Friday, June 3, 2022

ম্যা নি ফে স্টো



১) হাংরি জেনারেশন

জাতীয় নিরাপত্তা’ বলতে বুঝি জীবন ছাড়া
 বিবেকের কাছে বেঁচে থাকার বিনিময় প্রথা 
 এবং যে কোন কিছুর জন্য অন্ধ ‘হ্যাঁ’ হয়ে থাকা
 অশ্লীল বলে বিবেচিত হওয়া মনে,
অনুকূলতার সামনে সেজদা করতে শেখেছে
‘জাতীয় নিরাপত্তা’ বিপন্ন লবণাক্ত ঠোঁটে।
 'সবচেয়ে বিপজ্জনক' কথা
 শ্রম লুট শ্লোগান ধরেছে ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন।
 এমনকি লোভ থেকে বিশ্বাসঘাতকতা
 আর কোনো সতর্কতা ছাড়াই গ্রেফতার
 এতোটা ভয়ঙ্কর হয় না
 নীরবতা ভয় পায় যতটা।

নিজের ভিতর থেকে
পৃথিবীর সভ্যতায় গজিয়ে ওঠা ধাবমান ট্রেনগল্পে
ইন্টেলিকচ্যুয়েল বার্তাজীবি লিখছে 'ঘুম পাড়ানি মাসিপিসি মোদের বাড়ি এসো'।
 ক্ষীণ কৃমির আলোয় পড়া
 ভ্রুকুটি নিয়ে জীবনের মধ্য দিয়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে ভালো নয়,
 তবু স্বমূত্র গোমূত্র স্নানজল পান করা ফোবিয়া
 নিজের জন্য নিষ্ক্রিয়তায় কমিয়ে দেয় 
 ইচ্ছা তীব্রতার অভাবে।

সবকিছু সহ্য করতে
রুটিনের প্রাণী হয়ে ওঠা স্বপ্ন- মৃত্যু
ক্লান্ত ঝোকা কাঁধে 'উলঙ্গ রাজার কলিং বেল বাজায়
শব্দ আসে - হাংরি জেনারেশন।

২) গরীবের ক্লিওপেট্রা

স্তব্ধতার মৌন মিছিলে একটি দীর্ঘ এবং নীরব রাস্তা
তবু হাঁটো, ট্রেপে পড়ো ;আওয়াজ তো আসবেই 
ওঠো আর অন্ধভাবে পদক্ষেপ নাও
কিন্তু এখন বুলডোজার সাম্রাজ্য
যেখানে ছাদ ভাঙে আমার দেশ
যেখানে নিঃশব্দ পাথর আর শেকড় ছেঁড়ে আমার দেশ,
ভয় আর কংক্রিট মিক্সার যৌন উত্তেজনায় ক্ষুধা মেটায়
বংশের চিরাগ জ্বালিয়ে,
দেখি নতুন ইতিহাসবিদ গর্বমুখে।

থালা আর বাটিতে লাভ কোথায়
দুবার রাসনের চাল মিলে তবু অভাবীরা বলে তেল দাও
অদ্ভুত ইশারায় পৃথিবী
 দৌড়ে দৌড়ে ঘুরছে শুকনো জিহবাটা নামিয়ে
চিৎকার দিয়ে বলে 
 সবকিছু কালো, প্রস্থান কর...!

এবং ভুনা গোস্ত আর রেড ওয়াইন
 নীল পৃথিবীর রাস্তায় নিয়ে যায়
ভালোবাসা ছেড়ে আদিমতার এক ফ্লোক কনসার্টে,
যেখানে কেউ আমার অপেক্ষা করে না,অনুসরণ করে না,
আছে কিছু হ্যাংলা মানুষ।

৩) পৃথিবীর মুখ
( চে গুয়েভারা কে মনে রেখে )

থেকেছ আর বীরের মতো লড়াই করেছ
একা মরার শব্দ নেই, কিন্তু চে'তনার কোন মৃত্যু নেই
অক্লান্ত গিরিখাত বা খাদে সত্তার প্রাচীন টুকরো আছে,
তবু পৃথিবীর মুখ কেঁপে যায়,আমায় ভয় দেখিয়ে।
আমাকে সরিয়ে দিয়ে বলে উচ্ছৃঙ্খল চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়না
 আমার মধ্যে রয়েছে তিনটি উপাদান: ভয়, অপমান, মৃত্যু
 একটি ঝাপসা ছবি আর অপেক্ষা করা 
 এবং যাকে আমরা প্রেম বলি!

সেই তৃতীয় শ্রেণীর ইন্টারলকার, যা বেঁচে থাকার বিনিময় তৈরি করেছে,
 মূল্যটা যুদ্ধ দিয়ে।
মাথার খুলির ভিতরে তাকিয়ে দেখো
 আমি এক দুঃসময়ের যুবক,
যার হাসিতে নেমে আসে ধ্বংস, ব্লক জীবন নিয়ে
এখন খুব ধীরে ধীরে লোমগুলো কালো থেকে সাদার পথে, 
চোখের গোলাগুলিতে, এখন শুধু খালি সকেট
 যার চোখ দেখেছে
পৃথিবীর মুখ।
 যার ঠোঁটে একবার চুমু খেয়েছিল 
 টর্চলাইটের আলোতে একা একজন মহিলা।

 মৃত্যু একটি কবিতা, একটি সময়ের গান
 একজন সৈনিকের মৃত্যু হল- ফাঁক গল্প,
 যারা তাকে একবার ভালোবাসতো তাদের জন্য ট্র্যাজেডি,
 যারা গণনা করতে চেয়েছিলেন তাদের জন্য শুকনো সংখ্যা।
মনে রাখতে হবে মেরে ফেলা মানে মুছে ফেলা নয়।

৪) হুইস্কির একটি ফ্লাক্স ও গ্রেনেড
     ( ভালোবাসার কাশ্মীর )

 এখনও যে চিৎকার কানে আসে না
 ঢাল উজ্জ্বল থার্মোপাইলে যা গর্বিত
 স্পার্টানে এখন ইম্পেরিয়াল স্বর্গরাজ্য সংজ্ঞায়িত করে
 লাল জামা পরে,
গেটিসবার্গ দাসত্বের অত্যাচার- জীবন
শাম্মী কাপুরের 'ইয়া-হু' বলা বরফের উচ্ছৃঙ্খলতা হারিয়ে
হুইস্কির একটি ফ্লাক্স ও গ্রেনেড শরীরীগরম শেষে
গণকবরের মেতে ওঠা শব্দ আসছে বরাবর।

অগণিত হাজার হাজার অজানা যুদ্ধমৃত শতাব্দী নিচে
জিভ কেটে ঝুলিয়ে আছে কাঁটাতারে
 যুদ্ধের অকথ্য ভাষা আমাদের মধ্যে
 বীরত্বের কবিতা পরে ঘুমের দেওয়ালে কারফিউ
লকডাউন এখন প্রত্যেকটা শালায়
লিগেছি যুক্ত দেশের স্ট্যাম্পে পরিচয় গুপ্ত 
 ফিরিয়ে আনতে পারে, সেই হৃদয় কোথায়?

 এখনও সময় আসেনি, সময় শুধু
ধোঁয়া আর ধ্বংসস্তুপ থেকে মারজানা আর ইয়াকুবরার
জিভ,দুর্লভ চোখ,যৌবন, আর কিছু হাড়, খুড়ে নেওয়ার
পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে নিয়েছে শুধু নিষ্পাপ উপত্যকা।

এখানে কবরের রাস্তায় আপেল গাছ
সাত দশকের প্রতিক্ষায় সে ---
তৃষ্ণা নেই, ক্ষুধা নেই
দাসের মতো বেঁচে থাকা, যে দড়ি দিয়ে সে বাঁধা
শুধু একটা আওয়াজ 'আমি ভালো আছি'।

৫) পুরুষফুল

মুক্তি এবং বিপ্লবের মধ্যে,
এটা সেই ক্ষুরের কিনারা কাটা রক্ত-
রাজপথে তাদের বিদ্রোহে কালো মানুষ,
পার্টি নেতাদের উৎসাহে মৃত্যু স্থবিরতায় হরিণেরা 
একটি উদযাপন মাত্র, বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক।
আমার নির্ভুল আবিষ্কার
স্পন্দিত নিঃশ্বাসে আধখানা শরীর খুলে রেখে 
তুলে নেয় একটি বন্দুক,আর
সমীকরণ মেলায় দর্শকদের ওমর খৈয়াম।

৬) আত্মকথন

তবু নিজেকে নিয়ে কাজ করাটা বড় কঠিন
শূণ্যে  কি আর যোগ করে লাভ হয়?
কোন এক দশকের তো আর আমি কবি নই

শুধু আপাদমস্তক কবিতাময় জীবন

আমি দেশ-বিদেশ তো দূরের
করিমগঞ্জ শিলচর বা কলকাতা বা ঢাকা কেন্দ্রিক ও কোন কবি নই

আদৌ কোনো নাগরিক কবি বা রাজকবিও নই
আমি চাই শুধু এই পৃথিবীর বাসযোগ্য একটুকরো জমি 

আমি নই কোন করপোরেট মিডিয়া- মদদপুষ্ট 
আমার অনীহা আকাদেমি বা একাডেমির সহায়তা
রাজনৈতিক মদদপুষ্ট বুদ্ধিজীবী কবি নই 

শুধুমাত্র জল, জমি, জঙ্গল জীবন চাই

মৌলবাদ বা প্রগতিশীলতার বাধাদানকারী
আমি ঘৃণা করি।

একমাত্র আমার চেতনার কম্পাসই আমার দিক নির্দেশনায় চলি
প্রয়োজন নেই আমার কোন পত্রিকায় বা সামাজিক মাধ্যমে বাহ্ বাহ্ নেবার

তাতে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই

নেই কোন পা চেটে পুরষ্কারের আসক্তি
প্রত্যাখ্যান করি তৈলমর্দন করে কারো ঠোঁটে ওঠে প্রশংসা কোড়াবার, এতে প্রবল বিতৃষ্ণা

আমি অমুক কবি তমুক কবি নই
আমি নিতান্তই এক সাধারণ মানুষ 

কেউ পড়ুক বা না ই পড়ুক
কিছু বলুক বা না ই বলুক 
অনুরাগে বুকে তুলে নিক বা দূরে ছুঁড়ে দিক
আমার ইচ্ছে শুধু
লক্ষ চোখের অন্তরালে আগুন ভরা স্বপ্নগুলো
আঁধার থেকে টেনে আনা।

কারণ দুর্ভিক্ষের চেয়ে অশ্লীলতা আর কিছু হতে পারে
আমার জানা নেই!
ঝাপসা আর স্বচ্ছের মধ্যবর্তী ফ্রেমে আটকা
শুধু এই

আত্মকথন।

৭) কন্ডোম আর ক্যাপাচিনো সংলাপ

প্রিয়তমা, বলেছিলে এই পৃথিবী আমাদের বাসযোগ্য হয়েছে
প্রেম শিখেছে, ঠোঁটে ঠোঁট ঘনত্ব মাপছে, শরীর বিছানা বিছিয়ে স্বপ্নাতুর  ভাষায় কথা বলছে

কিন্তু প্রিয়তমা শরণার্থী চোখে 
নিপীড়িত পাশাখেলার জীবনযাপন
কুম্ভীরাশ্রু দেখে শ্রেণী আর মেরুদণ্ডের ফারাক ভুলে গেছো

এটা কলেজ লাইফ নয়
হাতে হাত চোখে চোখ রেখে কথাবলা
ক্যান্টিনে অনার্স ক্লাস বাদ দিয়ে হাসিঠাট্টা,
এখানে প্রিয়তমা বাজি রেখে রেসকোর্সে ঘোড়া ছুটানো হয়।

তুমিতো জানো কিভাবে ককটেল খেতে হয়
কাছাড় ক্লাবে সেদিনের মত
গ্ল্যামার-শিল্পের আলোকসজ্জার সিন্ডিকেট
এখানে যৌন-উত্তেজনার আওয়াজটাও পুঁজিবাদী

ভয় নেই প্রিয়তমা এমন দিন এনে দেবো
ভুলে যাবে -যত গণহত্যার অশ্লীলতাকে,
শিল্পের বাস্তবতায় প্রতি রাতে ধর্ষণকে,
উপোস থাকার যন্ত্রণাকে,
বেকারত্বের অভিশাপ থেকে,

এ লড়াই তোমার আমার, 
এ লড়াই বাঁচার লড়াই, 
এই লড়াইয়ে জিততে হবে...
শুধু একটি কাজ তোমায় দিলাম প্রিয়তমা 
ঝান্ডার রঙ যদি ফিকে হয় রক্তে রাঙিয়ে দিও।

৮) সিনোটাফ

আমি তোমাকে আরো ভালোবাসি
মাংস এবং হাড়ের চেয়ে, শুধুমাত্র সত্য বলে
আমাতে তোমার আকৃতি খোঁজে পেয়ে 
আর যদি বলি, ভালোবাসি বল, 
ভালোবাসি তোমার মুখ,
পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত 
আড়ালে যে তোমার চোখ ছুঁয়ে যায়
প্রেমের প্রদীপ হয়ে!
আর আমার
আসলে কোন চোখ নেই আছে দুটো জোনাকির আলো
খোঁজে পায় নিঃশর্ত গহীন হৃদয়ে।


 আমার ভেতরে যা আছে ভালোবাসা 
 তোমার হাসি, এবং তোমাকে ধরে রাখা
 সেই প্রিয় অংশের কাছাকাছি থাকতে
হাতড়ে বেড়াই ক্যানভাসের ছবি হয়ে।

সিনোটাফে
আমার প্রতিদিনের প্রয়োজন, তুমি 
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত।
যেন তুমি 
ফিলিস্তিন থেকে কাশ্মীর, আথের জিয়া থেকে মাহমুদ দারবিশ  
দুনিয়া শরীরী আকর্ষণ – এইখানে।

৯) হিমুর ভুবন

এবং ছায়ার মত দূরে বিবর্ণ হয়ে আছি
কয়েক বছর আগে এই সব ছিল স্বপ্নের মতো
আমি যেখানে ছিলাম সেখান থেকে শুরু করেছি আবার 
কয়েক বছর আগেও আমার অস্তিত্ব কেউ জানত না
যেভাবে এটি শুরু হয়েছিল
বর্তমানের কাছে ফিরে এসেছি এখন তারা জানে
একটি শিশু থেকে একটি কিশোর যেভাবে বড় হয়
আমার যেভাবে হওয়া উচিত সেভাবেই করছি
এক মুহুর্তের জন্য বিরতি এবং তারপর একটি ঠাঁই
আজ এখানে আছি
আর ছায়ার মত আমি বিবর্ণ।

  গান দিয়ে শুরু তারপর আবার কবিতায়
  জ্যামিতির মত লাইন যে সব
  আমার মতো জীবন ফিরিয়ে দিতে চায়।
  
অনেক প্রশ্ন ছিল আমার দাঁড়ানো নিয়ে 
আমি অভদ্র ছিলাম না, ভালোও ছিলাম না
ওরা যেভাবে ভালো শব্দের উদাহরণ দিয়ে থাকে!

