১) কথা ছিলো
--------------------------------
কথা ছিলো----
মার্টারের গগনবিদারী চিৎকারে স্তব্দ হবেনা প্রকৃতি,
তাঁর আঁচলে মুখ লুকাবেনা কোনো মুখোশধারী প্রেমিক!
কথা ছিলো----
গৌরি,কুলদীপ,সুজাত'রা অবাধ স্বাধীনতায় আকাশের বুক ছুঁবে,
তপ্ত রৌদ্রে চৌচির মাঠে বর্ষার ঢল নামাবে!
কথা ছিলো----
নির্ভয়াদের ছোপ ছোপ রক্তের দাগ লেগে থাকা কামিজ দেখে
পথিক অট্টহাসি দিবেনা,
মাতৃত্বের শাশ্বত টানে চিত্তে শ্রদ্ধা ধারণ করবে!
কথা ছিলো----
রুক্ষ জমিনে আবার সোনার ফসল হবে
শেখুবাইর মতো আরও কত শত লংমার্চে !
কথা ছিলো----
কর্মে মহান হবে ধর্মে মহান হবে
প্রতিটা বিশ্বাসালয় ঠাসা বয়স্ক রচনাগারে !
কথা ছিলো----
বোশেখের প্রথম প্রহরে মঙ্গল স্নান হবে,
নরনারী জাতীয় সত্তায় আলোকিত 'মি টু' শ্লোগানে !
কথা ছিলো----
হিমুর চোখের ভিতরে অনুরাগের জল থাকবে,
প্রেমিকের দেয়া ধোকার আড়ালে পরকীয়া লাজ পাবে !
কথা ছিলো----
রাজপথ নতুন করে আর রক্ত-স্নানে রঞ্জিত হবেনা,
রাজপথের বুকে শুধু স্লোগান ধরবে!
২)
মানুষের পৃথিবী টা
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
মানুষের পৃথিবীটা আস্ত একটা যৌনখানা
ন্যাংটো হয়ে যেই বিছানাটা নাচতে শুরু করলো
ফরমান এলো
মানচিত্রের কাঁধের কাছ থেকে আড়াই কেজি মাংস কেটে নেয়া হবে
অবাক হবেন না।
শুকনো জিহ্বা কত টানবে উপচে পড়া ব্লাউজের রস
রয়েল-বেঙ্গল টা ন্যাশনেল পার্কে
স্বপ্ন বিহারে বিভোর
আর্য-শ্লোকের বর্জ্য চিৎকারে
থালায় প্রসাদ, চেষ্টায় ঘুম ভাঙানো।
৩) হলুদ হ্যালোজেন
মিথ্যাগুলো কে লুকালেই আবারও নতুন আরও কিছু মিথ্যা নিয়ে উঠে
রাজপথে দিয়ে যেতে যেতে দেখা পাই
শুয়ে আছে ভারি কোন নারীর মতো অনাসক্ত চাঁদের কোয়া;
নিজের জন্য উপযোগী করে আবার
অনেক কিছু ঐ উত্তেজনার স্বীকার,
-------- হলুদ হ্যালোজেন !
হ্যাঁ, তার বুক জুড়ে ভিখারির গীত,
ভাড়াটে উপচে পড়া স্তন, চাটবেই !
ভীষন বিভক্ত হয়ে কেঁদে চলে মোমের মিছিল
দুর্দশারা চলুক ভিসুবিয়াস ছেড়ে আরও.......
কোথাও নেই কোথাও নেই, চেঁচিয়ে লাভ হবে !
এসিড রেইন এ আহত
এক এক ফোঁটা অক্সিজেন।
৪) লাল সেলাম
অস্তাগমে লাল রবি টার চিলতে হাসি
বিষাদ সাগরে এক লক্ষণ রেখা টানে
ঢলে পড়া বিকেল অতিত সময়ে,
দুর্ভিক্ষের থালা কাড়ে, এক আশির্বাদ রূপে
অজস্র কঙ্কাল রূপী হাসি নীলছবির রাবণালয়ে
সাদা কাপড় ও অগ্নিপরীক্ষা দেয়।
বিভাজনে মন্দ ঈশপের গল্প ঐতিহ্য
বেশ্যা যেমন কিছু সময়ের জন্য শরীরের কয়েকটি অংশ ভাড়া দেয়
মানুষ গুলোও শিখেছে অন্তর ভাড়া দেওয়া
প্রেম, ভক্তি, শ্রদ্ধা-------
যদি পারে ন্যাপকিন বানাবে !
মুখ গহ্বরে গুংগানির আওয়াজ শুনে
শুধু স্তব্ধ অশ্রু টা পড়ে
গড়ে যায় চোখের পাশ নালা দিয়ে,
হঠাৎ উতলে পড়া দুধাঘাতে
আহতরা প্রতিদিন সংযমী মেহনতে
--------- লাল সেলাম ঐ সংযত মনকে।
৫) পরকীয়া
ক্ষণে ক্ষণে তীব্র প্রতিক্রিয়া
এক আকারে সঞ্চিত পুঁজি মোহনবাগানে
ঢেউ খেলে অতৃপ্ত চাহনি,
আশার পূর্ণ কিরণে নৈরাশ্য ঝড়ে
ভোগের অংশটি হাতছাড়া।
অদৃশ্যের চাওয়াটা অন্যরকম হাঁটে
সড়কের ঠিক মাঝখানে
মনে হয় অম্লান কামনা মহীরুহ মেহগনি ছায়া ফেলে
তোমার আমার পথে,
ব্যবহৃত শরীর টা দুজনার,শরমে-সংকোচে
সামাজিক মুখ তোমার আঁচলে ডেকে
দেখিনা তো কোনো ভুল তাতে----
তবু কেন সম্মুখীন প্রশ্নবোধকে?
জীবনের মরণপারে আমি আর প্রেম
মিলে যাই পারাবারে।
৬) কামনার দংগোল
মধ্য রাত্রি.....
