সমকামিতা কোথাও থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসেনি, বরং সমকামিতা সভ্যতার সব সময়ই ছিল। পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই সমকামীদের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রাণী জগতের সহস্রাধিক প্রজাতির মধ্যে যে সমকামিতার অস্তিত্ব পাওয়া যায় তা আজ প্রমাণিত। মানব সভ্যতাও কিন্তু এই ধারার ব্যতিক্রম নয়। এই সমকামিতা একুশ শতকের কোন বিষয় বা কলি যুগের কোনও পাপ নয়। মানব সভ্যতার প্রাচীন ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় সমকামিতার অস্তিত্ব অনেক পুরনো। বিভিন্ন কালে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে, বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন ধর্মে কেমন ছিল সমকাম ও সমকামী সম্পর্কের বিন্যাস। গ্রীক সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে রোমান সাম্রাজ্য, 'সাইবেরিয়ান সামানদের (Shaman) মধ্যে সমকামিতা ছিল, নেটিভ আমেরিকানদের মধ্যে, আফ্রিকান ট্রাইবে, সমকামিতা ছিল চৈনিক রাজবংশে, সমকামিতা ছিল আরব কিংবা ভারতীয় সভ্যতায়। এমন কোনো সভ্যতার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি, যেখানে সমকামিতা নেই, কিংবা ছিল না। সেই প্রাচীনকাল থেকে আজ পর্যন্ত পৃথিবীর তাবৎ সাহিত্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, শিল্পকলা, দর্শন, পুরাণ কিংবা প্রত্নতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেই গবেষকেরা জেনেছেন, সমকামী মনোবৃত্তিসম্পন্ন মানুষেরা ইতিহাসের প্রতিটি ক্ষণে, প্রতিটি মুহূর্তে এবং প্রতিটি স্থানেই ছিলেন।'
‘সমকাম’- শব্দটি বিশ্লেষণ করলে দুটি পদ পাওয়া যায়, সম এবং কাম। সম মানে হচ্ছে একই এবং কামী মানে হল বাসনাকারী। অতএব সমকামী কথাটির মানে একই রকম বাসনাকারী। সমকামী শব্দটির উৎস সংস্কৃত ‘সমকামীন্’ থেকে। যার অর্থ সম লিঙ্গের ব্যক্তির প্রতি আকর্ষণবোধকারী ব্যক্তি। প্রাচীনকালে সমকামীদের বোঝাতে ব্যবহৃত হত ‘ঔপরিষ্টক’ -শব্দটি। বাৎস্যায়ন তাঁর কামসূত্র- এর ষষ্ঠ অধিকরণের নবম অধ্যায়ে ঔপরিষ্টক শব্দটি ব্যবহার করেছেন। সমকামিতার ইংরেজি প্রতিশব্দ Homosexuality; ১৮৬৯ সালে Karl Maria Cutberry তাঁর লেখা একটি আইনের পুস্তিকায় এই শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন। গ্রিক 'হোমো' এবং ল্যাটিন 'সেক্সাস'- এই দুই শব্দের সমন্বয়ে Homosexual শব্দটি গঠিত হয়।
