Tuesday, June 25, 2019

সাম্প্ৰতিক চিন্তা : শিক্ষক এবং রাজ‍্যবাসীর জ্ঞাতার্থে

শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড, শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি উন্নতি লাভ করতে পারেনা, “যে জাতি যত বেশী শিক্ষিত সে জাতি তত বেশী উন্নত।” এসব প্রবাদগুলো যাকে ঘিরে রচিত হয়েছে তিনি হলেন “শিক্ষক”। শত শত বছর ধরে শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। শিক্ষাগুরু হিসেবে শিক্ষকরা দেশ, সমাজ ও জাতির কাছে নমস্য ব্যক্তি। এই মহান মহান কথাগুলো বিগত কয়েকদিন আগ পর্যন্ত জানতাম শিক্ষকতায় মানানসই। জানতাম শিক্ষকদের সম্মানে 'শিক্ষক দিবস' পালন করা হয়।  কিন্তু সেদিনের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর রেডিওতে দেয়া সাক্ষাৎকারে রাজ‍্যের শিক্ষকদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তা এখন সন্দেহ হচ্ছে । মানে মাননীয় জানেন তো যে উনি  শিক্ষামন্ত্রী বা শিক্ষকের দায়িত্ব ও কর্তব্য কী? আমি সন্দেহে তাই বলছি! মনের কথা হলো যদি জানতেন তবে কীভাবে তুলনা করলেন শিক্ষকদের ড্রাইভার ও টেট সার্টিফিকেট ড্রাইভিং লাইসেন্স। এখানে আমি একটুও খাটো করছিনা গাড়ি চালক ভাইদের। প্রত‍্যেকটা সৎ পেশাই সম্মানের। কিন্তু মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর রুচিবোধের জন‍্য আশ্চর্য হলাম।

গণতান্ত্ৰিক ব্যবস্থায় ন‍্যায‍্য প্ৰাপ্তির জন্য আন্দোলন এক অতি জনপ্ৰিয় মাধ্যম । আন্দোলনের ব্যাপকতা ইহার বিষয়বস্তুর সঙ্গে জড়িত । অবশ‍্য কিসের জন‍্য আর কতজন মানুষ নিয়ে এই আন্দোলন হচ্ছে এর উপরও আন্দোলনের ব্যাপকতা নিৰ্ভর করে । আর এই ধরণের বিষয়ের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময় বিখ্যাত আন্দোলন গড়ে উঠেছিল । উদাহরণ হিসেবে বিখ্যাত চিপকো আন্দোলনও এই ধরণের এক আন্দোলন । পরিবেশ বা জীবজন্তুর সুরক্ষায় মানুষ যত আন্দোলন,মিছিল করে যদিও পরিবেশ বা জীবজন্তু বোঝতে পারে না। সেখানে মানুষ তার নিজের প্রতি হওয়া অন‍্যায় এবং অবিচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা অতি স্বাভাবিক বিষয়। আমাদের অসম রাজ‍্যে আন্দোলন ছাড়া নিজের অধিকার আদায় হয় না। এটা প্রায় বিশ্বাস‍্য। অসমের রাজপথে নেতা আর আন্দোলনকারীদের ভিড় রোজনামচা। আন্দোলনের কুফল যে কতটা মর্মান্তিক তা বলার ইয়ত্তা রাখে না। আন্দোলনের ভয়াবহতা এতই মারাত্মক যে সময়মত রোগী হাসপাতালে যেতে না পারায় মাঝপথে মৃত্যু হচ্ছে। আন্দোলনের ফলে সরকারি বিভিন্ন ক্ষেত্র অনেক লোকসানের সম্মুখীন হতে হচ্ছে ।তথাপিও আন্দোলনের তীব্রতা দিন দিন বেড়েই চলছে। অধিকার আদায়ে এই ধরণের আন্দোলন বাঞ্চনীয়।

বিগত কয়েকদিন থেকে লক্ষ্য করা যাচ্ছে অসমের সংবাদ মাধ‍্যম গুলোর শিরোনাম। টেটের মাধ্যমে ঠিকাভিত্তিক শিক্ষকদের আন্দোলন। অনলাইন, অফলাইন তথা বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যম সমস্ত রাজ‍্যবাসীর দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য সুস্থ সংবাদ পরিবেশন করছে, তাদের প্রয়াস শুদ্ধ এবং  যথাযোগ্য ভাবে বিষয়টি সরকার এবং জনগণের মধ্যে তোলে ধরা। প্রশ্ন উঠছে- শিক্ষকদের দাবি যথাযোগ্য কী? ঠিকাভিত্তিক নিয়োজিত হয়ে কীভাবে নিয়মিত হওয়া যায়? দুর্বল প্ৰমানপত্ৰ দিয়ে প্ৰচলিত আইনের আওতায় কিভাবে চাকরি নিয়মিত হবে? যদি এটাই সত‍্য হয় তবে শিক্ষকরা সরকার ও জনগণের অযথা সময় নষ্ট করছেন না তো? উত্তর - নিশ্চয়ই না । যুক্তিহীন, ভিত্তিহীন কথায় প্ৰায় ৪১০০০ শিক্ষক রাজপথে আসে নাই। মনের স্বাদে আষাঢ়ের তপ্ত গরমে ডিসি অফিসের সম্মুখে ধর্ণায় আসে না। এর পেছনে ন‍্যায‍্যের দাবী। সকল শিক্ষকের   দাবী যুক্তিসংগত, ন্যায়সংগত এবং মানবীয় দৃষ্টিতে শুদ্ধ ।

