আজ দার্শনিক, রাজনীতিবিদ, ‘দাস ক্যাপিটাল’-র স্রষ্টা কার্ল মার্কস-র ২০১তম জন্মদিন। যিনি মানবমুক্তির স্বপ্নই শুধু নয়, এই সমাজ পরিবর্তনের নির্দিষ্ট লক্ষ্যও বাতলেছেন, যা আজও মুক্তিকামী মানুষের দিশা হিসাবে সারা পৃথিবীব্যপী সমাদৃত। যিনি শেখান, সমস্ত ইতিহাসই আসলে শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাস-তখন তাঁর মেধা ও ধীশক্তিকে কুর্নিশ জানাতেই হয়। তিনি একজন প্রেমিকও, যিনি উজাড় করা উথালপাথাল ভালোবাসতে পারেন, প্রেয়সী জেনি-র উদ্দেশ্যে লিখতে পারেন কবিতা; যাতে ভালোবাসা শব্দের বুননে ওম-ভরা আলোয়ান তৈরি করে। আজ তাঁর কবিতাতেই তাঁকে স্মরণ -
সান্ধ্যভ্রমন
কি দেখছ পাহাড়ের কিনারে দাঁড়িয়ে
কেন ফেলছ নম্র দীর্ঘশ্বাস
সূর্য আলো ছড়িয়ে বাতাসের ভিতর ডুবে যাচ্ছে
পাহাড়ের চূড়াকে চুম্বন করে জানাচ্ছে বিদায়।
এইসব তুমি আগে কখনও দেখ নি।
সূর্যের পরিধী ধীরে ধীরে বেড়েছে,
ভোরের আকাশ; তারপর দুপুর ...
এখন উপত্যকায় ডুবে যাচ্ছে।
সত্যিই ঐ আলো
ক্রিমসন রঙের ভাঁজ যেন।
তারপর তার অনিচ্ছুক চোখ চায় না যেতে
বাস করতে চায় নারীর কামনায়।
আমরা শান্তিতে হাঁটি। জেনির পায়ের শব্দে
খাড়ির কিনারায় প্রতিধ্বনি জাগে।
হালকা বাতাস চুমু দেয় ওর শালে;
ওর চোখ মধুর মেদুর।
আহ, প্রেম! আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলি।
জেনি কাঁপছে রক্তিম গোলাপের মত,
আমি ওর হৃদয় স্পর্শ করি, নিচে অস্তমিত সূর্য –
প্রেক্ষাপট নক্ষত্রখচিত ...
এই জন্যই খাড়ির কাছে এসেছি,
এ জন্যই দীর্ঘশ্বাস ফেলি;
সন্ধ্যের আলো জ্বলে উঠলে ও ভেসে যায়
তারপর, ওপর থেকে ইশারায় ডাকে ।
জেনির প্রতি
শব্দরা-মিথ্যে আর অগভীর ছায়া ছাড়া আর কী!
চারপাশে জাগছে জীবন ...
তোমার ভিতর- মৃত ক্লান্ত এই আমি বইয়ে দেব
আমার ভিতরের সবটুকু শক্তি।
যদিও বিশ্বের ঈর্ষনীয় ঈশ্বর বহু আগে থেকেই
গভীর দৃষ্টিতে পরখ করে চলেছেন মানুষের অভ্যন্তরীন আগুন
এবং চিরদিন দরিদ্র মানব
ঈশ্বরের বুকের জ্যোর্তিময় সাংঘর্ষিক শব্দে আহত;
যেহেতু, আত্মার মধুর আলোকের প্রতি বন্য গতিতে
নির্গত হয় আবেগ;
প্রিয়তমা, এসবই হতে পারে তোমার মুক্ত পৃথিবী
যা তোমাকে সিংহাসনচ্যূত করবে, তোমাকে টেনে
নামাবে ধূলায়
নাচগান সব করে দেবে ভন্ডুল ...
জীবন বিকাশমান হলেও- জীবনকে কর্ষিত কর!
No comments:
Post a Comment