তা ও শান্তি জুটলো না,
বসে ছিলাম কাগজের পাশে
ভাবছিলাম কয়েকটি পরিচিত শব্দ জোড়ো করে
সারিতে সাজাবো,
নিঃশব্দ......
হঠাৎ নগ্ন ব্রা'টা কাঁধে, শিউরে উঠি
দেখি দুলে ওঠা জোড়া স্তনের উপচে পড়া প্রদর্শন
আর তার চূড়ায় পিকাসোয়ী কারুকার্য;
ধীরে ধীরে সুপ্ত রাক্ষস জাগ্রতের পথে।
আলগা হয়ে যাওয়া বসনখানি শরমে........
নগ্ন কটিদেশে তোমার নিক্কণে,
নিঃশ্বাসে বেড়ে যাওয়া উষ্ণতা
বেপরোয়া,পরিচয় ভুলে পরিণত অন্য রূপে
কামনার দংগোলে নগ্ন শরীরে
জাগ্রত প্রশ্রবন ডাকছে মাতাল বেসে
তৈরী সে তীক্ষ্ম বর্শার আঘাত সইতে
দীর্ঘ পরিশ্রম ঝরা ঘামে, আনন্দ আর আনন্দ
সর্পিল বাঁধনে আমায় বাঁধো তুমি কাম রঙে।।
৭) জন্ম নয়, মৃত্যু......
আড়ষ্টতায় পিছু হটে বৃথা সংলাপ
দালালেরা দলিত হয় দালানের ওপারে।
সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটে।
অবসাদে শরীর এলিয়ে দিয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে
ঘুম আসে ,
আমি ও চন্দ্রালোকের ভেতরে পিদিম জ্বালি
মর্তের পৃথিবীতে নামাই রোগ জরা...
শিহরিত প্রতিটা অঙ্গচুল নিরব----
মুখগহ্বরের গোঙানিতে।
রেহাই নেই ,মুখে ফেবিকুইক আঠা!
তবে জন্মাতে পারে রক্ত হিংসার মাঝে;
'শান্তি'র' দৌড়ে বেটারা
স্বীকৃতি পাওয়া প্রাদান্য!!
৮) পঁচা হৃৎপিণ্ডের মিলনায়তন
বিলাস প্রাসাদে আজ কাপুরুষ মেলা
নিত্য নতুন ছোরা, নাম সভ্যতা !
দিকে দিকে ছিটা রক্তের জখম;
শুকছে নষ্ট শকুন, স্বাধীনতা হরণ
পঁচা হৃৎপিণ্ডের মিলনায়তন---
বোকারা পুড়ছে, দ্যাখ্
স্মিতহাস্য শয়তানের মুখ, ওরে ঐ নির্বোধ।
থাক্..... থাক যতসব আঁচলে বাঁধা
মরুক না ওরা, কাজ টা পদলেহা;
লোহিতে মিশুক নিষ্পাপ লাল কণা,
চিহ্নহীন গোরে-----
এ-সভ্যতা, সূচনায় নতুন যুগ আবিষ্কার মূহুর্তে!
৯) #মি...টু
এই মেয়ে শুন্, রাখ তোর ভেল্কিবাজী
ক্ষমতায় কে জানিস তো----
বেশ বেড়েছে তোর মাদার ইন্ডিয়া পনা
নিজেকে কি ভাবছিস
তাসলিমা, না এঞ্জেলা।
তোর শ্লোগানে, কলমে
কাঁপবে বেটাদের শিবলিঙ্গ---!
বন্ধ হবে কলঙ্কিত সিথিঁর সিঁদুর
কিবা যোনির রসটানা,
ভেবেছিস শুধরোবে সমাজ?
বালও ছিড়তে পারবি না।
হাসি পায় তোদের নৌটক্কিতে
-----বলে কি #মি....টু।
দ্যেখ্ গুরু থেকে শুরু
সংস্কারি বাবাও ঐ লিষ্টে;
সাহস এলো কোত্থেকে,
জানিস তো কতশত নজির রেখেছি
আরও রাখবো, আমি ক্ষুধার্ত.......
হ্যাঁ করেছি যৌন নির্যাতন, স্ফূর্তি
কোন অসুবিধা, আমার জন্মগত অধিকার।
কে, ও.... প্রসাশন
টানবে ব্রা-পেন্টি নীচে ঐ উলস গদিতে।
গলাটা আর ফাটিয়ে লাভ নেই
দ্যাখ্ .......দ্যাখ্
মন্দির টা আমার মসজিদ টাও
তোর কোনটা বল্,
গোলাম কিনেছি ক্যেশে
আরও কিনবো অফারে।
সুখী হতে পারিস----
কাঙালের চাহিদা পূরণে।।
১০) ভেতরের কন্ঠে
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
আত্মহত্যার আগে অপেরা শোনালে ভালো লাগবে আমার
আমি রবীন্দ্র সংগীত শুনেছি সাথে নজরুল ও
আর কবিতা.....
একটু হলেও শুনবো "আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে"
বাকি রাখিনি আল-মাহমুদ বলো আর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
তৃষ্ণাটা মিটতো,কিন্তু------
মানুষ সঙ্গমের সময় 'ভালোবাসি' শব্দটা বেশী বলে,
এর মতই।
ঘুরে আসুন গণতন্ত্র---
হিউম্যানিটি মিথ্যার ভিড়ে,লেট মি ফাক্।
মানুষগুলো এই গোলকের ভিতর
উচ্ছিষ্ট পাহাড়ের ঢলের মতো,
থিয়েটারে ন্যাংটো আদম-ইভ ফুল মুভি
ঠিক মূহুর্ত অবিকল শ্রীজাতের 'অভিশাপ'
ক্ষুধা নিবৃত্তি,
চলমান সংঘর্ষ সেই ট্রেডিশনে
আরও অপরিপক্ক মস্তিষ্ক জন্মালো।
শ্বাসরোধ সফলতা রক্তবমিতে ইষ্টিশন।
১১) লিফলেটে প্রত্যাশা
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
জানেন তো?
