Tuesday, April 16, 2019

তিন গুরুর যোগ্য শিষ্য!

গতকাল বৈশাখের প্রথম দিন ছিল। তাই ঘুরতে বেরিয়েছিলাম। কিন্তু চারদিকে নির্বাচনী প্রচার আর এন করেংগে তেন করেংগে ভাষণ। তাই নববর্ষটা নির্বাচনের লহরে মাতোয়ারা। যাক, এসব তো চলছে চলবে। রাস্তায় রাস্তায় ভাষণ শুনে কানটা ঝালাপালা তারসাথে বিকেলে যখন টিভির পর্দায় নিউজ দেখছিলাম তো হঠাৎ বানিজ্যিক বিরতিতে দেখি বোধহয় 'নন কমার্শিয়াল' হবে 'আকৌ একবার' (অসমিয়া ভাষায়) অর্থাৎ 'আরও একবার'। প্রচারটা দেখেই নীচের কিছু লেখা ক্রমবিকাশ---

যে বেশি বকে, সে বেশি মিথ্যা কথাও বলে। সেই জানাচেনা সত্যি কথাটা নরেন্দ্র মোদির কারবার দেখে আবার সত্যি বলে প্রমাণিত হচ্ছে। ডজন ডজন প্রতিশ্রুতি দেওয়া, না রাখতে পারা, ব্যর্থতা ঢাকতে আবার প্রতিশ্রুতি আপাতভাবে মনে হবে মোদিভাই এমন সহজ-সোজা রাস্তাতেই চলছেন। সংবাদ প্রচারেও সেই চালু লাইন--- '#অন_দ্য_রেকর্ড' মন্তব্যের সঙ্গে '#অব_দ্য_রেকর্ড মন্তব্য' 'বন্ধু' সংবাদ মাধ্যমকে 'খাওয়ান'। বস্তুত, ওইসব সংবাদ মাধ্যমের দায়িত্ব মোদিরাজার ইঙ্গিত অনুযায়ী ক্যানেস্তারা পেটান। সেই জানাচেনা রাস্তা। নোট বন্দি থেকে বালাকোট, নীতি-আয়োগ থেকে রিজার্ভ ব্যাংক, যেদিকে তাকানো যায়, দেখা যাবে, সেই চিরচেনা পথ প্রতিষ্ঠানকে ছাপিয়ে নিজের স্বার্থ এবং কৃতিত্ব স্থাপনা। যারা প্রতিবন্ধক তাদের মানসিক এবং শারীরিকভাবে নিশ্চিহ্ন করা। যারা ষাট দশকের ভারতবর্ষে বেড়ে উঠাছে, তাদের কাছে এ রাস্তা হাতের তালুর মতো চেনা।

একটু খাতিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে এমন ন্যালাখ্যাপামির সঙ্গে জুড়ে গেছে নানান ঐতিহাসিক চিন্তাধারা। এবং ওই আপাত কাছাখোলা ভাব ঠিক তত সরল নয়। এ বেশ সুচারু শিল্পকলা! রাজপাট চালনার এই কারুকৌশল মোদি শিখেছেন ইতিহাস পড়ে। তার তিন শিক্ষক--- #বেনিটো_মুসোলিনি, #অ্যাডলফ_হিটলার আর #পল_জোসেফ_গোয়েবলস।
মুসোলিনি বলেছিলেন ফ্যাসিজম আর কর্পোরেটিজম একই কথা। রাষ্ট্র আর কর্পোরেট ক্ষমতার একাত্মকরণ। মুসোলিনির পথে চলেই মোদি চেয়েছেন ভারত নামক রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে আম্বানি, আদানি, মেহুল চোকসি প্রমুখের ক্ষমতার মেলবন্ধন ঘটাতে। তা হলেই, মোদিভাইয়ের ধারণা, তার দাপট নিরঙ্কুশ হবে, দীর্ঘায়িত হবে রাজত্বকাল। দেশে দেশে, ঘরে ঘরে তার বাণী পৌঁছে যাবে। হয়তো বল্লবভাই প্যাটেলের থেকেও উচ্চতর মোদি মূর্তি স্থাপন করা হবে তার জীবদ্দশাতেই। সরকারি পাঠ্যপুস্তকে পড়ানো হবে 'চৌকিদার' মোদির জীবনকথা। চলচ্চিত্র পরিচালকরা নির্মাণ করবেন 'মোদি মনীষীর জীবনচিত্র'! এইসব করতে কর্পোরেট সমর্থন লাগে। সেইজন্যেই হয়তো তাদের কিছু দাক্ষিণ্য বিতরণ!

মুসোলিনি আর একটি কথা বলেছিলেন 'এক অসামরিক নাগরিক এবং একজন সৈনিক, দু'জনেই অবিচ্ছেদ্য। অসামরিক বলে কিছু হয় না। সবাই সৈনিক অতএব প্রতিটি অসামরিক মানুষকে সৈনিক করে তুলতে চেয়েছেন মোদিভাই। এক নামি টিভি চ্যানেলের সমীক্ষা অনুযায়ী গত পাঁচ বছরে মোদি জামানায় নেতাদেরে ঘৃণা ছড়ানোর ঘটনা বেড়েছে কয়েক ১০০ শতাংশ। ফলশ্রুতিতে আমাদের চোখের সামনে ঘটে গেছে #গৌরী_লঙ্কেশ, #কালবুর্গি, #দাভোলকার, #পানসারে, #আখলাক, #প্রদীপ_রাঠোর প্রমুখের হত্যা। মোদিরাজার বিরুদ্ধাচরণ করে কিছু বললে বা লিখলে শুরু হয়ে যাচ্ছে সোস্যাল মিডিয়ায় আক্রমণ। এইতো কদিন আগের নাসিরউদ্দিন শাহ থেকে চিত্রদ্বীপ সোমের ঘটনা। সেক্ষেত্রে নামি বেনামির কোনও ভেদ নেই। সবাইকে সমান মানসিক অত্যাচার। বিজেপি-র প্রভাবে সাধারণ মানুষ এখন সৈনিক! বিরুদ্ধে মত হলেই সে দেশদ্রোহী। অতএব তাকে পীড়ন, খতম করার দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নেওয়া যায়।