অসমে সরকারি শিক্ষা ব‍্যবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষক নিযুক্তি দেওয়ার দায়িত্ব প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের। ২০০৯ সনের শিক্ষার অধিকার আইন গ্রহণ করার পর ভারতের প্রায় সব রাজ‍্যেই তা পালন করা হয় অৰ্থাৎ ২০১১ সনের পর এই আইন বলবৎ হয়। কাজেই এই আইনের আওতায় প্রয়োজন হয়ে পড়ল যোগ‍্যতাসম্পন্ন শিক্ষক (টেট উত্তীর্ণ) এবং প্রফেশনাল ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা থাকা লোকের। ২০১২ সনের জানুয়ারি মাসে প্রথমবারের মতো টেট পরীক্ষায় প্রায় ৫২,০০০ এর অধিক প্রার্থী যদিও বেশিরভাগের শিক্ষার পেশাদারি ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা ছিল না। অথচ সেই সময় রাজ‍্যের প্রাথমিক বিদ্যালয় সমুহে PTR মতে এবং আইনের মতেও চালানোর জন্য এক বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের প্রয়োজন ছিল। এখানে উল্লেখ্য যে NCTE এর মতানুসারে টেট পরীক্ষা দেওয়া প্রার্থীর অভাবের প্রতি লক্ষ্য রেখে তিনবার শিক্ষাগত যোগ্যতার শিথিলকরণ(relaxation) করা হয়েছিল। অৰ্থাৎ রাজ‍্য সরকার তার প্রয়োজনে আইনের হাত থেকে বাঁচতে এই প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ভারত সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে। আমাদের বোঝাতে অসুবিধা হচ্ছে বর্তমান অবস্থা নিয়ে। RTE এবং NCTE র গাইড লাইন অনুসারে রাজ‍্যের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিযুক্তির কাজ শুরু হয় কিন্তু এই প্রক্রিয়া প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের দ্বারা নয় সর্বশিক্ষা মিশনের মাধ্যমে ঠিকাভিত্তিক এক নিদৃষ্ট মাইনেতে।  আর তার সঙ্গে এমন এক চুক্তিপত্ৰ করা হয় বিদ্যালয় পরিচালনা সমিতি এবং নব‍্য নিযুক্ত শিক্ষকের মধ্যে। যেখানে প্ৰাথমিক  শিক্ষা বিভাগ বা সৰ্বশিক্ষা মিশনের কারোর স্বাক্ষর নেই।অৰ্থাৎ আরম্ভনীতেই কোণঠাসা করে রাখা হয়। অবশ্য নিয়োগের আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে বলা হয়েছিল যখন শিক্ষকতার বৃত্তিগত ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা শিক্ষকরা লাভ করবেন তখন নিয়মিত পদে রাখা হবে। সমান্তরালভাবে রাজ‍্যের বিভিন্ন মহাবিদ্যালয় সমুহে 'কৃষ্ণকান্ত সন্দিকৈ রাজ্যিক মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে  শিক্ষকতার বৃত্তিগত ডিপ্লোমার ব্যবস্থা করা  হল । কিন্তু শিক্ষকের অনুপাতে সীমিত আসনের জন‍্য সকলের একসাথে সুবিধা হয় নাই। পৰ্যায়ক্ৰমে দুই-তিনবারে তা করতে হয় । একসাথে নিযুক্তি মিললেও ডিপ্লোমা অর্জন করে নিয়মিতকরণে যে  পর্যায়ক্রম তা বিশেষ ভাবে অন‍্যায় হয়েছে।

২০১২ সালের সাধারণ টেটের পর Medium TET, Caste TET, Madrassa টেট, শিক্ষা মিত্ৰ টেট নামে কয়েকটা টেট পরীক্ষাও পাতা হল এবং মাদ্রাসা টেটকে বাদ দিয়ে প্রায় সকলেই ঠিকাভিত্তিক বা নিয়মিত চাকরির সুবিধা লাভ করেছিলেন। এখানে মনে রাখা দরকার সবগুলো টেটে কিন্তু পরীক্ষার মুঠ নম্বরের মধ‍্যে তারতম্য ধরানো হল। অৰ্থাৎ এখানেও এক বৈষম্য রেখে অন‍্যায়ের বীজ রোপন করা হল সময়ে অঙ্কুরিত হওয়ার জন্য। প্রতিবারই ঠিকাভীত্তিক শিক্ষকদের এই আশ্বাসের ললিপপ দিয়ে এই কথা বলা হয় যে RTE  আইনের অধীনে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কোনদিনই বাদ দেয়া যাবে না ,ঠিকাভীত্তিক হলেও ৬০ বছর পর্যন্ত চাকরি নিশ্চিত। পুরটাই এক নাটকীয় চাল।। খুব সংখ্যক বাদ দিয়ে "অন্ধের জষ্টি" -- পেটের দায়ে চাকরি জুটলো কারো ২০০ কি.মি. দূরে, বৃদ্ধ মাতা-পিতার সেবা ছেড়ে চাকরি মিলল শদিয়া থেকে বরপেটা, স্ত্রী আর ছোট্ট কন‍্যা সন্তান টি রেখে আসতে হল ডিব্রুগড় থেকে করিমগঞ্জে। এখানে আমি সময়ের স্বল্পতার জন্য কমিয়ে বলেছি। এভাবে আরও দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে টেট শিক্ষকদের সাথে তা অত্যন্ত মর্মস্পর্শী।