নির্বাচন এলে এদেশে সবচেয়ে বেশি শঙ্কায় থাকে সংখ্যালঘুরা।
আশ্বাসের নিঃশ্বাস ফেলা লিফলেটে
ঘরে ঘরে নির্বাচনী প্রচারে বিষাদ সাগরে অমৃত মন্থন।
যাক গে সে কথা
পর পুরুষের যৌনাঙ্গ চষি কোন লাভে !
জানেন তো যু্দ্ধ হলো পৃথিবীর অর্ধেক মা বাবার বুক খালি করার উপায়!
দেখাযায় নীতিমালাও বেশ্যার সাথে একপাতে,
নারী ও শিশু বিক্রির একমাত্র স্বর্ণসূত্র হলো যুদ্ধই!
যুদ্ধের কথা শুনলে
আমার স্ত্রীর ঠোঁটের আয়না ভেঙে পড়ে,
গহনাগুলো খোলেপড়ে ব্যাথার গোপনে;
যুদ্ধের গন্ধে শাড়ি মরে, শরীরও মরে।
যাওয়ার আগে জেনে যান
নারীর স্তন পৃথিবীর অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর জিপ তাই
এই শহর গ্রামের ক্ষুধা যখন মিটে যায় তখনও সে দ্রৌপদীর হাতের সূর্যথালি।
বেঁচে থাকতে থাকতে আর দুর্দশায় একরাশ দুশ্চিন্তার চিন্তার মগজটা !
১২) ভায়া অনুভব
প্রতিটা ভোরের জন্মলগ্নে একরাশ আশা ডানা মেলে
পুরোনো ঝেড়ে লোনা জলের তিক্ততা মুছে
চেয়েছিল বিধ্বস্ত অবহেলার বুকে আসবে,
বিভাজন ভেঙ্গে প্রেম-আনন্দ জিহ্বায় স্বাদ অনুভবে-----
শৈল্পিক সাজে পরিত্যক্ত কাঁটাতার!
অবশেষে সত্যটা জানলাম।
সুখপাঠ্যের মালা- জপা রোদপোড়া দিনগুলো
অন্ধকারে জাহাজ ডুবানো প্ল্যানে,
আর, ঐযে সবুজের সমারোহে
ক্যান ভর্তি অক্সিজেন ও হীনবীর্যে
ভাগ্যে পুনরাবৃত্তি মল আর মলের শোধন।
১৩) সিঁধ
ফিরে এসে দেখি জমাট বেঁধেছে
অজস্র ভুলের অভিজ্ঞতা;
নীড় ভাঙা প্রজাপতিরা বাৎসল্য রোদে পোড়া,
মিছিলের স্মরণ সভায়
বরফ গলে গলে অসুস্থ সূর্য চলে যাচ্ছে
সিঁধ কাটা ঘরে। আর,
রক্তের সাথে ভূমি--বুলেটের মিলনে
নতুন কিছু দুর্বল জীবনের উৎপত্তি,
নগরের সুইসাইড স্কোয়াডে স্বৈরশাসক
বিলোনিয়া বর্ডারে সহবাসের তাস খেলে------
অহংকার উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে বিশ্বাসী অন্ধকার
সম্পাদক ও কবি একপাতে ভাত খাচ্ছে।
ওদের জানা নেই
বই কিভাবে খোলে রোদে দিতে হয়,
বাক-ধ্বনির ব্যলান্স টা ওরা জানে
বেমালুম এসিড-পাঞ্জাব চালে,
কিন্তু.....
লেকচারের ঘনিষ্ঠ ধনুকে
প্রতিশ্রুতি শব্দগুলো তিরবিদ্ধ।
১৪) চুক্তি
আমাদের তো প্রেমিক হবার কথা ছিল।
আমাদের কথা ছিল না মূল,কান্ড,শাখা-প্রশাখা পেরিয়ে যাবার---
অনেক পথ হেঁটে মৌলবাদে যাত্রা করবার!
আমাদের তো কথাই ছিল
ডানা মেলবার।
সেই কবে এলাম,দেখছি---
হে উদাসীন,হে প্রিয়তম,প্রিয়তমাগণ,
হে দম্ভ,আর কত!
আর কত কথা না রাখবার,কাজ না করবার কথা!
ভাবতে ভাবতে, নিজেকে বলি---
ভালোই তো ছিলে, মরতে গেলে কেনো?
শ্যাম্পেনের চুমুকে উপচে পড়া স্তনের নৃত্য
ফেরারি'র নৈশ ভোজনে।
তুমিও পাবে !
১৫)
রোজনামচা
পৃথিবীর ক্লান্ত পথে ব্যর্থতার ভীড়ে
দলাদলির অন্ধকার জোৎস্নার মুখ
হলদেটে রুদ্দুরের ছায়াপথে
খোদ্দের খোঁজে ।
ঘুনপোকের সহবাসের নিঃশব্দ শিৎকারে
আর শিরোনামের ভালোবাসা আবেশে
মিশে যায় ক্লেদাক্ত ভুঁইফোড়া গন্ধ।
অবিধান হাঁপিয়ে ওঠে ভ্রষ্টের সমবাহু সংলাপে
রোজনামচায় অসংখ্য ভক্তদের ভীড়ে
পীরাকি দেখায় বিষাক্ত বিষে।
১৬) ধূসর শহর
মিলনের গানে শুধু উপেক্ষিত;
ক্ষুধা আর প্লাবনের ঢেউ নিশীথ বিকট ছায়ায়
লোলুপ আমন্ত্রন, সংশয়ে.....