প্রকৃতিতে মানুষ সহ নূন্যতম প্রায় ১৫০০ প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে সমকামী আচরণ দেখা যায়। কারণ প্রতিটা সিস্টেম নিজেকে টিকায়ে রাখার স্বার্থেই ‘সিস্টেম ব্যাগ’ ব্যবহার করে, যে কারণে পৃথিবীর জনসংখ্যা স্বাভাবিক রাখতে বা ন্যাচারাল ব্যালেন্স ধরে রাখতে বন্যা, ভূমিকম্প, বনে আগুন লাগা ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যায় এবং শিশু উৎপাদনকারী প্রজাতির পাশাপাশি প্রকৃতিতে শিশু জন্মদানে ‘অক্ষম’ প্রজাতির অস্তিত্ব থাকে। তবে এইক্ষেত্রে আপনি বলতে পারেন, ধর্ষণও প্রাকৃতিক বিষয়। শিশুকাম বা অযাচারও প্রাকৃতিক বিষয়। প্রকৃতিতে আছে বলেই সমকামিতার মত ‘বিকৃত যৌনাচার’ মেনে নিতে হলে ধর্ষণও মেনে নেওয়া উচিত, শিশুকামও মেনে নেওয়া উচিত। মজার বিষয় হচ্ছে এইসব কুযুক্তিদাতারা খেয়াল করেন না, সমকামিতার সাথে ধর্ষণ বা শিশুকামের অন্যতম প্রধান পার্থক্যের জায়গা হচ্ছে, ধর্ষণ এক ধরণের নির্যাতন; এক পক্ষকে নিজ ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করার নাম ধর্ষণ। শিশুকামও ধর্ষণের মতই নির্যাতন, কারণ আধুনিক পৃথিবীর বেশিরভাগ রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী ১৬ বা ১৮ বছরের নিচে কোনো মানুষকে আমরা মতামত দেয়ার যোগ্য বা সমর্থ মানুষ বলে বিবেচনা করি না। যে কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ১৮ বছরের নিচের মানুষদের রাষ্ট্রীয় আইনে ভোট দেওয়ার বা গাড়ি চালানোর বা বিয়ে করার অনুমতি নাই। অপরপক্ষে নিজ ইচ্ছায় দ্বিপাক্ষিকভাবে দুইজন সমকামি মানুষ যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে তা কোনোভাবেই নির্যাতনের সংজ্ঞায় পড়ে না। ৭০ এর শেষ দিকে দার্শনিক মিশেল ফুকো উনার বিখ্যাত ‘দ্যা হিস্ট্রি অভ সেক্সুয়ালিটি’ (১৯৭৮) বইতে যখন বললেন, মানুষের যৌনতা অনেকাংশেই সমাজের নির্মাণ, একমাত্র তখনই সমকামিতাকে সমাজের ‘তৈরি করা’ অপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বলে চালানোর চল শুরু হয়।
সমকামকে অপ্রাকৃতিক বলে এর বিরুদ্ধে ‘কু’যুক্তি দেয়া মানুষরা আরও বলে থাকেন, মানুষের পায়ুপথ যৌন সম্পর্ক স্থাপনের উপযুক্ত না। যদি সমকাম প্রাকৃতিক বিষয় হত, তাহলে নারীদেহের যোনির মতই পায়ুপথ সঙ্গমের জন্য তৈরি হত, পায়ুপথে যোনির মত লুব্রিকেন্ট থাকতো, পুরুষের লিঙ্গ ধারণ করার আকার থাকতো ইত্যাদি ইত্যাদি। যারা সমকামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছেন, তারা ধরেই নিয়েছেন, পৃথিবীর সকল সমকামী মানুষ শুধুমাত্র পায়ুপথেই যৌন সঙ্গম করতেই জন্মগ্রহণ করেছেন।প্রথমতঃ, পায়ুপথে যৌন সঙ্গমের উপর শুধুমাত্র সমকামী পুরুষদের একচ্ছত্র দাবী নাই, পায়ুপথে বিষমকামী নারী-পুরুষও যৌন সঙ্গম করেন। দ্বিতীয়তঃ, পৃথিবীতে শুধু সমকামী পুরুষ না, সমকামী নারীও আছেন, একই শরীরে নারী ও পুরুষ উভয় লিঙ্গ ধারণ করা মানুষ আছেন, নারী শরীরে পুরুষের মন এবং পুরুষ শরীরে নারীর মন নিয়ে বাস করা মানুষ আছেন- যাদের বেশিরভাগই পায়ুপথে সঙ্গম করেন না।
