১) আমি জানি ওরা আর বাঁচাতে দেবেনা
কারণ, পাড়ায় পাড়ায় একটা গুজব
প্রতিটা গলির মোড়ে রক্তের কালিতে লিখা
রক্তিম সাইনবোর্ড।
২) 'দুঃখ' শব্দটার যে ঠিক কতটা অর্থ
তা এক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
সরকারের মতো!
পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে রিফ্যুজি লতার মতো
সম্মিলিত অস্তিত্ব মৌন
বেশ্যাদের মৃত্যু মিছিল দেখে! !
৩) হারিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে মনে একটি বারের জন্যও
উঃ শব্দটা আসে না, মানে আসেই না
আজকাল এসব সহজাত
অর্থাৎ ' আপনা টাইম আয়েগা'।
৪)'রাষ্ট্র' আর 'বিপ্লব' দুটিই একে অপরের পরিপূরক
কেউবা থালা নিয়ে হাজির
কেউবা মালা নিয়ে
মূল অধ্যায়ের মূল্যায়ন নেহাত দুর্বল
আর বন্দুকের নলের আগে স্বাধীনতা
এসব আড়াল আজ শুধু চিত্রকল্প
সেই কৃষক ও নেই সেই ভার্সিটির ছাত্রও নেই
আছে কেবল কয়েকটা বলির পাঠা
তাই কবির ভাষায় খিস্তি হোক রাষ্ট্রীয় অ্যানথেম।
৫) অবশ্য মনের গন্তব্য তার গভীরতার দৈর্ঘ্য মাপে
সেন্টিমিটার বাই সেন্টিমিটার
জীবনের প্রতিটা মূহুর্ত হিসেব কষে
মূলরোম থেকে জলস্তর পর্যন্ত।
যেখানে নিয়তির খেলা সাময়িক প্রসঙ্গ
যা আস্বাদন দুঃখবোধ আর বিলাপও।
পঞ্চভূতের পাঠশালা ফাঁটা জিন্সের পৃথিবী
নেশাতুর সালসা আর গিটারের গুঞ্জণে
লাফিং বুদ্ধের ভঙ্গিতে নিমগ্ন দ্রাক্ষাবন।
৬)
ভবিষ্যৎ বদলাচ্ছে নিঝুম রাত্তিরে
নৈশব্দিক রহস্যময় জগত টা
শব্দ বাণে স্থিতধী।
চাহিদার গুণগ্রাহী সুরক্ষার জোট আর
সীমান্ত-নদী-পাহাড় বেয়ে
কিম্বদন্তি হ্লাফ পেন্ট মানুষগুলো
সাক্ষী এই ধুসর সময়ে।
৭) প্রেম--
আর আসে না, দুর্মুখ স্বপ্নগুলোর
ইচ্ছেমত ফরমানে, এখন
হিউমাস দেখে।
৮) এশহর এখন ফ্যাকাশে
পুরোনো চোখগুলোর অভাব, শুধু আভিজাত্য আর আভিজাত্য
শর্ট স্কার্টের পরদেশী হাওয়া সওদাগরি মেজাজে।
পদবী বসছে চাঁদের হাটে
মিঠাজলে রাম আর উইস্কির ককটেল
সঙ্গে চলছে উৎসব গীত।
৯) কুশিয়ারা বেয়ে খাঁড়া ডাকবাংলা ঘাটে
দু-পার বাংলার ঘ্রাণ উদ্ধার করেছি
খানিকটা বিষ্ঠা খেয়ে।
ল.সা.গু- গ.সা.গু উৎপাদক বের করে
স্রোতের প্রবাহে দিনশেষে একটাই চিত্র তুলে
সেটা হলো মান যোগ হুশ।
রাস্তা খুঁড়লেই কী মীমাংসা হয়
এ যে নাড়ির সাথে নাড়ির টান
স্মৃতিমধুর রুমন্থন উপাখ্যান,
একটা রিফিলের মতো
সম্পর্কে যতিচিহ্ন বসে !
১০) একটি ফুল---
হাত পা ছাড়া সাবলীল গঠন
সমুদ্র মন্থনের পাশ দিয়ে
হারিয়ে যাচ্ছে নদীর দু'পারের মতো
আলগে।
ভালো থাকার কথায়
দেহতত্ব গায়,তবু নির্যাস হারিয়ে
দিতে চায় একচিলতে রুদ্দুর।
রক্তপাত শেষে বিয়োগান্তুক মূহুর্ত
ক্লেদাক্ত বাগান আর সয়না
নিয়তির নিঝুম ভাষ্য।
১১) 'হামসফর' চড়ে কী উপলব্ধি করার!
