১) হাংরি জেনারেশন
জাতীয় নিরাপত্তা’ বলতে বুঝি জীবন ছাড়া
বিবেকের কাছে বেঁচে থাকার বিনিময় প্রথা
এবং যে কোন কিছুর জন্য অন্ধ ‘হ্যাঁ’ হয়ে থাকা
অশ্লীল বলে বিবেচিত হওয়া মনে,
অনুকূলতার সামনে সেজদা করতে শেখেছে
‘জাতীয় নিরাপত্তা’ বিপন্ন লবণাক্ত ঠোঁটে।
'সবচেয়ে বিপজ্জনক' কথা
শ্রম লুট শ্লোগান ধরেছে ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন।
এমনকি লোভ থেকে বিশ্বাসঘাতকতা
আর কোনো সতর্কতা ছাড়াই গ্রেফতার
এতোটা ভয়ঙ্কর হয় না
নীরবতা ভয় পায় যতটা।
নিজের ভিতর থেকে
পৃথিবীর সভ্যতায় গজিয়ে ওঠা ধাবমান ট্রেনগল্পে
ইন্টেলিকচ্যুয়েল বার্তাজীবি লিখছে 'ঘুম পাড়ানি মাসিপিসি মোদের বাড়ি এসো'।
ক্ষীণ কৃমির আলোয় পড়া
ভ্রুকুটি নিয়ে জীবনের মধ্য দিয়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে ভালো নয়,
তবু স্বমূত্র গোমূত্র স্নানজল পান করা ফোবিয়া
নিজের জন্য নিষ্ক্রিয়তায় কমিয়ে দেয়
ইচ্ছা তীব্রতার অভাবে।
সবকিছু সহ্য করতে
রুটিনের প্রাণী হয়ে ওঠা স্বপ্ন- মৃত্যু
ক্লান্ত ঝোকা কাঁধে 'উলঙ্গ রাজার কলিং বেল বাজায়
শব্দ আসে - হাংরি জেনারেশন।
২) গরীবের ক্লিওপেট্রা
স্তব্ধতার মৌন মিছিলে একটি দীর্ঘ এবং নীরব রাস্তা
তবু হাঁটো, ট্রেপে পড়ো ;আওয়াজ তো আসবেই
ওঠো আর অন্ধভাবে পদক্ষেপ নাও
কিন্তু এখন বুলডোজার সাম্রাজ্য
যেখানে ছাদ ভাঙে আমার দেশ
যেখানে নিঃশব্দ পাথর আর শেকড় ছেঁড়ে আমার দেশ,
ভয় আর কংক্রিট মিক্সার যৌন উত্তেজনায় ক্ষুধা মেটায়
বংশের চিরাগ জ্বালিয়ে,
দেখি নতুন ইতিহাসবিদ গর্বমুখে।
থালা আর বাটিতে লাভ কোথায়
দুবার রাসনের চাল মিলে তবু অভাবীরা বলে তেল দাও
অদ্ভুত ইশারায় পৃথিবী
দৌড়ে দৌড়ে ঘুরছে শুকনো জিহবাটা নামিয়ে
চিৎকার দিয়ে বলে
সবকিছু কালো, প্রস্থান কর...!
এবং ভুনা গোস্ত আর রেড ওয়াইন
নীল পৃথিবীর রাস্তায় নিয়ে যায়
ভালোবাসা ছেড়ে আদিমতার এক ফ্লোক কনসার্টে,
যেখানে কেউ আমার অপেক্ষা করে না,অনুসরণ করে না,
আছে কিছু হ্যাংলা মানুষ।
৩) পৃথিবীর মুখ
( চে গুয়েভারা কে মনে রেখে )
থেকেছ আর বীরের মতো লড়াই করেছ
একা মরার শব্দ নেই, কিন্তু চে'তনার কোন মৃত্যু নেই
অক্লান্ত গিরিখাত বা খাদে সত্তার প্রাচীন টুকরো আছে,
তবু পৃথিবীর মুখ কেঁপে যায়,আমায় ভয় দেখিয়ে।
আমাকে সরিয়ে দিয়ে বলে উচ্ছৃঙ্খল চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়না
আমার মধ্যে রয়েছে তিনটি উপাদান: ভয়, অপমান, মৃত্যু
একটি ঝাপসা ছবি আর অপেক্ষা করা
এবং যাকে আমরা প্রেম বলি!
