আজকাল “সন্ত্রাসবাদ”—শব্দটির সাথে শিশুরাও পরিচিত । আন্তর্জাতিক নিউজ চ্যানেল থেকে শুরু করে পাড়ার চায়ের দোকানের বৈঠকি আড্ডা সর্বত্রই শুনতে পাই সেই একই শব্দ । সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ তো প্রাতঃকর্মের মতো রোজের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে । আজ এখানে বিস্ফোরণে এতজন মরেছে তো কাল ওখানে আত্মঘাতী হানায় এতজন । শুনতে পাই ঠিকই , কিন্তু বিশ্বজুড়ে এর কোনও সমাধান না থাকায় ব্যাপারটা গা’সওয়া করে নেওয়া ছাড়া আমাদের উপায়ও নেই ।
সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞাগুলি সাধারণত জটিল এবং বিতর্কিত এবং সন্ত্রাসবাদের সহিংসতা ও সহিংসতার কারণে তার জনপ্রিয় ব্যবহারের শব্দটি একটি তীব্র কলঙ্ক তৈরি করেছে। এটি বিপ্লবীদের বিরোধীদের বিরুদ্ধে ফরাসি বিপ্লবের সময় ব্যবহৃত সন্ত্রাসের উল্লেখ করার জন্য ১৭৯০-এর দশকে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। ম্যাক্সিমিলিয়েন রবসেস্পিয়ারের জ্যাকবিন পার্টি গিলোটিন দ্বারা ব্যাপক মৃত্যুদণ্ডের সাথে জড়িত সন্ত্রাসের একটি রাজত্ব করেছিল। যদিও এই ব্যবহারের সন্ত্রাসবাদটি তার দেশীয় শত্রুদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র দ্বারা সহিংসতার একটি কাজ বোঝায়, তবুও ২0 শতকের এই শব্দটিকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সহিংসতার উদ্দেশ্যে নীতি প্রয়োগ করা হয়েছে, সরকারকে নীতি প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা বা বিদ্যমান হত্তয়া শাসন।
সন্ত্রাসবাদ আইনত সব বিচার বিভাগে সংজ্ঞায়িত করা হয় না; বিদ্যমান আইনগুলি সাধারণত কিছু সাধারণ উপাদান ভাগ করে। সন্ত্রাসবাদ সহিংসতার ব্যবহার বা হুমকি জড়িত এবং কেবলমাত্র সরাসরি শিকারের মধ্যেই নয় বরং বিস্তৃত শ্রোতার মধ্যে ভয় সৃষ্টি করতে চায়। এটা যে ডিগ্রী নির্ভর করে তা সন্ত্রাসবাদকে প্রচলিত এবং গেরিলা উভয় যুদ্ধ থেকে পৃথক করে। যদিও প্রচলিত সামরিক বাহিনী নিয়মিতভাবে শত্রুদের বিরুদ্ধে মানসিক যুদ্ধে ব্যস্ত থাকে, তবে বিজয়ের প্রধান উপায় অস্ত্রের শক্তি। একইভাবে, গেরিলা বাহিনী, যা প্রায়শই সন্ত্রাস ও অন্যান্য প্রচারের কাজগুলিতে নির্ভর করে, সামরিক বিজয় অর্জন করে এবং মাঝে মাঝে সফল হয় (উদাঃ ভিয়েতনাম ভিয়েত কং এবং কম্বোডিয়ায় খেমার রুজ)। সন্ত্রাসবাদ এভাবেই ভয় সৃষ্টির জন্য সহিংসতার নিয়মিত ব্যবহার, এবং রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে সরাসরি সামরিক বিজয় সম্ভব হয় না। এর ফলে কিছু সামাজিক বিজ্ঞানীর নেতৃত্বে গেরিলা যুদ্ধের "দুর্বল অস্ত্র" এবং সন্ত্রাসবাদের "দুর্বলতম অস্ত্র" হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যাপক ভয় সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় প্রচারকে আকৃষ্ট ও বজায় রাখার জন্য, সন্ত্রাসীদের ক্রমবর্ধমান নাটকীয়, সহিংস ও উচ্চ-প্রোফাইল আক্রমণের সাথে জড়িত থাকতে হবে। এদের মধ্যে হাইজ্যাকিং, হোস্টগেট, অপহরণ, গাড়ী বোমা হামলা, এবং প্রায়শই আত্মঘাতী বোমা হামলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দৃশ্যত এলোমেলো হলেও, সন্ত্রাসী হামলার শিকার এবং অবস্থানগুলি প্রায়ই তাদের শক মূল্যের জন্য সাবধানে নির্বাচিত হয়।স্কুল, শপিং সেন্টার, বাস এবং ট্রেন স্টেশন, এবং রেস্টুরেন্ট এবং নাইটক্লাবগুলি উভয়কেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কারণ তারা বিশাল জনতাকে আকৃষ্ট করে এবং কারণ সেগুলি এমন জায়গা যেখানে বেসামরিক জনসংখ্যার সদস্য পরিচিত এবং এতে তারা সহজে অনুভব করে। সন্ত্রাসবাদ লক্ষ্য সাধারণত তাদের সবচেয়ে পরিচিত জায়গায় নিরাপত্তার জনসাধারণের জ্ঞান ধ্বংস করা হয়। প্রধান লক্ষ্যগুলি কখনও কখনও দূতাবাস বা সামরিক স্থাপনাগুলির মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক প্রতীকগুলিতে বিল্ডিং বা অন্যান্য অবস্থানগুলি অন্তর্ভুক্ত করে। সন্ত্রাসীর আশঙ্কা হচ্ছে যে সন্ত্রাসের ধারনা এই কর্মকাণ্ডের ফলে জনসংখ্যার একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রান্তের দিকে রাজনৈতিক নেতাদের চাপিয়ে দেবে।
সাধারণ মানুষের কাছে সন্ত্রাসবাদের বিশেষ কতকগুলো বৈশিষ্ট্য আছে —
১) সন্ত্রাসবাদ সাধারণ মানুষ ও সরকারের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ।
২) আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয় হিংসাত্মক বা নাশকতা মূলক ক্রিয়াকলাপের দ্বারা ।
৩) আতঙ্ক বা সন্ত্রাস সৃষ্টি করা হয় কোন সু সংগঠিত দল বা জনগোষ্ঠী দ্বারা ।
৪) আতঙ্ক সৃষ্টি করে তারা সেই জনগোষ্ঠী কে বা সরকার কে কোনও কাজ করতে বা কোনও কাজ না করতে বাধ্য করে বা বাধ্য করার চেষ্টা করে ।
৫) তাদের কার্যকলাপের মূলে থাকে অন্ধবিশ্বাস । এই অন্ধবিশ্বাস যে, একমাত্র তাদের পথেই মানুষের তথা সমাজের মঙ্গল সম্ভব।
৬) তাদের অন্ধবিশ্বাসের বাস্তব রূপদানের জন্য তারা সব কিছু করতে পারে। এমন কি নিজেদের মৃত্যু ঘটাতেও এরা পিছপা হয় না ।
বিশ্ব জঙ্গিবাদ মানবসমাজকে ঠেলে দিতে চাইছে এমন একটি অন্ধকার সময় ও স্থানের দিকে, যেখানে গণতান্ত্রিক সমাজের ধারণাগুলো বিলুপ্ত। যেখানে বিশ্বজনীন নিয়মনীতি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত। সেটা তারা করতে চাইছে সমাজ কাঠামোতে ভাঙন ধরিয়ে চতুর কৌশলে মানবসমাজে বিভাজন সৃষ্টির মাধ্যমে। সভ্য মানুষের বিশ্বাস, সংস্কার কিংবা আচার-আচরণের মূলে কুঠারাঘাত দিয়ে ভয়াল বিপর্যয় ঘটিয়ে নিত্যনতুন নির্মম সন্ত্রাস, অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ড ও অরাজক পরিস্থিতিতে অসহনীয় পারিপার্শ্বিকতা তৈরি করে। যাতে নাগরিক মানুষের মনে সন্দেহ, সংশয়, আতঙ্ক ও ত্রাস সৃষ্টি হয় এবং সুশীল সমাজে স্বাধীনতা ও সাধারণ মানুষের বাঞ্ছিত জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হতে হতে সামাজিক পরিবেশজুড়ে নেমে আসে মৃত্যুশীতল বিপর্যয়। কেননা সমাজবদ্ধ মানুষের সুস্থ চেতনাই মানব সভ্যতাকে এগিয়ে দেয় সুস্থতর ভবিষ্যৎ নির্মাণের দিকে। মানুষকে করে তোলে মানবিক গুণাবলির আদর্শের ধারক।