জার্নাল অভ সেক্সুয়াল মেডিসিনে প্রকাশিত ইন্ডিয়ানা এবং জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ১৮ থেকে ৮৭ বছরের প্রায় ২৫ হাজার সমকামি পুরুষ নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখান, উনাদের মধ্যে মাত্র ৩৬ শতাংশ পুরুষ পায়ুকামের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। বাকি সবার যৌন আচরণের মধ্যে শুধুমাত্র নিজেদের সঙ্গীদের চুমু খাওয়া বা একে অন্যকে জড়িয়ে ধরা বা একে অন্যকে মাস্টারবেশান করিয়ে দেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। একইসাথে ২০১৭ সালে সেইজ জার্নালসে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে ওহায়ো স্টেট ইউনিভার্সিটি, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অভ উইনচেস্টারের গবেষকরা দেখান, পায়ুকাম শুধুমাত্র সমকামী পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না। গবেষণায় অংশ নেওয়া বিষমকামী পুরুষদের মধ্যে ২৪ শতাংশই তাদের নারী সঙ্গীদের সাথে বিভিন্ন সময় পায়ুপথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন।
পায়ুকামের সাথে যৌনবাহিত রোগ, বিশেষতঃ এইচ-আই-ভি এইডসের প্রথম সম্পর্ক পাওয়া যায় ৮০র দশকে। কিন্তু আগেই বলেছি, পায়ুকাম শুধুমাত্রই সমকামীদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি না। আজ থেকে ১৭০০ বছর আগের পেরুভিয়ান মৃৎশিল্প থেকে শুরু করে, ১৩শতকের ভারতীয় খাজুরাহো মন্দিরের ভাস্কর্য ও স্থাপত্য, ১৬ শতকের চীনা এবং জাপানিজ কারুশিল্পে বা ৫০০ বি-সির গ্রীক ভাস্কর্যে বিষমকামী নারী-পুরুষের পায়ুপথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের প্রমাণ পাওয়া যায়। সুতরাং পায়ুকামের জন্য সমকামীদের একপাক্ষিকভাবে দায়ী করা হাস্যকর। পরবর্তীতে, অর্থাৎ ১৯৯০ থেকে ২০০০ সালের শুরুর দিকে বিভিন্ন গবেষণায় এইচ-আই-ভি এইডসের সাথে পায়ুকামের সম্পর্ক থাকার ‘মিথ’ও ভেঙ্গে যায়। পাবমেড এবং আমেরিকান সাইকোলজিকাল এ্যাসোসিয়েশানের জার্নালে প্রকাশিত ২০০০ সালের গবেষণায় দেখা যায় এইচ-আই-ভি নেগেটিভ ১২৬৮ জন বিষমকামী নারীর ৩২ শতাংশই তাদের পুরুষ সঙ্গীর (বা সঙ্গীদের) সাথে নিয়মিতভাবে পায়ুপথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন।
এছাড়াও আরেকটা বিষয় উল্লেখযোগ্য, পায়ুকামই যৌন রোগ ছড়ানোর একমাত্র মাধ্যম না। বেশ্যালয়ের মারফত বিষমকামী বহুগামী নারী ও পুরুষের মাধ্যমেই সমাজে সর্বোচ্চ হারে যৌন রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। ‘সমকামীরা যৌন রোগ ছড়ান’ এমন মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে নাহয় সমকামিতাকে রাষ্ট্রীয় আইন আর ধর্মীয় চোখ রাঙানি দিয়ে বন্ধ করতে