Thursday, July 28, 2022

প্রবুদ্ধসুন্দর কর : কবিতা ভাবনা ও স্মৃতিভূত সৃষ্টি


জীবন নিয়ে খাঁচার ভিতর অচিন পাখি জড়িয়ে রাত-প্রভাতের মত কর্মব্যস্ততার অবধারিত ঘুর্ণনে জীবন চিত্রের বদল ঘটে হরেক দিন, এটাই মানব জীবন। চৈত্র-বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের প্রাক্‌পর্ব পর্যন্তও স্বাভাবিক থাকে জীবনাচরণ কোনো কোনো সময় মানুষের, জীব-জন্তু বা পশু- পাখির। চৈত্রের কালবৈশাখী, আষাঢ়ের বাধভাঙা জলেচ্ছ্বাস যেমন ছিন্নভিন্ন করে দেয় প্রকৃতির সাজানো সংসার, তেমনি মানবসভ্যতা ও সতর্কতার তরীকে জীবন নদীস্রোতের বিপরীতে নিয়ে এড়িয়ে চলে বিপদের লাল-সঙ্কেত কাটানো প্রহর।

প্রকৃতিই কখনও আপন খেয়ালে নিজের উল্লাসে মেতে ওঠে, ঝড় হয়ে দেখা দেয় প্রাণধারীর আয়ুতে, আবার প্রকৃতিই কখনও চোখের জলে ভাসিয়ে দেয় স্থল— চরভূমি জলের গভীরতা বাড়াতে। অর্থাৎ প্রকৃতিই প্রকৃতির ওপর— নিজের মনে ও শরীরে চালায় শাসন। অধিকার, হুকুম বা কখনও চূড়ান্ত ঘোষণা; যার ফলে প্রকৃতির সন্তানেরা প্রকৃতিরই লীলায় জীবনের সিসিফাসের ভূমিকায় নানান অবস্থাবৈচিত্র্যের পাথর ঠেলে যায়।কালের আপন খেয়ালে এভাবেই তো মহাবিশ্ব তার গতিব্যস্ততা নিয়ে নিজের কর্তব্য পালন করে।

উত্তর পূর্ব ভারতের বাংলা কবিতার জগতে কবি প্রবুদ্ধসুন্দর করকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার কিছু নেই, আমার সে দুঃসাহসও নেই। আমি একজন মুগ্ধ পাঠক হিসেবে তার কবিতার প্রতি আমার ভালোবাসা ব্যক্ত করছি মাত্র। গত শতাব্দীর নয়ের দশকে লিখতে এসেছিলেন প্রবুদ্ধসুন্দর কর। তার কবিতায় দেখা যায় মনের গভীরতম স্তরে সুখ, শান্তি ও স্থিতির উপরে অন্য কিছুকে মূল্য দিয়ে থাকে।আমরা যেখানে চাই কোনো-এক পরম ও নামহীন সুখ, কোনো-এক চরম নামহীন দুঃখ; এবং যা আমরা জীবনে পাই না, কিংবা যা চাইবার সাহস হয় না আমাদের সেইসব অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাই জীবনের বাইরে খুঁজে বেড়াই। তাঁর জীবন ছিলো একজন বিশুদ্ধ কবির জীবন; যিনি সাহিত্যকে একধরনের ব্রত হিসেবে, নিজের ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। কবিতার মধ্যে দিয়েই তিনি নিজের আত্মসচেতনতার বোধকে নিরন্তর খুঁজে চলেছিলেন - এটাই প্রবুদ্ধসুন্দর করের স্বধর্ম।

কবি তাঁর কবিতায় বলেছেন - গানের ভেতর তোমার প্রশ্বাস স্পষ্ট শোনা যায়/মৃদু, তবু তীব্র এই শ্বাস ছাড়া যেন/সমূহ অন্তরা আজ নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। তিনি সেইসঙ্গে এইটিও বুঝতে পেরেছিলেন যে, নিজের চৈতন্যের দ্বারা সবসময় নিজেকে পরিচালনা করা— মানুষের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কবির ভাঁড় কবিতায় 'জন্মনিরোধক আর বেবিফুড কিনে বাড়ী ফেরে/সেইসব সংখ্যালঘু অর্দ্ধদগ্ধ ভাঁড়/তাদের গোপন আড্ডা থেকে আমাকেও চিঠি দেয়/তীব্র হাহাকার আর গোঙানি মেশানো -- জীবনকে কবিতার সঙ্গে, কবিতাকে জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে চেয়েছিলেন তিনি। কোনো কিছুকেই বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং সমগ্রতার মধ্য দিয়ে সামঞ্জস্য নির্মাণের চেষ্টা করে গিয়েছেন তিনি।

একজন কবিকে প্রতিকূল পরিবেশে যা সবসময় সহায়তা করে, সেইটি হচ্ছে তার নিজস্ব একাকিত্বের বোধ। রিলকে গভীরভাবেই বিশ্বাস করতেন যে শিল্প সবসময়ই এই অন্তহীন এককিত্বের ফসল। একমাত্র ভালোবাসা, আন্তরিকতাই পারে তাকে কোনো-নাকোনোভাবে স্পর্শ করতে। এই বিশ্বাস থেকেই রিলকের মতো কবি বলতে পারেন,জঙ্গলের ভেতর কোথাও এক পরিত্যক্ত রেডিও স্টেশন/কোনো একদিন খুঁজে পেলে জেনো, স্তব্ধতাই এর সিগনেচার টিউন'।

কবি প্রধানত নতুন সমাজের একজন অভিনব প্রেক্ষক।নিজের নিজের জীবনের অনুভূত প্রকৃতিকেও সমাজের মতোই কবিতার বাঁধনে ঢেলে পরিবেশন করেন। প্রতি কবির সৌন্দর্যবোধ আলাদা। কবি প্রবুদ্ধসুন্দর করের যে সৌন্দর্যচেতনা কবিতায় উদ্ভিন্ন তা-ই বাস্তবের বিশিষ্ট সন্ধান। কবির ভাষায়— “ প্রেমিক ও তোমার মাঝখানে নড়বড়ে সাঁকো পার হতে গিয়ে বুঝেছিল কবি,কাকে বলে ছায়াপ্রতারণা। স্থির জলে প্রেমিকের ছায়া, মুখে মাংসখন্ড, দেখে কবি কেঁপে উঠেছিল। লোকমুখে শোনা যায় নিজের ছায়াকে তার, প্রেমিকের ছায়া ভেবে ভ্রম হয়েছিল।”

