Friday, August 5, 2022

লাতু মালেগড় : ঐতিহাসিক সিপাহী বিদ্রোহের সাক্ষী


"কত বিপ্লবী বন্ধুর রক্তে রাঙা,
বন্দীশালার ওই শিকল ভাঙ্গা
তাঁরা কি ফিরিবে আজ
তাঁরা কি ফিরিবে আজ সু-প্রভাতে,
যত তরুণ অরুণ গেছে অস্তাচলে।। "
দেশের খাতিরে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন বীর শহীদেরা। মোহিনী চৌধুরী তাঁর লেখায় যে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন এবং আমরাও বোঝতে পারি শহীদেরা তরুণ অরুণ। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা বলা হয়ে থাকে। আর ঐ বিদ্রোহে আমাদের বরাক উপত্যকা কিভাবে অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত তা বোধহয় আজও অনেকের অজানা।

লঙ্গাই নদীর তীরে ছোট্ট একটি টিলা। আসামের করিমগঞ্জ জেলার লাতু একটা ঐতিহাসিক রণভূমি। একটা উপেক্ষিত অঞ্চল। যার নাম মালেগড়। রক্তাক্ত এই ইতিহাস লিখার কথা ছিল স্বর্ণাক্ষরে। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজও এখানে যথাযোগ্য মর্যাদার আলো পড়ে নি। অপশক্তির বিরুদ্ধে দেশ মাতৃকার জন্য সিপাহী বিদ্রোহে যারা লড়েছিল আজ শুধু নাম মাত্র সমাধিতে পড়ে আছে তাঁরা। এপারে লঙ্গাই ওপারে সোনাই নদীর তীরে ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তে নিরবে নিভৃতে শায়িত আছেন ২৬ জন বীর সেনানী।

আজ আমরা স্বাধীনতার ৭৫তম বর্ষ পালন করছি। সিপাহী বিদ্রোহের ১৬৫ তম বর্ষ। তা কিন্তু কম বড় কথা নয়। আমাদের জন্য নিশ্চয়ই গর্বের বিষয়। রক্তাক্ত এই ইতিহাস পাটকাই ট্রেকার্সের দৌলতে জনসমক্ষে প্রকাশ পায়। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের সাক্ষী এই শহিদভূমি, পাটকাই ট্রেকার্সের কর্মকর্তারা আজও নিরলসভাবে এই পুণ্যভূমির সেবায় নিয়োজিত আছেন। তারা আশাবাদী অচীরেই আবার জেগে উঠবে এই শহিদ ভূমি।
১৮৫৭ সাল সিপাহী বিদ্রোহ। যার সূচনা হয় ১৮৫৭ সনের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরে। এই আগুন জ্বলতে জ্বলতে পূর্ব ভারতের মাটিও স্পর্শ করেছিল। চট্টগ্রামে নিয়োজিত ৩৪ নেটিভ ইনফেন্ট্রির তিন’শ জন সিপাহী বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। নেতৃত্বে ছিলেন হাবিলদার রিজবুল্লা খান। সেদিন ১৮ই নভেম্বর ১৮৫৭। সুবেদার অযোধ্যা সিং চট্টগ্রাম কোষাগার লুট করেন। নগদ প্রায় দুই লক্ষ পঁচাত্তর হাজার টাকা। সিলেট ডিভিশনের কমান্ডার মেজর ব্যারিং সূত্র মারফত খবর পেয়ে যান বিদ্রোহী বাহিনী অবিভক্ত বাংলার শ্রীহট্ট জেলার লাতুতে অবস্থান করছে। ১৮ই ডিসেম্বর শীতের কনকনে বাতাসে লঙ্গাই- সোনাই নদীর তীরে ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই মেজর ব্যারিং ও ৩৪ নেটিভ ইনফ্রেনটি  রিজবুল্লা খান বাহিনীর মুখোমুখি সংর্ঘষ হয়। ছাব্বিশজন বিদ্রোহী সেনা ও মেজর ব্যারিং সহ পাঁচজন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন।

আজ এই হৃদয় বিদারক ঘটনা ইতিহাসের পাতায় লুক্কায়িত।  ব্রিটিশ সরকারের কাছে এই সংঘর্ষের বিবরণ পাওয়া গেলেও আসাম সরকারের কাছে তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায় নি। এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ আব্দুল মুকিত চৌধুরীর কাছ থেকে জানা যায় মাটি খনন করার পর উঠে আসে দুটি বিশাল তলোয়ার, একটি পিস্তল, আগুন জ্বালাবর পাথর। আর তৎসঙ্গে ২৬  জন শহীদের সমাধি এই টিলায় দেয়া হয় তাঁর থেকে জানা যায়। কথিত আছে টিলার ওপরে লুঠ হওয়া বাক্স খোলা হয়। সেই থেকে নাম পড়েছে মালেগড় টিলা। লঙ্গাই নদীর তীরে ভয়ানক গুলিবর্ষণের শব্দ আর আহত সৈন্যদের আর্তনাদ সেদিন মালেগড়ের আকাশ বাতাস স্বাক্ষী হয়ে ছিল। আজও ১৮ই ডিসেম্বর মালেগড় দিবস লাতুর মানুষের কাছে।

বলা বাহুল্য, সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (BSF) প্রশংসার যোগ্য। মালেগড়কে প্রচারের আলোয় নিয়ে আসার জন্য তাঁদের অবদান অসীম । সঙ্গে প্রশংসা করতে হবে স্বেচ্ছাসেবী সংঘটন পাটকাই ট্রেকার্সের। ৭৫তম স্বাধীনতা দিবসের পুন্য লগ্নে আমরা সরকারের কাছে এটাই দাবি রাখি, খুব শীঘ্রই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পর্যটনমন্ত্রীর হাত ধরে মালেগড়ে গড়ে উঠুক পর্যটন কেন্দ্র। যদি মালেগড়ের পাশে সীমান্ত চুক্তি মতে আন্তর্জাতিক হাট গড়ে উঠে তাহলে দিন দিন এতে বাড়বে পর্যটকের সংখ্যা। তাতে সরকারের রাজস্ব বাড়বে আর অর্থনৈতিক দিক দিয়ে উন্নত হবে সীমান্ত এলাকা । সেইসঙ্গে এই গৌরবময় অধ্যায়ের কথা জানবে গোটা দেশ ও বিশ্ব। গৌরবান্বিত হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও।

যখন পরবে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে : রবীন্দ্র স্মরণে ২২ শে শ্রাবণ


