Wednesday, January 9, 2019

পুঁজিবাদ যেভাবে আমাদের মেরে ফেলছে

লেখক-বেলেন ফার্নান্দেজ।
আল–জাজিরা থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুদিত।
বেলেন ফার্নান্দেজ মার্কিন লেখক ও গবেষক।

বেশ কয়েক বছর আমি আর আমার এক বন্ধু ভেনেজুয়েলায় ছিলাম। সেখানে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থার চিরশত্রু বলে পরিচিত সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের প্রতিষ্ঠিত স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিকগুলোতে আমার বিনা মূল্যে যে চিকিৎসাসেবা নিয়েছি,তা ভুলবার নয়। আমার দেশ আমেরিকায় আমি বিনা মূল্যে এমন উন্নত চিকিৎসাসেবা কল্পনাও করতে পারি না। এর কারণ হলো, পুঁজিবাদের ধ্বজাধারী আমেরিকা যুদ্ধ বাধানো এবং কর্পোরোট মুনাফা অর্জনের পেছনে এত বেশি সময় দেয় যে মৌলিক মানবাধিকার নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় সে পায় না। ভেনেজুয়েলার একটি ক্লিনিকের একজন নারী চিকিৎসক আমাকে বলছিলেন, বিশ্বের যেখানেই যুদ্ধ সেখানেই মার্কিন সেনাবাহিনীর দেখা পাওয়া যাবে।আর সেসব যুদ্ধবিধ্বস্ত জায়গায় কিউবার লোকও থাকে। তবে তারা সেনা নন,তাঁরা চিকিৎসক।
২০১৭ সালে জাতিসংঘের তীব্র দারিদ্র্য ও মানবাধিকার বিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, চীন, সৌদি আরব, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ভারত, ফ্রান্স ও জাপান সম্মিলিতভাবে জাতীয় নিরাপত্তা খাতে যত অর্থ ব্যয় করে, তার চেয়ে বেশি ব্যয় করে যুক্তরাষ্ট্র। আর সেই যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৩ সালের হিসাব অনুযায়ী উন্নত বিশ্বের মধ্যে শিশুমৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার ওই সময় বিশদ তথ্য দিয়ে একটি প্রতিবেদন পেশ করেছিলেন। সেখানে তিনি আমেরিকার সমাজব্যবস্থাকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে অসম সমাজ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, আমেরিকায় অন্তত চার কোটি মানুষ দরিদ্র। সেখানে মৃত্যুহার বাড়ছে এবং সামাজিক অস্থিরতা ও নেশার কবলে পড়ে বহু পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেছেন, এই সবকিছুর পেছনে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা একটি বড় ভূমিকা রাখছে।
আমেরিকান সমাজে এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মাদক। এই সমাজের একটি বিরাট অংশ মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। অর্থ আর মুনাফা অর্জনের সীমাহীন নেশা এখানকার মানুষের জীবনকে এতটাই অস্থির করে তুলছে যে বহু মানুষের পক্ষে আক্ষরিক অর্থেই এই সমাজ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর ২০১৮ সালের জরিপে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকার এই অস্থির ও নির্বান্ধব জীবনকে মেনে নিতে না পারায় সমগ্র দেশের মানুষের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে।
সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নব্য উদার অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় মানুষ অর্থের পেছনে ছুটতে ছুটতে ক্রমাগত একা হয়ে যাচ্ছে। পারস্পরিক বন্ধন ছুটে যাচ্ছে। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এই নিষ্ঠুর নিঃসঙ্গতা মানুষের জীবনে হুমকি হয়ে দেখা দিচ্ছে। তাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা অনেক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। মানুষ ভোগবাদী জীবনের অস্থিরতার জন্য অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিষণ্নতা থেকে আরোগ্যলাভের জন্য সেখানে ‘বিষমিশ্রিত’ বিশাল বিশাল ওষুধ কোম্পানি খোলা হচ্ছে। ওষুধ কোম্পানিগুলো কোটি কোটি ডলারের মুনাফা তুলে নিলেও দিন শেষে বিষণ্ন মানুষগুলোর জীবনে প্রাণখোলা হাসি–আনন্দ আসছে না।
মার্কিন পুঁজিবাদ শুধু যে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বা আশপাশের দেশের মানুষের পারিবারিক বা সামাজিক বন্ধনের জন্য হুমকি, তা নয়। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পুঁজিবাদী অর্থনীতি ও ভোগবাদী সমাজ সম্প্রসারণের কারণে পণ্যের অতি ব্যবহার, অপব্যবহার ও বিষক্রিয়া বাড়ছে। এটি গোটা পৃথিবীকে এমন এক ধ্বংসের জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে, যেখান থেকে আর ফেরা সম্ভব হবে না। ১৯৮৯ সালের আগে মার্কিন অর্থনীতিবিদ পল সুইজি বলেছিলেন, অধিক ভোগ ও উৎপাদন প্রবণতার কারণে গ্রিনহাউস ইফেক্ট বা কার্বন নিঃসরণ ও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে। পুঁজিবাদ যত বেশি বিকশিত হবে, এই ধারা তত বাড়তে থাকবে। ক্রমেই পৃথিবী ধ্বংসের দিকে যেতে থাকবে।
এক্সট্রিম সিটিজ: দ্য পেরিল অ্যান্ড প্রমিজ অব আরবান লাইফ ইন দ্য এজ অব ক্লাইমেট চেঞ্জ বইয়ের লেখক অ্যাশলে ডওসোন গত ডিসেম্বরে ভারসো বুকস ওয়েবসাইটে লেখা একটি দীর্ঘ প্রবন্ধে দেখিয়েছেন, কীভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ‘উগ্র পুঁজিবাদ’ এবং ‘পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভকে অপরাধ সাব্যস্ত করার চেষ্টা’ দিয়ে গোটা বিশ্বকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। অ্যাশলে ডওসোন বলছেন, ট্রাম্প নিজেও পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মধ্যে আটকা পড়ে গেছেন। এ থেকে তিনি বের হতে পারবেন না। আমেরিকাও বের হতে পারবে না।
পৃথিবীকে বাঁচাতে হলে এই ধনতান্ত্রিক অস্থির সমাজকে ভাঙতেই হবে। বিশ্বকে জাগতেই হবে।