একটা দুটা করে সাতটা বসন্ত পেরিয়ে গেলো। সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়। দেশের রাজনীতির পরিবর্তন, রাজ‍্য রাজনীতির পরিবর্তন, নেতাদের দল পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের হাওয়া যখন বইছে তখন কী আর শিক্ষকরা বাকি থাকবে! প্ৰতিকূল পরিস্থিতির মধ‍্যেও টু শব্দ করতে পারবেনা শিক্ষকরা বলা হলো। সোনার হরিণের আশায় পরিবর্তনে গদি বদলে চাকরি নিয়মিত হবে এই আশায় মরিয়া আনন্দে শিক্ষকরা। সত্যিই সরকারের পরিবর্তন হল। কিন্তু এই আশায় বন্দী হয়ে expiry হয়ে গেল চাকরি। জং ধরলো নিয়মিত করণের ঠ‍্যাং এ।
সন্দেহ এবং শংকার বীজ যেহেতু প্রথম থেকেই গাড়া ছিল তাই এই পরিবর্তনের বাতাসে এই ভাগ‍্যবান শিক্ষকদের দুঃশ্চিন্তা ক্রমাগত বাড়তে লাগল। উচ্চতম ন্যায়ালয়ের "সম কাজের সমান মর্যাদা" এই সকল ঠিকাভিত্তিক শিক্ষকদের দেয়া হলনা । পুরানো বা অন্যান্য শিক্ষকদের যদি বাদ দেওয়া হয়, তবে মাসিক বেতনের ক্ষেত্রে টেট পাশ করা নিয়মিত ও ঠিকাভিত্তিক শিক্ষকদের মধ্যে আগ পিছ কোন মিল নেই। কারণ এরা যে ঠিকাভিত্তিতে নিয়োজিত। শুরু হল অফিসে অফিসে দৌড় পর্ব। প্রয়োজন হল সংগঠনের, সংগঠিত ভাবে কাজ করার। রাজপথে নামা হল অন‍্যায়ের প্রতিবাদে। চিরাচরিত ভাবে যেভাবে আশ্বস দেয় সেটাই হল। কারণ এখানে প্রতিবারই নিধিরাম সর্দারই হয়। যদিও দু-চারটা সুবিধা দেয়া হল। । কিন্তু বৈষম্যটা রয়ে গেল। মধ‍্যে আবার ২০১৭ সনে কিছু নিয়মিত পদের জন্য বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। যদিও আগের মতই নিয়ম মেনে, আবেদন নতুন করে জমা দেয়া, কোন অগ্রাধিকার নেই, নেই কোনোঅভিজ্ঞতার নম্বর,নেই কোন রেহাই, অৰ্থাৎ ৫ বছর  অতিক্ৰম করার পরও পুনরায় নতুন করে সব, এমনকি মাইনেটাও। লোকসানের কথা জেনেও নিয়মিত করণের দৌড়ে সামিল হয় সবাই। একদিকে বয়সের ছাপ আর অন‍্যদিকে নিয়মিত করণের চিন্তা, এটা যেন সীতার অগ্নি পরীক্ষা।

খুব সুন্দর গাইড লাইন বানিয়ে দেওয়া হয়েছে শিক্ষকদের কে। কি বলবে, কি পরবে, কিভাবে চলবে। বেশতো, মানলাম শিক্ষার মান উন্নয়নে এসব হচ্ছে। কিন্তু এই ধরণের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, এতে তো আর চুপ থাকা যায় না। পেটের তাগিদে ভয়ে অনেকেই বিষ খেয়ে বিষ হজম করে আছেন। কিন্তু আর কত! যেদিন যা মুখে এলো বলে দিলেন। এটা কি ধরণের সিস্টেম। এর আগেও বহুবার এই শিক্ষক সমাজ অনেক ধরণের আপত্তিকর মন্তব্যের শিকার হয়েছে। এভাবেই কী চলবে শিক্ষকদের নিয়ে ছেলেখেলা? এটা কখনই সহ‍্য করা যাবেনা।
এরাজ্যে ৪১০০০ ঠিকাভীত্তিক শিক্ষক রয়েছেন। আবার টেট হবে,রাজ‍্যের ঠিকাভীত্তিক শিক্ষকদের পুণরায় টেট উত্তীর্ণ হতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো, এতো দিন থেকে চাকরি স্থায়ীকরণ কেন করা হলো না ? এটা কি কোন বিভাগীয় দুর্বলতা, না পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বোঝতে পারছি না। কিন্তু এটা বোঝতে পারছি আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী টেট সার্টিফিকেট আর ড্রাইভিং লাইসেন্সের মধ্যে হয়তো কোন ফারাক বোঝেন না।