"মরণ রে, তুঁহুঁ মম শ্যামসমান", ভানুসিংহের পদাবলীতে মৃত্যুকে একপ্রকার আহ্বান করেই লিখেছিলেন কবি৷ নৈবেদ্য কাব্যগ্রন্থের ‘মৃত্যু’ কবিতায় তিনিই বলেন- “মৃত্যু অজ্ঞাত মোর, আজি তার তরে… মৃত্যুকে আমি ভালো বাসিব নিশ্চয়।”
আজ ২২শে শ্রাবণ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮২তম প্রয়াণ দিবস। মহাকালের চেনাপথ ধরে প্রতিবছর বাইশে শ্রাবণ আসে। এই বাইশে শ্রাবণ বিশ্বব্যাপী রবী ভক্তদের কাছে একটি শূন্য দিন। বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে যার অফুরন্ত অবদান সেই কবিগুরু ভক্তদের যেদিন না-ফেরার দেশে যাত্রা করেন সেদিন শোকার্ত বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে লিখেছিলেন- 'দুপুরের রবি পড়িয়াছে ঢলে অস্তপারে কোলে/বাংলার কবি শ্যাম বাংলার হৃদয়ের ছবি তুমি চলে যাবে বলে/শ্রাবণের মেঘ ছুটে এলো দলে দলে।

রবীন্দ্রনাথ বর্ষা নিয়ে, আষাঢ়-শ্রাবণ নিয়ে লিখেছেন। তাতে ধরা পড়ে শ্রাবণ-বর্ষণের বহুমাত্রিক রূপ। তবে শ্রাবণের দিকেই কবির নজর ছিল বেশি।
'আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে/দুয়ার কাঁপে ক্ষণে ক্ষণে'
শ্রাবণ-বর্ষণে তিনি যেন পেয়েছিলেন মুক্তির ডাক।

পৃথিবী ছেড়ে না-ফেরার দেশে চলে গেলেও অসামান্য রচনা ও সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে আজো বেঁচে আছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি এখনো দুই বাংলার মানুষের প্রেরণার এক অন্তহীন উৎস। কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করা রবীন্দ্রনাথের হাত ধরে বাঙালির সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিশ্বজনীন হয়ে ওঠে। ১৯১৩ সালে প্রথম বাঙালি এবং এশীয় হিসেবে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।

কবিতা দিয়ে সাহিত্যচর্চার শুরু এবং শেষ হলেও তার হাতেই বাংলা ভাষায় প্রথম সার্থক ছোট গল্পের সৃষ্টি হয়েছে। তিনিই আবার বাংলা উপন্যাসকে আধুনিক রূপ দেন। শুধু সৃজনশীল সাহিত্য রচনা নয়, অর্থনীতি, সমাজ, রাষ্ট্র নিয়ে তার ভাবনাও তাকে সম্মানের আসনে পৌছে দিয়েছে। মানুষের মুক্তির দর্শন ছিল তার চেতনা জুড়ে। রবীন্দ্রনাথই একমাত্র কবি যিনি দুটি দেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা।

বাংলা সাহিত্যের এমন কোন শাখা নেই যেখানে রবীন্দ্রনাথের অবাধ বিচরণ নেই। রবীন্দ্রনাথের দর্শন তত্ত্ব ছিল সীমার মধ্যে অসীম। তাঁর কাব্যের বহুস্থলেই দর্শনের কিছু কিছু তত্ত্বকথা ছড়িয়ে আছে। রবীন্দ্রনাথের ‘ধর্ম’, ‘মানুষের ধর্ম’,—এই দুই গ্রন্থে, ‘শান্তিনিকেতন’ নামক গ্রন্থের বক্তৃতাবলীতে, আত্মপরিচয়ে এবং “দি রিলিজিয়ান অফ ম্যান’ নামক গ্রন্থে মূলত দার্শনিক আলােচনাই চোখে পড়ে। তাঁর কাব্যগ্রন্থ,নাটক এগুলোতেও যে কবিগুরুর দর্শন তত্ত্ব ফুটে উঠেছে তা দেখা যায়। তাইতো কবিতায় লিখেছিলেন ‘এ চির জীবন তাই, আর কোন কাজ নাই রচি শুধু, অসীমের সীমা / আশা দিয়ে ভাষা দিয়ে, তাহে ভালোবাসা দিয়ে গড়ে তুলি মানসী প্রতিমা’! আবার বলছেন ‘সীমার মাঝে অসীম তুমি বাজাও আপন সুর’!

জীবনের শেষ নববর্ষে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন তার সাধের শান্তিনিকেতনে। সেদিন রচনা করেছেন ‘সভ্যতার সংকট’ নামের অমূল্য লেখাটি। আর তারও ক’দিন পর ১৯৪১ সালেরই ১৩ মে লিখে রাখলেন, রোগশয্যায় শুয়েই ‘আমারই জন্মদিন মাঝে আমি হারা’। শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের শেষ দিনগুলোতে কখনও তিনি শয্যাশায়ী, কখনও মন্দের ভাল। শেষের দিকে ১৯৪১ সালের ২৫ জুলাই, শান্তিনিকেতনের আশ্রমে ছেলেমেয়েদের ভোরের সঙ্গীত অর্ঘ তিনি গ্রহণ করেন তার উদয়ন গৃহের পূর্ব দিকের জানলার কাছে বসে। উদয়নের প্রবেশদ্বার হতে ছেলেমেয়েরা গেয়ে উঠেন কবিরই লেখা ‘এদিন আজি কোন ঘরে গো খুলে দিল দ্বার, আজি প্রাতে সূর্য ওঠা সফল হল কার।

তারপর একদিন এই শ্রাবণেই তিনি চলে গেছেন সবাইকে কাঁদিয়ে। অবশ্য কবিগুরু তাঁর কর্মে আমাদের মাঝে বর্তমান আছেন, থাকবেন চিরদিনই। মানবজীবনে জন্ম যেমন সত্য--মৃত্যুও অনিবার্য সত্য। তাঁর সৃষ্টি মৃত্যুহীন হলেও তিনি শারীরিক দিক থেকে আমাদের মাঝে নেই এটা মানিয়ে নেয়া খুব কষ্ট--এটাই প্রকৃতিগত অমোঘ সত্য। মৃত্যু রয়েছে বলেই আমাদের বেঁচে থাকাটা এত সুন্দর, এত প্রিয়, এত সার্থক। আজ তাঁর প্রয়াণ দিবসে রইল শ্রদ্ধার্ঘ্য...