Friday, January 4, 2019

।। একবিংশের যীশু।।

(কলকাতার যীশু নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী প্রয়াণে ।)

একমুঠো মিঠেল রোদ ফুটপাতে ছিল রাখা

ধার চেয়েছিলাম তার সর্দারের কাছে----
রক্ত-মাংসের অভিনয়ে নয়
পুতুল নাচের পর্দা উঠে গেলো
মূকাভিনয়ে।

মিঠেল রোদগুলো ও তাৎক্ষণিকতাতে বিশ্বাসী,
সভ‍্যতার প্রাচীন কাল থেকে
পাহাড়--মরু স্খলিত ট‍্যাটু,ভিসুবিয়াসের মতো,
বিষাদের কালো মেঘ--
বৃষ্টি নামুক এই শহরে।

লালবাতি,ফেরিওয়ালা, বাঘমার্কা ডাবল-ডেকার,কলকাতা শহর--
ষ্টেটবাসটাও ভিখারি জনতার আর্তনাদে,
বদলায় নি 'সম্পূর্ণ এক উলঙ্গ শিশুও'।

কলকাতার যীশুর কথায়-
' এখন রোদ্দুর ফের অতিদীর্ঘ বল্লমের মতো
মেঘের হৃৎপিণ্ড ফুঁড়ে'

নির্বাক শহরটা আজও আসে নাই
অগ্নিবীণার মিছিলে!

