Monday, July 1, 2019

"আর্টিকেল ১৫" প্রসঙ্গে কিছু কথা

যখন বলিউডের তাবড় তাবড় অভিনেতা, সমালোচকরা সিনেমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ, দর্শকেরা তারিফ করছেন তখন একদল ভক্ত ধর্মের দোহাই দিয়ে গায়ের জোরে বন্ধ করে দিল এই সিনেমার স্ক্রিনিং। হ‍্যাঁ ঠিক ধরেছেন।অনুভব সিনহা পরিচালিত আয়ুষ্মান খুরানা অভিনীত 'আর্টিকেল ১৫' এর কথাই বলছি। এই সিনেমার দ্বিতীয় দিনেই বক্স অফিস কালেকশন ৭ কোটি ২৫ লক্ষ। আউশমান খুরানার সাম্প্রতিক ছবিটি আর্টিকলে ১৫ বেশ কিছু উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

সময়টা বড়ই অশান্ত! জাত-পাত, ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতিতে উত্তাল দেশ। জাতীয়তাবাদী হাওয়া ক্রমশ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছে। হারিয়ে যাচ্ছে স্বাধীন নিরপেক্ষ আওয়াজ। কোনও এক প্রান্ত থেকে কেউ নিজের মতো কিছু বলার চেষ্টা করলে, সেই আওয়াজ দমিয়ে দিতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠা করছে না রাষ্ট্রশক্তি। এমনই একটি সময়ে মুক্তি পেল পরিচালক অনুভব সিনহার ছবি ‘আর্টিকেল ১৫’। এক বছর আগে অনুভবের ‘মুল্‌ক’ দর্শক না টানলেও সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছিল। একবছর পর তিনি ফিরলেন ‘আর্টিকেল ১৫’ নিয়ে।

ছবির প্রেক্ষাপট উত্তরপ্রদেশের বদায়ুন গণধর্ষণ মামলার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। দলিত দুই কিশোরীকে গণধর্ষণের পর গ্রামের গাছে ঝুলিয়ে দিয়েছিল উচ্চবর্ণের গ্রামশাসকরা। এই ঘটনায় সমগ্র ভারতে চাঞ্চল্য তৈরি করেছিল। কালের নিয়মে বদায়ুনের সেই ঘটনা সংবাদপত্রের পাতা থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে। একইসঙ্গে পাঠকের স্মৃতির অতলে তলিয়ে গিয়েছে। নীরব হয়ে গিয়েছে প্রতিবাদী কণ্ঠ। বদাউনের সেই বহুচর্চিত ঘটনাই নতুনভাবে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করলেন পরিচালক। মাত্র তিন টাকা মজুরি বাড়াতে বলায় ‘নিচুজাতের লোকেদের শিক্ষা দিতে’ দুই নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে ঝুলিয়ে দেয় ঠাকুর সম্প্রদায়। নিখোঁজ হয়ে যায় আরও এক বালিকা। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতপাতের রাজনীতির নগ্ন ছবি ধরা পড়েছে ‘আর্টিকেল ১৫’তে। পাশাপাশি, সংবিধান সচেতনতার অন্য একটি দিক উঠে এসেছে।

কাহিনীটি দেশের নির্দিষ্ট অংশগুলির হৃদস্পন্দনের বাস্তবতাকে চিত্রিত করে, যেখানে মানুষ এখনও তাদের বৈষম্য, ধর্ম, ইত্যাদির পক্ষপাতের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক এবং বিভক্ত। যদিও, ভারতের সংবিধানে এটা নিষিদ্ধ যে দেশের নাগরিকদের মধ্যে কোন ধরনের বৈষম্য গঠন করা, কোন নির্দিষ্ট কাস্ট বা ধর্মের লোকজনের মধ্যে বৈষম্যমূলক আচরণ করা এবং সমাজের দ্বারা ভেদাভেদ সৃষ্টি করা। এই সিনেমায় তারা ভারতের সংবিধানে আর্টিকেল ১৫ সম্পর্কে কথা বলার চেষ্টা করেছে এবং জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা করেছে।  তাহলে আর্টিকেল ১৫ কী এবং ভারতে কতজন মানুষ এই আইন সম্পর্কে কতটুকু সচেতন? আর্টিকেল ১৫ হলো একটা অস্ত্র যা উপরের শ্রেণী এবং নিম্ন শ্রেণীর বাধাগুলি ভেঙ্গে দেয়।  আমাদের ১৫ নং অনুচ্ছেদটি জানতে হবে এবং কেন বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। আর তার সাথে জানা যাবে ভক্তদের কতটা আবেগে আঘাত হয়েছে।

What is Article 15

Article 15(2) says that no Indian citizen can be discriminated on the basis of:
● Religion
● Race
● Sex
● Caste
● Place of birth

It states that no citizen shall be denied access to:
● Shops
● Public restaurants
● Hotels and
● Places of public entertainment.

It also adds that no citizen shall be subject to any disability, liability, restriction or condition with the use of:

● Wells
● Tanks
● Bathing ghats
● Roads
Places of public resort maintained wholly or partly with State funds or dedicated to the use of the general public.

Article 15 (3) & (4)
The Article also states that the article cannot be used as an argument to make special provisions for women, children or any other backward classes. Nothing in this article or in clause (2) of Article 29 shall prevent the State from making any special provision for the advancement of any socially and educationally backward classes of citizens or for the Scheduled Castes and the Scheduled Tribes, the article states.

Article 15 (5)
Article 15(5) moves a step ahead and empowers the country to make reservations with regard to admissions into educational institutions both privately run and those that are aided or not aided by the government. Under this rule, only the minority run institutions such as the Madarsas are exempted.

সমাজ একটা বড় সিস্টেম। সেই সিস্টেমে কেউ রাজা, কেউ প্রজা, কেউ সিপাহী। কিন্তু সমস্যা হয়  যখন এই এত বড় কর্মকাণ্ডের মধ্যে যদি এমন কেউ এসে পড়ে যে এই রাজার রাজতন্ত্রকে ভাঙতে চায়। আর ভাঙবেই না বা কেনো? যখন রাজা তার প্রজাদের শোষণ করছে রক্তচোষার মতো। তাই এই সিনেমায় এটাই চেষ্টা করেছে নিজের অধিকার সম্পর্কে জনগণকে সজাগ করার। আর এখানেই বাধা আসে ধর্ম ব‍্যবসায়ীদের। আত্মতুষ্টির জন‍্য ছিনিমিনি খেলছে দুর্বলদের নিয়ে। সবশেষে একটাই কথা বলছি আমাদের সজাগ ও সচেতন হওয়া একান্ত প্রয়োজন অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়ার জন‍্য।

তথ‍্যসূত্র: উইকিপিডিয়া ও
অন‍্যান‍্য সংবাদ পত্র।
ছবি : গুগল থেকে

No comments:

Post a Comment

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...