সেই তৃতীয় শ্রেণীর ইন্টারলকার, যা বেঁচে থাকার বিনিময় তৈরি করেছে,
মূল্যটা যুদ্ধ দিয়ে।
মাথার খুলির ভিতরে তাকিয়ে দেখো
আমি এক দুঃসময়ের যুবক,
যার হাসিতে নেমে আসে ধ্বংস, ব্লক জীবন নিয়ে
এখন খুব ধীরে ধীরে লোমগুলো কালো থেকে সাদার পথে,
চোখের গোলাগুলিতে, এখন শুধু খালি সকেট
যার চোখ দেখেছে
পৃথিবীর মুখ।
যার ঠোঁটে একবার চুমু খেয়েছিল
টর্চলাইটের আলোতে একা একজন মহিলা।
মৃত্যু একটি কবিতা, একটি সময়ের গান
একজন সৈনিকের মৃত্যু হল- ফাঁক গল্প,
যারা তাকে একবার ভালোবাসতো তাদের জন্য ট্র্যাজেডি,
যারা গণনা করতে চেয়েছিলেন তাদের জন্য শুকনো সংখ্যা।
মনে রাখতে হবে মেরে ফেলা মানে মুছে ফেলা নয়।
৪) হুইস্কির একটি ফ্লাক্স ও গ্রেনেড
( ভালোবাসার কাশ্মীর )
এখনও যে চিৎকার কানে আসে না
ঢাল উজ্জ্বল থার্মোপাইলে যা গর্বিত
স্পার্টানে এখন ইম্পেরিয়াল স্বর্গরাজ্য সংজ্ঞায়িত করে
লাল জামা পরে,
গেটিসবার্গ দাসত্বের অত্যাচার- জীবন
শাম্মী কাপুরের 'ইয়া-হু' বলা বরফের উচ্ছৃঙ্খলতা হারিয়ে
হুইস্কির একটি ফ্লাক্স ও গ্রেনেড শরীরীগরম শেষে
গণকবরের মেতে ওঠা শব্দ আসছে বরাবর।
অগণিত হাজার হাজার অজানা যুদ্ধমৃত শতাব্দী নিচে
জিভ কেটে ঝুলিয়ে আছে কাঁটাতারে
যুদ্ধের অকথ্য ভাষা আমাদের মধ্যে
বীরত্বের কবিতা পরে ঘুমের দেওয়ালে কারফিউ
লকডাউন এখন প্রত্যেকটা শালায়
লিগেছি যুক্ত দেশের স্ট্যাম্পে পরিচয় গুপ্ত
ফিরিয়ে আনতে পারে, সেই হৃদয় কোথায়?
এখনও সময় আসেনি, সময় শুধু
ধোঁয়া আর ধ্বংসস্তুপ থেকে মারজানা আর ইয়াকুবরার
জিভ,দুর্লভ চোখ,যৌবন, আর কিছু হাড়, খুড়ে নেওয়ার
পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে নিয়েছে শুধু নিষ্পাপ উপত্যকা।
এখানে কবরের রাস্তায় আপেল গাছ
সাত দশকের প্রতিক্ষায় সে ---
তৃষ্ণা নেই, ক্ষুধা নেই
দাসের মতো বেঁচে থাকা, যে দড়ি দিয়ে সে বাঁধা
শুধু একটা আওয়াজ 'আমি ভালো আছি'।
৫) পুরুষফুল
মুক্তি এবং বিপ্লবের মধ্যে,
এটা সেই ক্ষুরের কিনারা কাটা রক্ত-
রাজপথে তাদের বিদ্রোহে কালো মানুষ,
পার্টি নেতাদের উৎসাহে মৃত্যু স্থবিরতায় হরিণেরা
একটি উদযাপন মাত্র, বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক।
আমার নির্ভুল আবিষ্কার
স্পন্দিত নিঃশ্বাসে আধখানা শরীর খুলে রেখে
তুলে নেয় একটি বন্দুক,আর
সমীকরণ মেলায় দর্শকদের ওমর খৈয়াম।
৬) আত্মকথন
তবু নিজেকে নিয়ে কাজ করাটা বড় কঠিন
শূণ্যে কি আর যোগ করে লাভ হয়?