প্রসঙ্গে মানবাধিকার :--


মানবাধিকার প্রত্যেকটা মানুষের জন্মগত অধিকার। মানবাধিকার কথার অর্থ হলো মানুষের অধিকার।প্রত‍্যেকটা মানুষই চায় নির্ভেজাল অক্সিজেন। মানব সমাজের ভিত্তি হচ্ছে ন‍্যায় বিচার, সুষ্ঠ জীবন যাপন,সহজাত মর্যাদার স্বীকৃতি। বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে আলোচিত ও অবহেলিত প্রসঙ্গটির নাম মানবাধিকার। ১৯৪৮ সাল থেকে জাতিসংঘের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর যথাযোগ্য মর্যাদা ও গুরুত্বের সাথে বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। মানুষের প্রতি মানুষের সহমর্মিতা এবং মানবতাবোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমন্বয়ে ঘোষিত হয় সার্বজনীন মানবাধিকার দিবস।
মানবাধিকার ব‍্যক্তিকে স্বাধীনতা, ন‍্যায়,সমতা,মর্যাদা রক্ষক জীব রূপে ক্ষমতা দিয়ে থাকে। Robert L. Barker  বলেন, Human Rights are the opportunity to be accorded the some progressive and obligations as to race, sex, language, or religion. [Robert L. Barker (edit): The Social work Dictionary, NAS, New York, 1995, p.- 173] অর্থাৎ মানবাধিকার হলো কিছু সুযোগ-সুবিধা, যা জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা নির্বিশেষে সকলের জন্য সমান। সুতরাং মানবাধিকারকে একটা Mechanism or Instrument অথবা মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা যায় যা সকল মানুষের জন্য সহজাত ও সার্বজনীন এবং যা ব্যক্তির আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অগ্রগতির জন্য সহায়ক।

মানবাধিকারের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বা   মূলনীতি :
সার্বজনীনতা : মানবাধিকার সারা পৃথিবীতে সকল মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা নির্বিশেষে সকল মানুষ এই অধিকারগুলো সমানভাবে ভোগ করতে পারবে।
অবিচ্ছেদ্য নিরবচ্ছিন্নতা : যথাযথ বা ন্যায়সঙ্গত কোন কারণ ব্যতিরেকে কোন দেশ বা রাষ্ট্র মানবাধিকারসমূহ বা কোন একটি মানবাধিকারও কখনও কেড়ে নিতে পারবে না।
পারস্পরিক নির্ভরশীলতা : মানবাধিকার সমূহ একটি অপরটির সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত ও নির্ভরশীল। একটিকে অপরটি থেকে পৃথক করা যায় না। যেমন : সার্বজনীন চিকিৎসা বা শিক্ষার অধিকারটি কোন দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির ওপর নির্ভর করে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন বা মুক্তি এবং সচেতনতা ছাড়া চিকিৎসার অধিকার পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
সমতা ও বৈষম্যহীনতা : মানবাধিকারগুলো জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, রাজা, প্রজা ভেদে কোন পার্থক্য করা যাবে না। সকল মানুষ সমানভাবে এই অধিকারগুলো ভোগ করবে।
আইনের শাষণ ও কর্তব্যপরায়ণতা : ব্যক্তির ক্ষেত্রে মানবাধিকারগুলো ভোগ করতে হলে অবশ্যয়ই কর্তব্য পালন করতে হবে। নিজের অধিকার পেতে হলে অবশ্যয়ই অন্যের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। আবার রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে অবশ্যই জনগণের এই অধিকারগুলো নিশ্চিত করার পজিটিভ Policy গ্রহণ করতে হবে এবং কোন কারণে এই অধিকার লঙ্ঘন করলে জবাবদিহি করতে হবে।
মানবাধিকারগুলোকে ৫ ভাগে ভাগ করা যায়:
১. রাজনৈতিক অধিকার : ভোটাধিকার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার।
২. নাগরিক অধিকার : জীবন ও স্বাধীনতার অধিকার। মতামত এবং অভিব্যক্তি প্রকাশের অধিকার।
৩. অর্থনৈতিক অধিকার : ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কাজের পরিবেশের অধিকার।
৪. সামাজিক অধিকার : বাসস্থান, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার অধিকার।
৫. সাংস্কৃতিক অধিকার: প্রত্যেকের নিজ নিজ প্রথা এবং সাংস্কৃতিক চর্চার অধিকার।
মৌলিক মানবাধিকারসমূহ:
জাতিসংঘ ঘোষিত সার্বজনীন মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী প্রধান প্রধান মানবাধিকার সমূহ নিম্নরূপ :
সমতা এবং বৈষম্যহীনতার অধিকার
জীবন ধারণ এবং স্বাধীনতা লাভের অধিকার
খাদ্যের অধিকার
চিকিৎসার অধিকার
শিক্ষার অধিকার
রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের অধিকার
মতপ্রকাশ ও বাকস্বাধীনতার অধিকার
সমিতি বা সংগঠন করার অধিকার
শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ করার অধিকার
ভোটাধিকার
ধর্ম পালন ও প্রচারের অধিকার
নিজ সংস্কৃতি চর্চার অধিকার
তথ্য পাওয়ার অধিকার
সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ গ্রহণ করার অধিকার
নির্যাতন ও বন্দিদশা থেকে মুক্তির অধিকার
আইনের দৃষ্টিতে সমতা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার
স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকার
গোপনীয়তার অধিকার
জাতীয়তার অধিকার
বিয়ে ও পরিবার গঠনের অধিকার
কর্মসংস্থান লাভের অধিকার
সামাজিক নিরাপত্তা লাভের অধিকার

মানবাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা : সমতা ও বৈষম্যহীনতার ভিত্তিতে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকারগুলোকে শ্রদ্ধা করা, রক্ষা করা এবং পরিপূর্ণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে প্রত্যেকটি রাষ্ট্রের।
১. শ্রদ্ধা করার বাধ্যবাধকতা (Obligation to Respect): বলতে বুঝায় ব্যক্তির প্রাপ্য অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র এমন কিছু করবে না যাতে কোন নাগরিকের অধিকার ক্ষুন্ন হয়।
২. অধিকার রক্ষা করার বাধ্যবাধকতা (Obligation to protect): যদি তৃতীয় কোন পক্ষ কোন নাগরিকের অধিকার ভোগে বাধা প্রদান করে, রাষ্ট্র সেই বাধা থেকে নাগরিকের অধিকারকে সুরক্ষা করবে।
৩. পরিপূর্ণ করার বাধ্যবাধকতা (Obligation to fulfill) : রাষ্ট্র প্রত্যেক নাগরিকের অধিকারগুলোকে তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এগুলোকে সহজলভ্য ও উন্নতর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে। এ ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি বা সামাজিক উদ্যোগকে সহযোগিতা প্রদান করতে রাষ্ট্র বাধ্য থাকবে।
৪. পদক্ষেপ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা (Obligation to take step) : নাগরিকের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের প্রতি সম্মান রেখে যথাযথ পন্থায় ধারাবাহিকভাবে অর্জনের জন্য সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে রাষ্ট্রের। [ Universal Human Rights act, 217 A, 10th December,1948 Paris]
            পৃথিবীর অন্যান্য দেশের ন‍্যায় ভারতেও ১৯৯৩ সনে মানবাধিকার আইন লাগু হয়। যদিও ভারতের বহু রাজ্যে আজও মানবাধিকার কমিশন গঠন হয় নি। বিশ্ব মানবাধিকার কমিসনের লিখিত ধারাগুলির মধ্যে বেশীর ভাগই ভারতীয় সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়ে থাকা মৌলিক অধিকারের মধ্যে স্তান পেয়েছে। ভারত সামাজিক, সাংস্কৃতিক অধিকারের সনদে স্বাক্ষর করে নি কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়ে আর্থ সামাজিক বিভিন্ন দাবীকে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।
              যদিও মানবাধিকার নিয়ে জাতিসংঘ এক অভিনব প্রয়াস হাতে নিয়েছে। তাস্বত্বেয় অন্য দেশের কথা বাদ দিয়ে যদি ভারতবর্ষের মানবাধিকার লংঘনের কথা বলি তবে এনিয়ে পুরো একটা গ্রন্থ রচনা করা যাবে। এমনেষ্টি ইন্টারনেশনেল সংস্থার শুধু ২০১৮ এর রিপোর্ট অনুযায়ী ---- ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন(মুসলিম), কিছু কট্টরপন্থি হিন্দু সংস্থার দানবীয় রূপ, শিল্পজাত প্রকল্পের জন‍্য আদিবাসী উৎপাটন,ব‍্যপক ভাবে দলিতদের নিয়ে নোংরা রাজনীতি। তীব্র ভাবে দাঙ্গাবাজদের হিংস্রতা বিশেষ করে গো-রক্ষক দল, কলেজ ইউনিভার্সিটি তে ফ্রী স্পিচে আক্রমণ। এখানেই শেষ নয় আরও তীব্র ভাবে মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে নারী ও শিশুদের প্রতি। চলতি বছরে ধর্ষণ কাণ্ডে এক রেকর্ডও গড়লো।  সামগ্রিক ভাবে কাঠুয়া, বুলন্দ শহর, তথা ঐ বাইশটা গ্রাম নিষ্পেষিত হয়েছে Statue of Unity স্থাপন, কৃষকরা আজও ধর্ণা দিচ্ছে অধিকার নিয়ে। আমাদের রাজ‍্যগুলোর মধ্যে অসম ও পিছিয়ে নেই। NRC তে বাঙালি হেনাস্থা,ডিটেনশনে হিটলারি কায়দায় চলছে নির্যাতন, শেষ রক্ষা হয়নি একশো বছরের বৃদ্ধও।
                সারা বিশ্বে এখন মানবাধিকারকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে প্রত্যেকটি দেশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য মানবাধিকার সংস্থা। নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হতে হবে আমাদেরই। মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি, ঘোষণাসমূহ এবং দেশীয় আইন গভীরভাবে অধ্যয়ন করা। অঞ্চলে অঞ্চলে জনগণকে জাগ্রত করতে হবে মানবাধিকার কর্মীদের দ্বারা। মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা, সেমিনার এর আয়োজনের মাধ্যমে জনগণকে মানবাধিকার সচেতন করে তোলা। সর্বোপরি, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে হাতে হাত রেখে সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় নিয়োজিত হওয়া ।
পরিশেষে বলা যায়, ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসকে সামনে রেখে সবাই নিজের অধিকারের ব্যাপারে সচেতন হওয়া এবং অন্যের অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার করা উচিত নতুনভাবে।