১৯৩৩ সালের প্রারম্ভে ন্যাশনাল সোশালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি, ডাক নামে যাদের নাৎসি বলা হতো, তাদের দুশ্চিন্তা ছিল, হাতে টাকা নেই ভোট লড়া হবে কেমন করে??? ২৭ জানুয়ারি হিটলার শিল্পপতিদের সামনে আড়াই ঘন্টা ধরে নাটুকে ভঙ্গিতে বক্তৃতা দেন। বিরতিহীন। ব্যস নাৎসি পার্টির কোষাগার ভরে উঠল। কারণ, শিল্পপতিরা বুঝে গেলেন এতদিনে এমন লোক পাওয়া গেছে, যে কমিউনিজমের বিপদ থেকে, ট্রেড ইউনিয়নের দাবি দেওয়ার হাত থেকে তাদের বাঁচাবে। কারণ, বক্তৃতায় হিটলার দুটি খুব দরকারি কথা শিল্পপতিদের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন--- মশায়রা, আপনাদের মধ্যে যারা মনে করেন ন্যাশনাল সোশ্যালিস্টদের কোনও কিছু করার মুরোদ নেই, তারা নিজেদের ঠকাচ্ছেন। আমরা আজ না থাকলে জার্মানিতে বুর্জোয়া শ্রেণির কোনও অস্তিত্ব থাকত না। বলশেভিজম সব গ্রাস করে নিত। আমরাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি জার্মানির মাটি থেকে মার্কসিজমকে মূলসুদ্ধ উপড়ে ফেলবার। দ্বিতীয় যা বলেছিলেন--- আগামীদিনে জার্মানির প্রতিটি রাস্তা আমরা উদ্ধার করব জার্মানদের জন্য, আর কেউ থাকবে না। এই পাঠ নেওয়া মোদির কাছেও তাই যে কোনও রঙের কমিউনিজম, যে কোন অন্য দলের পতাকার সমাজতান্ত্রিক ভাবাদর্শ সবচেয়ে বড় বিপদ। অন্যান্য দলগুলিকে খতম করতেই বিদেশ থেকে আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র আসে। 'দেশপ্রেম' জাগাবার আস্ফালন করতে করতে বিজেপি-আর এস এস হিন্দুত্বের হুংকার ছোঁড়ে। মুসলমান,দলিত,তথা নীচু জাতিদের খতম করবার আহ্বান ছুঁড়ে দেয়। কখনও ঠারেঠোরে, কখনও খুল্লাম-খুল্লা বোঝাবার চেষ্টা করে ভারতবর্ষের প্রতিটি রাস্তা, প্রতিটি বাড়ি, প্রতি ইঞ্চি জমি হিন্দুদের, মোদিপন্থী হিন্দুদের বাকিরা কেটে পড়।

তবে অব দ্য রেকর্ডে মিথ্যা গুঁজে দেবার শিক্ষাটা গোয়েবলস এর থেকে নেওয়া--- 'যদি একটা বড়ো নির্জলা মিথ্যে বারবার বলতে থাক, বারবার, মানুষ ক্রমশ তা বিশ্বাস করবেই ততক্ষণ অবধিই এই মিথ্যে ধরে রাখা যাবে, যতক্ষণ রাষ্ট্র তার জনগণকে এই মিথ্যের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক পরিণামের ধাক্কা বুঝতে দেবে না। এই জন্যই প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে সর্বশক্তি দিয়ে দমন করা রাষ্ট্রের পক্ষে অতীব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সত্যের সঙ্গে মিথ্যার কাটাকাটির সম্পর্ক এবং সত্যই হল রাষ্টের সবথেকে বড়ো শত্রু।' অতএব  আর কোনও উপায় নেই। এইজন্যই মোদিরাজাকে অর্থনীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য--- পরিসংখ্যানের কাজে যুক্ত যেসব প্রতিষ্ঠান, তাদের কাজে হস্তক্ষেপ করতে হয়। যে পরিসংখ্যান সরকারের অনুকুল নয়, তাকে চেপে দিতে হয়। সারা বিশ্বে সুনাম আছে যে সংস্থাগুলির তাদেরকে নিজেদের ভৃত্য বানাবার চেষ্টা করতে হয়! পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘোরে বলার অপরাধে গ্যালিলিওর মুখ বন্ধ করতে চেয়েছিল স্বৈরাচারী 'সমাজপালক', এ ঘটনা তারই সমতুল‍্য। এ ঘটনা অভূতপূর্ব, অবৈজ্ঞানিক হলেও সেই মধ্যযুগীয় ব্যবস্থাতেই আস্থা রাখতে হয় 'চৌকিদার' নরেন্দ্র মোদিকে! বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে শতাধিক নামি অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সচেতন হবার ডাক দিলেও তা বধির রাজার কানে ঢোকে না। ক্ষমতা বজায় রাখতে এমনভাবেই গোয়েবলসীয় কায়দায়, সত্যের টুঁটি চেপে ধরে মিথ্যার প্রচার-প্রসার, দমন পীড়ন করে যেতেই হবে তাকে। কেউ কেউ বলেছেন, ভোটের আগেই আবার কিছু একটা সাজানো নাটক করতেই হবে মোদিজিকে। সে 'সার্জিক্যাল স্ট্রাইক' হতে পারে কিংবা আবার একটা 'সন্ত্রাসবাদীহানা' হতে পারে। মিথ্যা বজায় রেখে ভোট জিততে হবে যে!

তবে মোদি সাহেব একটা পাঠ নিতে ভুলে গেছেন সম্ভবত। সেই যে দাড়িওয়ালা জার্মান সাহেব, কার্ল মার্কস, কবেই বলেছেন, #ইতিহাসের_পুনরাভিনয়_হয়_ঠিকই, #কিন্তু_তা_হয়_প্রহসন_হিসাবে। দেশবাসী সেই প্রহসন দেখার অপেক্ষায়।

এ প্রথম কৃষ্ণ গহ্বরের ছবি প্রকাশ

জোতির্বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মত একটি কৃষ্ণ গহ্বরের চিত্র ধারণ করেছেন যা দূরবর্তী এক ছায়াপথে অবস্থিত।

এটি ৪০ বিলিয়ন কিমি ব্যাপী বিস্তৃত এবং পৃথিবী থেকে তিন মিলিয়ন গুন বড় - এবং বিজ্ঞানীরা এটিকে "একটি দৈত্য" হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

কৃষ্ণ গহ্বরটি ৫০০ মিলিয়ন ট্রিলিয়ন কিমি দূরে অবস্থিত এবং বিশ্বব্যাপী সমন্বিত আটটি শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের দ্বারা এটির চিত্র ধারণ করা হয়েছে।

যার বিশদ আজ প্রকাশিত হয়েছে এস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্সে।

ঘটনা দিগন্ত দূরবীক্ষণযন্ত্র বা ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ (ইএইচটি) দ্বারা এই চিত্র ধারণ করা হয়েছে, যা আটটি সংযুক্ত দূরবীক্ষণ যন্ত্রের একটি সমন্বয়।

