Thursday, February 28, 2019

জাতীয় বিজ্ঞান দিবস প্রসঙ্গে

৷৷ মানুষের জন্য বিজ্ঞান ও মানুষ বিজ্ঞানের জন্য ৷৷

স্টিফেন হকিং বলেছিলেন, "যে ঈশ্বর নিজের নিয়ম বদলাতে পারেন না, তাঁকে মানি না।" আজ জাতীয় বিজ্ঞান দিবস (National Science Day)। অধ্যাপক সি ভি রমন এর নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্তি উপলক্ষে প্রতিবছর ২৮শে ফেব্রুয়ারি দিনটিকে জাতীয় বিজ্ঞান দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয় সারা দেশ জুড়ে। প্রতিবছরই এই দিনটির একটি প্রতিপাদ্য বিষয় থাকে। ২০১৯ এর প্রতিপাদ্য বিষয় "Science for People and People for Science" অর্থাৎ "বিজ্ঞানের জন্যে মানুষ এবং মানুষের জন্যে বিজ্ঞান"।

১৯৮৭ সাল থেকে সারা ভারতে মহাউৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে জাতীয় বিজ্ঞান দিবস পালিত হয়ে আসছে। ভারতীয় উপমহাদেশের যে কোনও বিজ্ঞান-শিক্ষার্থীই স্যার চন্দ্রশেখর ভেঙ্কটরমন বা সি ভি রমনের নাম শুনেছেন। তাঁর আবিষ্কৃত ‘রমন এফেক্ট' বা ‘রমন-প্রভাব’ পদার্থবিজ্ঞানের জগতে এক আশ্চর্য মাইলফলক হয়ে আছে ১৯২৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে --- যে দিন এই আবিষ্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়েছিল। রমন-প্রভাব আবিষ্কারের জন্য সি ভি রমন পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন ১৯৩০ সালে। শুধু ভারতীয় উপমহাদেশ নয়, সমগ্র এশিয়ার মধ্যে তিনিই হলেন বিজ্ঞানে প্রথম নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী। তাঁর নোবেল-বিজয়ী গবেষণার সব টুকুই সম্পন্ন হয়েছিল কলকাতার ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অব সায়েন্স’-এর ছোট্ট একটা গবেষণাগারে। রমন এফেক্ট আলোক তরঙ্গের অজানা পথ খুলে দিয়েছে। শক্তির স্তর এবং অণু ও পরমাণুর গঠন বুঝতে অনেক সহায়তা করেছে। পদার্থবিজ্ঞানের অনেক শাখায় রমন এফেক্ট কাজে লাগছে। জীববিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞানেরও অনেক শাখায় রমন এফেক্ট কাজে লাগিয়ে অনেক নতুন নতুন গবেষণা হচ্ছে।                                                                                   
এই দিনের উদ্দেশ্য বিজ্ঞানের প্রসার। কিন্তু বিজ্ঞানমনস্কতা বাদ দিয়ে বিজ্ঞানের প্রসারের অর্থ কী?
সরকারি, বেসরকারি নানা সংগঠন বিজ্ঞানের প্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু বেশিরভাগ সংগঠনই ধরি মাছ না ছুঁই পানি মনোভাব নিয়ে কাজ করছে।  প্রতিটি ক্ষেত্রেই চলছে বিজ্ঞানের অপব‍্যাখ‍্যা। জ‍্যোতিষ শাস্ত্র থেকে শুরু করে নানা ধরণের কুসংস্কার এবং ধর্মীয় অন্ধতা আঁকড়ে বেঁচে আছি আমরা, বৃহত্তর ভারতবাসী। আমরা বিজ্ঞানকে শুধু ফিজিক্স বা ক‍্যামিষ্ট্রির ল‍্যাবেই সীমাবদ্ধ করে রেখেছি। এরবাইরে তার প্রচার প্রসার নিয়ে আমরা চরম উদাসীন।

গত জানুয়ারীর "ন্যাশনাল সাইন্স কংগ্রেসের" কথা মনে আছে নিশ্চয়? ভাইস চেন্সেলার নাগেশ্বর রাও বলেছিলেন "মহাভারতের কৌরবরা সেই যুগের টেস্ট টিউব বেবি", "রাবনের ২৪ টা এয়ারক্রাফ্ট ছিল", এমনকি ডারউইনের থিওরি অব্দি চ্যালেঞ্জ করেন তিনি তার ভাষণে। ইন্ডিয়ান সাইন্স কংগ্রেসের মতো একটি সংস্থায় যদি মাইথোলজি এবং বিজ্ঞানের মা-মাসি এইভাবে গুলিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে ভারতে বিজ্ঞানচেতনা এবং বিজ্ঞানমনস্কতা সত্যিই হুমকির মুখে। আরো অন্ধকার এক যুগ অপেক্ষা করে আছে আমাদের জন্যে।

ভাঙড়ের মতো ঘটনায় প্রায় সবারই মুখে কুলুপ। জল জংগল জমি বাঁচানোর জন্য যখন সবচেয়ে জোরালো গলায় কথা বলা উচিত বিজ্ঞানবিদ, কর্মীদের ;  যুক্তি, বিজ্ঞান, ধর্মনিরপেক্ষতা তথা বহুত্ববাদী মানবতাকে সুরক্ষিত রাখতে যখন তীব্রভাবে আঘাত করা দরকার সবধরনের ধর্মীয় মৌলবাদকে, তখন সব বিতর্কের ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে নিরাপদ দূরত্ব থেকে গায়ে প্রগতির নামাবলি চাপিয়ে যুক্তি, পরিবেশ, বিজ্ঞানের নামসঙ্কীর্তন চলছে দেশ জুড়ে। কেউ কেউ আবার বিজ্ঞান আন্দোলনের সীমা-পরিসীমার প্রসংগ তুলে বলেন, "আমরা বিজ্ঞানে আছি, রাজনীতিতে নেই"। প্রশ্ন জাগে, রাজনীতি ছাড়া কি বিজ্ঞান হয়? আদৌ কোনো আন্দোলনই কি হয়?

বিজ্ঞান তো আলোর দিশারী। অন্ধকার যুগ থেকে এই আলোর যুগে  বিজ্ঞানের হাত ধরেই তো আমরা এসেছি। প্রতিনিয়ত সংগ্রহ করেছি  জীবন ধারণ এবং গড়ার মন্ত্র। বিজ্ঞান ই তো আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে সত‍্য ও মিথ‍্যার ফারাক যুক্তি ও সঠিক প্রমাণের মাধ্যমে। তা না হলে আজও আমরা সূর্যকে পৃথিবীর চারদিকে ঘোরাতে থাকতাম। চিকিৎসা শাস্ত্র থেকে অর্থনীতি, সমাজ বিজ্ঞান থেকে রাজনীতি সবক্ষেত্র ই বিজ্ঞান ছাড়া পঙ্গু। অচল। আগুন ও চাকার মাধ্যমে বিজ্ঞানের জয়যাত্রার লালফিতা কাটা হয়, কিন্তু আজও গ্রহণযোগ্যতার দিকে আমরা পিছিয়ে। আজও আমরা জড়িয়ে আছি পুরোনো অযৌক্তিক নীতিমালার মধ্যে।