নশ্বর পৃথিবী টা

নশ্বর পৃথিবীটার বিরাট আস্ফালন!
একমুঠো পরিধির রাসানাগারে
জঠর ভেদ... চলছে....
উদারতার সাজসজ্জায় অনৈতিক মূল‍্যায়ন!
শবের মিছিলে লাল অক্ষরে ব‍্যনার
ফ‍্যেশন, যুগের বিবর্তন।

লিখতে বসলেই দেখি....
ভুলের সাতকাহন প্রাচীন থেকে বর্তমান স্বমহিমায়।
তবু একগাদা বুর্জোয়ামী খেলাফতে
নির্দ্বিধায় শ্রেষ্ঠ জীবরা, ব‍্যস্ত পদ-লেহনে
ম‍রুক না বুড়ো পাগুলো রাজধানী তটে
......শষ‍্যের গুরুত্ব হ্রাসে।
কুর্নিশ তোমায়!

আরও কুর্নিশ......
ঐ দলবদ্ধ যৌবনের সেনাপতিকে।
'জয় শ্রীরাম' হবে মানবতার শ্লোগান!
ধর্মের রাজনীতিতে সুমহান----
বাবরি আর রামমন্দির এখন অমৃত সমান!
রাজপথে পুড়ুক ওরা, রক্তে হোলি খেলা
থামাসনে ঈশ্বরবাদী মনুমেন্ট গড়া।

Thursday, January 3, 2019

এশিয়া মহাদেশের প্রথম মহিলা শিক্ষিকা

সে  এক মেয়ে ছিল, যে ভারতে প্রথম গার্লস স্কুল তৈরি করেছিল। তাও আবার ছোট জাতের মেয়েদের জন্য, যাদের পড়াশোনার কথা কেউ ভাবতে পারত না।

আঠেরো বছরের হেড-দিদিমণি ঘর থেকে বেরনোর সময়ে ব্যাগে রাখত বাড়তি শাড়ি। রাস্তায় এত লোক কাদা ছুড়ত, যে ইস্কুলে গিয়েই শাড়ি বদলাতে হত।