নেদারল্যান্ডসের রাডবউড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিনো ফ্যালক, যিনি এই গবেষণা প্রকল্পের প্রস্তাব দেন, তিনি বিবিসি নিউজকে জানান যে, কৃষ্ণ গহ্বরটি এমএইটিসেভেন নামক একটি ছায়াপথে পাওয়া গেছে।

তিনি আরো বলেন, "আমরা যেমনটি প্রত্যক্ষ করেছি, তা হল কৃষ্ণ গহ্বরটি আমাদের সমগ্র সৌরজগতের আকারের চেয়েও বড়"।

"এটি সূর্যের ৬.৫ বিলিয়ন গুন ভরবিশিষ্ট এবং যা আমরা মনে করি, এটি একটি অতিকায় দৈত্যাকৃতি অতিভরের কৃষ্ণ গহ্বরগুলির মধ্যে অন্যতম, মহাবিশ্বের অতিকায় দানবাকৃতি কৃষ্ণ গহ্বরগুলির মধ্যে অতিভরের দিক থেকেও শীর্ষে।"

প্রফেসর হিনো ফ্যালক বলেন, "আমাদের এখনও বুঝতে হবে কিভাবে সেখান থেকে আলোক নির্গত হয়"।

প্রফেসর ফ্যালক বর্ণনা করেন যে, "চিত্রটিতে দেখা যায় পুরোপুরি বৃত্তাকার গাঢ় অন্ধকার গর্তের চারপাশে একটি তীব্র উজ্জ্বল "আগুনের আংটি"র মত, যে ঔজ্জ্বল্য ফাকা গহ্বরের মধ্যে অধ:পতিত অতি উত্তপ্ত গ্যাস দ্বারা সৃষ্ট হয়। ছায়াপথের অন্যান্য নক্ষত্রগুলোর মিলিত ঔজ্জ্বল্যের তুলনায়ও আলোটি অত্যুজ্জ্বল - তাই পৃথিবী থেকে এতটা দূরত্ব হতেও এটিকে দেখা যেতে পারে।

গাঢ় অন্ধকার কেন্দ্রবিশিষ্ট বৃত্তের প্রান্তটি সেই বিন্দু যেখান হতে গ্যাসীয় বলয়টি কৃষ্ণ গহ্বরে প্রবেশ করে, যা এরূপ একটি বস্তু যার মধ্যে তীব্র মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বল বিদ্যমান রয়েছে, যেখান থেকে এমন কি কোন আলোও অবমুক্ত হতে পারে না।

ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডনের ড. জিরী ইউনিসি, যিনি এই দলবদ্ধ কর্মপ্রকল্প 'ইএইচটির' অংশ -তার মতে, "প্রকৃতপক্ষে ছবিটি তাত্বিক পদার্থবিদ এবং হলিউডের চিত্র পরিচালকদের কল্পিত কৃষ্ণ গহ্বরগুলোর মতই দেখতে"।

"যদিও এটি তুলনামূলকভাবে সাধারণ বস্তু, তবে কৃষ্ণ গহ্বরগুলো স্থান-কালের প্রকৃতি এবং এমনকি আমাদের অস্তিত্ব সম্পর্কেও কিছু অতি জটিল প্রশ্ন উত্থাপন করে।"

"এটা অসাধারণ যে আমরা যে চিত্রটি পর্যবেক্ষণ করেছি সেটা আমাদের তাত্ত্বিক গণনার সাথেও তুলনামূলকভাবে মিলে যায়। এ পর্যন্ত যা মনে হচ্ছে, আইনস্টাইন আবারও সঠিক"।

কিন্তু এই প্রথম চিত্রটি থাকার ফলে গবেষকরা রহস্যময় এই বস্তুর সম্পর্কে আরো জানতে সক্ষম হবেন। পদার্থবিজ্ঞানে যেমনটি আশা করা হচ্ছে, কৃষ্ণ গহ্বর হতে বেরিয়ে যাওয়ার উপায় খুঁজতে তারা আগ্রহী হবে। যদিও গহ্বরের চারপাশে উজ্জ্বল রিং কিভাবে তৈরি হয় তা কেউ জানে না। এমনকি কোনও বস্তু কৃষ্ণ গহ্বরে পতিত হলে কী ঘটবে তা নিয়ে প্রশ্ন করা আরও বেশি উদ্দীপক।

একটি কৃষ্ণ গহ্বর কি?

কৃষ্ণ গহ্বর হলো এমন একটি স্থানিক অঞ্চল যা থেকে কিছুই, এমনকি অতি হালকা ভরের আলোও পালাতে পারেনা।

গহ্বর নাম সত্ত্বেও, সেটি মূলত ফাকা নয় বরং এর পরিবর্তে একটি ক্ষুদ্র অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণ ভরযুক্ত বস্তুর অতিসঙ্কুচিত অবস্থা, যা অতি মহাকর্ষীয় বলের সৃষ্টি করে।

ঘটনা দিগন্ত নামে কৃষ্ণ গহ্বরের বাইরে একটি অঞ্চল রয়েছে। এটি একটি "না ফেরার বিন্দু", যে বিন্দুর নিচে হতে কৃষ্ণ গহ্বরের অতি মহাকর্ষীয় প্রভাব এড়িয়ে কোনকিছু ফিরে আসা অসম্ভব।

অধ্যাপক ফ্যালক ১৯৯৩ সালে যখন পিএইচডি ছাত্র ছিলেন তখন তিনি প্রথম এই প্রকল্পের ধারণা দেন। সেই সময়ে কেউই ভাবতে পারেনি যে এমনটি সম্ভব হবে। তবে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে কৃষ্ণ গহ্বরের অতি কাছাকাছি এবং পুরোপৃষ্ঠ জুড়েই একটি নির্দিষ্ট ধরনের বেতার তরঙ্গ নির্গমন হতে পারে, যা এতটাই শক্তিশালী হবে যে পৃথিবী হতে দূরবীক্ষণ যন্ত্র দ্বারা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

তিনি ১৯৭৩ সালে একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র পড়ার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন যে, উচ্চ মাধ্যাকর্ষণ বল ক্রিয়াশীল থাকার কারণে কৃষ্ণ গহ্বরগুলো প্রকৃত আকৃতির চেয়ে ২.৫ গুণ বড় দেখাবে।

এই দুটি সম্ভাব্যতার কারণেই আপাতদৃষ্টিতে হঠাৎ মনে হয়েছিল অসম্ভবকে সম্ভব হিসেবে। ২০ বছর যাবৎ তার প্রকল্প অবকাঠামো বিতর্কের পর, অধ্যাপক ফ্যালকে এই প্রকল্পের জন্য ইউরোপীয় রিসার্চ কাউন্সিলকে সম্মত করাতে পেরেছিলেন। পূর্ব এশিয়ান ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন এন্ড এজেন্সিস তখন ৪০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অর্থায়নের এই প্রকল্পের সাথে যোগ দেয়।

এটি এমন একটি বিনিয়োগ যা চিত্রটি প্রকাশনার সাথে সাথে সম্পাদিত হয়েছে। প্রফেসর ফ্যালকে আমাকে বলেছিলেন যে " মিশনটি সম্পন্ন হয়েছে"।

তিনি বললেন, "দীর্ঘ অভিযাত্রাটি সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু আমি নিজের চোখে এটা দেখতে চেয়েছিলাম। আমি জানতে চেয়েছিলাম, এটা কি বাস্তব'?

