Tuesday, July 12, 2022

সাত নম্বরে কে আসছে?


‘আমার সারা জীবনে এভাবে পুরো দেশকে একজন ব্যর্থ নেতাকে হটানোর একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এক হতে দেখিনি। সরকারি বাসভবনের করুণ পরিণতিই আপনার ভবিষ্যৎ বলে দিচ্ছে। শান্তিপূর্ণ পথে বিদায় হোন। গোতা আজই চলে যান।’

‘আমি সব সময় শ্রীলঙ্কার মানুষের সঙ্গে আছি। তাদের এ বিজয় উৎযাপন করব শিগগিরই। কোনো নিয়ম লঙ্ঘন না করে এই বিক্ষোভ অব্যাহত থাকুক। অবরোধ শেষ হয়েছে। দুর্গের পতন হয়েছে। মানুষের ক্ষমতার জয় হয়েছে। এখনই পদত্যাগ করে সম্মানজনকভাবে বিদায় নিন।’ 

-শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সনৎ জয়সুরিয়া।

কলম্বোতে গণ অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি রাজাপাকসে আগামী ১৪ জুলাই আনুষ্ঠানিক ভাবে পদত্যাগ করবে। হাজার হাজার পুরুষ, মহিলা এবং শিশু প্রভাবশালী রাষ্ট্রীয় প্রাসাদে সারিবদ্ধ হয়ে উপরের তলায় রাষ্ট্রপতি গোতাবায়া রাজাপাকসের চেয়ারে বসার জন্য ঢেলে দিচ্ছিল যখন শিশু এবং পিতামাতারা নীচে একটি গ্র্যান্ড পিয়ানো বাজছিল।রাজপ্রাসাদের মনোমুগ্ধকর "গর্ডন গার্ডেন" পার্কে, হাস্যোজ্জ্বল পরিবারগুলি পিকনিকের মধ্যাহ্নভোজ উপভোগ করেছিল, 'বেলা চাও'ছিল মুখে মুখে। আর বৌদ্ধ ভিক্ষুরা সেফরোন পোশাকে মার্বেল মেঝে এবং কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বিস্মিত হয়েছিল। নেতারা যখন এমন বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন, তখন তাদের কোন ধারণা থাকে না যে সাধারণরা ভবিষ্যতে কীভাবে পরিচালনা করতে পারে?

ঠিক যেমনটা আমাদের মতো। প্রায় যেভাবে বলা হয়ে থাকে 'হিন্দু খাতরে মে হ্যায়'। দেশটিতে প্রায় ৭৫% সিংহলীরা থাকলেও তারা দশকের পর দশক থেকে বিপন্নতার কৃত্রিম ধারণাকে সত্যরূপে দেখিয়ে একটা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। তার ফলস্বরূপ তামিল ও মুসলিমরা বৈষম্য ও হিংসার চরম শিকার হয়। বিভিন্ন রিপোর্ট থেকে জানা যায় ২০১৩ সাল থেকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে চলে আসছে চরম অমানুষিক নির্যাতন। কখনো বা বোরখা-হিজাব, কখনো বা মসজিদ মাদ্রাসাগুলোতে আক্রমণ করা হয়েছে। 

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধিয়ে সংখ্যালঘু বিদ্বেষী কার্যকলাপের মাধ্যমে সিংহলী উগ্রজাতিয়তাবাদী রাজনীতির তীব্র অনুশীলন করা হয়। এর একমাত্র কারণ ছিল ধর্মীয় ও জাতিগত মেরুকরণ ধরিয়ে অর্থনৈতিক সংকট থেকে জনগণের নজর ঘুরিয়ে রাখা। উদার অর্থনীতির নামে একটি কল্যানকামী রাষ্ট্রের যেসব উদাহরণ তার তছনছ করে দেওয়া হয়। রাজাপক্ষরা ভেবেছিল এই ধর্মীয় মেরুকরণ ধরিয়ে রাখতে পারলেই রাজগদী আর হারাতে হবে না। তবেই কেল্লাফতে। কিন্তু ক্ষুধার আগুন যখন দাউদাউ করে জ্বলে তখন কি আর ধর্মীয় মেরুকরণ আর উদার অর্থনৈতিক বুলডজার চালানো সম্ভব! জনগণ গলার গামছা ধরে রাজপথে নামতে আর কি তোয়াক্কা করে? তবে যেযাই বলো ভাই, সারে যাহা সে আচ্ছা হিন্দুস্তান হামারা'। হ্যাঁ, এটা সত্য যে কোনভাবেই ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি বা ধর্মীয় শুড়শুড়ি-উন্মাদনায় একটা কল্যাণকামী রাষ্ট্র কোনভাবেই তৈরি হতে পারে না।

এখন কথা হলো আমাদের ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ততটা ফারাক নেই। দূরত্ব ও বড়জোর ৫৫ কিলোমিটার জলপথে। তারসাথে ধর্মীয় মেরুকরণ ও উদার অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও আমাদের রয়েছে। চোখের পলকে এশিয়া মহাদেশের আরো ক্লিয়ার করে বললে দক্ষিণ এশিয়ার ৮ টির মধ্যে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপাল, মালদ্বীপ, মায়ানমার, ভুটান এবং শ্রীলঙ্কার সহ ৬টি দেশের সরকার পরিবর্তন হলো। 

Who is Next ?

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=428927585914300&id=100063911868609

No comments:

Post a Comment

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...