১০) নীলজলে নৌকা 

তোমার কোমল মুগ্ধতা
সকালের সোনা রোদের মতো 
এটি চায় কাছে এসে জড়াতে, এক অদ্ভুত ইশারায়
জানালা খুলে দেই সেই মুগ্ধতা আরও ভেসে আসে 
স্প্যানিশ গিটারের ক্লাসিক্যাল হয়ে।

যেন মনোযোগ আকর্ষণ করা তোমার
বিমূর্ত শিল্পের বাস্তবতায় মূর্ত আকাঙ্খা,
শেষ থেকে শেষ পর্যন্ত ঠোঁটে হাসি
বিকেলে সূর্য, বইপড়া, একটি অবিশ্বাস্য কথোপকথন 
এবং প্রচুর হাসি একটি কৌতূহলী শিশুর চোখ
কল্পনার ইচ্ছেডানা আলগে রেখে
তুমি যা চাও, তা উন্মুক্ত হওয়ার স্বাধীনতা।

তোমার নীলজলে আমার নৌকা
ডোবাবো কীভাবে, গভীর শ্বাস ফেলে খোঁজে পাই শরীরী মানচিত্র,
কমে আসে ওষ্ঠের দূরত্ব
পড়ে থাকে শুধু পরিভাষাহীন
মৃগতৃষ্ণায় নগ্ন বুক।


১১) ম্যানিফেস্টো

দীর্ঘ একটা সময় নেই তবে এতে অবাক হওয়ার কিছু নয়
পৃথিবীতে আসতে আর কতক্ষন
সময় লাল রঙ ফিকে হলে রক্ত ঢেলে দেয়ার
পরজীবিরা তো  বাধা দেবেই, আগামীর দ্বারপ্রান্তে স্যাটেলাইট বিক্রির রমরমা ব্যবসা এখন
পৃথিবীর গলাটিপে পাড়ি জমাবে বর্হিগ্রহে।

প্রেম-গোপনতায় শব্দচাষিরাও পুঁজির তল্লাশে
কলম ধার নেয় সত্তাকে রূপান্তর করে
তবু হ্যাংলা চোখে পোঁদপোছা উপন্যাস লেখে
জব কার্ডের হ্রদ খোদা বিশ্ব বীজ।

লন্ঠন হাতে ঝিমিয়ে থাকা শহর
ব্রেনগুলো ড্রেন থেকে তুলে
ম্যানিফেস্টো পড়।

১২) আমার ঔপনিবেশিকতায় 

এপিটাফের কারুকার্য বারবার প্রমাণিত করে
সুরের আড়ালে ক্ষয়ের আর্তনাদ,
শ্রেণীসাপেক্ষ নীরবতায় আহা ভেসে থাকা 
ঔপনিবেশ কথোপকথন
একটু দূরত্ব রাখে
বর্ণমালার আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বক্তব্য অনুযায়ী
শ্রদ্ধাবনত স্তোত্র পাঠ করে।

শহিদ মিনার,ভাষা শহিদ স্মৃতিসৌধ, ভাষা শহিদ স্টেশন
ধূলোবালি ঝেড়ে মাকড়ের জাল মুছে রঙ পড়ে প্রতিবার
ফিরে পায় নতুন উদ্যম, শপথ নেয় একটি সত্তাকে জাগ্রত করার, আমি পারি!

দিনশেষে অজ্ঞান উলঙ্গ জলভেজা হয়ে
ফিরে যাই পৃথক ক্ষেত্রসীমায়,
ব্যুরো রিপোর্ট তদন্তে
নিজেকে খুব ছোট্ট প্রাণহীন মাছ মনে হয়!

১৩) ভিড়ের মধ্যে তার মুখ দেখেছি

ভিড়ের মধ্যে তার মুখ দেখেছিলাম,
তার চোখে গর্বের যৌবন-ভেদন ইস্পাত এর ঝলক
যা
বিশ্বকে জাগ্রত করার দৃঢ়প্রতিজ্ঞায়
মে দিবসে।
                                                                                                                                         
শ্রমিকের ক্লান্ত জামায়
প্রতিরোধ ও ভালোবাসার গোলাপ শুকায়
 এই দিনে প্রতিরোধের প্রতীক রূপে,
 সে রেড স্কোয়াডে অন্যদের সাথে মিছিল করে,
 আমি আমার দেশে তার মত আর দেখিনি!
 তার সাহস গোলাপের মতো বিরল।

 এখন আমাদের অসন্তোষের বসন্ত
ধারাভাষ্যকার মানুষ সে ছিল ঠিকই
ঈশ্বর চেহারা খোঁজার চেষ্টায় জেলভরে সে,
দেয়াল লিখনের শব্দ মিছিলে, এখন 
হাতরিয়ে উঠে আসে স্নিগ্ধময় নগ্ন কবিতা।

১৪) বেঁচে থাকা ফ্লুরোসেন্ট রোদে

পৃথিবীর বুকে এতো হাঁটাহাঁটি করেও
একটু ঘুমোনোর জায়গায় মধ্যাকর্ষণে ঝুলে যাই
তবুও সেখানে আমার শরীরটা ছেড়ে দিতে সাধ হয়
যেখানে সামান্য সেঁকা রুটি অবশিষ্ট ছিলো।

মতবাদ দিওনা বন্ধু এখানে নৈঃশব্দ্য, হিরোশিমার জেনেটিক্যাল ফিউশন। তবু পৃথিবীর মুখ নিঃসঙ্গ ব্ল্যাকহোলে টাইট্রন থেকে প্রক্সিমা পর্যন্ত  জীবনানন্দ কলিং বাজায় ইস্কাপনের রাজা। আর দেরি হলে প্রাচীরের অর্থহীন অবরোধে লিখা হবে ইতিহাস তোমার! পৃথিবীর প্রাক্তনভাগে আমরা বেঁচে ছিলাম ক্ষুধায়। আবার লিখা হবে নয়াগণতন্ত্র।

১৫) মাহমুদ দারবিশের মৃত্যু

আমি আমার প্রতিবেশী শিল্পীকে বলি: অস্ত্র আঁকো না,
এবং অপেক্ষা করো, যদি না হতে পারো তুমি লেখক!
 মাহমুদ দারবিশ

 মাহমুদ দারবিশ তার কোনো মৃত্যু নেই,
 তিনি শব্দ ও জলের অমর পাত্র
 ফিলিস্তিনের,
 তার মুখ, তার অঙ্গভঙ্গি ইতিহাসে আবির্ভূত হয়েছে,
 অলিভ গাছের কাঠে,
 আল-বিরওয়া গ্রামে প্রতিধ্বনিত তার প্রতিদিনের কণ্ঠে,
 রামাল্লার রাস্তায় যেখানে বিক্রেতারা
 তার প্রশংসায় গান গায়।

১৬) কুশিয়ারার পরিষ্কার আকাশে মেঘ

 নীলের মধ্যে মেঘগুলোকে খুব সুন্দর লাগছে
 ভেসে যায় দেখি কুশিয়ারার অবাধ আকাশে
 শীতল বাতাসের জন্য চাওয়াটুকু তার অবাধ স্বাধীনতা
 যেন অনেক উঁচুতে ওঠার চেষ্টায়....।

নির্ধারিত ভাবে আকাশ আর গিরগিটির পোশাক বদলে শীতকালের সকাল আর গ্রীষ্মের দুপুরে ডাহুক পাখির ডাকে। সময়ক্ষণটির ছায়ার পিছনে আবদ্ধ হয়।
ডাকছে আর ভাঙছে শীততাপনিয়ন্ত্রিত ঈষদুষ্ণ শরীরী কারু-কোষ ।

রাতের নক্ষত্রখচিত আকাশ। জোৎস্নার শব্দহীন উল্লাস। ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে তার কত রূপে রঙিন হয়ে। আবছায়া হয়ে আছে ক্লান্ত ছবি, তীব্র আন্দোলন, মায়াবী আকর্ষণ। যানজট পেরিয়ে চাঁদ ন্যুড সোসাইটির সিলগালাতে খোঁজে পায় তার জোৎস্না।

১৭) হাফলং এ প্রশ্ন করা এক বনসাই বৃক্ষ 

আসলে এই গোলকটা প্লুটোনিয়াম ঘেঁষা
ব্যালকোনির শোভা বর্ধনে ঠিক বিশাল বট বৃক্ষের বনসাইয়ের মতো। টবে বার্ধক্য রোধে করণীয় কি সে বিষয়ে
এখন রীতিমতো অনুসন্ধান চলছে তার, গবেষণাগারে
জন্মপত্র থাকলে বয়স হয়তো পাহাড়ের আয়তন ও ঝাটিংগার জল্পনা ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতো !

হিলিয়াম ভরে দেওয়া স্তন পড়ে থাক আ'ম-মানুষে…
গাছ উড়ে যায় বনসাই হয়ে 
বৃদ্ধ হয়
এপাশে ভ্যাম্পায়ার ওদিকে ড্রাকুলা
তাদের পাশ ঘেঁষে দজ্জাল 
তৃতীয় চক্ষু-স্ফুরণে বিশ্বাস জন্মায়
আমিই খোদা!

নীরব দ্রোহে কাল্পনিক প্রেমিকারা —
তারা মাঝে মাঝে উপস্থিতি ফেলে যায়
আমার পাশে ছোট রেস্তোরাঁর টেবিলে
আর মলিন এন্টারটেইনার বনসাই বৃক্ষ
মোলায়েজের গানে দূরের পৃথিবীতে ডুবে গেছে
শুধু তার পাওনা ছিল পাহাড় কে জড়িয়ে ধরবার।

১৮) পাবলো নেরুদার জন্ম

 নেরুদা, ভেজা মাটিতে তোমার কবর থেকে,
 যেখানে তুমি এখন ঘুমাও, তোমার কবিতা মুখস্ত ও উচ্চারিত হয়
 মহাবিশ্বের ইতিহাসের মতো--
 স্মৃতিস্তম্ভের সেই মহান স্ল্যাগগুলো,
 জনগণের মধ্যে এখানে-সেখানে উঠছে,
 যেখানে তুমি প্রাচীন চিলি থেকে এসেছিলে।

 আমি কি তোমাকে ভুলতে পারি, 
এমনকি শব্দ ছাড়াই, তুমি প্যারালে জন্মেছিলে,
 যেখানে প্লাম গাছ, প্লাজা আর রেলপথ
 পৃথিবী জুড়ে দেখা যায়,
 প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে বরাবর রেশম ফিতায়।

 জুলাইয়ের উত্তপ্ত আলোড়নের মধ্যে এই দিনে,
 যেমন মার্কিন আগ্নেয়গিরির মতো বিস্ফোরিত হয়
 তার মানুষের রক্ত ​​দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে
 দেশ জুড়ে লাভার মত,
 নৃশংস গণহত্যায় ভেঙে পড়েছে তাদের ‘অসাধারণ’ জীবন,
 ভ্রাতৃহত্যা এবং কোভিড প্লেগে,
 পাবলো নেরুদা, আমি তোমার জন্মকে সম্মান করি,
 তোমার জীবন যা মানুষের ভাষা তৈরি করেছে,
 আগুন, পাথর এবং জলের সেই ভাষা
 আমারও জীবন জ্বালানো,
তোমার আমেরিকা কবিতা যা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল---
অন্ধকার ধ্বংসাবশেষে তারা দেখতে পায়
ডোরাকাটা দাগে ।

আমার কথাগুলো তোমার শরীরের সূর্যালোকিত মুক্তো ভালোবেসে, গোলমাল চরিত্রগুলো দেখে ঠিক বোঝতে পারি, সিংহ এখন দাঁত দেখায় কেনো? 
তোমার কবিতা লাল সুতোয় বোনা জামা
উপহার দিয়েছে আমায়।

১৯) জাল দৃশ্যকল্প

জাল দৃশ্যকল্প,
সর্বত্র
প্রতিটি মুখেই হাসি লেগে আছে
ক্যামোফ্লেজে আক্রান্ত আত্মায় 
শুধু দুহাতে ধরতে চায় এই গোলার্ধ
অথচ এই আকাশ থেকে একফোঁটাও বৃষ্টি হয় না,
অপরমাণুতে বিভক্ত পৃথিবীর বায়ুহীন ফুসফুসে
সাধারণত মিথ্যা বলা হয়ে থাকে।

 মাঝে মাঝে মন খারাপ হয়।
 যা কিছুই নয়, শুধু 
 অলসতা?
মূর্দাকে যতই ডাকো
বার্মীকম্পোজ ছিটাও, গণিতের নিয়ম মেনে  
সে কি আর মুঠি তোলে
অস্তিত্বের মহীরুহে হলদে গোলাপ ফোঁটা ছাড়া,
 মানুষ তার পছন্দকে
ফ্ল্যাক্সিবেল এপয়েন্টমেন্টে চায় করুণাময় ঈশ্বরের কাছে, 
ভরসা হারায়, শুধু শান্তনা দেয় জাল দৃশ্যকল্পে।

 এই কবিতা শেষ হওয়ার পর,
 তুমি কি আবার জিজ্ঞেস করবে,
 "কেমন ছিলে?"

