ১৬০০ ফুট পর্যন্ত দুটি বিল্ডিং যা পিরামিডের মতো উচ্চাভিলাষী হবে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের এম্পায়ারের চেয়েও বেশি লম্বা হবে।এটির নিচ দিয়ে উচচগতিসম্পন্ন ট্রেন চলাচল করবে যা প্রায় ২০ মিনিটে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছিয়ে দিতে পারবে।মাটি থেকে ১০০০ ফুট উপরে থাকবে খেলার মাঠ।এছাড়া নিয়ম সিটির ট্রান্সপারেন্ট লাইন হতে পারে পৃথিবীর সপ্তাচার্য।এখানে কার্বন-ডাই অক্সাইডের মাত্রা শূণ্য এবং অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক বা নিয়ন্ত্রিত থাকবে।এই পরিকল্পনার মধ্যে আরো একটি যমজ ভবন যা ওয়াকওয়ের মাধ্যমে যুক্ত থাকবে। আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স দ্বারা পরিচালিত ওয়াটার সাপ্লাই ও এনার্জি সম্পূর্ণ নবায়নযোগ্য।এছাড়া এর ভিতরে থাকবে চাষাবাদের ব্যবস্থা।

সৌদি সিংহাসনের উত্তরসূরি মোহাম্মদ বিন সালমান এ পরিকল্পনার ঘোষণা দেন। এই পরিকল্পনাটি কার্যক্রম ২০২১ সালেই শুরু হয় এবং এটি ২০৩০ ভিশন নামেও পরিচিত।এই পরিকল্পনাটি আল-জাজিরার ওয়াল্ড স্টিফেন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মরফোসিস আর্কিটেক্টর এর প্রতিষ্ঠাতা প্রিটজোকার আর্কিটেক্টর বিজয়ী থম মেইন।ধারণা করা হচ্ছে যে,এই পরিকল্পনা বা প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে সফল হলে এটিই হবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও আধুনিক স্মার্ট সিটি।

 সৌদি কর্মকর্তারা একে বিশ্বের সবচেয়ে বড় উচ্চাভিলাষী প্রকল্প হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ফ্লাইং কার সুবিধাসহ শহরটিকে বিশ্বের প্রথম প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। রেস্তোরাঁয় রোবোটিক সেবক থাকবে এবং হলোগ্রাফিক শিক্ষকরা স্কুল/কলেজে পড়াবেন। কৃত্রিম বৃষ্টি হবে এমনকি রাতের আলোর জন্য চাঁদও তার নিজস্ব হবে। এছাড়া রোবোটিক ডাইনোসর দিয়ে জুরাসিক পার্কও তৈরি করা হবে। 

ওয়েস্টার্ন স্পোর্টস সিটি এটি হবে বিশ্বের প্রথম ক্রীড়া শহর যা নিওম প্রকল্পের অধীনে ৩৭ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হবে, যেখানে ইসলামিক আইন প্রযোজ্য হবে না। স্পোর্টস সিটিতে আগত পর্যটকদের জন্য পশ্চিমা দেশ অনুযায়ী প্রণীত নিয়ম-কানুন প্রযোজ্য হবে। ক্রীড়া অনুরাগী, মহিলা এবং শ্রমিকদের প্রতি থাকবে না কোন শরিয়া বিধিনিষেধ এবং পশ্চিমা দেশগুলির আদলে অবাধে চলাফেরা করতে পারবে। স্পোর্টস সিটি সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন ২০৩০ এর অংশ। এর আওতায় সৌদি আরবকে ক্রীড়া ইভেন্টের বিশ্ব কেন্দ্রে পরিণত করা হবে।

প্রকল্পের প্রথম ধাপ, যা ২০১৮ সালে শুরু হয়েছিল, ২০২৫ সালে শেষ হবে। সৌদি আরব বলেছে যে তারা কোনো মূল্যে গেমস থেকে রয়্যালটির হার কমিয়ে দেবে না, এমনকি তাদের বৈশ্বিক মঞ্চে বিরোধিতা করলেও। এর লক্ষ্য খুব স্পষ্ট - পর্যটন শিল্পকে অবশ্যই তার রাজস্বের ১০ শতাংশ উৎপন্ন করতে হবে। খেলাধুলা সংক্রান্ত অনেক বড় ইভেন্ট আয়োজনের এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা তৈরি করেছে সৌদি আরব। গত শনিবার, রিয়াদে অ্যান্টোইন জোশুয়া এবং অ্যান্ডি রুজ জুনিয়রের মধ্যে ওয়ার্ল্ড হেভিওয়েট বক্সিং প্রতিযোগিতা হয়েছিল। এই ম্যাচের প্রাইজমানি ৪৭২০ কোটি টাকা। আগামী বছর বক্সিং, ফুটবল, ফর্মুলা ওয়ান, সাইক্লিং, ঘোড়দৌড়সহ অনেক খেলার চ্যাম্পিয়নশিপ হবে বড় পরিসরে, যাতে থাকবে কোটি কোটি টাকার পুরস্কার।

 এদিকে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা খেলার মাঠে ফিরে সৌদি আরবের নতুন ভূমিকার জন্য সমালোচনা করেছে। যতদূর স্প্যানিশ রাষ্ট্র সম্প্রচারক RTVE. আগামী মাসে জেদ্দায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া স্প্যানিশ সুপার কাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে অস্বীকার করেছে।

 তহবিল কোথা থেকে আসবে?
 নিওম সিটির প্রথম ধাপের কাজ ২০২৫ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এ জন্য সময়মতো তহবিল ব্যবস্থা বড় লক্ষ্য। প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের তার দেশকে প্রযুক্তি হাব এবং ক্রীড়া নগরীতে গড়ে তোলার লক্ষ্যের অংশ হিসেবে তেল কোম্পানি শেয়ার বিক্রি করে তহবিলের ব্যবস্থা করা হবে। শেয়ার বিক্রিতে বিলম্ব হলে কাজ আটকে যেতে পারে। এ ছাড়া সময়ে সময়ে সৌদি আরবে ক্রীড়া অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রি, প্রতিবছর হজযাত্রী তথা পর্যটনের প্রচারের মাধ্যমে তহবিলের ব্যবস্থা করা হবে।

সৌদি আরব হলো দ্বিতীয় ইসলামি দেশ যারা তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন করেছে। এর আগে, তেলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে কয়েক দশক আগে দুবাই পর্যটন শিল্পকে বাড়িয়েছিল। এক সময় এটি শুধুমাত্র তেল শিল্পের কারণে স্বীকৃত ছিল, কিন্তু এখন তা নেই। তেল বাণিজ্য কেবল তাদের অর্থনীতির প্রধান উৎস ছিল না, তবে পর্যটন, রিয়েল এস্টেট এবং আর্থিক পরিষেবাগুলিও আয়ের প্রধান উৎস হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। শরিয়া আইনের আওতায় থাকা দেশে এইধরণের অভিনবত্ব কম বড় কথা নয়।

তবে যাইহোক সৌদি তার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পথে অগ্রসর হতে চলেছে। শহরটির নাম যেহেতু NIOM বা ‘নিয়ম’। সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন হতে চলছেন এই শহরের বোর্ড অব ডাইরেক্টর্স-এর প্রধান। জলবায়ু বদল ও বর্তমান নগরজীবনের সমস্যা মোকাবিলাতে এই শহর যুগান্তকারী হতে চলেছে বলেও দাবি করেন সলমন। এমনই একটি শহর তাঁরা নির্মাণ করতে চলেছেন বলে দাবি সৌদি আরবের। তাদের দাবি, এই শহরটি ‘পৃথিবীর প্রথম মাধ্যাকর্ষণহীন শহর’ হবে, ‘থাকবে না কোনও দূষণ, চলবে না কোনও গাড়িও’।

ভারত আবার জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন নেবে


ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ (Secularism) শব্দটির বিস্তৃত অর্থ রয়েছে। যদি উইকিপিডিয়া তে দেখা যায় তবে ধর্মনিরপেক্ষবাদ বলতে সাধারণত রাষ্ট্র আর ধর্মকে পৃথকরূপে প্রকাশ করাকে বোঝায়। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে ধর্ম বা ধর্মীয় রীতিনীতির বাইরে থেকে পরিচালনা করাকে বোঝানো হয়। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের আইন কোন নির্দিষ্ট ধর্মের উপর নির্ভরশীল থাকেনা।

তাসলিমা নাসরিন একবার লিখেছিলেন 'বোরখাওয়ালীরা প্রায়ই এম্পাওয়ার শব্দটা ব্যবহার করে থাকে। তারা বলতে চায় তারা শক্তিময়ী, ক্ষমতাময়ী, স্বাধীন, এবং স্বনির্ভর। নিজের চেহারাটাই লুকিয়ে রাখতে হয় আর স্বাধীনতার বড়াই। কেন তারা শরীর আড়াল করে? কারণ তারা মনে করে পুরুষেরা সব কামুক, বর্বর,যৌন নির্যাতক, ধর্ষক; তাদের চুল আর ত্বক দেখা মাত্র পুরুষেরা তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে, এর ফলে তারা এঁটো হয়ে যাবে। এঁটো হয়ে গেলে মুশকিল, কারণ স্বামী ফ্রেশ খাবে, এঁটো খাবে না। বোরখাওয়ালীরা নিজেদের খাদ্যবস্তু বলে বিশ্বাস করে।

সৌদি আরবের পাশাপাশি ইরান ও আফগানিস্তান হল বিশ্বের অন্য দুটি সবচেয়ে কট্টরপন্থী মুসলিম দেশ। ইরান ও আফগানিস্তানের মুসলিম নারীদের সাথে মধ্যযুগের মতোই উভয় দেশের কট্টরপন্থী ইসলামী সরকার এখনও আচরণ করে। আয়াতুল্লাহ খামেনির নেতৃত্বে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিদ্রোহের পর ইরানের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে। কিন্তু দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

 ভারতের কিছু কট্টরপন্থী মুসলিমরা যখন বিভিন্ন রাজ্যে হিজাব ও বোরকার সমর্থনে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের মতো কট্টর মুসলিম দেশে, হাজার হাজার প্রগতিশীল নারী হিজাবের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামছে। গত ১২ জুলাই ইরান সরকারিভাবে জাতীয় হিজাব ও বিনয় দিবস (National Hijab and Modesty Day) উদযাপন করেছে। কিন্তু উক্ত এই দিনে হাজার হাজার ইরানি নারী তাদের হিজাব থেকে মুক্তির দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনের কার্যসূচী রূপায়ণ করে। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানে নারীদের হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করা হয়।

আফগানিস্তান বর্তমানে একটি কট্টরপন্থী ইসলামিক রাষ্ট্র। তালেবান, যাদের সভ্যতা ও মানবতার কোনো বোধগম্যতা নেই, তারা ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট থেকে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা কে তাড়িয়ে সেখানে গদি সামলায়। তালেবান সরকার আফগানিস্তানে গত মার্চ মাস থেকে ষষ্ঠ শ্রেণীর পর মেয়েদের স্কুল বন্ধ করে দেয় এবং মহিলা কর্মচারীদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কট্টরপন্থী তালেবানরা ১৯ জুলাই আফগান মহিলা সরকারী কর্মচারীদের একটি নির্দেশিকা জারি করে যেখানে মহিলারা তাদের চাকরি নিজের পরিবর্তে পরিবারের একজন পুরুষ সদস্যের কাছে ছেড়ে দিতে হবে। তালেবানদের দৃষ্টিতে, মেয়েদের জন্য উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা এবং পুরুষদের সাথে কাজ করা ইসলাম বিরোধী।

 কট্টরপন্থী তালেবান এবং ইরানের শাসক গোষ্ঠী মহিলাদের জন্য হিজাব এবং বোরকা পরা বাধ্যতামূলক করেছে। কিন্তু, একই সময়ে, তুরস্ক এবং আর্মেনিয়ার মতো মুসলিম প্রধান দেশ গুলিতে মুসলিম মহিলাদের জন্য হিজাব এবং বোরকা বাধ্যতামূলক নয়, যা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দিক দিয়ে সৌদি আরব, ইরান এবং আফগানিস্তানের চেয়ে অনেক এগিয়ে।

ভারত এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে একটা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃত। কালের পরিক্রমায় সেই ভারতই এখন তার ধর্মনিরপেক্ষ আধুনিক চেতনা হারিয়ে ধর্মীয় মৌলবাদের বিষবৃক্ষে পরিণত হতে চলছে। ভারতীয় ‘সেকুলারিজম’ আসলে সংবিধানের কাঠামো নির্মাণে উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়, এ হল সেই দর্শন যা সংবিধানের চেতনার সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বহু মত-বহু পথের সম্মিলন ও সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে সম্মানের সাথে অক্ষুণ্ন রাখে।

ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। তাইতো সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের (secularism) উল্লেখ আছে। যদিও সংবিধানে ‘সেকুলার’ শব্দটি যোগ হয়েছে অনেক পরে, ১৯৭৬ সালে সংবিধানের ৪২তম সংশোধনীতে। একদিকে যেমন আমেরিকান, রাশিয়ান ও চীনারা প্রগতিশীল চিন্তাধারার মাধ্যমে মহাকাশ গবেষণা তথা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে কট্টরপন্থী তালেবানরা তাদের দেশকে Islamic Sminate of Afghanistan হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিত করাচ্ছে এবং ইরান তাদের দেশকে Islamic Republic of Iran হিসেবে। সৌদি আরব, ইরান, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের মত কট্টরপন্থী রাষ্ট্রগুলির বিপরীতে ভারতকে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার দায়িত্ব সমস্ত আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক মানুষের। তবেই তো ভারত আবার জগৎসভায় 'বিশ্বগুরু' খেতাব নিয়ে শ্রেষ্ঠ আসন নেবে।

আমরা করবো জয় নিশ্চয়


ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথভূক্ত সদস্য দেশসমূহের জন্য এটি একটি আন্তর্জাতিক বহু-ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। লন্ডনে ১৯৩৪ সালে ও ম্যানচেস্টারে ২০০২ সালের পর, ইংল্যান্ড এই নিয়ে তৃতীয়বারের জন্য গেমসটি আয়োজন করেছে এবং ২০১৪ সালের পর যুক্তরাজ্য সপ্তমবারের জন্য আয়োজন করেছে। এবারের খেলায় অংশগ্রহণ করে ৭২টি দেশ।

কমনওয়েলথ গেমসে এটি ভারতের অষ্টাদশতম উপস্থিতি। ১০৬ জন পুরুষ এবং ১০৫ জন মহিলা দ্বারা গঠিত ২১১ সদস্যের একটি দল ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের পতাকাবাহক হিসেবে মনোনীত হন মনপ্রীত সিং এবং পি ভি সিন্ধু। ১৪ বছর ব্যসী স্কোয়াশ খেলোয়াড় অনাহত সিং ভারতের সর্বকনিষ্ঠ এবং ৪৫ বছর বয়সী লন বোলার সুনীল বাহাদুর সর্ব জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি ছিলেন। হোস্ট নেশন হিসেবে ২০১০ সালে ভারতও গেমসের আয়োজন করেছিল। এটি সর্বকালের কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের ক্রীড়াবিদদের সাথে 38 স্বর্ণ, 27 রৌপ্য এবং 36 টি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিল।

কমনওয়েলথ গেমস 2022-এ ভারত মোট 61টি (22 স্বর্ণ, 16 রৌপ্য এবং 23 ব্রোঞ্জ) পদক নিয়ে মঞ্চে 4 তম স্থান অর্জন করে। সদ্য সমাপ্ত বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের চতুর্থবার সেরা পারফরম্যান্স করেছে। যা কমনওয়েলথ গেমস 2006-এর সাথে সংযুক্ত স্বর্ণপদক জিতেছে।

 বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমস 2022-এ, অস্ট্রেলিয়া 178টি পদক (67 স্বর্ণ, 57 রৌপ্য এবং 54 ব্রোঞ্জ), ইংল্যান্ড 176 পদক (57 স্বর্ণ, 66 রৌপ্য এবং 53 ব্রোঞ্জ), কানাডা 92টি পদক (26 স্বর্ণ, 32টি রৌপ্য এবং 34 ব্রোঞ্জ) পদকে ভারতকে পিছনে ফেলেছে।

 ভারতের কমনওয়েলথ গেমস 2022 স্পোর্ট-ওয়াইজ পদকগুলি বিভক্ত করা হলঃ কুস্তি: 12টি পদক (6টি স্বর্ণ, 1টি রৌপ্য এবং 5টি ব্রোঞ্জ) টেবিল টেনিস: 7টি পদক (4টি স্বর্ণ, 1টি রৌপ্য এবং 2টি ব্রোঞ্জ) ভারোত্তোলন: 10টি পদক (3টি স্বর্ণ, 3টি রৌপ্য এবং 4টি ব্রোঞ্জ) বক্সিং: 7টি পদক (3টি স্বর্ণ, 1টি রৌপ্য এবং 3টি ব্রোঞ্জ) ব্যাডমিন্টন: 6টি পদক (3টি স্বর্ণ, 1টি রৌপ্য এবং 2টি ব্রোঞ্জ) অ্যাথলেটিক্স: 8টি পদক (1টি স্বর্ণ, 4টি রৌপ্য এবং 3টি ব্রোঞ্জ) লন বোল: 2টি পদক (1টি স্বর্ণ ও 1টি রৌপ্য) প্যারা পাওয়ারলিফটিং: 1 পদক (1 স্বর্ণ) জুডো: 3টি পদক (2টি রৌপ্য এবং 1টি ব্রোঞ্জ) হকি: 2টি পদক (1টি রৌপ্য এবং 1টি ব্রোঞ্জ) ক্রিকেট: 1টি পদক (1টি রৌপ্য) স্কোয়াশ: 2টি পদক (2টি ব্রোঞ্জ)

উল্লেখ করা উচিত যে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমস 2010-এ ভারতের সর্বকালের সেরা পারফরম্যান্স। CWG 2010-এ, ভারত 38টি স্বর্ণ সহ 101টি পদক জিতেছিল। জিতে থাকা সামগ্রিক পদকগুলির পরিপ্রেক্ষিতে, CWG 2022 বার্মিংহাম CWG 2010 নয়াদিল্লি (101 পদক), CWG 2002 ম্যানচেস্টার (69 পদক), CWG গোল্ড কোস্ট 2018 (66 পদক), এবং CWG 2014 Glasmedals-এর পরে ভারতের দ্বারা 5তম সেরা পারফর্মেন্স।

কমনওয়েলথ খেতাব-র গণ্ডীতে নিজেকে আটকে না রেখে, নিজস্ব ইভেন্টে কয়েক ধাপ এগিয়ে ওলিম্পিকে দেশকে আরও বেশি উপহার দেওয়া এটাই হোক মূল লক্ষ্য। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তিতে আমাদের ছেলে মেয়ারা সমস্ত দেশবাসীকে যে উপহার দিয়েছে তার সত্যিই প্রশংসনীয়। শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন - র পাশাপাশি আশারাখি প্যারিস ২০২৪ এ আবারও প্রমাণিত হোক 'আমরা করবো জয় নিশ্চয়'। 

Sunday, August 7, 2022

নীল দরিয়ার মাঝি


১) মরুগোলাপ

লোকমুখে প্রচলিত, ওটা ঈশ্বরের বাড়ি, যিনি ঘুঙুর কি
মটরদানা থেকে সৃষ্টি করেছিলেন আপেল -
পৃথিবী জমিনে সেঁটে দিয়েছিলেন পাহাড়, স্তনকামনা—
পিপাসা খররৌদ্রের।

অতএব আমাকে যেতে হয়েছিল প্রমিত উপাসনালয়ে
বাঁধানো খিলানের কাছে
সেখান থেকে ফিরে এসেছিলাম কতগুলো উভলিঙ্গ হুর
আর তাম্বূল ঐশীবাণী নিয়ে

বস্তুতপক্ষে উপাসনালয় থেকে ফিরে এসেছিলাম
রংজ্বলা ছাতা মাথায়—বৃদ্ধ

অথচ জলসাঘরে আমি যৌবনপ্রাপ্ত হয়েছিলাম…

২) সিগারেট

সিগারেট আর তুমি একই
যার দাগ হৃদয়েই লেগে থাকে 
তোমার মতো সিগারেটও রেখে যায় ঠোঁটের স্পর্শ
বিসর্জন ঘাট বা শম্ভুসাগর পাড়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী।

পার্থক্য একটাই
সিগারেট নিজেই জ্বলে শেষ হয়ে যায়
আর তুমি
কলিজা পুড়ে ছাই কর

 ছাই হয়ে পড়ে থাকি আমি
 অন্ধকার রাতের পরিত্যক্ত শহরে।

৩) একটি অঙ্কুরিত জীবন

শর্ত ছিল
জীবন্ত কবিতা নিয়ে আসলে প্রস্তাব গ্রহণ করবো
প্রান্তিক কবিদের দিয়ে শুরু সব কবিকে বলেছি
স্থানীয়রা বলল,
আমি এখনো চেষ্টা করে জীবন্ত কবিতা লিখছি।

বিদেশীরা বলল,
কবির জীবন্ত কবিতা নেই।ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করো
মৃত মানুষকে জীবিত করা সম্ভব!
আমি চেম্বারে ধাক্কা দিলাম আর ভেতর থেকে একটা আওয়াজ হলো-
জীবন্ত কবিতা নেই, ফ্রিজে আছে জীবন্ত হৃদয়
তুমি এটা দেখতে পারো।

 আমি অসহায় হয়ে মন্ত্রীকে বললাম,
 স্যার, আপনি জীবন্ত মানুষ বিক্রি করেন
 একটি জীবন্ত কবিতা বিক্রি করবেন?
 - ধুর! ছাই!  আমি শুধুমাত্র জীবিত দেশ বিক্রি করি
 জীবন্ত নারীদের কারখানা আছে বলে ব্যবসায়ীরা
 নারী কবিতা থেকে আলাদা নয়।

 সবার কাছে গেলাম
 কোম্পানির মালিক থেকে দেশের মালিক
 জীবন্ত কবিতা পেলাম না

তাই এসব বিষয়ে খেয়াল রাখা প্রয়োজন
চরের জমি রন্টুর ছেলে মন্টুর দখলে
শোকে আমার বাবা পাড়ায় নৈশ প্রহরী হিসেবে চিৎকার করে বললেন--
আমি জেগে আছি...সবাই ঘুমাতে যান।

দুঃখের গাড়িতে উঠে বিষণ্ণ বাতাস নিয়ে ফিরলাম
একজন পোস্টম্যান এসে আমাকে একটা চিঠি দিলো
আমি দুঃখিত নই, একটি জীবন্ত কবিতা পেয়েছি
কবি লিখেন নি 
মৃত তারারা লেখে জীবন্ত কবিতা।

৪) একটা নদী উপাখ্যান

নদী-মানুষের সম্পর্ক বড় নিবিড় 
তার বলে যাওয়া কত কথা অশ্রু গড়িয়ে নদীর 
আকাশের ছায়াপথে, ধুসুর মেঘলোকে
ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলিয়ে গহন নদী জলসিড়ি হয়ে 
কুশিয়ারার জল ছোঁওয় আমার স্বপ্নশিশির-
দীর্ঘশ্বাস বাড়ে।

রক্ত,লাশ,দেশ ভাগ, সংগ্রাম
এসবেরই তো সাক্ষী এ নদী
আজ তার ব্যস্ততায় এপার-ওপার এক ভাষাতেই,
এ সম্পর্ক বুঝি চিরন্তন।

নদী তো বোঝে- 
আর মানুষ কবে বোঝবে
নদী বাঁচলে মানুষও বাঁচবে!

৫) স্বদেশ আমার 

এখন আর কিছু ঠিক রইল না 
যতবার চললাম মানুষ হয়ে ওঠার রাস্তায়
অমানুষ হয়ে গেলাম টের পাওনি
তুমি টের পাওনি বলে, 
অর্ধমানবের মতো শিম্পাঞ্জির খেলা দেখে হাততালি দাও
তারও দুঃখ আছে, মানুষ হয়ে উঠতে পারেনি 
যে সাদা ফানুস উড়িয়েছিলে, সুতোয় বাঁধা 
দু একটা গেরুয়া ও সবুজ রং এর ও ছিল 
ওরা যে এক একটা মরা লাশ -- তা কি জানতে ?

প্রিয়তমা, তুমি টের পাওনি বলে
উদাসীনতা আমাকে অমানুষ করে তোলেছে
তোমার সম্মানে মৌনতা নিয়ে লালকেল্লা
তার প্রতিটা কিলায় লাইভ টেলিকাস্ট চালায় 
বিলকিস রার স্বাধীনতা
গোধরা কনসাইন্টমেন্টে!