তাতেও শিক্ষা হয়নি মেয়ের। গর্ভবতী হয়ে-পড়া ব্রাহ্মণ ঘরের বিধবাদের ডেকে এনে ঠাঁই দিত ঘরে।  যাদের কথা শুনলে আজও লোকে আঙুল দেয় কানে।  

একশো কুড়ি বছর আগে মারা গিয়েছেন সাবিত্রীবাই ফুলে। এই মার্চেই। নারী দিবসের দু’দিন পরে, ১০ মার্চ তাঁর মৃত্যু দিন। মারা গিয়েছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু যে বছর জন্মেছিলেন, সেই ১৮৯৭ সালে।

কিন্তু রোহিত ভেমুলার এই যুগে তাঁর মতো জ্যান্ত আর কে আছে? সনাতন হিন্দুত্বের যখন জয়জয়কার, ভ্যালেন্টাইন্স ডে শুনলে খেপে মারতে আসে লোক, দলিত লেখককে কুপিয়ে খুন করা হয়, তখন সাবিত্রীর জীবনকথা— এমনকী তার মৃত্যুর কথাও— চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় জাতীয়তা মানে কী, দেশপ্রেম কাকে বলে। কাকে বলে নারী অধিকার, সমমর্যাদা। তাঁরই উদ্যোগে পুণে শহরে সব নাপিত হরতাল করে এক দিন। বিধবা হলেই মাথা কামাতে হবে মেয়েদের? মানব না।

সাবিত্রীবাইয়ের জীবন থেকে গোটা পাঁচেক সিরিয়াল, গোটা দুয়েক হিন্দি সিনেমা, আর কয়েক ডজন নাটক-উপন্যাস নামিয়ে ফেলা যায়।

ধরা যাক রাস্তায় হেনস্থার এপিসোডটা। শুধু কাদা নয়, পাথরও ছুড়ত লোকে। আটকাতে রাখা হল এক বডিগার্ড, বলবন্ত সখারাম কোলে। স্মৃতিকথায় তিনি লিখেছেন, সাবিত্রীবাই বলতেন, ‘তোমাদের গোবর, পাথর— আমার কাছে ফুল।’

যখন শুরু এ গল্পের, কোম্পানির সেপাইরা বিদ্রোহ করেনি। কলকাতায় বেথুন সাহেবের ইস্কুল তৈরি হয়নি। জেলায় জেলায় বালিকা পাঠশালা বিদ্যাসাগরের মাথায় একটা আইডিয়া। সেই ১৮৪৮ সালে একটা একুশ বছরের ছেলে তার আঠেরো বছরের বউকে নিয়ে মেয়ে-ইস্কুল খুলে ফেলল পুণেতে।

ফল মিলল হাতে হাতে। বাবা বাড়ি থেকে বার করে দিলেন ছেলে-বউকে। জ্যোতিরাও ফুলে আর তাঁর স্ত্রী সাবিত্রীবাই। ফুল থেকে ‘ফুলে’, মালির জাত।  সোজা কথায়, দলিত। একে মালি হয়ে মাস্টারি, তা-ও  দলিত আর মুসলিম মেয়েদের স্কুল?

টাকা-পয়সা জোগাড়ে বেরোলেন জ্যোতিরাও, দুই বন্ধুর তত্ত্বাবধানে চলল সাবিত্রীর তালিম। ফের ১৮৫১ সালে স্কুল খুলল। সাবিত্রী প্রধান শিক্ষিকা, স্কুলের প্রাণকেন্দ্র। বছর দুয়েক না যেতে ‘পুনে অবজার্ভার’ কাগজ লিখছে, ‘মেয়েদের ইস্কুলে ছাত্রীরা অনেক ভাল শিখছে সরকারি ইস্কুলের ছেলেদের চাইতে। সরকার কিছু করুন, নইলে মেয়েরা বেশি ভাল ফল করলে আমাদের মাথা নিচু হয়ে যাবে।’

