Monday, July 22, 2019

এই বন্দিশালা আসলে এক মৃত‍্যুপুরী

যাইহোক আর একটু শ্বাস ফেলার সময় পাওয়া গেলো। হ‍্যাঁ ঠিকই ধরেছেন। ৩১ জুলাই থেকে ৩১ আগষ্ট হয়েছে। রাজ‍্য জুড়ে ব‍্যাপক বন‍্যার ফলে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে চুড়ান্ত খসড়া প্রকাশের তারিখ। আর একটু একটু করে যত এগিয়ে আসছে দিন। আক্ষরিক অর্থে ভয়ে শুকিয়ে যাচ্ছি। কেন্দ্র ও রাজ‍্য সরকারের মতে অনেক বিদেশীদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাই সময় বর্ধিত হওয়ায় একটু সুযোগ পাওয়া যাবে। ওই তালিকায় নাম না থাকলে হয়ে যাব অনাগরিক। তারপর ডিটেনশন ক্যাম্প। তালিকায় নাম না থাকলে জন্মস্থানের কোনো গুরুত্ব নেই।  বলতে পারেন মানুষের চেয়ে রাষ্ট্র যখন বড় হয়ে ওঠে, তখন দেশ থাকে না আর। আছে শুধু  ডিটেনশন ক্যাম্প।, এই ক্যাম্প দেশহীনদের জন্য তৈরি হয়েছে। আমরা তো  ইহুদিদের কথা পড়েছি, নাৎসিবাহিনীর কথাও। বাসব দা'র একটা প্রবন্ধে পড়েছিলাম এক কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের কাহিনির কথা। ওই ক্যাম্পে নাৎসিবাহিনী মজা করার জন্য এক সত্তর বছরের বৃদ্ধকে বলে, তাদের সামনে তার মেয়ের সঙ্গে যৌনসঙ্গম করতে হবে। প্রাণে বাঁচতে সেই বৃদ্ধ যখন তার মেয়ের সঙ্গে যৌনসঙ্গম শুরু করে, নাৎসিবাহিনীর লোকরা বৃদ্ধের লিঙ্গ কেটে নেয়। উফফ্ .....
না, না এখানে তা শুরু হয়নি। হলেও বা কিচ্ছু করার নেই।  আমি তালিকাভুক্ত নই, আমার দেশ নেই, পরিচয় নেই। কী করতে পারি আমি? যা হবে তা মাথা পেতে নেওয়াটাই বাঞ্চনীয়। কি বলেন!
আমরা জানি অসমে এনআরসি নবায়নের আধার অসম চুক্তির ৬ নম্বর ধারা। আটের দশকের প্রথমদিকে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন হয়েছিল অসমে। ওই আন্দোলন থামাতে রাজীব গান্ধী চুক্তি করেন প্রফুল্ল মহন্ত ও ভৃগু ফুকনের সঙ্গে। তখনই ঠিক হয়, ১৯৭১ সালের পরে যাঁরা বাংলাদেশ থেকে এসেছেন, তাঁরা বিদেশি।  চলতি এনআরসি নবায়ন প্রক্রিয়ার শেষপর্বের নির্দেশ হয়েছে অসমে। কেউ যদি বিদেশি হন, তাহলে তাঁর ছেলেমেয়েও বিদেশি হবেন। অর্থাৎ, ধরা যাক, আমার বাবা বিদেশি, ১৯৭২ সালে অসমে এসেছেন। আর আমি জন্মেছি ১৯৭৩ সালে। বাবা বিদেশি বলে আমিও বিদেশি হয়ে যাব। বাবার অপরাধে (যদি অপরাধ হয়) শাস্তি পাবে সন্তান। এটা কোন আইনে সম্ভব জানি না। কিন্তু ভারতের অন্যান্য রাজ্যে এনআরসি হোক ভারতীয় নাগরিকত্ব আইনের ভিত্তিতে। অর্থাৎ জন্মসূত্রে ভারতীয়, বিবাহসূত্রে ভারতীয়, একটানা ৬ বছর থাকলে ভারতীয়। তাহলে বাবা বিদেশি হলেও, সন্তান যদি ভারতে জন্মায়, সে ভারতীয় নাগরিক।