সমৃদ্ধ ইতিহাস মাকড়সা ঝালে।
সত্যিই, মানুষগুলো বড়ই আলোড়িত করে আমায়।
নৈরাশ্যের বাজারে ওরা----
মানুষ রুপী খেকো;
মৃত ভালোবাসা পরিযায়ী বুকে।
মধুবনে মদের যজ্ঞ---
আমি চিৎকার করে বলছি এই ধূসর শহরে
ঝুলন্ত গ্রহগুলো,
বিশ্বাসের পিঠে হৃদয় হন্তা।
১৭) তথাস্তু
ভুলের সাতকাহনে মিথ্যার মোড়ক উন্মোচনে
মৌলিক বুভুক্ষিত জীবন,
উৎসবে মাতে জনতার প্রাণ কেঁড়ে।
কত জননীর সন্তান কফিন বন্দি
কত সোহাগি শাঁখা ভাঙে নিশ্চুপ পাথরে
কত শ্রবণকুমার মরছে ঐ জলাশয় পারে----
জননীর বুকে হিংস্র আঘাত কষে
পুড়া গন্ধ বারুদের দেশে।
বলছো স্বাধীনতা !
চুলের খোপা ধরে আছাড় মারছে যারা
সম্প্রীতি ফসিলে ভাগাড়ে পুড়ছে তারা----
বিষন্ন সন্ধ্যায় মৃত আকাঙ্খারা,
তথাস্তু, একটু সময় দেবে !
১৮) ফণী
একটি ভোরের গোপন হত্যা
দাঁড়িয়ে রয়েছে ঠিক আমার মতই,
নশ্বর দেহের কারিগরি শিক্ষা
---------- করুণায় অশ্রুসিক্ত।
কাল রাতের অসম্ভব আনন্দগুলো
অন্তরের কালো শিরোনামের নাটকে
বিশ্বাসের হাত ধরে বাতি নিভে
------অন্ধকারে।
সৃজনী শব্দগুলো মৃত, জঠর ভেদ করে
মৃত্যুকে স্বীকার জন্মানো কঠিন
---- ফণী।
১৯) এক ঝাঁক মিথ্যার মুক্ত বিচরণে
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
অজস্র নীতিমালার প্রেক্ষাপটে এক দুরভিসন্ধি,
সুরাহার সন্ধানে বিমূর্ত প্রতিমা
তপ্ত রক্ত খোঁজে লোকালয়ে,
রাজধানীর খেকোগুলো আরেক ভঙ্গিমায়
হামাগুড়ি দিয়ে পাড়ি দেয় মফস্বলে।
ক্যনভাসে পুরাতন রবে দলবদ্ধ যৌবন ভাঙছে আশ্বাসের মিউজিয়াম
পুড়ছে যত হরিৎ ইতিহাস,আর
ভালোবাসার শান্তনা দাউদাউ করে---
সিগারেটের মতো ক্রমশ ছোট হওয়া সংক্ষিপ্ত জীবনটা
পঁচা স্বপ্নগুলোর শোকের অগ্নুৎপাতে ভস্ম।
এক ঝাঁক মিথ্যার মুক্ত বিচরণে.........
২০) নশ্বর পৃথিবীটা
নশ্বর পৃথিবীটার বিরাট আস্ফালন!
একমুঠো পরিধির রাসানাগারে
জঠর ভেদ... চলছে....
উদারতার সাজসজ্জায় অনৈতিক মূল্যায়ন!
শবের মিছিলে লাল অক্ষরে ব্যনার
ফ্যেশন, যুগের বিবর্তন।
লিখতে বসলেই দেখি....
ভুলের সাতকাহন প্রাচীন থেকে বর্তমান স্বমহিমায়।
তবু একগাদা বুর্জোয়ামী খেলাফতে
নির্দ্বিধায় শ্রেষ্ঠ জীবরা, ব্যস্ত পদ-লেহনে
মরুক না বুড়ো পাগুলো রাজধানী তটে
......শষ্যের গুরুত্ব হ্রাসে।
কুর্নিশ তোমায়!
আরও কুর্নিশ......
ঐ দলবদ্ধ যৌবনের সেনাপতিকে।
'জয় শ্রীরাম' হবে মানবতার শ্লোগান!
ধর্মের রাজনীতিতে সুমহান----
বাবরি আর রামমন্দির এখন অমৃত সমান!
রাজপথে পুড়ুক ওরা, রক্তে হোলি খেলা
থামাসনে ঈশ্বরবাদী মনুমেন্ট গড়া।
২১) এইসময়
কালের মহীরুহে জীর্ণ স্তবক দ্বিধায়
চূর্ণ শব্দের বিচরণে, বেলা শেষে হিসাব কষে আঙ্গুলে
দীর্ঘশ্বাস ফেলা সময়গুলো জমাট বেঁধে যবনিকা টানে,
বোধহয় ক্ষণিকের রঙ্গমঞ্চ মিছে।
দাবার গুটির মতো এ জীবনের বৈশিষ্ট্য
হাতি,পেয়াদার পথচলা। কখনও ঘোড়ার মতো;
কখনও বা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত ক্ষমতা
ঠেলে দেয় আঁতুরঘরে।
ভরসার কাঁধে মাথা রাখা... নিজের পায়ে কুড়াল মারা
কম নয় তাতে ভাগ্যের জিম্মাদার ও,
সুযোগে পুতুল নাচায় সেও।
ভোররাতের শেষ লগ্নে আবারও কড়া নাড়ে প্রশ্নরা
বিচ্ছেদ এইসময়----ছয় ঋতু বারোমাস ভেজা যন্ত্রণা,
পরিযায়ী বুকে কী লিখি
যেতে হবে......