তত দিনে ঈশ্বরচন্দ্র বেথুন স্কুলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তাঁর নির্দেশে ছাত্রীদের গাড়ির পাশে লেখা হয়েছে মহানির্বাণতন্ত্রের বাণী, ‘কন্যারাও সমান যত্নে পালনীয়, শিক্ষণীয়।’ কিন্তু মেয়ে শিক্ষক তৈরির প্রস্তাব বাতিল করে দিয়েছেন ঈশ্বরচন্দ্র। মেয়েরা বাড়ির বাইরে কাজ করবে, এটা মানার জন্য সমাজ তৈরি নয়, ছোটলাটকে চিঠিকে লিখেছিলেন। তিনি নিজেই কি রাজি ছিলেন? নিজের স্ত্রী, দুই কন্যাকে লেখাপড়া শেখাননি তিনি।

জ্যোতিরাও ঈশ্বরচন্দ্রের চাইতে সাত বছরের ছোট, সাবিত্রী এগারো বছর। তাঁদের কাজের গোড়া থেকেই ছাত্রী তৈরি আর শিক্ষিকা তৈরি চলেছে পাশাপাশি। বিদ্যাসাগর যখন অতি কষ্টে কায়স্থদের ঢোকাতে পারছেন সংস্কৃত কলেজে, সুবর্ণ বণিক ছাত্রকে ঢোকাতে না পেরে আক্ষেপ করছেন, তখন একেবারে ‘অস্পৃশ্য’ মাং, মাহার, মাতং  পড়তে আসছে সাবিত্রীবাইয়ের নেটিভ ফিমেল স্কুলে।

আজকের ইতিহাস বইতে দলিত আন্দোলনের চ্যাপ্টারে সাধারণত লেখা হয় জ্যোতিরাও ফুলে-র কথা। সাবিত্রী তার ফুটনোট। অথচ আশ্চর্য, ব্রাহ্মণ বিধবাদের দুঃখ নিজের মধ্যে অনুভব করেছেন সাবিত্রী। সময়টা ১৮৬৩। কাশীবাই নামে এক ব্রাহ্মণ বিধবাকে গর্ভবতী করে কেটে পড়ে এক শাস্ত্রীজি। কাশীবাই জন্ম দিয়ে গলা কেটে মারে শিশুকে। ‘খুনি’ কাশীবাইকে ইংরেজ সরকার আন্দামানে পাঠায়। আহত ফুলে দম্পতি গোটা শহরে পোস্টার সাঁটেন, শিশুহত্যা না করে আমাদের আশ্রমে আসুন। পরের কুড়ি বছরে প্রায় ৩৫ জন ব্রাহ্মণ বিধবাকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন সাবিত্রী।

মেয়েদের জন্য রামমোহন, বিদ্যাসাগর অনেক লড়াই করেছেন, কিন্তু ভালবেসেছেন  কি?  রামমোহনের তিন স্ত্রী ছিল, কারও সঙ্গেই মনের ঘনিষ্ঠতার কথা জানা যায় না। শোনা যায়, তাঁর দত্তক নেওয়া সন্তান রাজারাম নাকি মুসলিম উপপত্নীর গর্ভজাত। বিদ্যাসাগরের বিপুল কর্মকাণ্ডে স্ত্রী দয়াময়ী কই? অথচ একই প্রজন্মের মানুষ জ্যোতিরাও-এর মেয়েদের স্কুলে সাবিত্রী চালিকাশক্তি, তাঁর সত্যশোধক সমাজে সাবিত্রী ৯০ জন মেয়ে নিয়ে শামিল, সম্মেলনে তিনি সভানেত্রী। ১৮৬৮ সালে স্বামীকে সাবিত্রী চিঠি লিখছেন, ‘এক ঘটনা হয়ে গেল। এই গণেশ ছেলেটি ব্রাহ্মণ, মেয়েটি মাহার। মেয়েটি  গর্ভবতী জেনে সবাই ওদের পিটিয়ে মারার চেষ্টায় ছিল। আইনের ভয় দেখিয়ে আমি অনেক কষ্টে বাঁচিয়েছি। তোমার কাছে পাঠালাম।’ ওই যুগলের কী হয়েছিল, জানা যায় না। তবে এক বিধবার গর্ভজাত পুত্রকে দত্তক নেন ফুলে দম্পতি। সেই ছেলে যশোবন্তের বিয়ে সম্ভবত আধুনিক ভারতের প্রথম অসবর্ণ বিবাহ।