আজাদী কা অমৃত মহোৎসব


"কত বিপ্লবি বন্ধুর রক্তে রাঙা, বন্দিশালার ওই শিকল ভাঙা..." - স্বাধীনতা দিবস প্রকৃত অর্থে ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের একটি জাতীয় দিবস। আমরা ভারতীয় নাগরিক। বিশ্বের কোথাও বা যে দেশেই থাকি না কেন, আমরা নিজেদেরকে ভারতীয় হিসাবে পরিচয় দিয়ে থাকি, ভারতীয় বলে গর্ববোধ করি।ছোটবেলার স্বাধীনতা দিবস আসলেই নস্টালজিক ব্যাপার। সকালে স্নান সেরে বাঁশের কাঠিতে কাগজে রং করা পতাকা গম দিয়ে লাগিয়ে স্কুলে যাওয়া। সহপাঠীদের সঙ্গে জাতীয় সংগীত গাওয়া, খেলাধুলা করা ইত্যাদি ইত্যাদি। বড় হওয়ার সাথে সাথে এর মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব আরও বাড়তে থাকে। আসলে স্বাধীনতা নিজের মধ্যে অনুভব করা।

এবারের স্বাধীনতা দিবসের মূল আকর্ষণীয় বিষয় হল 'হর ঘর তিরঙ্গা '। দেশজুড়ে চলছে 'হর ঘর তেরঙ্গা' ক্যাম্পেন ৷ স্বাধীনতার ৭৫ বছর উদযাপনে 'আজাদি কা অমৃত মহোৎসব'-এর অঙ্গ হিসেবে প্রত্যেক নাগরিক তাঁর বাড়িতে তেরঙা উত্তোলন করবে ৷ ১৫ অগস্টের আগে ২০ কোটিরও বেশি বাড়িতে জাতীয় পতাকার দেখা মিলবে বলে মনে করা হচ্ছে ৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রোফাইলের ছবিতে তিন রঙা পতাকার (Har Ghar Tiranga) ছবি দিয়েছেন ৷ জনসাধারণকেও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে এই ছবি শেয়ার করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি (All about Har Ghar Tiranga campaign) ৷

পতাকা উত্তোলন সংক্রান্ত 'দ্য ফ্ল্যাগ কোড অফ ইন্ডিয়া, ২০০২' (The Flag Code of India 2002) ও প্রকাশ করা হয়েছে ৷ এখানে পতাকার ব্যবহার, সাজানো এবং উত্তোলন সংক্রান্ত যাবতীয় নির্দেশিকা দেওয়া আছে ৷ এই পতাকা উত্তোলন আসলে দেশ গড়ায় প্রত্যেক নাগরিকের অবদানের একটা প্রতীক ৷

আর হাতে গোনা কদিন পর স্বাধীনতা দিবস। ২০০ বছরের ব্রিটিশ দমন-পীড়ন সত্ত্বেও ১৯৪৭ সালে হাজার হাজার ভারতীয়দের আত্মত্যাগের ফল স্বাধীনতা দিবস। স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন দেখতে অনেকেই সবকিছু ছেড়ে দিয়েছিলেন। এই আত্মত্যাগের কারণেই এই শুভ উপলক্ষে নীল আকাশে ভারতের জাতীয় পতাকা উড়ে। ভারতের স্বাধীনতা লাভের মাত্র তিন বছর পর ১৯৫০ সালে ভারতের সংবিধান প্রস্তাব করা হয়েছিল। আমরা সবাই জানি যে স্বাধীনতার আগে ভারতের জাতীয় পতাকা এবং স্বাধীনতার পরের ভারতের জাতীয় পতাকার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, সেটি হল অশোক স্তম্ভ।

 ৭৫ বছর আগে, আমাদের সংবিধান জাতীয় পতাকার প্রতিটি অংশকে বর্ণনা করেছে। প্রতিটি ধারার দ্বারা সংবিধানের প্রতিফলিত বিষয়গুলি বিশদভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে আজও সংবিধান নিয়ে আলোচনা ও অধ্যয়নে সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন আগ্রহ নেই। সংবিধান, ভারতের একতা ও সার্বভৌমত্বের ঢাল, ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা উচ্চ স্তরের কোর্স ছাড়া খুব কমই দেখা যায় এবং খুব কমই আলোচনা করা হয়। অতএব, স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরে, অনেক ভারতীয় এখনও ভারতের সংবিধানের চেতনা জানেন না।

সংবিধানের প্রতিটি অনুচ্ছেদ ভারতের জনগণের পক্ষে কী বলছে তা নিয়ে পুরো বিষয়টি থেকে অনেকেই দূরে রয়েছেন। আগে, স্বাধীনতা দিবস বা প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের সময় সংবিধানের তাৎপর্য সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে অবহিত করা একটি ঐতিহ্য ছিল। তবে বর্তমানে রাজনৈতিক নেতাদের মূল্যবান সময় বাঁচাতে শুধু পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমেই অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত রাখা হয়। ফলে সংবিধানের প্রকৃত ধারণা থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হয়েছে।

 আক্ষরিক অর্থে, ভারত আজ একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সবাই বলে গণতন্ত্রে জনগণই রাজা। কিন্তু এটা কি সত্যিই হয়? 'বাক স্বাধীনতা' দেশের সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকদের মৌলিক অধিকার।
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না যে রাজনীতির তাড়নায় সংবিধানের চেতনায় কোথায় আঘাত করা হয়েছে। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং ভারতের এই ধর্মনিরপেক্ষতা সংবিধান দ্বারা আবদ্ধ। তবে সাধারণ জনগণও এই সংবিধানের প্রাথমিক জ্ঞান থেকে বঞ্চিত।

ভারতের সংবিধানও প্রত্যেক ভারতীয়কে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ প্রদান করে। কিন্তু অনেকেরই ধারণা আজ ভারত শুধু নামেই ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে আছে। এখন কথা হলো আমরা নিশ্চয় দেখতে পাবো ভারত ধর্মনিরপেক্ষতার দিকে কতটা এগিয়ে যাচ্ছে। বেশিরভাগ মানুষ জানেন কেন জাতীয় পতাকার তিনটি রঙ রয়েছে বা তিনটি রঙ কী প্রতিনিধিত্ব করে তবে জাতীয় পতাকার অশোক স্তম্ভ কী এবং অশোক স্তম্ভের মাঝখানের বারগুলি কী প্রতিনিধিত্ব করে সে সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। যারা প্রায়ই বিভ্রান্ত হয়। এমন অনেক লোকের উদাহরণ রয়েছে যারা কখনও কখনও অশোক স্তম্ভের ২৪ টি স্তম্ভকে ভাষার প্রতিনিধিত্বকারী হিসাবে ভুলভাবে উপস্থাপন করে এবং দর্শকদের ভুলভাবে উপস্থাপন করে। অতএব, তরুণ প্রজন্মের জানা উচিত ভারতের জাতীয় পতাকা ও অশোক চক্রের বারগুলি আসলে কী কাজে ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি শাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বহন করে।