প্রিয়তমা, জানি তোমার গলা শুকিয়েছে 
মহোৎসবের অমৃত পানে
আজাদী, জল জীবন কেড়ে নেয় বিনা দ্বিধায় ---
মন্বন্তর থেকে ছিয়াত্তরতম স্বাধীনতা
ফুল এপিসোডে ফারাক অবশ্যই
ক্ষুধা মানুষ খেয়েছিল আর আজ রাজনীতি জীবন।

হোক না খোলা সব পতাকা
একবার তোমার মুখে হাসি দেখে যাই প্রিয়তমা ,
লিখা হোক যত মহাসভা সংবিধান 
উড়ুক যত ধর্ম পতাকা 
শিকল ভাঙ্গবে স্বদেশ আমার ।

৬) নীল দরিয়ার মাঝি 

কতিপয় শব্দের যুগলবন্দী 
ক্লিটোরিসের উপর সন্ধ্যার অন্তরালে 
কালিমাখা লন্ঠন জ্বলতো ধীরে ধীরে।

আজও আকাশটা কয়লার মতো কালো হয়ে আসে
অথচ সে মেঘ থেকে একফোঁটা বৃষ্টি হয়না
মাধবীলতারা বৃষ্টিতে করেনা আনন্দ স্নান,
অণুপরমাণুতে বিভক্ত হয়ে যাওয়া পৃথিবী
পরেছে ভিন্ন রং এর জামা
তবু সম্প্রীতি আর সম্পর্কের বাতাস করে শুধু হাহাকার।
ছাদহীন ফুটপাতে আমিও দাঁড়ানো
ক্রমশ ঢুকে যাচ্ছি তাপহীন এক লাভায়-

রাস্তায় পথ খোঁজা হয়রান 
অম্লজান বায়ুহীন ফুসফুস কম্পাসদৃষ্টি মেলে তাকাতেই-
আমার চোখ থেকে নির্গত ব্রিজের সুতা ছিঁড়ে গেল।
এই দেখ আমি হাত ধুয়ে ফেলেছি
এবার আমি সবচেয়ে জমকালো পোশাকটা পরে
জনতার দরবারে যাব
গোধূলীর অন্তর্বাসে হুঁকো টেনে যথার্থ উপলব্ধি আসে 
মৃত্যু নেই কবির অথবা প্রেমের ।

৭) জলভসকা

সুখ-সমৃদ্ধি-উন্নতি হারিয়ে
তিনভাগ জল মাঝে ডুবে যায় দালান-গাড়ী
খোঁজে একটুকরো শুকনো পাতা
বাঁচার অন্বেষা।
আশ্রয় হারিয়ে দূরত্ব বাড়ে ----
সবুজ নৈঃশব্দ্য তার তৈলচিত্র
জলতলা শেওলার ভেতর অস্থির প্রহর কাটায়
কর্পোরেশন নর্দমায়।

তিলোত্তমা শহর বলো আর গ্রাম বরাক
দখলে তার পার্ক,চেনা-অচেনা গলি, রাজপথ, ট্রাফিক পয়েন্ট, যত মল, বক্তৃতা মঞ্চ।
জঠরে ভরা যত শব ধ্বনিত হয়
ক্ষুধা - তৃষ্ণার আর্তনাদে 
প্রাণভিক্ষার আবেদন।

বন্যা - হয়েছ এক বিভীষিকা
চোখে ঘুম হারিয়ে।

৮) নেপথ্য 

তার অপেক্ষায় আছি 
যেখানে কার্বনশ্বাস নিতে হয় আমার
বিষধর ভাইপার, সোনালী বালির ভেতরে ক্রমশ ডুবে যাচ্ছে
লুকিয়ে আছে সুপ্ত বাসনা।

পূর্ণতা খোঁজে জিওনার্দো ব্রুনো কিংবা লোরকার মতো
ছিঁড়ে কুচি কুচি করাই দস্তুর-
রীতিমতো গণতান্ত্রিক হওয়ায় মৌলিক অধিকারও
এরোপ্লেন বানিয়ে উড়িয়ে দেওয়া নেপথ্য।

একটা কলসি তার উদরে দাবিদাওয়া তুলে ধরে
কেউ মরে গেলে নীরবতায়,
শোকহীন এক সভ্যতা হাসিল করেছে
জ্যান্ত পুঁতে দেওয়া দস্তাবেজ।

৯) আবার বৃষ্টি নেমেছে এ শহরে

আবার বৃষ্টি এসেছে নেমে
আমার ব্যস্ত শহরের বুকে
আমি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছি
হাত বাড়িয়ে মেখে নিচ্ছি
জলকণার ভিজে ভাব
মুখ খুলে জিভে টানি তার স্বাদ
কেমন আছো, কি করছো
সবই কেমন যেন আবছা
বাইরে এখন ব্যাস্ততার কোলাহল
কিছুটা নৈরাশ্য হয়ে পড়েছে,
চাপা হতাশায়,
মুখ ঘুরিয়ে
উঠতে গিয়ে দেখি,
ঘোলাটে পৃথিবী,
তার উষ্ণতার ঠোঁটে
চুম্বন করছে,
আমার
অন্তর্নিহিত
ব্যথার বেদনাকে..

১০) কবিতা'র শ্বাস প্রশ্বাস 

একটি গাছ যেখানে বাসা বাঁধে
রোজকার পৃথিবীর হাসি জাগানো ডকুমেন্টারি 
নাভীমূল ছেঁড়া পাতা তার ডাল কতনা
যাপনকথা
দুঃখ নেই কার কার
পিলসুজটাকে যদি দেখি।

সন্ধ্যা শহরে কত নির্জনে বাসা বাঁধে
ভোররাতে ঠোঁটে ছাপ ছেড়ে চলে যায় পাখিরাও।

শূণ্যতা পূরণ, সে তো
খালি বাক্সে সঠিক শব্দ ব্যবহার নয়
সেখানে মিশে থাকে দ্রোহ, ক্ষোভ, অভিমান 
আর কবিতা, কয়েকটি প্রাণের শ্বাস ফেলার জায়গা।

কবি'রা আসে স্নান করে, ঘুমোয়
দ্রোহবীজ পোতে আবার গাছ হয়
বাসা বাঁধে, শ্বাস নেয়
যন্ত্রণা ভুলা কয়েকটা মানুষ।

১১) রেসকোর্সের ঘোড়া

তুমি সুন্দর, তোমায় শারীরিক
বসন্তের কামে আলুথালু
ফুলদের পাশে শুয়ে শুয়ে দেখে যাচ্ছি।

কথা কমছে, শ্বাস বাড়ছেই
মাথাভর্তি যেন চুল নয়,
কচি ধানক্ষেত
আঙুল ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে খুব হচ্ছে।
রেসকোর্সের ঘোড়া যেন এক
এসে সামনেই নত, বলছে—
আর কিছু নয়, দিগ্বিজয় নয়
চাই তোমাকেই, হৃদয় টলছে।
ধরছ না, হায়, এমন তপ্ত
গলিত লোহা এ
আগ্নেয়মুখে অগ্নিস্নানে লাল…

প্রেম নাকি পাপ
কটেজের রাত মুছে দিচ্ছে এ সমস্তই।
মনে পড়ছে না সেই ব্যথাদেরও যারা
প্রশমিত হতে পারে নাই।
ওই বাহুডাল যেন রাস্তাই,
দুর্ঘটনার নেই শঙ্কাও।
ফোঁটা বৃষ্টির মতো রোমকূপ জুড়ে কম্পন,
তুমি কাঁপছ, কী যে টের পাই!
স্তনবৃন্ত এত ভালো লাগে যেন সমতলে
অমসৃণ গোল ভূমি আর সামান্য ঝোপঝাড়
নাকে ঘষছি।

১২) সিনোটাফ

আমি তোমাকে আরো ভালোবাসি
মাংস এবং হাড়ের চেয়ে, শুধুমাত্র সত্য বলে
আমাতে তোমার আকৃতি খোঁজে পেয়ে 
আর যদি বলি, ভালোবাসি বল, 
ভালোবাসি তোমার মুখ,
পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত 
আড়ালে যে তোমার চোখ ছুঁয়ে যায়
প্রেমের প্রদীপ হয়ে!
আর আমার
আসলে কোন চোখ নেই আছে দুটো জোনাকির আলো
খোঁজে পায় নিঃশর্ত গহীন হৃদয়ে।


 আমার ভেতরে যা আছে ভালোবাসা 
 তোমার হাসি, এবং তোমাকে ধরে রাখা
 সেই প্রিয় অংশের কাছাকাছি থাকতে
হাতড়ে বেড়াই ক্যানভাসের ছবি হয়ে।

সিনোটাফে
আমার প্রতিদিনের প্রয়োজন, তুমি 
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত।
যেন তুমি 
ফিলিস্তিন থেকে কাশ্মীর, আথের জিয়া থেকে মাহমুদ দারবিশ  
দুনিয়া শরীরী আকর্ষণ – এইখানে।

১৩) কবিতা এবং শূন্য থেকে মহাবিশ্ব

দেখলেই কি আর সব দেখা হয়ে যায়
রয়েছে আকাশগঙ্গা থেকে পৃথিবীর সঙ্গম পথ
 তুমি কে । অপহরণ কবিতা
 নাকি র‌্যাঁবো, সে এক বিশাল ইতিহাস।

এখানে যখন সূর্য ক্লান্ত হয়
বদলেয়ার,মাতিস সবুজ রেস্তোরাঁয় গড়ে
কবিতার নকশা ;
শুধু আমি টক্সিন প্রেমে, চলি 
নরকে ঋতু পর্যবেক্ষণ।
সাম্রাজ্যিক ইন্দ্রজালে
কবিতারা ও জানে
'হিউম্যান ল্যান্ডস্কেপ ফ্রম মাই কান্ট্রি'।

১৪) হাফলং এ প্রশ্ন করা এক বনসাই বৃক্ষ 

আসলে এই গোলকটা প্লুটোনিয়াম ঘেঁষা
ব্যালকোনির শোভা বর্ধনে ঠিক বিশাল বট বৃক্ষের বনসাইয়ের মতো। টবে বার্ধক্য রোধে করণীয় কি সে বিষয়ে
এখন রীতিমতো অনুসন্ধান চলছে তার, গবেষণাগারে
জন্মপত্র থাকলে বয়স হয়তো পাহাড়ের আয়তন ও ঝাটিংগার জল্পনা ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতো !

হিলিয়াম ভরে দেওয়া স্তন পড়ে থাক আ'ম-মানুষে…
গাছ উড়ে যায় বনসাই হয়ে 
বৃদ্ধ হয়
এপাশে ভ্যাম্পায়ার ওদিকে ড্রাকুলা
তাদের পাশ ঘেঁষে দজ্জাল 
তৃতীয় চক্ষু-স্ফুরণে বিশ্বাস জন্মায়
আমিই খোদা!

নীরব দ্রোহে কাল্পনিক প্রেমিকারা —
তারা মাঝে মাঝে উপস্থিতি ফেলে যায়
আমার পাশে ছোট রেস্তোরাঁর টেবিলে
আর মলিন এন্টারটেইনার বনসাই বৃক্ষ
মোলায়েজের গানে দূরের পৃথিবীতে ডুবে গেছে
শুধু তার পাওনা ছিল পাহাড় কে জড়িয়ে ধরবার।

১৫) নীলজলে নৌকা 

তোমার কোমল মুগ্ধতা
সকালের সোনা রোদের মতো 
এটি চায় কাছে এসে জড়াতে, এক অদ্ভুত ইশারায়
জানালা খুলে দেই সেই মুগ্ধতা আরও ভেসে আসে 
স্প্যানিশ গিটারের ক্লাসিক্যাল হয়ে।

যেন মনোযোগ আকর্ষণ করা তোমার
বিমূর্ত শিল্পের বাস্তবতায় মূর্ত আকাঙ্খা,
শেষ থেকে শেষ পর্যন্ত ঠোঁটে হাসি
বিকেলে সূর্য, বইপড়া, একটি অবিশ্বাস্য কথোপকথন 
এবং প্রচুর হাসি একটি কৌতূহলী শিশুর চোখ
কল্পনার ইচ্ছেডানা আলগে রেখে
তুমি যা চাও, তা উন্মুক্ত হওয়ার স্বাধীনতা।

তোমার নীলজলে আমার নৌকা
ডোবাবো কীভাবে, গভীর শ্বাস ফেলে খোঁজে পাই শরীরী মানচিত্র,
কমে আসে ওষ্ঠের দূরত্ব
পড়ে থাকে শুধু পরিভাষাহীন
মৃগতৃষ্ণায় নগ্ন বুক।

১৬) বেঁচে থাকা ফ্লুরোসেন্ট রোদে

পৃথিবীর বুকে এতো হাঁটাহাঁটি করেও
একটু ঘুমোনোর জায়গায় মধ্যাকর্ষণে ঝুলে যাই
তবুও সেখানে আমার শরীরটা ছেড়ে দিতে সাধ হয়
যেখানে সামান্য সেঁকা রুটি অবশিষ্ট ছিলো।

মতবাদ দিওনা বন্ধু এখানে নৈঃশব্দ্য, হিরোশিমার জেনেটিক্যাল ফিউশন। তবু পৃথিবীর মুখ নিঃসঙ্গ ব্ল্যাকহোলে টাইট্রন থেকে প্রক্সিমা পর্যন্ত  জীবনানন্দ কলিং বাজায় ইস্কাপনের রাজা। আর দেরি হলে প্রাচীরের অর্থহীন অবরোধে লিখা হবে ইতিহাস তোমার! পৃথিবীর প্রাক্তনভাগে আমরা বেঁচে ছিলাম ক্ষুধায়। আবার লিখা হবে নয়াগণতন্ত্র।

১৭) ভায়া অনুভব

প্রতিটা ভোরের জন্মলগ্নে একরাশ আশা ডানা মেলে
পুরোনো ঝেড়ে লোনা জলের তিক্ততা মুছে
চেয়েছিল বিধ্বস্ত অবহেলার বুকে আসবে,
বিভাজন ভেঙ্গে প্রেম-আনন্দ জিহ্বায় স্বাদ অনুভবে-----
শৈল্পিক সাজে পরিত্যক্ত কাঁটাতার!