আজ ৩২তম জাতীয় বিজ্ঞান দিবস। অন্যান্য বারের মতই এবছরও নিয়ম করে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পালিত হচ্ছে আনুষ্ঠানিকতা সর্বস্ব বিজ্ঞান দিবস।   কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলো কতটা বিজ্ঞানের প্রচার প্রসারের জন্য এবং কতটা জনগনকে বিজ্ঞানমনস্ক করার জন্য হচ্ছে সেটা ভাবা ভীষন জরুরী।  কান পাতুন, এবছরের "জাতীয় বিজ্ঞান দিবস" কিন্তু একথাই ভাবিয়ে গেল  আপনাকে, আমাকে।

[তথ্যসহায়তা : উইকিপিডিয়া, নিউজ জার্নাল]

Tuesday, February 26, 2019

আগ্রাসিত আ মরি ভাষা


'মা তোর মুখের বাণী আমার কাছে লাগে সুধার মতন'-এ কেবল নোবেল জয়ী রবীঠাকুরের ব‍্যক্তিগত অনূভুতি নয়,এ হচ্ছে সর্বকালের মানুষের চিরন্তন অনূভুতি। মাতৃদুগ্ধ যেমন শিশুর জন্য সর্বোত্তম পুষ্টি, তেমনি মাতৃভাষার মাধ্যমে ঘটতে পারে একটি জাতির শ্রেষ্ঠ বিকাশ। তাই একটি জাতির উন্নয়নের শীর্ষস্থান দখল করার প্রথম ধাপ হলো- মাতৃভাষার মর্যাদা দেওয়া। মাতৃভাষা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের এক মৌলিক সম্পদ। মা ও মাটির মতোই প্রতিটি মানুষ জন্মসূত্রে এই সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়।

সাধারণ অর্থে মাতৃভাষা বলতে মায়ের ভাষাই বোঝায়। একটি বৃহত্তর অঞ্চলে একই সাথে বিভিন্ন ভাষা প্রচলিত থাকে। এর মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ যে ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করে সেটাই হচ্ছে সে অঞ্চলের মানুষের মাতৃভাষা। মাতৃভাষা বহতা নদীর মতো শত ধারায় প্রবাহমান। বাঙালির মাতৃভাষা হচ্ছে 'বাংলা'। বাংলা আমাদের প্রাণের স্পন্দন, বাংলা আমাদের অহংকার। কবি অতুলপ্রসাদ সেনের কথায়-- " মোদের গরব মোদের আশা/আ মরি বাংলা ভাষা"। প্রখ্যাত ভাষা বিজ্ঞানী  ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন-- 'মা,মাতৃভূমি, এবং মাতৃভাষা' এই তিনটি জিনিস সবার কাছে পরম শ্রদ্ধার বিষয়'।

মাতৃভাষাই মানবজীবনের সকল ক্ষেত্রে তৃপ্তি ও পরিপূর্ণতা দান করে। জাতীয় জীবনে মাতৃভাষার গুরুত্ব অপরিসীম। জাতীয় জীবনের সার্বিক ক্ষেত্রে উন্নতি লাভ করতে হলে মাতৃভাষার কোনো বিকল্প হতে পারে না। শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, শিল্প-সংস্কৃতি ও সাহিত্যের বিকাশে মাতৃভাষা হচ্ছে প্রধান মাধ্যম। বাংলা ভাষা রক্ষার্থে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি রফিক, জব্বার, বরকতরা যেভাবে তরুণ তাজা রক্ত দিয়ে রাঙিয়ে ছিল এই দিনটিকে, তার সাথে গড়ে ছিল 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস'। কিন্তু এর সাথে ১৯৬১ সালের ১৯ শে মে'র কথা আমরা কি ভুলতে পারি? কিভাবে ভুলতে পারি কমলা ভট্টাচার্যের কথা। যে  ভাষার প্রথম মহিলা হিসেবে শহীদ হয়েছিলেন। কিভাবে ভুলতে পারি শচীন্দ্র,রবীন্দ্রের কথা?

এবার একটু নিজের কথা বলি। যা দুঃখজনক হলেও সত্য। যে ভাষার জন্য এত কিছু করা,যে ভাষার মর্যাদা রক্ষার্থে এতোগুলো প্রাণ বিসর্জিত হলো-- আমরা কি বাংলাকে সর্বস্তরে ব‍্যবহার করতে পারছি? আমাদের যদি চোখ থাকতো তাহলে পড়তে পারতাম সময়ের দেয়াল লিখন। আমাদের যদি কান থাকতো তা হলে শুনতে পারতাম জন সমুদ্রের উত্তাল কলরব। আমাদের যদি স্নায়ুতে নিউরন থাকতো তা হলে বুঝতে পারতাম কেন ভাষা-সাম্রাজ্যবাদীদের বাংলাকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র। কিন্তু না, আমরা আজ হীনমন্যতার স্বীকার। আমাদের দূরদৃষ্টির অভাব।

আসামের ইতিহাস বলতে গিয়ে সরকার প্রকাশিত বইয়েও লেখা হয়," The long alluvial valley of the Brahmaputra or Assam proper with which we are concerned" ( Political History of Assam vol.1,Dispur- 1977) অর্থাৎ আসাম বলতে শুধু ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা ও তার ইতিহাসের কথা বলা হয়েছে। আসামের কৃষ্টি সভ‍্যতা ও ইতিহাস বলতে শুধু একা অসমিয়া সংস্কৃতি কে আলাদা করা যায় না। সুরমা উপত‍্যকার সভ‍্যতা ও ইতিহাস তথা পার্বত্য অঞ্চলের লোকদের দ্বারাও একক সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে আসামের কৃষ্টি সভ‍্যতা। কিন্তু ধারাবাহিক মিথ্যা ও বিকৃত প্রচার অভিযানের ফলে আসামের বাইরে এবং ভিতরে আসাম,আসামবাসী ইত্যাদি বিষয়ে যে মিথ্যা ও বিকৃত কিছু মারাত্মক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে -- তা প্রত‍্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আসামের আসামের বাংলা ভাষাভাষী লোকদের উপর আগ্রাসন চলছে। যা ভারতীয় সংবিধান পরিপন্থী।  যারা আসামকে খুব কাছে থেকে জানেন তাঁরা কোন সময়ই এই উগ্রজাতিয়তাবাদী আগ্রাসন কে প্রশ্রয় দেন নাই। বিভিন্ন সময়েই তাঁরা বিভিন্ন প্রতিবাদী সুরে এই উগ্রতা কে নিন্দা জানিয়েছেন ও দমন করার চেষ্টা ও করেছেন। ড. ভুবন মোহন দাস তাঁর "অসমিয়া জাতির ইতিবৃত্ত" বইটিতে আসাম সম্পর্কে যে সুস্পষ্ট ও প্রামানিক তথ্য দিয়েছেন তা সর্বজনগ্রাহ‍্য ।