এনআরসি প্রক্রিয়া চলাকালীন কেন্দ্রীয় সরকার সিটিজেন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল (সিএবি বা সংক্ষেপে ক্যাব) আনে। এর পর থেকে অসমের এনআরসি সেবাকেন্দ্রের লোকজনের ব্যবহারও একটু বদলে যায়। দ্বিতীয় খসড়া তালিকায় যে ৪০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছিল, তাঁদের মধ্যে ৩৬ লক্ষ পুনরাবেদন করেছেন। এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুনরাবেদনের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পর যেসব মুসলমান এদেশে এসেছেন, তাঁরা তো আইনানুযায়ী বিদেশিই, ক্যাব আইনে পরিণত হলে ওই সময়ের পর যেসব হিন্দু এদেশে বা বলা যায়, এই রাজ্যে মানে অসমে, এসেছেন সবাই নাগরিকত্ব পেয়ে যাবেন। আর একথা কে না জানে, বাংলাদেশ থেকে কোনো হিন্দু ভারতে এলে তিনি বাঙালিই হবেন।
আসামের সব ফরেনার্স ডিটেনশন ক্যাম্প নাকি গুঁড়িয়ে দেবে-এমনই আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদী। এছাড়াও মোদীর নানারকমের জনকল্যাণমুখী প্রতিশ্রুতিকে বিশ্বাস করে বিপুল সংখ্যক মানুষ ব্যাপকহারে ভোট দিয়ে তাঁর প্রধানমন্ত্রী পদকে সুনিশ্চিত করেছিল। কিন্তু তাঁর প্রতিশ্রুতিগুলো যে মিথ্যে, মোদী তা দ্রুতগতিতে প্রমাণ করে চলেছেন। নির্বাচনী আশ্বাসের ঠিক উল্টোটাই দেখা যাচ্ছে - নতুন করে গড়া হচ্ছে বিদেশি বন্দিশালা। আসাম সরকারের বিদেশি ট্রাইব্যুনালে শনাক্ত হওয়া ‘বিদেশি’ নাগরিকদের জন্য রাজ্যে ইতিমধ্যেই ছয়টি বন্দিশালা রয়েছে, যেখানে সরকারের দ্বারা চিহ্নিত ‘অবৈধ’ বিদেশিদের রাখা হয়, যারা মূলতঃ বাংলাভাষী। আসামের মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, এই বন্দিশালা আসলে মৃত্যুপুরী। কোন সুস্থ পরিকল্পনা ছাড়াই চরম অব্যবস্থার মধ্যে ডিটেনশান ক্যাম্পগুলিতে ‘বিদেশি’ বা ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দিয়ে নাগরিকদের আটকে রাখা হয়। একই পরিবারের লোকদের ভিন্ন ভিন্ন স্থানে রাখা হয়। এ বছরের ৩১শে জুলাইয়ের মধ্যে বিতর্কিত এনআরসি'র চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে। এবার অন্ততঃ ৯লাখ আসামবাসীর গায়ে 'বিদেশী' তকমা লাগছে। তাই আসাম সরকার তাদের বন্দিশালায় ঢোকানোর বন্দোবস্ত করতে চাইছে। ইতিমধ্যে সেখানকার ছয়টি বন্দিশালায় থাকা ৯৮৬জন আবাসিকের প্রায় সবাই ধর্মীয় ও ভাষিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য। শুধু গোয়ালপাড়ায় তিন হাজার 'বিদেশি' থাকার উপযুক্ত বন্দিশালা বানাতে ৪৬কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে।  সম্পূর্ণ এনআরসি তালিকা প্রকাশের আগেই আসাম সরকার আরও বন্দিশালা বানাতে চলেছে, কারণ পক্ষপাতদুষ্ট ও অমানবিক এনআরসি প্রক্রিয়ায় লাখ লাখ মানুষ তাদের নাগরিকত্ব হারাতে চলেছেন। নতুন করে আরও ২০০ টি বিদেশি ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের ও দশটি ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরীর পথে এগোচ্ছে মোদী সরকার। এই খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে সারা অসম বাঙালি ঐক্যমঞ্চ প্রশ্ন তুলেছে, ক্ষমতাসীন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে এই ডিটেনশন ক্যাম্প কাদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে?

