Tuesday, January 29, 2019

ভোট প্রচারে মোদী, বলিউড সঙ্গী

আমির খানের সাথে নরেন্দ্র মোদীর ফোটো! অভিনেতা কার্তিক আর্য়ান, করণ জোহর, রণবীর সিং, অনুষ্কা শর্মা,দিনেশ বিজান, ইমতিয়াজ আলি প্রমুখ প্রথিতযশাদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সেলফি না নির্বোধ‍্যতা। আবার কার্তিক আর্য়ানের সেই ঐতিহাসিক ফোটো শেয়ার ও মোদীজির রিটুইট টা লুজার্স নয় রকষ্টার বৈকি! ফিল্ম উরির ডায়লগের সাথে প্রধানমন্ত্রীর হলে প্রবেশ ''হাও ইজ দা জোশ'? আবার একতা কাপুরের গদগদ করে সোস্যাল মিডিয়ায় ষ্টেটাস,প্রধানমন্ত্রীর উদারতার বয়ান-- কিভাবে সবার সাথে ফোটো আর জিতেন্দ্রের প্রশংসা। এইভাবে আরও একজন কমেডিয়ান কপিল শর্মা দ্বারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর 'সেন্স অব হিউমার' এর প্রশংসা! আর শুধু ইহাই নয় খুদ প্রধানমন্ত্রীর ধড়াধড় ইন্সটোগ্রামে বলিউড তারকাদের সাথে নিজের ফোটো শেয়ার করা।

চিন্তার বিষয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী চিত্রতারকাদের সাথে ফোটোগুলো টুইটার,ফেসবুকে আপলোড এবং অভিনেতাদের মধ্যেও যদি এমনি করে হিড়িক চলে আর নেতা মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, রিটুইট করেন তো সোস্যাল মিডিয়ার মধ্যে কিভাবে হয়তো ঝড় উঠবে। আমার জানা নেই, তবে প্রধানমন্ত্রী মোদী,আমির খান, একতা কাপুর, জিতেন্দ্র, কপিল শর্মা,ইত্যাদি ফিল্মমেকারদের টুইটার, ফেসবুকে কত ফলোয়ার আছে-- কিন্তু মোদী আর বলিউড মিলে একে অপরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে 'হাম সাথ সাথ' বুলি বলে, ফোটো সোস্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট করে ক্রোর মানুষের নজরে পড়বে যা এক অবিস্মরণীয় রেকর্ড গড়লেন। মন-মস্তিষ্কে মোদী ইমেজ ছাপ ফেলবে। এইজন্য আজ সকালে আমার সোস্যাল মিডিয়ার কর্মকুশল বন্ধু বুক ঠুকে বলছে ২০১৯ নির্বাচনে মোদীর গদি বহাল থাকবে! আপনারা কি জানেন বলিউডের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর মুক্ত হাসি কতটা টুইট আর রিটুইট হয়েছে?

বুঝতে পারছি না ইহাকে কি বলা যায়! যদি বলিউডের চেহারা দিয়ে নির্বাচনী মার্কেটিং হয় তবে উত্তর ভারতের রাজনীতিটাও তামিলনাড়ুর মতো ফিকে হয়ে যেতো। অমিতাভ বচ্চন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতেন আর অমর সিং উনার চানক‍্য অমিত শাহ! এর বদলে সত‍্যটা হলো নির্বাচনের মার্কেটিং এর একশো দিনের একশো সভাতেও অভিনয়ে নরেন্দ্র মোদী এইসব করছেন, যার কল্পনাও করা যায় না। গত শনিবারে যখন মুম্বাইয়ে বলিউড তারকাদের সাথে 'ন‍্যাশনেল মিউজিয়াম অব ইণ্ডিয়ান সিনেমা'র দ্বার উদ্বোধন হলো তো এইসব খবর পত্র পত্রিকায় তেমন লিড করে নাই। আমার কাছেও এগুলো বেমানান আর হাস‍্যকর। দুর্বল কোন সরকার হলেও এই ধরণের অনুষ্ঠানে বেশির চেয়ে বেশি সুচনা ও প্রসারণ মন্ত্রণালয়ের রাজ‍্যমন্ত্রির লেভেলে সীমাবদ্ধ থাকতো। এই যৎসামান্য অনুষ্ঠানে প্রধান সেবকের উপস্থিতি যদিও উজ্জ্বলতা বাড়ায় কিন্তু কোন মূল্যায়ন হয় না। সেইজন্য অনুষ্ঠানে মিউজিয়ামের চর্চা কম আর সেলফির হিড়িক বেশি ছিল।

বোধহয় ইহাই অনুষ্ঠানের আসল উদ্দেশ্য ছিল। ফিল্মষ্টার-প্রধানমন্ত্রীর জোট ফোটো অসংখ্য ফলোয়ারের সাথে শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী, উনার মন্ত্রীরা ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় রিটুইট করে নিজেদের ফলোয়ারদের মধ্যে পৌঁছালেন। খুদ প্রধানমন্ত্রী টুইটারে ফোটো আপলোড আর ফিল্মমেকারদের ফোটো পোষ্ট এবং মন্ত্রীগন ইহাকে রিটুইট করে অসংখ্য ফলোয়ারদের মধ্যে পৌঁছিয়ে যে বৃহৎ মার্কেটিং এর দ্বারা দেশের সেবা,এক অভিনব কৌশল।

কিন্তু আমাদের জন্য মুদ্দা ইহা নয় যে দেশের জনগণ, যুবক, অভিনেতাদের প্রেমি ছেলে-মেয়েদের মধ্যে বলিউড আর নরেন্দ্র মোদীর ফোটা সেশন কতটা ভোটের প্রভাব বিস্তার করবে? আমাদের জন্য জোর দেওয়ার বিষয় ইহা যে প্রতিটা ক্ষণ,প্রতিটা ঘটনা, টিম মোদী-শাহ কিভাবে খুব তীক্ষ্ম ভাবে বিচক্ষণতার সাথে ভোট মার্কেটিং এ ঘাম ঝরাচ্ছে? যদি ফিল্ম অভিনেতা, নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর মন্ত্রীরা টুইটারে, ফেসবুকে, ইন্সটোগ্রামে অসংখ্য ফলোয়ার তৈরিতে করছেন তবে এই অনুগামীদের মন্ত্রমুগ্ধে বশীভূত করার জন্য নরেন্দ্র মোদী আর উনার টিম কতটা নিরাপদ ভাবে ছল-ছাতুরি কে হাতিয়ার মানিয়ে পরিকল্পনা তৈরী করে রেখেছেন।

No comments:

Post a Comment

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...