Tuesday, January 29, 2019

পরিবর্তন

--- আমি চললাম।
--- আচ্ছা শুনো,আসার সময় এক প‍্যাকেট স‍্যানিটারি ন‍্যাপকিন আনবে, একস্ট্রা লার্জ।
--- ঠিক আছে। এভাবে নিরামিষ বেরিয়ে যাবো!
--- আচ্ছা বাবা দিচ্ছি, দুই সন্তানের বাবা হয়েছো ঠিকই কিন্তু স্বভাব পাল্টালো না।

অফিস থেকে ফিরে আসার সময় আমি আর হাসান প্রায়ই একসাথে আসি। আজও এর ব‍্যাতিক্রম নয়। অফিস থেকে আসা অব্দি দুজনের জমিয়ে অন্তরঙ্গ। একসাথে বাজার, একসাথে জিমে যাওয়া, কফি হাউসে একসাথে আড্ডা দেওয়া ইত্যাদি। তবে আজ বাস থেকে নামার পর দেখা হয়েছে হাসানের সাথে। কাজের প্রেসারে ক‍্যান্টিনে দেখা হয়নি।

--- কবির সাহেব, কোথায়? আজ একটি বারও আপনাকে দেখলাম না যে।
--- না, পুরোনো পেনডিং কাজ ছিল। তাই দেখা করতে পারিনি।
--- তাই ক‍্যান্টিনে আপনাকে দেখিনি।
--- আচ্ছা চলুন না ঐ গ্রোসারি সোপে,একটু খরচা করে চলে যাবো।
--- চলুন, আমিও দু-একটা জিনিস কিনে নি। নইলে আবার আসতে হবে।

গ্রোসারি দোকানে স‍্যানিটারি ন‍্যাপকিন সাজানো ছিল। তাই আর জিজ্ঞেস করতে হয়নি। নিয়ে নিলাম জীবন সঙ্গীর প্রয়োজনে। কর্মচারী কে বললাম আর বাঁধার প্রয়োজন নেই। কাগজ বা পলিথিন দিয়ে আর আবর্জনা বাড়াবো না। আমার এইসব দেখে হাসান সাহেব ঠিক যেন হজম করতে পারছিলেন না।

--- কবির সাহেব এসব কি করছেন? চোখে একটু লজ্জা রাখুন।
--- কেন, কি হয়েছে? আর কি লজ্জার কথা বলছেন।
--- আরে মশাই, কি এসব!
--- ও এটা! স‍্যানিটারি ন‍্যাপকিন, কেনো?
--- আজ্ঞে হ‍্যাঁ জানি, তবে এটা ওভাবে খোলামেলা নিয়ে যায় নাকি। ছিঃ লজ্জা। মেয়েলি জিনিস।
--- মেয়েলি শব্দটা আমাদের ই তৈরী। পুরুষ হলে স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে নেই এরকম কোন বাধা ধরা নিয়ম আছে না কি!
--- নিয়ম নেই ঠিক। তবে এসব মাসিক টাসিকের জিনিস আমরা নেওয়া বা লুকিয়ে নিলে ভালো।
--- কেন, লুকিয়ে কেন?
--- আরে মাসিক হওয়া লজ্জার। লোকজন বলবে এইবাড়ীতে মেয়েলোকের আজ মাসিক হয়েছে।
--- তাতে কি। হতেই পারে। এতো সবার ঘরের একই কাহিনী। এখানে লজ্জা কোত্থেকে এলো হাসান সাহেব, তা আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারেনি।
--- আপনি এসব বুঝবেন না। আমি তো এই ব‍্যপারে খুব বেশি সেনসিটিভ।আলাদা থাকি। খাওয়া দাওয়া টাও একটু দূর থেকে করি। এই তিন চারটে দিন ঘেষাঘেষি একদম পছন্দ করি না।
--- হাসান সাহেব এসব কি বলছেন। নিজেকে ফোর-জি, ফাইব-জি ভার্সন বলে পরিচয় দেন। আর এই নগন্য বিষয়ে হীনমন্যতা!
শুনেন, মাসিক বা রজস্রাব মহিলাদের শরীর বৃত্তিয় প্রক্রিয়া। এরজন্য আমাদের বিশেষ করে পুরুষদের সচেতনতা ও সহযোগিতার প্রয়োজন। লজ্জা বা অস্পৃশ‍্যতা নয়। আমাদের মায়েদের মাসিক হয় বলেই কিনা আপনি আমি এই পৃথিবীর মুখ দেখতে পেরেছি, সভ্যতা এতদূর এগিয়েছে। আমরাতো এরজন্য এওয়ারন‍্যাস প্রোগ্রাম ও করে থাকি। প্রতি মাসে আমরা চার-পাঁচজন বন্ধু চাঁদা তুলে প্রত‍্যন্ত অঞ্চলগুলোতে হাইজিন ক‍্যাম্প করি। তার সাথে মহিলাদের ফ্রীতে স‍্যানিটারি ন‍্যাপকিন দিয়েও আসি।

কথা বলতে বলতে কোনদিকে ঘরে চলে আসলাম বুঝতেই পারলাম না। শুধু বুঝলাম মাসিক এবং হাইজিন নিয়ে মেয়েদের পাশাপাশি পুরুষদের সচেতন করাও ভীষন প্রয়োজন।

No comments:

Post a Comment

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...