অবশেষে সত‍্যটা জানলাম।
সুখপাঠ‍্যের মালা- জপা রোদপোড়া দিনগুলো
অন্ধকারে জাহাজ ডুবানো প্ল্যানে,
আর, ঐযে সবুজের সমারোহে
ক‍্যান ভর্তি অক্সিজেন ও হীনবীর্যে
ভাগ্যে পুনরাবৃত্তি মল আর মলের শোধন।

১৮) একটি আলোক এবং আমি

পৃথিবীটা...জীবের কাছে,
ঠিকানা-বিহীন ঠিকানা!
তবুও ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়
একটা অভিলাষা কবিতার দেহে।
সে ক্ষত বিক্ষত, উষ্ণ সম্ভোগে নয় 
জমাট আধাঁরে বেড়ে ওঠা প্রগাঢ় আর্তনাদে।

এটা আসলে সাঁঝের নির্বিকার প্রদীপ 
বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়া
ব্যাবলিনের শূন্য মাজারে।
বুক চিরা স্বাধীনতা, নীতির দুর্নীতিতে
মাউথ অর্গান, রবীন্দ্র সংগীত বাদ দিয়ে
সঙ্গম সভায় ভাষণ দেয়
চে গুয়েভার বলিভিয়ার রাজপথে।
তবুও পরজীবীরা ক্ষুধার্ত অট্টালিকার 
 ফিসফিস হয়ে ওঠে
অপূর্ণতার প্লাবিত প্রেমে।
আর সরাইখানা পরস্পরের বুকে টানছে
শর্তহীন দ্রাঘিমা রেখা।

১৯) দীর্ঘশ্বাস

সত্য আজ একটা অপ্রীয় 
গোপনীয়তা প্রকাশ কাল কিছু বন্ধুদের কাছে
 যদিও সত্যটা ছিল উন্মুক্ত আকাশে মুক্ত হবার
হাতে হাত বাড়িয়ে দিন বদলাবার, কিন্তু
কোমল গ্রীবায় ভালোবাসা ছেড়ে জড়িয়েছে চাবুক,

 অনুভূতিতে আচ্ছন্ন সমাজ-সংসার রসাতলে
আপোষহীন তাপমাত্রা মাপছে গৃহত্যাগী জোৎস্না
 যে আমি কিছু ভুল করেছি!

  কথা কম করে দেখুন যতই মুখ বন্ধ রাখবে
 ততই ভালো হয়
 কিন্তু আমি তাও করতে পারি
 আমি মাইন স্থাপন করছি
 আমার পথে
 আমি তাদের উপর পা রেখে -- চাই
 বিস্ফোরণ
এবং
 আমি একটি বিন্দু পর্যন্ত পৌঁছতে চাই
 যেখানে আমার জন্য কোন প্রত্যাবর্তন নেই।

এমন একটি বিন্দু যেখান থেকে বের হওয়ার কোন পথ নেই
এই পৃথিবী দেখতে
 যোদ্ধাদের জন্য
 শক্তিশালী মানুষের জন্য
 ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন মানুষের জন্য
 আমি তাদের একজন নই,
 আমি দুর্বল
 আমি কাপুরুষ
 তাই প্রত্যেক কাপুরুষ যা করে আমি তাই করতে যাচ্ছি
 এক সহজ উপায়ে!

২০) আমি সরে যাই

কি সেই আওয়াজটা আবার অন্ধকারে ভেসে এলো?
 আলোর এই গোলকধাঁধাটা কি আমাদের ছেড়ে দেয় ?
গোধূলির পড়ন্ত রবিটার মতো!
 আমরা কি এই অবস্থান গ্রহণ করি,
 মুখ ফিরিয়ে নিয়ে তারপর ফিরে যেতে?
 আমরা কি শুনলাম?
 আমরা যখন প্রথম দেখা করি তখন আমরা সেই নিঃশ্বাস নিয়েছিলাম।
 শুনছো। এটা এখানে....!

২১) মানুষের পৃথিবী টা

মানুষের পৃথিবীটা আস্ত একটা যৌনখানা
ন্যাংটো হয়ে যেই বিছানাটা নাচতে শুরু করলো
ফরমান এলো
মানচিত্রের কাঁধের কাছ থেকে আড়াই কেজি মাংস কেটে নেয়া হবে
অবাক হবেন না।

শুকনো জিহ্বা কত টানবে উপচে পড়া ব্লাউজের রস
রয়েল-বেঙ্গল টা ন‍্যাশনেল পার্কে
স্বপ্ন বিহারে বিভোর
আর্য-শ্লোকের বর্জ‍্য চিৎকারে
থালায় প্রসাদ, চেষ্টায় ঘুম ভাঙানো।

২২) পরকীয়া

ক্ষণে ক্ষণে তীব্র প্রতিক্রিয়া
এক আকারে সঞ্চিত পুঁজি মোহনবাগানে
ঢেউ খেলে অতৃপ্ত চাহনি,
আশার পূর্ণ কিরণে নৈরাশ্য ঝড়ে
ভোগের অংশটি হাতছাড়া।
অদৃশ্যের চাওয়াটা অন‍্যরকম হাঁটে
সড়কের ঠিক মাঝখানে
মনে হয় অম্লান কামনা মহীরুহ মেহগনি ছায়া ফেলে
তোমার আমার পথে,
ব‍্যবহৃত শরীর টা দুজনার,শরমে-সংকোচে
সামাজিক মুখ তোমার আঁচলে ডেকে
দেখিনা তো কোনো ভুল তাতে----
তবু কেন সম্মুখীন প্রশ্নবোধকে?
জীবনের মরণপারে আমি আর প্রেম
মিলে যাই পারাবারে।

২৩) কামনার দংগোল

মধ‍্য রাত্রি.....
তা ও শান্তি জুটলো না,
বসে ছিলাম কাগজের পাশে
ভাবছিলাম কয়েকটি পরিচিত শব্দ জোড়ো করে
সারিতে সাজাবো,
নিঃশব্দ......
হঠাৎ নগ্ন ব্রা'টা কাঁধে, শিউরে উঠি
দেখি দুলে ওঠা জোড়া স্তনের উপচে পড়া প্রদর্শন
আর তার চূড়ায় পিকাসোয়ী কারুকার্য;
ধীরে ধীরে সুপ্ত রাক্ষস জাগ্রতের পথে।

আলগা হয়ে যাওয়া বসনখানি শরমে........
নগ্ন কটিদেশে তোমার নিক্কণে,
নিঃশ্বাসে বেড়ে যাওয়া উষ্ণতা
বেপরোয়া,পরিচয় ভুলে পরিণত অন্য রূপে
কামনার দংগোলে নগ্ন শরীরে
জাগ্রত প্রশ্রবন ডাকছে মাতাল বেসে
তৈরী সে তীক্ষ্ম বর্শার আঘাত সইতে
দীর্ঘ পরিশ্রম ঝরা ঘামে, আনন্দ আর আনন্দ
সর্পিল বাঁধনে আমায় বাঁধো তুমি কাম রঙে।।

২৪) পঁচা হৃৎপিণ্ডের মিলনায়তন

বিলাস প্রাসাদে আজ কাপুরুষ মেলা
নিত‍্য নতুন ছোরা, নাম সভ‍্যতা !
দিকে দিকে ছিটা রক্তের জখম;
শুকছে নষ্ট শকুন, স্বাধীনতা হরণ
পঁচা হৃৎপিণ্ডের মিলনায়তন---
বোকারা পুড়ছে, দ‍্যাখ্
স্মিতহাস‍্য শয়তানের মুখ, ওরে ঐ নির্বোধ।

থাক্..... থাক যতসব আঁচলে বাঁধা
মরুক না ওরা, কাজ টা পদলেহা;
লোহিতে মিশুক নিষ্পাপ লাল কণা,
চিহ্নহীন গোরে-----
এ-সভ‍্যতা, সূচনায় নতুন যুগ আবিষ্কার মূহুর্তে!

২৫) ভেতরের কন্ঠে

আত্মহত্যার আগে অপেরা শোনালে ভালো লাগবে আমার
আমি রবীন্দ্র সংগীত শুনেছি সাথে নজরুল ও
আর কবিতা.....
একটু হলেও শুনবো "আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে"
বাকি রাখিনি শক্তি থেকে সুনীল
তৃষ্ণাটা মেটতো,কিন্তু------
মানুষ সঙ্গমের সময় 'ভালোবাসি' শব্দটা বেশী বলে,
এর মতই।
ঘুরে আসুন গণতন্ত্র---
হিউম‍্যানিটি মিথ্যার ভিড়ে,লেট মি ফাক্।

মানুষগুলো এই গোলকের ভিতর
উচ্ছিষ্ট পাহাড়ের ঢলের মতো,
থিয়েটারে ন‍্যাংটো আদম-ইভ ফুল মুভি
ঠিক মূহুর্ত অবিকল শ্রীজাতের 'অভিশাপ'
ক্ষুধা নিবৃত্তি,
চলমান সংঘর্ষ সেই ট্রেডিশনে
আরও অপরিপক্ক মস্তিষ্ক জন্মালো।
শ্বাসরোধ সফলতা রক্তবমিতে ইষ্টিশন।

২৬) সিঁধ

ফিরে এসে দেখি জমাট বেঁধেছে
অজস্র ভুলের অভিজ্ঞতা;
নীড় ভাঙা প্রজাপতিরা বাৎসল‍্য রোদে পোড়া,
মিছিলের স্মরণ সভায়
বরফ গলে গলে অসুস্থ সূর্য চলে যাচ্ছে
সিঁধ কাটা ঘরে। আর,
রক্তের সাথে ভূমি--বুলেটের মিলনে
নতুন কিছু দুর্বল জীবনের উৎপত্তি,
নগরের সুইসাইড স্কোয়াডে স্বৈরশাসক
বিলোনিয়া বর্ডারে সহবাসের তাস খেলে------
অহংকার উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে বিশ্বাসী অন্ধকার
সম্পাদক ও কবি একপাতে ভাত খাচ্ছে।

ওদের জানা নেই
বই কিভাবে খোলে রোদে দিতে হয়,
বাক-ধ্বনির ব‍্যলান্স টা ওরা জানে
বেমালুম এসিড-পাঞ্জাব চালে,
কিন্তু.....
লেকচারের ঘনিষ্ঠ ধনুকে
প্রতিশ্রুতি শব্দগুলো তিরবিদ্ধ।

২৭) চুক্তি

আমাদের তো প্রেমিক হবার কথা ছিল।
আমাদের কথা ছিল না মূল,কান্ড,শাখা-প্রশাখা পেরিয়ে যাবার---
অনেক পথ হেঁটে মৌলবাদে যাত্রা করবার!
আমাদের তো কথাই ছিল
ডানা মেলবার।

সেই কবে এলাম,দেখছি---
হে উদাসীন,হে প্রিয়তম,প্রিয়তমাগণ,
হে দম্ভ,আর কত!
আর কত কথা না রাখবার,কাজ না করবার কথা!
ভাবতে ভাবতে, নিজেকে বলি---
ভালোই তো ছিলে, মরতে গেলে কেনো?
শ‍্যাম্পেনের চুমুকে উপচে পড়া স্তনের নৃত‍্য
ফেরারি'র নৈশ ভোজনে।
তুমিও পাবে !

