তাঁর নাম, চারু মজুমদার, এবং তাঁর নাম আজও মুখে আনা মানা। কারণ তাঁর হাত ধরেই তো জন্ম নিল এই দেশের কৃষক বিদ্রোহ, তাঁর চোখ দিয়েই তো জনগণ চিনলেন যে সমস্ত ভোট পার্টিগুলি জোতদার - জমিদার আর পুঁজিপতিদের দালাল, তাদের রং আলাদা, ঢং আলাদা, কিন্তু ভিতরে সব ভোট পার্টিই এক। কারণ তিনি যে বিদ্রোহী, তাঁর কথা জানলে মানুষ যে বিদ্রোহ করতে চায়, ভেঙ্গে ফেলতে চায় পঁচা সমাজ ব্যবস্থা কে এবং প্রতিষ্ঠা করতে চায় এক নতুন সমাজ। তাই চারু মজুমদার এক নিষিদ্ধ নাম, কারণ তার নামে যুক্ত আছে বিদ্রোহ আর বিপ্লব। জমিদার-তনয়ের পোশাকটা অনায়াসে ছুঁড়ে ফেলে যিনি কৈশোর জীবনেই সাম্যবাদী ভাবধারায় দীক্ষিত হন, মানুষের মধ্যে কাজ করাটাই নিজের লক্ষ্য হিসাবে স্থির করেন এবং আজীবন সেই সঙ্কল্প থেকে চ্যুত হন না, তিনিই তো অগণিত নিপীড়িত মানুষের মনে এই ব্যবস্থা বদলের স্বপ্নকে প্রোথিত করবেন।
চারু মজুমদার দেখান যে একমাত্র সশস্ত্র কৃষি বিপ্লবের পথে চলেই ভারতের কৃষক জনসাধারণ মুক্তি লাভ করতে পারেন সমস্ত শোষণ অত্যাচার থেকে এবং ভারতবর্ষকে প্রকৃত ভাবে স্বাধীন করা সম্ভব শুধুমাত্র গণ বিপ্লবের মাধ্যমে। মাও সে তুং এর নীতির ভিত্তিতে তিনি তুলে ধরেন গ্রামে গ্রামে জোতদার -জমিদার ও তাদের পেটোয়া রাষ্ট্র শক্তির বিরুদ্ধে কৃষক যুদ্ধের লাইন, যা ষাটের দশকে লিন বিয়াও এর দ্বারা "জনযুদ্ধের জয় দীর্ঘজীবি হউক" পুস্তিকায় প্রকাশিত হয়। এই লাইনের ভিত্তিতে তিনি রচনা করেন আটটি ঐতিহাসিক দলিলের যা সিপিএমের নির্লজ্জ রাজনীতির স্বরূপ সেই সময় কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে প্রকাশ করে, এবং এই আটটি দলিলের ভিত্তিতেই তিনি নিজে লেগে থেকে গড়ে তোলেন দার্জিলিং জেলার তিনটি থানা অঞ্চলে কৃষকের সশস্ত্র সংগ্রাম।
এই সংগ্রামের স্ফুলিং পরে সারা ভারতে দাবানল হয়ে ছড়িয়ে পরে যখন যুক্ত ফ্রন্টের গৃহ মন্ত্রী জ্যোতি বসুর পুলিশ ২৫ শে মে ১৯৬৭ তে গুলি চালায় নকশালবাড়ি গ্রামের কৃষক রমণীদের উপর। ১১ জন কৃষক রমনী, কৃষক ও শিশুর রক্তে সিক্ত নকশালবাড়ির মাটি সারা ভারতবর্ষে নকশালবাড়ির পথে কৃষি বিদ্রোহের আগুন জ্বেলে দেয়, যাকে মাও জেদং এর নেতৃত্বাধীন চীনা কমিউনিস্ট পার্টি - ভারতে বসন্তের বজ্র নির্ঘোষ বলে অবিহিত করে।
ভারতবর্ষ ব্যাপী সশস্ত্র কৃষক সংগ্রামের মধ্যেই মার্কসবাদ -লেনিনবাদ মাও সে তুং এর চিন্তাধারার ভিত্তিতে গড়ে তোলেন এক বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি - সিপিআই (এম-এল) এবং সমগ্র ভারতবর্ষের শাসকশ্রেণীর কাছে এক আতঙ্কের নাম হয়ে ওঠেন চারু মজুমদার, অন্যদিকে দেশের গরীব খেটে খাওয়া মানুষের জন্যে তিনি হয়ে ওঠেন মুক্তির অগ্রদূত। পশ্চিমবঙ্গের পথে পথে আওয়াজ ওঠে—‘লাঙল যার, জমি তার’, ‘বন্দুকের নলই ক্ষমতার