ডাক দিয়েছে এলার্মঘড়ি।
২২) ভুঁইফোড়া গন্ধে লালকেল্লা
একগাদা মিথ্যার বিজয় অভিযানে
গোড়ালি ফেটে রক্ত ক্ষরণ সাক্ষী রাজভবন
বয়স্ক হাড় আওয়াজ তোলে
ন্যায্য দাও বাঁচাতে চাই রণভেরি আহ্বান,
জীবনের ঘ্রাণে মূল্যহীনে রক্তাক্ত পতাকা;
কালজয়ী গানে বিরহী নিনাদ ছলনায় সারথী
ঝুলন্ত মানচিত্রে ক্ষুধিতের কান্না
" মিত্রোঁও..... আর না ..........আর না।
চাবুকের অধিকারে মখমলি চাদর
হাই ভোল্টেজ চেতনা
গড়াসনে আর বিবেকের ফুটবল, সাবধান বেঢপ কারিগর,
সুটকানো স্তনে অমৃত খোঁজে
আঁধারে ধ্রুবতারা,
চল্ চল্ সব হোক দুর্গম পথ
আজ যে সাম্যের গান বড়ই দুর্বল।
গর্জে ওঠো গ্রাম শহর বন্দর, জেগেছে জননী সন্তান বীরদর্পে
ভুঁইফোড়া গন্ধে লালকেল্লা, ধনতেরাসে মগ্ন
ঘিরে ফেল সিংহাসন, নিপীড়িত সমাজ
প্রতিবাদ প্রতিবাদ প্রতিবাদ, ইনকিলাব জিন্দাবাদ।
২৩) যাও, তাকে ডাক দাও
যাও, তাকে ডাক দাও---
অনেক শুনেছে
এবং এসে দেখে যাক একবার ঐ ঘুমন্ত শহরকে,
যেখানে অজস্র ভিখিরি আর ভিখিরি......
ওরা নির্মম ---
ক্রংক্রিটের দেয়ালে প্রাইমার ঘষে ছলনার মিশ্রণে।
ওরা অভিজ্ঞ!---
মূহুর্তে আবেগ কে জয় করে শিল্পের নিয়মে।
ওরা রবিন হুড---
বারুদ নিয়ে খেলে যৌবন প্রশিক্ষণ শিবিরে।
ওরা ধার্মিক---
নিমেষে গুটি হাটায় তোমার আমার মাঝে।
যাও.... তাকে ডাক দাও
একবার দেখে যাক ঘুমন্ত শহরকে।
২৪) বিকল্প পৃথিবী সন্ধানে
বিকল্প পৃথিবী সন্ধানে--ওরা জোট বেঁধেছিল
বপেছিল বুক চেরা সাহসের বীজ
আর------
গড়েছিল রক্তিম পাহাড়চূড়া ইষ্টিশন,
যেখানে ন'টার গাড়ি ঠিক সময়েই আসতো।
মুখোশ পদবীর স্খলিত বুলেটে
চৌচির বজ্রসুঠাম, মহিমা অমাবস্যার চাদরে,
নষ্ট স্বর্গটাও জং লাগা কলিজার গন্ধে
সভ্যতা শেষ,ফিরেছে প্রাচীনে।
এখানে ডুবে গেছে সূর্য-দর্শন-হিষ্ট্রি
পড়ছে ভ্রূণ রাস্তায় ধুলোর মতো,কন্ডম ফেটে
বুড়ো ভামেরা টানছে যোনি, অবাধে অতর্কে
ডেগে জ্বাল হচ্ছে কৃষ্টি-সংস্কৃতি।
বিকল্প পৃথিবী সন্ধানে.........
চল্ জোট হই আবার মর্তের বিপরীতে।
২৫) এই প্রজন্ম শুকনো কনক্রিটের মতো
একটি নিভৃত অঞ্চল
হারিয়েছে তার মান-যশ লাবনি সবুজ
বর্ণিল স্নিগ্ধতার তাজা প্রাণগুলোও
যা বিলিয়ে ছিল স্বেচ্ছায়----- অনুরণনে সেই গান !
সেই গান--- ছিল মিছিলের আর্তনাদ, অগ্নিবীণার টান
পরিবর্তন.........
ডিজে'র তালে লেট মি ফাক।
এই প্রজন্ম শুকনো কনক্রিটের মতো
নির্লজ্জ..... গরু আর কুকুরের লড়াই, লিগ্যাসির লড়াই
রক্ত কেটে দেখে স্বর্গেরর শয়তানরাই,
অন্যদের অবিকলে
৩১শে ডিসেম্বর সেলিব্রেশনে, নিজেরটা গলা টিপে।
এই প্রজন্ম কিনেছে দাসত্ব
গুম--ইতিহাস কারারুদ্ধ
ডি' এর অভিশাপে এই প্রজন্ম আবদ্ধ।।
২৬) ।। একবিংশের যীশু।।
(কলকাতার যীশু নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী প্রয়াণে ।)
একমুঠো মিঠেল রোদ ফুটপাতে ছিল রাখা
ধার চেয়েছিলাম তার সর্দারের কাছে----
রক্ত-মাংসের অভিনয়ে নয়
পুতুল নাচের পর্দা উঠে গেলো
মূকাভিনয়ে।
মিঠেল রোদগুলো ও তাৎক্ষণিকতাতে বিশ্বাসী,
সভ্যতার প্রাচীন কাল থেকে
পাহাড়--মরু স্খলিত ট্যাটু,ভিসুবিয়াসের মতো,
বিষাদের কালো মেঘ--
বৃষ্টি নামুক এই শহরে।
লালবাতি,ফেরিওয়ালা, বাঘমার্কা ডাবল-ডেকার,কলকাতা শহর--
ষ্টেটবাসটাও ভিখারি জনতার আর্তনাদে,
বদলায় নি 'সম্পূর্ণ এক উলঙ্গ শিশুও'।
কলকাতার যীশুর কথায়-
' এখন রোদ্দুর ফের অতিদীর্ঘ বল্লমের মতো
মেঘের হৃৎপিণ্ড ফুঁড়ে'
নির্বাক শহরটা আজও আসে নাই
অগ্নিবীণার মিছিলে!
২৭) গ্রাম
চেন এই সুজলা সুফলা ধরা
স্নিগ্ধ পরশতা, অমল মূরতি যেথা
গাঙ চিল কুয়াশার দেশ,
লক্ষীপেঁচার ডাক, কাক ভোরে ঘাসে ভেজা নূপুরের হাক,
শুনেছো কাঠটুকরির বেলগাছে কান্না
বা জীবনানন্দের কবিতার মতো---- ধানসিঁড়ির
সেই নৌকা যার পাল ছেঁড়া !