নাগরিকত্বের নামে এক অবর্ণনীয় অত্যাচার চলেছে, যার ফলে বহু মানুষ হারাচ্ছেন তাদের মানসিক ভারসাম্য, চরম আশঙ্কায় অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। মোদী সরকারের এই এনআরসি নিয়ে চূড়ান্ত ছেলেখেলায় নারকীয় যন্ত্রণার শিকার হচ্ছে লাখো গরিব মানুষ। এনআরসি-র নাম করে হিন্দুদের ‘শরণার্থী’ আর মুসলিমদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসাবে চিহ্নিতকরণের যে অন্যায় খেলা বিজেপি শুরু করেছে, তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলাটাই এখন প্রাথমিক কর্তব্য হিসাবে গণ্য হওয়া উচিৎ।
দেশটাকেই একটা ডিটেনশন ক্যাম্প বানিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে, অন্ততঃ বাঙালিদের জন্য তো বটেই!  গত বছরই চল্লিশ লক্ষ মানুষকে নাগরিকত্ব হারাতে হয়েছে আসামে। এবার আরও ১ লক্ষ ২ হাজার ৪৬২ জনের নাম যুক্ত হলো ওই ৪০ লক্ষের সাথে। এবারে যেটা খানিক ব্যতিক্রম, আলাদা আলাদা করে জানানো হবে তালিকায় থাকা মানুষদের বাড়ির ঠিকানায় চিঠি দিয়ে। ব্যাপারটা হয়তো সাম্প্রতিক ব্যক্তি সন্ত্রাসবাদী বিল-র মতো করেই করতে চাইছে। যে চিঠি পাঠানো হবে তাতে কারণগুলোকে আলাদা করে দেখানো হবে, যাতে একসাথে সরকারের ওপর চাপ তৈরী না হয়। বিপুলসংখ্যক সমর্থন নিয়ে ভারতের মসনদে এসে এখন যা খুশী তাই করতে পারে বলে মনে করছে মোদী সরকার। Schedule of the Citizenship Rules 2003-র অনুচ্ছেদ ৫ অনুসারে, এইসব মানুষ নাগরিকত্ব হারিয়েছেন। আইন তৈরী করে ও তাকে মর্জিমাফিক সংশোধন করে মানুষকে রাষ্ট্রহীন করার মতো অমানবিক কাজ করে মোদী সরকার বিশ্বের সামনে এক ঘৃণ্য নজির সৃষ্টি করেছেন। ঘোষিত ভিনদেশী বা সন্দেহজনক নির্বাচক তকমা দিয়ে এভাবেই দেশের মানুষকে নিজভূমে পরবাসী করার খেলায় মেতেছে। ডিটেনশন ক্যাম্পের দুঃসহ দিন, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, আত্মহত্যা; এসবের সাথে আরও লক্ষাধিক বাঙালি যুক্ত হলো।

এ ভূমি স্বদেশ না বিদেশ, জানা হয়নি অনেক মানুষেরই। ইতিহাসের পর্যালোচনায় না গিয়ে এটুকু বলা যায়, ডি-ভোটার তারাই হচ্ছেন, ডিটেনশন ক্যাম্পেও তারাই যাচ্ছেন, মূলত যারা গরীব মুসলমান কিংবা হিন্দু সম্প্রদায়ের, যাদের ঘর ভেসে যায় প্রতিবছর বানে এবং নদীধ্বসে। নো-ম্যানস ল্যান্ডের দিকে পা বাড়িয়ে আছেন এই সব মানুষ। এই ৪২ লক্ষ মানুষকে অত্যন্ত সুচতুর বিশ্লেষন করেই এই বিলের আওতায় আনা হয়েছে। আইএমডিটি অ্যাক্টের দুর্বলতা সংশোধন করে, তাকে বিদেশী বিতাড়নের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে তৈরী করা হয়েছে। দেশভাগের অভিশপ্ত যন্ত্রণাভোগী ছিন্নমূল বাঙালির সামনে এখন প্রশ্ন, তারা কি ডিটেনশন ক্যাম্পের দুঃসহ দিন কাটাবেন? আত্মহত্যা করবেন? মৌলিক অধিকার হারাবেন? নাকি ঘুরে দাঁড়াবেন? এই ‘রাষ্ট্রহীন’ মানুষগুলোর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নাগরিক সুরক্ষার ভার কে নেবে? তাদের স্ট্যাটাস কি হবে?