২০) কবিতা এবং শূন্য থেকে মহাবিশ্ব

দেখলেই কি আর সব দেখা হয়ে যায়
রয়েছে আকাশগঙ্গা থেকে পৃথিবীর সঙ্গম পথ
 তুমি কে । অপহরণ কবিতা
 নাকি র‌্যাঁবো, সে এক বিশাল ইতিহাস।

এখানে যখন সূর্য ক্লান্ত হয়
বদলেয়ার,মাতিস সবুজ রেস্তোরাঁয় গড়ে
কবিতার নকশা ;
শুধু আমি টক্সিন প্রেমে, চলি 
নরকে ঋতু পর্যবেক্ষণ।
সাম্রাজ্যিক ইন্দ্রজালে
কবিতারা ও জানে
'হিউম্যান ল্যান্ডস্কেপ ফ্রম মাই কান্ট্রি'।

২১) তিনটি মুখ 

ফিরে যাই পৃথক ক্ষেত্রসীমায়
দিন দিন বৃষ্টি নামে, এক একটা ফোটা ঘেঁষে
অঙ্কুরহীন শরীরী অরণ্যে 
এই অরণ্য, মনের শূন্য লোকালয়
ঘাস নেই পাখি নেই
আছে ঘর তবু স্বাদ নেই।

বুক জুড়ে চাষ হয় নীল সমুদ্র
জীবন ভাসিয়ে চলা ছায়ায় মাছেরা সাঁতার কাটে
ফুলকায় খবরাখবর রাখে
শরীরে শরীর মিলে
কী পরিপক্কতা পায় ?

কারণ, একটা সূর্যাস্ত একটা জীবনের মৃত্যু
নীবিড়তা পেরিয়ে নাভিশ্বাস শব্দ শোনা পৃথিবী
বেঁচে থাকে প্লাটফর্ম মানুষ হয়ে।

২২) আরও একবার

আমাদের কবে সর্বনাশ হয়ে গেছে 
সাহস ভরো বন্ধু 
উত্তেজিত হও অনিবার্য বিপ্লবের জন্য
প্রস্তুতি, শুরু করে দাও 
প্রজ্জ্বলিত ক্রোধ নিয়ে
দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে যেভাবে রুখে দাঁড়ায় 
আক্রান্ত দুর্বল
বিধ্বস্ত জাহাজ যাত্রীরা 
আঁকড়ে ধরে ভাসমান পাটাতন
তেমনি একাগ্রতা নিয়ে
আসন্ন বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নাও।

তোমার শত্রু 
যে কথা বলতে ভয় পায়
যে পুঁজিপতি সাপের মত পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে
সম্পদ লুট করে
ভালোবাসতে গিয়ে মিথ্যা কারণ ছড়ায়

প্রস্তুতি বুকে নাও সিন্ধুর চেতনা নিয়ে 
তোমার কন্ঠে বাজুক 
নয়া অরণ্যের গান।

Wednesday, June 1, 2022

একটি ভালোবাসার পর.....


যুগে যুগে শতচ্ছিন্ন অবাস্তব স্বপ্নেরা
মুঠোভরা বীজমন্ত্রে শারীরিক নেশা হারায়
মনে রাখেনা সানাইয়ের সুর।
গলায় হাহাকার আর তিক্ত কঠিন জীর্ণ নূড়িপাথর
পতিত সৈন্যদের গর্ভধারণে স্মৃতিযোগ্য হয়
লুকিং গ্লাসে অক্সিজেন দেয়া  ভেন্টিলেশনে!
রুটি আর গানের সাথে, স্বপ্নকবিতা সহ,
জীবনের বিশালতা ফিতা টেনে দৈনন্দিন জরিপ চালায়
বিস্তৃত প্রত্যেকের সাথে ফুসফুস পর্যন্ত---
দ্বিতীয় ও প্রতিটি নিঃশ্বাসের সাথে, যোগ্য হতে চায় ডিমেনশিয়া রোগির মতো!

লোকেদের !
হৃদয় যখন মনে রাখেনা
সুখের দাম কি ছিল,
অনুগ্রহও করে, দাঁড়িপাল্লার কড়ায়গণ্ডায় !
গানগুলো আকাশভ্রমণে ইনহেলার নেয়া অ্যান্টিবডিতে
চলছে টু-লেট বিজ্ঞাপন দূরবীনচোখে,
তাদের সম্পর্কে, যারা গাইবে না, - মনে রাখবেনা!

অনন্ত পৃথিবীর সমস্ত সময়
ক্লাইন্ট জুটাচ্ছে স্পেসশিপগুলির তারার কাছে,
বসন্ত দেখা, পৃথিবীর সব মানুষ.
যুদ্ধ হত্যা,
অভিশাপ,
বিছানাযুদ্ধ!
বছরের পর বছর স্বপ্নবহন জীবন
অনুভব করে ধূসর ম্যানুস্ক্রীপ্ট
কিন্তু মনে রাখেনা
আগ্রাসন একতরফা হয়না,অ্যাজিত্রমাইসিন গেলার পর
বির্য পতনে শুধু পৌরুষ হারে থেকে যায় প্রীয়তমার ক্ষুধা।

Saturday, May 28, 2022

বেলা যে যায়


(১)     বেলা যে যায়
        আমিও তাই ফিরি
            সূর্যের মত।

(২)     বেলা  যে যায়
        ভালোবাসা রইল
            হৃদ মাঝারে।

(৩)   বেলা যে যায়
        ফাগুন সমীরণ
          কালবেলা তে।

(৪)   বেলা যে যায়
        তবু নীরব আঁখি
         তোমায় খুঁজি।

Wednesday, May 25, 2022

অনুগল্প : অপেক্ষা


 মলে আংটিটা দেখেই সাথে সাথে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় কবির। দ্বিতীয়বার কোনো চিন্তা না করেই কিনে নেয় ।করিমগঞ্জ এসে পৌঁছে সে। বাসস্ট্যান্ড থেকে নিজের ঘরে পৌঁছতে পৌঁছতে রাত দুটো বাজে।

এতো রাতে কী রেখাকে ফোন দেয়া ঠিক হবে!! না কাল সকালে ফোন দিয়ে বলবো আমি করিমগঞ্জে। তাছাড়া গত মাসখানেক ধরে যে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল ওর সাথে সেটা সামনাসামনি দেখা করে ডিসিশন জানিয়ে ওকে আংটিটা গিফট করব।

নিতার হাজবেন্ড মারা যাওয়ার পর একমাত্র মেয়েকে নিয়ে মায়ের সাথে থাকে। ওর একটা বেসরকারি ব্যাংকে জব

কৌশিক একা। পাঁচ বছর আগে বিয়ে করেছিল মাহীকে। বিয়ের পর কিছুদিন সুখেই কাটছিল কিন্তু হঠাৎ করেই একটা সমস্যা এসে সুখের মধ্যে কাঁটা হয়ে যায়। মাহী নেশাগ্রস্ত ছিল। প্রচণ্ড রকমভাবে হ্যালুসিনেশনে ভুগতো। সারাদিন মনের ভেতর মনগড়া কাল্পনিক গল্প ফেঁদে সেটা সত্যি মনে করে অশান্তি করতো। চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দিতো। পরিবারের সবার উপদেশ মতো একটা বাচ্চা নেয়ার পরেও ঠিক হয়নি মাহী।

কৌশিক মনে মনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছিল তাদের ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে। মাহীর বাবা-মায়ের সাথে কথা বলার পর তারা মাহীকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে আর ছেলে আদি কে লালন পালন করতে নিয়ে যায় তাদের কাছে। সেই থেকে কৌশিক একা।

বছর খানেক আগে নিতার সাথে পরিচয়। তারপর ঘনিষ্ঠতা হয়, জানাশোনা হয় দুজনের মাঝে। নিতা কোনোদিন বিয়ের জন্য কৌশিককে জোর করেনি কিন্তু কৌশিকের বাবা-মা প্রচণ্ড জেদাজেদি করছিল ছেলের সাথে।

 আংটিটা দেখেই সাথে সাথে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় কৌশিক এবার নিতাকে বিয়ের কথা বলবে।

লিংকরোডে নিতারর রুমে সন্ধ্যায় পৌঁছে যায় কৌশিক। নিতাকে খুব সুন্দর লাগছে আজ। কফি শেষ করে পকেটে হাত দেয় কৌশিক আংটিটা স্পর্শ করে। আংটিটা পকেট থেকে বের করতে না করতেই মোবাইল ফোন বেজে উঠলো।

----- হ্যালো কৌশিক রায় বলছেন?

------ হ্যাঁ ,কে বলছেন?

----- নিউ মুক্তি ক্লিনিক থেকে বলছি। আপনার সাথে একজন কথা বলতে চাইছেন।

---- হ্যাঁ, দিন।

------ কৌশিক আমি মাহী। তুমি কেমন আছো? বাবু কেমন আছে? এক বছর হয়ে গেছে তুমি আমাকে দেখতে আসোনি। প্লিজ কৌশিক একবার এসো। তোমাকে আমার খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। মিস ইউ সো মাচ।

---- আচ্ছা আমি আসবো মাহী।

কৌশিক আংটিটা পকেটেই রেখে দেয়। নিতার রুম থেকে বের হয়ে আসতে আসতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরায়। ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে সামনে আসতেই দরজা খুলে ভেতরে বসে।

----- স্যার এখন কোথায় যাবেন?

কৌশিক চমকে উঠে বলে
----- ‘চলো, হোটেল নক্ষত্রে যেতে হবে। একটা মিটিং আছে। অফিসাররা ওয়েট করছে।’

কৌশিক মনে মনে বলে

আমরা সবাই এ জীবনে কারো না কারো জন্য অপেক্ষা করি।

Friday, May 20, 2022

গর্বের রঙধনু


সাদা এবং ধূসরে এই বিশাল উদাসীনতার সাগর
জলন্ত মস্তিষ্ক উপকূলে
যদিও শিশুর হৃদয় খেলতে বাধ্য হয়,
যুদ্ধের জন্ম আর হৃদয় ছিঁড়ে যাওয়া ঘৃণাকল্পনার কাহিনী,
রসায়ন চলে প্যারাডক্সিকেল কথোপকথনে  ।
নিরপরাধ কটূক্তি - বিচ্ছেদের ট্যাগলাইনে
রক্ত ​​ঝরায় বিপথগামী পথে
এখানেই সে উদ্দীপ্ত করে আর আমি তাকে
সমান্তরাল ভালোবাসি, পুরুষতান্ত্রিক যুদ্ধ ছাড়া।

কিন্তু তারপর ........
বৈদ্যুতিক গান আর আত্মার চার্জ ভালোবাসা শেখায়,
কীভাবে গ্রহণ করবো কীভাবে কোমল হব
সবকিছু যাবতীয় বাস্তব আর স্নায়ুচরিত্রে।

আমার ক্লিভেজ শহর এখন বাধ্য চাষাবাদ ছেড়ে ধূতরোর বীজ চিবোতে।
কব্জি কেটে তার নাম ধরে ডাকলাম,
দেখি এই শহরে সূর্য ডুবে যাচ্ছে বয়সের দেয়ালে
শুধু গুগোল ম্যাপ স্ট্রিট লাইট জীবন কাটায়।

বসন্তের বিনিময়ে ভয়ের শহর নিক্ষিপ্ত আমাদের বন্দি জীবন
চোখ অশ্রুতে আমাকে কাছে রেখেছিল তার টান
যার সাহসে ছিল স্ফুলিঙ্গ।
কিলিমানজারো পর্বত শহরকে রংধনুর রঙে রাঙিয়ে দেয় ইতিহাসের উত্তরসূরীরা।

সাহসীরা নিজেদের রক্ষা করে এবং লড়াই করে
কিন্তু আমি রেখেছিলাম
ক্ষমতাহীন ছোট অন্ধকারে নিজেকে বন্দী করে,
বিচারের আযাবে গোনাহের ক্ষমতা থেকে,
 সাহসহারা গোপন ভালবাসা 
ঘর থেকে বেরিয়ে জানালা দিয়ে বাইরে দেখে,
ভয়ের শহর আর নেই।