আসাম ভারতের উত্তর পূর্বাংশে ব্রহ্মপুত্র আর বরাক নদীবিধৌত এক অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি। যেখানে ২০১১ সনের লোকগণনা মতে ৪৮.৩৩% অসমিয়া আর ২৮.৯২% বাঙালিরা বসবাস করছে। কিন্তু ভাষা নিয়ে যে বিপত্তির শুরু হয়েছিল দেশভাগের পর থেকে আজও এর আগ্রাসন চলছে ষোলকলায়। ড. নীহাররঞ্জন রায় প্রমুখ মনীষীরা 'বাঙালীর ইতিহাস' ,বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রচনা করেছেন। অসমিয়া জাতির ইতিহাস নিয়ে তেমন কোন শ্রমসাধ্য বিজ্ঞানসম্মত কাজ করা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। অসম সাহিত্য সভা কর্তৃক প্রকাশিত 'অসমিয়া জাতির ইতিবৃত্ত' বিভিন্ন পণ্ডিতজনের কয়েকটি সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধ মাত্র। এই সংকলনে অধ্যাপক রামচরণ দাস বলেছেন অসমিয়া সংস্কৃতি আর্য,অষ্ট্রিক এবং মঙ্গোলীয় সংস্কৃতির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। মোটকথা অসমিয়ারা বাঙালির মতো সংকরজন। সংখ‍্যায় বাঙালিরা আসামে এক বিশাল জনগোষ্ঠী। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে টিকে থাকার লড়াই চলছে বাংলার এই রাজ‍্যে। বড়ই পরিতাপের বিষয়,বাঙালিরা অসমিয়া ভাষাকে রাজ‍্যভাষা হিসেবে মেনে নিলেও বারবার অসমিয়া আগ্রাসনের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদেরকে। ক্রমাগত হারাচ্ছে তাদের জাতিস্বত্বা। এই মনোবৃত্তি কি একান্তই উগ্রজাতিয়তাবাদী নয়? হেমাঙ্গ বিশ্বাস, ভূপেন হাজারিকা, রবীঠাকুর যে মিলনের সেতু বন্ধন করেছিলেন তা কারা কোন সাহসে ভাঙছে,একবারও কি নিয়েছি আমরা খবর! নাকি সময়ের বহমানতায় পাল তুলে পালিয়ে যাচ্ছি হারাপ্পা সভ‍্যতার দিকে?

অসমিয়া আমাদের রাজ‍্যিক ভাষা,শিখতে হবে। তবে বাংলাকে পিছিয়ে নয়। তাই মাতৃভাষাকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াই,অর্থনৈতিক শোষণ ও রাজনৈতিক নিষ্পেষণের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যে অবিরত সংগ্রামের প্রয়োজন।

Sunday, February 24, 2019

হীরক রাজার দেশে দেশভক্তির পরীক্ষা

| কে দেশপ্রেমী আর কে দেশদ্রোহী তার বিচার করবে কে?  হীরকরাজ? |

#দেশদ্রোহী_কারা ? #দেশপ্রেমিই_বা_কারা ?

#দেশদ্রোহীরা_কি_করে ? #দেশপ্রেমিরাই_বা_কি_করেন ?

যারা রাষ্ট্রের হাতে প্রতিমাসে ১৩৫০জন কৃষক মৃত্যুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে ৷

দেশপ্রেমিরা হল সেই জন যারা ভাগারের মরা গরু খাওয়ার অপরাধে দলিতদের গনপ্রহার করে ৷

দেশদ্রোহী তারাই যারা সেনাদের নীরাপত্তা ব্যাবস্থাতে রাষ্ট্রে উদাসিন্য নীতি নিয়ে প্রশ্ন করে ৷

দেশপ্রেমি মহান মানুষেরা দেশের মানুষের মধ্যে ধর্ম খুঁজে তাদের মধ্যে বিভাজন করে ৷

দেশদ্রোহী তারাই যারা আস্পাফার নাম করে উত্তর-পূর্বে ও কাশ্মীরের হাজার হাজার ভারতীয় নারী ধর্ষীতা কেন তার বিচারের দাবী তোলে ৷

দেশপ্রেমিরা ঐ ধর্ষীতা নারীদের দেশদ্রোহী ঘোষনা করে , এবং ধর্ষীতা নারীদের ক্রন্দন শুনে হাততালি মারে ৷ এমন কি কখনও কখনও কবর থেকে বিধর্মী নারী শরীর তুলে ধর্ষনের নিদানও দেয় ৷

দেশদ্রোহী তারাই যারা জন্মসূত্রে পাওয়া আদিবাসিদের জল জমি জঙ্গল কেড়ে নিয়ে আম্বানি-আদানি-বেদান্ত-পস্কোকে জলের দামে বিক্রির প্রতিবাদ করে ৷

দেশপ্রেমি হল তারা যারা MBA , MCA ইত্যাদী পড়ে আম্বানি-আদানি-পস্কো-বেদান্ততে ম্যানেজারের চাকুরি করে ৷ তারপর তারা কোম্পানির প্রফিটের জন্য ঐ আদিবাসিদের ₹৫০ দৈনিক দিয়ে ₹৫০০ টাকা মাইনের শ্রম ঘাড় ধরে আদায় করে ৷

আর দেশদ্রোহীরা তারা যারা শ্রমের ন্যাজ্বমূল ও অধিকার নিয়ে মেহনতি শ্রমজীবি মানুষের জন্য কিছু বলে ৷

দেশপ্রেমি তারাই যারা আম্বানি আদানি টাটা বিড়লা গোয়েঙ্কার স্বার্থ নিয়ে কিছু ভাবে ৷

তারাই দেশদ্রোহী যারাই  প্রশ্ন করে সারা বিশ্বে , স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও বিনাচিকিৎসাতে মৃত্যু , শিক্ষা , অপুষ্টি ঔ অনাহারের সূচকে , জন্মকালীন শিশু মৃত্যু ইত্যাদী সূচকে ভারত কেন বিশ্বের মধ্যে পিছনের সারিতে ? কেন আম্বানি আদানিদের শিল্পে টাকা ব্যায় না করে গরীব মানুষের জন্য বাজেট বারাদ্দ হচ্ছে কেন তার প্রশ্ন করে ৷

দেশপ্রেমি বলে তাদেরই যারাই আম্বানি আদানি আদানির উন্নয়ন ও তাদের সম্পদ বছরে ২০০% হারে বৃদ্ধি পেয়ে ভারতের মুখ কিভাবে উজ্বল করে তার বিশদ ব্যাখাসহ সেমিনার এটেণ্ড করে ৷

১|.

নভজোৎ সিং সিধু তখন পুরোদমে ভাষ্যকার। শচীনের জনপ্রিয়তা বোঝাতে বলেছিলেন, ভারতে প্রধানমন্ত্রীকে ও একবার অন্তত কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায়। কিন্তু শচীন টেন্ডুলকারের দিকে একবার আঙুল ও যদি কেউ তোলে গোটে দেশে আগুন লেগে যাবে৷

ভারতবর্ষে ডজনখানেক ধর্মের মধ্যে একটি প্রধান ধর্ম ক্রিকেট আর তার দেবাদিদেব শচীন রমেশ তেন্ডুলকার। এমন একটি নাম যা ১২০ কোটি দেশবাসীকে এক করতে পারে।

আপনি শচীনকে পছন্দ নাই করতে পারেন। কিন্তু গোটা স্টেডিয়াম যখন একসাথে মন্ত্রোচ্চারণের মতো শ....চীননন... শ...চীন বলতো আপনার গায়ে কাঁটা দিতো। লিটল মাস্টার যখনই ব্যাট করতে নেমেছে আপনি সব ফেলে খেলা দেখতে বসেছেন৷ হাউ হাউ করে কেঁদেছেন যখন শেষবার ক্রিকেট-ভগবান মাঠ ছেড়েছে, শেষবারের মতো দেশের পতাকা গায়ে জড়িয়ে।

এটাই বোধহয় একমাত্র আফিম যাতে হিন্দু মুসলিম অস্ত্র ফেলে বাইশ গজের লড়াই দেখে। এটাই বোধহয় একমাত্র যুদ্ধ যেটা জিতলে বিশ্বযুদ্ধ জেতার স্বাদ মেলে। কালাশনিকভ নয়। এ লড়াই ক্রিকেট ব্যাটে জেতা যায়। এ দেশপ্রেমী না দেশদ্রোহী তার বিচার করবে সে যে রোজ ঠান্ডা ঘরে বসে কাল্পনিক কালাশনিকভ আর কামান দাগে?

