এ কি,শ্রমিক নেতা দীনেশ গুণবর্ধনে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী। ধর্মীয় উন্মাদনা ও বৈদেশিক ঋণে নিমজ্জিত দেশকে উদ্ধার করতে সক্ষম হবেন তো!
দীনেশ গুণবর্ধনে একজন ট্রেড ইউনিয়ন নেতা, যিনি ২২ জুলাই ২০২২ -এ শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৭৩ সালের আগস্টে দীনেশ গুণবর্ধনে বামপন্থী মহাজন একথা পেরামুনা (এমইপি) এর কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিযুক্ত হন। তারপর সাধারণ সম্পাদক হন ১৯৭৪ সালে MEP এর।
দীনেশ চন্দ্র রূপসিংহে গুণাবর্ধনে (জন্ম ২ মার্চ ১৯৪৯), রয়্যাল প্রাইমারি স্কুল এবং রয়্যাল কলেজ, কলম্বোতে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। এরপর নেদারল্যান্ড স্কুল অফ বিজনেস থেকে উচ্চ শিক্ষা লাভ করেন। আমেরিকার ওরেগন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন। এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধ বিরোধী বিক্ষোভেও অংশগ্রহণ করেন। তারপর ১৯৭২ সালে তার পিতার মৃত্যুর পর কলম্বোতে ফিরে আসেন।
দীনেশ গুণাবর্ধনের বাবা ফিলিপ গুনাবর্ধনে এবং মা কুসুমা। তার বাবা শ্রীলঙ্কার সমাজতন্ত্রের পিতা হিসাবে পরিচিত। ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ আমলে দেশটির স্বাধীনতার আগে তার বাবা বামপন্থী সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট মুখ ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় শ্রীলঙ্কা থেকে পালিয়ে এসেছিলেন ভারতে। বাবা ফিলিপ এবং মা কুসুমা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর, তারা সেই সময়ে শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতার জন্য লড়াইরত আন্ডারগ্রাউন্ড অ্যাক্টিভিস্টদের মধ্যে ছিলেন। যাদের দুজনকেই ১৯৪৩ সালে ব্রিটিশ গোয়েন্দারা বন্দী করেছিলেন। সংক্ষিপ্তভাবে তাদের মুম্বাইর আর্থার রোড জেলে রাখা হয়েছিল। এক বছর পরে ফিলিপ এবং তার স্ত্রী কুসুমাকে নিজ দেশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং দুজনই শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতার পরই মুক্তি পান।
১৯৪৮ সালে শ্রীলঙ্কা যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ফিলিপ এবং কুসুমা উভয়েই সংসদ সদস্য হন, ফিলিপ ১৯৫৬ সালে গণবিপ্লব সরকারের একজন প্রতিষ্ঠাতা নেতা এবং ক্যাবিনেট মন্ত্রী ছিলেন।উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিপ গুনাবর্ধনে, জয়প্রকাশ নারায়ণ এবং ভি কে কৃষ্ণ মেননের সহপাঠী ছিলেন। তিনি আমেরিকান রাজনীতিতে সাম্রাজ্যবাদ থেকে স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন এবং পরে লন্ডনে ভারতের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লীগের নেতৃত্ব দেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে ব্যক্তিগতভাবে জড়িত থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু কলম্বো সফরের সময় ফিলিপের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তার প্রশংসা করেছিলেন এবং পরিবারকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন।
দীনেশ গুণবর্ধনে তার বাবা-মায়ের মতো, ভারতের সাথে আরও ভাল সম্পর্কের একজন মানবপ্রীতি হিসেবে খুব পোক্ত উদাহরণ। গুণবর্ধনে ১৯৭৭ সালের সাংসদ নির্বাচনে আভিসাভেলাতে এমইপি প্রার্থী ছিলেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। আবার ১৯৮৩ সালের মহারাগামা জেলার উপ-নির্বাচনে জয়ী হন এবং সংসদে প্রবেশ করেন।১৯৮৯ এবং ১৯৯৪ এ সংসদীয় নির্বাচনে MEP প্রার্থীদের মধ্যে একজন ছিলেন। কিন্তু তার দল একটি আসনও জিততে পারেনি। কলম্বো জেলা MEP পিপলস অ্যালায়েন্স (PA) এ যোগদান করে ২০০০ এবং ২০০১ সালে পুনরায় নির্বাচিত হন। ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্স (UPFA) ২০০৪ সালে শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টি (SLFP) এবং জনতা বিমুক্তি পেরামুনা (JVP) দ্বারা গঠিত হয়েছিল, গুনাবর্ধনের দল এতে যোগ দেয়, ২০০৪ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং জিতেছিল, জুন 200৮ সালে প্রধান সরকারি সচেতক হিসেবে নিযুক্ত হন।
বৈবাহিক জীবনে গুণবর্ধনে জীবনসঙ্গী ছিলেন রমানি ভাতসালা কোটলাভেলা। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে, ইয়াদামিনী নামে একজন পুত্র যিনি বর্তমানে সংসদ সদস্য, এবং সাঙ্কপালি নামে একজন কন্যা। রামানি ১৯৮০-এর মাঝামাঝি সময়ে হেপাটাইটিসে মারা যান।
শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি রনিল বিক্রমাসিংহে ইতিমধ্যেই বলেছেন যে তিনি রাষ্ট্রপতির কার্যালয় দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে চান। যদিও দীনেশ গুণাবর্ধন কে প্রধানমন্ত্রী বানানো হয় শ্রীলঙ্কার নিরাপত্তা বাহিনী রাষ্ট্রপতি ভবনের কাছে ক্যাম্পিং করা বিক্ষোভকারীদের তাড়িয়ে দেওয়ার পর। শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে উইং জনতা বিমুক্তি পেরামুনা (জেভিপি) মাত্র তিন ভোটে জয়ী হয়েছে। সংসদের মোট ২২৫ জন সদস্য রয়েছেন, দুইজন সংসদ সদস্য নির্বাচনে বিরত ছিলেন, এবং চারটি ভোট বাতিল করা হয়েছিল।
এটা সত্য যে শ্রীলঙ্কার জনগণ ক্ষুধা, রোগ, বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতিতে ভুগছে, তারা প্রতিদিনের দুর্ভোগ, দুঃখ, বেদনা, যন্ত্রণায় ভিতর থেকে ধুঁকছে, যা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, তাদের ব্যক্তিগত বাসভবন এবং তাদের আবাসস্থলকে গ্রাস করেছে। অনেক মাস ধরে। তারপর শ্রীলঙ্কার রাস্তাও দৃশ্যমান ছিল অনেক কিছু। আমরা জানি যে শ্রীলঙ্কার মূল সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা সেখানে রাষ্ট্রপতির কাছেই থাকে। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী পরিষদের প্রধান, তবুও এখন এটি দেখতে আরও আকর্ষণীয় হবে। এতোদিন শুধু যাদের মুখে ছিল জাতীয়তাবাদী কথা। এই শক্তি দ্বারা লালিত শ্রীলঙ্কা ধর্মীয় উম্মাদ, আর্থিকভাবে বিধ্বস্ত, সম্পূর্ণরূপে বিদেশী ঋণে নিমজ্জিত দেশে, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, দীনেশ গুণবর্ধনে,সংসদীয় বামপন্থী পদ্ধতির মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জন্য কী করতে পারেন? ? শ্রীলঙ্কার আগামী ব্রেকিং নিউজের অপেক্ষায় আমরাও রইলাম।।