পারলেন, সকল সমকামীকে আগুনে পুড়িয়ে, শূলে চড়িয়ে, বরাকের জলে ডুবিয়ে মেরে ফেলতেও সমর্থ হলেন, কিন্তু আমাদের অতি স্বাস্থ্যসচেতন পবিত্রতার ধ্বজাধারী কুলীন বংশীয় সমাজপতিরা কি বেশ্যালয় বন্ধ করার সাহস রাখেন? বিষমকামী পুরুষের বহুগামিতা আর পায়ুকাম কি পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্র আজকের দিন পর্যন্ত আইন করে বন্ধ করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে? দেখায় নাই। কারণ পৃথিবী এবং পৃথিবীর রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় আইন শুধুমাত্র পুঁজিবাদী অর্থনীতি কেন্দ্রিক, শুধুমাত্রই সংখ্যাগুরু বিষমকামী শ্রমিক পুরুষের পক্ষে, সংখ্যালঘু এবং সন্তান উৎপাদনে অক্ষম নারী ও সমকামী সম্প্রদায়ের প্রতি এই অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থার কোনো মমতা, কোনো ন্যায় বিচার কাজ করে না।
যদিও আগেই বলেছি, সমকামিতা প্রাকৃতিক বিষয়। কিন্তু সমকামিতা শুধুমাত্রই বা একচ্ছত্রভাবে প্রাকৃতিক বিষয় না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমকামিতা সামাজিকও বটে। মিশেল ফুকোর কথা আগেই উল্লেখ করেছি। ফুকো ছাড়াও ‘ওয়ান হানড্রেড ইয়ারস অভ হোমোসেক্সুয়ালিটি’ (১৯৯০) বইয়ে ডেভিড হ্যালপেরিন দাবী করেন সমকামিতা মূলতঃ সমাজের তৈরি করা মানসিক বৈশিষ্ট্য। এছাড়াও সোশাল কনস্ট্রাকশনালিজম স্কুল অভ থটের অধীনে থাকা জন উইংকলার ‘কনস্ট্রেইন্ট অভ ডিজায়ার’ (১৯৯০) বইতে দেখান সমকামিতা কোনো প্রাকৃতিক বিষয় না, বরং সমকামিতা মানুষের সামাজিক চরিত্র। ফুকো বা হ্যালপেরিন বা উইংকলারের এই দাবীর পিছনে এ্যারিস্টোটোলের বক্তব্য ‘প্রকৃতি উদ্দেশ্য ছাড়া কোনো কিছু সৃষ্টি করে না’- এই যুক্তির ভূমিকা আছে অবশ্যই। এই স্কুল অভ থটের দার্শণিকরা বিশ্বাস করেন সমকামী বা বিষমকামী হওয়া মানুষের নিজের সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ চাইলেই একজন সমকামী মানুষকে বিষমকামী এবং বিষমকামী মানুষকে সমকামী বানানো যায়।
খাজুরাহো থেকে গ্রিসের লেসবস- পূর্ব থেকে পশ্চিম- কোথায়, পৃথিবীর কোন্ অঞ্চলে, কোন্ ধর্মে, কোন্ রঙের মানুষের মধ্যে সমকামিতা নাই? কোথায় উভলিঙ্গের মানুষ নাই? কোথায় কোন্ সংস্কৃতিতে রক্ষণশীল পুঁজিপতিদের চোখ রাঙানো অতিক্রম করে সমাজে নারী পুরুষের বাইনারি লিঙ্গ পরিচয়ের বাইরেও কোনো সংজ্ঞার অধীনে না থাকা মানুষদের গল্প শোনা যায় নাই? ব্যক্তিগতভাবে আমি একই সাথে এই বাক্য বিশ্বাস এবং অবিশ্বাস করি। আমি বিশ্বাস করি, সমকামিতা একই সাথে প্রাকৃতিক এবং সামাজিক। অর্থাৎ সমকামিতা যেভাবে প্রকৃতির মাধ্যমে জৈবরাসায়নিক প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়, ঠিক একইভাবে সমকামিতা সমাজের মাধ্যমেও তৈরি হতে পারে।