২৮) রোজনামচা

পৃথিবীর ক্লান্ত পথে ব‍্যর্থতার ভীড়ে
দলাদলির অন্ধকার জোৎস্নার মুখ
হলদেটে রুদ্দুরের ছায়াপথে
খোদ্দের খোঁজে ।
ঘুনপোকের সহবাসের নিঃশব্দ শিৎকারে
আর শিরোনামের ভালোবাসা আবেশে
মিশে যায় ক্লেদাক্ত ভুঁইফোড়া গন্ধ।

অবিধান হাঁপিয়ে ওঠে ভ্রষ্টের সমবাহু সংলাপে
রোজনামচায় অসংখ্য ভক্তদের ভীড়ে
পীরাকি দেখায় বিষাক্ত বিষে।

২৯) ধূসর শহর

মিলনের গানে শুধু উপেক্ষিত;
ক্ষুধা আর প্লাবনের ঢেউ নিশীথ বিকট ছায়ায়
লোলুপ আমন্ত্রন, সংশয়ে.....
সমৃদ্ধ ইতিহাস মাকড়সা ঝালে।

সত্যিই, মানুষগুলো বড়ই আলোড়িত করে আমায়।
নৈরাশ‍্যের বাজারে ওরা----
মানুষ রুপী খেকো;
মৃত ভালোবাসা পরিযায়ী বুকে।
মধুবনে মদের যজ্ঞ---
আমি চিৎকার করে বলছি এই ধূসর শহরে
ঝুলন্ত গ্রহগুলো,
বিশ্বাসের পিঠে হৃদয় হন্তা।

৩০) এক ঝাঁক মিথ‍্যার মুক্ত বিচরণে

অজস্র নীতিমালার প্রেক্ষাপটে এক দুরভিসন্ধি,
সুরাহার সন্ধানে বিমূর্ত প্রতিমা
তপ্ত রক্ত খোঁজে লোকালয়ে,
রাজধানীর খেকোগুলো আরেক ভঙ্গিমায়
হামাগুড়ি দিয়ে পাড়ি দেয় মফস্বলে।
ক‍্যনভাসে পুরাতন রবে দলবদ্ধ যৌবন ভাঙছে আশ্বাসের মিউজিয়াম
পুড়ছে যত হরিৎ ইতিহাস,আর
ভালোবাসার শান্তনা দাউদাউ করে---
সিগারেটের মতো ক্রমশ ছোট হওয়া সংক্ষিপ্ত জীবনটা
পঁচা স্বপ্নগুলোর শোকের অগ্নুৎপাতে ভস্ম।

৩১) যাও, তাকে ডাক দাও

যাও, তাকে ডাক দাও---
অনেক শুনেছে
এবং এসে দেখে যাক একবার ঐ ঘুমন্ত শহরকে,
যেখানে অজস্র ভিখিরি আর ভিখিরি......
ওরা নির্মম ---
ক্রংক্রিটের দেয়ালে প্রাইমার ঘষে ছলনার মিশ্রণে।
ওরা অভিজ্ঞ!---
মূহুর্তে আবেগ কে জয় করে শিল্পের নিয়মে।
ওরা রবিন হুড---
বারুদ নিয়ে খেলে যৌবন প্রশিক্ষণ শিবিরে।
ওরা ধার্মিক---
নিমেষে গুটি হাটায় তোমার আমার মাঝে।

যাও.... তাকে ডাক দাও
একবার দেখে যাক ঘুমন্ত শহরকে।

৩২) আমাদের গ্রাম

চেন এই সুজলা সুফলা ধরা
স্নিগ্ধ পরশতা, অমল মূরতি যেথা
গাঙ চিল কুয়াশার দেশ,
লক্ষীপেঁচার ডাক, কাক ভোরে ঘাসে ভেজা নূপুরের হাক,
শুনেছো কাঠটুকরির বেলগাছে কান্না
বা জীবনানন্দের কবিতার মতো---- ধানসিঁড়ির
সেই নৌকা যার পাল ছেঁড়া !
ছিল এক দিঘিতে জল খাওয়া
দশমী তে সলমনের ঘরে মদ ফিরনি আর গলাগলি করা
ঠিক বিপরীতে  পার্টি হতো
অর্জুনের ঘরে ঈদের সে.....টা।

সেই কবের কথা..... আজ বেমানান
আজ একদল পুবে মুতে আর একদল পশ্চিমে,
ঈশ্বর প্রাপ্তিতে মন্দিরের চূড়া ভাঙে
মসজিদে মাইকের শব্দে !

হারিয়ে গেছে বিকেলের চা-য়ের আড্ডা।

৩৩) হোক কবিতা

বাতাসে ভুঁইফোড়া গন্ধ
ঢেউ বাতাস জল কাদায় মূর্তি গড়ি স্থবির,
শকুনিরা হাসে ধর্মের ঘরে তালা মেরে।
এ শহর কবির নয়, নয় কোন বীর একাদশের
এ শহর বর্বর ধর্মান্ধদের।

নিঝুম রাত্তিরে তার কানে কানে
জানিয়ে দেয় -----
শীতকালীন দূরত্ব শহরে নেমে এসেছে
প্রতি সন্ধ্যায়;
ধূসর রাস্তায়
খোলা কন্ডমের বার্তায়।
এরসঙ্গে মিশে গেছে অহেতুক ভয়
সর্বত্র আগুন জ্বলছে;
ব‍্যস্ত
অপুষ্টির কঙ্কালেরা বানিজ‍্যে দেবতারে নিয়ে
গলে পড়ে যাচ্ছে প্রাচীন স্থাপত্য;
শহুরে কুকুরদের দাপটে
ঠকবাজ সব মক্কা বারানসী
সুটকানো স্তনে কস্তুরী লেপে!
তাই ঘোষণা একটাই
মৃত ঈশ্বর বলে।

৩৪) ফুসফুস
       (গল্প কবিতা)

যার হৃদয় নেই তার ভালোবাটাও দুর্জয় সন্ত্রাসে। আসলে হৃদয়টা মানে দিশেহারা পাগলামি, অনুরাগ, স্তুতিপাঠ। যারা, দেহে হৃদয়ের মুক্ত বাতাস মানে ভাবে বিবর। আমার হৃদয় রাত্রি অমানিশায় লুকিয়ে থাকা চাঁদ। হৃদয় মানে আলগে যাওয়া প্রতিটা জোড়া। উদারতার সাজসজ্জায় কাঁটা ফোঁটানোর ছোট্ট প্রয়াস।অন্ধকার আর মাকড়সার জাল। হৃদয়হীন যৌনতা। শুধু মানসিক সান্ত্বনা। মনুষ্যত্বটাও ওর উপর ভরম্ভর। তবে আজকাল আর ছাইপোঁকার মধ্যে।

একবার ভেবে দেখ ঐ আশেপাশে। না সুদূর আসমুদ্র হিমালয় পারে। স্বর্গের বিচরিত নন্দন কাননে শয়তানের আশ্রয় স্থান। নরকের ভয়ে খুঁজে দেখ নিজে কয়গজ নীচে। টিপে দিচ্ছে গলাটাও রঙিন স্বপ্নের বাসর রাতে, কালো চুলের কালো স্বপ্নে।

তুঁই তো রাজা নস্? তবে কেন? কেন,
হা করে গিলে খাস তার মাংস। এই হৃদয়টা ও তোর নয়। আছে শুধু ফুসফুস। শুন্ মাঝে মাঝে ডাক্তার দেখাস্ ঐ জীবন্ত হাসপাতালে।

৩৫) একাকীত্বের নিদারুণ আর্তনাদ

এ জীবন ফুরিয়ে অচিরেই
ঝরে যাবে আশার সঞ্চার বাণী অশ্রু জলে
সিক্ত হয়ে পড়ন্ত বিকেলে,
আধম‍রা ভালোবাসাগুলোও
হৈমন্তিক রস শুষে কঙ্কাল প্রায়
নিরেট বরফ, ঐ আদিম কালের।

আলোর শেষ বিন্দুটাকেও অভিলাষী মন
চেয়ে ছিল বেশি নাহলেও----
কম সোহাগ দেবে
বুকের উর্বর জমিতে পুঁতে রাখা জীবন কে,
কিন্তু কৈ, পাঁজরে ধমনী ছেড়া শব্দে
শিরায় শিরায় বাজছে
একাকীত্বের নিদারুণ আর্তনাদ।

৩৬) তৃতীয় শ্রেণীর এক আমি

তৃতীয় শ্রেণীর জীবন,কুকুরের মত কুন্ডলী পাকিয়ে শুয়ে থাকি ছানাপোনা নিয়ে।নিজেই বানিয়েছি নিজের নিয়ম।রোজ রোজ ফলের দোকানে ঢু মেরে আসি,আরেকটু কম দাম হলেই কিনে আনব পোয়া খানেক আঙ্গুর বা কোন প্রিয় ফল।প্রেমিকা ছিল সুচরিতা সেন,বিভোর ছিল মন সঙ্গম স্বপ্নে।বিকিয়েছিলাম আমি তারে হৃদয়।
পাইনি তারে তবু কি হয়েছে?রাহেলা বেগম তো বউ হয়েছে হাসিমুখে সব মেনে নিয়ে।বিছানায় শুধু গদি আটা নেই।কঠিন তক্তপোষে শুয়ে তবু সুখটান দেই।
পুঁটি মাছের ঘ্রান আসে রান্নাঘর থেকে।জুতোর সুকতলি খুইয়ে জুটিয়েছি তবু মাস ইনকাম।বাবার জমি বেচা টাকায় ডিগ্রিও জুটিয়েছি তিনখান।
গুমোট জানালাহীন ঘরে তৃতীয় শ্রেণীর জীবন।
মাইনেটা বাড়লেই একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নেব।তিন রুমের।রাহেলাকে কথা দিয়েছি।ওর ফোলা ফোলা গালে এখন আন্দামান নিকোবর এর মত মেসতার দাগ।আমি বোধহয় বুড়িয়েছি কিছুটা।ছেলেটার অসুখ করেছে খুব,ডাক্তার দেখাতে হবে,,সেও এক রকম টাকার খেলা খুব।বাবার ভিটেটা এবার বেচেই দেব।
কন্যাটাকে সামনের বছর এ স্কুল ছাড়িয়ে সস্তা কোন
স্কুলে দেব,খরচ কমে যাবে বেশ।
তবু রাস্তার মোড়ে ভিক্ষুককে দেখে আমি মনে মনে আত্মপ্রসাদ লাভ করি,,,আমি ওর চে তবু ভাল আছি।

৩৭) ক‍্যাসান্দ্রা

রাফখাতায় পড়ন্ত বিকেলের মতো খশে পড়ছে অশৃঙ্খল শব্দগুলো
ইস্তাহার-ম‍্যেমোরেণ্ডামে শুধু দিচ্ছে মিছিল
পরিবর্তন করে রাজসাক্ষী নতুন ইতিহাসে,
কারাগারে পুলিশ রাজপথে নেতারা ধর্ণায় অজুহাত,
বহুগামিতার কারণে, উচ্ছৃঙ্খলতার কারণে
একের পর এক গড়ছে পতিতাপল্লি রাষ্ট্রের বুকে।

আমার সুইসাইড নোটে থাকবে রাষ্ট্র তথা সেইসব ছেলে মেয়েদের কথা
মানসিক বিকারগ্রস্তদের কথা, যারা লুটছে-----
পীড়নের দায়ে ফাঁসির দাবি জানাই !

৩৮) ঈশ্বরের মৃত্যু হয়েছে ----

যুগে যুগে ঈশ্বর জন্মায়
কালের বেলায় ওবেলায় আবার মরে যায়
দরিদ্র মানুষের ঘরে কিবা ক্ষুধার্তের ভাত ভাত শব্দ ফায়ারে
সোমালিয়া, আফগান,আরাকান কিবা সুদানের গলিতে
মরতে দেখেছি কত ঈশ্বরকে
রক্তে ঐশ্বী বাণী নিয়ে দাঙ্গার কোন রাতে যুদ্ধের হুংকারে।

মন্দির, মসজিদ, প‍্যাগোডায় কত মরেছে ঈশ্বর
কিম,স‍্যুকি,বাগদাদি রা এখন ইয়ার
ঈশ্বর তো সম্পদ কিবা পুঁজির হাতিয়ার !!
আজ মরে গেছে
মমি হয়ে মৃত মিশরের পিরামিডে,হেরা-শাবরিমালায়

নীল নদ , টাইগ্রীস,সাঙ্গু,নাফ নদীর তীরে
কত ভেসেছে, দেখেছি
মৃত মায়ের স্তন টানছে ফুটপাতে
ক্ষুধার্ত ঐ শিশুটি
দেখেছি লাশের স্তুপে মাছির সাথে
শেষ মৃত্যু পাঞ্জা লড়তে !!

