মলে আংটিটা দেখেই সাথে সাথে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় কবির। দ্বিতীয়বার কোনো চিন্তা না করেই কিনে নেয় ।করিমগঞ্জ এসে পৌঁছে সে। বাসস্ট্যান্ড থেকে নিজের ঘরে পৌঁছতে পৌঁছতে রাত দুটো বাজে।
এতো রাতে কী রেখাকে ফোন দেয়া ঠিক হবে!! না কাল সকালে ফোন দিয়ে বলবো আমি করিমগঞ্জে। তাছাড়া গত মাসখানেক ধরে যে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল ওর সাথে সেটা সামনাসামনি দেখা করে ডিসিশন জানিয়ে ওকে আংটিটা গিফট করব।
নিতার হাজবেন্ড মারা যাওয়ার পর একমাত্র মেয়েকে নিয়ে মায়ের সাথে থাকে। ওর একটা বেসরকারি ব্যাংকে জব
কৌশিক একা। পাঁচ বছর আগে বিয়ে করেছিল মাহীকে। বিয়ের পর কিছুদিন সুখেই কাটছিল কিন্তু হঠাৎ করেই একটা সমস্যা এসে সুখের মধ্যে কাঁটা হয়ে যায়। মাহী নেশাগ্রস্ত ছিল। প্রচণ্ড রকমভাবে হ্যালুসিনেশনে ভুগতো। সারাদিন মনের ভেতর মনগড়া কাল্পনিক গল্প ফেঁদে সেটা সত্যি মনে করে অশান্তি করতো। চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দিতো। পরিবারের সবার উপদেশ মতো একটা বাচ্চা নেয়ার পরেও ঠিক হয়নি মাহী।
কৌশিক মনে মনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছিল তাদের ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে। মাহীর বাবা-মায়ের সাথে কথা বলার পর তারা মাহীকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে আর ছেলে আদি কে লালন পালন করতে নিয়ে যায় তাদের কাছে। সেই থেকে কৌশিক একা।
বছর খানেক আগে নিতার সাথে পরিচয়। তারপর ঘনিষ্ঠতা হয়, জানাশোনা হয় দুজনের মাঝে। নিতা কোনোদিন বিয়ের জন্য কৌশিককে জোর করেনি কিন্তু কৌশিকের বাবা-মা প্রচণ্ড জেদাজেদি করছিল ছেলের সাথে।
আংটিটা দেখেই সাথে সাথে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় কৌশিক এবার নিতাকে বিয়ের কথা বলবে।
লিংকরোডে নিতারর রুমে সন্ধ্যায় পৌঁছে যায় কৌশিক। নিতাকে খুব সুন্দর লাগছে আজ। কফি শেষ করে পকেটে হাত দেয় কৌশিক আংটিটা স্পর্শ করে। আংটিটা পকেট থেকে বের করতে না করতেই মোবাইল ফোন বেজে উঠলো।
----- হ্যালো কৌশিক রায় বলছেন?
------ হ্যাঁ ,কে বলছেন?
----- নিউ মুক্তি ক্লিনিক থেকে বলছি। আপনার সাথে একজন কথা বলতে চাইছেন।
---- হ্যাঁ, দিন।
------ কৌশিক আমি মাহী। তুমি কেমন আছো? বাবু কেমন আছে? এক বছর হয়ে গেছে তুমি আমাকে দেখতে আসোনি। প্লিজ কৌশিক একবার এসো। তোমাকে আমার খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। মিস ইউ সো মাচ।
---- আচ্ছা আমি আসবো মাহী।
কৌশিক আংটিটা পকেটেই রেখে দেয়। নিতার রুম থেকে বের হয়ে আসতে আসতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরায়। ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে সামনে আসতেই দরজা খুলে ভেতরে বসে।
----- স্যার এখন কোথায় যাবেন?
কৌশিক চমকে উঠে বলে
----- ‘চলো, হোটেল নক্ষত্রে যেতে হবে। একটা মিটিং আছে। অফিসাররা ওয়েট করছে।’
কৌশিক মনে মনে বলে
আমরা সবাই এ জীবনে কারো না কারো জন্য অপেক্ষা করি।
No comments:
Post a Comment