বিগত কয়েক দিন থেকে আমাদের সহযোদ্ধারা নেতৃত্ব দিয়ে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের জানাই ধন্যবাদ ও সেলাম। সঙ্গে ধন্যবাদ জানাই সকল অংশগ্রহণকারী সতীর্থ শিক্ষকদের, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কর্মীবৃন্দ,নেতা,সাংবাদিক বন্ধু, এবং সমস্ত রাজ‍্যবাসীকে। কিন্তু আমাদের এই সংগ্রামে নানা ধরণের ভয়, প্রলোভন দেখানো হবে, আমাদের সংযত এবং ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদের সংকল্প হোক কোন অপশক্তির কাছে হার নামানা।  সংগ্রাম যত দীর্ঘ হয় হোক আমাদের অধিকার আদায় করতেই হবে। আমাদের দাবি--  "বিনা শর্তে বেতনসুরক্ষা সহ নিয়মিত করণ"। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ৪১০০০ শিক্ষকদের অভিভাবক নন। যদিও উনার হাতে আইন আছে তথাপি অগণতান্ত্রিক কাজ হলে আমরা এর প্রতিবাদ করবই। সবশেষে একটাই কথা আমাদের সংযত হয়েই সংগ্রাম এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। যত বাধাই আসুক না কেনো।

Wednesday, June 5, 2019

প্রসঙ্গ: বিট এয়ার পলিউশন

রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘প্রাণ’ কবিতায় বলেছেন, “মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই”। কিন্তু সুন্দর ভুবনকে আমরা কি সুন্দর রেখেছি? আজ যেন তা হয়ে দাঁড়িয়েছে অসুন্দরের এক জীবন্ত প্রতিমূর্তি। মানবসভ্যতার শত্রু নাগিনীদের বিষাক্ত নিঃশ্বাসে, তাদের অদূরদর্শি কর্মকাণ্ডের ফলে আজ পৃথিবীকে ক্রমশ করে তুলেছে মনুষ্যবাসের অযোগ্য এক দুর্বিষহ বন্দীশালায়। দিনকে দিন বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বদলে যাচ্ছে জলবায়ু, যা পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।

১৯৭৩ সাল থেকে, মানব পরিবেশে সুস্থ ও সবুজ পরিবেশের গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন শুরু করা হয়। সরকার, সংগঠন ইত্যাদি দ্বারা কিছু ইতিবাচক পরিবেশগত কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিবেশের সমস্যা সমাধানের জন্য এই দিন উদযাপন করা হয়। ১৯৭২ সালে মানব পরিবেশে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ৫ই থেকে ১৬ ই জুন রাষ্ট্রসংঘে শুরু হয়। বিশ্ব পরিবেশ দিবসটি প্রথম জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এবং রাষ্ট্রসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) কিছু কার্যকর প্রচারণা চালানোর মাধ্যমে প্রতি বছর উদযাপন করা হয়।

এমনিতেই তথাকথিত ‘সভ্যতা’র সাথে পরিবেশের এক বৈরিতা আছে; সভ্যতার অগ্রগমন বা বিকাশ মানেই নতুন নগর, জনপদ সৃষ্টি, যা পরিবেশের একটা মাত্রার ধ্বংসসাধন করেই গড়ে উঠেছে। কিন্তু তা একপ্রকার নিমিত্তমাত্র; পরিবেশের মূল বিপদ হচ্ছে পুঁজির অদম্য লালসা। পুঁজির মুনাফা তৈরি ও তার সংহতকরণ, শিল্পের জন্য পরিবেশ ধ্বংস যে মাত্রায় হয়ে চলেছে, তা এই পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যের প্রতি এক অশনি সংকেত বয়ে এনেছে। নির্বিচার খনিজ আহরণ ও তার সাথে কারখানার অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য – প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে আমাদের পরিবেশকে খুন করে চলেছে এবং এই সবকিছুই হচ্ছে এক নির্দিষ্ট আর্থ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, যা মানবসভ্যতার শত্রু হিসাবেই গণ্য হওয়া উচিৎ।

সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে, জনগণকে পদক্ষেপ নিতে এবং পরিবেশ রক্ষা করার জন্য প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হয় । বিশ্ব পরিবেশ দিবসের বর্তমান থিম বায়ু দূষণ। বিশ্ব পরিবেশ দিবসটি ১৯৭৪ সাল থেকে উদযাপন করা হয়, এটি ১০০ টিরও বেশি দেশে ব্যাপকভাবে পালন করা হয়। পৃথিবী এবং পরিবেশের যত্ন নেওয়ার জন্য এটি "জনগণের দিন"। পরিবেশকে সুরক্ষার উপায়গুলি জানার জন্য এটি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। চলুন আমাদের বিশ্বব্যাপী পরিবেশের উদ্দেশ্য, থিম এবং ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা যাক। ১৯৭৩ সালে "একমাত্র পৃথিবী" থিম নিয়ে প্রথমবারের মত বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়।  এবং ১৯৭৪ সাল থেকে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের উদযাপন অভিযান বিশ্বের বিভিন্ন শহরে হোস্ট করা হয়।