গত পঁচিশ বছরে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর সাতটি কবিতার বই। উত্তরপূর্বের তরুণ কবিদের নিয়ে সম্পাদনা করেছেন শ্রেষ্ঠ বাংলা কবিতার সংকলন। যৌথভাবে সম্পাদনা করেছেন উত্তরপূর্বের কবিতা।'বাংলাকবিতা'-র ১০টি সংখ্যার ছিলেন যৌথ সম্পাদকও। অনুবাদ করেছেন ভারতবর্ষের প্রাদেশিক অন্যান্য ভাষার সমকালীন কবিতা। কবি ও তাঁর কবিতার বিশ্লেষণের আর শেষ নাই।পরতে পরতে খুলে যায় তার বিভিন্ন দিক। তবে 'পাহাড়ি রাস্তার বাঁকে পাথরের ফলকের গায়ে স্মরণযোগ্য পঙ্‌ক্তির মতো ইঙ্গিতবহ এ আর্তি' -- এর বুকের ব্যাথাটুকু যে আমাদের প্রতিনিয়ত বিষণ্ণ ও শঙ্কিত করে তুলবে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

Wednesday, July 27, 2022

শুভেচ্ছা দীনেশ গুণবর্ধনে!


এ কি,শ্রমিক নেতা দীনেশ গুণবর্ধনে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী। ধর্মীয় উন্মাদনা ও বৈদেশিক ঋণে নিমজ্জিত দেশকে উদ্ধার করতে সক্ষম হবেন তো!

 দীনেশ গুণবর্ধনে একজন ট্রেড ইউনিয়ন নেতা, যিনি ২২ জুলাই ২০২২ -এ শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৭৩ সালের আগস্টে দীনেশ গুণবর্ধনে বামপন্থী মহাজন একথা পেরামুনা (এমইপি) এর কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিযুক্ত হন। তারপর সাধারণ সম্পাদক হন ১৯৭৪ সালে MEP এর।

 দীনেশ চন্দ্র রূপসিংহে গুণাবর্ধনে (জন্ম ২ মার্চ ১৯৪৯), রয়্যাল প্রাইমারি স্কুল এবং রয়্যাল কলেজ, কলম্বোতে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। এরপর নেদারল্যান্ড স্কুল অফ বিজনেস থেকে উচ্চ শিক্ষা লাভ করেন। আমেরিকার ওরেগন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন। এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধ বিরোধী বিক্ষোভেও অংশগ্রহণ করেন। তারপর ১৯৭২ সালে তার পিতার মৃত্যুর পর কলম্বোতে ফিরে আসেন।

 দীনেশ গুণাবর্ধনের বাবা ফিলিপ গুনাবর্ধনে এবং মা কুসুমা। তার বাবা শ্রীলঙ্কার সমাজতন্ত্রের পিতা হিসাবে পরিচিত। ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ আমলে দেশটির স্বাধীনতার আগে তার বাবা  বামপন্থী সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট মুখ ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় শ্রীলঙ্কা থেকে পালিয়ে এসেছিলেন ভারতে। বাবা ফিলিপ এবং মা কুসুমা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর, তারা সেই সময়ে শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতার জন্য লড়াইরত আন্ডারগ্রাউন্ড অ্যাক্টিভিস্টদের মধ্যে ছিলেন। যাদের দুজনকেই ১৯৪৩ সালে ব্রিটিশ গোয়েন্দারা বন্দী করেছিলেন। সংক্ষিপ্তভাবে তাদের মুম্বাইর আর্থার রোড জেলে রাখা হয়েছিল। এক বছর পরে ফিলিপ এবং তার স্ত্রী কুসুমাকে নিজ দেশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং দুজনই শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতার পরই মুক্তি পান।

১৯৪৮ সালে শ্রীলঙ্কা যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ফিলিপ এবং কুসুমা উভয়েই সংসদ সদস্য হন, ফিলিপ ১৯৫৬ সালে গণবিপ্লব সরকারের একজন প্রতিষ্ঠাতা নেতা এবং ক্যাবিনেট মন্ত্রী ছিলেন।উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ে  ফিলিপ গুনাবর্ধনে, জয়প্রকাশ নারায়ণ এবং ভি কে কৃষ্ণ মেননের সহপাঠী ছিলেন। তিনি আমেরিকান রাজনীতিতে সাম্রাজ্যবাদ থেকে স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন এবং পরে লন্ডনে ভারতের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লীগের নেতৃত্ব দেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে ব্যক্তিগতভাবে জড়িত থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু কলম্বো সফরের সময় ফিলিপের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তার প্রশংসা করেছিলেন এবং পরিবারকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন।

দীনেশ গুণবর্ধনে তার বাবা-মায়ের মতো,  ভারতের সাথে আরও ভাল সম্পর্কের একজন মানবপ্রীতি হিসেবে খুব পোক্ত উদাহরণ। গুণবর্ধনে ১৯৭৭ সালের সাংসদ নির্বাচনে আভিসাভেলাতে এমইপি প্রার্থী ছিলেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। আবার ১৯৮৩ সালের মহারাগামা জেলার উপ-নির্বাচনে জয়ী হন এবং সংসদে প্রবেশ করেন।১৯৮৯ এবং ১৯৯৪ এ সংসদীয় নির্বাচনে MEP প্রার্থীদের মধ্যে একজন ছিলেন। কিন্তু তার দল একটি আসনও জিততে পারেনি। কলম্বো জেলা MEP পিপলস অ্যালায়েন্স (PA) এ যোগদান করে ২০০০ এবং ২০০১ সালে পুনরায় নির্বাচিত হন। ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্স (UPFA) ২০০৪ সালে শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টি (SLFP) এবং জনতা বিমুক্তি পেরামুনা (JVP) দ্বারা গঠিত হয়েছিল, গুনাবর্ধনের দল এতে যোগ দেয়, ২০০৪ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং জিতেছিল, জুন 200৮ সালে প্রধান সরকারি সচেতক হিসেবে নিযুক্ত হন।

বৈবাহিক জীবনে গুণবর্ধনে জীবনসঙ্গী ছিলেন রমানি ভাতসালা কোটলাভেলা। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে, ইয়াদামিনী নামে একজন পুত্র যিনি বর্তমানে সংসদ সদস্য, এবং সাঙ্কপালি নামে একজন কন্যা। রামানি ১৯৮০-এর মাঝামাঝি সময়ে হেপাটাইটিসে মারা যান।

শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি রনিল বিক্রমাসিংহে ইতিমধ্যেই বলেছেন যে তিনি রাষ্ট্রপতির কার্যালয় দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে চান। যদিও দীনেশ গুণাবর্ধন কে প্রধানমন্ত্রী বানানো হয় শ্রীলঙ্কার নিরাপত্তা বাহিনী রাষ্ট্রপতি ভবনের কাছে ক্যাম্পিং করা বিক্ষোভকারীদের তাড়িয়ে দেওয়ার পর। শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে উইং জনতা বিমুক্তি পেরামুনা (জেভিপি) মাত্র তিন ভোটে জয়ী হয়েছে।  সংসদের মোট ২২৫ জন সদস্য রয়েছেন, দুইজন সংসদ সদস্য নির্বাচনে বিরত ছিলেন, এবং চারটি ভোট বাতিল করা হয়েছিল।

এটা সত্য যে শ্রীলঙ্কার জনগণ ক্ষুধা, রোগ, বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতিতে ভুগছে, তারা প্রতিদিনের দুর্ভোগ, দুঃখ, বেদনা, যন্ত্রণায় ভিতর থেকে ধুঁকছে, যা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, তাদের ব্যক্তিগত বাসভবন এবং তাদের আবাসস্থলকে গ্রাস করেছে। অনেক মাস ধরে। তারপর শ্রীলঙ্কার রাস্তাও দৃশ্যমান ছিল অনেক কিছু। আমরা জানি যে শ্রীলঙ্কার মূল সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা সেখানে রাষ্ট্রপতির কাছেই থাকে। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী পরিষদের প্রধান, তবুও এখন এটি দেখতে আরও আকর্ষণীয় হবে। এতোদিন শুধু যাদের মুখে ছিল জাতীয়তাবাদী কথা। এই শক্তি দ্বারা লালিত শ্রীলঙ্কা ধর্মীয় উম্মাদ, আর্থিকভাবে বিধ্বস্ত, সম্পূর্ণরূপে বিদেশী ঋণে নিমজ্জিত দেশে, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, দীনেশ গুণবর্ধনে,সংসদীয় বামপন্থী পদ্ধতির মাধ্যমে শ্রমজীবী ​​মানুষের জন্য কী করতে পারেন? ? শ্রীলঙ্কার আগামী ব্রেকিং নিউজের অপেক্ষায় আমরাও রইলাম।।

Tuesday, July 19, 2022

এবার ভবিষ্যৎ বদলাবে


আমরা নতুন করে আবারও প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্ৰপতি পেতে চলছি। ভারতে সম্ভবত ১৫তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শ্রীমতি দ্রৌপদী মুৰ্মু নির্বাচিত হতে চলেছেন। 

 ১৮ জুলাই , ২০২২ তারিখে অর্থাৎ আগামীকাল আমাদের দেশের রাষ্ট্ৰপতি নিৰ্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বৰ্তমান রাষ্ট্ৰপতি মাননীয় রামনাথ কোবিন্দের কাৰ্যকাল শেষ হওয়ার পর এই নিৰ্বাচন হবে স্বাধীন ভারতের পঞ্চদশতম রাষ্টপতি নিৰ্বাচন৷ আগামী ২১ জুলাই, ২০২২ তারিখে দেশ নতুন এবং পঞ্চদশতম রাষ্ট্ৰপতি লাভ করবে। ইতিমধ্যে এন ডি এ- র তরফ থেকে বিজেপি দলের সদস্য, প্রাক্তন বিধায়িকা, প্ৰাক্তন মন্ত্ৰী এবং ঝারখণ্ডের প্রাক্তন রাজ্যপাল দ্রৌপদী মুৰ্মুকে এবং ইউ পি এ- র তরফ থেকে প্রাক্তন প্ৰশাসনিক বিষয়া, প্ৰাক্তন কেন্দ্ৰীয় বিত্তমন্ত্ৰী, প্রাক্তন বিজেপি নেতা এবং বৰ্তমানের তৃণমূল কংগ্ৰেসের সদস্য যশোবন্ত সিনহাকে রাষ্ট্ৰপতি পদের প্রাথী হিসেবে মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে।

স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্ৰপতি নিৰ্বাচন সমূহের ভিতরে হয়তো এই বারের নিৰ্বাচনটাই সৰ্বাধিক চৰ্চিত রাষ্ট্ৰপতি নিৰ্বাচন হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। মূলত: এই দুইজন প্ৰাৰ্থীর রাজনৈতিক জীবন বিজেপি দল থেকে আরম্ভ হয়েছিল। অবশ্য যশোবন্ত সিনহা প্রধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্ৰ মোদীর সঙ্গে থাকা মতানৈক্যের জন্য বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্ৰেসে যোগদান করেছিলেন।

বিজেপি নেতৃত্বাধীন এন ডি এ- র তরফ থেকে ভারতের অন্যতম আদিবাসী জনগোষ্ঠী সাওঁতাল জনগোষ্ঠীর মহিলা দ্ৰৌপদী মুৰ্মুক প্ৰাৰ্থীত্ব প্ৰদান করে আদিবাসীদের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর চেষ্টা শাসকগোষ্ঠী বিজেপি দলের। অন্যদিকে কেন্দ্ৰতে শাসনে থাকা দলীয় প্রাৰ্থী প্রায় প্ৰতিবারই জয় সাব্যস্ত করে আসছে। সেই দিক থেকে চিন্তা করলে এইবারের রাষ্ট্ৰপতি নিৰ্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এন ডি এ- র প্ৰাৰ্থী মুৰ্মুরের জয়লাভ করার সম্ভাবনাই প্রবল।

গত নিৰ্বাচনে এন ডি এ- র দলিত প্ৰাৰ্থী রামনাথ কোবিন্দ ইউ পি এ- র দলিত প্ৰাৰ্থী মীরা কুমারকে হারিয়ে রাষ্ট্ৰপতি হিসেবে নিৰ্বাচিত হয়েছিলেন। একজন দলিত রাষ্ট্ৰপতি লাভ করার পর ভারতের শোষিত, বঞ্চিত এবং পদে পদে লাঞ্চিত দলিতরা সামাজিক অন্যায়ের থেকে মুক্তি পাওয়ার আশা দেখেছিল। কিন্তু কাৰ্যতঃ তা কতটা হয়েছে সবারই প্রায় জানা। বরং দলিত হত্যা এবং উচ্চ বৰ্ণের দ্বারা দলিতদের প্রতি চলে অন্যায় অবিচার।