বৈশ্বিক ‘সন্ত্রাসবাদ' শব্দটি বহুল আলোচিত হয় নাইন ইলেভেনের ঘটনার পর যখন মার্কিন যু্ক্তরাষ্ট্রে বুশ সরকার ‘ওয়ার অন টেরর' ঘোষণা করেন, যদিও এর ব্যবহার অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছিল৷ কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ‘জঙ্গিবাদ' ও ‘সন্ত্রাসবাদ' শব্দ দু'টোর অর্থ ও ব্যবহার কোথায় ও কীভাবে হচ্ছে তা নিয়ে ব্যাপক মতপার্থক্য ও ধোঁয়াশা দেখা যাচ্ছে৷ কোনটাকে জঙ্গিবাদ ও কোনটাকে সন্ত্রাসবাদ বলা হচ্ছে তা নিয়েও পরিষ্কার ধারণার অভাব দেখা গেছে৷ সমাজ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বলছেন যে, জঙ্গিবাদ হলো এক ধরনের বিশ্বাস ও মূল্যবোধের প্রতি আনুগত্য থেকে উৎসারিত, যা সমাজে প্রতিষ্ঠিত নয় এবং তার জন্য সহিংসতার পথ বেছে নেয়া হতে পারে৷ আর সন্ত্রাসবাদ জঙ্গিবাদের একটি পথ হতে পারে আবার আলাদা একটি আচরণ হতে পারে যেখানে মূল লক্ষ্য আতঙ্ক তৈরি৷
পৃথিবীতে জঙ্গিবাদ সৃষ্টির প্রধান কারণগুলো কোন পরিস্থিতিতে তৈরি হয়, তার ব্যাখ্যা অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে অপরাধ জগতের অজস্র তথ্যবৃত্তান্ত। যেখানে সন্ত্রাস সংঘটনকারীদের পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে তাদের জঙ্গিবাদী কার্যকারণ সম্পর্ক মেলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন সন্ত্রাস বিশ্লেষকরা। আর সে জন্যই জিজ্ঞাসা জেগেছে, বর্তমান বিশ্বে জঙ্গিবাদের এই বিপুল উত্থান কিসের কারণে? সে কি দারিদ্র্যের কশাঘাত, ধর্মীয় উন্মাদনার যুক্তিহীন উন্মেষ, রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের কুটিল অভিপ্রায়, বিপ্লবী বাসনা, মানসিক নাকি সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবরুদ্ধ বিদ্রোহে?
সমাজের বিভিন্ন ধরণের ঘটনার উপর নির্ভর করে সন্ত্রাসবাদেরও বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে । তবে মুলতঃ সন্ত্রাসবাদ কে চার ভাগে ভাগ করা যেতে পারে । ক) রাজনৈতিক খ) সামাজিক,গ) ধর্মীয় ও ঘ) মনস্তাত্ত্বিক । তবে বর্তমান সময়ে ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদই সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে পরিচিত ও আলোচিত রূপ ।অনেকে আধুনিক জঙ্গিবাদের মূল কারণকে রিলিজিয়াস ফ্যানাটিজম বা ধর্মীয় উন্মাদনার বিস্তার বলে বিশ্বাস করেন। ধর্মীয় উগ্রতা বর্তমান সময়ে জঙ্গিবাদের পরিবেশ সৃষ্টিতে অনুক‚ল ভূমিকা তৈরি করছে। কিন্তু সেটাই কি শুধু মূল কারণ? পৃথিবীর নানা ধর্মমতে এমন অজস্র অনুসারী রয়েছেন, যারা নিজেরা ধর্মান্ধ হয়েও কোনো ধরনের সহিংস নীতির প্রতি মোটেই বিশ্বস্ত নন। এরমধ্যে কিছু উগ্র ধর্মান্ধরা ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করে এর অপব্যাখ্যা করছে। যার প্রতিফলন এই সন্ত্রাসবাদ।
জঙ্গি প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তি অর্জন, তাদের পরিপুষ্টি লাভের পেছনে সর্বদাই যে দেশীয়ভাবে রাষ্ট্রীয় শক্তির সমর্থন থাকে, তা নয়। তবে বাস্তব সত্য হলো, অর্থনৈতিক অভিপ্রায় নিয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের লোভ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট রাষ্ট্রের মধ্যেই যেমন ছোট ছোট জঙ্গি সংগঠনের জন্ম হচ্ছে, তেমনি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও আঞ্চলিক পর্যায়ে শক্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য নিয়ে অথবা এক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপর রাষ্ট্রের প্রতিহিংসা চরিতার্থের উপায় হিসেবে এখনো কিছু কিছু রাষ্ট্র পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এদের সৃষ্টি করে যাচ্ছে আর্থিক ও নৈতিক সহযোগিতায় সমর্থন জুগিয়ে। কেননা বর্তমান জঙ্গিবাদ রাজনৈতিক আন্দোলন কিংবা আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের জন্য লক্ষ্যে পৌঁছানোর এমনই এক মোক্ষম অস্ত্র, যা ছায়াযুদ্ধ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে সরাসরি সৈন্য নামিয়ে যুদ্ধ ঘোষণার পরিবর্তে। তাই সর্বজনীনভাবে বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা থাক কিংবা না-ই থাক, জঙ্গিদের আইনবহির্ভূত অনৈতিক কর্মধারা থেমে নেই একেবারেই। বরং বিজ্ঞান ও নব্য প্রযুক্তির নিত্য নতুন দিক উন্মোচনের পাশাপাশি জঙ্গিদের জঙ্গিত্ব সৃষ্টির অভিনব সব কৌশলপদ্ধতি বিস্ময়কর প্রক্রিয়ায় এগিয়ে চলেছে অপ্রতিহত প্রতিযোগিতার সুনির্দিষ্ট পথ ধরে। রোবোটিক, জেনিটিক, নিওরোসায়েন্স, বায়োটেকনোলজির আবিষ্কার যেমন অব্যাহত অগ্রগতিতে আমূল বদলে দিচ্ছে মানুষের জীবনধারা আর বিচিত্র জীবের পৃথিবীকে, তেমনি আধুনিক প্রযুক্তির সদ্ব্যবহারে আন্ডারগ্রাউন্ডে সন্ত্রাসীরাও তাদের জঙ্গিবাদে জাগিয়ে তুলছে নতুন সৃষ্টির উন্মাদনা।
জঙ্গি মানসিকতা নিশ্চিতভাবেই সমাজের কিছুসংখ্যক মানুষের এমন এক সাইকোলজিক্যাল বৈশিষ্ট্য, যা শক্তিমান প্রভাবশালীদের কাছ থেকে আর্থিক, নৈতিক, আদর্শগত ও আইনগত আনুক‚ল্য লাভ করে মানবসমাজের ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে এবং পরিস্থিতিতে একেকভাবে বাস্তবতা পায়। বাস্তবে তার সক্রিয় প্রকাশ তখনই ঘটে, যখন সেই মনস্তত্ত্ব দেশীয় শক্তি অথবা আন্তর্জাতিক মহলের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক কিংবা ধর্মীয় আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়। তাই দেহ-মনের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টির পেছনে যেমন কার্যকারণ সম্বন্ধ খুঁজে সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দান করা চলে, জঙ্গিবাদকে সব ক্ষেত্রেই সেভাবে বিশ্লেষণ করা যায় না। জঙ্গিবাদের বৈজ্ঞানিক কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ও তাই অনেক সময়ই সম্ভব হয় না। যা-ই হোক, সন্ত্রাস নির্মূলের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সন্ত্রাসবাদের বিপুল উত্থানে বিশ্বের মধ্যে তৈরি হয়েছে আরো একটি বিশ্ব। তার নাম জঙ্গি বিশ্ব। কারণ, জঙ্গি প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বজুড়ে এত বেশি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি করে চলেছে তাদের সদস্য সংখ্যা, তার প্রভাব পৃথিবীর প্রতিটি কোণেই আলোড়ন তুলেছে।