সমকামিতা সম্পর্কে আমাদের সমাজ হাজারো কুসংস্কারে আবদ্ধ। এমনকি যার কিছু বইপত্র পড়ে রাতারাতি প্রগতিশীল বনে গেছেন, তারাও সমকামিদের সম্পর্কে ঘৃণাত্মক মনোভাব পোষন করেন। সমকামিরা সামাজিক অবদমনের কারণে বিভিন্ন প্রকার অপরাধপ্রবনতা এবং একই সাথে আত্মহত্যাপ্রবনতা এবং বিভিন্ন মনোবৈকল্যের শিকার হতে পারেন। এর ভেতরে থাকতে পারে ড্রাগসে আসক্তি, অবদমনের কারনে যৌনতা বিকৃতির দিকে মোড় নেয়া ইত্যাদি। এর পেছনে সমকামিতাকে দায়ী করা যাবে না, সামাজিক অবদমন এবং ধর্মীয় দৃষ্টিতে পাপবোধের সৃষ্টিই এর কারণ। আমাদের সমাজে এলজিবিটি সম্প্রদায়কে মেনে নেয়ার প্রবণতা একেবারে নেই বলেই তাদের মানসিক ক্ষরণের মাত্রা বেশি। হোমোফোবিয়ার যে নেতিবাচক প্রভাব এলজিবিটি সম্প্রদায়ের উপর পড়ে, তা থেকে তাদের বাঁচাতে সবচেয়ে কার্যকর হলো তাদের বন্ধু ও পরিবারের সহায়তা। একজন সমকামি ব্যক্তির পরিবার যদি তাকে মানসিক সাপোর্ট দেয়, তার পাশে থাকে তাহলে হোমোফোবিয়ার প্রভাব অনেকটাই দূর হতে পারে।
এক্ষেত্রে সমকামী ব্যক্তির বাবা-মায়ের ভূমিকা অপরিসীম। বাবা-মা একজন সন্তানের জীবনে প্রথম শিক্ষক। সন্তানের সাথে সমকাম বিষয়ে খোলাখুলি আলাপ এখন সময়ের দাবি। আপনি যদি জানেন আপনার সন্তান সমকামী তবে তাকে সেই মানসিক সাপোর্ট দেয়াটা আপনার দায়িত্ব। আপনার সন্তান কোনোভাবে বুলিয়িং-এর শিকার হচ্ছে কি না, কোনোরকম মানসিক অসুস্থতায় ভুগছে কি না, তার কাউন্সেলিং প্রয়োজন কি না এসব বিষয়ই খেয়াল রাখতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে সমকামিতা প্রাণী চরিত্রের স্বাভাবিক একটি বৈশিষ্ট্য। আমাদের সকলের মনে রাখতে হবে একটা স্বাধীন সভ্য দেশে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা প্রত্যেক রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সমকামিদের সামাজিক ভাবে স্বীকৃতি দেয়া প্রয়োজন এটা যেকোন সভ্য সমাজের দায়িত্ব। সমকামিতা সমকামিরা নিজে নির্ধারন করে না। প্রকৃতি তথা সমাজ তাদের ভেতরে সমকামিতার বীজ বপন করে। একজন সমকামি পুরুষের নারীর প্রতি প্রাকৃতিকভাবে আকর্ষন নাই, যৌন আকাংখা নাই। এই দোষে নিশ্চয়ই একজন মানুষকে এক ঘরে করে রাখা বা বয়কট করা কোন মতেই মানবিক আচরন হতে পারে না। সমকামীদের ঠেলে দেওয়া হয়েছে আত্মহননের পথে। আর এগুলোতে পুরোমাত্রায় ইন্ধন যুগিয়ে চলেছে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মীয় সংগঠন ও রক্ষণশীল সমাজ। দুইজন সমকামী মানুষ এক হতে চাইলে আমাদের এতো গাজ্বালা কেন ? মানুষ সামাজিক জীব। এই সামাজিক জীব হিসেবে সমাজ ও প্রকৃতিগত বিষয়কে 'নাক সিটকানো' কোন সুস্থ মগজসম্পন্নের কাজ হতে পারে না।
দৈনিক বার্তালিপি ০৭/০৭/২০২৩
No comments:
Post a Comment