বনাঞ্চল ধ্বংস, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, অপচয় ও খাদ্যের ক্ষতি, দূষণ ইত্যাদি পরিবেশগত সমস্যাগুলি মোকাবেলা করা জরুরি। বিশ্বজুড়ে সারা বিশ্বকে কার্যকর করার জন্য একটি নির্দিষ্ট থিম এবং স্লোগানের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রচার সংগঠিত হয়। গ্রীনহাউস প্রভাবগুলি হ্রাস, অবনমিত জমির উপর মনোনিবেশ, সৌর উত্সের মাধ্যমে শক্তি উৎপাদন, প্রবাল প্রতিপালন এবং ম্যানগ্রোভ উন্নীতকরণ, নতুন নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয় এই দিনটিকে সফলভাবে অর্জনের জন্য উদযাপন করা হয়।

২০১৫ সালে অ্যালেন ম্যাকআর্থার ফাউন্ডেশনের পরিচালিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে বিশ্বের প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি করা হয়েছে এবং এর মধ্যে প্রায় ৯0% কমপক্ষে ৫00 বছরের মধ্যেও বিযুক্ত হবে না।  বিজ্ঞানীদের মতে, মাইক্রো-প্লাস্টিক বা ক্ষুদ্র টুকরা মাটির মধ্যে, জলের নল, বোতলজাত পদার্থ, বিয়ার এবং এমনকি বাতাসে শ্বাসপ্রশ্বাসে পাওয়া যায়।

পরিবেশের সমস্যা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হয়। এর উদ্দেশ্য--
- বিভিন্ন সমাজ ও সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষকে উদযাপন অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নে সক্রিয় এজেন্ট হিসাবে উত্সাহিত করা।

- নিরাপদ, ক্লিনার এবং আরো সমৃদ্ধ ভবিষ্যত উপভোগ করার জন্য লোকেদের তাদের আশেপাশে নিরাপদ এবং পরিচ্ছন্ন রাখার উত্সাহিত করা।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার জন্য, পরিবেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  এটি আমাদের বায়ু, খাদ্য ইত্যাদি সরবরাহ করে। এটি সঠিকভাবে বলা হয়েছে যে, প্রাণী ও মানুষের মধ্যে পার্থক্য হলো প্রাণীরা পরিবেশের জন্য নিজেকে পরিবর্তন করে, কিন্তু মানুষ নিজেদের জন্য পরিবেশ পরিবর্তন করে।  পরিবেশ আমাদের আশেপাশের মতোই, এর পার্শ্ববর্তী পরিস্থিতি আমাদেরকে প্রভাবিত করে এবং উন্নতি ও উন্নয়নকে সংশোধন করে।

এই মুহুর্তে পরিবেশকে রক্ষা করার একটি সর্বাধিক প্রয়োজন রয়েছে, এবং বিশ্ব পরিবেশ দিবসটি যা ৫জুন প্রতি বছর উদযাপন করা হয়, এবং হাইলাইট হয়।  এই বছরের, থিম 'বায়ু দূষণ'। গত বছর ভারত হোস্ট দেশ ছিল, এবার চীন এই সম্মান করবে।  হেজঝো, চেচিয়াং প্রদেশে অবস্থিত, প্রধান ইভেন্ট হোস্ট করেছে। "২০১৯ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে চীন একটি মহান বিশ্বব্যাপী হোস্ট।  দেশীয়ভাবে বায়ু দূষণ মোকাবেলা করতে দেশটি অসাধারণ নেতৃত্ব প্রদর্শন করেছে। বায়ু দূষণ একটি আন্তর্জাতিক জরুরী ,প্রত্যেককে প্রভাবিত করে।রাষ্ট্রসংঘের প্রেস রিলিজে ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল জোয়েস মাসুয়া বলেছেন, "লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য চীন এখন ধাক্কা দিবে এবং বিশ্বব্যাপী পদক্ষেপকে উৎসাহিত করবে।"। 

বিশ্ব পরিবেশ দিবসটি ইকো ডে নামেও পরিচিত।  এই দিনটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের পরিবেশ এবং এর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য উদযাপন করা হয়। পরিবেশ একটি পার্শ্ববর্তী বা শর্ত যেখানে একটি ব্যক্তি, প্রাণী বা উদ্ভিদ বসবাস বা সমাজ পরিচালনা করে।  পরিবেশের গুরুত্ব বোঝা আমাদের দরকার এবং মানুষের দ্বারা অন‍্যান্য এবং জীবনযাত্রার প্রকৃতি সংরক্ষণ ও সংরক্ষণের জন্য প্রচুর ক্রিয়াকলাপ করা হয়। ভবিষ্যতের পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য জনগণ আজকে আরোও অনিচ্ছুক এবং উদাসীন।