ছিল এক দিঘিতে জল খাওয়া
দশমী তে সলমনের ঘরে মদ ফিরনি আর গলাগলি করা
ঠিক বিপরীতে পার্টি হতো
অর্জুনের ঘরে ঈদের সে.....টা।
সেই কবের কথা..... আজ বেমানান
আজ একদল পুবে মুতে আর একদল পশ্চিমে,
ঈশ্বর প্রাপ্তিতে মন্দিরের চূড়া ভাঙে
মসজিদে মাইকের শব্দে !
হারিয়ে গেছে বিকেলের চা-য়ের আড্ডা।
২৮) হোক কবিতা
বাতাসে ভুঁইফোড়া গন্ধ
ঢেউ বাতাস জল কাদায় মূর্তি গড়ি স্থবির,
শকুনিরা হাসে ধর্মের ঘরে তালা মেরে।
এ শহর কবির নয়, নয় কোন বীর একাদশের
এ শহর বর্বর ধর্মান্ধদের।
নিঝুম রাত্তিরে তার কানে কানে
জানিয়ে দেয় -----
শীতকালীন দূরত্ব শহরে নেমে এসেছে
প্রতি সন্ধ্যায়;
ধূসর রাস্তায়
খোলা কন্ডমের বার্তায়।
এরসঙ্গে মিশে গেছে অহেতুক ভয়
সর্বত্র আগুন জ্বলছে;
ব্যস্ত
অপুষ্টির কঙ্কালেরা বানিজ্যে দেবতারে নিয়ে
গলে পড়ে যাচ্ছে প্রাচীন স্থাপত্য;
শহুরে কুকুরদের দাপটে
ঠকবাজ সব মক্কা বারানসী
সুটকানো স্তনে কস্তুরী লেপে!
তাই ঘোষণা একটাই
মৃত ঈশ্বর বলে।
২৯) ফুসফুস
(গল্প কবিতা)
যার হৃদয় নেই তার ভালোবাটাও দুর্জয় সন্ত্রাসে। আসলে হৃদয়টা মানে দিশেহারা পাগলামি, অনুরাগ, স্তুতিপাঠ। যারা, দেহে হৃদয়ের মুক্ত বাতাস মানে ভাবে বিবর। আমার হৃদয় রাত্রি অমানিশায় লুকিয়ে থাকা চাঁদ। হৃদয় মানে আলগে যাওয়া প্রতিটা জোড়া। উদারতার সাজসজ্জায় কাঁটা ফোঁটানোর ছোট্ট প্রয়াস।অন্ধকার আর মাকড়সার জাল। হৃদয়হীন যৌনতা। শুধু মানসিক সান্ত্বনা। মনুষ্যত্বটাও ওর উপর ভরম্ভর। তবে আজকাল আর ছাইপোঁকার মধ্যে।
একবার ভেবে দেখ ঐ আশেপাশে। না সুদূর আসমুদ্র হিমালয় পারে। স্বর্গের বিচরিত নন্দন কাননে শয়তানের আশ্রয় স্থান। নরকের ভয়ে খুঁজে দেখ নিজে কয়গজ নীচে। টিপে দিচ্ছে গলাটাও রঙিন স্বপ্নের বাসর রাতে, কালো চুলের কালো স্বপ্নে।
তুঁই তো রাজা নস্? তবে কেন? কেন,
হা করে গিলে খাস তার মাংস। এই হৃদয়টা ও তোর নয়। আছে শুধু ফুসফুস। শুন্ মাঝে মাঝে ডাক্তার দেখাস্ ঐ জীবন্ত হাসপাতালে।
৩০) প্রত্যাশা
তখন কোথায় ছিল বোরখা নামক বস্তা?
তখন কোন বিধাতা সৃষ্টি করতে পারে নাই, সম্মান বাঁচানোর জন্য এক টুকরো কাপড়!
মিথ্যা অজুহাতে ছুঁড়া হলো এই মর্ত্যধামে, লজ্জা কোথায় ছিল---গড়বার সময়ে।
তখন কোথায় ছিল বিধাতা আর বিধাতার সৃষ্টি।
কাঁপে নি পৃথিবী, কাঁপে নি কোন জালিমের বুক।
আজও রাস্তায় অবুঝ শিশুর মাথা খাওয়া দেহটা পড়ে থাকে নর্দমায়,
ঈশ্বরের অস্তিত্ব আরো বেশি বিলীন হয়ে যায়।
আমরা মেনেই নিয়েছি আমাদের অত্যাচারিত রক্তাত্ব দেহ। সাথে বিধাতাকেও।
কিন্তু শোষণের জবাব দিতে যেদিন ফারাক ধরলো আল্লার নির্দেশিত পুস্তকে,সেদিন মেনে নিলাম এই দুনিয়ায় সৃষ্টিকর্তা নিতান্তই একটা নিষ্প্রয়োজনের নাম।
নিজের অস্তিত্ব যে বিধাতা এই সময়ে প্রমাণ করে না কি দরকার সেই বিধাতার?
কি দরকার সেই গাদা গাদা নাজিলকৃত পুস্তক যা একজন মানুষকে মানুষ হতে শিক্ষা দেয় না।
রজস্রাবে পূঁজিলে যারে প্রবেশ নেই তাঁর অশুদ্ধ মন্দিরে!
