ভারতীয় সংবিধান যে বাক-স্বাধীনতা আমাদের দিয়েছে স্বাধীনতার ৭৩ বছর পরও আমাদের দেশে সেই বাক-স্বাধীনতা শাসকের ইচ্ছাধীনই রয়ে গেছে। স্বাধীনতার এতো বছর পরও, এ দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে দেশপ্রেমের পরীক্ষা দিতে হয়। শিক্ষা থেকে শুরু করে সামাজিক ক্ষেত্রে; সরকারী জনকল্যাণকর নীতি নয়, দলীয় আদর্শকে বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। শিক্ষা এখন জ্ঞানের বিষয় আর নেই, তা হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষমতাসীন দলের দলীয় আদর্শের শিক্ষা। পরাধীন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা জীবনকে তুচ্ছ করে আত্মবলিদান করেছিলেন শুধুমাত্র প্রতিটি নাগরিকের প্রয়োজনীয় চাহিদাগুলি যাতে পূরণ হয় সেই লক্ষ্যে, অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-শিক্ষা-স্বাস্থ্য ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা যাতে পূরণ হয় সেই লক্ষ্যে। তাঁরা চেয়েছিলেন জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সমানাধিকার নিশ্চিত করতে। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সেসব চাহিদা আর আত্মবলিদান যে সার্বিকভাবে সাফল্যলাভ করেনি তা নির্দ্বিধায় বলা যায়।
হিটলার-র সুযোগ্য উত্তরসূরী কট্টর ফ্যাসিবাদী দ্বারা পরিচালিত রা ‘আচ্ছে দিন’-র স্বপ্ন দেখিয়েছিল। আজ এই মিথ্যা প্রতিশ্রুতির মুখোশগুলো একে একে খুলতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের উপর নানা বিপর্যয় চাপিয়ে দেওয়ার পর উন্নয়নের কথা ফলাও করে প্রচার করছে। দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা, সম্প্রীতিকে বিপন্ন করে সংখ্যালঘু ও দলিত সমাজকে আতঙ্কের গহ্বরে তলিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সংখ্যালঘুদের মধ্যে উপযুক্ত মেধা থাকা সত্বেও, তারা তা বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে ক্রমশঃ অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলেছে। অবৈজ্ঞানিক, কুসংস্কারাচ্ছন্ন, অপশিক্ষিত শাসককূল ক্ষমতার শীর্ষে বসার সুযোগের চূড়ান্ত অপব্যবহার করে সাধারণ নাগরিকদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে। এই অজাচারী শাসকদের কিছু অপোগন্ড মাথামোটা ভক্ত তাতে ইন্ধন যুগিয়ে নিজেদেরই যে সর্বনাশকে ডেকে আনছে, তা এই মূর্খের দল বুঝতেও পারছে না। মৌলবাদী শক্তির সবচেয়ে বড় শত্রু শিক্ষিত, মেধাবী, বুদ্ধিমান, যুক্তিবাদী, প্রতিবাদী মানুষের ব্রেন বা মগজ; যারা এই গণশত্রু সিস্টেমকে চ্যালেঞ্জ জানায়, রাষ্ট্রের চোখে চোখ রেখে প্রশ্নবাণ ছুঁড়ে মারে, তাদেরই নির্মমভাবে হত্যা করে চলে এরা।
এবার একটু অন্যদিকে গিয়ে বলি সবকিছু তো ঠিকঠাক চলছে! না মানে, যারা বলছিলেন, এবার কাশ্মীরে উন্নয়ন হবে, চিদম্বরমকে বাশ দেওয়া হয়েছে, বা তালাক বিল সংশোধনে সংখ্যালঘু উন্নয়ন হবে, উইপোকা-ঘুসপেটিয়াদের ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে খুঁজে বের করা হবে । তাঁদের অবগতির জন্য একটা খবর হলো আজ টাকার দাম ডলারের প্ররিপ্রেক্ষিতে ৭২ টাকা। খবরটা শোনে চোখ কপালে উঠে গেলো না তো, ধৈর্য ধরুণ। আভি তো পার্টি শুরু হুই হে। কি ভয়ানক অবস্থায় আমাদের অর্থনীতি। গুগলে কারেন্সি রেট চেক করার সময় বর্তমান অবস্থা দেখে একটা ঘটনা মনে পড়ে যায়। সেটা হলো, বাবার মুখে শোনা ইডওর্য়াড বোলওয়ারের 'The Last Days of Pompeii'র ঘটনা।
কি সুন্দর ইতালির পোম্পেই শহর, রোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্গত ছিল। তার পাশেই ছিল ভিসুবিয়াস আগ্নেয়গিরি। The Last Days of Pompeii বইটিতে পোম্পেইবাসীর যে বিলাসবহুল জীবন যাত্রা, খুশি, স্ফূর্তি,আনন্দের ছবি দেখা যায়। বইটি পড়ে বোঝা যায় যে এই পোম্পেইবাসী জীবনকে এতোই উপভোগ করছিল যে কখনই এই আগ্নেয়গিরির বিভিষিকা নিয়ে মাথা ঘামায় নি। আর যার ফলস্বরূপ এই অবহেলা তাদের কিছু সময়ের মধ্যে পুরো শহরটাকে লাভার সমুদ্রে পরিণত করে দেয়। অসাবধানতা তাদের ঠেলে দেয়ে জীবাশ্মের আকারে।
বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সম্প্রতি সরব হলেই বিপদ, সে ৩৭০ ধারা বিলোপ কিংবা দেশের বেহাল অর্থনীতি, প্রসঙ্গ যাই হোক না কেন। এমনিতেই UAPA বিল পাশ হয়েছে লোকসভায়। TADA, POTA-র পর এসেছিলো UNLAWFUL ACTIVITIES PREVENTION ACT বা সংক্ষেপে UAPA - যা মানবতা-বিরোধী আইন বলেই পরিচিত। তাকেই সংশোধন করে আরও ভয়ংকরভাবে তার ক্ষমতা বাড়িয়ে হাজির করা হলো। আর একদিকে বেহাল অর্থনৈতিক অবস্থা। তাৎক্ষণিক তিন তালাক নিষিদ্ধকরণ, ৩৭০ ধারা বিলোপ, পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা, পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের বিধিভঙ্গের হুমকি, গরু-রক্ষা, মুসলমান-ত্রাস, এনআরসি, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল... এই সব ঢেউ একদিন থেমে যাবে, রাজনীতি হবে নিস্তরঙ্গ। তখন উঠে আসবে জগতের আদি ও অনন্ত চাহিদা – খিদে। আর তখন কি অবস্থা হবে....