আজকের তারিখে এন ডি এ- র প্ৰাৰ্থী আদিবাসী সাওঁতাল মহিলা দ্ৰৌপদী মুৰ্মুকে নিয়ে ভারতের আদিবাসী সমাজে এক স্বপ্ন দেখছে। এটা স্বাভাবিক। সাধারণ খেটে খাওয়া দরিদ্ৰ, যুগে যুগে বঞ্চিত সকল আদিবাসী ভাবছে যে দেশের রাষ্ট্ৰপতি একজন আদিবাসী মহিলা হবে আর তার দ্বারা আদিবাসীদের কঠোর জীবন যাত্ৰা মুক্তির পথ খোঁজে পাবে। পক্ষান্তরে এভাবেই বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে তাদেরকে।

কিন্তু সচেতন মহল তথা সচেতন আদিবাসী সমাজ এই কথা ভালভাবে বোঝতে পারছ যে দ্ৰৌপদী মুৰ্মুকে প্ৰজেক্ট করে বিজেপি দল ভোট বেংকের রাজনীতি করার জন্যে সকল আদিবাসীর জল, জংগল এবং জমিনের উপরে পুঁজিপতির অবাধ দখলের সুক্ষ্ম চিন্তা করছে। ইতিমধ্যে Forest Conservation Rules এর সংশোধন করে নেয়া হয়েছে। যার ফলে ট্ৰাইবেল/আদিবাসী এবং অন্যান্য যারা জঙ্গলে বসবাস করা জনগোষ্ঠীর থেকে জঙ্গল কাটতে কোন ধরনের অসুবিধা নাহয় সরকার অনুমোদন গ্রহণ করতে পারবে।

এবার দেখে নেয়া যাক তিনি পিছিয়েপড়া তথা সংখ্যালঘুদের পাশে কতটা সরব ছিলেন।দ্ৰৌপদী মুৰ্মুর এই ধরনের ট্ৰাইবেল বিরোধী রাজনৈতিক ঘটনা পরিঘটনার কোনো কালেই বিরোধিতা করেন নাই। তিনি উড়িষ্যাতে হওয়া খৃষ্টান মিশনারি এবং খৃষ্টান মানুষের হত্যার সময়েই মৌন ছিলেন। তিনি উড়িষ্যায় বিজেডি-বিজেপি এলাইন্স সরকার থাকা কালীন একজন বিধায়িকা এবং মন্ত্ৰী ছিলেন। সেই সময়েও ২০০২ সনের ০২ জানুয়ারি তারিখে উড়িষ্যা পুলিশ ১৩ জন আদিবাসী গুলি করে হত্যা করেছিল। সেইসময়ে ও তিনি মৌন অবস্থায় ছিলেন। প্ৰতিবাদের কোনো শব্দ উচ্চারণ ছিল না তার মুখে।

অসমে বসবাস করে থাকা বহু হাজার সাওঁতাল এবং অন্যান্য আদিবাসী দীৰ্ঘদিন ধরে জনজাতির স্বীকৃতি, মাটির অধিকার এবং চা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি ইত্যাদি দাবী পূরণের জন্য করে আসা সংগ্ৰামের প্রতি, তাদের সমস্যা সমূহের সমাধানের প্রতি দ্ৰৌপদী মূৰ্মুরের কোনো সমৰ্থন কখনও আমরা দেখ নাই। অসমের চা বাগানগুলো পুঁজিপতির দ্বারা শোষিত হয়ে থাকা বহু লক্ষ আদিবাসী মানুষের দুৰ্দশার বিষয়ে তিনি নিশ্চয় জানেন। কখনওবা তিনি তাদের হয়ে একটা শব্দ ও বলেছেন? আমরা দেখি নাই, আমরা শুনি নাই।

ডলু চা বাগানের অন্যায়ের কথা তিনি কি শুনেন নি? বুলডজার দিয়ে কিভাবে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। যোরহাট, গোলাঘাট জিলায় বিগত কিছু দিন পূর্বে ঘটে যাওয়া অবৈধ এবং বিষাক্ত চুলাই কাণ্ডে প্রায় ১৫০ জন আদিবাসী চা শ্রমিকের প্রাণ হারানোর ঘটনা সমগ্ৰ দেশ অনুতপ্ত হয়েছিল। বা কিভাবে সমস্ত দেশে বুলডজার রাজ চলছে এ নিয়ে কিছু বলতে। এইধরণের ঘটনা নিয়ে তিনি কোনো ধরনের কথা রেখেছেন বলে আমরা দেখি নাই।

২০০৭ সনের ২৪ নভেম্বর বেলতলা কাণ্ড সমগ্ৰ দেশ কেঁদে ছিল। লক্ষ্মী ওরাং এর উপরে হওয়া নিৰ্যাতনের ঘটনা সমগ্ৰ দেশের সচেতন মহল এক বাক্যে ধিক্কার দিয়েছিল। অসমে কংগ্ৰেস সরকারের দিনে ঘটা এই নিকৃষ্ট ঘটনার মামলা বিজেপি র সময়ে প্রায় বন্ধ করে দেয়া হয়। কারণ হিসেবে বলা হয় যে লক্ষ্মী ওরাং কাপড় খুলে রাজপথে ধাওয়া ও মারধরের কোনো প্রমাণ নেই। অসমে ভোট পাওয়ার জন্য তো মাননীয়া রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী আসলেন তো ঠিকই। কিন্তু লক্ষ্মী ওরাং এর বিষয়ে কি কোন খবর নিয়েছেন? নিম্ন অসমে গোষ্ঠী সংঘৰ্ষে বলি হওয়া উনারই স্বগোষ্ঠী সাওঁতাল মানুষের কি তিনি কোনো খবর নিয়েছেন ? তিনি কি জানেন তারই স্বগোষ্ঠীয় বহু শিশু, মহিলা, বৃদ্ধ অসমে সন্ত্ৰাসবাদী হামলায় হত্যা করা হয়েছে ?