 জাতীয় পতাকা গেরুয়া,সাদা ও সবুজ এই তিন রং এ তৈরি। উপরের গেরুয়া রং ত্যাগ, দেশপ্রেম ও সাহসের প্রতীক। মধ্যে সাদা রং সত্য ও শান্তির প্রতীক। নীচের সবুজ রং কৃষিকাজ ও অগ্রগতির প্রতীক। শোক চক্রের ২৪টি দণ্ডের অর্থ প্রেম, সাহস, ধৈর্য, ​​শান্তি, মহত্ত্ব, কল্যাণ, বিশ্বাস, উদারতা, নিঃস্বার্থতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, আত্মত্যাগ, সত্য, পবিত্রতা, ন্যায়বিচার, করুণা, সৌন্দর্য এবং নম্রতা, সহানুভূতি, সহানুভূতি, ধর্মীয় জ্ঞান, মূল্যবোধ, ঐশ্বরিক জ্ঞান, ঈশ্বরের ভয় এবং আশা। 

টমাস জেফারসনের ভাষায় বলতে গেলে, “মানুষের সমঅধিকার, এবং প্রতিটি ব্যক্তির সুখের অধিকার, এখন স্বীকৃত।” প্রত্যেক ভারতীয়কে আমাদের জাতীয় পতাকা সম্পর্কে, সংবিধান সম্পর্কে জানতে হবে।এই দিনটি কেবল একটি আচার-অনুষ্ঠান হওয়া উচিত নয়, আমাদের এইসকল দেশবাসীর কথা ভাবা উচিত যারা এখনও দারিদ্র্য, ক্ষুধা এবং দাসত্ব থেকে মুক্ত নয়। স্বাধীনতা প্রত্যেক ভারতীয়র জন্য আনন্দ নিয়ে এসেছে। ৭৫তম স্বাধীনতা দিবসের রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

চরমপন্থী মৌলবাদ এবং আসন্ন বিপদ


এটি একটি সুস্পষ্ট সত্য এবং বর্তমান এবং অতীতেও বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে কোনও কিছুর চরমপন্থী মৌলবাদ কীভাবে একটি দেশের জন্য হয়ে ওঠে অত্যন্ত মারাত্মক।  শ্রীলঙ্কা এখন দেউলিয়া।  পাকিস্তান ও নেপাল এবং মিয়ানমার দেউলিয়া হওয়ার কাতারে রয়েছে।  এখন প্রসঙ্গ ভারত।

 ভারতীয় অর্থনীতি ছিল এবং এখনও কোনো না কোনোভাবে সমাজতান্ত্রিক এবং পুঁজিবাদীর মধ্যে একটি মিশ্র অর্থনীতি।  কিন্তু যে প্রবণতা আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি এবং অনুভব করছি তা পুঁজিবাদের দিকেই আগ্রাসীত।  এভাবে একটা প্লুটোক্রেটিক সরকার চলছে। কিন্তু কেন?  কারণ আদানি, আম্বানির মতো শিল্পপতি এবং ব্যবসায়িক আইকন এবং আরও অনেকে কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করা দলটিকে প্রচার করছেন।  কিন্তু কিভাবে?

 দেখুন নির্বাচনে তারা মানে পুঁজিপতিরা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর সেই টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে দলের প্রচারের জন্য কোটি কোটি টাকা দিয়েছে।  প্রকৃতপক্ষে সব নিয়মিত সবচেয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য তাদের হাইকিং মূল্য উত্থাপন.  এমনকি তেল এবং গ্যাসও।  ভারতের মতো বিশাল গণতন্ত্রে এভাবে মানুষ প্রতিনিয়ত দরিদ্র থেকে দরিদ্র হচ্ছে।  তাদের কেনার ক্ষমতা তাদের আয়ের বাইরে চলে যাচ্ছে।

  কিন্তু আদানি এবং আম্বানি আরও ধনী এবং ধনী হয়ে আসছে।  এটা গণতন্ত্রের ভালো লক্ষণ নয়।  এটি সাধারণ জনগণের লুট ও দমন।  এটা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীর চেয়ে কম বাজে কাজ নয়।  সাধারণ মানুষ দেউলিয়া ও ভিক্ষুক হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।  কেন্দ্র এবং রাজ্যের যে কোনও জায়গায় সরকার দেখায় যে তারা ভর্তুকি দিয়ে এবং স্কিম তৈরি করে অর্থ এবং অন্যান্য জিনিস এবং সুযোগ-সুবিধা দিয়ে মানুষকে উদ্ধার করছে।  এটি একদিকে জুতা দ্বারা প্রহার করা আর এবং তারপর একটি কপালে একটা চুমু দিয়ে সব আবদার শেষ।

 দেখুন ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার রাজাপক্ষ তামিলদের গণহত্যার মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন।  এটাকে বলা হয় চরমপন্থী মৌলবাদ যদিও চরমপন্থী তামিলদের দ্বারা এলটিটিই গঠিত হয়েছিল, আমরা তা জানি।  কিন্তু শ্রীলঙ্কার সাধারণ ও গরিব মানুষ এবং তামিল নাগরিকরা, তাদের ভুল কি ছিল??  ১৯৪০-এর দশকে হিটলার এবং নাৎসিদের হাতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কীভাবে ইহুদিদের বন্দী শিবিরে গণহত্যা করা হয়েছিল।  সাম্প্রতিক অতীতে মিয়ানমার কীভাবে রোহিঙ্গাদের ধ্বংস করেছে!  পাকিস্তান কিভাবে একধরনের ধর্মপ্রাণ মানুষের আবাসভূমিতে পরিণত হচ্ছে!  আফগানিস্তানের দিকে তাকান!  ভারত যদি তার বহুসাংস্কৃতিক অবস্থানের দ্বারা বৈচিত্র্যের মধ্যে তার ঐক্যকে স্বীকৃতি না দেয় তাহলে যা থেকে বিরাজ করছে
 দীর্ঘ অতীত তারপর বিপদ অপেক্ষা করছে পথে।    বিপদ,কোন সম্পর্কে?