উৎস’, ‘নকশালবাড়ির পথ বিপ্লবের পথ’, ‘একটি স্ফুলিঙ্গই দাবানল সৃষ্টি করে’- ইত্যাদি। সিপিআই (এম - এল) এর নেতৃত্বে সারা ভারতে গড়ে ওঠে তীব্র সশস্ত্র সংগ্রাম, এবং এই সংগ্রামকে সঠিক ভাবে সার সংকলন করে চারু মজুমদার অতি বাম ও ডান দুই বিচ্যুতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামেন। কিন্তু অত্যাধিক ভাবে মধ্যবিত্ত শ্রেনীর প্রতিনিধিরা নানা জায়গায় পার্টির নেতৃত্ব দখল করে বসে এবং সৃজনশীল ভাবে মার্কসবাদী রাজনীতি প্রয়োগ করে জনগণকে বিপ্লবী সংগ্রামে যুক্ত করার জায়গায় গড়ে ওঠে হঠকারী সামরিকবাদী রাজনীতি, যার এক প্রমুখ নেতা ছিল বর্তমানের গণতান্ত্রিক বাম মার্কা অসীম চাটুজ্যে। এই লাইনের ফলে তীব্র বিচ্যুতির শিকার হয় নকশালবাড়ির পথে গড়ে ওঠা সংগ্রাম। গরীব - ভূমিহীন কৃষকদের রাজনীতির মাধ্যমে জাগ্রত করার জায়গায় বেশি প্রাধান্য পায় অ্যাকশন এবং চারু মজুমদারের কথা কে বিকৃত করে পরিবেশন করে সিপিআই (এম-এল) এর এক বড় অংশ।
চারু মজুমদার এত সত্বেও সঠিক পথে বিপ্লবী সংগ্রাম গড়ার লাইনের পক্ষে সংগ্রাম করে গেছেন।তিনি সমরবাদী হঠকারী লাইনের সমালোচনা করে লিখেছিলেন রাজনীতি কে প্রাধান্য দেওয়ার কথা, বলেছিলেন অ্যাকশন বন্ধ থাকলেও ক্ষতি হবে না কিন্তু কৃষকদের রাজনৈতিক ভাবে শিক্ষিত করে জাগিয়ে তোলার কাজ বহু বেশি জরুরি। তাঁর কথার বিরুদ্ধে চলে সিপিআই (এম-এল) ৭১ সালের মাঝে এক বড়সর ধাক্কা খায়। বহু বিপ্লবীর প্রাণ যায় এবং শহীদের মৃত্যু বরণ করেন চারু মজুমদারের ঘনিষ্ঠ সহ যোদ্ধা সরোজ দত্ত। এই সরোজ দত্তের মৃত্যুর পর চারু মজুমদারের বিরুদ্ধে আক্রমণ তীব্র করে ডান ও বাম দুই বিচ্যুতির উকিলরা, কিন্তু তার মধ্যেই চারু মজুমদার একাই সংগ্রাম চালান সমস্ত রকম সুবিধাবাদীদের বিরুদ্ধে, গড়ে তোলা শুরু করেন পার্টিকে কৃষকের মাঝে, সবার উপরে স্থান দিতে বলেন রাজনীতিকে, এবং সেই রাজনীতির ভিত্তিতে গরীব - ভূমিহীন কৃষকের মধ্যে সংগঠন গড়ে তোলার শিক্ষা দেন বিপ্লবীদের। চারু মজুমদারের শেষ প্রবন্ধ - "জনগণের স্বার্থই পার্টির স্বার্থ" ভারতবর্ষের কমিউনিস্ট আন্দোলনের এক অনবদ্য রচনা, যা জনগণতান্ত্রিক বিপ্লবের স্তরে কমিউনিস্ট কর্মীদের প্রচন্ড ভাবে সাহায্য করবে নীতি ও কৌশল বোঝার জন্যে।
কমরেড চারু মজুমদারের রচনাসমগ্র আজ প্রায় দুর্লভ বস্তু। চারু মজুমদারের বিভিন্ন লেখা থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি এখানে তুলে দিলাম---
১। বিপ্লবী কে? বিপ্লবী হচ্ছে সে, যে সমস্যা দেখে অন্যের কাছে ছুটে যায় না, নিজেই সমস্যার সমাধান করে এবং নেতৃত্ব দিতে পারে।
২। আমরা কাজ করতে গিয়ে ভুল করি এবং তা থেকে শিক্ষা নিই, কিন্তু ভুলের ভয়ে কখনোই কাজকে ভয় করি না।
৩। যে স্বপ্ন দেখে না এবং অন্যকে স্বপ্ন দেখাতে পারে না সে বিপ্লবী হতে পারে না।