আমাদের শহর আর সাদা এবং ধূসরতা হারিয়ে
কিশোর উল্লাসে দৈনন্দিন জীবন 
দেয়ালে রঙধনু আঁকতে ব্যাস্ত,
যেখানে আমি তাকে ভালবাসি এবং সে আমাকে,
যেখানে আমি গর্ব করতে শিখেছি,
বিপন্নতার তৃষ্ণা শরীর পেরিয়ে।

Wednesday, May 18, 2022

চেতনায় উনিশ


আমি বাংলায় হাসি বাংলায় কাঁদি
করি বাংলায় প্রতিবাদ
যখনই করি ব্যথা অনুভব
আমি বাংলায় গাই গান।

 বাংলা আমার মাতৃভাষা
 বাংলা আমার প্রাণ.....
 বাংলা আমায় স্বপ্ন দেখায়
ভাইহারা উনিশ - একুশের গান।

 বাংলা আমার চোখের আলো
 বাঙালি আমার শক্তি
 বাংলা ভাষাকে সম্মান করি
 নেই কোন প্রতিদ্বন্দ্বী।

বাংলা আমায় কথা শেখায়
জন্মের শুরুয়াতে
জন্মেছে কত রবি, নজরুল
এই বাংলার ধরা তলে।

বাঙালি তুমি উদীয়মান সূর্য 
গর্বিত ভালবাসা, 
রক্ত ​​এবং আত্মত্যাগে
 একষট্টির পরিভাষা।

বাংলা তুমি শুদ্ধ হয়েছ
প্রতিবাদে রাজপথে
জাতির রক্তে উনিশ মে'
চেতনার অনুভূতিতে।

Tuesday, May 17, 2022

অতৃপ্ত থেকে সত্যের সন্ধানে

"An example of an atheist is a person whose beliefs are based in science, such as the idea humans came from evolution rather than Adam and Eve"

সাধারণতভাবে,নাস্তিকতা হল ঈশ্বর বা আধ্যাত্মিক প্রাণীর আধিভৌতিক বিশ্বাসের সমালোচনা এবং অস্বীকার করা। যেমন, এটি সাধারণত আস্তিকতা থেকে আলাদা থাকে, যা ঐশ্বরিক বাস্তবতাকে এবং প্রায়শই এর অস্তিত্ব প্রদর্শন করাকে খণ্ডন করে। নাস্তিকতাকে অজ্ঞেয়বাদ থেকেও আলাদা করা হয়, যে প্রশ্নটি উন্মুক্ত করে দেয় যে ঈশ্বর আছে কি না, প্রশ্নগুলোকে উত্তরহীন বা উত্তরযোগ্য তা খুঁজে বের করার দাবি করে।

 বিশ্বাস এবং অবিশ্বাসের ফর্মগুলির মধ্যে তর্কের দ্বান্দ্বিকতায় নাস্তিকতা - অজ্ঞেয়বাদ এবং আস্তিকতার সবচেয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা, বা চরিত্রায়ন সম্পর্কিত প্রশ্ন উত্থাপন করে। নাস্তিকতার জন্য পরোয়ানাটি কেবল তদন্ত করাই নয়, নাস্তিকতার সবচেয়ে পর্যাপ্ত সংজ্ঞা কী তাও সতর্কতার সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এই নিবন্ধটি যা কিছু ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়েছে তা দিয়ে শুরু হবে, কিন্তু এখনও বিভিন্ন উপায়ে ভুল বা বিভ্রান্তিকর, নাস্তিকতার সংজ্ঞা এবং আরও পর্যাপ্ত ফর্মুলেশনে চলে যায় যা নাস্তিক চিন্তার সম্পূর্ণ পরিসরকে আরও ভালভাবে ক্যাপচার করে এবং আরও স্পষ্টভাবে বিশ্বাস থেকে অবিশ্বাস এবং নাস্তিকতাকে অজ্ঞেয়বাদ থেকে আলাদা করে। . এই বর্ণনার সময় অংশটি নাস্তিকতার পক্ষে এবং বিপক্ষে মূল যুক্তিগুলিও বিবেচনা করবে।

ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রত্যাখ্যান হিসাবে নাস্তিকতা
 ইহুদি, খ্রিস্টান, ইসলামের একটি কেন্দ্রীয়, সাধারণ কোর হল এক এবং একমাত্র ঈশ্বরের বাস্তবতা। এই বিশ্বাসের অনুগামীরা বিশ্বাস করে যে একজন ঈশ্বর আছেন যিনি মহাবিশ্বকে শূন্য থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর সমস্ত সৃষ্টির উপর নিরঙ্কুশ সার্বভৌমত্ব রয়েছে; এর মধ্যে অবশ্যই রয়েছে মানুষ- যারা শুধুমাত্র এই সৃজনশীল শক্তির উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল নয় বরং পাপীও বটে এবং যাদের, বা তাই বিশ্বস্তদের অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে, তাদের জন্য ঈশ্বরের বিধি-বিধানকে বিনা প্রশ্নে মেনে নিয়ে তাদের জীবনের পর্যাপ্ত অর্থ তৈরি করতে পারে। . নাস্তিকতার প্রকারভেদ অসংখ্য, কিন্তু সমস্ত নাস্তিকরা এই ধরনের বিশ্বাসকে প্রত্যাখ্যান করে।

 যাইহোক,নাস্তিকতা, একটি বিস্তৃত জাল তৈরি করে এবং "আধ্যাত্মিক প্রাণী"-তে সমস্ত বিশ্বাসকে প্রত্যাখ্যান করে এবং আধ্যাত্মিক প্রাণীর প্রতি বিশ্বাস একটি সিস্টেমের ধর্মীয় হওয়ার অর্থ কী তা নিশ্চিত করে, নাস্তিকতা ধর্মকে প্রত্যাখ্যান করে। সুতরাং নাস্তিকতা শুধুমাত্র ইহুদি, খ্রিস্টান এবং ইসলামের শুধু কেন্দ্রীয় ধারণার প্রত্যাখ্যান করে তা নয়; এটি, সেইসাথে, ডিঙ্কা এবং নুয়েরের মতো আফ্রিকান ধর্মের ধর্মীয় বিশ্বাস, ধ্রুপদী গ্রীস এবং রোমের নৃতাত্ত্বিক দেবতাদের এবং হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের অতীন্দ্রিয় ধারণাগুলি প্রত্যাখ্যান করে। সাধারণত নাস্তিকতা হল ঈশ্বর বা দেবতাদের অস্বীকার করা, এবং যদি ধর্মকে আধ্যাত্মিক প্রাণীদের বিশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে সংজ্ঞায়িত করা হয়, তাহলে নাস্তিকতা হল সমস্ত ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রত্যাখ্যান।

 যাইহোক, যদি নাস্তিকতা সম্পর্কে সহনীয়ভাবে পর্যাপ্ত উপলব্ধি অর্জন করতে হয়, তাহলে "ধর্মীয় বিশ্বাসকে প্রত্যাখ্যান" করার জন্য একটি পাঠ দেওয়া এবং ঈশ্বর বা দেবতাদের অস্বীকার হিসাবে নাস্তিকতার বৈশিষ্ট্য কীভাবে অপর্যাপ্ত তা উপলব্ধি করা প্রয়োজন।

নাস্তিকতা এবং আস্তিকতা

নাস্তিকতা হল ঈশ্বর বা দেবতাদের অস্বীকার করা এবং এটি আস্তিকতার বিপরীত, এমন একটি বিশ্বাসের ব্যবস্থা যা ঈশ্বরের বাস্তবতাকে নিশ্চিতভাবে নাকচ করে এবং কখনই তার অস্তিত্ব প্রদর্শন করতে চায়না। প্রথমত, সমস্ত ধর্মতাত্ত্বিক যারা নিজেদেরকে খ্রিস্টান ধর্মের রক্ষক বা ইহুদি ধর্ম বা ইসলামের রক্ষক বলে মনে করেন তারা নিজেদেরকে আস্তিকবাদের রক্ষক বলে মনে করেন না। বিংশ শতাব্দীর প্রভাবশালী প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মতাত্ত্বিক পল টিলিচ, উদাহরণস্বরূপ বলেন, আস্তিকরা ঈশ্বরকে একটি মূর্তি হিসাবে বিবেচনা করেন এবং ঈশ্বরকে একটি সত্তা, এমনকি একটি সর্বোচ্চ সত্তা, সত্তার মধ্যে বা অসীম সত্তার উপরে অসীম সত্তা হিসাবে বোঝাতে স্বীকার করেন। ঈশ্বর, তার জন্য, "সত্তা-স্বয়ং", সত্তা এবং অর্থের স্থল৷ টিলিচের দৃষ্টিভঙ্গির বিশদ রূপগুলি নির্দিষ্ট উপায়ে আইডিওসিঙ্ক্রাটিক, সেইসাথে অস্পষ্ট এবং সমস্যাযুক্ত, কিন্তু তারা প্রভাবশালী হয়েছে; এবং তার আস্তিকতা প্রত্যাখ্যান, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস বজায় রাখে, সমসাময়িক ধর্মতত্ত্বে উদ্ভট নয়, যদিও এটি সাধারণ বিশ্বাসীদের খুব ভালভাবে আঘাত করতে পারে।

