কথা হলো আমরা করোনা মহামারীতে জর্জরিত। না, এতে বিচলিত হওয়ার মতো কিচ্ছু হয়নি! আমরা কি আর হারিয়ে যাচ্ছি ! কারণ ঢঙ্গিদের গণতন্ত্রগ্রাসী আচরণ বানিজ্যটা বেশ রমরমা চলছে। আর আমরা কী আর করতে পারি বলুন ঢাক ঢোল বাজিয়ে মোমবাতি জ্বালানো ছাড়া।
অমিতাভ বচ্চনের মতো ভারভারা রাও তার যৌবনে যদি সিনেমা জগতে পা রাখতেন, তাহলে তিনিও একটি চকচকে হাসপাতাল পাওয়ার যোগ্য ছিলেন।, এখন তিনি কারাবন্দি এবং অসুস্থ। দু'জনই একই বয়সের ... জাতি একজনের জন্য প্রার্থনা করছে, অপরের জীবন সম্পর্কে উল্লেখ এবং চিন্তা কজনের কতটুকু আছে তা আঙুলে গোনা যাবে। তারপরও আঙ্গুলের উপর কিছু জায়গা এখনও থাকতে পারে। ভারভরা রাও একজন কবি, সাহিত্য সমালোচক এবং বিখ্যাত সমাজসেবক। ১৯৫৭ সাল থেকে কবিতা লেখা। সাধারণ জনতার পক্ষে কাজ করা,খেটে খাওয়া মানুষদের কথা বলা, এমন রাজনৈতিক চেতনা রয়েছে যা স্পষ্টতই ক্ষমতাসীনদের খোঁচা দিতো।
অমিতাভ যখন পর্দায় নাচছিলেন, দোলা দিচ্ছিলেন, অর্থোপার্জন করছিলেন, তেলুগু সাহিত্যের অন্যতম বিখ্যাত আলোচক ভারভরা রাও রাস্তায় পাবলিক গান গেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিতেছিলেন। জনান্দোলন গড়ে তুলেছিলেন ছিলেন সরকারের বিরুদ্ধে। না , ভাবতে পারেন অমিতাভ বচ্চন নিয়ে এতো গাজ্বালা কেন ? অমিতাভের প্রতি একটুও ভ্রুকুটি নয়। কিন্তু পার্থক্য কেন ? ভীম কোরেগাঁও মামলায় সরকার রাওকে নকশালপন্থী বলে দাবি করেছিল এবং তা সরকারের বিরুদ্ধে রয়েছে, যেহেতু আজকাল সমস্ত রাজনৈতিক-সামাজিক কর্মীদের সাথে যা করা হয় । আজও বিচার শুরু হয়নি! আমরা বিনোদনের জন্য সিনেমাটিক নায়ক চাই, তবে আমরা কি সত্যিকারের নায়কদের চাই না সুস্থ সমাজের জন্য? না, ভারভারা রাও আপনার কাছে ভোট ভিক্ষে করতে আসবেন না কখনও; কিন্তু একমুহূর্তের জন্যেও যদি আপনি এই অসহ্য সমাজব্যবস্থার বদল চান, তা'লে ভারভারা রাও আপনার সেই দ্রোহচেতনার কবি।
রাজার যা পছন্দ করেন এই বাজনা বাজানোর রীতিটা তো আর নতুন নয়! আচ্ছা, এখন যখন অমিতাভ বচ্চন অসুস্থতার পরে আরোগ্যের বন্যা চলছে সারা দেশে, তখন ভারভারা রাওকেও মনে রাখবেন .. সর্বোপরি, একজন প্রবীণ সিনেমা জগতের এবং অন্যজন সত্যিকারের জীবনের সংগ্রামকে বাঁচিয়ে রেখেছেন! সরকারের কী কাজ নয় যে যারা রাজনৈতিক কারণে বন্দী তাদের সাথে সঠিকভাবে আচরণ করার ? মানুষ যদি বেঁচেই না থাকে তাহলে আদর্শের লড়াই আরও পরে করা যায় ভাই! ভারভারা রাও তো সম্পত্তির যোগ করেননি বা পানামা পেপার দিয়ে কর ফাঁকিরও অভিযোগ উঠলো না, শুধু বিজ্ঞান মনস্ক চিন্তার কথা বলেছিল .. ড্রাম প্লেট নিয়ে করোনাকে তাড়িয়ে দেওয়ার ভান তিনি খুব কমই করতে পারতেন !
আপনি যদি শিরদাঁড়া সোজা রেখে একমুহূর্তের জন্যেও শাসককে, রাষ্ট্রকে 'না' বলার সৎসাহস রাখেন, তবে ভারভারা রাও আপনার কবি। সব মিলিয়ে তার যুদ্ধটি ছিল আধুনিক মতাদর্শের মাধ্যমে উন্নত মানব সমাজের গঠন, তাহলে অন্যায় ভাবে কারও অধিকার খর্ব করে কারাবন্দির অধিকার থাকতে পারে কীভাবে? না, ভারভারা রাও ফিল্মি নায়ক নন, ভোটবাজ নেতা নন, জুমলা ক'রে সংবাদ-শিরোনামে আসা ব্যক্তি নন, শাসকের পা-ছোঁয়া হেঁহেঁ-কবি নন। ভারভারা রাও আপনার কবি, ভারভারা রাও আপনার মতো শোষিত ও অবদমিত প্রত্যেক মানুষের জেগে ওঠার রেগে ওঠার ক্ষেপে ওঠার আপসহীন লড়াইয়ের মুখ। নিপীড়িত শ্রেণি-বর্ণ-ধর্ম-লিঙ্গের প্রতিরোধের কবি ভারভারা রাও। যিনি লিখেছেন স্বাধীনতার কথা তার কবিতায়। নীচের দুটি কবিতা রইল, তার চেতনার কথা ----
১ ) This is jail for the voice and the feet
But the hand hasn’t stopped writing
The heart hasn’t stopped throbbing
Dream still reaches to the horizon of light
Travelling from this solitary darkness
Of course, in this jail moon is not allowed
To share his light,
But who can stop me from
Marching into the dawn of the eastern sun.
২ ) From amidst the people who speak
Came into the trees that do not.
From the rocking movements
And the air filled with slogans
Came into the swinging dumb trees
And the high walls trying to arrest wind।
এবং এই বলেই শেষ করছি, রাওয়ের ওপর আক্রমণ আমাদের সবার ওপর আক্রমণ। আর হ্যাঁ এটা বলা বেশ সাহসীকতার কাজ নয় হিম্মতের প্রয়োজন। তাই দাবি একটাই রাওয়ের অবিলম্বে মুক্তি চাই।
No comments:
Post a Comment