৪। আমাদের কাজই হলো মানুষকে নিয়ে যন্ত্র নিয়ে নয়। তাই সেই মানুষকে নিয়ে থাকবে ভয়, দ্বিধা, স্বার্থপরতা, তবু সেই মানুষই লড়াই করবে এবং এই সব কিছুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে তাঁকে জয় করে হয়ে উঠবে নতুন মানুষ, যে মানুষ হবে নিঃস্বার্থপর, আত্মদানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ। বিপ্লবীরাও হচ্ছেন মানুষ, তাঁরা যন্ত্র নন, তাই তাঁরা মানুষের দুঃখ দেখে কাঁদেন, আর কাঁদেন বলেই তাঁরা পারেন মানুষের দুষমনকে শেষ করতে। বিপ্লবীদের মধ্যেও থাকে দ্বিধা, ভয়, দ্বন্দ্ব, ভয় এবং স্বার্থপরতা। কিন্তু লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে তাঁরা এগুলো কাটিয়ে ওঠেন; যারা পারে না তারা হয় বসে যায়, না হয় প্রতিক্রিয়াশীল শিবিরে যোগদান করে। এই সমস্ত কথা মনে রেখেই আমাদের কাজে হাত দিতে হবে। হচ্ছে না বলে হতাশ হলে চলবে না। মানুষ ছোট ছোট লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে দুর্বলতা কাটিয়ে উঠেই কেবলমাত্র বৃহত্তর লড়াইয়ের দিকে পা বাড়াতে পারে। তাই লেগে থাকার অর্থই বিজয়।
৫। এই দুনিয়ায় দুই জাতের মানুষ আছে। এক জাত বাধা দেখলে ছুটে আসে অন্যের কাছে সাহায্যের জন্য; এরা জীর্ন, এরা পুরাতন, এরা মৃত। অন্য আর এক জাতের মানুষ আছেন যারা বাধা দেখলে অন্যের কাছে সাহায্যের জন্য ছুটে যান না, সাহসভরে রুখে দাঁড়ান তার মোকাবিলার জন্য। এরা জীবন্ত, এরা প্রকৃত।
৬। কোন কথার মৃত্যু হয় না। আজ আমরা যা বলছি হয়তো মানুষ আজই তা গ্রহণ করছে না; তাই বলে আমাদের সে প্রচার ব্যার্থ হচ্ছে না, কথাগুলো মানুষের মধ্যে থেকে যাচ্ছে।
৭। অন্ধকার দেখে ভয় পেয়ো না, বিচ্ছিন্নতা দেখে সাহস হারিয়ো না, কান পেতে শোনো মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের মহান নেতা চেয়ারম্যানের অভয় বাণী- ‘সত্য প্রায়শই অল্প সংখ্যক লোকের মধ্যে নিহিত থাকে।‘ বুঝতে চেষ্টা কর চেয়ারম্যানের মহান উপলব্ধি- ‘জনগন বিপ্লব চান।‘ তোমাদের কোন প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হবে না। পাহাড়ের গায়ে বরফের টুকরোটাকে সরাতে গেলে অনেক ব্যর্থ আঘাতের পরই সে হঠাৎ এক আঘাতে সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়ে; কঠিন ও কঠোর প্রচেষ্টা ছাড়া কোন কাজ সফল হয় না।
৮) শোষকশ্রেণীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারাটাই কমিউনিস্ট হবার একমাত্র মাপকাঠি নয়। কে প্রকৃত কমিউনিস্ট? যিনি জনগনের জন্য আত্মত্যাগ করতে পারেন এবং এই আত্মত্যাগ কোন বিনিময়ের প্রত্যাশা করে নয়। দুটো পথ- হয় আত্মত্যাগ, নয় আত্মস্বার্থ। মাঝামাঝি কোন রাস্তা নেই। চেয়ারম্যান মাওয়ের ‘জনগণের সেবা কর’- স্লোগানের তাৎপর্য