বায়ু দূষণ দিনে দিনে বাড়ছে এবং এটি নিয়ন্ত্রণে জটিল বলে মনে হচ্ছে ।কিন্তু এটি অসম্ভব নয়, আমরা এটিকে মোকাবেলা করতে একসাথে আসব।  এবং এর জন্য বিভিন্ন ধরনের দূষণ বুঝতে হবে, এটি আমাদের স্বাস্থ্য এবং পরিবেশকে কীভাবে প্রভাবিত করবে আমাদের চারপাশে বায়ু উন্নত করতে পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে। আমরা শ্বাস বন্ধ করতে পারছি না কিন্তু আমরা শ্বাস প্রশ্বাসের বায়ুর মান উন্নত করতে কিছু করতে পারি।  বায়ু দূষণ থেকে পৃথিবীর প্রায় ৭ মিলিয়ন মানুষ বায়ু দূষণের কারণে মারা যায় এবং ৭মিলিয়ন, ৪মিলিয়ন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘটে।

বায়ু দূষণ সম্পর্কিত ঘটনা--
বিশ্বব্যাপী প্রায় ৯২ শতাংশ মানুষ পরিষ্কার বাতাসে শ্বাস নেয় না।
- প্রতি বছর, বায়ু দূষণ বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির ব্যয় ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের কল্যাণ খরচ করে।
- ২0৩0 সালের মধ্যে, স্থল-স্তরের ওজোন দূষণের ফলে প্রধান ফসল উৎপাদনের পরিমাণ কমে ২৬%।

প্রতি বছর, প্রায় সাত মিলিয়ন মানুষ বায়ু দূষণের কারণে অকালিকালীন মারা যায়।  প্রায় চার মিলিয়ন মৃত্যু এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘটে। এই বছর, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং সবুজ প্রযুক্তির বিভিন্ন উত্সগুলি আবিষ্কারের জন্য সম্প্রদায়, ব্যক্তি, সরকারি সংস্থাগুলি, শিল্পগুলিকে একত্রিত করবে, যার ফলে সারা বিশ্ব জুড়ে শহর ও অঞ্চলে বায়ুর মান উন্নতিতে সহায়তা করবে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে টেকসই বিকল্প অন্বেষণে রাষ্ট্রসংঘ ,সরকার, শিল্প, সম্প্রদায় এবং প্লাস্টিক ও তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলির বিরুদ্ধে একত্রিত করার চেষ্টা করছে। ।  এটি একটি বিশ্বব্যাপী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে যেখানে মানুষ একত্রিত হতে পারে এবং ইতিবাচক পরিবেশগত ব্যবস্থা নিতে পারে।  আমাদের এই অভিযানে অংশগ্রহণ করা উচিত এবং দূষণের কারণে সৃষ্ট সমস্যাগুলি দূর করতে এবং পরিবেশকে পরিষ্কার করতে একত্রে যোগদান করা উচিত।  একসাথে আমরা পরিবর্তন করতে পারবো।

পরিবেশ সচেতনতা প্রসারে তথা পরিবেশের উপর আক্রমণের বিরুদ্ধে, কিছু মানুষ আওয়াজ তোলে, রাস্তায় নামে, ক্ষুদ্র শক্তি নিয়েও লড়াই করে, এমনকি প্রাণ দিতেও পিছপা হয়না। আজকের দুনিয়ায় পরিবেশের বিরুদ্ধে সংগ্রাম আসলে এক রাজনৈতিক সংগ্রাম, কারণ তাকে লড়তে হয় রাষ্ট্র, সরকার, কর্পোরেট পুঁজি ও তার বাহিনীর সাথে। আজ যখন আদিবাসীরা তাদের জল-জঙ্গল-জমীনের লড়াই চালায়, যা পরিবেশের সাথে তাদের জীবনের একাত্মতার প্রশ্ন, তা ব্যাপক রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসের মুখে পড়ে যায়। এই লড়াই তাই এক বিচ্ছিন্ন বিজ্ঞান ও পরিবেশের লড়াই না থেকে, সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলের লড়াইয়ের অংশ হয়ে ওঠে। দাবী উঠুক; জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশ নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে; ব্যাপক বনায়ন কর্মসূচী প্রণয়ন করা দরকার; পরিবেশ দূষণের সম্ভাবনা রয়েছে এরূপ প্রতিটি শিল্প-কারখানা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে; শিল্পবর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে; প্লাস্টিকের ব্যবহার শূণ্যের পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে। পরিবেশের এ ভয়ঙ্কর পরিবর্তনে বিজ্ঞানীরা চিন্তিত ও আতঙ্কিত। আজ পরিবেশ দূষণ মানব সভ্যতার জন্য ভয়ংকর বিপদের পূর্বাভাস। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার লক্ষ্যে যেকোনো মূল্যে পরিবেশ দূষণ রোধ করার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। আসুন, আজকের দিনে, নিজেদের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নির্মল, সবুজ ও আলোকিত পৃথিবী গড়ার জন্য আমাদের এ আবাসভূমিকে দূষণ মুক্ত করে তোলার অঙ্গীকার করি।

Monday, June 3, 2019

পেডিস্টল (দুঃসময়ের কবিতা)


১) আমি জানি ওরা আর বাঁচাতে দেবেনা
কারণ, পাড়ায় পাড়ায় একটা গুজব
প্রতিটা গলির মোড়ে রক্তের কালিতে লিখা
রক্তিম সাইনবোর্ড।

২) 'দুঃখ' শব্দটার যে ঠিক কতটা অর্থ
তা এক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
সরকারের মতো!

পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে রিফ‍্যুজি লতার মতো
সম্মিলিত অস্তিত্ব মৌন
বেশ‍্যাদের মৃত্যু মিছিল দেখে! !

৩) হারিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে মনে একটি বারের জন‍্যও
উঃ শব্দটা আসে না, মানে আসেই না
আজকাল এসব সহজাত
অর্থাৎ ' আপনা টাইম আয়েগা'।

৪)'রাষ্ট্র' আর 'বিপ্লব' দুটিই একে অপরের পরিপূরক
কেউবা থালা নিয়ে হাজির
কেউবা মালা নিয়ে
মূল অধ‍্যায়ের মূল‍্যায়ন নেহাত দুর্বল
আর বন্দুকের নলের আগে স্বাধীনতা
এসব আড়াল আজ শুধু চিত্রকল্প
সেই কৃষক ও নেই সেই ভার্সিটির ছাত্রও নেই
আছে কেবল কয়েকটা বলির পাঠা
তাই কবির ভাষায় খিস্তি হোক রাষ্ট্রীয় অ্যানথেম।

৫) অবশ্য মনের গন্তব্য তার গভীরতার দৈর্ঘ্য মাপে
সেন্টিমিটার বাই সেন্টিমিটার
জীবনের প্রতিটা  মূহুর্ত হিসেব কষে
মূলরোম থেকে জলস্তর পর্যন্ত।

যেখানে নিয়তির খেলা সাময়িক প্রসঙ্গ
যা আস্বাদন দুঃখবোধ আর বিলাপও।

পঞ্চভূতের পাঠশালা ফাঁটা জিন্সের পৃথিবী
নেশাতুর সালসা আর গিটারের গুঞ্জণে
লাফিং বুদ্ধের ভঙ্গিতে নিমগ্ন দ্রাক্ষাবন।

৬)
ভবিষ্যৎ বদলাচ্ছে নিঝুম রাত্তিরে
নৈশব্দিক রহস্যময় জগত টা
শব্দ বাণে স্থিতধী।

চাহিদার গুণগ্রাহী সুরক্ষার জোট আর
       সীমান্ত-নদী-পাহাড় বেয়ে
কিম্বদন্তি হ্লাফ পেন্ট মানুষগুলো
সাক্ষী এই ধুসর সময়ে।

৭) প্রেম--
আর আসে না, দুর্মুখ স্বপ্নগুলোর
ইচ্ছেমত ফরমানে, এখন
                হিউমাস দেখে।

৮) এশহর এখন ফ‍্যাকাশে
পুরোনো চোখগুলোর অভাব, শুধু আভিজাত্য আর আভিজাত্য
শর্ট স্কার্টের পরদেশী হাওয়া সওদাগরি মেজাজে।

পদবী বসছে চাঁদের হাটে
মিঠাজলে রাম আর উইস্কির ককটেল
সঙ্গে চলছে উৎসব গীত।

৯) কুশিয়ারা বেয়ে খাঁড়া ডাকবাংলা ঘাটে
দু-পার বাংলার ঘ্রাণ উদ্ধার করেছি
খানিকটা বিষ্ঠা খেয়ে।

ল.সা.গু- গ.সা.গু উৎপাদক বের করে
স্রোতের প্রবাহে দিনশেষে একটাই চিত্র তুলে
সেটা হলো মান যোগ হুশ।

রাস্তা খুঁড়লেই কী মীমাংসা হয়
এ যে নাড়ির সাথে নাড়ির টান
স্মৃতিমধুর রুমন্থন উপাখ্যান,
একটা রিফিলের মতো
সম্পর্কে যতিচিহ্ন বসে !

১০) একটি ফুল---
হাত পা ছাড়া সাবলীল গঠন
সমুদ্র মন্থনের পাশ দিয়ে
হারিয়ে যাচ্ছে নদীর দু'পারের মতো
আলগে।

ভালো থাকার কথায়
দেহতত্ব গায়,তবু নির্যাস হারিয়ে
দিতে চায় একচিলতে রুদ্দুর।

রক্তপাত শেষে বিয়োগান্তুক মূহুর্ত
ক্লেদাক্ত বাগান আর সয়না
নিয়তির নিঝুম ভাষ‍্য।

১১) 'হামসফর' চড়ে কী উপলব্ধি করার!
পিছনে ঠেলে দেয় আলোক ফোয়ারা ষ্টেশনগুলো
স্বৈরাচারী আবেগে।

যাচ্ছে তো যাচ্ছে
একটার পর একটা টপকে
পু ঝিক পু ঝিকে, সাড়ম্বরে
'এয়ার ব্রেকের' শব্দে অসুবিধে নেই বোঝাতে
থামতে হয় কোন না কোন ষ্টেশনে।

১২) চতুর্ভূজ চারটা সমান বাহু
সমান তালে জ‍্যামিতির প‍্যাঁচালো প‍্যাশন
অন্তত বিশেষ কেউ নেই এই ঢেউয়ের তালে
অর্থাৎ সমান বিভাজনে
যান্ত্রিক সভ‍্যতায় ১:২ বা ২:১ উৎপাদক বিশ্লেষণে
ত্রেতাযুগ ঘোর গ্লোবাল ওয়ার্মিং ।