কোন এক দশকের তো আর আমি কবি নই
শুধু আপাদমস্তক কবিতাময় জীবন
আমি দেশ-বিদেশ তো দূরের
করিমগঞ্জ শিলচর বা কলকাতা বা ঢাকা কেন্দ্রিক ও কোন কবি নই
আদৌ কোনো নাগরিক কবি বা রাজকবিও নই
আমি চাই শুধু এই পৃথিবীর বাসযোগ্য একটুকরো জমি
আমি নই কোন করপোরেট মিডিয়া- মদদপুষ্ট
আমার অনীহা আকাদেমি বা একাডেমির সহায়তা
রাজনৈতিক মদদপুষ্ট বুদ্ধিজীবী কবি নই
শুধুমাত্র জল, জমি, জঙ্গল জীবন চাই
মৌলবাদ বা প্রগতিশীলতার বাধাদানকারী
আমি ঘৃণা করি।
একমাত্র আমার চেতনার কম্পাসই আমার দিক নির্দেশনায় চলি
প্রয়োজন নেই আমার কোন পত্রিকায় বা সামাজিক মাধ্যমে বাহ্ বাহ্ নেবার
তাতে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই
নেই কোন পা চেটে পুরষ্কারের আসক্তি
প্রত্যাখ্যান করি তৈলমর্দন করে কারো ঠোঁটে ওঠে প্রশংসা কোড়াবার, এতে প্রবল বিতৃষ্ণা
আমি অমুক কবি তমুক কবি নই
আমি নিতান্তই এক সাধারণ মানুষ
কেউ পড়ুক বা না ই পড়ুক
কিছু বলুক বা না ই বলুক
অনুরাগে বুকে তুলে নিক বা দূরে ছুঁড়ে দিক
আমার ইচ্ছে শুধু
লক্ষ চোখের অন্তরালে আগুন ভরা স্বপ্নগুলো
আঁধার থেকে টেনে আনা।
কারণ দুর্ভিক্ষের চেয়ে অশ্লীলতা আর কিছু হতে পারে
আমার জানা নেই!
ঝাপসা আর স্বচ্ছের মধ্যবর্তী ফ্রেমে আটকা
শুধু এই
আত্মকথন।
৭) কন্ডোম আর ক্যাপাচিনো সংলাপ
প্রিয়তমা, বলেছিলে এই পৃথিবী আমাদের বাসযোগ্য হয়েছে
প্রেম শিখেছে, ঠোঁটে ঠোঁট ঘনত্ব মাপছে, শরীর বিছানা বিছিয়ে স্বপ্নাতুর ভাষায় কথা বলছে
কিন্তু প্রিয়তমা শরণার্থী চোখে
নিপীড়িত পাশাখেলার জীবনযাপন
কুম্ভীরাশ্রু দেখে শ্রেণী আর মেরুদণ্ডের ফারাক ভুলে গেছো
এটা কলেজ লাইফ নয়
হাতে হাত চোখে চোখ রেখে কথাবলা
ক্যান্টিনে অনার্স ক্লাস বাদ দিয়ে হাসিঠাট্টা,
এখানে প্রিয়তমা বাজি রেখে রেসকোর্সে ঘোড়া ছুটানো হয়।
তুমিতো জানো কিভাবে ককটেল খেতে হয়
কাছাড় ক্লাবে সেদিনের মত
গ্ল্যামার-শিল্পের আলোকসজ্জার সিন্ডিকেট
এখানে যৌন-উত্তেজনার আওয়াজটাও পুঁজিবাদী
ভয় নেই প্রিয়তমা এমন দিন এনে দেবো
ভুলে যাবে -যত গণহত্যার অশ্লীলতাকে,
শিল্পের বাস্তবতায় প্রতি রাতে ধর্ষণকে,
উপোস থাকার যন্ত্রণাকে,
বেকারত্বের অভিশাপ থেকে,
এ লড়াই তোমার আমার,
এ লড়াই বাঁচার লড়াই,
এই লড়াইয়ে জিততে হবে...