সন্ত্রাসবাদ, জনসংখ্যার ভয়ে সাধারণ জলবায়ু তৈরির জন্য সহিংসতার নিয়মিত ব্যবহার, যাতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আনতে পারে। জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় গোষ্ঠী, বিপ্লবীদের দ্বারা এবং এমনকি সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা পরিষেবা এবং পুলিশ কর্তৃক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলির দ্বারা ডানপন্থী ও বামপন্থী উভয় উদ্দেশ্যগুলি নিয়ে রাজনৈতিক সংগঠনগুলি সন্ত্রাসবাদ চালাচ্ছে।
Wednesday, May 1, 2019
সন্ত্রাসবাদ : কিছু নতুন কথা
Monday, April 29, 2019
আমাদের অধিকার : প্রসঙ্গ মে দিবস
অনেক অর্থ 'প্রথম মে'র সাথে যুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ব্যাপক স্বীকৃতি পেয়েছে, এটি আমাদের সমাজকে' শ্রমিকশ্রেণীর 'গুরুত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়।অতএব, অনেক দেশে, 1 মে 'মে দিবস' বা 'আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস' হিসাবে পালন করা হয়। অনেক দেশে এই দিনটি একটি সরকারি সরকারী ছুটির দিন যা শ্রমিক শ্রেণীর কারণগুলি তুলে ধরার জন্য মিটিং এবং রাস্তার বিক্ষোভের দ্বারা চিহ্নিত। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিনটি পালনের ১৩৩ তম বার্ষিকী মানব সভ্যতা গড়ে উঠেছে শ্রমিকেরই শ্রমে, ঘামে। গিজার পিরামিড, আগ্রার তাজমহল, চীনের মহাপ্রাচীর, প্যারিসের আইফেল টাওয়ারসহ যে স্থাপনার কথাই বলা হোক না কেন সেখানে মিশে আছে অগণিত শ্রমিকের শ্রম। অথচ বরাবরই সমাজের শোষিত ও অবহেলিত অংশ শ্রমজীবী মানুষ। যারা তৈরি করেন বিশাল স্থাপনা, যারা শ্রম দেন কারখানায়, যাদের হাতে ঘোরে অর্থনীতির চাকা বণ্টনব্যবস্থার নির্মম বিচারে সেই শ্রমজীবী মানুষ বাস করেন বস্তিতে, তাদেরই ঘরে থাকে না অন্ন, তারা পরেন অমলিন কাপড় আর তারাই বঞ্চিত চিকিৎসা ও শিক্ষা থেকে। মহান মে দিবস শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার ঘোষণার দিবস।
শিল্প বিপ্লবের পর থেকেই ইউরোপজুড়ে প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে শিল্প কারখানা। এসব কারখানায় মূলত ভূমিহীন চাষি, ভূমিদাস ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীকে শ্রমিক হিসেবে নিয়োজিত করা হয়। প্রথম থেকেই কারখানায় শ্রমিকরা মালিকের শোষণ ও নিপীড়নের শিকার হতে থাকে। সে সময় কারখানায় নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ন্যূনতম বয়সসীমা ছিল না। কোনো নির্দিষ্ট শ্রম ঘণ্টাও মানা হতো না। ছিল না ন্যূনতম মজুরির বিধান এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। নিতান্ত শিশুদেরও অমানুষিক পরিশ্রম করানো হতো। ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করানো হতো নারীদেরও। দিনে ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টাও শ্রম দিতে বাধ্য করা হতো শ্রমিকদের। খাবারের জন্য ছুটির ব্যবস্থা ছিল না। মালিকপক্ষ যেমন খুশি মজুরি দিত।
ধীরে ধীরে এসব নির্যাতন ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হতে থাকে। শ্রমিকরা সংগঠিত হতে থাকেন।
আঠারশ শতকের মধ্যভাগ থেকেই ইউরোপ ও আমেরিকায় শ্রমিকরা বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার আদায়ে সংগঠিত হতে থাকেন। ১৮৮৪ সাল থেকেই শ্রমিকরা ১৮৮৬ সালের ১ মের মধ্যে ৮ ঘণ্টা শ্রমদিবস কার্যকর করার দাবি জানাতে থাকেন। কিন্তু মালিকপক্ষ সে দাবি মেনে নেয় না। ১৮৮৬ সালের ৪ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে শ্রমিকরা সমাবেশ করেন। ৮ ঘণ্টা কর্মসময় নির্ধারণের দাবিতে এই সমাবেশ চলছিল। অদূরে ছিল পুলিশের দল। এই সময় আন্দোলনকে ভ-ুল করার জন্য অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তি পুলিশের ওপর বোমা নিক্ষেপ করে।শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও পুলিশের গুলিবর্ষণ।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে ৪ জন শ্রমিক নিহত হন। একজন পুলিশ কর্মকর্তাও নিহত হন। পরদিন ৫ মে উইসকনসিনের মিলওয়াকিতে ধর্মঘটরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশের গুলিতে এক বালকসহ ৭ জন নিহত হন। পুলিশ হত্যার দায়ে গ্রেপ্তার হন অগাস্ট স্পিসসহ ৮ শ্রমিক নেতা। ১৮৮৭ সালের ১১ নভেম্বর অগাস্ট স্পিসসহ ৬ শ্রমিক নেতাকে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হয় যদিও তারা ছিলেন নিরপরাধ। একজনের ১৫ বছরের জেল হয়। আরেকজন বন্দি অবস্থায় আত্মহত্যা করেন। সেই বোমা নিক্ষেপকারীর পরিচয় অজানাই থেকে যায়।
১৮৮৯ সালে প্যারিসে ফরাসি বিপ্লবের শতবর্ষে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের প্রথম কংগ্রেসে শিকাগোর শ্রমিক আন্দোলন স্মরণে প্রতিবছর পহেলা মে উদযাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরের বছর দ্বিতীয় কংগ্রেসে এই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রমিক সংগঠনসমূহ দ্বারা গৃহীত হয়।
১৯০৪ সালে নেদারল্যান্ডসের অ্যামস্টারডামে অনুষ্ঠিত কমিউনিস্টদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দৈনিক ৮ ঘণ্টা শ্রমসময় নির্ধারণের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে সারা বিশ্বের মেহনতী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য পহেলা মে দিবসে কাজ বন্ধ রাখা এবং শান্তিপূর্ণ মিছিল ও সমাবেশ আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শ্রমিক সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন এবং কমিউনিস্ট ও বামপন্থি সংগঠনগুলো মে দিবসে শ্রমিকদের কর্মবর্জন ও মিছিল-সমাবেশের আয়োজন করতে থাকে। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপের সাবেক কমিউনিস্ট দেশগুলোতে পহেলা মে সাধারণ ছুটি এবং শ্রমিক দিবস হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হতো। বর্তমানে চীন, উত্তর কোরিয়া, কিউবা ও কমিউনিস্ট ভাবাপন্ন বিভিন্ন দেশে মে দিবস গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়।