এই অভূতপূর্ব মানবিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, এই মুহূর্তে সচেতনভাবে জাত ও ধর্মভিত্তিক বিদ্বেষ সৃষ্টির প্রতিবাদ করতে, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের সমবেত প্রয়াস জরুরী। শ্রমজীবী মানুষকে ভুল বুঝিয়ে তাদের মধ্যে বিভাজন তৈরী করার স্বার্থে এনআরসি বা ‘নাগরিক সংশোধনী বিল, ২০১৬’ কে হাতিয়ার করছে এই চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়াশীল সরকার। দাবি তুলুন, সোচ্চার হোন; বাতিল করতে হবে এই এনআরসি ও ‘সিটিজেনশিপ বিল’, যা বিশেষভাবে বাঙালিদের বিনাশ করার চক্রান্ত ছাড়া কিছু নয়। আসুন, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে শাসকশ্রেণির বিরুদ্ধে প্রতিরোধে সামিল হই। প্রতিরোধ গড়ি এই ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে। কে হে তুমি, উপর্যুপুরি দ্বিতীয়বার সংসদীয় ক্ষমতা দখলের উন্মত্ততায় ‘ধরা কে সরা জ্ঞান’ করতে চাইছো? দেশের সামাজিক - সাংস্কৃতিক চরিত্র বদলে ফেলার অপচেষ্টা, ইতিহাসকে বিকৃত করার এই চক্রান্ত ব্যর্থ করতেই হবে যে কোনো মূল্যে। সমস্ত শুভবোধসম্পন্ন মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধে সামিল হয়ে, এই অপশক্তিকে সমূলে উৎপাটন করতে না পারলে, ইতিহাস কিন্তু এই প্রজন্মকে ক্ষমা করবে না।

খেটে খাওয়া গরীব মানুষগুলো গোটা বিশ্বজুড়ে ক্ষমতা ভাগাভাগির যুগে জানের ও পেটের দায়ে পেরিয়েছেন সীমান্তের কাঁটাতার। শিক্ষা তো দূর, দুবেলা দু-মুঠো খেতে পায়না; তারা কিভাবে যোগাড় করবেন বৈধ নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র? ধূর্ত সরকার বলে, এনআরসি-তে নাম আছে বলে ভোটার তালিকায় নাম থাকবে না, এমনটা নয়। কতোটা অমানবিক, স্বৈরাচারী হলে একথা বলা যায়! বৈধ আর অবৈধর মধ্যে নিত্য নতুন গন্ডি টানে রাষ্ট্র। মানুষ বৈধতা প্রমাণের জন্য রাষ্ট্রের দুয়ারে লাইন দেয়। পরিচয় হারানো মানুষগুলোকে করজোরে সরকারকে বলতে হয়; এই দেশটা আমাদেরও। নরেন্দ্র মোদী সরকারের কোনো অধিকার নেই এ দেশের নাগরিককে বে-নাগরিক করার। রাস্তায় নেমে প্রতিরোধ না করলে, জাতীয় নাগরিকপঞ্জিকে হাতিয়ার করে বাঙালির অস্তিত্বকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে হিন্দু হিন্দি হিন্দুস্তান বেশধারী নরেন্দ্র মোদী সরকার।

Monday, July 1, 2019

জল সংকট

এখন আর এসব কথা নিয়ে কারোর এতো মাথা ব‍্যাথা নেই। আর এসব নিয়ে চিন্তা করে চুল পাকিয়ে বা কী হবে। কারণ আমাদের কী আর সময় আছে ! আমরা তো ব‍্যস্ত মিমির ব্লাউজ, নুসরত কতটা মুসলিম, ধর্ম 'খাতরে মে', কতটা ডেসিবেলে চিৎকার দিলে ভক্ত হওয়া যায়, দিদিমণির হাওয়াই, পাকিস্তান আব্বু ডাকছে কিনা না ইত্যাদি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে। আমরা ক্রংক্রিটের পাহাড় তৈরি করছি ঠিকই। কিন্তু হামাগুড়ি দিয়ে ওঠা,যাকে আমরা জীবন বলি সেই জলের কী কোন খবর নিয়েছি। উত্তর হবে 'না'। ওটা দিয়ে কি হবে বাপু পকেটে কড়ি থাকলে তো বাঘের দুধও মিলে। আর এটা তো জল! বেটারা মিনারেল বিক্রি করছে কি সাধে ! ব‍্যবস্থা তো আছেই।