শুধু একটি কাজ তোমায় দিলাম প্রিয়তমা
ঝান্ডার রঙ যদি ফিকে হয় রক্তে রাঙিয়ে দিও।
৮) সিনোটাফ
আমি তোমাকে আরো ভালোবাসি
মাংস এবং হাড়ের চেয়ে, শুধুমাত্র সত্য বলে
আমাতে তোমার আকৃতি খোঁজে পেয়ে
আর যদি বলি, ভালোবাসি বল,
ভালোবাসি তোমার মুখ,
পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত
আড়ালে যে তোমার চোখ ছুঁয়ে যায়
প্রেমের প্রদীপ হয়ে!
আর আমার
আসলে কোন চোখ নেই আছে দুটো জোনাকির আলো
খোঁজে পায় নিঃশর্ত গহীন হৃদয়ে।
আমার ভেতরে যা আছে ভালোবাসা
তোমার হাসি, এবং তোমাকে ধরে রাখা
সেই প্রিয় অংশের কাছাকাছি থাকতে
হাতড়ে বেড়াই ক্যানভাসের ছবি হয়ে।
সিনোটাফে
আমার প্রতিদিনের প্রয়োজন, তুমি
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত।
যেন তুমি
ফিলিস্তিন থেকে কাশ্মীর, আথের জিয়া থেকে মাহমুদ দারবিশ
দুনিয়া শরীরী আকর্ষণ – এইখানে।
৯) হিমুর ভুবন
এবং ছায়ার মত দূরে বিবর্ণ হয়ে আছি
কয়েক বছর আগে এই সব ছিল স্বপ্নের মতো
আমি যেখানে ছিলাম সেখান থেকে শুরু করেছি আবার
কয়েক বছর আগেও আমার অস্তিত্ব কেউ জানত না
যেভাবে এটি শুরু হয়েছিল
বর্তমানের কাছে ফিরে এসেছি এখন তারা জানে
একটি শিশু থেকে একটি কিশোর যেভাবে বড় হয়
আমার যেভাবে হওয়া উচিত সেভাবেই করছি
এক মুহুর্তের জন্য বিরতি এবং তারপর একটি ঠাঁই
আজ এখানে আছি
আর ছায়ার মত আমি বিবর্ণ।
গান দিয়ে শুরু তারপর আবার কবিতায়
জ্যামিতির মত লাইন যে সব
আমার মতো জীবন ফিরিয়ে দিতে চায়।
অনেক প্রশ্ন ছিল আমার দাঁড়ানো নিয়ে
আমি অভদ্র ছিলাম না, ভালোও ছিলাম না
ওরা যেভাবে ভালো শব্দের উদাহরণ দিয়ে থাকে!