যাইহোক, আজকাল তাদের সরকারগুলির প্রকৃতি নির্বিশেষে বিশ্বের প্রায় সব দেশে তাদের সমস্যাগুলির একটি বর্ধিত উপলব্ধি হয়েছে। শ্রমিকদের উদ্বেগ তাদের সংশ্লিষ্ট সরকারের দ্বারা ভালভাবে সংযত হয়। মানবাধিকার দাবিতে দুর্যোগ লক্ষ লক্ষ মানুষের মানসিক চিকিত্সা। তাদের অধিকার এখন আইনের মাধ্যমে সুরক্ষিত এবং সর্বত্র কাজ করা হচ্ছে। এই স্বীকৃতি স্বরে ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও) 1919 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি 1946 সালে জাতিসংঘের প্রথম বিশেষ সংস্থা হয়ে ওঠে। আইএলও সামাজিক ন্যায়বিচার এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানব ও শ্রম অধিকারকে উৎসাহিত করার জন্য নিবেদিত, এটি প্রতিষ্ঠার মিশন অনুসরণ করে শ্রম শান্তি সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। আজ, আইএলও সৎ কাজ এবং অর্থনৈতিক ও কাজের পরিবেশ সৃষ্টিকে অগ্রিম সহায়তা দেয় যা স্থায়ী শান্তি, সুবিধাবাদীতা এবং অগ্রগতিতে মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের অংশীদারিত্ব দেয়। তার ট্রিপার্টাইট কাঠামো সমস্ত নারী ও পুরুষের জন্য উপযুক্ত কাজের প্রচারের জন্য একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে কর্মক্ষেত্রে অধিকার প্রচার করা, সুষ্ঠু কর্মসংস্থানের সুযোগসুবিধা উৎসাহিত করা, সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানো এবং কাজের সাথে সম্পর্কিত সমস্যাগুলির উপর সংলাপ জোরদার করা।
ভারতে, প্রথম মে দিবস উদযাপন ১৯২৩ সালে হিন্দুস্তানের শ্রম কিশন পার্টির মাদ্রাজে (চেন্নাই) মেরিনা বিচে সংগঠিত হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানটি হিন্দুস্তানের লেবার কিশন পার্টি ও মালয়পুরাম সিঙ্গারভেলু চেটিয়ার দ্বারা সংগঠিত হয়েছিল, যিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হয়েছিলেন। আজ, এটি একটি দেশব্যাপী ব্যাংক এবং সরকারি ছুটির দিন। এটি প্রতিবাদ এবং সমাবেশের জন্য একটি দিন। বিভিন্ন শ্রম ট্রেড ইউনিয়নের মতো সংগঠনগুলি সরকারের সামনে তাদের দাবি তুলে ধরার প্রক্রিয়া চালায়। তারা দাবি করে যে তাদের স্বার্থগুলি তাদের নিয়োগকর্তাদের পাশাপাশি সরকারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। লাল পতাকা - এখন বাম আন্দোলনের প্রতীক - এই অনুষ্ঠানেও ভারতের প্রথমবারের মত ব্যবহার করা হয়েছিল। একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল যে সরকারকে ছুটির দিন হিসাবে মে দিবস ঘোষণা করা উচিত।
ভারতীয় সংবিধান শ্রমিক শ্রেণীর প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে পর্যাপ্ত পরিমাণে ধেয়ান দিয়েছে। ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ (১৯-c) অধিকার দিয়েছে যে প্রত্যেক নাগরিক সংস্থা বা সমিতি গঠন করতে পারবে। অনুচ্ছেদ ৩৮ এ বলা হয়েছে রাজ্য প্রত্যেক নাগরিককে উন্নয়নের লক্ষ্যে সামাজিক ন্যায়, বৈসাদৃশ্য মিটিয়ে সকলের প্রতি সমান ও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া। তাছাড়া শুধু ব্যক্তিগত ভাবে নয় সমষ্টিগত ভাবেও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়া। অনুচ্ছেদ ৩৯ সরাসরি ভাবে রাজ্যকে সুরক্ষিত রাখতে হবে-- ১) যে প্রত্যেক নাগরিকদের অর্থাৎ সকল নারী পুরুষ এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা দিতে হবে। ২) ব্যবহার যোগ্য সম্পদ বন্টন করা জনগণের মধ্যে সমান ভাবে। ৩) যে এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে অর্থনীতির প্রতি খেয়াল রাখা এবং উৎপাদনে ক্ষতির সম্মুখীন না হয়। ৪) প্রত্যেক নারী পুরুষের মধ্যে সমকাজে সমপারিশ্রমিক দেয়া, শিশুদের প্রতি খেয়াল রাখা যাতে এদের অপব্যবহার না হয়। এর সাথে লক্ষ্য রাখা যাতে আর্থনীতির উন্নতির জন্য দুর্বলদের প্রতি অনুপযোগী হয়। অনুচ্ছেদ ৪১ বলছে প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। অনুচ্ছেদ ৪২ সরাসরি ভাবে বলছে যে ব্যবস্থা রাখা মাতৃত্বের জন্য। অনুরূপ ভাবে অনুচ্ছেদ ৪৩ শর্তআরোপ করছে যে চেষ্টা করা উপযুক্ত আইনপ্রণয়ন করা বা অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রদান করা অথবা শ্রমিক, কৃষক তথা কলকারখানার কর্মীদের উপযুক্ত পারিশ্রমিক,অবসর, আনন্দ উপভোগ তথা অন্যান্য সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা। অনুচ্ছেদ ৪৩(A) রাজ্যের প্রতি সরাসরি বলছে যে শ্রমিকদের প্রতি উপযুক্ত আইন প্রণয়ন তথা দায়িত্ব গ্রহণ করে মেনেজমেন্ট,কলকারখানার কতৃপক্ষ যাতে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থার খেয়াল রাখে।
শ্রমিক এবং কর্মচারীদের সাহায্যের জন্য এখন আমাদের দেশে আলাদা মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থা আছে (Ministry of Labour and Employment)। ইহা ভারত সরকারের খুবই পুরাতন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রক। এই মন্ত্রকের প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে সাধারণত শ্রমিক তথা কর্মচারীদের রক্ষা ও নিরাপদ রাখা, যারা বিশেষ করে গরীব, পিছিয়ে পড়া, তাদের সুস্থ কর্মসংস্থানের পরিবেশ দেয়া এবং বৃত্তীমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
শ্রমিক কর্মচারীদের উন্নয়নের লক্ষ্যে আমাদের বিভিন্ন ধরণের আইনের আওতায় আনা হয়। তাছাড়া ৪৪ ধরণের সংবিধিবদ্ধ আইনের অভিনীত করেছে কেন্দ্রীয় সরকার নূন্যতম পারিশ্রমিক,দুর্ঘটনা তথা সামাজিক সুরক্ষা, পেশাগত ও শারীরিক সুরক্ষা, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, ট্রেন্ড ইউনিয়ন গঠন ইত্যাদি। কিছু শিল্পজাত আইন যেমন ট্রেন্ড ইউনিয়ন আইন ১৯২৬,ট্রেন্ড ইউনিয়ন সংশোধনী আইন ২০০১, শিল্পজাত কর্মসংস্থান আইন ১৯৪৬,শিল্পজাত কর্মসংস্থান নিয়ম ১৯৪৬, শিল্পজাত প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭, শ্রমিক উপনিবেশ আইন (Plantation labour act) ১৯৫১। আরও কিছু আইন যা শ্রমিক-কর্মচারীদের কাজের সময়,কাজের ধরণ নিরূপণ করে-- ডক কর্মীদের আইন ( সুরক্ষা,স্বাস্থ্য, কল্যাণ) ১৯৮৬, খনি সংক্রান্ত আইন ১৯৫২, এবং কলকারখানা সংক্রান্ত আইন ১৯৪৮।