আমিও পাল্টাতে চাই---
ক্ষুধা থেকে বড় ধ‍র্ম আর অন্ন থেকে বড় ঈশ্বর থাকলে।

৩৯) নীরবতার ক‍্যালিগ্রাফি

ওই শ্রাবন্তীর স্বর্গোদ‍্যানে
এখন উঁকুনদের বাস।হারিয়ে গেছে বেহিসেবি উতল বাতাস,
নির্ভেজাল জল,বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত,
মেঘমালার নির্জর সঙ্গীত,
নিঃসঙ্গ গলি আজকাল এক একটা বিস্ফোরিত রাজপথ।
মহামান্য রাষ্ট্র--
উঁচু করে রাখা ঐ কবিদের মাথার দাম কত!!?
যেগুলোর উলুধ্বনি.... শঙ্খধ্বনি শুনে
গণতন্ত্রের কথা বলে একনায়কেরা।

ভাঙা টেবিলে
শতাব্দীর শেষ প্রান্তে
দেহ থেকে ভেসে আসা নাভিকাটা আর্তনাদ
শুধু খব‍রের কাগজে হেডলাইন।

চিলেকোঠায় পুরোনো পোশাক
কুচকুচে কালো আঁধারে,
রাম রহিমরা মৌলবাদের জিগির তোলে
---ঐ শহরে, বন‍্যা আসছে
গোড়ালি ফাঁটা রক্তক্ষরণে লাল হয়ে।

৪০) নাট‍্যশালার গ্রীনরুম থেকে

এবং তাদের হত্যা করা হল
ব‍্যস্ততার ভীড়ে,
অত‍্যন্ত দক্ষতার সাথে প‍্যাঁচানো ইন্দ্রজালে
মেয়াদ ভিত্তিক লাইসেন্স পেয়ে কসাইরা---
অবৈধ ক্ষমতার সুফলে
উলঙ্গ চোখে অন্ধ কানুন হ‍্যালোজেন হাতে,আজও!!

রক্তে ভাসছে আমার দেশের আঙিনা
এসেছিলাম ফিরে যাচ্ছি
বুলেটের চেয়ে মুখোশ ভয়ংকর
কি আছে আর; তরুণ তরুণীর হাতে মোমবাতি
ছাড়া।নিজের ছায়া নিজে গ্রহণ করা,
অভ‍্যস্থ এখন জনগন, নাট‍্যশালার গ্রীনরুম থেকে
নকল রাজা অট্টহাসিতে!!

৪১) ফোঁটা ফোঁটা উত্থান

অস্তিত্ব জুড়ে শুধু বিস্মরণের বক্ররেখা
বুঝিনি এমন নিঝুম ভাষ‍্য,
নির্মোহ মন,আবেদন করে ট্রেন্ড
অলিখিত রোদ্দুর আর
অজানা উঠোন জুড়ে পড়ে থাকা
আঁচলস্পর্শী বিনম্র নিবেদন।

এই শহরে সন্ধ্যায় নেমে আসতেই
ত্রিযামায় লুকোনো অজানিত স্বপ্ন
মায়াবী নক্ষত্রে শুধু প্রবাসী ভাবনা।
জমাট অভিমান
নিথর রূপকথার রাজত্বে
ঠিক একপশলা বৃষ্টি!
সুতোর ম‍্যাজিকের মতো
ক্রমশ কমছে তার দৈর্ঘ্য,
শুধু অনন্ত অজ্ঞাত ঢেউয়ে
গতিমুখ বদলে দিচ্ছে।

৪২) নামহীন একজন 

 অবশ্য মনের গন্তব্য তার গভীরতার দৈর্ঘ্য মাপে
সেন্টিমিটার বাই সেন্টিমিটার
জীবনের প্রতিটা মূহুর্ত হিসেব কষে
মূলরোম থেকে জলস্তর পর্যন্ত।

নিয়তির খেলা সাময়িক প্রসঙ্গ
যা আস্বাদন দুঃখবোধ আর বিলাপও।

পঞ্চভূতের পাঠশালা ফাঁটা জিন্সের পৃথিবী
নেশাতুর সালসা আর গিটারের গুঞ্জণে
লাফিং বুদ্ধের ভঙ্গিতে নিমগ্ন দ্রাক্ষাবন।

৪৩) ভবিষ্যৎ বদলাচ্ছে নিঝুম রাত্তিরে
নৈশব্দিক রহস্যময় জগত টা
শব্দ বাণে স্থিতধী।

চাহিদার গুণগ্রাহী সুরক্ষার জোট আর
       সীমান্ত-নদী-পাহাড় বেয়ে
কিম্বদন্তি হ্লাফ পেন্ট মানুষগুলো
সাক্ষী এই ধুসর সময়ে।

৪৪) প্রেম--
আর আসে না, দুর্মুখ স্বপ্নগুলোর
ইচ্ছেমত ফরমানে, এখন
                হিউমাস দেখে।

৪৫) এশহর এখন ফ‍্যাকাশে
পুরোনো চোখগুলোর অভাব, শুধু আভিজাত্য আর আভিজাত্য
শর্ট স্কার্টের পরদেশী হাওয়া সওদাগরি মেজাজে।

পদবী বসছে চাঁদের হাটে
মিঠাজলে রাম আর উইস্কির ককটেল
সঙ্গে চলছে উৎসব গীত।

৪৬) কুশিয়ারা বেয়ে খাঁড়া ডাকবাংলা ঘাটে
দু-পার বাংলার ঘ্রাণ উদ্ধার করেছি
খানিকটা বিষ্ঠা খেয়ে।

ল.সা.গু- গ.সা.গু উৎপাদক বের করে
স্রোতের প্রবাহে দিনশেষে একটাই চিত্র তুলে
সেটা হলো মান যোগ হুশ।

রাস্তা খুঁড়লেই কী মীমাংসা হয়
এ যে নাড়ির সাথে নাড়ির টান
স্মৃতিমধুর রুমন্থন উপাখ্যান,
একটা রিফিলের মতো
সম্পর্কে যতিচিহ্ন বসে !

৪৭) একটি ফুল---
হাত পা ছাড়া সাবলীল গঠন
সমুদ্র মন্থনের পাশ দিয়ে
হারিয়ে যাচ্ছে নদীর দু'পারের মতো
আলগে।

ভালো থাকার কথায়
দেহতত্ব গায়,তবু নির্যাস হারিয়ে
দিতে চায় একচিলতে রুদ্দুর।

রক্তপাত শেষে বিয়োগান্তুক মূহুর্ত
ক্লেদাক্ত বাগান আর সয়না
নিয়তির নিঝুম ভাষ‍্য।

৪৮) 'হামসফর' চড়ে কী উপলব্ধি করার!
পিছনে ঠেলে দেয় আলোক ফোয়ারা ষ্টেশনগুলো
স্বৈরাচারী আবেগে।

যাচ্ছে তো যাচ্ছে
একটার পর একটা টপকে
পু ঝিক ঝিক করে, সাড়ম্বরে
'এয়ার ব্রেকের' শব্দে অসুবিধে নেই বোঝাতে
থামতে হয় কোন না কোন ষ্টেশনে।

৪৯) বৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে হয়
কিঞ্চিৎ সুরাপানে;
ফ‍্যানের শব্দটাও
তাল দিচ্ছে ,আধ মোজা চোখগুলোর সাথে
ইজিচেয়ারে বেশ হেলিয়ে বসে
ছোট হয়ে যাওয়া জ্বলা সিগারেট টাও।

সময় হারিয়ে যায় ইতিহাসে
কমলাকান্ত ও দপ্তর থেকে মুক্তি
তাই নেপোলিয়ন
দহন উৎসব শেষে ফিরে গেছে।

৫০) কেইসড্রাট

স্ট্রিট লাইট
নেই তেল, চারদিক ঘিরে আছে অন্ধকার
হামাগুড়ি দেয়া ইঁদুর ছানা 
রেখাহীন গর্ভে সুড়ঙ্গ খোদে ওরা, এখন বাহুবলী।
আমি জড়পদার্ধ 
বিউগল বাজাতে জানি, বড় বিউগল!
আমার কী দোষ - না স্বেচ্ছায় এসেছি এখানে
এই দুর্দশা গ্রস্থে ভরপুর মাঠে।

আমাদের এ জীবন যেহেতু কমার্শিয়াল চিন্তার,
ব‍্যাপার চলছে 
এক চিলতে রুদ্দুর ও,
জলন্ত অঙ্গারে পরাজিত জীবন্ত আত্মারা 
গলায় দড়ি দিয়ে সময়ের দাবি রাখে
কেইসড্রাটের ডালে।

Friday, August 5, 2022

লাতু মালেগড় : ঐতিহাসিক সিপাহী বিদ্রোহের সাক্ষী


"কত বিপ্লবী বন্ধুর রক্তে রাঙা,
বন্দীশালার ওই শিকল ভাঙ্গা
তাঁরা কি ফিরিবে আজ
তাঁরা কি ফিরিবে আজ সু-প্রভাতে,
যত তরুণ অরুণ গেছে অস্তাচলে।। "
দেশের খাতিরে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন বীর শহীদেরা। মোহিনী চৌধুরী তাঁর লেখায় যে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন এবং আমরাও বোঝতে পারি শহীদেরা তরুণ অরুণ। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা বলা হয়ে থাকে। আর ঐ বিদ্রোহে আমাদের বরাক উপত্যকা কিভাবে অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত তা বোধহয় আজও অনেকের অজানা।

লঙ্গাই নদীর তীরে ছোট্ট একটি টিলা। আসামের করিমগঞ্জ জেলার লাতু একটা ঐতিহাসিক রণভূমি। একটা উপেক্ষিত অঞ্চল। যার নাম মালেগড়। রক্তাক্ত এই ইতিহাস লিখার কথা ছিল স্বর্ণাক্ষরে। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজও এখানে যথাযোগ্য মর্যাদার আলো পড়ে নি। অপশক্তির বিরুদ্ধে দেশ মাতৃকার জন্য সিপাহী বিদ্রোহে যারা লড়েছিল আজ শুধু নাম মাত্র সমাধিতে পড়ে আছে তাঁরা। এপারে লঙ্গাই ওপারে সোনাই নদীর তীরে ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তে নিরবে নিভৃতে শায়িত আছেন ২৬ জন বীর সেনানী।

আজ আমরা স্বাধীনতার ৭৫তম বর্ষ পালন করছি। সিপাহী বিদ্রোহের ১৬৫ তম বর্ষ। তা কিন্তু কম বড় কথা নয়। আমাদের জন্য নিশ্চয়ই গর্বের বিষয়। রক্তাক্ত এই ইতিহাস পাটকাই ট্রেকার্সের দৌলতে জনসমক্ষে প্রকাশ পায়। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের সাক্ষী এই শহিদভূমি, পাটকাই ট্রেকার্সের কর্মকর্তারা আজও নিরলসভাবে এই পুণ্যভূমির সেবায় নিয়োজিত আছেন। তারা আশাবাদী অচীরেই আবার জেগে উঠবে এই শহিদ ভূমি।
১৮৫৭ সাল সিপাহী বিদ্রোহ। যার সূচনা হয় ১৮৫৭ সনের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরে। এই আগুন জ্বলতে জ্বলতে পূর্ব ভারতের মাটিও স্পর্শ করেছিল। চট্টগ্রামে নিয়োজিত ৩৪ নেটিভ ইনফেন্ট্রির তিন’শ জন সিপাহী বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। নেতৃত্বে ছিলেন হাবিলদার রিজবুল্লা খান। সেদিন ১৮ই নভেম্বর ১৮৫৭। সুবেদার অযোধ্যা সিং চট্টগ্রাম কোষাগার লুট করেন। নগদ প্রায় দুই লক্ষ পঁচাত্তর হাজার টাকা। সিলেট ডিভিশনের কমান্ডার মেজর ব্যারিং সূত্র মারফত খবর পেয়ে যান বিদ্রোহী বাহিনী অবিভক্ত বাংলার শ্রীহট্ট জেলার লাতুতে অবস্থান করছে। ১৮ই ডিসেম্বর শীতের কনকনে বাতাসে লঙ্গাই- সোনাই নদীর তীরে ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই মেজর ব্যারিং ও ৩৪ নেটিভ ইনফ্রেনটি  রিজবুল্লা খান বাহিনীর মুখোমুখি সংর্ঘষ হয়। ছাব্বিশজন বিদ্রোহী সেনা ও মেজর ব্যারিং সহ পাঁচজন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন।