 দ্বিতীয়ত, এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ, এটা এমন নয় যে সমস্ত আস্তিকরা ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য যুক্তিসঙ্গতভাবে প্রদর্শন করতে চায় বা এমনকি কোনো উপায়ে প্রমাণ করতে চায় না। অনেক আস্তিক এই ধরনের প্রদর্শনকে অসম্ভব বলে মনে করেন, এবং বিশ্বস্ত বিশ্বাসীরা (যেমন, জোহান হ্যামান এবং সোরেন কিয়ারকেগার্ড) এই ধরনের একটি প্রদর্শনকে বিবেচনা করেন, এমনকি যদি এটি সম্ভব হয়, অনাকাঙ্ক্ষিত, কারণ তাদের দৃষ্টিতে এটি বিশ্বাসকে ক্ষুন্ন করবে। যদি এটা প্রমাণ করা যায়, বা নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে, তাহলে মানুষ তাকে তাদের সার্বভৌম প্রভু হিসেবে মেনে নেওয়ার অবস্থানে থাকবে না।এমন ধর্মতত্ত্ববিদরা আছেন যারা যুক্তি দিয়েছেন যে সত্যিকারের বিশ্বাস সম্ভব হওয়ার জন্য ঈশ্বরকে অবশ্যই একটি গোপন ঈশ্বর হতে হবে,চূড়ান্ত রহস্যময় বাস্তবতা, যার অস্তিত্ব এবং কর্তৃত্বকে কেবল বিশ্বাসের উপরই গ্রহণ করতে হয়। এই বিশ্বস্ত দৃষ্টিভঙ্গি অবশ্যই প্রধান ধর্মের ভিতর থেকে চ্যালেঞ্জ ছাড়া চলে যায়নি, তবে নাস্তিকতার উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যকে অপর্যাপ্ত করার জন্য এটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
 অবশেষে, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ঈশ্বরের সমস্ত অস্বীকারই তাঁর অস্তিত্বের অস্বীকার নয়। বিশ্বাসীরা কখনও কখনও ঈশ্বরকে অস্বীকার করে যখন ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে সন্দেহের মধ্যে না থাকে। তারা হয় ইচ্ছাকৃতভাবে প্রত্যাখ্যান করে যাকে তারা তাঁর কর্তৃত্ব হিসাবে গ্রহণ করে তার ইচ্ছা অনুসারে কাজ না করে, অন্যথায় তারা কেবল তাদের জীবন যাপন করে যেন ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই। এই গুরুত্বপূর্ণ উপায়ে তারা তাকে অস্বীকার করে। এই ধরনের অস্বীকারকারীরা নাস্তিক নয় (যদি না আমরা চাই, বিভ্রান্তিকরভাবে, তাদের "ব্যবহারিক নাস্তিক" বলতে চাই)। এমনকি তারা অজ্ঞেয়বাদীও নয়। তারা প্রশ্ন করে না যে ঈশ্বর আছেন; তারা তাকে অন্যভাবে অস্বীকার করে। একজন নাস্তিক ঈশ্বরের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে। যেমনটি প্রায়শই বলা হয়, নাস্তিকরা বিশ্বাস করে যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে, বা ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্ভাবনার একটি অত্যন্ত নিম্ন ক্রমে একটি অনুমানমূলক অনুমান।
 তবুও এটা রয়ে গেছে যে নাস্তিকতার এই ধরনের বৈশিষ্ট্য অন্যান্য উপায়ে অপর্যাপ্ত। একজনের জন্য এটি খুব সংকীর্ণ। কিছু নাস্তিক আছে যারা বিশ্বাস করে যে ঈশ্বরের ধারণা, অন্তত বিকশিত এবং কম নৃতাত্ত্বিক রূপের জুডিও-খ্রিস্টান এবং ইসলাম, এতটাই বেমানান যে কিছু কেন্দ্রীয় ধর্মীয় দাবি, যেমন "ঈশ্বর আমার সৃষ্টিকর্তা যাঁর কাছে সবকিছু ঋণী," প্রকৃত সত্য-দাবী নয়; অর্থাৎ, দাবিগুলি সত্য বা মিথ্যা হতে পারে না। বিশ্বাসীরা ধরেন যে এই ধরনের ধর্মীয় প্রস্তাবগুলি সত্য, কিছু নাস্তিক বিশ্বাস করে যে সেগুলি মিথ্যা, এবং কিছু অজ্ঞেয়বাদী আছে যারা বিশ্বাস করতে পারে না যে তারা সত্য নাকি মিথ্যা। (অজ্ঞেয়বাদীরা মনে করেন যে প্রস্তাবগুলি এক বা অন্যটি কিন্তু বিশ্বাস করে যে কোনটি নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।) কিন্তু তিনটিই ভুল, কিছু নাস্তিক যুক্তি দেন, কারণ এই ধরনের সত্য-দাবিগুলি প্রকৃত সত্য হওয়ার জন্য যথেষ্ট বোধগম্য নয়-দাবীগুলি হয় সত্য বা মিথ্যা। বাস্তবে তাদের মধ্যে বিশ্বাস করা বা অবিশ্বাস করার মতো কিছুই নেই, যদিও বিশ্বাসীর জন্য শক্তিশালী এবং মানবিকভাবে সান্ত্বনাদায়ক বিভ্রম রয়েছে। এই ধরনের একটি নাস্তিকতা, এটি যোগ করা উচিত, বোধগম্যতা সম্পর্কে বিবেচনায় ঈশ্বরের কিছু ধারণার জন্য মূল এবং এটি যা বলার অর্থ বহন করে, কিছু বাস্তববাদী এবং যৌক্তিক অভিজ্ঞতাবাদীদের দ্বারা দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ করা হয়েছে।
 যদিও নাস্তিকতা এবং বোধগম্যতা সম্পর্কে উপরের বিবেচনাগুলি নাস্তিকতার দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্যটিকে খুব সংকীর্ণ বলে দেখায়, তবে এটি এমনও যে এই বৈশিষ্ট্যটি একটি উপায়ে খুব বিস্তৃত। কারণ সেখানে বিশ্বস্ত বিশ্বাসী আছেন, যারা দ্ব্যর্থহীনভাবে বিশ্বাস করেন যে বস্তুনিষ্ঠভাবে দেখলে ঈশ্বরের অস্তিত্বের সম্ভাবনা খুবই কম। তারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না কারণ এটা সম্ভব যে তার অস্তিত্ব রয়েছে-তারা মনে করে যে তিনি না থাকার সম্ভাবনা বেশি-কিন্তু কারণ তাদের দ্বারা বিশ্বাসকে মানুষের জীবন বোঝার জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করা হয়। নাস্তিকতার দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্যটি একজন বিশ্বস্ত বিশ্বাসী (একজন ব্লেইস প্যাসকেল বা একজন সোরেন কিয়ারকেগার্ড) বা একজন অজ্ঞেয়বাদী (একজন টিএইচ হাক্সলি বা স্যার লেসলি স্টিফেন)কে ব্যারন ডি'হলবাখের মতো নাস্তিক থেকে আলাদা করে না। সকলেই বিশ্বাস করে যে "একজন ঈশ্বর আছেন" এবং "ঈশ্বর মানবজাতিকে রক্ষা করেন," যদিও তারা আবেগগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, সম্ভাবনার একটি অত্যন্ত নিম্ন ক্রমের অনুমানমূলক অনুমান। কিন্তু এটি যেহেতু বিশ্বাসীদেরকে অবিশ্বাসীদের থেকে আলাদা করে না এবং নাস্তিকদের থেকে অজ্ঞেয়বাদীদের আলাদা করে না, তাই নাস্তিকতার পর্যাপ্ত বৈশিষ্ট্য হতে পারে না।
 এটা বলা যেতে পারে যে অগ্রাধিকারবাদ এবং গোঁড়ামী নাস্তিকতা এড়াতে ঈশ্বরের অস্তিত্বকে একটি অনুমান হিসাবে বিবেচনা করা উচিত। ঈশ্বরের অস্তিত্বের কোন অন্টোলজিক্যাল (শুধুমাত্র একটি অগ্রাধিকার) প্রমাণ বা অপ্রমাণ নেই। এটা আগে থেকে শাসন করা যুক্তিসঙ্গত নয় যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে এটা বলার কোন মানে নেই। নাস্তিক যা যুক্তিসঙ্গতভাবে দাবি করতে পারে তা হল যে ঈশ্বরের কোন প্রমাণ নেই এবং সেই পটভূমিতে তিনি খুব ভালভাবে এই দাবিতে ন্যায্য হতে পারেন যে ঈশ্বর নেই। যদিও এটা যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, একজন নাস্তিকের পক্ষে এই দাবি করে যে কোন সম্ভাব্য প্রমাণ কখনও ঈশ্বরে বিশ্বাস করার জন্য একটি ভিত্তি দিতে পারে না তা কেবল গোঁড়ামী। পরিবর্তে, নাস্তিকদের উচিত তাদের অবিশ্বাসের ন্যায্যতা দেখানো (যদি তারা পারে) কীভাবে দাবীটি ভালভাবে গ্রহণ করা হয়েছে যে এমন কোন প্রমাণ নেই যা ঈশ্বরে বিশ্বাসের নিশ্চয়তা দেয়। যদি নাস্তিকতাকে ন্যায়সঙ্গত করা হয়, তাহলে নাস্তিক দেখাবে যে প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরের অস্তিত্বের বিশ্বাসের জন্য কোন পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই, কিন্তু ঈশ্বরের অস্তিত্বের পক্ষে কোন প্রমাণ থাকতে পারে না তা দেখানোর চেষ্টা করা তার কাজের অংশ হওয়া উচিত নয়। নাস্তিক যদি কোনোভাবে তার বর্তমান দেহের মৃত্যু থেকে বাঁচতে পারে (ধরে নিচ্ছে যে এই ধরনের কথাবার্তা অর্থপূর্ণ) এবং ঈশ্বরের সামনে দাঁড়াতে তার বিস্মিত হওয়ার মতো, তার উত্তর হওয়া উচিত, "ওহ! প্রভু, আপনি আমাকে যথেষ্ট প্রমাণ দেননি!" তিনি ভুল হতেন, এবং বুঝতে পারেন যে তিনি ভুল করেছেন, তার বিচারে যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই। তবুও, তার পার্থিব জীবনে তার কাছে উপলব্ধ প্রমাণের আলোকে, তার মতো বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে তিনি অন্যায় হতেন না। ঈশ্বরের উপস্থিতির এই ধরনের কোনো পোস্টমর্টেম অভিজ্ঞতা না থাকা (অনুমান করে যে তিনি সেগুলি পেতে পারেন), তার যা বলা উচিত, বিষয়গুলি দাঁড়িয়েছে এবং প্রমাণের মুখে তার বাস্তবে রয়েছে এবং পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তা হল এটি মিথ্যা যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে। (প্রতিবারই কেউ বৈধভাবে দাবি করে যে একটি প্রস্তাব মিথ্যা, এটিকে মিথ্যা বলে নিশ্চিত হওয়ার দরকার নেই। "নিশ্চিততার সাথে জানা" এটি অর্থপ্রকাশের জন্য প্রয়োজনাতিরিক্ত নয়।) দাবি হল যে এই অস্থায়ী ভঙ্গিটি নাস্তিকের জন্য যুক্তিসঙ্গত অবস্থান।

 একজন নাস্তিক যিনি এই পদ্ধতিতে তর্ক করেন তিনিও একটি স্বতন্ত্র যুক্তি তৈরি করতে পারেন। প্রদত্ত যে ঈশ্বর (যদি একজন থাকে) সংজ্ঞা অনুসারে একটি অত্যন্ত পুনরুদ্ধারকারী বাস্তবতা - এমন একটি বাস্তবতা যা অবশ্যই হতে হবে (যেমন এমন একটি বাস্তবতা থাকতে হবে) বিশ্বের সীমা অতিক্রম করে - প্রমাণের ভার নাস্তিকের উপর নির্ভর করে না বিশ্বাস করার ভিত্তি দেওয়ার জন্য যে আদেশের কোন বাস্তবতা নেই। বরং, প্রমাণের ভার বিশ্বাসীর উপর বর্তায় ঈশ্বরের অস্তিত্বের জন্য কিছু প্রমাণ দেওয়ার জন্য-অর্থাৎ, এমন একটি বাস্তবতা রয়েছে। ঈশ্বর কি হতেই হবে, যদি ঈশ্বর থাকে, তাহলে আস্তিককে প্রমাণ পেশ করতে হবে, এমন এক অদ্ভুত বাস্তবতার জন্য। তাকে দেখাতে হবে যে পৃথিবীতে সাধারণ অভিজ্ঞতার দ্বারা প্রকাশের চেয়ে আরও বেশি কিছু আছে। অভিজ্ঞতামূলক পদ্ধতি, যেমন একজন নাস্তিক দাবি করেন, বাস্তবে কি তা প্রতিষ্ঠা করার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি প্রদান করে? আস্তিকের দাবি যে সেখানে বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতামূলক তথ্য ছাড়াও রয়েছে "আধ্যাত্মিক তথ্য" বা "অতিরিক্ত ঘটনা", যেমন একটি অতিপ্রাকৃত, স্ব-অস্তিত্বশীল, শাশ্বত শক্তি আছে এমন ক্ষেত্রে, নাস্তিক দাবি করতে পারেন যে যেমন "তথ্য" দেখানো হয়নি।
৩.

যাইহোক, এই ধরনের নাস্তিকদের দ্বারা তর্ক করা হবে, তারা যাকে গোঁড়ামিবাদী অগ্রগতিবাদী নাস্তিক বলে মনে করে তার বিরুদ্ধে, নাস্তিকের উচিত একজন ফ্যালিবিলিস্ট হওয়া এবং ভবিষ্যত কী নিয়ে আসতে পারে সে সম্পর্কে খোলা মনে থাকা উচিত। সর্বোপরি, এমন অতীন্দ্রিয় সত্য, এইরকম আধিভৌতিক বাস্তবতা থাকতে পারে। এটি এমন নয় যে এই ধরনের একটি ফলবিলিস্টিক নাস্তিক আসলেই একজন অজ্ঞেয়বাদী যিনি বিশ্বাস করেন যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে বলে দাবি করা বা তিনি যে আছেন তা অস্বীকার করার ক্ষেত্রে তিনি ন্যায্য নন এবং তাকে যুক্তিসঙ্গতভাবে যা করতে হবে তা হল বিশ্বাস স্থগিত করা। বিপরীতে, এই ধরনের নাস্তিক বিশ্বাস করে যে ঈশ্বরের অস্তিত্বকে অস্বীকার করার জন্য তার কাছে সত্যই খুব ভাল ভিত্তি রয়েছে। কিন্তু নাস্তিক হওয়া কী তা নিয়ে দ্বিতীয় ধারণার ভিত্তিতে, তিনি অস্বীকার করবেন না যে জিনিসগুলি অন্যথায় হতে পারে এবং যদি সেগুলি হয় তবে তিনি ঈশ্বরে বিশ্বাস করার পক্ষে ন্যায়সঙ্গত হবেন বা অন্ততপক্ষে এই দাবি করার পক্ষে আর ন্যায্য হবেন না। এটা মিথ্যা যে একটি ঈশ্বর আছে. নির্ভরযোগ্য অভিজ্ঞতামূলক কৌশলগুলি ব্যবহার করে, সত্যের বিষয়গুলি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রমাণিত পদ্ধতি, ফ্যালিবিলিস্টিক নাস্তিক মহাবিশ্বে এমন কিছুই খুঁজে পায়নি যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব রয়েছে এমন বিশ্বাস তৈরি করার জন্য বা এমনকি, বিবেচিত সমস্ত কিছু, বিভিন্ন বিকল্পের মধ্যে সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত বিকল্প। তাই তিনি নাস্তিক উপসংহার টানেন (তাঁর বোঝা-প্রমাণ যুক্তির কথাও মাথায় রেখে) যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই। কিন্তু তিনি গোঁড়ামিতে ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার করেন না। তিনি একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং ধারাবাহিক ফলিবিলিস্ট অবশেষ।