ভেঙে ফেল মন্দির-মসজিদ নামে কল্পিত ঈশ্বরের দালানকোঠা পুড়া হোক এর গায়ে লেগে থাকা প্রতিটি ইট,বিকৃত পুস্তক তার সাথে ঐ মগজ।
সেখানে গড়বে ল্যাব,যুক্তিবাদী মঞ্চ,শিল্পকলা একাডেমি,মুক্তমনা চিন্তা।
আরও.........চাই।
৩১) একাকীত্বের নিদারুণ আর্তনাদ
এ জীবন ফুরিয়ে অচিরেই
ঝরে যাবে আশার সঞ্চার বাণী অশ্রু জলে
সিক্ত হয়ে পড়ন্ত বিকেলে,
আধমরা ভালোবাসাগুলোও
হৈমন্তিক রস শুষে কঙ্কাল প্রায়
নিরেট বরফ, ঐ আদিম কালের।
আলোর শেষ বিন্দুটাকেও অভিলাষী মন
চেয়ে ছিল বেশি নাহলেও----
কম সোহাগ দেবে
বুকের উর্বর জমিতে পুঁতে রাখা জীবন কে,
কিন্তু কৈ, পাঁজরে ধমনী ছেড়া শব্দে
শিরায় শিরায় বাজছে
একাকীত্বের নিদারুণ আর্তনাদ।
৩২) একটি ক্ষণস্থায়ী হেঁচকি
একটি ক্ষণস্থায়ী হেঁচকি
যার সম্মুখীন হচ্ছে গোড়ালি ফাঁটা
কিছু জীবন
যেখানে রয়েছে ভয় আর অহংকারের মিশ্রণ।
যন্ত্রণারা এক একটা শ্বাস নিচ্ছে
ফোলা ফুসফুসে বিষাক্ত অক্সিজেন,
নিখোঁজ রয়েছে আজও
গৌরবের ইতিহাস,
শ্লোগান এসেছে জনগণেরা এখানে রাজা!
চারিদিকে হৈ হৈ রব........
প্রজাতন্ত্র........প্রজাতন্ত্র!
তবে যে পুড়ছে গণতন্ত্র
সংবিধানের দরজা খোলা
উন্মাদ শাসনতন্ত্র।
ক্রমশ বাড়ছে দুর্দিন
জ্বলছে নগর, স্বপ্ন প্রহর রোজনামচায়
গো-মাংস আর গো-মাতার লড়াই
সহস্রাব্দে ক্রুসেডে
হাওয়ার ডালিম থেকে বেরিয়ে আসা ঐ সাপটা
আমার পায়ে নেতিয়ে পড়তেই বুঝলাম
মানুষগুলো বিষাক্ত ,সাপের প্রতি।
৩৩) তৃতীয় শ্রেণীর এক আমি
তৃতীয় শ্রেণীর জীবন,কুকুরের মত কুন্ডলী পাকিয়ে শুয়ে থাকি ছানাপোনা নিয়ে।নিজেই বানিয়েছি নিজের নিয়ম।রোজ রোজ ফলের দোকানে ঢু মেরে আসি,আরেকটু কম দাম হলেই কিনে আনব পোয়া খানেক আঙ্গুর বা কোন প্রিয় ফল।প্রেমিকা ছিল সুচরিতা সেন,বিভোর ছিল মন সঙ্গম স্বপ্নে।বিকিয়েছিলাম আমি তারে হৃদয়।
পাইনি তারে তবু কি হয়েছে?রাহেলা বেগম তো বউ হয়েছে হাসিমুখে সব মেনে নিয়ে।বিছানায় শুধু গদি আটা নেই।কঠিন তক্তপোষে শুয়ে তবু সুখটান দেই।
পুঁটি মাছের ঘ্রান আসে রান্নাঘর থেকে।জুতোর সুকতলি খুইয়ে জুটিয়েছি তবু মাস ইনকাম।বাবার জমি বেচা টাকায় ডিগ্রিও জুটিয়েছি তিনখান।
গুমোট জানালাহীন ঘরে তৃতীয় শ্রেণীর জীবন।
মাইনেটা বাড়লেই একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নেব।তিন রুমের।রাহেলাকে কথা দিয়েছি।ওর ফোলা ফোলা গালে এখন আন্দামান নিকোবর এর মত মেসতার দাগ।আমি বোধহয় বুড়িয়েছি কিছুটা।ছেলেটার অসুখ করেছে খুব,ডাক্তার দেখাতে হবে,,সেও এক রকম টাকার খেলা খুব।বাবার ভিটেটা এবার বেচেই দেব।
কন্যাটাকে সামনের বছর এ স্কুল ছাড়িয়ে সস্তা কোন
স্কুলে দেব,খরচ কমে যাবে বেশ।
তবু রাস্তার মোড়ে ভিক্ষুককে দেখে আমি মনে মনে আত্মপ্রসাদ লাভ করি,,,আমি ওর চে তবু ভাল আছি।
৩৪) ক্যাসান্দ্রা
রাফখাতায় পড়ন্ত বিকেলের মতো খশে পড়ছে অশৃঙ্খল শব্দগুলো
ইস্তাহার-ম্যেমোরেণ্ডামে শুধু দিচ্ছে মিছিল
পরিবর্তন করে রাজসাক্ষী নতুন ইতিহাসে,
কারাগারে পুলিশ রাজপথে নেতারা ধর্ণায় অজুহাত,
বহুগামিতার কারণে, উচ্ছৃঙ্খলতার কারণে
একের পর এক গড়ছে পতিতাপল্লি রাষ্ট্রের বুকে।
আমার সুইসাইড নোটে থাকবে রাষ্ট্র তথা সেইসব ছেলে মেয়েদের কথা
মানসিক বিকারগ্রস্তদের কথা, যারা লুটছে-----
পীড়নের দায়ে ফাঁসির দাবি জানাই !
৩৫) ঈশ্বরের মৃত্যু হয়েছে ----
যুগে যুগে ঈশ্বর জন্মায়
কালের বেলায় ওবেলায় আবার মরে যায়
দরিদ্র মানুষের ঘরে কিবা ক্ষুধার্তের ভাত ভাত শব্দ ফায়ারে
সোমালিয়া, আফগান,আরাকান কিবা সুদানের গলিতে
মরতে দেখেছি কত ঈশ্বরকে
রক্তে ঐশ্বী বাণী নিয়ে দাঙ্গার কোন রাতে যুদ্ধের হুংকারে।
মন্দির, মসজিদ, প্যাগোডায় কত মরেছে ঈশ্বর
কিম,স্যুকি,বাগদাদি রা এখন ইয়ার
ঈশ্বর তো সম্পদ কিবা পুঁজির হাতিয়ার !!