‘এ লড়াই জলের লড়াই, এ লড়াই লড়তে হবে’ - এ কথা নতুন করে বলার দরকার নেই, বিশ্ব উষ্ণায়ন তথা জলবায়ুর ক্রমান্বয়ে পরিবর্তিত হওয়ার ফলে এই মুহূর্তে মানব সভ্যতা চূড়ান্ত সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে উপনীত এ কথা অনস্বীকার্য। এই বিষয়ে সবথেকে যেটা আশঙ্কার; আমরা ছোট থেকে জেনে এসেছি 'জলের আরেক নাম জীবন' কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই জল, যা 'জীবন' নামে অভিহিত, তা ক্রমশ সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে চলে যেতে বসেছে। জলের সমস্যা এবং অভাব এই দুটিই যে সত্য সেটা রাষ্ট্রসংঘ স্বীকার করে নিয়েছে। জলের সমস্যার কিছুটা কারণ এবং সংরক্ষণের বিষয়ে যে জিনিসটা আমাদের বোঝা দরকার যে জলের অভাবের আসল কারণ জলের সমস্যা নয়, অন্তত এই মুহূর্তে সেরকম অবস্থানে পৌঁছায়নি। কিন্তু বর্তমানে যেটা চলছে সেটা চলতে থাকলে অচিরেই সেই ব্যবস্থা ত্বরান্বিত হতে চলেছে এটা বলে দেওয়া যায়। জলের অভাবের আসল কারণ হলো জলের অসম বন্টন এবং যে হারে জল অপচয়, দূষণ ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহৃত হয়ে চলেছে তাতে জলের সমস্যা অদূর ভবিষ্যতে চূড়ান্ত ভবিতব্য।

২০০৭ সালে প্ল্যানিং কমিশন ভারতবর্ষের জলের চাহিদা ও যোগান সংক্রান্ত যে রিপোর্ট প্রকাশ করে তাতে স্পষ্টই বলা হয়েছিল, ভারতবর্ষে জলের যোগান অপ্রতুল নয়। তাদের হিসাব অনুযায়ী সেসময় এদেশে জলের যোগান ১১২৩ বিলিয়ন কিউবিক মিটার (বিসিএম) ( ১ বিলিয়ন = ১০০০০ লক্ষ, ১ কিউবিক মিটার = ১০০০ লিটার) আর জলের চাহিদা ৬৩৪ বিলিয়ন কিউবিক মিটার, ফলত ১২ বছর আগে তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতবর্ষে জল-সঙ্কট প্রায় নেই। তার ঠিক এক বছর পরেই ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক টি এন নরসিমহ্যান তাঁর গবেষণা প্রবন্ধে দেখান এই ১১২৩ বিসিএম যোগানের গল্পটি খুব ঠিকঠাক নয়, তাঁর হিসাব অনুযায়ী আসলে তা ৬৫৪ বিসিএম। অর্থাৎ জল-সংকট সেসময়েই শুরু হতে যাচ্ছে। নরসিমহ্যান তাঁর গবেষণা প্রবন্ধের শেষে প্ল্যানিং কমিশনের  হিসাবকে “ওভার এস্টিমেশন” বলেই উল্লেখ করেন। তাঁর সেই গবেষণা প্রবন্ধটির নাম  “A note on India’s water budget and evapotranspiration”। ইন্টারনেটে পাওয়া যায়।

২০০৯ সালে ওয়াটার কমিশন অফ ইন্ডিয়ার আরেকটি রিপোর্টে নরসিমহ্যানের এই গবেষণাকে প্রায় নস্যাত করে জানানো হয় এনিয়ে দুর্ভাবনার কিছু নেই (টাইমস অফ ইন্ডিয়া ২১/০১/২০১০)। নীতি আয়োগের যে রিপোর্ট নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে বিরাট হইচই হচ্ছে, তার মুখবন্ধতে পরিষ্কার লেখা...
It’s a matter of concern that 600 million people in India face high to extreme water stress in the country. About three-fourth of the households in the country do not have drinking water at their premise. With nearly 70% of water being contaminated, India is placed at 120th amongst 122 countries in the water quality index.
অর্থাৎ ভারতবর্ষের ৬০ কোটি মানুষ তীব্র জল-সংকটের সামনে দাঁড়িয়ে এবং প্রায় ৭০ শতাংশ জলই কলুষিত। যার প্রায় কোনও আন্দাজ আমাদের রাষ্ট্রের কাছে ছিল না এই বছর দশেক আগে অবধি (অথবা ছিল ইচ্ছে করে তা চেপে রাখা হয়েছিল),
আজকে নীতি আয়োগ অবশ্য ঘুরিয়ে ভুল ‘স্বীকার’ করে নরসিমহ্যানের হিসাবকেই ধরে এগিয়েছে। যাইহোক, যেকথা এই ছ্যাবলামো দেখে আপনার মনে হওয়া স্বাভাবিক তাহলে এত তড়িঘড়ি করে যে ইমারজেন্সি পরিস্থিতির কথা আমাদের বলা হচ্ছে সেটাও কতটা সত্যি? পরিস্থিতি কি আরও অনেকটা খারাপ? সত্যি কথা বলতে কি ভারতবর্ষে জলের চাহিদা ও যোগান সম্পর্কে তেমন বেশি কিছু তথ্য পাব্লিক ডোমেনে হাজির নেই, আমার ধারণা সরকারিভাবে এনিয়ে সমীক্ষা ইত্যাদি চালানোই হয়নি এমনকি প্ল্যানিং কমিশনের আগে বলা হিসাবটি ‘গুপ্ত ও দেশপান্ডে’-র একটি গবেষণা প্রবন্ধ থেকে নেওয়া। নীতি আয়োগের উচ্চপদস্থ কর্তারাও তথ্য না থাকার অভাবে যে বেশ ভালো পরিমাণ ভুগেছেন সেটা তাদের ১৮১ পাতার রিপোর্টে স্পষ্ট। ২০১৩ সালেই ইউনিসেফের একটি রিপোর্ট খুব স্পষ্ট করে জানিয়েছিল ২০০১ সালে ভারতে মাথাপিছু গড় বার্ষিক জল পাওয়া যেত ১৮১৬ বিসিএম, যা ২০২৫ সালে কমে দাঁড়াবে ১৩৪০ বিসিএম। ১৭০০ বিসিএম-এর কম হওয়াকেই সারাবিশ্বে তীব্র জলসংকট বলে ধরা হয়।