পিছনে ঠেলে দেয় আলোক ফোয়ারা ষ্টেশনগুলো
স্বৈরাচারী আবেগে।
যাচ্ছে তো যাচ্ছে
একটার পর একটা টপকে
পু ঝিক পু ঝিকে, সাড়ম্বরে
'এয়ার ব্রেকের' শব্দে অসুবিধে নেই বোঝাতে
থামতে হয় কোন না কোন ষ্টেশনে।
১২) চতুর্ভূজ চারটা সমান বাহু
সমান তালে জ্যামিতির প্যাঁচালো প্যাশন
অন্তত বিশেষ কেউ নেই এই ঢেউয়ের তালে
অর্থাৎ সমান বিভাজনে
যান্ত্রিক সভ্যতায় ১:২ বা ২:১ উৎপাদক বিশ্লেষণে
ত্রেতাযুগ ঘোর গ্লোবাল ওয়ার্মিং ।
১৩) সেই চোখ জোড়া এখন কন্টেন্ট ল্যান্সের কয়দখানায়
উত্তাপীত মমদেহ বিগলিত ধারায়
একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত
নির্লিপ্ত হয়ে চলছে
প্রবাহিত ঝর্ণার মত।
এই ধুসর সময়ে
অভিমানে বিষাদ আগুন ইঙ্গিত দেয়
হারাপ্পা সভ্যতার মত হারিয়ে যাবো
স্ফুট বিষাদে।
১৪) প্লাস্টিক পেইন্টের শহরগুলোতে
প্লাস্টিকের শ্বাস-প্রশ্বাসটাও
ব্রহ্মপুত্র থেকে বরাক তার চরাই উৎরাই
খাশি পাহাড় থেকে ভুবন পর্যন্ত
হয়তো বলতে পারো ---
মানসিক অসংগতি।
মাটিতে দাঁড় করানো আর্কিটেক্ট
প্রাচুর্য অলঙ্করণে পড়ে আছে কম্পিটিশনে
নিজ থেকে দুর্বলের দলে।
১৫) আলো হারিয়ে ঋণ করে আলোকিত
এই জাগতিক সংসার,
শোষিত ভূগর্ভ রস
কনভার্টেড নিয়ন আর সোলার প্যানেলে।
প্রতিযোগিতার রেস কোর্সে
ফর্মুলা ওয়ান গেম---
ইঙ্গিত দিচ্ছে, শোষণে প্রেমও বেশরম
সুযোগ বুঝে খোপ মারে।
১৬) এবং ----
স্বপ্নরা জোৎস্নার মলিন আবহে
এখন পড়ন্ত বিকেল, দ্রোহের করমর্দন
সূর্য ওঠার আর নাম নেই,
এখন---
ট্যাঙ্কে মিসাইল মানুষ্য প্লাজমার
শ্রেণী ঘৃণায় সর্বভুক শ্লাট্
অস্তিত্ব টিকিয়ে আছে
বিলাপিত শিউলি ঝরা রাতের মতো।
আর---
রেড করিডোর সংস্কার কর্মসূচির আইন পাশ করে
--গণ-নাট্য সংস্থা।
১৭) বৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে হয়
কিঞ্চিৎ সুরাপানে;
ফ্যানের শব্দটাও
তাল দিচ্ছে ,আধ মোজা চোখগুলোর সাথে
ইজিচেয়ারে বেশ হেলিয়ে বসে
ছোট হয়ে যাওয়া জ্বলা সিগারেট টাও।
সময় হারিয়ে যায় ইতিহাসে
কমলাকান্ত ও দপ্তর থেকে মুক্তি
তাই নেপোলিয়ন
দহন উৎসব শেষে ফিরে গেছে।
১৮) কালের বহমানতায় অনেকেই মিশেছে
ইতিহাসের পাতায় প্রকাশিত লেখা
কড়ির গন্ধ শুকে বানিজ্যিক প্রচারে,
আস্তা হারিয়ে সস্তা বাজারে
পৌরুষ রূপান্তর ভক্ত আর ভগবানে।
বিদ্রোহের বাগানে যাতে দূষণ না ছড়ায়
মহালাভজনক বিনিয়োগ বিকিনিতে,
খিদে সব একজায়গায় কেন্দ্রবিন্দু।
১৯) পাহাড়ের চূড়া আকাশ ভেদে দম্ভে
বাসর রাতে স্ত্রী জয়ের খুশির মতো
আসলে খুব সোজা ব্যাপার হচ্ছে
দুর্বল অতি সহজে হার মানে।
আগুনখেকো শ্রমিক উপঢৌকন খোলে
অস্ত্র হাতে একটা কথা উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ
আমাদের বাঁচতে হবে।
যুদ্ধ
নির্যাতন
বাঁচতে দাও বাঁচতে চাই;
শুনো মৃতের ঘোষণা
শবগুলো পায়ে ছাপ দেবে
ভ্যালোটে।
ভবিষ্যৎ বদলাবে পরিশ্রমী সভ্যতার
দেশলাইর কাঠি জ্বেলে।
২০) চিৎকার করে বলতে গেলে কি নিশ্চিত পাওয়া যায়
চাই সাহস আর জানতে হয় অধিকার
যা কেড়ে আনতে হয়।
কনভার্ট হচ্ছে আধুনিক প্রকৌশল
অঞ্চল থেকে শুরু করে বাধ্যতামূলক সংস্করণ।
উত্তাপীত মমদেহ উত্তেজনা হারিয়ে
সময়ের খরস্রোতে
লাফিং বুদ্ধও ভাঙ্গা পেডিস্টল।
আর এ শহরে ফুটে উঠবে না
গরিবুল্লাহদের ভয়ে
শুধু অক্সিজেনে আছে বিষাক্ত কার্বন।
--- জাহিদ রুদ্র
০৪-০৬-২০১৯ ইং

No comments:
Post a Comment