 বিপদ হল আপনি কাকে এবং কোন ধরণের মানুষকে ঘৃণা করছেন এবং বিভক্ত করছেন এবং দমন করছেন, একদিন তারা আপনাকে সন্ত্রাসী আকারে নির্যাতিত করবে।  শুধু তাই নয়, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমের বাকি বিশ্বও মানবিক প্রশ্নে আপনার বিরুদ্ধে যাবে এবং তা ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থঋণ ও অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিরাট ক্ষতি হবে।

 দেখার কথা শ্রীলঙ্কাকে ঋণ দিয়ে চীন অক্টোপাসের মতো বন্দী করেছিল কিন্তু তারা তাদের দক্ষিণ অংশের সমুদ্রবন্দর ৯৯ বছরের লিজ দিয়ে দখল করেছে কারণ শ্রীলঙ্কা চীনকে অর্থ ফেরত দিতে পারে না।  পাকিস্তান এবং নেপাল এবং মিয়ানমার তাদের একই রাষ্ট্র।  সেসব দেশে উন্নয়নের নামে চীন সাম্রাজ্যিক শক্তি হিসেবে উঠে আসে যা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র করেছে এবং চীনকে হয়তো পথ দেখিয়েছে।

 তাই নতুন বোতলে পুরনো মদ।  নীরব মোদী, মেহুল চোকশি, বিজয় মালিয়ার মতো সুপার লোনার এবং ব্যাঙ্ক ধ্বংসকারীদের থামাতে পারবে না মোদি সরকার।  ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা ও সাধারণ মানুষের সেই টাকা চুরি হয়েছে।  তাই চোর চলছে উভয় ভাবেই...আদানীরা বৈধ পথে আর মালিয়া অবৈধ পথে।  তাহলে টাকা কোথায়?  কেন... তারা বিদেশী ব্যাংকে জমা করছে।  মহান ভারত লুট করেছে মহান 'অভিজাতদের' দ্বারা।

ডাকাতরা সর্বব্যাপী।  সর্বত্র তারা সর্বোচ্চতায় রাজত্ব করছে।  আজকের বাংলায় কীভাবে লুটপাট করলেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী?  আমরা সব জানি.  তরুণ শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থীরা কীভাবে পালাচ্ছে?  কিভাবে স্কুল শিক্ষার বৈধ প্রার্থীরা ভিখারিতে রূপান্তরিত হয়??  দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী কীভাবে অবৈধ চাকরি প্রার্থীদের লুটপাট করে কোটি কোটি টাকা জমিয়েছেন.. আমরা সব জানি।

 সবশেষে আমি বলতে চাই যে ভারতের উচিত তার চরমপন্থাকে সব উদ্বেগের মধ্যে পরিত্যাগ করা।  যদি এটি ফ্যাসিবাদী হিসাবে বেরিয়ে আসে তবে ভারতের সমস্ত মানুষ সংসদীয় পদ্ধতির মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত বিচার করবে। বেনিটো মুসোলিনির কোন ছাপ এই দেশে নিশ্চয় পড়তে দেবে না।

Thursday, July 28, 2022

প্রগতিশীল চিন্তাধারার জাফর পানাহি


এক বিশাল সাহসীকতা দেখিয়েছিলেন। আর দেখাবেন না বা ই কেন। কেকের মধ্যে গোপনীয় ভাবে মেমোরি চিপে ছবিটি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন সেই কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। আর সেদিনের ফেস্টিভ্যাল প্রেক্ষাগৃহ মুভিটি দেখার পর তুমুল হাততালিতে কেঁপে উঠেছিল। লোকটা যেই সেই তো আর না। জাফর পানাহি বলে কথা। গৃহবন্দি থাকাবস্থায় এক আশ্চর্য চলচ্চিত্র উপহার দিলেন, 'দিস ইজ নট এ ফিল্ম'।সমস্ত বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন। সরকার যাতে কোন ভাবেই টের পায় না তা কিভাবে চলচ্চিত্র বানানো যায় বোধহয় বিশ্বে জাফর পানাহির মতো তেমন কেউ দেখাতে পারেননি।

আজ আমরা দেখতে পাই সমস্ত বিশ্বজুড়ে এক অদ্ভুত কণ্ঠরোধের চেষ্টা। ভীষণ দম বন্ধ পরিস্থিতে আমরা জীবন কাটাচ্ছি।যে বা যারাই শক্তির বিরুদ্ধে সংলাপ আওড়াবেন তাতে কবি, সাংবাদিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা, দার্শনিক যেকেহই হোন না কেন তাঁরই টুঁটি চেপে ধরা হবে। এটাই এখন একটা ট্রেন্ড। শক্তি প্রয়োগের মাধ্যম। সেই একই ধারায় আবারও গ্রেফতার করা হল চলচ্চিত্র নির্মাতা জাফর পানাহি কে। এটা কোন নতুন সংস্করণ নয়। 

এ খেলা এর আগেও হয়েছে, আগেও একাধিকবার ওনার ক্যামেরার লেন্স ঢেকে দেওয়া হয়েছে।আগেও বহুবার ওনার কলম ভেঙে কালি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগেও জেলের ভাত উনি খেয়েছেন - আর এ সবকিছুর পেছনে ওনার দোষ কী? উনি সিনেমা তৈরি করেন।তার অপরাধ freedom of expression এ বিশ্বাস বা He believes his duty to tell the tales করেন বলে! তিনি তো সত্য ঘটনা বলতে ভালোবাসেন, আয়না ধরতে ভালোবাসেন। আর রাষ্ট্র নিজের ছবি দেখতে পছন্দ করে না, রাষ্ট্রশক্তি তার কুৎসিত চেহারা সম্পর্কে খুব ভালোভাবেই ওয়াকিবহাল। তাই ওরা এই আয়না ভেঙে দিতে চায়। কিন্তু কি নির্মম পরিহাস, আয়নাকে ভেঙে হাজার টুকরো করলেও, প্রতিটি টুকরো নিছক কাঁচ না হয়ে নিজেরা এক একটা আয়না হয়ে যায়, আহ্। ঠিক একইভাবে জাফর পানাহি আর কোন মানুষ নন, তিনি একটা চিন্তাতে পরিনত হয়েছেন।একটা মুক্ত চিন্তাধারা যা সত্যি বলতে শেখায়, যা পুরোনোকে ভেঙে নতুনকে স্বাগত জানাতে শেখায়। তবে এর সাথে আর একজনের নাম এসে পড়ে তুরস্কের পরিচালক ইলমাজ গুণের কথাও।

জাফর পানানহি নামক মানুষটিকে জেলে ভরলেও আজ তাঁর সিনেমাগুলো আমাদের মতো হাজারো মানুষকে শিক্ষিত করেছে। যে মানুষ গৃহবন্দী অবস্থাতেও সিনেমা বানানোর মতো দুঃসাহসিক খেলায় মত্ত। যিনি জেলের ছোট্ট সেল থেকে বেরিয়েও নিজেকে এক বৃহৎ জেলে অনুভব করেন, তাঁকে কি আর জেলের ভয় দেখিয়ে কোন লাভ আছে? এই মানুষটা কখন যে সিনেমা বানাতে গিয়ে নিজেই একটা আস্ত সিনেমা হয়ে গেছেন, তা নিজেও জানেন না।

২০০৬ সালের ইরানের সামাজিক অবস্থানকে ও ধর্মীয় গোড়ামিকে এক এক করে আঙ্গুল দেখাতে সক্ষম ছিলেন এই উদারপন্থী শিল্পী। নিজ কন্যা ও ১৫ জন বন্ধু সহ গ্রেফতার হয়েছিলেন ২০১০ সালে। বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলো তার পাশে দাঁড়িয়েছিল। মুক্তও হয়েছিলেন কিন্তু থাকতে হলো গৃহবন্দি হয়ে। যে মানুষটা জগতসভায় বার বার অসামান্য চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন।একাধিকবার চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ এবং সম্মানিত পুরষ্কার ছিনিয়ে নিয়ে ইরানের মতো একটি দেশকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছেন তাঁকে গ্রেফতার, গৃহবন্দি, নজরবন্দি ইরানের মতো মৌলবাদীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত সরকারের পক্ষেই বোধহয় সম্ভব!