 নাস্তিকতা এবং আধিভৌতিক বিশ্বাস

 নাস্তিকতার একটি রূপ (সেই বাস্তববাদীদের নাস্তিকতা যারা প্রকৃতিবাদী মানবতাবাদীও), যদিও নাস্তিকতার প্রথম গঠনের তুলনায় কম অপর্যাপ্ত, তবুও অপর্যাপ্ত। ইহুদি, খ্রিস্টান এবং ইসলামের উন্নত রূপগুলিতে ঈশ্বর, জিউস বা ওডিনের মতো, তুলনামূলকভাবে সরল নৃতাত্ত্বিক উপায়ে ব্যাখ্যা করা হয় না। এই জাতীয় ধর্মগুলিতে "ঈশ্বর" হিসাবে গণনা করা যায় এমন কিছুই সম্ভবত মহাবিশ্বে পর্যবেক্ষণ করা, আক্ষরিক অর্থে সম্মুখীন বা সনাক্ত করা যায় না। ঈশ্বর, এই ধরনের ধারণার মধ্যে, সম্পূর্ণরূপে জগতের অতীন্দ্রিয়; তাকে "শুদ্ধ আত্মা" হিসাবে কল্পনা করা হয়, একজন অসীম ব্যক্তি যিনি শূন্য থেকে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি মহাবিশ্ব থেকে স্বতন্ত্র। এই ধরনের একটি বাস্তবতা - একটি বাস্তবতা যা একটি চূড়ান্ত রহস্য হিসাবে নেওয়া হয় - মহাবিশ্বের বস্তু বা প্রক্রিয়া হিসাবে চিহ্নিত করা যায় না। ঈশ্বরের দিকে বা তার দিকে ইঙ্গিত করা যাবে না, "ঈশ্বর"-এর কোনো অস্পষ্ট শিক্ষা থাকতে পারে না, যা বোঝানো হয়েছে তা দেখানোর জন্য। ঈশ্বর শব্দটি শুধুমাত্র আন্তঃভাষাগতভাবে শেখানো যেতে পারে। "ঈশ্বর" এমন একজনকে দেখানো হয় যে "মহাবিশ্বের স্রষ্টা," "অনন্ত, সম্পূর্ণ স্বাধীন সত্তা যার উপর অন্য সমস্ত প্রাণী নির্ভর করে," "প্রথম কারণ, ""একমাত্র চূড়ান্ত বাস্তবতা," বা "একটি স্ব-সৃষ্ট সত্তা।" যে ব্যক্তি এই ধরনের বর্ণনা বোঝে না তার জন্য ঈশ্বরের ধারণার কোনো বোধগম্যতা থাকতে পারে না। কিন্তু এই ধরনের বর্ণনার মূল পরিভাষাগুলি "ঈশ্বর" এর চেয়ে অস্পষ্ট সংজ্ঞা (তাদের উল্লেখকারী উল্লেখ করার) জন্য বেশি সক্ষম নয়, যেখানে এই শব্দটি "জিউস" এর মতো নয়, নৃতাত্ত্বিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। (এর মানে এই নয় যে কেউ আসলে জিউসের দিকে ইঙ্গিত করেছে বা জিউসকে পর্যবেক্ষণ করেছে তবে এটি করতে কেমন হবে তা কেউ জানে না।)

 এই ধরনের বক্তৃতায় "ঈশ্বর" বলতে কী বোঝানো হয়েছে তা বোঝার জন্য, এটি অবশ্যই বুঝতে হবে যে ঈশ্বর, তিনি অন্য যা-ই হোন না কেন, তিনি এমন একটি সত্তা যাকে অন্য কোনোভাবে দেখা বা দেখানো যায় না। তিনি কিছু বস্তুগত বা অভিজ্ঞতামূলক হতে পারেন না, এবং বিশ্বাসীদের দ্বারা তিনি একটি জটিল রহস্য বলে মনে করেন। একটি রহস্যময় ঈশ্বর ইহুদি, খ্রিস্টান এবং ইসলামের ঈশ্বর হবেন না।প্রকৃতপক্ষে, এটি একটি ভুল দাবি করে যে ঈশ্বরের অস্তিত্বকে সঠিকভাবে একটি অনুমান হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে এবং এটি দাবি করা একটি ভুল করে যে, পরীক্ষামূলক পদ্ধতি বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষামূলক পদ্ধতি ব্যবহার করে, ঈশ্বরের অস্তিত্ব একটি অভিজ্ঞতামূলক বাস্তবতার অস্তিত্বের মতো নিশ্চিত বা অনিশ্চিত করা যেতে পারে। কিছু নাস্তিকদের দ্বারা করা প্রতিক্রিয়া, যারা বাস্তববাদীদের মতও পূর্ণাঙ্গ ফলবিলিস্ট থেকে যায়, তা হল এইরকম একটি প্রস্তাবিত উপায় জানার, বা জানাতে ব্যর্থ হওয়া, ঈশ্বর কোন ধরনের বাস্তবতা বোঝেন তার জন্য ঈশ্বরের কোন অর্থ নেই। যার অস্তিত্ব এতটা যাচাই করা যেতে পারে তা জুডিও-খ্রিস্টান ধর্মের ঈশ্বর হবে না। ঈশ্বর এমন একটি বাস্তবতা হতে পারে না যার উপস্থিতি এমনকি অভিজ্ঞতায় ক্ষীণভাবে স্বীকার করা হয়, কারণ যেকোন কিছু যা এমনকি জুডিও-খ্রিস্টান ধর্মের ঈশ্বর হিসাবে গণনা করতে পারে তা অবশ্যই বিশ্বের অতিক্রম করতে হবে। বাস্তবে সম্মুখীন বা অভিজ্ঞ হতে পারে কিন্তু ঈশ্বর হতে পারে না।

 খ্রিস্টধর্মের মতো একটি ধর্মের একেবারে কেন্দ্রস্থলে এমন একটি বাস্তবতায় একটি আধিভৌতিক বিশ্বাস রয়েছে যা অভিজ্ঞতামূলক বিশ্বকে অতিক্রম করার অভিযোগ রয়েছে। এটি আধিভৌতিক বিশ্বাস যে একটি চিরন্তন, সর্বদা বিদ্যমান সৃষ্টিশীল উৎস এবং মহাবিশ্বের ধারক। সমস্যা হল কিভাবে এটা জানা সম্ভব বা যুক্তিসঙ্গতভাবে বিশ্বাস করা যায় যে এই ধরনের বাস্তবতা বিদ্যমান বা এমনকি এই ধরনের আলোচনা কী তা বোঝা যায়।

 এটি এমন নয় যে ঈশ্বর পদার্থবিজ্ঞানে একটি তাত্ত্বিক সত্তা যেমন প্রোটন বা নিউট্রন। এগুলি হল, যেখানে সেগুলিকে হিউরিস্টিকভাবে দরকারী ধারণাগত কল্পকাহিনীর পরিবর্তে বাস্তব হিসাবে বোঝানো হয়, মহাবিশ্বের প্রকৃত আসবাবপত্রের অংশ বলে মনে করা হয়৷ তাদেরকে মহাবিশ্বের অতীন্দ্রিয় বলা হয় না, বরং এগুলি মহাবিশ্বের অদৃশ্য সত্ত্বা যা যৌক্তিকভাবে ধূলিকণা এবং বালির দানার সমতুল্য বা শুধুমাত্র অনেক ছোট।বাস্তবে, দেখা যায় না।

প্রকৃতপক্ষে প্রোটন বা নিউট্রিনো দেখতে কেমন হবে তা কারোরই বোঝার নেই - এইভাবে তারা ঈশ্বরের মতো - এবং তাদের দেখার জন্য শারীরিক তত্ত্বে কোন বিধান তৈরি করা হয়নি। তবুও, ঈশ্বরকে দেখার মতো তাদের দেখার কোন যৌক্তিক নিষেধাজ্ঞা নেই। এগুলি মহাবিশ্বের জিনিসগুলির মধ্যে রয়েছে এবং এইভাবে, যদিও তারা অদৃশ্য, তবে সেগুলিকে দেখা যায় এমন জিনিসগুলির কারণ হিসাবে ধরে নেওয়া যেতে পারে। তাই অন্তত যৌক্তিকভাবে পরোক্ষভাবে পরীক্ষামূলক পদ্ধতি দ্বারা এই ধরনের বাস্তবতার অস্তিত্ব যাচাই করা সম্ভব হয়ে ওঠে। এটিও এমন যে একটি কার্যকারণ সংযোগ স্থাপনের জন্য যা প্রয়োজন তা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোন যৌক্তিক নিষেধাজ্ঞা নেই, যেমন দুটি বিচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতামূলক বাস্তবতার একটি ধ্রুবক সংযোগ। কিন্তু ঈশ্বর এবং মহাবিশ্বের মধ্যে এই ধরনের কোন ধ্রুবক সংযোগ স্থাপন করা যায় না বা এমনকি বোধগম্যভাবে দাবি করা যায় না, এবং এইভাবে ঈশ্বরের অস্তিত্ব এমনকি পরোক্ষভাবে যাচাইযোগ্য নয়। ঈশ্বর একটি বিচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতামূলক জিনিস বা সত্তা নন, এবং মহাবিশ্বের জিনিস এবং প্রক্রিয়াগুলির উপরে একটি বিশাল জিনিস বা প্রক্রিয়া নয় যেটি মহাবিশ্বের একটি কারণ আছে বা ছিল বলে বোঝা যায়। কিন্তু তারপরে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন উপায় নেই যে এমনকি ঈশ্বরের অস্তিত্বের সম্ভাবনাও পরীক্ষামূলকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

 নাস্তিকতা এবং স্বজ্ঞাত জ্ঞান

 জ্ঞানবাদীরা উত্তর দিতে পারে যে ঈশ্বরের অস্তিত্বকে প্রতিষ্ঠিত করার বা এটিকে সম্ভাব্য করার একটি অপ্রয়োজনীয় উপায় আছে। দাবি হল যে মহাজাগতিক প্রকৃতি সম্পর্কে সত্য আছে যা যাচাই করতে সক্ষম নয় বা যাচাইয়ের প্রয়োজন নেই। আছে, অভিজ্ঞতাবাদীদের বিরুদ্ধে জ্ঞানতত্ত্বের দাবি, বিশ্বের জ্ঞান যা অভিজ্ঞতাকে অতিক্রম করে এবং সমগ্র বিষয়ের দুঃখিত পরিকল্পনাকে বোঝায়। যেহেতু ডেভিড হিউম এবং ইমানুয়েল কান্টের দ্বারা এই ধরনের জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তিগুলির পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের ফলে, কীভাবে এবং প্রকৃতপক্ষে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে, এই ধরনের জ্ঞান সত্যিই খুব শক্তিশালী। বিশেষ করে ঈশ্বরের জ্ঞানের ক্ষেত্রে, হিউম এবং কান্ট উভয়েই ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণ করার প্রথাগত প্রচেষ্টার শক্তিশালী সমালোচনা প্রদান করেন (যদিও কান্ট একজন খ্রিস্টান ছিলেন)। যদিও তাদের যুক্তির কিছু বিবরণ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং তাদের তর্কমূলক পদ্ধতির মূলে পরিমার্জন করা হয়েছে, দার্শনিক এবং ধর্মতাত্ত্বিকদের মধ্যে যথেষ্ট ঐকমত্য রয়েছে যে হিউম এবং কান্টের দ্বারা বিকশিত সাধারণ ধরণের যুক্তিগুলি দেখায় যে ঈশ্বরের কোন প্রমাণ নেই। অস্তিত্ব অসম্ভব। বিকল্পভাবে, "স্বজ্ঞাত জ্ঞান" (সত্তার একটি স্বজ্ঞাত উপলব্ধি বা ঐশ্বরিক সত্তার বাস্তবতা সম্পর্কে একটি অন্তর্দৃষ্টি) কথা বলতে এমন কিছুর প্রতি একটি আবেদন করা যা কোনও কিছু প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনও মূল্যের জন্য যথেষ্ট স্পষ্ট নয়।
কিন্তু নৃবিজ্ঞানের উত্থান এবং ধর্মের বৈজ্ঞানিক অধ্যয়নের আগে, অন্যান্য ধর্মের জ্ঞান এবং সত্য প্রকাশের জন্য তাদের সংশ্লিষ্ট আবেদনের সাথে, এই ধরনের যুক্তিগুলি সম্ভাব্য শক্তি ছাড়াই। জ্ঞানের বিকল্প হিসাবে উদ্ঘাটন এবং কর্তৃত্বের প্রতি আবেদন বা বিশ্বাসযোগ্য বিশ্বাসের যথেষ্ট শক্তি আছে বলে মনে করা হত। দাবি করা, বা অভিযুক্ত, উদ্ঘাটন অনেক, বৈচিত্র্যময়, এবং কদাচিৎ বিরোধপূর্ণ নয়; একটি ছোট এবং দুষ্ট বৃত্তের মধ্যে না গিয়ে, কেবলমাত্র একটি প্রদত্ত প্রকাশমূলক উদ্ঘাটনের আবেদন করার মাধ্যমে এটি দাবি করা যায় না যে, উদ্ঘাটনটি "সত্যিকারের উদ্ঘাটন" বা "প্রকৃত উদ্ঘাটন" এবং অন্যরা ভুল বা, যেখানে অসংগতিপূর্ণ, নিছক একটা অনুমান। সত্যের কাছে ধর্মীয় কর্তৃত্বের জন্যও অনুরূপ কথা বলা দরকার। তদুপরি, এটি সবচেয়ে বেশি সমস্যাযুক্ত যে বিশ্বাস প্রকাশের সত্যতা বা ধর্মীয় কর্তৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা করার কথা বলতে অনুমোদন করতে পারে কিনা। প্রকৃতপক্ষে, যদি কিছু একটি "প্রকৃত উদ্ঘাটন" হয়, তবে এটিকে মূল্যায়ন করার কোন কারণ নেই। কিন্তু দুর্দশা হল যে, স্পষ্টতই, নৃতাত্ত্বিক সত্যের বিষয় হিসাবে, কথিত উদ্ঘাটনের একটি বৈচিত্র্যময় এবং কখনও কখনও পরস্পরবিরোধী ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপায় নেই বা এমনকি যুক্তিসঙ্গত ধারণা নেই যা প্রার্থীব উদ্ঘাটনের প্রকৃত নিবন্ধ। কিন্তু এমনকি যদি উদ্ঘাটনের সত্যতার জন্য পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার অনুমতি দেওয়া হয়, তবুও একটি দাবি রয়েছে যা স্পষ্টতই করবে না, কারণ এই ধরনের পদ্ধতি উদ্ঘাটন এবং কর্তৃত্বকে উচ্চাভিলাষী করে তোলে। এটি হল, যেখানে এই ধরনের পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়, উদ্ঘাটন বা কর্তৃত্ব নয় যা সবচেয়ে মৌলিক ধর্মীয় সত্যের নিশ্চয়তা দিতে পারে যার উপর বাকিরা নির্ভর করে। এটি অন্য কিছু - যা উদ্ঘাটন বা কর্তৃত্বের অকৃত্রিমতাকে প্রতিষ্ঠিত করে - যা এই ধর্মীয় সত্যের গ্যারান্টি দেয় (যদি থাকে), ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রস্তাব সহ। কিন্তু প্রশ্ন ফিরে আসে, অবদমিতদের মতো, সেই মৌলিক গ্যারান্টি কী বা হতে পারে? সম্ভবত এই ধরনের বিশ্বাস একটি সাংস্কৃতিক মিথ ছাড়া আর কিছুই নয়। যেমন দেখানো হয়েছে, ঈশ্বরের অভিজ্ঞতামূলক বা অগ্রিম জ্ঞান নেই, এবং স্বজ্ঞাত জ্ঞানের কথা যুক্তিযুক্ত শক্তি ব্যতীত।