ভারতে জলের অভাব সাব সাহারান আফ্রিকার পরপরই আছে। অর্থনৈতিক এবং প্রাকৃতিক দুটো ফর্মেই এই জলের অভাব বিদ্যমান, অন্তত ৬ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ পরিস্রুত জল পায় না, পৃথিবীতে যে দেশে সবচেয়ে বেশি মানুষ পরিষ্কার জল থেকে বঞ্চিত সেই দেশ হলো ভারতবর্ষ। বলার অপেক্ষা রাখে না যে সংখ্যাটা আরো বাড়বে, কার্যত বেড়েই চলেছে। নর্মদার বাঁধের কথা সকলেরই জানা আছে, ৪০ হাজার পরিবারকে বাঁধের কারণে উচ্ছেদ করা হয়েছে তাও জানা, কিন্তু ভুলে যাই, সংখ্যাটা আর কতো বাড়লে ভুলবোনা সেটা জানা নেই। তবে পানীয় জলের কারণে গৃহহারা হওয়া ভারতে নতুন কিছু নয়, সংখ্যাটা বাড়ছে শুধু।

২০০৪ সালে The Center for Science and Environment (CSE)-র একটি রিপোর্ট থেকে পরিষ্কার যে, ভারতে সবথেকে বেশি জল ব্যবহার করে বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো। তারমধ্যে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিই সিংহভাগ জল ব্যবহার করে। ভারতে প্রতি বছর শুধুমাত্র তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকেই ২৭০১ কোটি কিউবিক মিটার দূষিত জল নির্গত হয় এবং ৩৫১৫ কোটি ৭৪ লক্ষ কিউবিক মিটার জল ব্যবহৃত হয়। শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত জলের মধ্যে সাতাশি শতাংশ জল শুধু তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিই ব্যবহার করে। বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে বড় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন, আদানি পাওয়ার, জিন্দাল পাওয়ার প্রজেক্ট-র কথা কমবেশি সবারই জানা। ভারতের সিংহভাগ জল অপচয় এবং দূষণ এদের সৃষ্টি। এদের ওপর সরকার এবং জনগণের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, আসলে কোনো কর্পোরেট-র ওপরেই কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। লাভের হার বাড়ানোর জন্যেও জলের অভাব এই শিল্পপতিদের কোনোদিন হয়না, হয় শুধু ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুদের অথবা ওই বড় কারখানাগুলোর পাশে নদীর ধারে থাকা মানুষগুলোর, যারা সেই জল ব্যবহার করতে পারেন না, কারখানা থেকে বর্জ্য ও দূষিত জল নদীতে মেশার কারণে।