১০) নীলজলে নৌকা
তোমার কোমল মুগ্ধতা
সকালের সোনা রোদের মতো
এটি চায় কাছে এসে জড়াতে, এক অদ্ভুত ইশারায়
জানালা খুলে দেই সেই মুগ্ধতা আরও ভেসে আসে
স্প্যানিশ গিটারের ক্লাসিক্যাল হয়ে।
যেন মনোযোগ আকর্ষণ করা তোমার
বিমূর্ত শিল্পের বাস্তবতায় মূর্ত আকাঙ্খা,
শেষ থেকে শেষ পর্যন্ত ঠোঁটে হাসি
বিকেলে সূর্য, বইপড়া, একটি অবিশ্বাস্য কথোপকথন
এবং প্রচুর হাসি একটি কৌতূহলী শিশুর চোখ
কল্পনার ইচ্ছেডানা আলগে রেখে
তুমি যা চাও, তা উন্মুক্ত হওয়ার স্বাধীনতা।
তোমার নীলজলে আমার নৌকা
ডোবাবো কীভাবে, গভীর শ্বাস ফেলে খোঁজে পাই শরীরী মানচিত্র,
কমে আসে ওষ্ঠের দূরত্ব
পড়ে থাকে শুধু পরিভাষাহীন
মৃগতৃষ্ণায় নগ্ন বুক।
১১) ম্যানিফেস্টো
দীর্ঘ একটা সময় নেই তবে এতে অবাক হওয়ার কিছু নয়
পৃথিবীতে আসতে আর কতক্ষন
সময় লাল রঙ ফিকে হলে রক্ত ঢেলে দেয়ার
পরজীবিরা তো বাধা দেবেই, আগামীর দ্বারপ্রান্তে স্যাটেলাইট বিক্রির রমরমা ব্যবসা এখন
পৃথিবীর গলাটিপে পাড়ি জমাবে বর্হিগ্রহে।
প্রেম-গোপনতায় শব্দচাষিরাও পুঁজির তল্লাশে
কলম ধার নেয় সত্তাকে রূপান্তর করে
তবু হ্যাংলা চোখে পোঁদপোছা উপন্যাস লেখে
জব কার্ডের হ্রদ খোদা বিশ্ব বীজ।
লন্ঠন হাতে ঝিমিয়ে থাকা শহর
ব্রেনগুলো ড্রেন থেকে তুলে
ম্যানিফেস্টো পড়।
১২) আমার ঔপনিবেশিকতায়
এপিটাফের কারুকার্য বারবার প্রমাণিত করে
সুরের আড়ালে ক্ষয়ের আর্তনাদ,
শ্রেণীসাপেক্ষ নীরবতায় আহা ভেসে থাকা
ঔপনিবেশ কথোপকথন
একটু দূরত্ব রাখে
বর্ণমালার আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বক্তব্য অনুযায়ী
শ্রদ্ধাবনত স্তোত্র পাঠ করে।
শহিদ মিনার,ভাষা শহিদ স্মৃতিসৌধ, ভাষা শহিদ স্টেশন
ধূলোবালি ঝেড়ে মাকড়ের জাল মুছে রঙ পড়ে প্রতিবার
ফিরে পায় নতুন উদ্যম, শপথ নেয় একটি সত্তাকে জাগ্রত করার, আমি পারি!
দিনশেষে অজ্ঞান উলঙ্গ জলভেজা হয়ে
ফিরে যাই পৃথক ক্ষেত্রসীমায়,
ব্যুরো রিপোর্ট তদন্তে
নিজেকে খুব ছোট্ট প্রাণহীন মাছ মনে হয়!
১৩) ভিড়ের মধ্যে তার মুখ দেখেছি
ভিড়ের মধ্যে তার মুখ দেখেছিলাম,
তার চোখে গর্বের যৌবন-ভেদন ইস্পাত এর ঝলক
যা
বিশ্বকে জাগ্রত করার দৃঢ়প্রতিজ্ঞায়
মে দিবসে।
শ্রমিকের ক্লান্ত জামায়
প্রতিরোধ ও ভালোবাসার গোলাপ শুকায়
এই দিনে প্রতিরোধের প্রতীক রূপে,
সে রেড স্কোয়াডে অন্যদের সাথে মিছিল করে,
আমি আমার দেশে তার মত আর দেখিনি!