কোন একক দূরবীক্ষণ যন্ত্র কৃষ্ণ গহ্বরের চিত্র ধারণে যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। সুতরাং, এই ধরণের সবচেয়ে বড় পরীক্ষণে, হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অস্ট্রোফিজিকসের অধ্যাপক শেপার্ড ডলেলেম্যান আটটি সংযুক্ত টেলিস্কোপ নেটওয়ার্ক স্থাপনের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি পরিচালনা করেছিলেন। একসঙ্গে, তারা ঘটনা দীগন্ত দূরবীক্ষণ যন্ত্র গঠন করে যা একটি গ্রহাকৃতি বিন্যস্ত বিন্যাস হিসাবে বিবেচিত হতে পারে।
যার প্রতিটি যন্ত্র হাওয়াই এবং মেক্সিকো আগ্নেয়গিরি, অ্যারিজোনা পর্বতমালা এবং স্প্যানিশ সিয়েরা নেভাদা, চিলির আতাকামা মরুভূমিতে এবং আন্টার্কটিকার আগ্নেয়গিরিসহ বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন স্থানের উচ্চতায় স্থাপন করা হয়।

২০০ বিজ্ঞানীদের একটি দল এমএইটিসেভেন ছায়াপথের দিকে সংযুক্ত দূরবীক্ষণ যন্ত্রগুলোকে মুখ করে এবং ১০ দিন ব্যাপী এটির কেন্দ্রকে স্ক্যান করে।

তাদের সংগৃহীত তথ্য এতটাই বিশাল ছিল যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠানো সম্ভব ছিল না। এর পরিবর্তে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন, জার্মানির বোনের প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে  সংগৃহীত তথ্য শত-শত হার্ড ড্রাইভে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। অধ্যাপক ডেলিম্যান এই অর্জনকে "অসাধারণ বৈজ্ঞানিক কৃতিত্ব" বলে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, "আমরা একটি প্রজন্ম আগেই অসম্ভব হতে অনুমিত এমন কিছু অর্জন করেছি"।

"এটা প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিরাট সাফল্য অর্জন, বিশ্বের সেরা রেডিও পর্যবেক্ষণকারী এবং নতুন  গাণিতিক উদ্ভাবনী পরিভাষিকগণ কৃষ্ণ গহ্বরগুলো সম্পর্কে সামগ্রীকভাবে একটি নতুন বাতায়ন খুলতে একত্রিত হয়েছিল।"

দলটি আমাদের নিজস্ব ছায়াপথ, মিল্কি ওয়ের কেন্দ্রে অবস্থিত অতিভারী কৃষ্ণ গহ্বরের চিত্র ধারণ করছে।

যদিও এটি শুনতে অদ্ভুত মনে হতে পারে, তবে ৫৫ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের ছায়াপথের একটি ছবি ধারণ করার তুলনায়ও এটি ছিল কঠিনতর। কারণ, কিছু অজ্ঞাত কারণের জন্য, আকাশগঙ্গা ছায়াপথের অভ্যন্তরে কৃষ্ণ গহ্বরের চারপাশের "আগুনের আংটিটি" যথা ক্ষুদ্র এবং ম্রিয়মাণ থাকায়।

-পল্লব ঘোষ
বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক, বিবিসি নিউজ

Sunday, April 14, 2019

আম্বেদকর স্মরণে

আজ ১৪'ই -এপ্রিল- ভারতরত্ন বাবাসাহেব আম্বেদকর এর ১২৮-তম জন্মদিন। আজ ভারতবর্ষ তথা পৃথিবীতে যে মানুষটিকে নিয়ে সব থেকে বেশি গবেষণা বা চর্চা চলছে তা হলো বাবাসাহেব আম্বেদকর এবং তার দর্শন।ভারতবর্ষে জনসংখ্যা প্রায় ৯০%- শতাংশের উপর মানুষ দলিত-আদিবাসী এবং অনগ্রসর-এদের মধ্যে সংখ্যালঘুও পড়ে যাচ্ছে।এই ৯০% জনতা যারা এদেশের মূলনিবাসী এরা আজও সমস্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত: শিক্ষা -স্বাস্থ্য - খাদ্য -বস্ত্র -সম্মান সমস্ত অধিকার থেকে।

এদেশের সম্পত্তির ৭৩% চলে গেছে ১%-শতাংশ মানুষের হাতে। চাকরি- জমি- ব্যবসা সমস্ত কিছুর প্রায় ৯0%-ই মাত্র এই  ৮-১0% মানুষের হাতে। এবার প্রশ্ন হল এই ১%-শতাংশ বা ৮-১0%- শতাংশ মানুষ কারা?? হ্যাঁ যতক্ষণ না আমরা এদেরকে চিনতে পারব- ততক্ষণ আমরা আমাদের অধিকারের জন্য লড়াইটা  লড়তে পারবো না।  আমরা সেই শূদ্র পরিচয়  আজও বয়ে চলেছি -তারপর ইতিহাসের কালক্রমে বহু মানুষ এই মূলনিবাসী সমাজ থেকেই ইসলাম -ক্রিশ্চিয়ান শিখ- দলিত -আদিবাসী বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে যায়।

বাবাসাহেব আম্বেদকর আমাদের ভোটাধিকার দিয়ে গেছেন -যাতে আমরা নিজেরা রাজা হতে পারি- এই দেশের শাসক হতে পারি - কিন্তু আমরা নিজেদের অধিকার সম্বন্ধে সচেতন নই -আমরা আমাদের ভোটাধিকার সম্বন্ধে সচেতন নই -আমরা খুব সহজে বিক্রি হয়ে যাই -আমরা ২00 টাকায় এক বোতল মদ- সামান্য একটা পদের জন্য -সামান্য একটা চাকরির জন্য -আমাদের অধিকার গুলো বিক্রি করে দিই আমরা। আজ যেখানে দেশে-- গরু ও ধর্ম নিয়ে রাজনীতি চরমে ,নিরিহ মানুষ মরছে ফ‍্যাসীবাদের কবলে,কৃষকরা ন‍্যায‍্য পাওনা থেকে বঞ্চিত, আত্মহত্যা করার পূর্বে সুইসাইড নোট লিখছে,নারীরা হারাচ্ছে তাঁর স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হচ্ছে। আমাদের এখন বুঝতে হবে বর্তমানে কতটুকু সংবিধান অনুযায়ী আমল করা হচ্ছে।