 যদি এই বিবেচনাগুলি চিহ্নের কাছাকাছি থাকে, তবে এটি বলার অর্থ কী তা অস্পষ্ট, যেমন কিছু অজ্ঞেয়বাদী এবং এমনকি নাস্তিকদের মতে, তারা সন্দেহপ্রবণ ঈশ্বর-সন্ধানী যারা কেবল একটি যত্নশীল পরীক্ষার পরে, বিশ্বাস করার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ খুঁজে পায়নি। ঈশ্বর একটি নিশ্চিত বা এমনকি একটি যুক্তিসঙ্গত বিশ্বাস. এটা অস্পষ্ট নয় যে এটা কেমন হবে, বা সেই বিষয়ের জন্য ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ নেই। এটা এমন নয় যে ঈশ্বর-সন্ধানকারীকে প্রমাণ দিতে সক্ষম হতে হবে, কারণ যদি তা হয় তবে কোন অনুসন্ধানের প্রয়োজন হবে না, তবে তিনি বা অন্ততপক্ষে কেউ ধারণা করতে সক্ষম হবেন যদি তার কাছে প্রমাণ হিসাবে গণনা করা হয়। এটি যাতে তিনি (এবং অন্যদের) কী সন্ধান করবেন সে সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পান। কিন্তু এটা এমনই মনে হচ্ছে যা করা যায় না।

সম্ভবত এই প্রতিশোধের অবকাশ রয়েছে যে প্রমাণ থাকার সম্ভাবনার উপর কোন যৌক্তিক নিষেধাজ্ঞা গ্রহণ না করাই ঈশ্বর-সন্ধানীর পক্ষে যথেষ্ট। এই ডোমেনে প্রমাণ থাকাটা কেমন হবে তা তার বুঝতে হবে না। কিন্তু, বিপরীতে, যখন কেউ বিবেচনা করে যে ঈশ্বরকে কী ধরনের অতীন্দ্রিয় বাস্তবতা বলা হয়, তখন তার অস্তিত্বের জন্য অভিজ্ঞতামূলক প্রমাণ (একটি প্লিওনাজম) থাকার উপর একটি অন্তর্নিহিত যৌক্তিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে মনে হয়। এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আছে বলে দাবি করা যুক্তিযুক্ত বলে মনে হবে, যদিও এই ধরনের যে কোনো দাবি অবশ্যই একটি অস্থায়ী।

কেউ ঈশ্বরের কথা বলার জন্য অভিজ্ঞতামূলক অ্যাঙ্কারেজ দেওয়ার চেষ্টা করলে নিম্নলিখিত অনুমানমূলক ঘটনাটি দিতে পারেন। (তবে, মামলাটি বিবেচনা করার ক্ষেত্রে এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে বর্ণনা করা হয়েছে এমন কিছু দূর থেকেও ঘটবে না।) যদি হাজার হাজার মানুষ আকাশের তারার নীচে দাঁড়িয়ে থাকে এবং সবাই দেখতে থাকে - ঘটনাটি তাদের খুব আগে চলে গেছে। চোখ—একগুচ্ছ তারা নিজেদেরকে পুনরায় সাজিয়ে “ঈশ্বর” উচ্চারণ করে, তারা সত্যই পুরোপুরি বিস্মিত হবে এবং ভাববে যে তারা পাগল হয়ে গেছে। এমনকি যদি তারা কোনোভাবে নিজেদেরকে আশ্বস্ত করতে পারে যে এটি কোনোভাবে গণ হ্যালুসিনেশনের একটি রূপ ছিল না - তারা কীভাবে এটি করতে পারে তা স্পষ্ট নয় - এই ধরনের অভিজ্ঞতা ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ গঠন করবে না, কারণ তারা এখনও একটি সূত্র ছাড়াই থাকবে। জগতের সীমা অতিক্রমকারী একটি অসীম ব্যক্তির কথা বলার দ্বারা কী বোঝানো যেতে পারে। এই ধরনের পর্যবেক্ষণ (নক্ষত্ররা নিজেদেরকে তাই পুনর্বিন্যাস করছে), যতই ভালভাবে নিশ্চিত করা হোক না কেন, "ঈশ্বর" এর রেফারেন্স পরিসরকে স্পষ্টভাবে ঠিক করবে না। এই ধরনের একটি অসীম ব্যক্তির কথা সম্পূর্ণরূপে বোধগম্য এবং অসংলগ্ন হওয়ার প্রতিটি চেহারা আছে। এমন অতীন্দ্রিয় বাস্তবতার কথা বলতে গিয়ে তিনি কী বলছেন তা কেউ জানে না। তারা শুধু জানবে যে সত্যিই খুব অদ্ভুত কিছু ঘটেছে। সন্দেহ দেখা দেয় যে বিশ্বাসীরা, বা প্রকৃতপক্ষে বিশ্বাসীদের কাছে গ্রহণযোগ্য শর্তে অন্য কেউ, ঈশ্বরের ধারণার একটি বোধগম্য বিবরণ দিতে পারে বা ঈশ্বরকে ডি-এনথ্রোপোমরফিজড হয়ে গেলে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস কী আসে তার একটি বোধগম্য বিবরণ দিতে পারে।

 নাস্তিকতার ব্যাপক সংজ্ঞা

নাস্তিকতা কী এর প্রতিফলন এবং প্রকৃতপক্ষে নাস্তিকতার প্রতি অজ্ঞেয়বাদী বা ধর্মীয় প্রতিক্রিয়া কী হওয়া উচিত তার আরও পর্যাপ্ত বিবৃতির দিকে নিয়ে যাওয়া উচিত। একজন নাস্তিক এমন একজন ব্যক্তি যে বিশ্বাস করে যে ঈশ্বর আছে এটা মিথ্যা বা সম্ভবত মিথ্যা বলে বলার পরিবর্তে, নাস্তিকতার আরও পর্যাপ্ত বৈশিষ্ট্য আরও জটিল দাবির মধ্যে রয়েছে যে একজন নাস্তিক হতে হবে এমন একজন ব্যক্তি যিনি ঈশ্বরে বিশ্বাসকে প্রত্যাখ্যান করেন। নিম্নলিখিত কারণগুলি (যে কারণে জোর দেওয়া হয় তা নির্ভর করে ঈশ্বরকে কীভাবে কল্পনা করা হচ্ছে তার উপর): একজন নৃতাত্ত্বিক ঈশ্বরের জন্য, নাস্তিক ঈশ্বরে বিশ্বাসকে প্রত্যাখ্যান করে কারণ এটি মিথ্যা বা সম্ভবত মিথ্যা যে ঈশ্বর আছে; একজন নননথ্রোপোমরফিক ঈশ্বরের জন্য (লুথার এবং ক্যালভিন, অ্যাকুইনাস এবং মাইমোনাইডের ঈশ্বর), তিনি ঈশ্বরে বিশ্বাসকে প্রত্যাখ্যান করেন কারণ এই ধরনের ঈশ্বরের ধারণা হয় অর্থহীন, দুর্বোধ্য, পরস্পরবিরোধী, বোধগম্য বা অসংলগ্ন; কিছু আধুনিক বা সমসাময়িক ধর্মতাত্ত্বিক বা দার্শনিকদের দ্বারা চিত্রিত ঈশ্বরের জন্য, তিনি ঈশ্বরে বিশ্বাসকে প্রত্যাখ্যান করেন কারণ প্রশ্নে ঈশ্বরের ধারণাটি এমন যে এটি কেবল একটি নাস্তিক পদার্থকে মুখোশ দেয়; যেমন, "ঈশ্বর" হল ভালবাসার আরেকটি নাম, বা "ঈশ্বর" হল নৈতিক আদর্শের জন্য একটি প্রতীকী শব্দ।

 এই নাস্তিকতা অনেক বেশি জটিল ধারণা, যেমন এর বিভিন্ন প্রতিফলিত প্রত্যাখ্যান। জুডিও-খ্রিস্টান ধর্মের উন্নত রূপগুলিতে ঈশ্বরের ধারণা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা থেকে এটি স্পষ্ট যে নাস্তিক প্রত্যাখ্যানের আরও গুরুত্বপূর্ণ রূপটি হল এই দাবি নয় যে এটি মিথ্যা যে ঈশ্বর আছে, বরং ঈশ্বরে বিশ্বাসের প্রত্যাখ্যান। ঈশ্বরের ধারণা কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপায়ে অসংলগ্ন বা দুর্বোধ্য, অর্থপূর্ণ নয়।

 নাস্তিকতার এই ধরনের একটি বিস্তৃত ধারণা, অবশ্যই, সংকীর্ণ অর্থে নাস্তিক প্রত্যেককে অন্তর্ভুক্ত করে, কিন্তু কথোপকথনটি পাওয়া যায় না। তদুপরি, নাস্তিকতার এই ধারণাটি বলতে হবে না যে ধর্মীয় দাবিগুলি অর্থহীন। আরও সাধারণ এবং কম বৈপরীত্যপূর্ণ এবং প্রবণতামূলক দাবি হল যে "একজন অসীম, মহাবিশ্বের অনন্ত স্রষ্টা আছেন" এর মতো উচ্চারণগুলি অসঙ্গত এবং এই ধরনের দাবিতে প্রতিফলিত ঈশ্বরের ধারণাটি দুর্বোধ্য এবং সেই গুরুত্বপূর্ণ অর্থে দাবিটি হল অকল্পনীয় এবং অবিশ্বাস্য- আধুনিকতার ছোঁয়ায় একজন দার্শনিক এবং বৈজ্ঞানিকভাবে পরিশীলিত ব্যক্তির জন্য বিশ্বাসের যুক্তিযুক্ত বস্তু হতে অক্ষম। এটা অনেক সমসাময়িক নাস্তিকদের একটি কেন্দ্রীয় বিশ্বাস। নাস্তিকের ঈশ্বরে বিশ্বাস প্রত্যাখ্যান করার জন্য সবচেয়ে দুর্বোধ্য বা শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে। জিউস-সদৃশ আধ্যাত্মিক প্রাণী নেই বলে বিশ্বাস করার জন্য ভাল অভিজ্ঞতামূলক ভিত্তি রয়েছে এবং নাস্তিকতার বিরোধিতা করার এই শেষ, আরও বিস্তৃত রূপ হিসাবে, যদি বিশ্বাস করার উপযুক্ত ভিত্তি থাকে যে ঈশ্বরের নননথ্রোপোমরফিক বা অন্তত আমূল কম নৃতাত্ত্বিক ধারণাগুলি বেমানান। 

 নাস্তিকতা হল ঈশ্বর বা আধ্যাত্মিক প্রাণীতে বিশ্বাসের সাথে জড়িত পরিত্রাণের ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় আধিভৌতিক বিশ্বাসগুলির একটি সমালোচনা এবং অস্বীকার। তবে একজন পরিশীলিত নাস্তিক কেবল এই ধরনের সমস্ত মহাজাগতিক দাবিগুলিকে মিথ্যা বলে দাবি করেন না বরং এটি গ্রহণ করেন যে সমস্যাযুক্ত , বাস্তবসম্মত বলে অভিহিত করার সময়, তারা প্রকৃতপক্ষে একটি সুসংগত বাস্তব দাবি করতে সফল হয় না। যখন বিশ্বাসীরা এই বিভ্রমের অধীনে থাকে যে বিশ্বাস করার মতো বোধগম্য কিছু আছে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থে, যদিও বাস্তবে তা নেই। এই আপাতদৃষ্টিতে বিশাল মহাজাগতিক দাবিগুলি বাস্তবে পৌরাণিক কাহিনী বা আদর্শিক দাবি হিসাবে বোঝা যায় যা তাদের উচ্চারণের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর বোঝার প্রতিফলন করে।