তার সাহস গোলাপের মতো বিরল।
এখন আমাদের অসন্তোষের বসন্ত
ধারাভাষ্যকার মানুষ সে ছিল ঠিকই
ঈশ্বর চেহারা খোঁজার চেষ্টায় জেলভরে সে,
দেয়াল লিখনের শব্দ মিছিলে, এখন
হাতরিয়ে উঠে আসে স্নিগ্ধময় নগ্ন কবিতা।
১৪) বেঁচে থাকা ফ্লুরোসেন্ট রোদে
পৃথিবীর বুকে এতো হাঁটাহাঁটি করেও
একটু ঘুমোনোর জায়গায় মধ্যাকর্ষণে ঝুলে যাই
তবুও সেখানে আমার শরীরটা ছেড়ে দিতে সাধ হয়
যেখানে সামান্য সেঁকা রুটি অবশিষ্ট ছিলো।
মতবাদ দিওনা বন্ধু এখানে নৈঃশব্দ্য, হিরোশিমার জেনেটিক্যাল ফিউশন। তবু পৃথিবীর মুখ নিঃসঙ্গ ব্ল্যাকহোলে টাইট্রন থেকে প্রক্সিমা পর্যন্ত জীবনানন্দ কলিং বাজায় ইস্কাপনের রাজা। আর দেরি হলে প্রাচীরের অর্থহীন অবরোধে লিখা হবে ইতিহাস তোমার! পৃথিবীর প্রাক্তনভাগে আমরা বেঁচে ছিলাম ক্ষুধায়। আবার লিখা হবে নয়াগণতন্ত্র।
১৫) মাহমুদ দারবিশের মৃত্যু
আমি আমার প্রতিবেশী শিল্পীকে বলি: অস্ত্র আঁকো না,
এবং অপেক্ষা করো, যদি না হতে পারো তুমি লেখক!
মাহমুদ দারবিশ
মাহমুদ দারবিশ তার কোনো মৃত্যু নেই,
তিনি শব্দ ও জলের অমর পাত্র
ফিলিস্তিনের,
তার মুখ, তার অঙ্গভঙ্গি ইতিহাসে আবির্ভূত হয়েছে,
অলিভ গাছের কাঠে,
আল-বিরওয়া গ্রামে প্রতিধ্বনিত তার প্রতিদিনের কণ্ঠে,
রামাল্লার রাস্তায় যেখানে বিক্রেতারা
তার প্রশংসায় গান গায়।
১৬) কুশিয়ারার পরিষ্কার আকাশে মেঘ
নীলের মধ্যে মেঘগুলোকে খুব সুন্দর লাগছে
ভেসে যায় দেখি কুশিয়ারার অবাধ আকাশে
শীতল বাতাসের জন্য চাওয়াটুকু তার অবাধ স্বাধীনতা
যেন অনেক উঁচুতে ওঠার চেষ্টায়....।
নির্ধারিত ভাবে আকাশ আর গিরগিটির পোশাক বদলে শীতকালের সকাল আর গ্রীষ্মের দুপুরে ডাহুক পাখির ডাকে। সময়ক্ষণটির ছায়ার পিছনে আবদ্ধ হয়।
ডাকছে আর ভাঙছে শীততাপনিয়ন্ত্রিত ঈষদুষ্ণ শরীরী কারু-কোষ ।
রাতের নক্ষত্রখচিত আকাশ। জোৎস্নার শব্দহীন উল্লাস। ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে তার কত রূপে রঙিন হয়ে। আবছায়া হয়ে আছে ক্লান্ত ছবি, তীব্র আন্দোলন, মায়াবী আকর্ষণ। যানজট পেরিয়ে চাঁদ ন্যুড সোসাইটির সিলগালাতে খোঁজে পায় তার জোৎস্না।
১৭) হাফলং এ প্রশ্ন করা এক বনসাই বৃক্ষ
আসলে এই গোলকটা প্লুটোনিয়াম ঘেঁষা
ব্যালকোনির শোভা বর্ধনে ঠিক বিশাল বট বৃক্ষের বনসাইয়ের মতো। টবে বার্ধক্য রোধে করণীয় কি সে বিষয়ে
এখন রীতিমতো অনুসন্ধান চলছে তার, গবেষণাগারে
জন্মপত্র থাকলে বয়স হয়তো পাহাড়ের আয়তন ও ঝাটিংগার জল্পনা ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতো !
হিলিয়াম ভরে দেওয়া স্তন পড়ে থাক আ'ম-মানুষে…
গাছ উড়ে যায় বনসাই হয়ে
বৃদ্ধ হয়
এপাশে ভ্যাম্পায়ার ওদিকে ড্রাকুলা
তাদের পাশ ঘেঁষে দজ্জাল
তৃতীয় চক্ষু-স্ফুরণে বিশ্বাস জন্মায়
আমিই খোদা!
নীরব দ্রোহে কাল্পনিক প্রেমিকারা —
তারা মাঝে মাঝে উপস্থিতি ফেলে যায়
আমার পাশে ছোট রেস্তোরাঁর টেবিলে
আর মলিন এন্টারটেইনার বনসাই বৃক্ষ
মোলায়েজের গানে দূরের পৃথিবীতে ডুবে গেছে
শুধু তার পাওনা ছিল পাহাড় কে জড়িয়ে ধরবার।
১৮) পাবলো নেরুদার জন্ম
নেরুদা, ভেজা মাটিতে তোমার কবর থেকে,
যেখানে তুমি এখন ঘুমাও, তোমার কবিতা মুখস্ত ও উচ্চারিত হয়
মহাবিশ্বের ইতিহাসের মতো--
স্মৃতিস্তম্ভের সেই মহান স্ল্যাগগুলো,
জনগণের মধ্যে এখানে-সেখানে উঠছে,
যেখানে তুমি প্রাচীন চিলি থেকে এসেছিলে।
আমি কি তোমাকে ভুলতে পারি,
এমনকি শব্দ ছাড়াই, তুমি প্যারালে জন্মেছিলে,
যেখানে প্লাম গাছ, প্লাজা আর রেলপথ
পৃথিবী জুড়ে দেখা যায়,
প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে বরাবর রেশম ফিতায়।
জুলাইয়ের উত্তপ্ত আলোড়নের মধ্যে এই দিনে,
যেমন মার্কিন আগ্নেয়গিরির মতো বিস্ফোরিত হয়
তার মানুষের রক্ত দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে
দেশ জুড়ে লাভার মত,
নৃশংস গণহত্যায় ভেঙে পড়েছে তাদের ‘অসাধারণ’ জীবন,
ভ্রাতৃহত্যা এবং কোভিড প্লেগে,
পাবলো নেরুদা, আমি তোমার জন্মকে সম্মান করি,
তোমার জীবন যা মানুষের ভাষা তৈরি করেছে,
আগুন, পাথর এবং জলের সেই ভাষা
আমারও জীবন জ্বালানো,
তোমার আমেরিকা কবিতা যা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল---
অন্ধকার ধ্বংসাবশেষে তারা দেখতে পায়
ডোরাকাটা দাগে ।
আমার কথাগুলো তোমার শরীরের সূর্যালোকিত মুক্তো ভালোবেসে, গোলমাল চরিত্রগুলো দেখে ঠিক বোঝতে পারি, সিংহ এখন দাঁত দেখায় কেনো?
তোমার কবিতা লাল সুতোয় বোনা জামা
উপহার দিয়েছে আমায়।
১৯) জাল দৃশ্যকল্প
জাল দৃশ্যকল্প,
সর্বত্র
প্রতিটি মুখেই হাসি লেগে আছে
ক্যামোফ্লেজে আক্রান্ত আত্মায়
শুধু দুহাতে ধরতে চায় এই গোলার্ধ
অথচ এই আকাশ থেকে একফোঁটাও বৃষ্টি হয় না,
অপরমাণুতে বিভক্ত পৃথিবীর বায়ুহীন ফুসফুসে
সাধারণত মিথ্যা বলা হয়ে থাকে।
মাঝে মাঝে মন খারাপ হয়।
যা কিছুই নয়, শুধু
অলসতা?