আরও কিছু আইন যা শিশু শ্রমের বিষয়ে তাহলো-- শিশু শ্রম (নিষেধ ও নিয়ন্ত্রণ) আইন ১৯৮৬,শিশুদের (কাজে বাঁধা দেওয়া) আইন ১৯৩৩। মহিলাদের জন্য সম পারিশ্রমিক আইন ১৯৭৬। সামাজিক সুরক্ষায় আরও কিছু আইন প্রণোদিত করা হয়। কর্মচারী ক্ষতিপূরণ আইন ১৯২৩, কর্মচারী ক্ষতিপূরণ আইন(সংশোধিত) ২০০০, কর্মচারী জীবনবীমা আইন ১৯৪৮, কর্মচারী প্রভিডেন্ট ফাণ্ড এবং বিবিধ নিয়ম সংক্রান্ত আইন ১৯৫২,কর্মচারী প্রভিডেন্ট ফাণ্ড এবং বিবিধ নিয়ম সংক্রান্ত আইন (সংশোধিত) ১৯৯, গ্রেচ্যুয়েটি আইন ১৯৭২, কর্মচারী বাধ্যবাধকতা সংক্রান্ত আইন ১৯৩৮ এবং মাতৃত্ব সংক্রান্ত আইন ১৯৬১ ইত্যাদি। কিছু আইন আছে মিকা খনি শ্রমিক কল্যাণ তহবিল আইন, ১৯৪৬, লেমস্টোন হিসাবে শ্রম কল্যাণ সম্পর্কিত এবং বেদি শ্রমিক কল্যাণ তহবিল আইন, ১৯৭৬, বেদি শ্রমিক কল্যাণ আইন আইন, ১৯৭৬, বেদি শ্রমিক কল্যাণ আইন আইন বিধিমালা, ১৯৭৭, আয়রন ওরে খনি, মেংগানিজ ওরে খনি এবং ক্রোম ওরে খনি শ্রমিক কল্যাণ তহবিল আইন, ১৯৭৬, আয়রন আকরিক মাইনস, মংানিজ ওরে মাইন্স অ্যান্ড ক্রোম ওরে মাইন্স লেবার ওয়েলফেয়ার সেস অ্যাক্ট,১৯৭৬ এবং সিন ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার ফান্ড অ্যাক্ট, ১৯৮১ ইত্যাদি।
আন্তঃ-রাজ্য অভিবাসী কর্মীদের (কর্মসংস্থান এবং পরিষেবার শর্তাবলী নিয়ন্ত্রন) আইন,১৯৭৯ এর মতো চুক্তি শ্রম সম্পর্কিত কিছু নিয়ম রয়েছে। এছাড়াও বেতন সংক্রান্ত কিছু আইন রয়েছে। এগুলি হল মজুরী পরিশোধ আইন, ১৯৩৬, মজুরির বিধি, ১৯৩৭, মজুরি প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০০৫, ন্যূনতম মজুরী আইন, ১৯৪৮, ন্যূনতম মজুরি (কেন্দ্রীয়) বিধি, ১৯৫০ এবং কর্মরত সাংবাদিক ( মজুরি হার সংশোধন) আইন, ১৯৫৮ ইত্যাদি। এই আইন শ্রম শ্রেণীরকে সুরক্ষা প্রদান করে। যেমন, উদাহরণস্বরূপ, ফ্যাক্টরি আইনটি লোভী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির দ্বারা শোষিত হওয়া থেকে শ্রমিকদের সুরক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে এবং কারখানাটির অভ্যন্তরে কাজের পরিবেশগুলির উন্নতির জন্যও প্রদান করে।
অসংগঠিত সেক্টরের শ্রমিকদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। ২০০৯ -১০ সালে জাতীয় নমুনা জরিপ সংস্থার জরিপ অনুযায়ী, দেশের আয়োজিত ও অসংগঠিত সেক্টরে মোট কর্মসংস্থান ৪৬.৫ কোটি রুপি ছিল যা সংগঠিত খাতে ২৮ কোটি টাকা ছিল। অলাভজনক সেক্টরে ৪৩.৭ কোটি শ্রমিকের ব্যালেন্স!অসংগঠিত সেক্টরে ৪৩.৭ কোটি শ্রমিকের মধ্যে ২৪.৬ কোটি শ্রমিক কৃষি খাতে কাজ করছে, নির্মাণ কাজে প্রায় ৪.৪ কোটি এবং বাকিরা উৎপাদন ও সেবা করছে। অসংগঠিত সেক্টরের শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, বেতার, হ্যান্ডলুম শ্রমিক, জেলে ও মাছধরা, টডি টেপার, চামড়া শ্রমিক, রোপণ শ্রমিক, বেদি শ্রমিক, 'অসংগঠিত শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা আইন, ২০০৮' প্রণয়ন করা হয়েছে। আইনের বিধান অনুযায়ী, সামাজিক নিরাপত্তা পরিকল্পনার গঠন, যেমন জীবন ও অক্ষমতা, স্বাস্থ্য ও মাতৃত্ব সুবিধা, বৃদ্ধ বয়স সুরক্ষা এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন সুবিধা প্রণয়ন করার সুপারিশ করার জন্য একটি জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা বোর্ড গঠন করা হয়েছে। অসমর্থিত শ্রমিকদের জন্য। তারা এখন বীমা কভারেজ দেওয়া হয়।
এই সব সত্ত্বেও, আমাদের স্বীকার করতে হবে যে আমাদের দেশের অ-সংগঠিত সেক্টরে শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি করতে এখনও অনেক কিছু করা উচিত। আইন অনেক কিন্তু সমস্যা তাদের সঠিক বাস্তবায়ন মিথ্যা। স্বল্পমেয়াদী ভিত্তিতে জড়িত গরীবদের প্রতি অবিচারের আশেপাশে এখনও মঞ্জুরিয়া সম্পর্কে বেশিরভাগ বিতর্ক রয়েছে। রিপোর্ট করা হয়েছে যে অসংগঠিত সেক্টরের শ্রমিকরা কম মজুরি এবং সংশোধনমূলক কাজ করে দীর্ঘতর কাজ করতে বাধ্য হয় এই বিষয়ে ব্যবস্থা এখনও প্রণয়ন করা হয়। শ্রমিকরাও তাদের আক্রোশ এবং দুঃখের জন্য আংশিকভাবে দায়ী। শ্রমিক-সংগঠিত ও অসংগঠিত উভয় ক্ষেত্রেই-শ্রেণী বেতনের বিকাশ এখনো হয়নি। একটি 'মিথ্যা চেতনা' দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, তারা এখন বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং উপ-গোষ্ঠীগুলিতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে যার ফলে তাদের ঐক্য ও সংহতির অভাব রয়েছে।
রাজনৈতিক স্বীকৃতি শ্রমিকদের যৌথ যুদ্ধ তাদের সাধারণ maladies জন্য একটি গুরুতর বাধা। রাজনৈতিক দলগুলি শ্রমিকদের প্রকৃত স্বার্থের খরচে তাদের পক্ষপাতমূলক স্বার্থকে উত্সাহিত করার জন্য বিভিন্ন দিক থেকে তাদের আকর্ষণ করে। এভাবে কর্তৃপক্ষ শ্রম সমস্যার মোকাবেলা সহজ করে অন্যের বিরুদ্ধে এক খেলায়। তা সত্ত্বেও, শ্রমিকরা আমাদের দেশের অর্থনীতির পটভূমির কথা অস্বীকার করতে পারে না। আমাদের মতো একটি জাতি প্রকৃতভাবে অগ্রগতি অর্জন করতে পারে না এবং যদি তার কার্যকর শক্তি অসুখী হয় তবে সেটি সফল হতে পারে না। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন শুধুমাত্র কার্যকর এবং সত্য যখন সরকার ও ব্যবস্থাপনা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের কেন্দ্রীয় গুরুত্ব উপলব্ধি করবে। মেশিন এবং প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার সত্ত্বেও শ্রম বা মানুষের হাত তাত্পর্য এখনও আছে। কার্ল মার্কস এভাবে দৃঢ়ভাবে দৃঢ়ভাবে দৃঢ়ভাবে বলেছিলেন যে, শ্রম একটি ভাল মানের মান যোগায়। অতএব, সরকারকে তার কার্যকে অসন্তুষ্ট করতে সরকারের পক্ষ থেকে অসন্তুষ্ট হতে হবে। একই সাথে, এটি নিশ্চিত যে শ্রমিকরা বিভক্ত এবং নীরব বসে বসে স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচার পাবে না। মার্কস বলেছিলেন, তাদেরকে তাদের শৃঙ্খলা ছাড়া কিছুই হারাতে হবে না কারণ তাদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।
ভারত, বাংলাদেশসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও আমেরিকা মহাদেশের ৮০টিরও বেশি দেশে মে দিবস সাধারণ ছুটি ও শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে থাকে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে মে দিবস শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয় না। যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বর মাসে শ্রমিক দিবস পালিত হয়। শ্রম দিবসটি শিথিল এবং পুনরুজ্জীবিত করার সময়। এটি এমন সময় যারা সম্মানিত শ্রমিকদের অধিকারের জন্য লড়াই করে এবং সংস্কার নিয়ে আসে তাদের সম্মানের সময়। এটি শুধুমাত্র অল্প কয়েকজন লোকের কাছে এসেছিল এবং অন্যদেরকে এমন কাজ করার জন্য উত্সাহিত করেছিল যাতে শ্রমিকদের তাদের বৈধ অধিকার দেওয়া হয়।
বেকারত্ব অভিশাপ নয়!