তবে তার চাইতেও যা চমকে দেয় তা হল, বিয়ের আগে পুত্রবধূ লক্ষ্মীকে বাড়িতে এনে রেখেছিলেন সাবিত্রী। যাতে ছেলে-বউ এ-ওর  মন বুঝতে পারে। সিরিয়ালের শাশুড়িদের দেখলে মালুম হয়, আজও এমন মেয়েকে চিত্রনাট্যে ফিট করা সোজা হবে না। মঞ্চে নারীবাদী বিস্তর, সংসারে বিরল।

আশ্চর্য এই মহিলা প্রায় আড়ালে রয়ে গেলেন। দাবি উঠেছে, ৩ জানুয়ারি, তাঁর জন্মদিনটি ‘শিক্ষক দিবস’ বলে পালন করা হোক। সর্বেপল্লি রাধাকৃষ্ণণ বরেণ্য দর্শনবিদ, আদর্শ শিক্ষক। শিক্ষার উৎকর্ষ তাঁকে দেখে শিখতে হয়। কিন্তু যে শিক্ষক সব শিশুকে সমান শিক্ষা না দেওয়ার অপরাধে গোটা দেশকে বেঞ্চে দাঁড় করাতে পারেন, প্রথম পাঠ নিতে হবে তাঁর থেকেই। ‘শিক্ষার অধিকার’ মানে কী, জানতে হলে সাবিত্রীর জীবনটা জানতে হবে। শেষ অবধি তাঁর জন্মদিনে তেমন কিছুই হয়নি, তবে গুগল তাঁকে নিয়ে ডুড্‌ল করেছিল সে দিন। তাঁর দুই বাহুর মধ্যে মেয়েরা, সবাইকে যেন তিনি টেনে নিচ্ছেন কাছে। গত তিন দশকে তাঁর উপর তেমন কোনও বইও লেখা হয়নি। পেশোয়া বাজিরাওকে ভালবাসার টানে বুন্দেলখন্ডের রাজকুমারী মস্তানির লড়াইটা নতুন করে চিনল সবাই। কিন্তু মেয়েদের  স্কুলে আনার লড়াইটা স্বামীর পাশে দাঁড়িয়ে যে মরাঠি মেয়েটি লড়ে গেল সবার আগে, বিস্মৃতির বাঘ তাকে খেয়ে গিয়েছে।

বেঁচে থাকতে সম্মান কম পাননি সাবিত্রী। পণ্ডিতা রমাবাই, আনন্দীবেন জোশি, রমাবাই রণদে, সে কালের শিক্ষিতা মেয়েরা এসে দেখা করে গিয়েছেন। সাবিত্রী ছিলেন মাঝারি গড়নের, সুমুখশ্রী, শান্ত মানুষ। তাঁকে কেউ নাকি রাগতে দেখেনি। যা করার, হাসিমুখে করে গিয়েছেন।

জীবনের শেষ দিন অবধি ব্যতিক্রমী সাবিত্রী। প্লেগ তখন মহামারী। মায়ের কথায় যশোবন্ত সেনাবাহিনীতে ডাক্তারির চাকরি থেকে ছুটি নিয়ে পুণেতে প্লেগের ক্লিনিক খুলে বসলেন। সাবিত্রী
নিজে রোগীদের সঙ্গে করে নিয়ে আসতেন। রোগ ছোঁয়াচে, তা জেনেও। শেষে একদিন পরিচিত
এক মাহার পরিবারের বালক সন্তানকে পিঠে করে নিয়ে এলেন ক্লিনিকে। ছোঁয়াচে রোগ বাসা বাঁধল তাঁরও শরীরে।  তাতেই মারা গেলেন ১৮৯৭ সালে।

এত নির্ভয় কোনও মেয়ে হতে পারে, ভাবলেও ভয় করে।( লেখাটি  আনন্দবাজার পত্রিকা থেকে সংগৃহীত)

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...