মূর্দাকে যতই ডাকো
বার্মীকম্পোজ ছিটাও, গণিতের নিয়ম মেনে
সে কি আর মুঠি তোলে
অস্তিত্বের মহীরুহে হলদে গোলাপ ফোঁটা ছাড়া,
মানুষ তার পছন্দকে
ফ্ল্যাক্সিবেল এপয়েন্টমেন্টে চায় করুণাময় ঈশ্বরের কাছে,
ভরসা হারায়, শুধু শান্তনা দেয় জাল দৃশ্যকল্পে।
এই কবিতা শেষ হওয়ার পর,
তুমি কি আবার জিজ্ঞেস করবে,
"কেমন ছিলে?"
২০) কবিতা এবং শূন্য থেকে মহাবিশ্ব
দেখলেই কি আর সব দেখা হয়ে যায়
রয়েছে আকাশগঙ্গা থেকে পৃথিবীর সঙ্গম পথ
তুমি কে । অপহরণ কবিতা
নাকি র্যাঁবো, সে এক বিশাল ইতিহাস।
এখানে যখন সূর্য ক্লান্ত হয়
বদলেয়ার,মাতিস সবুজ রেস্তোরাঁয় গড়ে
কবিতার নকশা ;
শুধু আমি টক্সিন প্রেমে, চলি
নরকে ঋতু পর্যবেক্ষণ।
সাম্রাজ্যিক ইন্দ্রজালে
কবিতারা ও জানে
'হিউম্যান ল্যান্ডস্কেপ ফ্রম মাই কান্ট্রি'।
২১) তিনটি মুখ
ফিরে যাই পৃথক ক্ষেত্রসীমায়
দিন দিন বৃষ্টি নামে, এক একটা ফোটা ঘেঁষে
অঙ্কুরহীন শরীরী অরণ্যে
এই অরণ্য, মনের শূন্য লোকালয়
ঘাস নেই পাখি নেই
আছে ঘর তবু স্বাদ নেই।
বুক জুড়ে চাষ হয় নীল সমুদ্র
জীবন ভাসিয়ে চলা ছায়ায় মাছেরা সাঁতার কাটে
ফুলকায় খবরাখবর রাখে
শরীরে শরীর মিলে
কী পরিপক্কতা পায় ?
কারণ, একটা সূর্যাস্ত একটা জীবনের মৃত্যু
নীবিড়তা পেরিয়ে নাভিশ্বাস শব্দ শোনা পৃথিবী
বেঁচে থাকে প্লাটফর্ম মানুষ হয়ে।
২২) আরও একবার
আমাদের কবে সর্বনাশ হয়ে গেছে
সাহস ভরো বন্ধু
উত্তেজিত হও অনিবার্য বিপ্লবের জন্য
প্রস্তুতি, শুরু করে দাও
প্রজ্জ্বলিত ক্রোধ নিয়ে
দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে যেভাবে রুখে দাঁড়ায়
আক্রান্ত দুর্বল
বিধ্বস্ত জাহাজ যাত্রীরা
আঁকড়ে ধরে ভাসমান পাটাতন
তেমনি একাগ্রতা নিয়ে
আসন্ন বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নাও।
তোমার শত্রু
যে কথা বলতে ভয় পায়
যে পুঁজিপতি সাপের মত পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে
সম্পদ লুট করে
ভালোবাসতে গিয়ে মিথ্যা কারণ ছড়ায়
প্রস্তুতি বুকে নাও সিন্ধুর চেতনা নিয়ে
তোমার কন্ঠে বাজুক
নয়া অরণ্যের গান।