এখানেই। জনগণের সেবা করা ছাড়া জনগণকে ভালবাসা যায় না। জনগণকে সেবা করা যায় একমাত্র আত্মত্যাগ করেই। প্রকৃত কমিউনিস্ট হতে গেলে এই আত্মত্যাগ আয়ত্ব করতে হবে। জনগণকে সেবা করার মানে জনগণের স্বার্থে বিপ্লবের স্বার্থে বিনা পারিশ্রমিকে শ্রম(unpaid labour) দেওয়া। এই বিনা পারিশ্রমিকে শ্রম দেওয়ার মধ্য দিয়েই জনগণের সাথে মিশে যাওয়া ঘটবে। কেবলমাত্র এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই জনগণকে ভালবাসা যায়, জনগণকে সেবা করা যায়। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বিপ্লবীর রুপান্তর(transformation) সাধিত হয়। তাই বিপ্লব মানে শুধু বৈষয়িক লাভ নয়। বিপ্লব মানে এই রুপান্তর- উপলব্ধির, আদর্শের, চিন্তাধারার রুপান্তর। বিপ্লব মানে চেতনার আমূল রুপান্তর। কী সেই চেতনা? জনগণকে সেবা করার চেতনা, আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হওয়ার চেতনা, জনগণকে ভালবাসার চেতনা। বিপ্লব মানেই এই রুপান্তর- কি সমাজের, কি ব্যাক্তির।
৯) বিপ্লব করতে হলে বিপ্লবী কর্মীকে ত্যাগ স্বীকার করতে শিখতে হবে, ত্যাগ করতে হবে সম্পত্তি ও স্বাচ্ছন্দ, ত্যাগ করতে হবে পুরোনো অভ্যাস এবং নামের আকাঙ্ক্ষা, ত্যাগ করতে হবে মৃত্যুভয় এবং সহজ পথে চলার চিন্তা; তবেই আমরা বিপ্লবীদের শ্রমসাধ্য দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করতে পারবো; তবেই আমরা জনতাকে উদ্বুদ্ধ করতে পারবো মহত্তর ত্যাগে, যার আঘাতে সাম্রাজ্যবাদ, সংশোধনবাদ এবং ভারতীয় প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি ধ্বংস হবে এবং বিপ্লব সফল হবে।
১০) সবসময় মনে রেখো চেয়ারম্যানের শিক্ষা: ভুল রাজনৈতিক লাইন ও ভুল মিলিটারি লাইনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেই একমাত্র সঠিক লাইন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। অর্থাৎ এই দুই লাইনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেই ক্যাডাররা কোনটা সঠিক কোনটা বেঠিক তা বুঝতে শিখবে। দ্বান্দ্বিক নিয়মেই এক সবসময় দুইয়ে বিভক্ত হবে এবং দ্বন্দ্ব স্থায়ী থাকবে। তাই আমাদের ঐক্য, সংগ্রাম ও উন্নত পর্যায়ের ঐক্য এই পদ্ধতি নিয়েই চলতে হবে। যত উচু থেকেই ভুল লাইন আসুক না কেন তার বিরোধিতা করতে ইতস্তত করো না। তবে সন্নগ্রামের উদ্দেশ্য হচ্ছে ব্যাপকতর ঐক্য, এ কথাটিও ভুলো না। আজকের ঐক্য কাল ভেঙ্গে যাবে এটা ঐতিহাসিক নিয়ম। তাই নতুন শক্তির সমাবেশ ও তার সাথে ঐক্য আমাদের সব সময় লক্ষ্য হবে। .........নতুন ও পুরাতনের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে নতুনকে সমর্থন করতে ইতস্তত করো না। অবশ্য নতুনকে তার চিন্তা জগতকে পরিবর্তন করতে হবে।এবং দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গি আয়ত্ব করতে হবে। এবং চিন্তাজগতের বিপ্লবীকরণের কাজে নতুনরা সফল হতে পারে।