দ্ৰৌপদী মূৰ্মু ঝাড়খন্ডের রাজ্যপাল হয়ে থাকা সময়ে ঝাড়খন্ডের বিজেপি সরকার রাষ্ট্ৰদোহ মামলায় ভারতের ভিতরে সৰ্বাধিক যুবক-যুবতীদের কারারুদ্ধ করেছিল। বিজেপি শাসিত ছত্তিশগড়ে প্রায় ৬ লাখ লোক নিজের ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়ে ছিল। সেইজন্য একজন আদিবাসী মহিলা ভারতের রাষ্ট্রপতি হলেই যে বৰ্তমানের রজনৈতিক ব্যবস্থা সকল আদিবাসীদের দীৰ্ঘদিনের শোষণ এবং নিপীড়ন থেকে মুক্ত করতে পারবে তার কোনো নিশ্চয়তা নাই।

এখন প্রশ্ন হল এন ডি এ- র দ্ৰৌপদী মুৰ্মু রাষ্ট্ৰপতি নাহয়ে যদি ইউ পি এ- র যশোবন্ত সিনহা হন তাহলে সকল আদিবাসীদের সাপে বর হবে নাকি? উত্তরটা হবে- মুঠেই না। যশোবন্ত সিনহার জয়ের সম্ভাবনা নাই। জিতলেও ভারতের একজন রাষ্ট্ৰপতি এমনিতেই বিশেষ কোনো ক্ষমতা নাই যে এই ধরনের এক বৈপ্লবিক কিছু একটা করবেন।আদিবাসীদের উন্নয়ন, অধিকার বা আত্ম নিয়ন্ত্ৰণের ক্ষেত্ৰে উনার ভূমিকা শূন্য এবং দ্ৰৌপদী মুৰ্মুরের মত তিনি একদিকে বিজেপি আর এ এস- র লোক। অন্যদিকে রাষ্ট্ৰপতি নিৰ্বাচন নিয়ে এন ডি এ- র তুলনায় ইউ পি এ- র রণনীতি নেহাত দুর্বল এবং অসংঘবদ্ধ৷

আরেকটি প্রশ্ন হতে পারে যে ট্ৰাইবেল/আদিবাসী তথা চা শ্রমিকের দুৰ্দশাতে কথা না বলার জন্য একা দ্ৰৌপদী মুৰ্মুকে কেন জবাবদিহি হতে হবে? আরও বহু নেতা-নেত্ৰী, দল-সংগঠন আছে। তাদের ভূমিকা কি? এর উত্তরটা হল- ভারতের ওরাং, মুণ্ডা, সাওঁতাল, খেরিয়া, গৌড়, ভূমিজ, পানিকা, প্ৰজা, চাওঁরা,কোল, ভীল আদি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য গুলমূল দুৰ্ভাগ্যজনক কথাটা হচ্ছে যে স্বগোষ্ঠীয় নেতা এবং দল-সংগঠনগুলো তাদেরকে বেশিরভাগ সময় ঠকিয়েছে এবং রাজনৈতিক মুনাফা লাভের জন্য ব্যবহার করে নিজে মন্ত্ৰী, সাংসদ হয়ে ঘর, মাটি, গাড়ী নিয়ে বিলাসীতায় জীবন কাটাচ্ছে। দুএকজন নেতা বা সংগঠন অবশ্যই ব্যতিক্ৰম।

অতএব দ্ৰৌপদী মুৰ্মুরের মতো আদিবাসী নেত্ৰী বহুবার বিধায়ক এবং মন্ত্ৰী হওয়ার পরও নিজের গ্রামটার ও বিদ্যুৎ সংযোগ করতে পারেন নাই খুবই দুঃখজনক এবং হতাশাজনক ও বটে। একজন আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্ৰপতি পদের প্ৰাৰ্থী হিসেবে দাড়াঁনো আদিবাসীদের আশা আকাংক্ষাকে আরও একবার আঘাত করে আদিবাসীদের জল, জঙ্গল এবং জমিন পুঁজিপতিকে হস্তান্তর করা এই কুচকাওয়াজের শব্দ হলো ভয়ানক বিষয়। ভারতের যষ্ঠদশ একজন রাষ্ট্ৰপতি আদিবাসী মহিলা হলে ভারতের আদিবাসী সমাজ যা পাবে তার চাইতে বহু বেশি পরিমাণে যে অনেক কিছু হারাতে হবে সেই কথা ইতিমধ্যে সচেতন মহলে খুব ভালো করে বোঝতে পারছে।

এরপর ও আমাদের আগামী রাষ্ট্রপতি উপরোক্ত কথাগুলো থেকে সরে দাঁড়িয়ে দেশের মানুষের পাশে থাকবেন এই আশা রাখি। তার সাথে রইল অগ্রিম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

চন্দ্রাভিযান : মানুষ উড়ালো বিজয় পতাকা

"That's one small step for a man, one gaint leap for mankind "

আজ থেকে ৫২ বছর আগে, এই দিনেই, ১৯৬৯ সালের ১৬ জুলাই ‘স্যাটার্ন ৫’ রকেটে চেপে চাঁদে পাড়ি দিয়েছিল ‘অ্যাপোলো ১১’। আজ সেই ঐতিহাসিক দিন।প্রথম চাঁদের মাটিতে পা পড়ল মানবের। মানব সমাজের প্রতিনিধি হিসাবে পা দিলেন নীল আর্মস্ট্রং ও বাজ অলড্রিন। চন্দ্র পৃষ্ঠের রুক্ষ ভূমিতে উড়ল মানুষের বিজয় পতাকা। মানবসভ্যতার ইতিহাসে শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়। সফল হলো নাসার চন্দ্রাভিযান। তার পর থেকে একাধিক বার চাঁদে পাড়ি দিয়েছে মানুষ। অ্যাপোলো ১১-র ৫২ বছর পূর্তি উপলক্ষে একবার দেখে নেওয়া যাক সে দিনের সেই জার্নিটা।

ফ্লরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ হয়েছিল অ্যাপোলো ১১-এর। তিন জন মার্কিন মহাকাশচারী সে দিন চাঁদের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। নীল আর্মস্ট্রং, এডুইন (বাজ) অলড্রিন এবং মাইকেল কলিন‌্স। চাঁদের মাটিতে পা রেখে বদলে দিয়েছিলেন মানবসভ্যতার ইতিহাস। ১৬ জুলাই রওনা দিয়েছিলেন তাঁরা। চাঁদের মাটিতে পৌঁছতে তাঁদের সময় লেগেছিল ৪ দিন। অর্থাৎ ২০ জুলাই চাঁদের কক্ষপথে প্রদক্ষিণের পর চাঁদের মাটিতে নামেন তিন মহাকাশচারী।

সে দিন চাঁদের মাটিতে প্রথম পা রাখেন মার্কিন মহাকাশচারী নীল আর্মস্ট্রং। তার পরে নামেন এডুইন অলড্রিন। সব শেষে নামেন পাইলট মাইকেল কলিন‌্স। চাঁদে মানুষের সেই প্রথম পদার্পণের ঘটনা বিশ্বজুড়ে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছিল সে দিন। একটি ব্যাগে নমুনা হিসেবে ২১.৫ কিলোগ্রাম চাঁদের মাটি এবং পাথর ভরে ফিরে এসেছিলেন তিন মহাকাশচারী। পরে জানা গিয়েছিল, সেই ব্যাগটি হারিয়ে ফেলেছিল নাসা। তবে ২০১৩ সালে সেটির খোঁজ মেলে। তবে ২০১২ সালে মাত্র ৯৯৫ ডলার অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় ৭৫ হাজার টাকার বিনিময়ে এক ব্যক্তিকে ওই ব্যাগটি বিক্রি করে দিয়েছিল মার্কিন মার্শাল বিভাগ।