জাফর পানাহি তার অধিকাংশ সময় জেলে কাটিয়েও উপহার দিয়েছেন আশ্চর্য কিছু চলচ্চিত্র। আমার দেখা তার কিছু মুভি নিয়ে আলোচনা করা যাক। 'দা ওয়াল' যাঁরা দেখেছেন, অনুমান করতে পারবেন কি অসামান্য ছবি। 
তারপর 'ট্যাক্সি'। বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে সর্বোচ্চ পুরষ্কার জিতে নেয় 'ট্যাক্সি'। ট্যাক্সি ছবি পুরোটাই স্যুটিং হয়েছে গোপন ক্যামেরায়। পানাহি নিজে ট্যাক্সি ড্রাইভারের ভূমিকায়। পথে বিভিন্ন প্যাসেঞ্জার উঠেছে তাঁর ট্যাক্সিতে। প্যাসেঞ্জারদের সঙ্গে কথপোকথন থেকে বেরিয়ে এসেছে মারাত্মক সামজিক অবস্থান। এ নিয়েই ছিল এই মুভি।দেশের বাইরে যাওয়ার অনুমতি ছিলনা তাই পানাহি নিজ হাতে সর্বোচ্চ পুরষ্কারটি গ্রহণ করতে বার্লিন যেতে পারেননি। পিতার হয়ে কন্যা পুরষ্কারটি গ্রহণ করেছিলেন।
 
দ্য মিররের সেই চকলেটি বাচ্চা মেয়েটি। যার মুখ আর কথা শুনলে মনটা একদম ভরে যায়। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরবে, অথচ কেউ তাকে সেদিন নিতে আসেনি। একে একে সবাই বাড়ি চলে গেলেও বাচ্চা মেয়েটি একা বসে রয়। টেলিফোন বুথ থেকে বাড়িতে ফোন করতে পারছেনা, উঁচুতে রাখা টেলিফোন তার মতো বাচ্চার নাগালের বাইরে। শেষে একাই বেরিয়ে পড়ল রাস্তায়।জিজ্ঞেস করতে করতে ফিরছে বাড়ি। আর তার চোখদুটো দেখছে সম্মুখের নানান ধরণের মানুষের কালচার। এক অসামান্য ছবি। যেমন অসামান্য 'দ্য হোয়াইট বেলুন'। ঐ বাচ্চা মেয়েটিই অভিনয় করেছে। অফসাইডের কথা যদি বলতে হয় তো পানাহি অসাধারণ কাজ করেছেন। একদিকে ইরানের একটি মেয়ে লুকিয়ে , ছেলেদের পোশাক পরে , মাথা নিচু করে পুরুষদের ফুটবল খেলা দেখতে যাচ্ছে । মুখে চোখে যেন এক শববাহী যন্ত্রনা ! উচ্ছাসহীন স্তব্ধতা। মেয়েটি বিশ্বকাপের উপচে পড়া আনন্দকে সামান্যও স্পর্শ করতে পারছে না । কারণ তার একটাই চিন্তা সিকিউরিটিকে এড়িয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকতে পারবো তো ?পুরুষতান্ত্রিক নিয়মের প্রাচীর ভেদ করে মেয়েদের দেশপ্রেমকে দেখতেই পারলো না পুরুষের চোখগুলো । ক্রিমশন গোল্ড, দ্য সার্কাল প্রতিটি ছবির চিত্রণ যেমন আলাদা তেমন সামাজিক অবস্থানকে মারাত্মকভাবে তুলে ধরার এক অনন্য নজির। চোখে ভাসে পানাহির প্রতিটি ছবি।

জাফর পানাহির গ্রেপ্তার আসলে একটি উন্মুক্ত আকাশকে বেড়ি পড়ানো।এখন দেখার পালা, খোলা আকাশকে কতদিন আটকে রাখা যায় ? আশার কথা গত ১১জুলাই তাঁর গ্রেফতারের পর কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল কমিটি ইরানিয়ান সরকারের কাছে মুক্তির আবেদন করেছে। দমন করে কোনও প্রতিভা আটকানো যায়না যার প্রমাণ জাফর পানাহি। আমি জানি আমার মতো দুর্বলের বার্তা কোথাও পৌঁছোবে না তবু ব্যক্তিগতভাবে তাঁর মুক্তির তীব্র দাবি জানাচ্ছি। 

প্রবুদ্ধসুন্দর কর : কবিতা ভাবনা ও স্মৃতিভূত সৃষ্টি


জীবন নিয়ে খাঁচার ভিতর অচিন পাখি জড়িয়ে রাত-প্রভাতের মত কর্মব্যস্ততার অবধারিত ঘুর্ণনে জীবন চিত্রের বদল ঘটে হরেক দিন, এটাই মানব জীবন। চৈত্র-বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের প্রাক্‌পর্ব পর্যন্তও স্বাভাবিক থাকে জীবনাচরণ কোনো কোনো সময় মানুষের, জীব-জন্তু বা পশু- পাখির। চৈত্রের কালবৈশাখী, আষাঢ়ের বাধভাঙা জলেচ্ছ্বাস যেমন ছিন্নভিন্ন করে দেয় প্রকৃতির সাজানো সংসার, তেমনি মানবসভ্যতা ও সতর্কতার তরীকে জীবন নদীস্রোতের বিপরীতে নিয়ে এড়িয়ে চলে বিপদের লাল-সঙ্কেত কাটানো প্রহর।

প্রকৃতিই কখনও আপন খেয়ালে নিজের উল্লাসে মেতে ওঠে, ঝড় হয়ে দেখা দেয় প্রাণধারীর আয়ুতে, আবার প্রকৃতিই কখনও চোখের জলে ভাসিয়ে দেয় স্থল— চরভূমি জলের গভীরতা বাড়াতে। অর্থাৎ প্রকৃতিই প্রকৃতির ওপর— নিজের মনে ও শরীরে চালায় শাসন। অধিকার, হুকুম বা কখনও চূড়ান্ত ঘোষণা; যার ফলে প্রকৃতির সন্তানেরা প্রকৃতিরই লীলায় জীবনের সিসিফাসের ভূমিকায় নানান অবস্থাবৈচিত্র্যের পাথর ঠেলে যায়।কালের আপন খেয়ালে এভাবেই তো মহাবিশ্ব তার গতিব্যস্ততা নিয়ে নিজের কর্তব্য পালন করে।