২|.

১৯৮৮ সালে পুরনো দিল্লি থেকে একজন ফের আরব সাগর তীরে এসেছিল।  শ্যামবর্ণ, গালে টোল আছে। মুম্বাইয়ের মেরিন ড্রাইভ এলাকার ঠিক মাঝে যেখান থেকে সমুদ্র আর চারপাশ সমুদ্ররানীর নেকলেসের মতো লাগে, ঠিক সেখানে দাঁড়িয়ে ছেলেটা সেদিন বলেছিল, একদিন আমি এই গোটা শহর রাজ করবো৷ তিরিশ বছর বাদে সেই ছেলেটিই একটা গোটা দেশে পরিনত। যার নিজের প্রজা আছে, দেশ বিদেশে নাগরিক আছে, মানুষ আছে যারা ভাবে শাহরুখ একটি দেশের নাম।

Sex & Shahrukh Khan sells. অর্থাৎ আপনি যাহাই বানান না কেন, তাতে এই দুই মশলা মাখায়ে দ্যান। পাবলিক আজ ও খাবে৷ পাঠকগন, পাবলিক মানে এখানে কিন্তু আফগানিস্তান থেকে আলাবামা। আজ্ঞে৷ পৃথিবীর মানচিত্রে এরকম অনেক দেশ আছে যেখানে গিয়ে আপনি নিজের দেশের নাম বললে, সবার আগে সে দেশের ট্যাক্সি ড্রাইভার বলবে, ও ল্যান্ড অফ শাহরুখ খান! ছাইয়া ছাইয়া!

যে ছেলেটি স্কুললাইফ থেকে জেল দিয়ে ব্যাকব্রাশ করে, হাত দিয়ে চুল কপালের থেকে সরিয়ে নেয়, একলা ঘরে আয়নার সামনে দু হাত ছড়িয়ে আকাশের দিকে তোলে খোঁজ নিয়ে দেখুন সে শাহরুখ খান নামক দেশের নাগরিক।

যে মেয়েটি একবার অন্তত জীবনে "Mere Khwabo mein jo aaye" একলা ঘরে তোয়ালে চেপে নেচেছে, যে রোজ রাতে "Dil Se" দেখে ভেবেছে ওর নিশ্বাসে ও যদি ওভাবে কেউ নিশ্বাস নিত,যার  নাম শম্পা, সাবিত্রী, চম্পা, চামেলি যাই হোক না কেন, সে আসলে সিমরন, যাকে zindegi বাঁচতে শিখিয়ে দিয়ে গেছে একটা দেশ। নাম শাহরুখ খান।  এ দেশপ্রেমী না দেশদ্রোহী তার বিচার করবে তারা যারা নব্বইয়ের দশকে মসজিদ ভেঙেছিল আর গোটা দেশে দাঙ্গা লাগিয়েছিল?

৩|.

না ভারতের মুসলমানরা কোনদিন চায় না পাকিস্তানে চলে যেতে। কাশ্মীরিরা চায় না পাকিস্তানে মিশে যেতে। এরা সুযোগ থাকলে ও দেশভাগের সময় এ দেশে থেকে গেছিল কারণ তারা ইসলামি রাষ্ট্রের অংশ হতে চায়নি। ওরা চায়নি এমন এক মানুষকে কায়েদ এ আজম বলতে যে ব্যক্তিজীবনে মদ, শুয়োরের মাংস, পাশ্চাত্য সংস্কৃতিকে আপন করে নিলে ও দেশকে বানিয়েছিল এক কট্টরপন্থী ইসলামী রাষ্ট্র। ওদের সাথে কথা বলুন। দেখবেন ওরা ও ঘৃণা করে সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর পাকিস্তানকে। দেশের প্রথম পরমবীর চক্রে ভূষিত সেনা জাওয়ান আব্দুল হামীদ, এ.আর. রহমান, উস্তাদ বিসমিল্লাহ খান, আব্দুল কালাম, আজাদ, মুহাম্মদ রফি ওদেরই একজন। এরা দেশপ্রেমী না দেশদ্রোহী তার বিচার করবে তারা যারা রোজ হিন্দুকে মুসলিমের সাথে, ব্রাহ্মণকে দলিতের সাথে, উত্তর ভারতীয়কে দক্ষিণ ভারতীয়র সাথে, কাশ্মীরকে জম্মুর সাথে রোজ লড়িয়ে দিচ্ছে?

ভুল জানেন। যারা ঠাঁই ঠাঁই করে গুলি চালায় তারাই কেবল দেশপ্রেমিক নয়। এর বাইরে ও অনেকে আছে। কে দেশপ্রেমী আর কে দেশদ্রোহী তার বিচার করবে কে?  হীরকরাজ?

Saturday, February 23, 2019

লতিফা গুচ্ছ

------বাংলা লতিফা ০১

-------।।জাহিদ রুদ্র।।

           "অতএব কোথায়"
-----------------------------------

স্বপ্ন ভেঙ্গে গুড়ো হয় প্রেমহীন কুঠারে, নিষ্ঠুরতায় চূর্ণ অমানবিকতা

অমানবিকতার অবাঞ্ছিত দাবানলে জ্বলে সম্প্রীতির পৃথিবী।

ক্ষুধার্ত পৃথিবী সভ্যতার ডাস্টবিনে জীবন ক্ষুধা মিটায়।

জ্বলে পুড়ে ছাই ঈর্ষার প্রকোপে মানুষ ও মানবিকতা।

কোথায় সুশীলেরদল পড়ে আছো, উচ্ছিষ্ট সভ্যতার ডাষ্টবিনে?

নাকি বন্দি বিবেকের প্রতিবন্ধী সভ্যদের ভীড়ে কোনও কফিনে?
         -----------------------------------
তাং-- ০৩-০৯-১৮ ইং
করিমগঞ্জ,আসাম (ভারত)
●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●
২|
শেষ বিকেলের মেঘের চিঠি
একরাশ বেদনা ভরা স্মৃতি।

হৃদয় অডিটোরিয়ামে পাঁজরের ফাঁকে ফাঁকে
ক্যেরলের যন্ত্রণা সুর অবিরত বাজে।

নকশিকাঁথা রুমালটা কেবল কুহেলিকা
ঠোঁট যুগল কাঁপতে চাইলো তবু হৃদয়হীনা।
★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★
৩। প্রশ্নবোধক চিহ্ন ?
৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
আজ নীরবে মানব সইছে
হেঁয়ালি বিবেকের প্রশ্নবোধক চিহ্নে
শুকাচ্ছে ক্রমে মাটির দোষে
অভিনব অভিনয়ে সারাংশ বিপর্যয় রক্ত আর অন্ধকারে।