"আসল সমস্যা বেকারত্ব, অথচ তা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তাভাবনাই নেই": রঘুরাম রাজন
বেকারত্ব একটি সামাজিক ব্যাধি অথবা সংকট। ইংরেজি আনএমপ্লোয়মেন্ট (Unemployment) শব্দটি থেকে বেকারত্ব শব্দটি এসেছে। একজন মানুষ যখন তার পেশা হিসেবে কাজ খুজে পায় না তখন যে পরিস্থিতির হয় তাকে বেকারত্ব বলে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সংজ্ঞা অনুসারে, বিগত চার সপ্তাহ ধরে কাজ খুঁজেছে তবে কাজ পায়নি কিন্তু আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কাজ পেতে পারে বা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই বিদ্যমান মজুরিতে কাজ শুরু করবে এমন কর্মক্ষম মানুষকে বেকার বলা হয়৷ অধ্যাপক পিগুর ভাষায়, 'ঐ অবস্থাকেই বেকারত্ব বলা হয় যখন কর্মক্ষম ব্যক্তিরা প্রচলিত মজুরীতে কাজ করতে ইচ্ছুক হওয়া সত্তেও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পায় না।' এখানেও অনিচ্ছাকৃত বেকারত্বের কথাই বলা হয়েছে।
ভারতে বেকারত্ব একটি মুখ্য সামাজিক সমস্যা। এই বেকারত্বের হিসাব রাখা হয় মিনিষ্ট্রি অব লেবার এণ্ড এমপ্লয়মেন্ট এর দ্বারা। ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং কর্তব্য হলো বৈতনিক কর্মসংস্থানের সঠিকভাবে যোগান দেওয়া। কিন্তু সেপ্টেম্বর২০১৮ ভারত সরকারের মতে ৩১ মিলিয়ন মানুষ বেকার হয়। যে সংখ্যাটি অত্যন্ত দ্বন্দ্বের। গত আড়াই বছরের মধ্যে এপ্রিল মাসে শীর্ষে পৌঁছে গেল দেশের বেকারত্ব।
ভারতের অর্থনীতির এখন অন্যতম বড় সমস্যা বেকারত্ব। মানুষ চাকরি চায়। তাই তার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এটাই প্রথম কাজ। এই প্রসঙ্গে শিকাগো তে নোবেলজয়ী মার্কিন অর্থনীতিবিদ পল ক্রুগম্যান বলেন, দেশের প্রবৃদ্ধির হার এমন হওয়া উচিত, যাতে তা বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান তৈরি করে। যারা স্কুল-কলেজ থেকে বেরোচ্ছেন, যারা কৃষিক্ষেত্র ছেড়ে আসছেন, তারা যেন চাকরির সুযোগ পান। গত সপ্তাহে এক টিভি সাক্ষাৎকারে আসেন আর বি আই'র প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন। এই সাক্ষাৎকারে তাঁর নতুন বই 'দ্য থার্ড পিলার' নিয়ে আলোচনা হয়। তখন সেই সাক্ষাৎকারেই তিনি সাফ জানালেন, এই মুহূর্তে যে ভয়াবহ বেকারত্বের অন্ধকারে ডুবে রয়েছে এই দেশ, তা নিয়ে যেন যথেষ্ট চিন্তাভাবনাই নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। আর সেই কারণেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে 'দুশ্চিন্তায়' রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, নোটবাতিলের মতো যে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন কেন্দ্রীয় সরকার, তার বেশ কয়েকটি পুনরায় পর্যালোচনা করা উচিত।
যে তরুণ প্রজন্ম দেশের সম্পদ হতে পারে, তা যেন ‘অভিশাপ’ না হয়ে দাঁড়ায়। ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে ভারতের বেকারত্ব বেড়েছে ৬.১ শতাংশ৷ গত ৪৫ বছরে যা রেকর্ড৷ দ্য ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে-র সমীক্ষা বলছে, নোটবন্দির পর ভারতে বেকারত্ব বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে৷ গত ৪৫ বছরে এত বেকার তৈরি হয়নি এ দেশে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে তা ধামাচাপা দেয়ার, যা নিয়ে বিরোধীরা ক্রমাগত আওয়াজ তুলছেন। পরিসংখ্যানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন ১০৮ জন অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী। অভিযোগ করেছেন, যে পরিসংখ্যান কেন্দ্রের মনমতো নয়, তা-ই বিভিন্ন মাপকাঠি দেখিয়ে হয় ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে বা বদলানো হচ্ছে। এখনকার কর্তব্য হল ভারতের প্রকৃত প্রবৃদ্ধির হার কত, তা খুঁজে বের করা। আজিম প্রেমজির মতে ভারতে বিমুদ্রীকরণের ফলে ৫০ লক্ষ মানুষ কর্মসংস্থান হারায়।
এপ্রিলের প্রথম তিন সপ্তাহে ভারতে গড় বেকারত্বের হার ৮.১ শতাংশ। থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক সিএমইআই অথবা সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমির পক্ষ থেকে জানানো হল এই কথা। দেশে বেকারত্বের হার এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ছিল ৭.৯ শতাংশ, দ্বিতীয় সপ্তাহে ছিল ৮.১ শতাংশ এবং তৃতীয় সপ্তাহে হয় ৮.৪ শতাংশ। একটি বিবৃতি পেশ করে গত ২৩ এপ্রিল এই তথ্য জানায় সিএমইআই। এই কথাও জানানো হয় যে, “মার্চের প্রতিটি সপ্তাহে দেশে বেকারত্বের হারের থেকে এপ্রিলের সপ্তাহগুলিতে বেকারত্বের হার বেশি। যার ফলে ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে গড় বেকারত্বের যে হার ছিল ৬.৭ শতাংশ, তার পরিমাণ এপ্রিলের শেষে গিয়ে বৃদ্ধি পাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে”।
গত জানুয়ারি মাসে কর্মসংস্থান নিয়ে সরকার ডেটা প্রকাশ করতে পারেনি৷ যার নির্যাস, ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল কমিশনের দু জন স্বাধীন সদস্য পদত্যাগ করেছেন৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নোটবন্দি ঘোষণা করার পর এই প্রথম কোনও সরকারি সংস্থা কর্মসংস্থান নিয়ে সমীক্ষা চালাল৷ ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের জুনের মধ্যবর্তী সময়ে তথ্য সংগ্রহ করে পিরিওডিক লেবার ফোর্স সার্ভে করা হয়েছে৷ তাতে দেখা গিয়েছে, ১৯৭২-৭৩ সালের পর থেকে বেকারত্ব এই হারে বাড়েনি৷ ২০১১-১২ সালে ইউপিএ সরকারের শেষ দফায় বেকারত্বের হার ২.২ শতাংশ৷ রিপোর্ট বলছে, দেশের মোট জনসংখ্যার নিরিখে যুবসম্প্রদায়ের মধ্যে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি৷ দেশের গ্রামীণ এলাকায় ২০১১-১২ সালে যেখানে বেকারত্বের হার ছিল ৫ শতাংশ, ২০১৭-১৮ সালে তা বেড়েছে ১৭.৪ শতাংশ৷ গ্রামীণ এলাকায় মহিলাদের মধ্যে বেকারত্ব বেড়েছে ১৩.৬ শতাংশ৷ ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও) তাদের বার্ষিক ‘ওয়ার্ল্ড এমপ্লয়মেন্ট সোশ্যাল আউটলুক -ট্রেন্ডস ২০১৮’ রিপোর্ট প্রকাশ করে জানিয়েছে, এ বছর ভারতে বেকার যুবক -যুবতীর সংখ্যা দাঁড়াবে ১.৮৬ কোটি এবং ২০১৯ সালে ওই সংখ্যা হবে ১.৮৯ কোটি৷ গত বছর (২০১৭) শেষে দেশে মোট ১.৮৩ কোটি বেকার ছিল৷ কিন্ত্ত , ২০১৬ -এর রিপোর্টে প্রাথমিকভাবে ওই সংখ্যা ২০১৭ সালে ১.৭৭ কোটি এবং ২০১৮ সালে ১.৭৮ কোটি হবে বলে অনুমান করা হয়েছিল৷ অর্থাত্, ২০১৭ সালে দেশে অতিরিক্ত ৬ লক্ষ (= ১.৮৩ কোটি- ১.৭৭ কোটি) মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন৷ এছাড়া, সিএমইআই এই তথ্যও দিল যে, ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত গোটা দেশে বেকারত্বের হার ৭.৫ শতাংশ। দেশের শহরগুলোতে এই হার ৭.৬ শতাংশ এবং দেশের গ্রামাঞ্চলে এই হারের পরিমাণ ৭.৫ শতাংশ। গত আড়াই বছরের মধ্যে যা পৌঁছাল শীর্ষস্থানে।