আর নয় চলুন

মানুষের মধ্যে পৌঁছে দেই বাবাসাহেব আম্বেদকর-এর বিচারধারা, তাহলেই আগামী ভবিষ্যৎ -আমাদের সমাজের আগামী দিনের ছেলে মেয়েরা নিজেদেরকে চিনতে শিখবে। নিজেদের অধিকার সম্বন্ধে সচেতন হবে- লড়াই করতে শিখবে। তা না হলে আমাদের মতই এরা গোলামী করে ব্রাহ্মণের পা ধুয়ে জল খেয়ে সারা জীবন গোলামি করে কাটিয়ে  দেবে। তাই বাবাসাহেবের আম্বেদকরের জন্মদিনে আমাদের শপথ হোক -----

"গোলামী নয় আজাদি চাই আত্মসম্মানের লড়াইয়ে নিজেদেরকে উৎসর্গ করবো।"

জয় ভীম

Tuesday, April 9, 2019

গোমাতার অসৎ সন্তান

গোমাতার সন্তানের হাতে খুনের ঘটনাকে আমরা আজকাল অভ‍্যস্থ হয়ে গেছি স্বাভাবিক ভাবে নিতে। নির্বাচনের আগ মূহুর্তে এই ধরণের লিঞ্ছিং। কী দাংগা ফাংগার প্লেনিং চলছে? ভারতে গত চার-পাঁচ বছরে যে সব গণধোলাইয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে, তার বেশির ভাগের কারণই গরু রক্ষার ইস্যু। শুধু তাই নয়, এই সব যারা মারা গেছেন তাদের বেশির ভাগই মুসলিম। গণধোলাই বা গণপিটুনি ভারতে যে আগে ঘটত না এমন নয় । কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই মারধরের প্যাটার্নে বিরাট পরিবর্তন এসেছে। কমনওয়েলথ হিউম্যান রাইটস ইনিশিয়েটিভ নামের মানবাধিকার সংগঠনটি জানাচ্ছে, গরু রক্ষার বাহানায় দেশের নানা প্রান্তে মুসলিম বা দলিতরা এখন হামলার শিকার হচ্ছেন। এ নিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো রকম আইনি সহয়তাও পাচ্ছে না সংখ্যালঘুরা।

বছর কয়েক আগেও ভারতে যে সব গণধোলাইয়ের ঘটনা ঘটত তার বেশির ভাগই ছিল ডাইনি সন্দেহে কাউকে পিটিয়ে মারার ঘটনা, কিংবা দলিতদের ওপর উচ্চবর্ণের হিন্দুদের সংগঠিত হামলা। কিন্তু বিগত কয়েক বছর থেকে দেখা যাচ্ছে, ওই ধরনের গণহামলার বেশিরভাগই হচ্ছে গরু বাঁচানোর নামে। আর এতে আক্রান্ত হচ্ছেন এক বিশেষ ধর্মের লোকজন।ভারতে ডেটা জার্নালিজমের ক্ষেত্রে একটি শীর্ষস্থানীয় সংস্থা ইন্ডিয়াস্পেন্ডস। তাদের সমীক্ষা বলছে ২০১২ ও ২০১৩ সালে সারা দেশে এই ধরনের মাত্র দুটো ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু ২০১৪ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত এরকম ঘটনা ঘটেছে কমপক্ষে ৯২টি।

যাইহোক, সাধারণ মানুষ মরলে আমরা এখন নির্বিকার থাকি, যা একটু-আধটু হেলদোল দেখাই সেটাও যদি অভিজাত বা উচ্চপদে চাকরিরত কেউ বেঘোরে মরেন, তখন। এইসব হত্যাগুলির কোনও বিচার তো হয়ই না, উল্টে “মুসলমান” মারার জন্য আঞ্চলিকভাবে বা সোশ্যাল মিডিয়াতে খুনিরা ইদানিং বীরের মর্যাদা পাচ্ছেন। আখলাক, জুনেইদ থেকে বুলন্দশহর, মণিপুর, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড হয়ে জম্মু ,দিল্লির আশেপাশের হরিয়ানা, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রেদশ সহ নতুন ভাবে আবার তৈরি হচ্ছে আসামেও। ক'দিন আগে করিমগঞ্জে।  একটা পরিকল্পিত চক্রান্তের মাধ্যমে দাঙ্গা বা দাঙ্গার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে লোকসভা নির্বাচনের প্রাক মূহুর্তে।

আজ আমরা নির্বাক হয়ে হাতে হাত রেখে পেঁচার মতো ডালে বসে কীর্তি দেখাই কাম‍্য। গতকাল আসামের  বিশ্বনাথ জিলায় রাজপথে সৌকত আলিকে যেভাবে উচ্ছৃঙ্খল জনগণ হেনাস্থা ও অপদস্থ করে । তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় সে বাংলাদেশি না ভারতীয়। NRC তে নাম আছে কিনা নাই। জোর করে শুকরের মাংস খাইয়ে দেওয়া। এইধরনের নোংরা মানসিকতার কাজ কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

এখন প্রশ্ন হলো---
NRC  তে নাম আছে কিনা নাই এটা কি ওদের কাজ?
বাংলাদেশি না ভারতীয় ওদের কে কি পরিচয় দেওয়ার ঠিকা ওরা নিয়েছে?
না, মাংস বিক্রির লাইসেন্স ওরা দেখবে?