গ্রহণে শুক্লপক্ষ বাঁকা চাঁদ বৃত্তের প‍্যাঁচে
পোড়া লাশের উৎকট গন্ধে কনস‍্যানট্রেশন কনভার্ট ডিটেনশনে।
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
৪| অমৃত চাই
***************************
না না যেও না ওই মৃত‍্যু উপত্যকায় ভাই
বিষ খেতে পারিনা অমৃত চাই
ক্ষণস্থায়ী হেঁচকির প্রতিফলন নাই
তৎক্ষণাৎ মিথ্যে লোনা জলে তৃষ্ণা মেটাই।
..
আহ্লাদে মমতাহীন চোখে বিষাক্ত বহ্নিশিখা
হিংসারা ও প্রতিষ্ঠিত চাপছে কুহেলিকা।
//////////////////////////////&&&&&&&
৫| বেকারত্ব
●●●●●●●●●●●●●●●●●
ডুবন্ত রবিটার মতো ভাগ্য ও নিষ্ফল
সার্টিফিকেটের কম্পিটিশনে শোকে বিহ্বল,
নষ্ট বিশ্বের ভ্রষ্ট মগজ চুল ছেড়ে প্রত‍্যেকেরে
যৌবনজ্বালা অগত‍্যা অসহ‍্য উপদ্রবে।
..
ঠিক আছে ভূগোলটার রঙ আর ছবি
আদিমতা বিরাজিত শব্দ পতনে কবি ও অকবি।
৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
৬| এপিটাফ
●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●
বাগযুদ্ধে দু'মেরু ভবিষ্যৎ নির্ধারণে
অভিযোগ আঙ্গুল তোলে ফেষ্টুন প্লেকার্ড কালো পতাকা উঁচিয়ে
রাজধানী ভাড়াটে শক্তি বলে
সভা-মঞ্চ উত্তপ্ত আত্মজ তাণ্ডবে।
..
এ্যাকুরিয়ামে মাছ বাঁচো নিশ্চিত দানা দেবে
এপিটাফ ব‍্যাঙ্গাত্মক  পুড়ো ফুটপাতে।
৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
৭| আয়োজন অপ্রয়োজনে
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
কেন আয়োজন এই প্রাক্কালে
আগমনীর পুণ্য লগ্নে
কি লাভ অপ্রয়োজনে বন্দিবে
সে ও যাবে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে !
..
অসুর ম‍রেনি আজও দিব‍্যি দাপটে
আঁচলে রক্তমাখা কাঁদছে বিসর্জন ঘাটে।
৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
৮| মধ‍্যবিত্ত প্রেম
●●●●●●●●●●●●●●●●●
ইচ্ছে টা সদিচ্ছায় রইলনা
আফসোস ভালোবাসা পারিনি কখনও
মধ‍্যবিত্ত প‍্রেমে দমেমরা এখনও,
মাঝে মাঝে কিঞ্চিৎ অঙ্কুর টা ও সইলনা।
..
আজও চঞ্চলতা তড়িৎ অন্বেষায়
জেগে দেখি আমি কোথায়?
৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
৯| সমবাহু
●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●
জীবন যাপনে নৈঃশব্দ কেঁটে হর্ণ বাজায়
অশ্লীল আগুনে
মনগড়া শ্লোক বিশ্লেষণে ইহজন্ম
প‍রিণত হেমলকে।
..
ভয়ংকর রাত্রি-যুদ্ধে ওরা পণ‍্য ভোগ
এই সমবাহু রসনায় অর্থহীন মাতাল সুখ।
৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹}
১০|  পরকীয়া সাপোর্ট অন্তত
■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■
ভালোই তো আর ঝামেলা নেই
পাওয়ার টা সিজ এমনই,
দূষিত বীর্যে আর ডায়াবেটিস
বেপরোয়া নিম্ন প্র‍্যাক্টিস।
..
বেটাদের নিম্নাঙ্গ অকেজো
রায়ে টাইট পরকীয়া সাপোর্ট অন্তত৷
©©©©©©©©©©©©©®©©©©©©
১১| কোনটা আসল
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
ধর্ম তে কি সুখ আছে ভাই
আসল ধর্ম কর্মতে
জাতের বড়াই ছেড়ে সবাই
সুখ তো মানব ধর্মতে।
..
হিংস্রতা আর রাহাজানি, আছে ; গ্রন্থ--কেতাবে !
লোহিতে কি ফারাক শুনি, বল্ না কে দেখাবে ।
৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
১২| যন্ত্রণা সৈকত
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
আজও খুঁজি তারে
সারাদিকে, শ্বেতী জোছনা প্লাবনে।
..
খুচরো দুঃখ গুলো সুরার প্রতিটা ফোঁটায়
শান্তি মিছিল নিরবধি যন্ত্রণা সৈকতে,
সময়ের ডাকে অস্তিত্ব লুটায়
মেকি কান্নায় রাজসুখ শেষ দশায় কাটে।
৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
১৩| একটু দিবে ?
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
কাঙালে চড়া দাম ব‍্যস্ত বাজার
সাবধান এবেলার টাটকা সমাচার।
..
মহার্ঘ্য নিষ্কাশনে রেকর্ড স্কোরবোর্ডে
প্রধান আত্মার অশান্ত পিত্তে
ডাষ্টবিন পরিষ্কার স্বচ্ছতা বশে
মাছিগুলো আবারও জিজ্ঞাসে, একটু দিবে ?
৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
১৪| অবমূল্যায়ন বিবেক
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
পঙ্গপালের মতো অদ্ভুত শত্রুরা তাড়া ক‍রে ;
অবাধ্য ঝড়ের তাণ্ডবে চাল ছেড়া ছন
ইচ্ছেডানা সুখি, অদ্ভুত টা হিংসায় মরে।
..
ফেরেশতা রা ভালো লোনা জলটা নেই
হৃদয় আর আবেগের ককটেলে সর্বস্বান্ত
আত্মহত্যা কাপুরুষতা, অবমূল্যায়ন বিবেকেই।
৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
১৫| ওরা কারা
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
ফুটপাতে অর্ধমৃত লাশ
আধঘুমা নৈঃশব্দিক রাত।
..
পুরোটা হলে থাকতো স্বস্তির গোরে
শহুরের দিনান্তে অর্ধাহারে
সর্বহারা ডাকে 'বাঁচাও' কলরবে
বধির অন্ধ আছে ঐ ধারে।
৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
১৬| ধ্বংসের ইট
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
নিয়নের ফ্লেডে যান্ত্রিক শহরটা ব‍্যস্ত ইপিনাল সেবনে
বেরসিক কোরাসের দিব‍্যি ব‍্যেলি ডান্স
প্রতিটা ইট ধ্বংসের সীমানা বেষ্টনে।
ফোরেন লিকারের নিষিদ্ধ পল্লী নিমন্ত্রণে
যৌবন রস নিচ্ছে চান্স
মত্ত উৎসব কীর্তনে।।
৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
১৭| তবু চলছি
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
চলছি না বুঝে এক ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে
বাস্তব কলুষিত ভাগ্য নির্মাতার ভুলে
অবাঞ্চিত জয়যাত্রা অতৃপ্ত বক্ষে।
সুরের সারেগামা বে-তাল লয়ে
রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তাদের শূলে
তবু চলছি বেমানান চক্ষে।
৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
১৮| ওরা কারা
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
মুখোশে অবতার সাজে ওরা কারা
দিব‍্যি নোঙর করে লেম্পপোষ্টে
ওদের নিয়ে যাত্রাপালা করে যারা।
ওরা কারা দিবালোকে বিশেষ সভায় আপন করে
অতিথি আপ‍্যায়নে পটু তারা
সভ‍্য পোশাকের নকল করে মরে।
৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
১৯| স্ব- এ সমাধান
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
সাধারণ সাবধান সংবাদ সংশ্লিষ্ট সময়ে
সঙ্গে সেই সব সমস্যা সৃষ্টির সেরা সত‍্যে
সবই সবংশে সঁপা সংগ্রহ সংক্রমণে।
..
সংকটে সংঙ্কলন সঠিক সক্ষমে
সপুত্র সজাতি সতীর্থ সহোদরে
স্ব-ভাবনা স্বরচিত সমাধান স্বার্থে।
৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
২০| ওরা ভালো আছে !
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
অসুস্থ গ্রহটা প্রয়াত সময় নিয়ে ভাবে
যৌবনটা কি সাধের ছিলো........
রেহাই মূল্যের বাটখারা আজও ওপর হাতে।
..
হিরোশিমা অবস্থা নানাবিধ সাজে
রাখাইন পেলেস্তাইন ওরা নিলো.......
তবুও বিবেক দেখো ঐতিহ্য ভালো আছে।
২১| অদ্ভুত অনুগল্প
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
অথবা একটি পরিদর্শন শেষ,তবু নেই বললেই কি মানায়
শুধু একটি ক্ষণস্থায়ী হেঁচকির এক্সিভিশনে
বৃদ্ধ শকুনের কলতান সুশীলের ভীড়ে।
..
উদয় অস্তের ঠাণ্ডা যুদ্ধে শিরোনাম লোহিতে রাঙা
অদৃশ্যের অদ্ভুত অনুগল্প হজমে
দিনশেষে ফিরে আসা দুঃখ কাতর নীড়ে।
৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
২২| বৈভবে ভক্তি
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
বিস্ময়ের চোখ দুটি লাগিয়ে রেখেছি বিচরণে দেখি সব প্লাস্টিক
অন্তঃপুরে মর্যাদার লড়াই আর দ্বিতীয় পন্থায়
বৈভবে ভক্তি অভিনয় আস্থায়।
..
যন্ত্রণার অনুরণন আরও কর্দমাক্ত প্রতিটা ঋতু বদলে
নিঃশ্বাসে বিশ্বাস রোপণে মরিয়া শব্দ মিটিং এ
নিজ সংবিধান রূপায়ণে মারুক এককোষী রে !
৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
২৩| মি টু
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
শ্লোগান টা যে কাঙাল পৌঁছেছে সুদূর অতীতে
অশ্রাব্য ঝংকারে ভাগাড়ে পুড়ে ছাই
নর্দমার ভুঁই ফুঁড়া গন্ধ পাচ্ছে সবাই।
..
ভাণ্ডা ফাটা, সংস্কারী বাবাও বুঝি শামিল তারকার হাটে
শুয়ে থাকা সুশীল বিবেক আটকা বিরাম চিহ্নের প্রশ্নবোধকে
মি টু'র নিমন্ত্রণে আবদ্ধ আড়ালে সূর্য হাসে।
৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
২৪| তিতলিও অস্তমিত
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
শান্ত ছুরিকাঘাতে নিহত বিশেষ অতিথি।
মূল‍্যায়নে অপরাহ্ন পদার্পণে ছবিটাও ফ‍্যেকাশে
তিতলির স্বপ্নিল পৃথিবী ঢাকা একখণ্ড বিষাদ মেঘে।
..
তীব্র যন্ত্রণায় ধোঁয়াশা অগোছালো রীতিনীতি
আবদ্ধ এক আভিধানিক ইন্দ্রজালে
ভাবি বিস্ময়ে তিতলির অস্তমিত সূর্য ক্ষয়িঞ্চু কালে।
৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
২৫| সুন্দরতা এতেই
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
ক্ষুধার্ত গ্রহটার দাম্ভিক লম্ফ অবাক করা ট্রেন্ড
ভিক্ষা থালায় সিকিতে সিদ্ধান্ত ঠিকানা ভিক্টোরিয়া স্টেন্ড
ছিন্ন বস্ত্রে ককটেল ফ‍্যেশনে।
..
জাল কাগজে অভিসার সাময়িক সেকেন্ড
বেহুঁশ ভদ্র অভদ্র ভাষণে অন্বেষায় ব্র‍্যান্ড
আর এফ সি আই চলে ভাড়াটে রেশনে।
৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
২৬|
অপেক্ষায় বিসর্জন ঘাটে
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
আজ বিদায়লগ্নে প্রশ্নটা ঝড় তুলে
মর্ত‍্যধামে অসুর বিনাশে এলে দুর্গতিনাশীনি রূপে
ডিজে'র ভাইবরেশনে ঢাকের বোলে বিরহধারা।
..
সুযোগে উলঙ্গ মগজ স্বাধীন অন্য পথে
কেমন শ্বাপদ জন্মালে মা মনুষ্য রঙ এ
নির্ভয়ারা বিসর্জন ঘাটে, খসে পড়ে তারা।
৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
২৭| চিলতে চাওয়া
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
রিক্ত শূন্যটা তীব্র পূর্ণ স্বরাজ প্রতিবাদী সমাবেশে
এক চিলতে হাসি আর কিছু ভরণ বস্তু
বাকিটা কোন স্ক‍্যেমে,দরকার নেই জিজ্ঞেসে !
--
দেখো ঐ বাচ্চারা পুণ্য কামায় সাধারন সেবায়
ফাটা প‍্যান্ট আর তালি বেশ মানায়, হারবে তুলনায়
আম‍রা নাহলে কি নোবেল মিলে বাবু !
●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●
২৮!! তফাত টা
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
মধ্য রাতে উপঘুম টা ভাঙে বিছানার ন‍্যাংটো আওয়াজে
কিছুক্ষণ বিরামহীন যুদ্ধে জমাট রক্ত টা
গড়িয়ে যায় পাইপ বেয়ে আই পিল'র বীর্যজলে।
..
প্লাস্টিকের মননে সবুজের সমারোহ বেমানান
প্রতি রাতে আহ্বান নতুনত্বের খোঁজে
ভালোবাসি বিপরীত লিঙ্গ বলে।
৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
২৯!! জাগো একবার
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
স্বপ্নে পাহাড় ভাঙো সোনার হরিণ সন্ধানে
কেমন ভাবছো নিজের দুর্বলতা প্রকাশে;