চারু মজুমদারের নাম নেওয়া এই দেশে নিষিদ্ধ। চারু মজুমদার কে স্মরণ করা এই দেশের আইন মোতাবিক বিপদজনক। চারু মজুমদারের নীতিতে বিশ্বাস করা এই দেশের শাসকশ্রেনীর সামনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া। তবুও প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ চারু মজুমদারের নাম প্রতিদিন নেন, তাঁর জীবন উত্সর্গ করা কে স্মরণ করেন এবং প্রতিবছর প্রচুর নতুন নতুন মানুষ চারু মজুমদারের নীতিকে সঠিক মেনে ক্ষেতে খামারে খেটে খাওয়া মানুষদের সংগ্রামের সাথে যুক্ত হচ্ছেন রাষ্ট্র ও তার প্রভুদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে। আজ তাঁরা আর বিচার চান না চারু মজুমদারের হত্যার, কারণ হত্যাকারীর কাছে কখনোই হত্যার বিচার আশা করা যায় না। এই নতুন সংগ্রামীরা বুঝেছেন যে শুধু মাত্র চারু মজুমদারের স্বপ্নের ভারত গড়েই তাঁর হত্যার সঠিক বিচার সম্ভব, কারণ চারু মজুমদার এই শাসক শ্রেনীর করুণা চাননি, তিনি চেয়েছিলেন তাদের উত্খাত করতে।
চারু মজুমদার মধ্যবিত্তদের নায়ক হতে চাননি, তিনি কৃষককে - শ্রমিককে নায়ক তৈরী করার লড়াই করে গেছেন। তিনি ছিঁড়ে দিয়ে গেছেন সুবিধাবাদী সংসদীয় রাজনীতির মুখোস, যার ফলে আজ আর ভোট বাদী বাম ও ডান কেউই জনগণকে নির্বাচনী টোপ দিয়ে বেশিদিন ভাঁওতা দিতে পারছে না। চারু মজুমদারের ফলেই পশ্চিমবঙ্গের তথাকথিত 'বাম' সরকার ঠেলায় পরে নম: নম: করে ভূমিসংস্কারের কাজ সারে এবং কৃষকদের বিদ্রোহ ঠেকাতে তিন স্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা বানায়। এই সব করা হয় জোতদার ও জমিদারদের কৃষকের বর্ষা মুখ থেকে বাঁচাতে।
অন্যদিকে চারু মজুমদারের নামেই ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে আজ কৃষক, শ্রমিক,ছাত্র, বিভিন্ন কর্মজীবী মানুষ উঠে দাঁড়াচ্ছেন মার্কিন একচেটিয়া পুঁজির বিরুদ্ধে, বহুজাতিক কর্পোরেটগুলির শোষণের বিরুদ্ধে, জোতদার জমিদারদের বিরুদ্ধে। রুখে দাঁড়াতে শিখছেন মহিলারা, আদিবাসীরা এবং দলিত জাতির মানুষেরা। তাই আজও চারু মজুমদার শাসক শ্রেনীর কাছে 'আতঙ্কের বস্তু'।
আজ ১৪ মে চারু মজুমদারের জন্ম দিবস উপলক্ষে, এই মহান বিপ্লবীকে জানাই লাল সেলাম। সবশেষে তাঁর কথায়--
কাদের সাথে আমরা ঐক্যবদ্ধ হবো--
১. যারা চেয়ারম্যান মাওকে বিশ্ববিপ্লবের নেতা হিসেবে মানেন এবং তাঁর চিন্তাধারাকে বর্তমান যুগের সর্বোচ্চ মার্কসবাদ- লেনিনবাদ হিসাবে স্বীকার করেন।
২. যারা বিশ্বাস করেন ভারতবর্ষের সর্বত্রই বৈপ্লবিক অবস্থা বিদ্যমান।
৩. যারা বিশ্বাস করেন যে এলাকাভিত্তিক ক্ষমতা দখলের সংগ্রামের মধ্য দিয়েই এই বিপ্লবের বিকাশ ও অগ্রগতি সম্ভব।
No comments:
Post a Comment