এই ধরণের ঘটনায় দীর্ঘকালীন প্রভাব সীমিত, কিন্তু গরু, ধর্ম, ভাষা, জাতিকেন্দ্রিক হত্যা পরিবার ছাড়িয়ে এক বা একাধিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে আতঙ্ক ছড়ায়, তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। ধর্ম, ভাষা বা জাতিগতভাবে আতঙ্কিত করে তোলাকেই সমাজের ফ্যাসিস্ট কার্যকলাপ বলা হয়। গরু-কেন্দ্রিক হত‍্যা, হেনাস্থা,একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘকালীন সাইকিক প্রভাব সৃষ্টি করে ও সমাজের সার্বিক বিকাশে ভয়ংকর ক্ষতিসাধন করে। যার ফলে ভোগান্তির শিকার নিরীহ জনগণ।

ধ‍র্মের নামে জাতির নামে রাজনীতি করে নিরপরাধ জনসাধারণের উপর অমানবিক নির্যাতন, ভারতীয় ঐতিহ‍্যের পরিপন্থী। আমরা নিশ্চয়ই এই ধরণের ভারত চাইনা যেখানে রাম আর ইমামের ঝগড়া চলে। যেখানে গো-রক্ষার নামে মব লিঞ্ছিং হয়, কৃষক রা পা ফাঁটায় ন‍্যায‍্য পাওনা আদায়ে।

Monday, April 8, 2019

সমকামিতা : এক সুস্থ মানসিকতা

সমকামিতার মতো একটা স্পর্ষকাতর বিষয় নিয়ে  লিখতে বসে ভাবছিলাম কোথা থেকে শুরু করবো। আজ পর্যন্ত সমকামিতা নিয়ে অনেক লেখালেখিবা বিশ্লেষণ হয়েছে। তবুও নিজেকে সামলে রাখতে না পেরে এই লেখা। উদ্দেশ্য হল পক্ষে আওয়াজ তোলা। যাইহোক,আজকের পৃথিবীতে সমকামিতার ব্যাপারটা আর লুকোচুরির পর্যায়ে নেই।  Gay Pride Day এখন আর শুধু সমকামিদের অধিকার আর গৌরব বহন করে না অনেকের জন্যই এটার অর্থ আরও  ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করেছে।  এটাকে সামগ্রিক মানবাধিকারের একটা অংশ হিসেবেও দেখা হয়।   কিন্তু এই লেখাটা সেরকম কোন নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়,  এই পোষ্ট টা লিখছি দুটা কারণে।  প্রথমত, আমি এ পর্যন্ত কোন লেখা পড়িনি যেখানে কোন গে বা লেসবিয়ান কে  খুব কাছ থেকে দেখার (আমি ভালো পরিচয় ইত্যাদি বুঝাচ্ছি না) অভিজ্ঞতা আছে, আর দ্বিতীয়ত আমার কিছু পরিচিতদের মধ‍্যে অনেক ব্লগার সাধারণত এই ধরনের আলোচনায় অংশ নেন না। সমকামিতা বলতে আমরা সকলেই বুঝি একই সেক্স বা লিঙ্গের মানুষের প্রতি যৌন আকর্ষন বোধ করা। লেসবিয়ান, গে দিয়ে আমরা মেয়ে ও ছেলেদের মাঝে সমকামীতা বুঝিয়ে থাকি।
সমকামিতা একটি যৌন প্রবৃত্তি, যার দ্বারা সমলিঙ্গের দুই ব্যক্তির মধ্যে প্রেম কিংবা যৌন আচরণ বোঝায়। প্রবৃত্তি হিসেবে, সমকামিতা বলতে বোঝায় মূলত সমলিঙ্গের কোনো ব্যক্তির প্রতি জেগে ওঠা "এক যৌন, স্নেহ বা প্রণয়ঘটিত এক ধরনের স্থায়ী স্বাভাবিক প্রবণতা"; "এছাড়া এর দ্বারা এই ধরনের সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ব্যক্তিগত বা সামাজিক পরিচিতি, এই ধরনের আচরণ এবং সমজাতীয় ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত এক সম্প্রদায়ের সদস্যতাও নির্দেশিত হয়। সহজ ভাষায় কোন ছেলের প্রতি ছেলের আকর্ষন অথবা কোন মেয়ের প্রতি মেয়ের আকর্ষনকে সমকামীতা বলে।
সমকামিতার ইংরেজী প্রতি শব্দ হোমোসেক্সুয়ালিটি, যা ১৮৬৯সালে প্রথম ব্যবহার করেন Karl Maria Cutberry তার লেখা ছোট একটি আইনি পুস্তিকায়। Homosexual শব্দটি গ্রীক হোমো এবং ল্যাটিন সেক্সাস শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। সমকামিতা নিয়ে অনেকেই বেজায় বিব্রত থাকেন। অনেকে দাবি করে থাকেন যে, শহুরে সমাজে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অনুপ্রবেশের ফলস্বরূপ নাকি সমকামিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাঠমোল্লার কাছে তো আর রক্ষাই নাই। ফতুয়ার জড়ে বিকৃত মস্তিষ্ক, পুরুষত্বহীন,নোংরা স্বভাবের ইত্যাদি আপত্তিকর মন্তব্য করে। তাই তারা নিজেদের জনসমক্ষে আনতে পারেনা।  এতো গেল আমার নিজস্ব উপলব্ধি। এবার দেখে নিন সমকামিরা যে অত্যাচারের স্বীকার হয়ে জনসমক্ষে আসেনা তার সপক্ষে নিউজ লিংক।

1 in 3 Chennai LGBT students drops out of school due to bullying
http://timesofindia.indiatimes.com/city/chennai/1-in-3-chennai-lgbt-students-drops-out-of-school-due-to-bullying/articleshow/61695670.cms?utm_campaign=andapp&utm_medium=referral&utm_source=other

সমকামিতা কেউ বেছে নেয় না, সমকামিতার পেছনে এপিজেনিক ফ্যাক্টর আছে। বিষমকামী এবং সমকামিদের DNA  এর মধ্যেও significant difference আছে। যা এটাই প্রমাণ করে যে সমকামীরা নিতান্তই নিজের ইচ্ছায় সমকামী হয়না। বরং কোনো মানুষ নিজ লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হবে, নাকি বিপরীত লিঙ্গের প্রতি এটা তাদের মায়ের গর্ভে থাকাকালীন অবস্থাতেই নির্ধারিত হয়। এগুলির পাশাপাশি পরিবেশগত এবং অন্যান্য ফ্যাক্টরও কাজ করে।

https://news.stanford.edu/pr/95/950310Arc5328.html

http://www.patheos.com/blogs/warrenthrockmorton/2017/12/12/new-biological-basis-male-homosexuality/

মানুষের sexual orientation যে মায়ের গর্ভেই নির্ধারিত হয় তার সপক্ষে প্রমান স্বরূপ নিচের সায়েন্টিফিক জার্নাল টিতে পাবেন।

http://www.pnas.org/content/early/2017/12/05/1705895114.full?sid=8ce9452d-dc37-4375-997b-5796b04fe9bf

এব্যাপারে আরেকটি স্টাডি সাজেস্ট করছি।

https://labs.psych.ucsb.edu/roney/james/other%20pdf%20readings/Blanchard%25202001%2520Fraternal%2520birth%2520order%2520homosexuality.pdf

কোনো মানুষের সমকামী কিংবা বিষমকামী হওয়া যে dna ঠিক করে দেয় তার প্রমান নিচের সায়েন্টিফিক জার্নালটিতে পাবেন।

https://www.nature.com/articles/s41598-017-15736-4

একজনের sexual orientation এর পেছনে যে এপিজেনিক ফ্যাক্টর আছে তার ব্যাপারে নিচের লিঙ্কে জানতে পারবেন।

https://mobile.the-scientist.com/article/33773/can-epigenetics-explain-homosexuality