অনিচ্ছাকৃত বেকারত্ব সংঘটনের কারণ বহুবিধ। কিন্তু সেগুলিকে সহজেই বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করা যায়, যেমন মৌসুমি, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, শ্রম বাজারের ভারসাম্যহীনতা, ব্যবসায় চক্র এবং সম্পূরক সম্পদের অভাবজনিত বেকারত্ব। চড়া মৌসুমে কৃষি শ্রমিকের ব্যাপক চাহিদার সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মৌসুমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিক কাজ পায় না। জুন এবং জুলাই মাসে কৃষি শ্রমিকরা সবচেয়ে ব্যস্ত থাকে। এ সময় গড়ে দিনের দশ ঘণ্টা কাজ চলে। মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে কৃষি শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ পরিমিত এবং সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে তা দুর্লভ। কৃষি ছাড়াও শিল্প এবং নির্মাণ খাতেও মৌসুমি বেকারত্ব বা আংশিক বেকারত্ব বিদ্যমান। খুচরা ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উৎসব-অনুষ্ঠানাদিতে কর্মসংস্থানের হঠাৎ ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটে এবং তার অব্যবহিত পরেই বড় ধরনের বেকারত্ব দেখা যায়।
বেকারত্বের উর্দ্ধগতির বিভিন্ন কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে।প্রথমতঃ কৃষিক্ষেত্রে অমনোযোগীতা। মৌসুমী বায়ুর উপর নির্ভরশীলতা এবং সরকারি নীতি। একটা খারাপ মৌসুমী বায়ুর প্রভাব মানে ফলনে নিম্নগামী এবং কৃষকের আয়ের ক্ষেত্রে ঋণের বাধ্যবাধকতা যা অত্যন্ত চূড়ান্ত যার ফলস্বরূপ কৃষকের আত্মহত্যা। আর যদিও ফলন ভালো হয় তবুও ফসলের নিম্ন দাম যা অফলপ্রসূ নূন্যতম ন্যায্য মূল্য(MSP)। এই নিম্ন আয়ের জন্য কৃষককে বিভিন্ন ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। ফলে কৃষক সন্তান রা চাষাবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং শহরমুখী কর্মসংস্থানের খোঁজে কৃষিক্ষেত্র ত্যাগ করে। যার ফলস্বরূপ ছদ্মবেশী বেকারের সৃষ্টি হয়।
দ্বিতীয়ত, জি এস টি (GST)র ফলে, গ্রামীণ এলাকায় ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ(SME) গুলোতে শ্রমিকের উত্থান অর্থাৎ কর্মসংস্থানের জায়গা দিতে অক্ষম পুরো বছর ধরে। যথোপযুক্ত শিক্ষার অভাবে প্রচুর পরিমাণে অব্যবস্থিত স্বনির্ভরতা চরম দুর্দশায়। আর বিমুদ্রীকরণ যার ফলে ব্যবসায় এক নজিরবিহীন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যাহা বেকারত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
তৃতীয়, প্রব্রজনের ফলে শহরাঞ্চলে রিয়াল ইস্টেট সেক্টরে প্রচুর লোক নেওয়া হয় যেখানে কর্মকুশলতার অভাব দেখা যায়। এই প্রবণতা অতিত থেকে একইভাবে চলে আসছে। বিমুদ্রীকরণের পর অর্থাৎ ২০১৭-১৮ সালে রিয়েল ইস্টেট আইন ২০১৬ (RERA) আওতাভুক্ত করা হয়। কিন্তু এই বিমুদ্রীকরণের ফলে প্রত্যক্ষ মন্দীভূত হয় রিয়েল ইস্টেট বিভাগ-- বিশেষ ভাবে ব্যবসায়ীক এবং ব্যয়বহুল গৃহ প্রকল্প সমূহ। নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উদাসীনতা দেখা যায়। এই ধরণের মিথস্ক্রিয়ার ফলে কর্মসংস্থানের দুষ্প্রাপ্যতা বৃদ্ধি হয় এবং কর্মক্ষেত্রের সীমাবদ্ধতা তার গণ্ডির ভেতরে থাকে।
চতুর্থ, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বেকারত্বের তা হলো, কল্পিত আত্মসম্মান। অর্থাৎ, আজকাল ডিগ্রীধারি যুবকরা নিম্ন-দক্ষতা পূর্ণ কাজে অগ্রাহ্যতা দেখায়। কিন্তু কথা হলো বিগত কয়েক বছর ধরে ভারতের অর্থনীতির গতি ৮% এর উপরে নয়। শ্রমিক চাহিদা সীমাবদ্ধ প্রচুর পরিমাণে-- ইঞ্জিনিয়ার, মেনেজমেন্ট গ্রেজুয়েট,এবং অন্যান্য পেশাদারিযোগ্যতাসম্পন্ন কার্যনিরত ব্যক্তিগন বেকার। সেইজন্য চাকুরীর লড়াইয়ে যেমন সুপারমার্কেট,কলকারখানাতে উচ্চ ডিগ্রিধারীরা মাথাগুজে আছে। আর প্রচরণশীল শ্রমিকরা এই পেরামিটারে আসতে পারছে না।
বেকারের আত্মপরিচয় সংকট: একজন বেকারকে যখন কেউ প্রশ্ন করে, তুমি কী কর?- প্রশ্নের উত্তর দিতে তার বিব্রতবোধ হয়। কারণ সার্টিফিকেট ফাইলবন্দী করা, পে-অর্ডার আর ব্যাংক ড্রাফট করা, সার্টিফিকেট ও সিভি ফটোকপি করা, সাপ্তাহিক চাকরির পত্রিকা কেনা, মাসিক কারেন্ট এ্যাফেয়ার্স কেনা, দৈনিক পত্রিকাগুলোতে চাকরির বিজ্ঞাপন দেখা, প্রতিদিন মোবাইলে জবস্ এলার্ট কিংবা জবস্ ওয়েবসাইট দেখা, প্রতিদিন নিজের ইমেইল আইডির ইনবক্স দেখা ও সিভি সেন্ড করা, কখনো সাইব্যার ক্যাফেতে বসে অনলাইনে ফরম পূরণ করা আর এডমিট কার্ড ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি প্রিন্ট করা, ফেসবুকে বিভিন্ন জব সংক্রান্ত গ্রুপ গুলোর পোস্ট দেখা-এসব নানান কাজ। এর বাইরেও অনেকে খেয়ে না খেয়ে গ্রুপ স্টাডি করেন, পড়ার জন্যে পাবলিক লাইব্রেরী পর্যন্ত যান, কিংবা ফটোকপি দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে, ফোন করে হলেও কোচিং সেন্টার গুলোতে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তির আশায় ভিড় করেন- তারপরও চাকরি নামের সোনার হরিণ কপালে জুটেনা।
সরকার যদিও দাবি করে যে আর্থিক অবস্থা যদিও উন্নতি হয়েছে ৭ থেকে ৮%। যেখানে বিনিয়োগ নিম্নগামী,অচলাবস্থায় রপ্তানি, কর্মসংস্থানের সুযোগ না করে উৎপাদন বিস্ফোরণ ঘটছে। কিন্তু পোক্ত ভাবে বলা হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। অর্থমন্ত্রী পিযুষ গোয়েল বলেন ২ কোটি প্রভিডেন্ট ফাণ্ড (EPFO) বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার দাবি করে বলছে যে কর্মসংস্থানের ধরণ পাল্টে দিয়েছে। 'ওলা','উবের' এগুলো হলো নতুন একটা কর্মসংস্থান। তার সাথে আছে আমাজন বা ফ্লিপকার্ট এর ডেলিভারি বয়।