আজ এই হৃদয় বিদারক ঘটনা ইতিহাসের পাতায় লুক্কায়িত।  ব্রিটিশ সরকারের কাছে এই সংঘর্ষের বিবরণ পাওয়া গেলেও আসাম সরকারের কাছে তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায় নি। এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ আব্দুল মুকিত চৌধুরীর কাছ থেকে জানা যায় মাটি খনন করার পর উঠে আসে দুটি বিশাল তলোয়ার, একটি পিস্তল, আগুন জ্বালাবর পাথর। আর তৎসঙ্গে ২৬  জন শহীদের সমাধি এই টিলায় দেয়া হয় তাঁর থেকে জানা যায়। কথিত আছে টিলার ওপরে লুঠ হওয়া বাক্স খোলা হয়। সেই থেকে নাম পড়েছে মালেগড় টিলা। লঙ্গাই নদীর তীরে ভয়ানক গুলিবর্ষণের শব্দ আর আহত সৈন্যদের আর্তনাদ সেদিন মালেগড়ের আকাশ বাতাস স্বাক্ষী হয়ে ছিল। আজও ১৮ই ডিসেম্বর মালেগড় দিবস লাতুর মানুষের কাছে।

বলা বাহুল্য, সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (BSF) প্রশংসার যোগ্য। মালেগড়কে প্রচারের আলোয় নিয়ে আসার জন্য তাঁদের অবদান অসীম । সঙ্গে প্রশংসা করতে হবে স্বেচ্ছাসেবী সংঘটন পাটকাই ট্রেকার্সের। ৭৫তম স্বাধীনতা দিবসের পুন্য লগ্নে আমরা সরকারের কাছে এটাই দাবি রাখি, খুব শীঘ্রই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পর্যটনমন্ত্রীর হাত ধরে মালেগড়ে গড়ে উঠুক পর্যটন কেন্দ্র। যদি মালেগড়ের পাশে সীমান্ত চুক্তি মতে আন্তর্জাতিক হাট গড়ে উঠে তাহলে দিন দিন এতে বাড়বে পর্যটকের সংখ্যা। তাতে সরকারের রাজস্ব বাড়বে আর অর্থনৈতিক দিক দিয়ে উন্নত হবে সীমান্ত এলাকা । সেইসঙ্গে এই গৌরবময় অধ্যায়ের কথা জানবে গোটা দেশ ও বিশ্ব। গৌরবান্বিত হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও।

যখন পরবে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে : রবীন্দ্র স্মরণে ২২ শে শ্রাবণ


"মরণ রে, তুঁহুঁ মম শ্যামসমান", ভানুসিংহের পদাবলীতে মৃত্যুকে একপ্রকার আহ্বান করেই লিখেছিলেন কবি৷ নৈবেদ্য কাব্যগ্রন্থের ‘মৃত্যু’ কবিতায় তিনিই বলেন- “মৃত্যু অজ্ঞাত মোর, আজি তার তরে… মৃত্যুকে আমি ভালো বাসিব নিশ্চয়।”
আজ ২২শে শ্রাবণ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮২তম প্রয়াণ দিবস। মহাকালের চেনাপথ ধরে প্রতিবছর বাইশে শ্রাবণ আসে। এই বাইশে শ্রাবণ বিশ্বব্যাপী রবী ভক্তদের কাছে একটি শূন্য দিন। বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে যার অফুরন্ত অবদান সেই কবিগুরু ভক্তদের যেদিন না-ফেরার দেশে যাত্রা করেন সেদিন শোকার্ত বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে লিখেছিলেন- 'দুপুরের রবি পড়িয়াছে ঢলে অস্তপারে কোলে/বাংলার কবি শ্যাম বাংলার হৃদয়ের ছবি তুমি চলে যাবে বলে/শ্রাবণের মেঘ ছুটে এলো দলে দলে।

রবীন্দ্রনাথ বর্ষা নিয়ে, আষাঢ়-শ্রাবণ নিয়ে লিখেছেন। তাতে ধরা পড়ে শ্রাবণ-বর্ষণের বহুমাত্রিক রূপ। তবে শ্রাবণের দিকেই কবির নজর ছিল বেশি।
'আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে/দুয়ার কাঁপে ক্ষণে ক্ষণে'
শ্রাবণ-বর্ষণে তিনি যেন পেয়েছিলেন মুক্তির ডাক।

পৃথিবী ছেড়ে না-ফেরার দেশে চলে গেলেও অসামান্য রচনা ও সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে আজো বেঁচে আছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি এখনো দুই বাংলার মানুষের প্রেরণার এক অন্তহীন উৎস। কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করা রবীন্দ্রনাথের হাত ধরে বাঙালির সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিশ্বজনীন হয়ে ওঠে। ১৯১৩ সালে প্রথম বাঙালি এবং এশীয় হিসেবে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।

কবিতা দিয়ে সাহিত্যচর্চার শুরু এবং শেষ হলেও তার হাতেই বাংলা ভাষায় প্রথম সার্থক ছোট গল্পের সৃষ্টি হয়েছে। তিনিই আবার বাংলা উপন্যাসকে আধুনিক রূপ দেন। শুধু সৃজনশীল সাহিত্য রচনা নয়, অর্থনীতি, সমাজ, রাষ্ট্র নিয়ে তার ভাবনাও তাকে সম্মানের আসনে পৌছে দিয়েছে। মানুষের মুক্তির দর্শন ছিল তার চেতনা জুড়ে। রবীন্দ্রনাথই একমাত্র কবি যিনি দুটি দেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা।

বাংলা সাহিত্যের এমন কোন শাখা নেই যেখানে রবীন্দ্রনাথের অবাধ বিচরণ নেই। রবীন্দ্রনাথের দর্শন তত্ত্ব ছিল সীমার মধ্যে অসীম। তাঁর কাব্যের বহুস্থলেই দর্শনের কিছু কিছু তত্ত্বকথা ছড়িয়ে আছে। রবীন্দ্রনাথের ‘ধর্ম’, ‘মানুষের ধর্ম’,—এই দুই গ্রন্থে, ‘শান্তিনিকেতন’ নামক গ্রন্থের বক্তৃতাবলীতে, আত্মপরিচয়ে এবং “দি রিলিজিয়ান অফ ম্যান’ নামক গ্রন্থে মূলত দার্শনিক আলােচনাই চোখে পড়ে। তাঁর কাব্যগ্রন্থ,নাটক এগুলোতেও যে কবিগুরুর দর্শন তত্ত্ব ফুটে উঠেছে তা দেখা যায়। তাইতো কবিতায় লিখেছিলেন ‘এ চির জীবন তাই, আর কোন কাজ নাই রচি শুধু, অসীমের সীমা / আশা দিয়ে ভাষা দিয়ে, তাহে ভালোবাসা দিয়ে গড়ে তুলি মানসী প্রতিমা’! আবার বলছেন ‘সীমার মাঝে অসীম তুমি বাজাও আপন সুর’!

জীবনের শেষ নববর্ষে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন তার সাধের শান্তিনিকেতনে। সেদিন রচনা করেছেন ‘সভ্যতার সংকট’ নামের অমূল্য লেখাটি। আর তারও ক’দিন পর ১৯৪১ সালেরই ১৩ মে লিখে রাখলেন, রোগশয্যায় শুয়েই ‘আমারই জন্মদিন মাঝে আমি হারা’। শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের শেষ দিনগুলোতে কখনও তিনি শয্যাশায়ী, কখনও মন্দের ভাল। শেষের দিকে ১৯৪১ সালের ২৫ জুলাই, শান্তিনিকেতনের আশ্রমে ছেলেমেয়েদের ভোরের সঙ্গীত অর্ঘ তিনি গ্রহণ করেন তার উদয়ন গৃহের পূর্ব দিকের জানলার কাছে বসে। উদয়নের প্রবেশদ্বার হতে ছেলেমেয়েরা গেয়ে উঠেন কবিরই লেখা ‘এদিন আজি কোন ঘরে গো খুলে দিল দ্বার, আজি প্রাতে সূর্য ওঠা সফল হল কার।

তারপর একদিন এই শ্রাবণেই তিনি চলে গেছেন সবাইকে কাঁদিয়ে। অবশ্য কবিগুরু তাঁর কর্মে আমাদের মাঝে বর্তমান আছেন, থাকবেন চিরদিনই। মানবজীবনে জন্ম যেমন সত্য--মৃত্যুও অনিবার্য সত্য। তাঁর সৃষ্টি মৃত্যুহীন হলেও তিনি শারীরিক দিক থেকে আমাদের মাঝে নেই এটা মানিয়ে নেয়া খুব কষ্ট--এটাই প্রকৃতিগত অমোঘ সত্য। মৃত্যু রয়েছে বলেই আমাদের বেঁচে থাকাটা এত সুন্দর, এত প্রিয়, এত সার্থক। আজ তাঁর প্রয়াণ দিবসে রইল শ্রদ্ধার্ঘ্য...

আজাদী কা অমৃত মহোৎসব


"কত বিপ্লবি বন্ধুর রক্তে রাঙা, বন্দিশালার ওই শিকল ভাঙা..." - স্বাধীনতা দিবস প্রকৃত অর্থে ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের একটি জাতীয় দিবস। আমরা ভারতীয় নাগরিক। বিশ্বের কোথাও বা যে দেশেই থাকি না কেন, আমরা নিজেদেরকে ভারতীয় হিসাবে পরিচয় দিয়ে থাকি, ভারতীয় বলে গর্ববোধ করি।ছোটবেলার স্বাধীনতা দিবস আসলেই নস্টালজিক ব্যাপার। সকালে স্নান সেরে বাঁশের কাঠিতে কাগজে রং করা পতাকা গম দিয়ে লাগিয়ে স্কুলে যাওয়া। সহপাঠীদের সঙ্গে জাতীয় সংগীত গাওয়া, খেলাধুলা করা ইত্যাদি ইত্যাদি। বড় হওয়ার সাথে সাথে এর মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব আরও বাড়তে থাকে। আসলে স্বাধীনতা নিজের মধ্যে অনুভব করা।

এবারের স্বাধীনতা দিবসের মূল আকর্ষণীয় বিষয় হল 'হর ঘর তিরঙ্গা '। দেশজুড়ে চলছে 'হর ঘর তেরঙ্গা' ক্যাম্পেন ৷ স্বাধীনতার ৭৫ বছর উদযাপনে 'আজাদি কা অমৃত মহোৎসব'-এর অঙ্গ হিসেবে প্রত্যেক নাগরিক তাঁর বাড়িতে তেরঙা উত্তোলন করবে ৷ ১৫ অগস্টের আগে ২০ কোটিরও বেশি বাড়িতে জাতীয় পতাকার দেখা মিলবে বলে মনে করা হচ্ছে ৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রোফাইলের ছবিতে তিন রঙা পতাকার (Har Ghar Tiranga) ছবি দিয়েছেন ৷ জনসাধারণকেও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে এই ছবি শেয়ার করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি (All about Har Ghar Tiranga campaign) ৷

পতাকা উত্তোলন সংক্রান্ত 'দ্য ফ্ল্যাগ কোড অফ ইন্ডিয়া, ২০০২' (The Flag Code of India 2002) ও প্রকাশ করা হয়েছে ৷ এখানে পতাকার ব্যবহার, সাজানো এবং উত্তোলন সংক্রান্ত যাবতীয় নির্দেশিকা দেওয়া আছে ৷ এই পতাকা উত্তোলন আসলে দেশ গড়ায় প্রত্যেক নাগরিকের অবদানের একটা প্রতীক ৷

আর হাতে গোনা কদিন পর স্বাধীনতা দিবস। ২০০ বছরের ব্রিটিশ দমন-পীড়ন সত্ত্বেও ১৯৪৭ সালে হাজার হাজার ভারতীয়দের আত্মত্যাগের ফল স্বাধীনতা দিবস। স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন দেখতে অনেকেই সবকিছু ছেড়ে দিয়েছিলেন। এই আত্মত্যাগের কারণেই এই শুভ উপলক্ষে নীল আকাশে ভারতের জাতীয় পতাকা উড়ে। ভারতের স্বাধীনতা লাভের মাত্র তিন বছর পর ১৯৫০ সালে ভারতের সংবিধান প্রস্তাব করা হয়েছিল। আমরা সবাই জানি যে স্বাধীনতার আগে ভারতের জাতীয় পতাকা এবং স্বাধীনতার পরের ভারতের জাতীয় পতাকার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, সেটি হল অশোক স্তম্ভ।