যে রকেটে চেপে উড়ে ছিল অ্যাপোলো ১১, তার উচ্চতা ছিল ৩৬৪ ফুট। ওজন ছিল ২ লক্ষ ৩৯ হাজার ৭২৫ কিলোগ্রাম। আর অ্যাপোলো ১১-র ওজন ছিল ৪৫ হাজার ৭০২ কিলোগ্রাম। পৃথিবী থেকে উৎক্ষেপণ এবং ফের পৃথিবীতে অবতরণ— এই মিশনটা সম্পূর্ণ হতে মোট সময় লেগেছিল ৮ দিন ৩ ঘণ্টা এবং ১৮ মিনিট।

তথ্য সূত্র : উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।

Sunday, July 17, 2022

আবার সিংহ জেগেছে নরসিংহ রূপে


"সিংহদের আক্রমনাত্মক হওয়ার কথা ছিল কিন্তু এই সিংহরা (অশোকের) আক্রমণাত্মক নয়। এই সিংহ সৌম্য,শান্তি ও সুরক্ষার বার্তা দেয়। নতুন সিংহের মধ্যে দাঁত বেশি দেখা যায় যা পুরোনো সিংহদের ক্ষেত্রে দেখা যায় না।"
--- ইতিহাসবিদ হারবনস

প্রথম কথা হলো সম্রাট অশোকের অশোকস্তম্ভের আদি রূপ শান্তির বার্তা নিয়ে ঐক্যবদ্ধ শাসন ব্যবস্থার প্রতীক ছিল। দাঁত দেখানো "আক্রমনাত্মকতার" একটি শক্তিশালী চিহ্ন যা "আক্রমনাত্মক জাতীয়তাবাদ" দেখায় যা চিত্রিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি অসচেতনভাবে করা হয়নি বা শৈল্পিক স্বাধীনতা নয়।প্রত্যেক শিল্পীদের স্বাধীনতা আছে কিন্তু শিল্পের অংশটি যে মৌলিক বার্তা দিতে চায় তা তারা পরিবর্তন করতে পারে না।

 দাঁতগুলি এখানে বিশেষভাবে আক্রমনাত্মক। এটি মৌলিক প্রকৃতির পরিবর্তন করে। পরিবর্তনগুলি একটি অর্থ বহন করে। এই সরকার কী ধরনের বার্তা দিতে চাইছে? আপনি কি ভারতকে একটি শান্তিপূর্ণ দেশ থেকে একটি আক্রমণাত্মক দেশে রূপান্তরিত করছেন? সম্রাট অশোক অহিংস হন তবে সিংহের বদলে গোমাতার মূর্তি স্থাপন করে নজির গড়তে পারতেন! কিন্তু এই সিংহ তো নিরিহ শান্ত স্বভাবের ছিল। তাঁর সিংহ অনাক্রমণের প্রতিক বলা যায়।

কিন্তু আমাদের নতুন সিংহ গর্জনরত অবস্থায়। যে সবকিছু গোগ্রাসে গিলে ফেলতে চায়। সে খুব ক্ষুধার্ত। শিকার ধরতে একদম সকল প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছে। ঝোপ বোঝে কোপ মারবে। কিন্তু পুরোনো অশোকস্তম্ভে লিখা ছিল সম্রাট অশোকের হিংসা না করার অঙ্গীকার আর পালি ভাষায় ডিক্লেয়ারেশন।

ইতিহাসের প্রতিটা সময়েই আমরা দেখেছি তার সময়কার শাষকের চিন্তাধারা বিভিন্ন স্থাপত্য শিল্পে প্রকাশ পায়।অতিতের অশোক স্তম্ভও বুদ্ধের চিন্তা ও চরিত্র প্রকাশ পেয়েছিল। ঠিক একইভাবে বর্তমানের অশোক স্তম্ভ তার এই সময়ের বাস্তব রূপ চিত্রিত করেছে।

যেখানে প্রায় ৯৫কোটি লোক পুষ্টিকর খাবার খেতে পায় না সেখানে জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে সংসদ ভবনে আবার নতুন সংস্করণে অশোক স্তম্ভ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু তার হয়ত আমার ক্ষুদ্র মগজে ঢুকছে না। নরখাদক এই সিংহ মূর্তি স্থাপন করে দেশের মধ্যে কি বার্তা বহন করবে এটাই দেখার এখন সময়। কথা হলো এই সিংহের স্বভাব গর্জন ছেড়ে মিয়াঁও মিয়াঁও করবে না তো?

Tuesday, July 12, 2022

সাত নম্বরে কে আসছে?


‘আমার সারা জীবনে এভাবে পুরো দেশকে একজন ব্যর্থ নেতাকে হটানোর একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এক হতে দেখিনি। সরকারি বাসভবনের করুণ পরিণতিই আপনার ভবিষ্যৎ বলে দিচ্ছে। শান্তিপূর্ণ পথে বিদায় হোন। গোতা আজই চলে যান।’

‘আমি সব সময় শ্রীলঙ্কার মানুষের সঙ্গে আছি। তাদের এ বিজয় উৎযাপন করব শিগগিরই। কোনো নিয়ম লঙ্ঘন না করে এই বিক্ষোভ অব্যাহত থাকুক। অবরোধ শেষ হয়েছে। দুর্গের পতন হয়েছে। মানুষের ক্ষমতার জয় হয়েছে। এখনই পদত্যাগ করে সম্মানজনকভাবে বিদায় নিন।’ 

-শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সনৎ জয়সুরিয়া।

কলম্বোতে গণ অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি রাজাপাকসে আগামী ১৪ জুলাই আনুষ্ঠানিক ভাবে পদত্যাগ করবে। হাজার হাজার পুরুষ, মহিলা এবং শিশু প্রভাবশালী রাষ্ট্রীয় প্রাসাদে সারিবদ্ধ হয়ে উপরের তলায় রাষ্ট্রপতি গোতাবায়া রাজাপাকসের চেয়ারে বসার জন্য ঢেলে দিচ্ছিল যখন শিশু এবং পিতামাতারা নীচে একটি গ্র্যান্ড পিয়ানো বাজছিল।রাজপ্রাসাদের মনোমুগ্ধকর "গর্ডন গার্ডেন" পার্কে, হাস্যোজ্জ্বল পরিবারগুলি পিকনিকের মধ্যাহ্নভোজ উপভোগ করেছিল, 'বেলা চাও'ছিল মুখে মুখে। আর বৌদ্ধ ভিক্ষুরা সেফরোন পোশাকে মার্বেল মেঝে এবং কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বিস্মিত হয়েছিল। নেতারা যখন এমন বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন, তখন তাদের কোন ধারণা থাকে না যে সাধারণরা ভবিষ্যতে কীভাবে পরিচালনা করতে পারে?