উত্তর পূর্ব ভারতের বাংলা কবিতার জগতে কবি প্রবুদ্ধসুন্দর করকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার কিছু নেই, আমার সে দুঃসাহসও নেই। আমি একজন মুগ্ধ পাঠক হিসেবে তার কবিতার প্রতি আমার ভালোবাসা ব্যক্ত করছি মাত্র। গত শতাব্দীর নয়ের দশকে লিখতে এসেছিলেন প্রবুদ্ধসুন্দর কর। তার কবিতায় দেখা যায় মনের গভীরতম স্তরে সুখ, শান্তি ও স্থিতির উপরে অন্য কিছুকে মূল্য দিয়ে থাকে।আমরা যেখানে চাই কোনো-এক পরম ও নামহীন সুখ, কোনো-এক চরম নামহীন দুঃখ; এবং যা আমরা জীবনে পাই না, কিংবা যা চাইবার সাহস হয় না আমাদের সেইসব অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাই জীবনের বাইরে খুঁজে বেড়াই। তাঁর জীবন ছিলো একজন বিশুদ্ধ কবির জীবন; যিনি সাহিত্যকে একধরনের ব্রত হিসেবে, নিজের ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। কবিতার মধ্যে দিয়েই তিনি নিজের আত্মসচেতনতার বোধকে নিরন্তর খুঁজে চলেছিলেন - এটাই প্রবুদ্ধসুন্দর করের স্বধর্ম।

কবি তাঁর কবিতায় বলেছেন - গানের ভেতর তোমার প্রশ্বাস স্পষ্ট শোনা যায়/মৃদু, তবু তীব্র এই শ্বাস ছাড়া যেন/সমূহ অন্তরা আজ নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। তিনি সেইসঙ্গে এইটিও বুঝতে পেরেছিলেন যে, নিজের চৈতন্যের দ্বারা সবসময় নিজেকে পরিচালনা করা— মানুষের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কবির ভাঁড় কবিতায় 'জন্মনিরোধক আর বেবিফুড কিনে বাড়ী ফেরে/সেইসব সংখ্যালঘু অর্দ্ধদগ্ধ ভাঁড়/তাদের গোপন আড্ডা থেকে আমাকেও চিঠি দেয়/তীব্র হাহাকার আর গোঙানি মেশানো -- জীবনকে কবিতার সঙ্গে, কবিতাকে জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে চেয়েছিলেন তিনি। কোনো কিছুকেই বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং সমগ্রতার মধ্য দিয়ে সামঞ্জস্য নির্মাণের চেষ্টা করে গিয়েছেন তিনি।

একজন কবিকে প্রতিকূল পরিবেশে যা সবসময় সহায়তা করে, সেইটি হচ্ছে তার নিজস্ব একাকিত্বের বোধ। রিলকে গভীরভাবেই বিশ্বাস করতেন যে শিল্প সবসময়ই এই অন্তহীন এককিত্বের ফসল। একমাত্র ভালোবাসা, আন্তরিকতাই পারে তাকে কোনো-নাকোনোভাবে স্পর্শ করতে। এই বিশ্বাস থেকেই রিলকের মতো কবি বলতে পারেন,জঙ্গলের ভেতর কোথাও এক পরিত্যক্ত রেডিও স্টেশন/কোনো একদিন খুঁজে পেলে জেনো, স্তব্ধতাই এর সিগনেচার টিউন'।

কবি প্রধানত নতুন সমাজের একজন অভিনব প্রেক্ষক।নিজের নিজের জীবনের অনুভূত প্রকৃতিকেও সমাজের মতোই কবিতার বাঁধনে ঢেলে পরিবেশন করেন। প্রতি কবির সৌন্দর্যবোধ আলাদা। কবি প্রবুদ্ধসুন্দর করের যে সৌন্দর্যচেতনা কবিতায় উদ্ভিন্ন তা-ই বাস্তবের বিশিষ্ট সন্ধান। কবির ভাষায়— “ প্রেমিক ও তোমার মাঝখানে নড়বড়ে সাঁকো পার হতে গিয়ে বুঝেছিল কবি,কাকে বলে ছায়াপ্রতারণা। স্থির জলে প্রেমিকের ছায়া, মুখে মাংসখন্ড, দেখে কবি কেঁপে উঠেছিল। লোকমুখে শোনা যায় নিজের ছায়াকে তার, প্রেমিকের ছায়া ভেবে ভ্রম হয়েছিল।”

গত পঁচিশ বছরে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর সাতটি কবিতার বই। উত্তরপূর্বের তরুণ কবিদের নিয়ে সম্পাদনা করেছেন শ্রেষ্ঠ বাংলা কবিতার সংকলন। যৌথভাবে সম্পাদনা করেছেন উত্তরপূর্বের কবিতা।'বাংলাকবিতা'-র ১০টি সংখ্যার ছিলেন যৌথ সম্পাদকও। অনুবাদ করেছেন ভারতবর্ষের প্রাদেশিক অন্যান্য ভাষার সমকালীন কবিতা। কবি ও তাঁর কবিতার বিশ্লেষণের আর শেষ নাই।পরতে পরতে খুলে যায় তার বিভিন্ন দিক। তবে 'পাহাড়ি রাস্তার বাঁকে পাথরের ফলকের গায়ে স্মরণযোগ্য পঙ্‌ক্তির মতো ইঙ্গিতবহ এ আর্তি' -- এর বুকের ব্যাথাটুকু যে আমাদের প্রতিনিয়ত বিষণ্ণ ও শঙ্কিত করে তুলবে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

Wednesday, July 27, 2022

শুভেচ্ছা দীনেশ গুণবর্ধনে!


এ কি,শ্রমিক নেতা দীনেশ গুণবর্ধনে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী। ধর্মীয় উন্মাদনা ও বৈদেশিক ঋণে নিমজ্জিত দেশকে উদ্ধার করতে সক্ষম হবেন তো!