এব্যাপারে মুক্তমনা ব্লগে অভিজিৎ রায়ের একটি পুরোনো বিজ্ঞানভিত্তিক লেখা ‘সমকামিতা : একটি বৈজ্ঞানিক এবং সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান’ (২০০৯) আছে। বইটি প্রকাশ করেছে ‘শুদ্ধস্বর’। পড়ে দেখতে পারেন।

https://blog.mukto-mona.com/2009/11/05/3041/

আমরা যৌন সংখ্যালঘুদের অধিকারের সপক্ষে কথা বলছি। এর মাধ্যমে আমরা কোনোভাবে বিষমকামিতার ওপরে সমকামিতাকে প্রমোট করছিনা। সমকাম, উভকাম, বিষমকাম — এগুলি স্বাভাবিক behaviour, কেউ জিনগত ভাবে সমকামী হয়ে জন্ম নেয়, কেউ জিনগত ভাবে বিষমকামী হিসেবে জন্ম নেয়।

আমি যৌন সংখ্যালঘুদের পছন্দের মানুষটিকে ভালোবাসার  স্বাধীনতা নিয়ে মুখ খুললে একবার এক তথাকথিত যুক্তিবাদী খুন আর সমকামিতাকে এক কাতারে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টা করে গোঁজামিল দিয়েছিলেন। খুন কনসেন্ট নিয়ে হয়না, তাই তা শাস্তিযোগ্য। কিন্তু যখন কেউ সমলিঙ্গের ব্যক্তির কনসেন্ট বা অনুমতি নিয়ে তার সঙ্গে রোম্যান্টিক সম্পর্ক স্থাপন করে, তা সম্পূর্ণ রূপে তাদের মধ্যেকার ব্যক্তিগত বিষয়। এখানে সমাজ এবং রাষ্ট্রের নাক গলানোর অধিকার নেই।

অনেকে আবার সমকামিতার বিরোধিতা করতে গিয়ে পশুকামের সঙ্গে সমকামিতাকে মিলিয়ে দিয়ে থাকেন। মায়ের গর্ভ থেকে কেউ পশুকামী হয়ে আসেনা। আর এখানে এপিজেনিক ফ্যাক্টরও নেই। যা সমকামিতার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

তাছাড়া, পশুকামে পশুর অনুমতি নেওয়া হয়না। শিশুকামে শিশুর অনুমতি নেওয়া হয়না। ধর্ষণে ধর্ষিতা/ধর্ষিত ব্যক্তির অনুমতি নেওয়া হয়না। খুন করলে যাকে খুন করা হলো তার অনুমতি নেওয়া হয়না।

অপরদিকে একজন সমকামী যদি তার সমলিঙ্গের মানুষের অনুমতি সাপেক্ষে তারসঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে সেটাকে কোনোভাবেই এগুলির সাথে তুলনা করা যায়না। তুলনা করলে তা হয় অপযুক্তি যাকে যুক্তিবিদ্যায় false equivalence বলা হয়।

অনেক সময় এলজিবিটি ফ্রেন্ডলি বিষমকামী বন্ধুরা সমকামিতার সমর্থন করলেই তাঁদের সমকামী বলে কটাক্ষ করা হয়। কোনো পুরুষ নারী অধিকারের সপক্ষে বললেই তিনি যেমন  নারী হয়ে যান না, ঠিক তেমনই সহৃদয় বিষমকামী বন্ধুরা আমাদের এলজিবিটি কমিউনিটির অধিকারের সপক্ষে কথা বললেই তাঁরা যৌন সংখ্যালঘু হয়ে যান না।

সাধারণত মুমিন, চাড্ডি এবং ফান্ডামেন্টালিস্ট খ্রীষ্টানদের এধরণের স্ট্রম্যান এবং অ্যাড হোমিনেমের আশ্রয় নিতে দেখা যায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো আজকাল অনেক বাম ঘেঁষা তথাকথিত "যুক্তিবাদীদের" মুখেও এধরণের কথা শুনতে পাচ্ছি। অবশ্য তাঁদের মন্তব্য অজস্র logical fallacy দেখে "যুক্তিবাদী" শব্দটা ব্যবহারে ইতস্তত বোধ করছিলাম, যাইহোক উনাদের সম্মানার্থে শেষমেষ শব্দটা ব্যবহার করেই ফেললাম। এখন আশা করি তাঁরা সত্যিকারের যুক্তিবাদী হয়ে শব্দটার সম্মান রক্ষা করবেন।

যারা প্রশ্ন করছে “অনেক সময় পিতা-কন্যা,  মাতা-পুত্র ও সহমতের ভিত্তিতে যৌনতা করে। 
তাকে কি আমরা স্বীকৃতি দেব??”, তাদের জন্য এক বালতি সমবেদনা। এরূপ প্রশ্নকারীদের জ্ঞাতার্থে জানাই এটা ইনসেস্ট। ‌অবশেষে incest এর সাথে সমকামিতার তুলনা করলেন? বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে জানা যায় যে বায়োলজিক্যাল সম্পর্ক যুক্ত কারোর মধ্যে যৌনতার ফলে দুর্বল offspring এর জন্ম হয়।

Offspring এই কথা না হয় নাই বললাম। Zoology মতে আমরা তো Primate order (Hominidea family) এর প্রাণী, Carnivora order এর প্রাণী নই। আর primate order এর প্রাণীদের ক্ষেত্রে ইনসেস্ট এ লিপ্ত হওয়া বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে অস্বাভাবিক।

এর থেকেই পরিষ্কার যে incest বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে করা কখনোই স্বাভাবিক নয়। অন্যদিকে সমকামিতার বৈজ্ঞানিক basis রয়েছে। এর ব্যাপারে গবেষণা পত্রের লিংক দিচ্ছি। তাহলেই বুঝতে পারবেন incest কে বিজ্ঞান কেন বৈধতা দেয়না। তারপর আমার দেওয়া আগের সমকামিতা সম্পর্কিত গবেষণার লিংকগুলির সাথে মিলিয়ে দেখুন। তাহলেই বুঝবেন ইনসেস্ট কেন অস্বাভাবিক, আর সমকামিতা কেন স্বাভাবিক।

https://www.psychologytoday.com/us/blog/animals-and-us/201210/the-problem-incest?amp=