ঠিক যেমনটা আমাদের মতো। প্রায় যেভাবে বলা হয়ে থাকে 'হিন্দু খাতরে মে হ্যায়'। দেশটিতে প্রায় ৭৫% সিংহলীরা থাকলেও তারা দশকের পর দশক থেকে বিপন্নতার কৃত্রিম ধারণাকে সত্যরূপে দেখিয়ে একটা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। তার ফলস্বরূপ তামিল ও মুসলিমরা বৈষম্য ও হিংসার চরম শিকার হয়। বিভিন্ন রিপোর্ট থেকে জানা যায় ২০১৩ সাল থেকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে চলে আসছে চরম অমানুষিক নির্যাতন। কখনো বা বোরখা-হিজাব, কখনো বা মসজিদ মাদ্রাসাগুলোতে আক্রমণ করা হয়েছে। 

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধিয়ে সংখ্যালঘু বিদ্বেষী কার্যকলাপের মাধ্যমে সিংহলী উগ্রজাতিয়তাবাদী রাজনীতির তীব্র অনুশীলন করা হয়। এর একমাত্র কারণ ছিল ধর্মীয় ও জাতিগত মেরুকরণ ধরিয়ে অর্থনৈতিক সংকট থেকে জনগণের নজর ঘুরিয়ে রাখা। উদার অর্থনীতির নামে একটি কল্যানকামী রাষ্ট্রের যেসব উদাহরণ তার তছনছ করে দেওয়া হয়। রাজাপক্ষরা ভেবেছিল এই ধর্মীয় মেরুকরণ ধরিয়ে রাখতে পারলেই রাজগদী আর হারাতে হবে না। তবেই কেল্লাফতে। কিন্তু ক্ষুধার আগুন যখন দাউদাউ করে জ্বলে তখন কি আর ধর্মীয় মেরুকরণ আর উদার অর্থনৈতিক বুলডজার চালানো সম্ভব! জনগণ গলার গামছা ধরে রাজপথে নামতে আর কি তোয়াক্কা করে? তবে যেযাই বলো ভাই, সারে যাহা সে আচ্ছা হিন্দুস্তান হামারা'। হ্যাঁ, এটা সত্য যে কোনভাবেই ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি বা ধর্মীয় শুড়শুড়ি-উন্মাদনায় একটা কল্যাণকামী রাষ্ট্র কোনভাবেই তৈরি হতে পারে না।

এখন কথা হলো আমাদের ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ততটা ফারাক নেই। দূরত্ব ও বড়জোর ৫৫ কিলোমিটার জলপথে। তারসাথে ধর্মীয় মেরুকরণ ও উদার অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও আমাদের রয়েছে। চোখের পলকে এশিয়া মহাদেশের আরো ক্লিয়ার করে বললে দক্ষিণ এশিয়ার ৮ টির মধ্যে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপাল, মালদ্বীপ, মায়ানমার, ভুটান এবং শ্রীলঙ্কার সহ ৬টি দেশের সরকার পরিবর্তন হলো। 

Who is Next ?

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=428927585914300&id=100063911868609

Friday, July 8, 2022

ধর্মান্ধতা মানুষের অবনতির পথ


ধর্মীয় আচার ব্যাবহার বা ধর্মের প্রতি আবেগ অনুভূতি এই উপমহাদেশে খুব বেশি। আমরা যারা এই উপমহাদেশের বাসিন্দা তাই অন্যান্য দেশের মানুষ যতই তাদের জীবন ধারণের মানদণ্ড উন্নত হোক না কেন তাতে কিছুই যায় আসে না। ধর্মের মোহ মানুষের চিন্তা জগতকে কতোটা নির্মমভাবে প্রভাবিত করতে পারে, তার দৃষ্টান্ত বিশ্ব ইতিহাসে বিরল নয়। মানুষের চিন্তায় ধর্মের মতো একটা কাল্পনিক এবং তাদের দৈনন্দিন জীবন জীবিকার সাথে প্রকৃতিগতভাবে সম্পর্কহীন বিষয়টা কিভাবে এতো বিপূলভাবে সম্পৃক্ত, সমৃদ্ধ ও বিকশিত হতে পারলো, সেই প্রশ্ন আমাদের অনেকেরই। অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে এই অজুহাতে উগ্র ধর্মবাদিরা নিজ ধর্মের সমালোচকদের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিতে চাইছে, শুধু তাই নয়, তাদের অস্তিত্বও নিশ্চিহ্ন করতে চাইছে। ধর্মীয় আদর্শ অন্য সকল মতাদর্শকে পিছনে ফেলেছে শুধু নয়, জ্বালাও, পোড়াও, ভাঙচুর, ফতোয়া, ফাঁসির দাবি, গ্রেফতার, খুন, কিছুই থামছে না। প্রকৃতপক্ষে প্রতিনিয়ত তাদের হত্যা করে চলেছে। 

বিজ্ঞানের এই বিপূল অগ্রগতির যুগে মানুষের চিন্তা যেখানে যুক্তিবাদের দ্বারা পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল, সেটা না হয়ে বরং তার উল্টোটাই ঘটে চলেছে অহরহ। কয়েক হাজার বছরের এই ধর্মীয় মতাদর্শ তার মৌলিক নীতির কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়েও কিভাবে কাল্পনিক সর্বশক্তিমানের অস্তিত্ব মানুষের মনে যুগ যুগ ধরে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে এবং বতর্মান সময়েও নিজের প্রাসঙ্গিকতার বিস্তার ঘটাচ্ছে, সে আলোচনা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি অন্যান্য মতাদর্শ নিরলস চর্চা করেও সেই সাফল্য অর্জন করতে ব্যর্থ।

প্রথমে মুসলমানদের নবী বিতর্ককে সামনে রেখে কিছু কথা বলতে চাই। যেভাবে সারা ভারতবর্ষের মুসলিম সমাজ সহ তামাম মুসলিম বিশ্ব ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের প্রিয় নবীজীর অসম্মানের প্রতিবাদ করছে এবং সেই অপরাধের প্রতিবিধান চাইছে তা দেখে আমার মনে হয়েছে যদি জীবন জীবিকার সাথে সম্পর্কযুক্ত বিষয়গুলো নিয়ে মানুষ এভাবে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ সংগঠিত করতো, তবে দেশে হয়তো বিপ্লবের জমি তৈরি হয়ে যেতো। যে বিপ্লবের স্বপ্ন প্রতিটি সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ নিজেদের মনে লালন করে।