স্তব্ধতা মিশানো মিথ্যার নিঠুর বাজারে
হাতে হাত রেখে হও সংযত হাজারে হাজারে;

রক্তে আগুন জ্বালা হে পরজীবী দুর্বল
ভাঙছে পৃথিবী বিপন্ন এককোষী বহুকোষী, একবার হাল ধর।
৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
৩০!!
সব মিলেছে এক বাক্সে নানা রঙে নানা ঢঙে
হাসির ফাঁকে বিষ ঢেলে যায়
এক পথেই চলছে এরা জং লেগেছে অন্তরে;

পুড়ছে যত অহরহ নির্বিচারে ভাগাড়ে
স্থলে-জলে-দ‍্যুলোকে শুধু হায় হায়
ঘুম ভেঙে আয় লাঠি হাতে মিথ্যারে তুঁই তাড়ারে।
৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
৩১!! দুঃখওয়ালা
অশান্ত পিত্তথলির ভয়ংকর আস্ফালন
যন্ত্রণা ভুলতে পারিনি দেখি আরও সমস্যা নির্যাতন;
অবশ্য চলছে রিলিফ উপস্থিত ভীড়ে
এক ভিন্ন উচ্চারণে শান্তি অচিরে;

ঝলসে পড়া সোনা মণি মুক্তা
আজ পড়ন্ত বিকেলের দুঃখওয়ালা।
৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
৩২!! অপাত্রে সংবিধান
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
আগামীর পথগুলো এগিয়ে চলুক যন্ত্রণা শেকলে
নীরবতা পালন করছে তারা লেখা পোস্ট করে;
নিভিয়ে দাও অসাম্প্রদায়িকতার শোলতে
গনতন্ত্র গলা টিপা সংবিধান অপাত্রে।

রাজনীতির আধভাঙা গরাদ তাই পরিসর ধোঁয়াশে
সুর প্রবাহে বিষন্ন বার্তা সবুজ গ্রহটা বিষাক্ত সুভাসে।
৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
৩৩!! পঁচা গণতন্ত্র
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
সভ‍্য ভাবধারা মানুষগুলো ক্ষুধায় বেঁচেছে মস্তিষ্ক !
নিশ্চিত করে ট্রেন্ড উপস্থাপিত তাঁর গণ্ডের লিঙ্গ,
সাধু সাবধান পঁচা গণতন্ত্রে সদুত্তর ভিন্ন।
..
মরুক যত দুর্বল রক্ত আয়োজিত অনুষ্ঠানে,
সর্বোচ্চ প্রস্ত‍রে ভুয়া ঐক‍্য ডাকে মিলন ওপারে,
তবু নির্বোধ তলচাটে মায়াজালের ফাঁদে।
●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●
৩৪!! কাঁচা হৃদয়
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
প্রহর শেষে চুমু খেয়ে দরজা
ভেজিয়ে ভাঙাচোরা কুমারীর মতো ঘর ছেড়ে পালায় ;
যত যায় তত আদরে জড়িয়ে নিয়ে
যায় মাথা উঁচু করা অর্গাজম হারায়।
..
নীরব ঘাতক কুমির কান্নায় ভাঙে কাঁচা হৃদয়
ঘর বেঙার টহলে উইপোকা সদয়।
৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
৩৫!! সাম‍্যের গান
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
চল চল চল সবে, এক নব ধরণী গড়ার লক্ষ্যে
আসুক ঝড় আসুক সাইক্লোন পাতিবো এ বক্ষে,
লোহিতের মাঝে নাইরে ফারাক দেখবো মোরা দোস্ত চক্ষে।
..
জাতির বড়াই জাতের ঊর্ধ্বে মিছে মরছি দলে দলে
হিংসার মাঝেরে ক্লেশর সঞ্চার, মরলি মেকির ফলে,
প্রজন্ম আজ ঘুমন্ত সিপাহী জাগাওরে মিলে সবে।
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
৩৬!! পথশিশু
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
আমি কি বলেছিলাম, নষ্ট সমাজের ভ্রষ্টতাতে আসতে
শ্বাসকষ্ট হয়, হ‍্যাঁ দ্বিধা নেই তোদের বলতে
অনিচ্ছুক উপভোগে নীরবে মরছি কামনার ঘর্ষণে।
..
সভ‍্যদের ইতিহাসে অহরহ চলমান জলন্ত বিবরণ
ওহে পৃথিবীর মানুষ মিছে সব প্রয়োজন
আমি পথশিশু আঁধারে ভবিষ্যৎ কিরণ।
●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●
৩৭!! অদৃষ্ট পথ
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
চেয়েছি যতোবার অতীত বিস্মৃত হতে,
ততোবারই সে এসেছে ফিরে;
অনাহূত আগন্তুকের বেশে ঠাঁই নিয়েছে হৃদয় নীড়ে!

কখনো বৃষ্টি হয়ে ঝরে মনের আঙিনায় অদৃষ্ট পথে
কখনো কালো মেঘ হয়ে থমকে যায় অভিমানে -
আমার বিধাতা সে কথা জানে!
●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●
৩৮!! ক্লান্ত জীবন
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
সবকিছু আজ বাবুদের ভীড়ে অসুস্থ হালে
শেষ নিঃশ্বাস টি হতাশায় সর্বনাশ কালে
তবু ক্ষয়িষ্ণু অধর হাতি-পেয়াদার চালে।
..
ক্লান্ত জীবন সংগীত বাঁচার সংগ্রামে যৌবন নাশে
রুদ্ধ কপাট অবহেলার পাশে
অপেক্ষার নতুন সূত্র ধরে মুক্তি গান বিষন্ন আকাশে।
●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●
৩৯!! কৌলিন‍্যের অহং
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
একগাদা ব‍্যভিচারে এই সুরম্য অট্টালিকা
অন্দর ঘোলাটে রসাল রচনায় প্রহেলিকা
কৌলিন‍্যের অহং বেঁচে আছি আমি অন‍্যদের সময়ে।
..
নাচঘরে মেহফিল বাদশাহ শেহেনশারা রুটিনমাফিক
দাবি করে সমৃদ্ধির ইতিহাস বুর্জোয়া সাংবিধানিক
এ কেমন ঘ্রাণ খোলে গোলাপের আবরণে।
◆◆◆◆◆◆◆◆>◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
৪০!! আদিম গল্প
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
চারিদিকে চিতার আগুন আর পুড়া লাশের গন্ধে
শিল্পীত কল্পিত কাননে হৃদয় স্মরণ সভায় জ্বলে
অকূতভয়ী সাহসী ত‍্যাগী এক বীর পরাক্রমে !
ব‍্যবসার ক্ষৌরকার্যের করিশমায় রামদা চাপাতি কসরতে।
..
চৌরাস্তা তেলমারা আদিম গল্প সংকলনে
অতঃপর লোকেল দালালদের কাঁধে নির্জন লোকালয়ে।
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
৪১!! ন‍্যাংটো অস্তিত্ব
জ্বলতে দাও বোঝাপড়ার ন‍্যাংটো অস্তিত্ব
টিকিয়ে রাখা হবে লুন্ঠন নিমিত্ত,
অশ্রুপাতে সমস্ত গবেষণা ধ্বনিতে স্তব্ধ
পশলা বৃষ্টি বিন্দু নাজেহাল চৌরাস্তা বন্ধ।
..
অবাকের দল অসাবধান অন্ধকারে
প্রিতি শিরোপায় বৈরাগ্য ভেক ধরে।
৪২! কথা ছিলো
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
বালিশকে তুমি ভেবে,
অথবা তোমাকে বালিশ ভেবে,
ঘুমোতে যাবো মফস্বলের দোতলা বাড়িতে!