যাঁরা নিজেদের যুক্তিবাদী হিসেবে পরিচয় দেন অথচ সমকামিতার বিরোধিতা করেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে বলছি, সমকামিতার বিপক্ষে অবস্থান তো রক্ষণশীলরা নিয়ে থাকে। আমাদের সংবিধানে সমকামিতা বিরোধী আইন ইন্ডিয়ান পেনাল কোড ৩৭৭ তো ব্রিটিশ শাসকরা প্রথম introduce করেছিল, তাও আবার তাদের খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে, যা পরবর্তী কালে আর পুনর্বিবেচনা না করেই সংবিধানে অক্ষুন্ন রাখা হয়েছে। তেমনই বিভিন্ন স্পর্শকাতর ধারা অপরিবর্তিত থেকে গেছে। যেমন ১২৪ এ sedition act ভারতীয় সংবিধানে থেকে গেছে, যেটা ব্যবহার করে JNU এর কানহাইয়া কুমার সহ আরও অনেককে harass করা হয়েছে। তাই বলে sedition act যে সঠিক সেটা তো বলা যায়না। ঠিক তেমনই এই ৩৭৭ ধারারও পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি স্বাভাবিকতার গন্ডিতে থেকে কাকে ভালোবাসবে এবং কাকে বিয়ে করবে তা রাষ্ট্র ঠিক করে দিতে পারেনা। এতো গেল আইনের কথা।

আমরা যদি বিভিন্ন দেশের আইনগুলির তুলনামূলক আলোচনা করি তাহলে দেখবো রক্ষণশীল দেশগুলি এখনও সমকামীদের শাস্তিদান করে, অন্যদিকে বিজ্ঞানের নতুন গবেষণা এবং মানুষের ব্যক্তিগত জীবন ধারণের কথা বিবেচনা করে অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা সহ প্রগতিশীল দেশগুলি সমকামী বিবাহকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই এটা suggest করা বোধহয় ভুল হবে যে সভ্যতার অগ্রগতিকে সমকামিতা বাধাপ্রাপ্ত করছে। তাছাড়া সমকামীরা তো প্রগতিশীলতায় বাধাদান করছেনা।

এবার যদি প্রমিনেন্ট যুক্তিবাদীদের কথায় আসি তাহলে দেখতে পাবেন রিচার্ড ডকিন্স, স্যাম হ্যারিস, আরমিন নবাবী, হেমন্ত মেহেতার মতো তাবড় তাবড় যুক্তিবাদীরা কিন্তু সমকামীদের অধিকারের পক্ষেই কথা বলে থাকেন। তাদের মধ্যে আবার রিচার্ড ডকিন্স নামকরা জীববিজ্ঞানী, রয়্যাল সোসাইটি অফ সায়েন্সের ফেলো। অন্যদিকে বিশ্বের নামকরা নাস্তিক হিউম্যানিস্টদের সংগঠন যেমন এথেইস্ট রিপাবলিক, হিউম্যানিস্ট ইউকে ইত্যাদি সংগঠনগুলিও কিন্তু সমকামীদের অধিকার নিয়ে সরব, তা আপনি তাদের ফেসবুক পেজ অথবা গ্রুপগুলো ঘুরে দেখলেই জানতে পারবেন। তাদের মধ্যে এথেইস্ট রিপাবলিক বিশ্বের মধ্যে সবথেকে বড় নাস্তিকদের সংগঠন। এখন কি এমন হলো যে আমাদের দেশের কিছু "যুক্তিবাদী" ঠিক রক্ষণশীলদের মতোই সমকামিতাকে অপরাধের চোখে দেখছেন? আপনি যদি প্রগতিশীলতার জন্যই সমকামিতাকে অপরাধের চোখে দেখেন, তাহলে তো বলতে হয় রিচার্ড ডকিন্স দের মতো মুক্তমনা রা কিংবা এথেইস্ট রিপাবলিকের মতো মুক্তমনাদের সংগঠনগুলি প্রগতিশীল নয়।

অনেকে সমকামিতাকে নগ্নতা/অশালীনতার সঙ্গে এক করে দেয়। তাদের বলতে চাই, নগ্নতা আর সমকামিতাকে এক পর্যায়ে নিয়ে আসা বোধহয় ঠিক হবেনা। কারণ কেউ চাইলে নগ্ন নাও থাকতে পারে। এটা তাদের ইচ্ছার ওপর  নির্ভর করে। কিন্তু অন্যদিকে মাতৃগর্ভেই নির্ধারণ হয়ে যায় কে সমকামী হবে আর কে বিষমকামী হবে। Sexual orientation কেউ ইচ্ছার দ্বারা নির্ধারণ করতে পারেনা। Homosexuals are born that way.

আর যাঁরা সমকামিতার বিরোধিতার কারণস্বরূপ যৌনরোগ হওয়ার অজুহাত দিয়ে থাকেন, তাঁদের কাছে আমার প্রশ্ন, যৌনরোগ কি বিষমকামী দের ক্ষেত্রে হয়না? একজন তথাকথিত যুক্তিবাদী আমার সঙ্গে বিতর্ক চলা কালে হাস্যকর দাবী করেছিলেন যে, সমকামীরা নাকি বিছানায় ১০০% সন্তুষ্টি পায়না। যাঁরা নিজে সমকামী না হয়েও এধরনের প্রমান বিহীন স্ট্রম্যান আর্গুমেন্টে যান, তাঁদের বলি, ১০০% sexual satisfaction পেল কি না পেল তা বিচার করে সমকামীদের শারীরিক সম্পর্ক থেকে নিবৃত করা আপনার ব্যক্তিগত এখতিয়ারে পড়ে না। বিশ্বের তাবড় তাবড় বিজ্ঞানীরা সমকামিতাকে স্বাভাবিক বলছে, আর আপনি রেফারেন্সবিহীন কথার দ্বারা তার কাউন্টার করছেন। হাস্যকর! কখনো আশা করিনি যে তথাকথিত যুক্তিবাদীরা রক্ষণশীলের মতো আচরণ করবেন।

আসুন আমরা যারা নিজেদের যুক্তিবাদী বলে পরিচয় দিয়ে থাকি, তারা হোমোফোবিয়া এবং বিগোট্রি ত্যাগ করে নিজেদের আদর্শ যুক্তিবাদী রূপে গড়ে তুলি। একসাথে মিলে সেই পৃথিবীর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করি, যেখানে কোনো ঘৃণা থাকবেনা, থাকবে শুধু ভালোবাসার অনুভূতিটুকু। আসুন সেই সমাজ গঠনে বদ্ধপরিকর হই, যেখানে বিনা বাধায় ধর্ম, বর্ণ, জাতি, লিঙ্গ নির্বিশেষে আমরা নিজেদের পছন্দের মানুষটিকে মন-প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতে পারবো।

https://www.dandc.eu/en/article/world-health-organization-considers-homosexuality-normal-behaviour

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...