 কিছু সমসাময়িক প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মতাত্ত্বিকদের মতই নাস্তিকতাবাদী জানানো হয় না যে সমালোচনার প্রতি কিভাবে ভালোভাবে প্রতিক্রিয়া করা , ঈশ্বরে অবিশ্বাস হল নাস্তিকতা এবং মূর্তিপূজা সবচেয়ে খারাপ রূপ, যেহেতু ইহুদি এবং খ্রিস্টান বিশ্বাসের ভাষা, যেমন "ঈশ্বর বিদ্যমান "এবং "ঈশ্বর এই জগত সৃষ্টি করেছেন," আক্ষরিক অর্থে নয় বরং প্রতীকী এবং রূপকভাবে নেওয়া উচিত। খ্রিস্টধর্ম, যেমন রেইনহোল্ড নিবুহর, একজন ধর্মতাত্ত্বিক যিনি এই ধরনের মতামতকে রক্ষা করেন, একবার এটি বললে, "সত্য পৌরাণিক কাহিনী।" ধর্মের দাবিগুলি, এই ধরনের অ্যাকাউন্টে, অসাধারণ তথ্যগুলিকে বোঝানোর চেষ্টা করে আধিভৌতিক দাবি হিসাবে বোঝার মতো নয় তবে রূপক এবং উপমাগত দাবি হিসাবে যা অন্য কোনও পদে বোধগম্য হয় না। কিন্তু যদি কিছু রূপক হয় তবে অন্তত নীতিগতভাবে বলা যেতে পারে এটি কিসের রূপক। সুতরাং, রূপক শুধুমাত্র রূপক পদে বোধগম্য হতে পারে না। কোন অব্যক্ত রূপক বা প্রতীকী অভিব্যক্তি থাকতে পারে না যদিও, আবার কিছু কি, এই ধরনের অভিব্যক্তির ব্যবহারকারী সেই প্যারাফ্রেজ সরবরাহের দাবিতে সক্ষম নাও হতে পারে। তদুপরি, যদি ধর্মের ভাষাটি কেবল পৌরাণিক কাহিনীর ভাষা হয়ে যায় এবং ধর্মীয় বিশ্বাসগুলিকে কেবল শক্তিশালী এবং প্রায়শই মানবিকভাবে বাধ্যকারী পৌরাণিক কাহিনী হিসাবে দেখা হয়, তবে সেগুলি ধারণা হয় যে বাস্তবে কেবল একটি নাস্তিক পদার্থ রয়েছে। আস্তিক কোন মহাজাগতিক দাবি করছে না যে নাস্তিক নয়; এটা ঠিক যে তার বক্তৃতা, যার মধ্যে "সত্য পৌরাণিক কাহিনী" সম্পর্কে তার অপ্রকাশিত বক্তৃতাও এমন একটি ভাষা যা অনেক লোকের কাছে আরও শক্তিশালী আবেগপ্রবণ শক্তি রয়েছে।

 নাস্তিকতার সাথে অজ্ঞেয়বাদের একটি সমান্তরাল বিকাশ রয়েছে। একজন অজ্ঞেয়বাদী, একজন নাস্তিকের মতো, তিনি দাবি করেন যে তিনি জানেন না যে ঈশ্বর আছেন-অথবা, আরও সাধারণভাবে, তিনি জানেন না বা ঈশ্বরের অস্তিত্ব বিশ্বাস করার উপযুক্ত কারণ নেই-কিন্তু নাস্তিকের বিপরীতে তিনি মনে করেন না যে তিনি ন্যায্য ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই বা, আরও শক্তিশালী, ঈশ্বরের অস্তিত্ব থাকতে পারে না। একইভাবে, যখন কিছু সমসাময়িক নাস্তিক বলে যে উন্নত আস্তিকতায় ঈশ্বরের ধারণার কোনো মানে হয় না এবং এইভাবে ইহুদি, খ্রিস্টান এবং ইসলামিক বিশ্বাসকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে, অনেক সমসাময়িক অজ্ঞেয়বাদীরা বিশ্বাস করেন যে ঈশ্বরের ধারণা আমূল সমস্যাযুক্ত। তারা বজায় রাখে যে তারা সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম নয় যে, একদিকে, এই জাতীয় ধর্মের শর্তাবলী এবং ধারণাগুলি এতটাই সমস্যাযুক্ত যে এই জাতীয় ধর্মীয় বিশ্বাসের অর্থ হয় না বা অন্য দিকে, যদিও কথা হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে আমূল বিরোধিতাপূর্ণ এবং অনেক উপায়ে বোধগম্য নয়, এই ধরনের আলোচনার একটি চূড়ান্ত রহস্যের উপর যুক্তিসঙ্গত বিশ্বাস তৈরি করার জন্য যথেষ্ট সংগতি রয়েছে। এই ধরনের একজন অজ্ঞেয়বাদী স্বীকার করে যে ঈশ্বর সম্পর্কে ধাঁধাগুলি ঈশ্বরের অস্তিত্বের জন্য পর্যাপ্ত প্রমাণ অর্জন করা সম্ভব কিনা তা নিয়ে বিভ্রান্তির চেয়েও গভীরভাবে কেটে যায়। বরং, তিনি "ঈশ্বর" এর জন্য একটি পর্যাপ্ত নননথ্রোপোমরফিক, বহির্ভাষাগত রেফারেন্স প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা দেখেন। (এর জন্য তাকে এই বিশ্বাসের প্রতি দায়বদ্ধ করার দরকার নেই যে তত্ত্ব থেকে স্বাধীন কোনো পর্যবেক্ষণ আছে।) বিশ্বাসীরা মনে করেন যে, যদিও ঈশ্বর একটি রহস্য, এই ধরনের একটি রেফারেন্স সুরক্ষিত করা হয়েছে, যদিও এটি একটি রহস্য রয়ে গেছে। বিপরীতভাবে, আমি বিশ্বাস করি যে এটি হয়নি, এবং প্রকৃতপক্ষে কেউ কেউ বিশ্বাস করে যে এটি নিরাপদ হতে পারে না। রহস্য সম্পর্কে কথা বলার জন্য, তারা বজায় রাখে এড়িয়ে যাওয়ার উপায়। সমসাময়িক অজ্ঞেয়বাদীরা (সেই সমস্ত অজ্ঞেয়বাদী যারা উপরে বর্ণিত একজন নাস্তিককে সমান্তরাল করে) সন্দেহের মধ্যেই থেকে যায় এবং তারা নিশ্চিত যে ঈশ্বরের স্থগিত পদ্ধতিতে কথা বলা এই ধরনের রেফারেন্সকে সবেমাত্র সুরক্ষিত করে কিনা বা সর্বোপরি, এটি ব্যর্থ হয় কিনা সে সম্পর্কে সন্দেহের সমাধান করার কোন যৌক্তিক উপায় খুঁজে পায়না এবং ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য কিছুই "ঈশ্বর" দ্বারা উল্লেখ করা হয় না।

 তীব্র ধর্মীয় প্রতিশ্রুতি, যেমন বিশ্বস্ততার ইতিহাস স্পষ্ট করে, কখনও কখনও ঈশ্বরকে জানার মানুষের ক্ষমতা সম্পর্কে গভীর সন্দেহের সাথে হাত মিলিয়েছে। এটা বিশ্বাস এবং অবিশ্বাসের মধ্যে বিরোধের জন্য সকল পক্ষের দ্বারা একমত যে ধর্মীয় দাবীগুলি পরস্পরবিরোধী। তদ্ব্যতীত, কোনটি অর্থহীন এবং কোনটি নয় বা কোনটি বোধগম্য এবং কোনটি নয় তা গভীরভাবে বিতর্কিত। এটা বলা যথেষ্ট ন্যায্য যে কোন সাধারণভাবে গৃহীত মানদণ্ড নেই।

 বিশ্বাস, অজ্ঞেয়বাদ এবং নাস্তিকতার মধ্যেকার যুক্তিগুলির মধ্যে এই বৈচিত্র্যপূর্ণ বিবেচনাগুলিকে মাথায় রেখে, এটি একটি ব্যক্তিগত সৃজনশীল বাস্তবতা রয়েছে যা স্থান ও সময়ের সীমার বাইরে এবং অতিক্রান্ত বলে বিশ্বাস করার কোনও উপযুক্ত কারণ আছে কিনা তা জিজ্ঞাসা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের. এমনকি এই ধরনের কথা বলার পর্যাপ্ত বোধগম্যতা আছে যাতে এই ধরনের বাস্তবতা ধর্মীয় অঙ্গীকারের বস্তু হতে পারে? (একজন যা বোঝে না তার প্রতি বিশ্বাস রাখতে বা গ্রহণ করতে পারে না। মানুষকে অন্তত কোনো না কোনোভাবে বুঝতে হবে যে এটিতে বিশ্বাস রাখতে সক্ষম হওয়ার জন্য তাদের বিশ্বাস থাকতে হবে। যদি একজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ইরগলিগকে বিশ্বাস করার জন্য, তিনি তা করতে পারেন না যতই দৃঢ়ভাবে তিনি বিশ্বাসের ভিত্তিতে কিছু নিতে চান।)

 এটি একটি নিষ্ঠুর সত্য বলে মনে হয় যে সেখানে কেবলমাত্র সসীম এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ ভরের অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশাল সংগ্রহ বা জিনিসের সমষ্টি এবং প্রক্রিয়াগুলি "মহাবিশ্ব" শব্দটি বোঝায়। মানুষ বিস্ময় এবং ধাঁধা অনুভব করতে পারে যে আসলেই একটি মহাবিশ্ব আছে। কিন্তু সেই সত্য, বা একেবারেই যে একটি বিশ্ব আছে, এই দাবির লাইসেন্স দেয় না যে একটি অসংলগ্ন বাস্তবতা রয়েছে যার উপর বিশ্ব নির্ভর করে। এটাও স্পষ্ট নয় যে এই ধরনের আকস্মিকতার অনুভূতি এমন একটি অসংলগ্ন জিনিস কী হতে পারে তা বোঝা যায়। নাস্তিক হিসেবে আমি মনে করি যে "ঈশ্বর" এর রেফারেন্স পরিসীমা এতটাই অনিশ্চিত এবং ঈশ্বরের ধারণা এতটাই সমস্যাযুক্ত যে ঈশ্বরে বিশ্বাস করা যুক্তিসঙ্গতভাবে সে সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন কারো পক্ষে দেওয়া অসম্ভব; বিপরীতে, বিশ্বাসীরা মনে করেন যে, যদিও "ঈশ্বর" এর রেফারেন্স পরিসীমা অনিশ্চিত, এটি এতটা অনিশ্চিত নয় এবং ঈশ্বরের ধারণাটি বিশ্বাসকে অযৌক্তিক বা অসঙ্গত করে তুলতে সমস্যাযুক্ত নয়। এটা জানা যায়, তারা দাবি করে যে, ঈশ্বরের কথা বলা সমস্যাযুক্ত এটা এতটাই সমস্যাযুক্ত যে ধর্মীয়ভাবে উপযুক্ত বোধ থাকা সত্ত্বেও। অজ্ঞেয়বাদীরা বলে যে কোন যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত পদ্ধতি নয়। এটা জানা যায় না এবং নিশ্চিত করা যায় না যে "ঈশ্বর" একটি ধর্মীয়ভাবে পর্যাপ্ত রেফারেন্স সুরক্ষিত করেন কিনা। এই ইস্যুটির প্রতিফলন করার জন্য যা মনে রাখা দরকার, তা হল একটি "সামগ্রিক জিনিস" একটি প্লোনাজম এবং "অসীম বাস্তবতা" কোন বোধগম্য নয় এবং মানুষ যখন নৃতাত্ত্বিকতার বাইরে যায় (বা এর বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করে) তখন এই বিশ্বাসকে একটি সুসংগত সম্ভাবনা তৈরি করার জন্য "ঈশ্বর" দ্বারা কী উল্লেখ করা হয়েছে সে সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা থাকা সম্ভবপর হয় না।

পরিশেষে, পাস্কালিয়ান বা দস্তয়েভস্কিয়ান বাঁক নেওয়া এবং দাবি করা হবে না যে, বুদ্ধিবৃত্তিক অযৌক্তিকতা। ধর্মীয় বিশ্বাস আবশ্যক, যেহেতু ঈশ্বরে বিশ্বাস ছাড়া নৈতিকতার অর্থ হয় না এবং জীবন অর্থহীন। এই দাবিটি মিথ্যা, কারণ জীবনের কোনো উদ্দেশ্য না থাকলেও জীবনের উদ্দেশ্য অনেক-যে জিনিসগুলো মানুষ যত্ন করে এবং করতে চায়-যা একটি ঈশ্বরহীন পৃথিবীতেও পুরোপুরি অক্ষত ভাবে করতে পারে। মানুষকে নির্যাতন করা জঘন্য, এবং বন্ধুত্ব, সংহতি, ভালোবাসা এবং আত্মসম্মান অর্জন একটি সম্পূর্ণ ঈশ্বরহীন পৃথিবীতেও মানুষের সম্ভব।লোকেরা কীভাবে জানে যে এই জিনিসগুলি ভাল তা নিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক ধাঁধা রয়েছে, বিকোশিত জ্ঞানের মাধ্যমে। তবে এটি একটি ধর্মীয় নীতির স্বতন্ত্র দাবির জন্য দ্বিগুণ সত্যকে লুকিয়ে রাখে। মোদ্দা কথা হল (প্রত্যেক ধর্মগ্রন্থগুলো নিদৃষ্ট কিছু মানুষের জীবন বৃত্তান্ত বর্ণনা করা আর অদৃশ্যের প্রতি ভয় প্রদর্শিত করা ছাড়া আর কিছু নয়) এই জিনিসগুলি কাম্য নয়, ঈশ্বরের অনুপস্থিতিতেও জীবনের আরও অনেক কিছু থাকে যা আমাদের বোধগম্য। অযথা তর্কে না জড়িয়ে সঠিক বিজ্ঞানমনস্কে আমরা অগ্রসর হই এই দুর্বোধ্য যাত্রায়।

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...