১৩) সেই চোখ জোড়া এখন কন্টেন্ট ল‍্যান্সের কয়দখানায়
উত্তাপীত মমদেহ বিগলিত ধারায়
একপ্রান্ত থেকে অন‍্যপ্রান্ত
নির্লিপ্ত হয়ে চলছে
প্রবাহিত ঝর্ণার মত।

এই ধুসর সময়ে
অভিমানে বিষাদ আগুন ইঙ্গিত দেয়
হারাপ্পা সভ‍্যতার মত হারিয়ে যাবো
স্ফুট বিষাদে।

১৪) প্লাস্টিক পেইন্টের শহরগুলোতে
প্লাস্টিকের শ্বাস-প্রশ্বাসটাও
ব্রহ্মপুত্র থেকে ব‍রাক তার চরাই উৎরাই
খাশি পাহাড় থেকে ভুবন পর্যন্ত
হয়তো বলতে পারো ---
মানসিক অসংগতি।

মাটিতে দাঁড় করানো আর্কিটেক্ট
প্রাচুর্য অলঙ্করণে পড়ে আছে কম্পিটিশনে
নিজ থেকে দুর্বলের দলে।

১৫) আলো হারিয়ে ঋণ করে আলোকিত
এই জাগতিক সংসার,
শোষিত ভূগর্ভ রস
কনভার্টেড নিয়ন আর সোলার প্যানেলে।

প্রতিযোগিতার রেস কোর্সে
ফর্মুলা ওয়ান গেম---
ইঙ্গিত দিচ্ছে, শোষণে প্রেমও বেশরম
সুযোগ বুঝে খোপ মারে।

১৬) এবং ----
স্বপ্নরা জোৎস্নার মলিন আবহে
এখন পড়ন্ত বিকেল, দ্রোহের করমর্দন
সূর্য ওঠার আর নাম নেই,
এখন---
ট‍্যাঙ্কে মিসাইল মানুষ‍্য প্লাজমার
শ্রেণী ঘৃণায় সর্বভুক শ্লাট্
অস্তিত্ব টিকিয়ে আছে
বিলাপিত শিউলি ঝরা রাতের মতো।
আর---
রেড করিডোর সংস্কার কর্মসূচির আইন পাশ করে
--গণ-নাট‍্য সংস্থা।

১৭) বৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে হয়
কিঞ্চিৎ সুরাপানে;
ফ‍্যানের শব্দটাও
তাল দিচ্ছে ,আধ মোজা চোখগুলোর সাথে
ইজিচেয়ারে বেশ হেলিয়ে বসে
ছোট হয়ে যাওয়া জ্বলা সিগারেট টাও।

সময় হারিয়ে যায় ইতিহাসে
কমলাকান্ত ও দপ্তর থেকে মুক্তি
তাই নেপোলিয়ন
দহন উৎসব শেষে ফিরে গেছে।

১৮) কালের বহমানতায় অনেকেই মিশেছে
ইতিহাসের পাতায় প্রকাশিত লেখা
কড়ির গন্ধ শুকে বানিজ্যিক প্রচারে,
আস্তা হারিয়ে সস্তা বাজারে
পৌরুষ  রূপান্তর ভক্ত আর ভগবানে।

বিদ্রোহের বাগানে যাতে দূষণ না ছড়ায়
মহালাভজনক বিনিয়োগ বিকিনিতে,
খিদে সব একজায়গায় কেন্দ্রবিন্দু।

১৯) পাহাড়ের চূড়া আকাশ ভেদে দম্ভে
বাসর রাতে স্ত্রী জয়ের খুশির মতো
আসলে খুব সোজা ব‍্যাপার হচ্ছে
দুর্বল অতি সহজে হার মানে।

আগুনখেকো শ্রমিক উপঢৌকন খোলে
অস্ত্র হাতে একটা কথা উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ
আমাদের বাঁচতে হবে।

যুদ্ধ
নির্যাতন
বাঁচতে দাও বাঁচতে চাই;
শুনো মৃতের ঘোষণা
শবগুলো পায়ে ছাপ দেবে
ভ‍্যালোটে।
ভবিষ্যৎ বদলাবে পরিশ্রমী সভ‍্যতার
দেশলাইর কাঠি জ্বেলে।

২০) চিৎকার করে বলতে গেলে কি নিশ্চিত পাওয়া যায়
চাই সাহস আর জানতে হয় অধিকার
যা কেড়ে আনতে হয়।
কনভার্ট হচ্ছে আধুনিক প্রকৌশল
অঞ্চল থেকে শুরু করে বাধ্যতামূলক সংস্করণ।

উত্তাপীত মমদেহ উত্তেজনা হারিয়ে
সময়ের খরস্রোতে
লাফিং বুদ্ধও ভাঙ্গা পেডিস্টল।

আর এ শহরে ফুটে উঠবে না
গরিবুল্লাহদের ভয়ে
শুধু অক্সিজেনে আছে বিষাক্ত কার্বন।

--- জাহিদ রুদ্র
০৪-০৬-২০১৯ ইং

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...