আজ মরে গেছে
মমি হয়ে মৃত মিশরের পিরামিডে,হেরা-শাবরিমালায়
নীল নদ , টাইগ্রীস,সাঙ্গু,নাফ নদীর তীরে
কত ভেসেছে, দেখেছি
মৃত মায়ের স্তন টানছে ফুটপাতে
ক্ষুধার্ত ঐ শিশুটি
দেখেছি লাশের স্তুপে মাছির সাথে
শেষ মৃত্যু পাঞ্জা লড়তে !!
আমিও পাল্টাতে চাই---
ক্ষুধা থেকে বড় ধর্ম আর অন্ন থেকে বড় ঈশ্বর থাকলে।
৩৬) রক্তিম অ আ ক খ
অতঃপর বুঝলাম
আমার পরিচয় গোপন রাখার তথ্য,
শ্বাসের দৈর্ঘ্য মেপে হৃৎপিণ্ডের ধুক ধুকানি
প্রতিদ্বন্দ্বীরা এখন মেরুকরণের পাটাতনে
উল্টো পুরাণ, হাতে কলমে সবকিছুতেই
বর্ণমালার শব্দ মিছিল। আর প্লাস্টিকের ঘোরপ্যাঁচে
বুকের রক্ত ঢেলেছি ষ্ট্রিটে
যুথিবদ্ধ শব্দ উচ্চারণে।
ভাষা হোক উন্মুক্ত
বাতাসে ধ্বনিত রক্তিম অ আ ক খ।
৩৭) নীরবতার ক্যালিগ্রাফি
----- ওই শ্রাবন্তীর স্বর্গোদ্যানে
এখন উঁকুনদের বাস।হারিয়ে গেছে বেহিসেবি উতল বাতাস,
নির্ভেজাল জল,বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত,
মেঘমালার নির্জর সঙ্গীত,
নিঃসঙ্গ গলি আজকাল এক একটা বিস্ফোরিত রাজপথ।
মহামান্য রাষ্ট্র--
উঁচু করে রাখা ঐ কবিদের মাথার দাম কত!!?
যেগুলোর উলুধ্বনি.... শঙ্খধ্বনি শুনে
গণতন্ত্রের কথা বলে একনায়কেরা।
ভাঙা টেবিলে
শতাব্দীর শেষ প্রান্তে
দেহ থেকে ভেসে আসা নাভিকাটা আর্তনাদ
শুধু খবরের কাগজে হেডলাইন।
চিলেকোঠায় পুরোনো পোশাক
কুচকুচে কালো আঁধারে,
রাম রহিমরা মৌলবাদের জিগির তোলে
---ঐ শহরে, বন্যা আসছে
গোড়ালি ফাঁটা রক্তক্ষরণে লাল হয়ে।
৩৮) নাট্যশালার গ্রীনরুম থেকে
এবং তাদের হত্যা করা হল
ব্যস্ততার ভীড়ে,
অত্যন্ত দক্ষতার সাথে প্যাঁচানো ইন্দ্রজালে
মেয়াদ ভিত্তিক লাইসেন্স পেয়ে কসাইরা---
অবৈধ ক্ষমতার সুফলে
উলঙ্গ চোখে অন্ধ কানুন হ্যালোজেন হাতে,আজও!!
রক্তে ভাসছে আমার দেশের আঙিনা
এসেছিলাম ফিরে যাচ্ছি
বুলেটের চেয়ে মুখোশ ভয়ংকর
কি আছে আর; তরুণ তরুণীর হাতে মোমবাতি
ছাড়া।নিজের ছায়া নিজে গ্রহণ করা,
অভ্যস্থ এখন জনগন, নাট্যশালার গ্রীনরুম থেকে
নকল রাজা অট্টহাসিতে!!
৩৯) ফোঁটা ফোঁটা উত্থান
অস্তিত্ব জুড়ে শুধু বিস্মরণের বক্ররেখা
বুঝিনি এমন নিঝুম ভাষ্য,
নির্মোহ মন,আবেদন করে ট্রেন্ড
অলিখিত রোদ্দুর আর
অজানা উঠোন জুড়ে পড়ে থাকা
আঁচলস্পর্শী বিনম্র নিবেদন।
এই শহরে সন্ধ্যায় নেমে আসতেই
ত্রিযামায় লুকোনো অজানিত স্বপ্ন
মায়াবী নক্ষত্রে শুধু প্রবাসী ভাবনা।
জমাট অভিমান
নিথর রূপকথার রাজত্বে
ঠিক একপশলা বৃষ্টি!
সুতোর ম্যাজিকের মতো
ক্রমশ কমছে তার দৈর্ঘ্য,
শুধু অনন্ত অজ্ঞাত ঢেউয়ে
গতিমুখ বদলে দিচ্ছে।
৪০) একবিংশের যীশু
(কলকাতার যীশু নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী প্রয়াণে ।)
একমুঠো মিঠেল রোদ ফুটপাতে ছিল রাখা
ধার চেয়েছিলাম তার সর্দারের কাছে----
রক্ত-মাংসের অভিনয়ে নয়
পুতুল নাচের পর্দা উঠে গেলো
মূকাভিনয়ে।
মিঠেল রোদগুলো ও তাৎক্ষণিকতাতে বিশ্বাসী,
সভ্যতার প্রাচীন কাল থেকে
পাহাড়--মরু স্খলিত ট্যাটু,ভিসুবিয়াসের মতো,
বিষাদের কালো মেঘ--
বৃষ্টি নামুক এই শহরে।
লালবাতি,ফেরিওয়ালা, বাঘমার্কা ডাবল-ডেকার,কলকাতা শহর--
ষ্টেটবাসটাও ভিখারি জনতার আর্তনাদে,
বদলায় নি 'সম্পূর্ণ এক উলঙ্গ শিশুও'।
কলকাতার যীশুর কথায়-
' এখন রোদ্দুর ফের অতিদীর্ঘ বল্লমের মতো
মেঘের হৃৎপিণ্ড ফুঁড়ে'
নির্বাক শহরটা আজও আসে নাই
অগ্নিবীণার মিছিলে!