আমাদের তো আমি নয়!
আমাদের তো আমরা হবার কথা ছিল,
বোমা গুলির উল্টো দিকে।
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
৪৩!! রঙ নাম্বার
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
অধমের উৎপাদিত সুগন্ধি সহযোগে
অপ্রতুল বাসস্থান ক্ষুধার্তের খামারে
আদর্শ বাস্তবায়নে।

একছত্র লুটেরা মানুষকে পন্য,যৌনদাসী,ধর্ম ব‍্যবসা, অন্তর্জামী সকৌশলে
চাহিদা, যোগ্যতা, স্বাধীনতা,সভ‍্যতা রঙ নাম্বারে
মানুষ ও জানোয়ার! উলঙ্গ পোশাকে।
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆●●●●●●◆◆◆
৪৪!! বিজ্ঞাপন
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
শহরের প্রবেশদ্বারে ঘুমন্ত লতাগুল্ম জেগে ওঠে নিমেষে
আলোর মিছিলে শীর্ষস্থানীয় রাত হেসে,
আনন্দের গৌরাঙ্গ সাধুর যজ্ঞ।
--
ডানা কাটা বিহঙ্গ সমগ্ৰ বিজ্ঞাপনে
শরীরী স্বাধীনতা বিষন্ন শিৎকারে,
পরশে হয় ঘৃণা তরঙ্গ।
■■■■■■■■□■■■■■■■■■■■■
৪৫!! হতাশা
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
জীবিতেরা বহু ধর্মে বন্টিত
মৃত এক শ্রেণীর, কুন্ঠিত!

দালানের নিস্পৃহ বাজারে অবাধে ষড়যন্ত্র
মনুষ্যত্ব বিরাট গ্রন্থ ছিন্নভিন্ন বিভেদে
ধর্মের সমীকরণে আসলটা কফিনে,
সভ‍্যতা বেপাড়ায়,হারাচ্ছে মূলমন্ত্র।
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆৹৹
৪৬!! বাজেয়াপ্ত ইতিহাস
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
অনাবিল আনন্দ আর মিছিলের অদৃশ্য পথনাটিকা
দূর করে অবাস্তব মোহনীয় নিরেট সমান্তরালে,
তবু স্রোতের প্রবাহে শখ- নেশা ভ্রমণ নতুনত্ব
হয়তো দিগন্ত রেখা পেরিয়ে হারায় অস্তিত্ব।

কাঙ্খিত শুষ্ক গালিচা অনুরণিত বৃথা সংলাপে
অশুদ্ধতা স্বমহিমায় বাজেয়াপ্ত ইতিহাসে।
◆◆◆◆◆◆◆◆◆৹৹৹৹◆◆◆◆◆◆◆৹৹৹৹■◆◆

৪৭|| বিস্ফোরিত আত্মা
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
সীমানা পেরিয়ে গেলেও দ্বন্দ নেই বললেই চলে
স্তূপাকৃত লাশের উপর শকুনেরা উৎসব মেজাজে,
গরীব গ্রহটি মহাকালের স্বমহিমায় বলে!
সুস্থ বিস্ফোরিত আত্মা পুরোনো রেওয়াজে।

প্রেমিক প্রেমিকার অন্ধ প্রেমটাও কৃত্রিমতা পেরিয়ে ফুলষ্টোপে
দুর্লভ‍্যের বাজারে মহামানব ছাপ এক কষ্টি পাথর রূপে!
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
৪৮!! সাবান জয়যাত্রা !
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
রূপকথার ভালোমানুষের অপরিকল্পিত অহংকার
উরু পায়ুদেশে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ,
নীতিহীন পানপাত্র ইশারায় একাকার
দূষিত অক্সিজেন হরদম ঘুরপাক বারবার।

সাবাস জয়যাত্রা ডুব দাও হতাশার পুণ‍্যতীর্থে,
সুটকানো স্তন ক্ষুধার্ত নীড়ে।
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
৪৯!!  বিকল্প পৃথিবী সন্ধানে

লাল নীল গ্রহগুলো মিছেমিছি সূর্য পদক্ষীণে
অসার-উদ্দেশ্যহীন তার নির্মাণ!
কোন্ জীবনের স্বার্থে?
বর্তমান কিবা ভবিষ্যত ম্লান।

অযথা যায়গা জুড়েছে সৌরজগতে
ধার যদি মিলতো, নব উল্লাসে গড়তাম তথাগত বসুধাকে।

৫০!! পরিবর্তন
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
বনলতা, লড়াইটা ভাতের তোতা কাহিনীর
পরিবর্তন তোমার আমার বিনিদ্র রজনীর।

স্বাধীনতা প্রকাশ‍্যে গুলি করে
ধর্য্যটাও রক্তাক্ত, মাটিতে পড়ে
প্রেম--- ধূসর পাণ্ডুলিপির আগুনে
স্নেহের লাশগুলো শহরের কুকুর শেয়াল চাটে।
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
৫১!! ফিরে যাওয়ার গান

না ফিরার ভালোমানুষ অস্তাগামী লাল রবিটার মতো
ভাবে....আবার আসিবে বার বার কত শত,
আবেগের মেঘগুলো কাঁদে অবিরত
ঋতুর মনও বদলে গেছে স্বাধীনতা প‍্যাঁচালো জ‍্যামিতিতে হত।

ভয় গিলে এখন মুক্তমনা-ব্লগার উল্লাসে পরিচয়
ক্ষমা....... এরা নয় কতিপয়।
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆

৫২!!!  শব্দ দূষণ

প্রচণ্ড সিংহনাদে বক্তৃতা, ভারসাম্য হারায়
পুরোনো পোশাকে মিথ্যার ছোপ ছোপ দাগ
সাইরেনটা বেজে যায়,
বিনামূল্য ছলনার, প্রজন্ম ভাগ.... ভাগ।

মুখোশের আড়ালে কালো শ্রী মুখ
মুমূর্ষ গোলাপ একাকী নির্জনে অপ্রিয় সুখ।।
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
৫৩!! কলমরা ও....
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
শব্দভেদী মায়াজালে মোহাচ্ছন্ন রক্তবীজের বংশধর
আততায়ী একদেহের ভোক্তারা টানছে কলিজা পরস্পর,
নামের পাশে কদর ঢাক ঢোল ভরম্ভর
অগণিত ভীড় ফুটপাত দখল।

কবিতারাও দুর্বল স্বার্থের কারাগারে
হাড্ডির গন্ধে কলমরা স্বার্থ চুম্বনে।
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
৫৪!!! নির্লজ্জ
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
ভোক্তা সমাজে সব কিছুতে পৃথিবী ও চাঁদের ফারাক
নিরুপায় মনে হয় চলার কক্ষপথ---
তবু সে ঐ নাবিকের মতো ধৈর্যের পিদিম জ্বালাক
যতই টানুক বাবুরা উল্টোরথ।

অন্ধকার বস্তিতে আজকাল মার্সিডিজ ও লজ্জায়
কেন কি, তার চারপায়ী মরণ সজ্জায়।
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
৫৫!!! নির্বাসিত
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
বিগত জন্মের সন্ত্রাসবাদ স্বপ্নিল বিশ্বায়নে
মুমূর্ষ গোলাপ সুখ ঝেরে অন‍্যায় প্রতিবাদে,
ক্ষুধিতের চিৎকার মানচিত্র খাবে অনুক্ষণে
ব‍্যনার লিফলেট শ্লোগান  তাচ্ছিল্য তাজাপ্রাণে।

ব‍্যক্তিগত কথামালা বন্ধ জানালার ঐ পাশে
গোধূলির সূর্যের মতো আশারা নৈরাশ‍্যে।।
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
৫৬!! দ্বিরায়তন

পিতৃতন্ত্রে পদলেহী যাও, ক্ষমতায় চাবুক দল
বারুদের ঘর ধূলোয় ঘেরা
অসভ্য জানোয়ার সবল।

কেড়েছে ওরা নারীর স্বাধীনতা,
শোষিত রাক্ষুসী এরা
অচিরেই তুঁই বস্তু হলি পরিয়ে শাস্ত্র গিরা।

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...