নদী তো যেন শিল্পপতিদের জন্যেই সৃষ্টি হয়েছে, জলও! সরকার নামক সংসদীয় গণতন্ত্রের তথাকথিত রক্ষকরা পরিকাঠামোগতভাবে তার কর্পোরেট প্রভুদের একচ্ছত্র লুঠ করার বৈধতা দেয়। যাদের আইনের রক্ষক বলে জনগণকে বোঝানো হয়, তারা সেই চুরির স্বাচ্ছ্যন্দ পাহারার জন্যেই বহাল। যতদিন না তথাকথিত শিল্পের নামে যথেচ্ছভাবে কর্পোরেটদের এই হারে জল ব্যবহার করতে দেওয়া বন্ধ হবে, ততদিন পর্যন্ত জলের (এবং আরো অনেক কিছুর) সমস্যা ও অভাব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। জলের ক্ষেত্রেও প্রশ্নটা সেই মালিকানার।

ভারতবর্ষ প্রতিবছর যে পরিমাণ ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন করে, তা চীন ও আমেরিকার সম্মিলিতভাবে উত্তোলিত জলের থেকেও বেশি। তারপরেও কৃষিতে এত জলের সমস্যা কেন? কৃষকদের শয়ে শয়ে মৃত্যু কেন?? নীতি আয়োগের ডেটা অনুযায়ী এতো ভয়ানক ক্রাইসিস আগে কখনো হয়নি। হটাৎ এখন? কিভাবে? কেন? প্রধান জলের উৎসগুলোও এখন কার্যত কর্পোরেটদের সম্পত্তি। যতদিন সমস্ত প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে ব্যক্তিগত মালিকানা না তুলে দেওয়া যাবে, ততদিন একদিকে অপচয় আর অন্যদিকে হাহাকার জারি থাকবে এবং সেটা বাড়বে, যেমনটা বাড়ছে। ক্ষমতাশালীদের ক্ষমতা যত বেশি করে পুঞ্জিভূত হবে, যত ক্ষমতা বাড়বে, তত এই অসাম্য বাড়তে থাকবে। তাদের অপচয় কমানো বা বাড়ানোর ওপর নির্ভর করছে কোটি মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ। সবশেষে একটাই কথা এখানে প্রযোজ্য, হাত গুটিয়ে বসে থাকা নয়, হতাশার বন্ধনে থেকে ভবিতব্যকে মেনে নেওয়ার থেকে যুদ্ধে নামাটাই সমীচীন।

"আর্টিকেল ১৫" প্রসঙ্গে কিছু কথা

যখন বলিউডের তাবড় তাবড় অভিনেতা, সমালোচকরা সিনেমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ, দর্শকেরা তারিফ করছেন তখন একদল ভক্ত ধর্মের দোহাই দিয়ে গায়ের জোরে বন্ধ করে দিল এই সিনেমার স্ক্রিনিং। হ‍্যাঁ ঠিক ধরেছেন।অনুভব সিনহা পরিচালিত আয়ুষ্মান খুরানা অভিনীত 'আর্টিকেল ১৫' এর কথাই বলছি। এই সিনেমার দ্বিতীয় দিনেই বক্স অফিস কালেকশন ৭ কোটি ২৫ লক্ষ। আউশমান খুরানার সাম্প্রতিক ছবিটি আর্টিকলে ১৫ বেশ কিছু উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

সময়টা বড়ই অশান্ত! জাত-পাত, ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতিতে উত্তাল দেশ। জাতীয়তাবাদী হাওয়া ক্রমশ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছে। হারিয়ে যাচ্ছে স্বাধীন নিরপেক্ষ আওয়াজ। কোনও এক প্রান্ত থেকে কেউ নিজের মতো কিছু বলার চেষ্টা করলে, সেই আওয়াজ দমিয়ে দিতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠা করছে না রাষ্ট্রশক্তি। এমনই একটি সময়ে মুক্তি পেল পরিচালক অনুভব সিনহার ছবি ‘আর্টিকেল ১৫’। এক বছর আগে অনুভবের ‘মুল্‌ক’ দর্শক না টানলেও সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছিল। একবছর পর তিনি ফিরলেন ‘আর্টিকেল ১৫’ নিয়ে।