আরেক টা ঘটনা ঘটেছে। একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম কালীর পোস্টার যেটিতে হিন্দু দেবী কালীকে সিগারেট খাওয়ার চিত্র দেখানো হয়েছে । আবার এলজিবিটি ফ্ল্যাগ তার হাতে দেখা গেছে। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ক্ষোভ এটাকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের জন্য নিন্দিত আখ্যা দিচ্ছে। যে মহাকালীকে উপহাস করা হচ্ছে এবং হেয় করা হচ্ছে। তারা চিত্রনায়িকা লীনা মণিমেকলাইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

 সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক প্রবণতা যেটা বতর্মান ভারতবর্ষ তথা বিশ্বের কাছে চ্যালেঞ্জ, সেটা হোলো মানুষকে মানুষের বিরুদ্ধে ধর্ম নিয়ে লড়িয়ে দেওয়া। মানুষের পরিচয় ধর্ম দ্বারা নির্ধারিত হওয়া। আমি মানুষ, সেটার থেকেও বড় আমি কোন ধর্মের লোক।এই বিভাজন ধ্বংস করছে মানবিক ঐক্যকে। ধ্বংস করছে মানুষের সম্মিলিত ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদী শক্তিকে। যেটা রাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য। রাষ্ট্র চায় তার সকল শ্রম শক্তির অনৈক্য। কারণ শ্রম শক্তির ঐক্যবদ্ধ রূপকে রাষ্ট্র ভয়ের চোখে দেখে। এই কারণেই পরিকল্পিতভাবে নবি বিতর্কের সৃষ্টি। নতুন একটা ইস্যু চাই। সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের সম্মিলিত ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, সাস্থ্য, শিক্ষা, দুর্নীতি প্রভূতি বিষয় এবারের লোকসভা নির্বাচনের ইস্যু ছিল। সরকারের কাছে কোনো উত্তর ছিল না। তাই মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরাতে হবে। তারই ফল এই নবী বিতর্ক। সারা দেশ উত্তাল। সরকার তার উদ্দেশ্যে সফল। একদিকে হিন্দু সেন্টিমেন্টকে ভিত্তি করে বিজেপি হিন্দু ভোট ঐক্যবদ্ধ করতে চাইছে। অপরদিকে আমাদের রাজ্য মুসলিম সেন্টিমেন্ট কাজে লাগিয়ে মুসলমানদের পাশে দাঁড়াতে চাইছে। এই খেলা সাধারণ হিন্দু বা মুসলমানরা ধরতে পারছেন না। মেতে উঠেছে পৈশাচিকতায়। একটা চরম অব্যবস্থা। এভাবেই সব চলবে। চলছেও। মোহাম্মদ রিয়াজ আর গাউস মোহাম্মদ উদয়পুরের কানাইয়া লালের ঘটনাটি ধরে নিন।

আমরা সত্যি অবাক হই এটা ভেবে যে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানান ব্যাথা, যন্ত্রণা, হতাশা-যা আমরা প্রতিদিন প্রতি মুহুর্তে অনুভব করে চলেছি, তার জন্য কে দায়ী, কেন দায়ী কিভাবে তার সমাধান - এই সরল প্রশ্নগুলো আমাদের মনে স্থান পায়না। অথবা স্থান পেলেও তার সত্যিকারের অভিমুখ নির্বাচন করতে আমরা প্রায়শই ব্যর্থ হই। ফলে ভুল অভিমুখের কারণে আমরা দিকভ্রষ্ট হই। চক্রাকারে আবর্তিত হতে হতে পূর্বের জায়গায় ফিরে আসি। আমরা বিশ্বাস করি এইসকল যন্ত্রণার কোনো উপশম নেই। আমরা বিশ্বাস করি এ সবই আমাদের কর্মফল। আমরা বিশ্বাস করি এ সব পূর্ব নির্ধারিত। আমরা বিশ্বাস করি একমাত্র ঈশ্বরই পারেন এই যন্ত্রণার অবসান ঘটাতে। আসলে বিষয়টা সাধারণভাবে দেখলে এমন সরল সমীকরণ ছাড়া অন্য কিছু আসবে না। কারণ কোনো কিছুর উপর বিশ্বাস স্থাপন তখনই সম্ভব, যখন সেই বিষয়ের যুক্তিসঙ্গত ইতিবাচক ফলাফল আমরা প্রাত্যহিক জীবন দিয়ে উপলব্ধি করতে পারি এবং সেটা জীবনের মানোন্নয়নে প্রয়োগ করতে পারি। ধর্মের ক্ষেত্রে বিশ্বাস অর্জনের এই নিয়ম খাটেনা। তবুও কেন ধর্ম মানুষের এই বিশ্বাস অর্জন করতে সমর্থ হোলো? এমনটা নয় যে শুধুমাত্র বিজ্ঞান বিরোধী মানুষরাই ধর্মে আস্থা রাখেন। অনেক বিজ্ঞানীকেও ধর্মের উপর প্রবল আস্থা রাখতে দেখা গেছে। কারন এখানে বিবিধ। কিছু মানুষ আছেন, যারা নিজের দক্ষতার উপর আস্থাহীন। আত্মবিশ্বাসের অভাবজনিত কারণে জীবনের সফলতার জন্য তারা কোনো না কোনো অবলম্বন খোঁজেন। আধ্যাত্মবাদের সাফল্য এইজন্যই যে এই মতবাদ বাস্তবের রুক্ষতা থেকে অনেক দূরে নিয়ে গিয়ে মানুষকে এক স্বপ্নীল সুখময় জীবনের স্বপ্ন দেখায়। বোঝানো হয় একমাত্র নিরলস ঈশ্বর সাধনাই সেই লক্ষ্যে পৌঁছনোর একমাত্র পথ। তাই সেই ঈশ্বরের জয়গান করলেই যদি এমন জীবন পাওয়া যায়, তবে কেন মানুষ অন্য মতাদর্শ গ্রহন করবে? কী আশ্চর্য ! তাই না, দেশের জ্বলন্ত সব সমস্যাগুলিকে খুব কৌশলে এড়িয়ে, দেশ এখন ধর্মীয় ভাবাবেগ নিয়ে উত্তাল। আর আমরা নির্বাক হয়ে তা শুনছি, যাইহোক।

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...