 দীনেশ গুণবর্ধনে একজন ট্রেড ইউনিয়ন নেতা, যিনি ২২ জুলাই ২০২২ -এ শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৭৩ সালের আগস্টে দীনেশ গুণবর্ধনে বামপন্থী মহাজন একথা পেরামুনা (এমইপি) এর কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিযুক্ত হন। তারপর সাধারণ সম্পাদক হন ১৯৭৪ সালে MEP এর।

 দীনেশ চন্দ্র রূপসিংহে গুণাবর্ধনে (জন্ম ২ মার্চ ১৯৪৯), রয়্যাল প্রাইমারি স্কুল এবং রয়্যাল কলেজ, কলম্বোতে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। এরপর নেদারল্যান্ড স্কুল অফ বিজনেস থেকে উচ্চ শিক্ষা লাভ করেন। আমেরিকার ওরেগন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন। এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধ বিরোধী বিক্ষোভেও অংশগ্রহণ করেন। তারপর ১৯৭২ সালে তার পিতার মৃত্যুর পর কলম্বোতে ফিরে আসেন।

 দীনেশ গুণাবর্ধনের বাবা ফিলিপ গুনাবর্ধনে এবং মা কুসুমা। তার বাবা শ্রীলঙ্কার সমাজতন্ত্রের পিতা হিসাবে পরিচিত। ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ আমলে দেশটির স্বাধীনতার আগে তার বাবা  বামপন্থী সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট মুখ ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় শ্রীলঙ্কা থেকে পালিয়ে এসেছিলেন ভারতে। বাবা ফিলিপ এবং মা কুসুমা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর, তারা সেই সময়ে শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতার জন্য লড়াইরত আন্ডারগ্রাউন্ড অ্যাক্টিভিস্টদের মধ্যে ছিলেন। যাদের দুজনকেই ১৯৪৩ সালে ব্রিটিশ গোয়েন্দারা বন্দী করেছিলেন। সংক্ষিপ্তভাবে তাদের মুম্বাইর আর্থার রোড জেলে রাখা হয়েছিল। এক বছর পরে ফিলিপ এবং তার স্ত্রী কুসুমাকে নিজ দেশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং দুজনই শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতার পরই মুক্তি পান।

১৯৪৮ সালে শ্রীলঙ্কা যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ফিলিপ এবং কুসুমা উভয়েই সংসদ সদস্য হন, ফিলিপ ১৯৫৬ সালে গণবিপ্লব সরকারের একজন প্রতিষ্ঠাতা নেতা এবং ক্যাবিনেট মন্ত্রী ছিলেন।উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ে  ফিলিপ গুনাবর্ধনে, জয়প্রকাশ নারায়ণ এবং ভি কে কৃষ্ণ মেননের সহপাঠী ছিলেন। তিনি আমেরিকান রাজনীতিতে সাম্রাজ্যবাদ থেকে স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন এবং পরে লন্ডনে ভারতের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লীগের নেতৃত্ব দেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে ব্যক্তিগতভাবে জড়িত থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু কলম্বো সফরের সময় ফিলিপের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তার প্রশংসা করেছিলেন এবং পরিবারকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন।

দীনেশ গুণবর্ধনে তার বাবা-মায়ের মতো,  ভারতের সাথে আরও ভাল সম্পর্কের একজন মানবপ্রীতি হিসেবে খুব পোক্ত উদাহরণ। গুণবর্ধনে ১৯৭৭ সালের সাংসদ নির্বাচনে আভিসাভেলাতে এমইপি প্রার্থী ছিলেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। আবার ১৯৮৩ সালের মহারাগামা জেলার উপ-নির্বাচনে জয়ী হন এবং সংসদে প্রবেশ করেন।১৯৮৯ এবং ১৯৯৪ এ সংসদীয় নির্বাচনে MEP প্রার্থীদের মধ্যে একজন ছিলেন। কিন্তু তার দল একটি আসনও জিততে পারেনি। কলম্বো জেলা MEP পিপলস অ্যালায়েন্স (PA) এ যোগদান করে ২০০০ এবং ২০০১ সালে পুনরায় নির্বাচিত হন। ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্স (UPFA) ২০০৪ সালে শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টি (SLFP) এবং জনতা বিমুক্তি পেরামুনা (JVP) দ্বারা গঠিত হয়েছিল, গুনাবর্ধনের দল এতে যোগ দেয়, ২০০৪ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং জিতেছিল, জুন 200৮ সালে প্রধান সরকারি সচেতক হিসেবে নিযুক্ত হন।

বৈবাহিক জীবনে গুণবর্ধনে জীবনসঙ্গী ছিলেন রমানি ভাতসালা কোটলাভেলা। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে, ইয়াদামিনী নামে একজন পুত্র যিনি বর্তমানে সংসদ সদস্য, এবং সাঙ্কপালি নামে একজন কন্যা। রামানি ১৯৮০-এর মাঝামাঝি সময়ে হেপাটাইটিসে মারা যান।

শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি রনিল বিক্রমাসিংহে ইতিমধ্যেই বলেছেন যে তিনি রাষ্ট্রপতির কার্যালয় দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে চান। যদিও দীনেশ গুণাবর্ধন কে প্রধানমন্ত্রী বানানো হয় শ্রীলঙ্কার নিরাপত্তা বাহিনী রাষ্ট্রপতি ভবনের কাছে ক্যাম্পিং করা বিক্ষোভকারীদের তাড়িয়ে দেওয়ার পর। শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে উইং জনতা বিমুক্তি পেরামুনা (জেভিপি) মাত্র তিন ভোটে জয়ী হয়েছে।  সংসদের মোট ২২৫ জন সদস্য রয়েছেন, দুইজন সংসদ সদস্য নির্বাচনে বিরত ছিলেন, এবং চারটি ভোট বাতিল করা হয়েছিল।

এটা সত্য যে শ্রীলঙ্কার জনগণ ক্ষুধা, রোগ, বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতিতে ভুগছে, তারা প্রতিদিনের দুর্ভোগ, দুঃখ, বেদনা, যন্ত্রণায় ভিতর থেকে ধুঁকছে, যা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, তাদের ব্যক্তিগত বাসভবন এবং তাদের আবাসস্থলকে গ্রাস করেছে। অনেক মাস ধরে। তারপর শ্রীলঙ্কার রাস্তাও দৃশ্যমান ছিল অনেক কিছু। আমরা জানি যে শ্রীলঙ্কার মূল সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা সেখানে রাষ্ট্রপতির কাছেই থাকে। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী পরিষদের প্রধান, তবুও এখন এটি দেখতে আরও আকর্ষণীয় হবে। এতোদিন শুধু যাদের মুখে ছিল জাতীয়তাবাদী কথা। এই শক্তি দ্বারা লালিত শ্রীলঙ্কা ধর্মীয় উম্মাদ, আর্থিকভাবে বিধ্বস্ত, সম্পূর্ণরূপে বিদেশী ঋণে নিমজ্জিত দেশে, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, দীনেশ গুণবর্ধনে,সংসদীয় বামপন্থী পদ্ধতির মাধ্যমে শ্রমজীবী ​​মানুষের জন্য কী করতে পারেন? ? শ্রীলঙ্কার আগামী ব্রেকিং নিউজের অপেক্ষায় আমরাও রইলাম।।

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...