ছবির প্রেক্ষাপট উত্তরপ্রদেশের বদায়ুন গণধর্ষণ মামলার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। দলিত দুই কিশোরীকে গণধর্ষণের পর গ্রামের গাছে ঝুলিয়ে দিয়েছিল উচ্চবর্ণের গ্রামশাসকরা। এই ঘটনায় সমগ্র ভারতে চাঞ্চল্য তৈরি করেছিল। কালের নিয়মে বদায়ুনের সেই ঘটনা সংবাদপত্রের পাতা থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে। একইসঙ্গে পাঠকের স্মৃতির অতলে তলিয়ে গিয়েছে। নীরব হয়ে গিয়েছে প্রতিবাদী কণ্ঠ। বদাউনের সেই বহুচর্চিত ঘটনাই নতুনভাবে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করলেন পরিচালক। মাত্র তিন টাকা মজুরি বাড়াতে বলায় ‘নিচুজাতের লোকেদের শিক্ষা দিতে’ দুই নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে ঝুলিয়ে দেয় ঠাকুর সম্প্রদায়। নিখোঁজ হয়ে যায় আরও এক বালিকা। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতপাতের রাজনীতির নগ্ন ছবি ধরা পড়েছে ‘আর্টিকেল ১৫’তে। পাশাপাশি, সংবিধান সচেতনতার অন্য একটি দিক উঠে এসেছে।

কাহিনীটি দেশের নির্দিষ্ট অংশগুলির হৃদস্পন্দনের বাস্তবতাকে চিত্রিত করে, যেখানে মানুষ এখনও তাদের বৈষম্য, ধর্ম, ইত্যাদির পক্ষপাতের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক এবং বিভক্ত। যদিও, ভারতের সংবিধানে এটা নিষিদ্ধ যে দেশের নাগরিকদের মধ্যে কোন ধরনের বৈষম্য গঠন করা, কোন নির্দিষ্ট কাস্ট বা ধর্মের লোকজনের মধ্যে বৈষম্যমূলক আচরণ করা এবং সমাজের দ্বারা ভেদাভেদ সৃষ্টি করা। এই সিনেমায় তারা ভারতের সংবিধানে আর্টিকেল ১৫ সম্পর্কে কথা বলার চেষ্টা করেছে এবং জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা করেছে।  তাহলে আর্টিকেল ১৫ কী এবং ভারতে কতজন মানুষ এই আইন সম্পর্কে কতটুকু সচেতন? আর্টিকেল ১৫ হলো একটা অস্ত্র যা উপরের শ্রেণী এবং নিম্ন শ্রেণীর বাধাগুলি ভেঙ্গে দেয়।  আমাদের ১৫ নং অনুচ্ছেদটি জানতে হবে এবং কেন বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। আর তার সাথে জানা যাবে ভক্তদের কতটা আবেগে আঘাত হয়েছে।

What is Article 15

Article 15(2) says that no Indian citizen can be discriminated on the basis of:
● Religion
● Race
● Sex
● Caste
● Place of birth

It states that no citizen shall be denied access to:
● Shops
● Public restaurants
● Hotels and
● Places of public entertainment.

It also adds that no citizen shall be subject to any disability, liability, restriction or condition with the use of:

● Wells
● Tanks
● Bathing ghats
● Roads
Places of public resort maintained wholly or partly with State funds or dedicated to the use of the general public.

Article 15 (3) & (4)
The Article also states that the article cannot be used as an argument to make special provisions for women, children or any other backward classes. Nothing in this article or in clause (2) of Article 29 shall prevent the State from making any special provision for the advancement of any socially and educationally backward classes of citizens or for the Scheduled Castes and the Scheduled Tribes, the article states.

Article 15 (5)
Article 15(5) moves a step ahead and empowers the country to make reservations with regard to admissions into educational institutions both privately run and those that are aided or not aided by the government. Under this rule, only the minority run institutions such as the Madarsas are exempted.

সমাজ একটা বড় সিস্টেম। সেই সিস্টেমে কেউ রাজা, কেউ প্রজা, কেউ সিপাহী। কিন্তু সমস্যা হয়  যখন এই এত বড় কর্মকাণ্ডের মধ্যে যদি এমন কেউ এসে পড়ে যে এই রাজার রাজতন্ত্রকে ভাঙতে চায়। আর ভাঙবেই না বা কেনো? যখন রাজা তার প্রজাদের শোষণ করছে রক্তচোষার মতো। তাই এই সিনেমায় এটাই চেষ্টা করেছে নিজের অধিকার সম্পর্কে জনগণকে সজাগ করার। আর এখানেই বাধা আসে ধর্ম ব‍্যবসায়ীদের। আত্মতুষ্টির জন‍্য ছিনিমিনি খেলছে দুর্বলদের নিয়ে। সবশেষে একটাই কথা বলছি আমাদের সজাগ ও সচেতন হওয়া একান্ত প্রয়োজন অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়ার জন‍্য।

তথ‍্যসূত্র: উইকিপিডিয়া ও
অন‍্যান‍্য সংবাদ পত্র।
ছবি : গুগল থেকে

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...