Thursday, July 25, 2019

এ কোন দেশে আমি

বসে বসে হুমায়ুন আজাদের 'আমার অবিশ্বাস'র বিশ্বাসের জগত পরিচ্ছদটি পড়তে ছিলাম। তো হঠাৎ একটা ভিডিও দেখে এক প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে গেলাম। যেটা হল, গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র 'of the people, by the people, for the people'  ঠিক মতো পালন হচ্ছে তো এই দেশে! আর সঙ্গে যেখানে বলছি 'বসুধৈব কুটুম্ভকম'।

আমরা যেখানে  বিজ্ঞানের এই অসাধারণ যুগে যখন কিছু অবিশ্বাসী সৌরলোক পেরিয়ে ঢুকতে চাচ্ছে মহাবিশ্বে, তখন পৃথিবী মেতে উঠেছে মধ‍্যযুগীয় বিশ্বাসে। শক্তিশালী ভ্রষ্ট রাজনীতিকরা মানুষ কে আক্রান্ত করে তুলছে বিশ্বাসের রোগে। আর তার সাথে সমান তালে তাল মিলিয়ে চাটুকাররা (যদিও ওরা উচ্চ শিক্ষিত) নিজ স্বার্থ আদায়ে মিথ্যার দর্শনের উপর আস্তানা পেতেছে।

"জো না বোলে জয় শ্রীরাম ভেজ দো উস্কো কবরস্থান" -- এইরকম গণহত্যার ডাক দিয়ে মিউজিক ভিডিও তৈরী হচ্ছে আজকের ভারতবর্ষে।  শুধু জয় শ্রীরাম না বলার কারণে একের পর এক গণ ধোলাইয়ের ঘটনা সমগ্র দেশের মানুষকে সন্ত্রস্ত করে তুলেছে। প্রতিদিনই সংবাদ মাধ্যমে জয় শ্রীরাম না বলার অপরাধে গণধোলাইয়ের খবর আসছে।

ফ্যাসিবাদী সরকারে সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় মানুষের মধ্যে ভয় ছড়ানো তো চলছিলই, এমনকি গণপিটুনিতে অভিযুক্তদের চাকরী ও সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা হতে যাচ্ছে, তাদের স্বাধীনতা সংগ্রামী এই উপমায় ভূষিত করা হয়েছে। এবার সরাসরি হুমকি দিয়ে মিউজিক ভিডিও প্রকাশিত হলো। ভারতবর্ষই বোধহয় একমাত্র দেশ যেখানে সন্ত্রাসবাদীরা জনগণকে কবরে পাঠানোর হুমকি দিয়ে মিউজিক ভিডিও প্রকাশ করে। লক্ষ্য মূলত দরিদ্র সংখ্যালঘুরা, গণ ধোলাইয়ের ঘটনাগুলির দিকে তাকালেই তা স্পষ্ট হয়।

ভিডিওটি  ইউটিউবে আপলোড করা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়াতে বিষয়টি নিয়ে হৈচৈ শুরু হয়েছে, এর বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠেছে। সাংবাদিক প্রশান্ত কানোজিয়া এবিষয়ে টুইট করেছেন যে "ভারতই একমাত্র দেশ যেখানে সন্ত্রাসীরা তাদের সঙ্গীত ভিডিও তৈরি করে এবং ইউ টিউবে এ চালায়। তালিবান এবং আইসিসও এই কৌশলে পৌঁছাতে সক্ষম হয়নি। ডিজিটাল ভারতের ডিজিটাল সন্ত্রাসবাদ ... "

পরিশেষে সুনীল গঙ্গোপাধ‍্যায়ের কথায় শেষ করছি--

এতগুলো শতাব্দী গড়িয়ে গেল, মানুষ তবু ছেলেমানুষ রয়ে গেল
কিছুতেই বড় হতে চায় না
এখনো বুঝলো না ‘আকাশ’ শব্দটার মানে
চট্টগ্রাম বা বাঁকুড়া জেলার আকাশ নয়
মানুষ শব্দটাতে কোন কাঁটাতারের বেড়া নেই
ঈশ্বর নামে কোন বড় বাবু এই বিশ্ব সংসার চালাচ্ছেন না
ধর্মগুলো সব রূপকথা
যারা এই রূপকথায় বিভোর হয়ে থাকে
তারা প্রতিবেশীর উঠোনের ধুলোমাখা শিশুটির কান্না শুনতে পায় না
তারা গর্জন বিলাসী … ’।

No comments:

Post a Comment

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...