বেকার সমস্যা সমাধানে কিছু পরামর্শ নিম্নরূপ--
১) শৈল্পিক প্রয়োগ-কৌশলের পরিবর্তন--
উৎপাদন কৌশলের সঠিক প্রয়োগ জানতে হবে যা বর্তমানে প্রয়োজনীয় দেশে। ইহা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে প্রয়োগ-কৌশলে শ্রমিকদের গুরুত্ব দেয়া পুঁজিবাদী প্রয়োগ-কৌশলের বিপরীতে।
২) মৌসুমী বেকারদের প্রতি নীতিমালা প্রণয়ন--
মৌসুমী বেকারত্ব বিশেষ করে পাওয়া যায় কৃষি ক্ষেত্রে ও কৃষি সংক্রান্ত উদ্যোগে। এই সমস্যা সমাধানে--
ক) কৃষিক্ষেত্রে বহুবিধ ফসল উৎপাদনের ব্যবস্থা করতে হবে।
খ) বাগান, হর্টিকালচার,পশু পালন,খামার প্রকল্পের উৎসাহ প্রদান করা।
গ) কুঠির শিল্পের বিকাশ করা।
৩) শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন---
শৈক্ষিক প্রণালীর পরিবর্তন করতে হবে। উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করার জন্য ছাত্রদের উৎসাহ করতে হবে। ভোকেশনাল শিক্ষার প্রসার তথা যোগ্যতা সম্পন্ন ইঞ্জিনিয়াররা যাতে নিজস্ব ছোট ইন্ডাস্ট্রি করতে পারে সেইদিকে আগ্রহ প্রদান তার সাথে সরকার কর্তৃক সকল ধরনের সাহায্য করা।
৪) স্বনির্ভর ব্যক্তিদের উৎসাহ প্রদান--
ভারতে প্রচুর ছেলেমেয়েরা স্বনির্ভর। তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে-- কৃষি, ছোট উদ্যোগ, ব্যবসা ইত্যাদি নিজের পায়ে খাড়া করেছে। এখানে সরকারের দায়িত্ব হলো এই ছেলেমেয়েদের আর্থিকভাবে সাহায্য করা,কাঁচামাল সরবরাহ করা,প্রয়োগ-কৌশলে ট্রেনিং দেয়া।
৫) উৎপাদনশীল নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা--
আমাদের দেশে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চাকরির সুযোগ সুবিধা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা। সেইজন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রগতিশীল নীতি গ্রহণ করতে হবে।
৬) উৎপাদনে বৃদ্ধিকরণ--
নিয়োগের সাথে সাথে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে কৃষি ও উদ্যোগিক ক্ষেত্রে। ছোট এবং কুঠির শিল্পের উৎসাহ প্রদান করতে হবে।
৭) পুঁজির গঠন--
খুব দ্রুত উচ্চ হারে মূলধন গঠন করা। খেয়াল রাখা যাতে উৎপাদন মূলধন অনুপাত মিল থাকে।
৮) কো-ওপারেটিভ শাখায় উদ্যোগিক ব্যবস্থা--
কো-ওপারেটিভ শাখায় উদ্যোগিক প্রণালী খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা যদি কেরালার দিকে নজর দেই তবে দেখা যায় কেরালা সরকার ৬০০'র বেশি কর্মী নিয়োগ দিয়েছে কো-ওপারেটিভ ভিত্তিতে। ইহা একটি অভূতপূর্ব উপাগম যা বেকারত্ব নির্মূলে সাহায্য করবে। সেইভাবে আরও বিভিন্ন ধরনের উপায় অবলম্বনে অন্যান্য রাজ্য সরকার গ্রহণ করতে পারেন।
৯) উদ্যোগিক কার্যকলাপে বিকেন্দ্রীকরণ--
উদ্যোগিক কার্যকলাপে বিকেন্দ্রীকরণ বেকার সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে।যদি উদ্যোগিক ক্ষেত্রে কেন্দ্রীভূত থাকে তবে নিয়োগের ক্ষেত্র সংঙ্কূচিত থাকে। উন্নতশীল দেশে এইধরণের ব্যবস্থা অনুকূল পরিবেশ নয়। তাই সরকারকে কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে বিকেন্দ্রীকরণের জন্য।
১০) জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ--
বেকার সমস্যা সমাধানে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সর্বক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করা একান্ত প্রয়োজন।
ভারত সরকার এই বেকারত্ব নির্মূলের জন্য যদিও বিভিন্ন ধরণের পদক্ষেপ হতে নিয়েছে। 'মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ রোজগার যোজনা, ন্যাশনেল কেরিয়ার সার্ভিস স্কীম, কৃষিক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রকল্প, ছদ্মবেশী বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান ইত্যাদি যদিও ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো এর কতটুকু যথোপযুক্ত যায়গায় কাজে লেগেছে!
বেকারত্বের এই সমস্যা-সংকট দেশে একদিনে তৈরি হয়নি। এই মূহূর্তে বেকারত্ব নিরসন যেমন অপরিহার্য, তেমনি ভবিষ্যতে বেকারত্ব কোন পর্যায়ে পৌছতে পারে, তার নিরিখে আগাম ব্যবস্থা গ্রহণও সমভাবে প্রয়োজনীয়। বেকারত্বের হার বেড়ে ভারতের স্থান এখন ৯৬ (৮.৮%)। বর্তমানে দেশে জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশই যুবা এবং তাদের মধ্যে ৪০ থেকে ৪২ ভাগই বেকার। বেকারত্বের হার নিরশনের জন্য যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের দিতে হবে। আমাদের অর্থনীতি, বেকারত্ব এবং আই এমএফ ও দাতাদের দ্বারা আমাদের “মুরগী” বানানোর প্রক্রিয়া যদি আমরা বুঝি এবং আমরা যদি জেগে না ঘুমাই- তাহলে আমাদেরও উচিৎ কর্মসংস্থান ও সামাজিক খাতে সর্বোচ্চ বিনিয়াগ নিশ্চিত করে অভ্যন্তরীণ বাজার শক্তিশালী করা। এর জন্য প্রয়োজনে ঘাটতি বাজেট অনুসরণ করা এবং উদার আমদান নীতি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করা। বেকারত্ব শুধু একটি সরকারকে নয়, একটি দেশকেও বিপদে ফেলতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ইন্ধনদাতার অভাব হবে না। তাই আসুন আমরা সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে গুরুত্ব দেই, সামাজিক ব্যবসায় উৎসাহী হই এবং বেকারত্বের অসহায়ত্বমুক্ত সমৃদ্ধ এই ভারত গড়ে তুলি।
'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'
পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...
-
ভারতের আকাশে ছিল বসন্তের বজ্রনির্ঘোষ। এই ট্যাগলাইনটা আজকের বা আমার কথা নয়। গত শতকের সত্তরের দশকে এক বিপ্লবী অভূত্থান। যা ঠিক আ...
-
যদি সত্যি বলতে হয়, বোড়োরা যা করে দেখালো বরাকের প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ মানুষের ঝুলিতে মিলল একরাশ দুর্ভোগ। না না ভুল বুঝবেন না। হিংস...
-
উধমসিংহ মুভিতে, ভগত সিং ব্রিটিশদের সম্পর্কে বলেছেন, "এই লোকেরা আমাদের বিদ্রোহী বলে, আপনার অধিকার চাওয়া হলে যদি বিদ্রোহ হই, হ্যাঁ আমরা ...