 ৭৫ বছর আগে, আমাদের সংবিধান জাতীয় পতাকার প্রতিটি অংশকে বর্ণনা করেছে। প্রতিটি ধারার দ্বারা সংবিধানের প্রতিফলিত বিষয়গুলি বিশদভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে আজও সংবিধান নিয়ে আলোচনা ও অধ্যয়নে সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন আগ্রহ নেই। সংবিধান, ভারতের একতা ও সার্বভৌমত্বের ঢাল, ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা উচ্চ স্তরের কোর্স ছাড়া খুব কমই দেখা যায় এবং খুব কমই আলোচনা করা হয়। অতএব, স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরে, অনেক ভারতীয় এখনও ভারতের সংবিধানের চেতনা জানেন না।

সংবিধানের প্রতিটি অনুচ্ছেদ ভারতের জনগণের পক্ষে কী বলছে তা নিয়ে পুরো বিষয়টি থেকে অনেকেই দূরে রয়েছেন। আগে, স্বাধীনতা দিবস বা প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের সময় সংবিধানের তাৎপর্য সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে অবহিত করা একটি ঐতিহ্য ছিল। তবে বর্তমানে রাজনৈতিক নেতাদের মূল্যবান সময় বাঁচাতে শুধু পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমেই অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত রাখা হয়। ফলে সংবিধানের প্রকৃত ধারণা থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হয়েছে।

 আক্ষরিক অর্থে, ভারত আজ একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সবাই বলে গণতন্ত্রে জনগণই রাজা। কিন্তু এটা কি সত্যিই হয়? 'বাক স্বাধীনতা' দেশের সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকদের মৌলিক অধিকার।
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না যে রাজনীতির তাড়নায় সংবিধানের চেতনায় কোথায় আঘাত করা হয়েছে। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং ভারতের এই ধর্মনিরপেক্ষতা সংবিধান দ্বারা আবদ্ধ। তবে সাধারণ জনগণও এই সংবিধানের প্রাথমিক জ্ঞান থেকে বঞ্চিত।

ভারতের সংবিধানও প্রত্যেক ভারতীয়কে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ প্রদান করে। কিন্তু অনেকেরই ধারণা আজ ভারত শুধু নামেই ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে আছে। এখন কথা হলো আমরা নিশ্চয় দেখতে পাবো ভারত ধর্মনিরপেক্ষতার দিকে কতটা এগিয়ে যাচ্ছে। বেশিরভাগ মানুষ জানেন কেন জাতীয় পতাকার তিনটি রঙ রয়েছে বা তিনটি রঙ কী প্রতিনিধিত্ব করে তবে জাতীয় পতাকার অশোক স্তম্ভ কী এবং অশোক স্তম্ভের মাঝখানের বারগুলি কী প্রতিনিধিত্ব করে সে সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। যারা প্রায়ই বিভ্রান্ত হয়। এমন অনেক লোকের উদাহরণ রয়েছে যারা কখনও কখনও অশোক স্তম্ভের ২৪ টি স্তম্ভকে ভাষার প্রতিনিধিত্বকারী হিসাবে ভুলভাবে উপস্থাপন করে এবং দর্শকদের ভুলভাবে উপস্থাপন করে। অতএব, তরুণ প্রজন্মের জানা উচিত ভারতের জাতীয় পতাকা ও অশোক চক্রের বারগুলি আসলে কী কাজে ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি শাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বহন করে।

 জাতীয় পতাকা গেরুয়া,সাদা ও সবুজ এই তিন রং এ তৈরি। উপরের গেরুয়া রং ত্যাগ, দেশপ্রেম ও সাহসের প্রতীক। মধ্যে সাদা রং সত্য ও শান্তির প্রতীক। নীচের সবুজ রং কৃষিকাজ ও অগ্রগতির প্রতীক। শোক চক্রের ২৪টি দণ্ডের অর্থ প্রেম, সাহস, ধৈর্য, ​​শান্তি, মহত্ত্ব, কল্যাণ, বিশ্বাস, উদারতা, নিঃস্বার্থতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, আত্মত্যাগ, সত্য, পবিত্রতা, ন্যায়বিচার, করুণা, সৌন্দর্য এবং নম্রতা, সহানুভূতি, সহানুভূতি, ধর্মীয় জ্ঞান, মূল্যবোধ, ঐশ্বরিক জ্ঞান, ঈশ্বরের ভয় এবং আশা। 

টমাস জেফারসনের ভাষায় বলতে গেলে, “মানুষের সমঅধিকার, এবং প্রতিটি ব্যক্তির সুখের অধিকার, এখন স্বীকৃত।” প্রত্যেক ভারতীয়কে আমাদের জাতীয় পতাকা সম্পর্কে, সংবিধান সম্পর্কে জানতে হবে।এই দিনটি কেবল একটি আচার-অনুষ্ঠান হওয়া উচিত নয়, আমাদের এইসকল দেশবাসীর কথা ভাবা উচিত যারা এখনও দারিদ্র্য, ক্ষুধা এবং দাসত্ব থেকে মুক্ত নয়। স্বাধীনতা প্রত্যেক ভারতীয়র জন্য আনন্দ নিয়ে এসেছে। ৭৫তম স্বাধীনতা দিবসের রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

চরমপন্থী মৌলবাদ এবং আসন্ন বিপদ


এটি একটি সুস্পষ্ট সত্য এবং বর্তমান এবং অতীতেও বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে কোনও কিছুর চরমপন্থী মৌলবাদ কীভাবে একটি দেশের জন্য হয়ে ওঠে অত্যন্ত মারাত্মক।  শ্রীলঙ্কা এখন দেউলিয়া।  পাকিস্তান ও নেপাল এবং মিয়ানমার দেউলিয়া হওয়ার কাতারে রয়েছে।  এখন প্রসঙ্গ ভারত।

 ভারতীয় অর্থনীতি ছিল এবং এখনও কোনো না কোনোভাবে সমাজতান্ত্রিক এবং পুঁজিবাদীর মধ্যে একটি মিশ্র অর্থনীতি।  কিন্তু যে প্রবণতা আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি এবং অনুভব করছি তা পুঁজিবাদের দিকেই আগ্রাসীত।  এভাবে একটা প্লুটোক্রেটিক সরকার চলছে। কিন্তু কেন?  কারণ আদানি, আম্বানির মতো শিল্পপতি এবং ব্যবসায়িক আইকন এবং আরও অনেকে কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করা দলটিকে প্রচার করছেন।  কিন্তু কিভাবে?

 দেখুন নির্বাচনে তারা মানে পুঁজিপতিরা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর সেই টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে দলের প্রচারের জন্য কোটি কোটি টাকা দিয়েছে।  প্রকৃতপক্ষে সব নিয়মিত সবচেয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য তাদের হাইকিং মূল্য উত্থাপন.  এমনকি তেল এবং গ্যাসও।  ভারতের মতো বিশাল গণতন্ত্রে এভাবে মানুষ প্রতিনিয়ত দরিদ্র থেকে দরিদ্র হচ্ছে।  তাদের কেনার ক্ষমতা তাদের আয়ের বাইরে চলে যাচ্ছে।

  কিন্তু আদানি এবং আম্বানি আরও ধনী এবং ধনী হয়ে আসছে।  এটা গণতন্ত্রের ভালো লক্ষণ নয়।  এটি সাধারণ জনগণের লুট ও দমন।  এটা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীর চেয়ে কম বাজে কাজ নয়।  সাধারণ মানুষ দেউলিয়া ও ভিক্ষুক হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।  কেন্দ্র এবং রাজ্যের যে কোনও জায়গায় সরকার দেখায় যে তারা ভর্তুকি দিয়ে এবং স্কিম তৈরি করে অর্থ এবং অন্যান্য জিনিস এবং সুযোগ-সুবিধা দিয়ে মানুষকে উদ্ধার করছে।  এটি একদিকে জুতা দ্বারা প্রহার করা আর এবং তারপর একটি কপালে একটা চুমু দিয়ে সব আবদার শেষ।

 দেখুন ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার রাজাপক্ষ তামিলদের গণহত্যার মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন।  এটাকে বলা হয় চরমপন্থী মৌলবাদ যদিও চরমপন্থী তামিলদের দ্বারা এলটিটিই গঠিত হয়েছিল, আমরা তা জানি।  কিন্তু শ্রীলঙ্কার সাধারণ ও গরিব মানুষ এবং তামিল নাগরিকরা, তাদের ভুল কি ছিল??  ১৯৪০-এর দশকে হিটলার এবং নাৎসিদের হাতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কীভাবে ইহুদিদের বন্দী শিবিরে গণহত্যা করা হয়েছিল।  সাম্প্রতিক অতীতে মিয়ানমার কীভাবে রোহিঙ্গাদের ধ্বংস করেছে!  পাকিস্তান কিভাবে একধরনের ধর্মপ্রাণ মানুষের আবাসভূমিতে পরিণত হচ্ছে!  আফগানিস্তানের দিকে তাকান!  ভারত যদি তার বহুসাংস্কৃতিক অবস্থানের দ্বারা বৈচিত্র্যের মধ্যে তার ঐক্যকে স্বীকৃতি না দেয় তাহলে যা থেকে বিরাজ করছে
 দীর্ঘ অতীত তারপর বিপদ অপেক্ষা করছে পথে।    বিপদ,কোন সম্পর্কে?

 বিপদ হল আপনি কাকে এবং কোন ধরণের মানুষকে ঘৃণা করছেন এবং বিভক্ত করছেন এবং দমন করছেন, একদিন তারা আপনাকে সন্ত্রাসী আকারে নির্যাতিত করবে।  শুধু তাই নয়, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমের বাকি বিশ্বও মানবিক প্রশ্নে আপনার বিরুদ্ধে যাবে এবং তা ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থঋণ ও অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিরাট ক্ষতি হবে।

 দেখার কথা শ্রীলঙ্কাকে ঋণ দিয়ে চীন অক্টোপাসের মতো বন্দী করেছিল কিন্তু তারা তাদের দক্ষিণ অংশের সমুদ্রবন্দর ৯৯ বছরের লিজ দিয়ে দখল করেছে কারণ শ্রীলঙ্কা চীনকে অর্থ ফেরত দিতে পারে না।  পাকিস্তান এবং নেপাল এবং মিয়ানমার তাদের একই রাষ্ট্র।  সেসব দেশে উন্নয়নের নামে চীন সাম্রাজ্যিক শক্তি হিসেবে উঠে আসে যা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র করেছে এবং চীনকে হয়তো পথ দেখিয়েছে।

 তাই নতুন বোতলে পুরনো মদ।  নীরব মোদী, মেহুল চোকশি, বিজয় মালিয়ার মতো সুপার লোনার এবং ব্যাঙ্ক ধ্বংসকারীদের থামাতে পারবে না মোদি সরকার।  ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা ও সাধারণ মানুষের সেই টাকা চুরি হয়েছে।  তাই চোর চলছে উভয় ভাবেই...আদানীরা বৈধ পথে আর মালিয়া অবৈধ পথে।  তাহলে টাকা কোথায়?  কেন... তারা বিদেশী ব্যাংকে জমা করছে।  মহান ভারত লুট করেছে মহান 'অভিজাতদের' দ্বারা।

ডাকাতরা সর্বব্যাপী।  সর্বত্র তারা সর্বোচ্চতায় রাজত্ব করছে।  আজকের বাংলায় কীভাবে লুটপাট করলেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী?  আমরা সব জানি.  তরুণ শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থীরা কীভাবে পালাচ্ছে?  কিভাবে স্কুল শিক্ষার বৈধ প্রার্থীরা ভিখারিতে রূপান্তরিত হয়??  দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী কীভাবে অবৈধ চাকরি প্রার্থীদের লুটপাট করে কোটি কোটি টাকা জমিয়েছেন.. আমরা সব জানি।

 সবশেষে আমি বলতে চাই যে ভারতের উচিত তার চরমপন্থাকে সব উদ্বেগের মধ্যে পরিত্যাগ করা।  যদি এটি ফ্যাসিবাদী হিসাবে বেরিয়ে আসে তবে ভারতের সমস্ত মানুষ সংসদীয় পদ্ধতির মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত বিচার করবে। বেনিটো মুসোলিনির কোন ছাপ এই দেশে নিশ্চয় পড়তে দেবে না।

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...