আজ কেন্দ্র অর্থাৎ, মোদী-শাহ-নির্মলা সীতারামন তিনজনেই জানেন, সরকারের হাতে টাকা নেই। স্টেট ব্যাংক বলেছে, এটিএম কার্ড বন্ধ করে দেবে। নতুন অ্যাপ নিয়ে আসবে। কেন? আসল কারণ, লোকজনের ব্যাংক থেকে টাকা তোলা বন্ধ করতে। অবস্থা কতটা খারাপ একটা উদাহরণ দিই। আপনার প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা সরকারের কাছে থাকে। প্রতি বছর ১ এপ্রিল সুদের টাকা জমা হয়। এ বছর হয়নি। গত বছরের মতো সার্ভার খারাপ। ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় ছয় মাসে সার্ভার ঠিক হলো না? পিএফের টাকা সরকার ধার নেয়। বিভিন্ন খাতে খাটায়। তারপর সুদ সমেত ফেরত দেয়। এটাই নিয়ম। এই বছর আজও গত বছরের টাকা ফেরত দেয়নি। দিলে খাতা কলমে এক লাখ কোটি টাকা শুধু সুদ দিতে হবে। সরকারের কাছে সেই টাকা নেই। জিএসটি থেকে আয় হলে দেবে।
পাঁচগ্রাম পেপার মিলের কথা বাদই দিলাম।আমরা সবাই জানি বিএসএনএল এর অবস্থা খারাপ। জানেন কি, শুধু কলকাতায় যাঁরা লাইন-ম্যান হিসেবে কাজ করেন, সেই ৪৮০০ কর্মচারী গত জানুয়ারির পর কোনো বেতন বা টাকা পায়নি। সাত মাস ধরে কী করে তাঁদের পরিবার চলছে তাঁরাই জানেন। অনাহারে অসুস্থ হয়ে ইতিমধ্যে ৭জন মারা গেছেন। ভাবছেন জিও তো ব্রড ব্যান্ড নিয়ে আসছে। চিন্তা কী! আমার এক বন্ধু বলছে বিএসএনএল টায়টায় ফিস এবার জিও জি ভরকে। এই মুহূর্তে বিএসএনএল এর জন্য সরকারকে দিতে হবে মাত্র ১৪ হাজার কোটি টাকা। তাহলেই ১ লাখ ৭৫ হাজার কর্মী সেইসঙ্গে ঠিকাদার ও শ্রমিক মিলে ৫ লাখ পরিবার বাঁচবে। মাত্র ১৪ হাজার কোটি কেন বললাম? রিলায়েন্স এর ব্যাংকের কাছে ধার প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা! সিংহভাগ জি ওর জন্য। এয়ারটেল এর ধার এক লাখ কোটির ওপর। লোকের হাতে টাকা নেই। ফ্ল্যাট বিক্রি হচ্ছে না। এই মুহূর্তে দেশের ৩০ টি বড় শহরে ১২ লাখ ৮০ হাজার তৈরি ফ্ল্যাট পড়ে আছে। কেনার লোক নেই। রিয়েল এস্টেট গবেষণা সংস্থা এলএফ এর মতে, ২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ভারতের শীর্ষ ৩০ টি শহরে ১২.৮ লক্ষ বাড়ি বিক্রি হয়নি। এই সংখ্যাটি মার্চ ২০১৮ এর তুলনায় সাত শতাংশ বেশি, যখন সেখানে ১.২ মিলিয়ন অবিক্রিত বাড়ি ছিল। এর অর্থ, বিল্ডাররা যে গতিতে বাড়িগুলি তৈরি করছে সেই গতিতে লোকেরা কিনছে না। রিয়েল এস্টেট খাতের সাথে যুক্ত প্রায় ২৫০ টি ছোট-ছোট শিল্প রয়েছে। ঘর বিক্রয় শিল্পকে বৃহত আকারে লাভবান করে, তবে এখন তা হচ্ছে না।
গাড়ি বিক্রি এতই কমে গেছে নয়ডার মারুতি গাড়ির কারখানা থেকে শুরু করে জামসেদপুরের টাটা মোটরের উৎপাদন ক'দিনের জন্য বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কর্মী ছাঁটাই শুরু হচ্ছে। একই অবস্থা বাজাজ এবং হিরো কোম্পানির। কয়েকশো গাড়ির শোরুম ঝাঁপ ফেলে ব্যাংকে জানিয়ে দিয়েছে, আমরা আর এখন টাকা শোধ করতে পারব না। এপ্রিল থেকে জুন ২০১৯ এবং এপ্রিল থেকে জুন ২০১৮ এর তুলনা করে, গাড়ি বিক্রয় ২৩.৩ শতাংশ কমেছে। এটি ২০০৪ সালের পরে সবচেয়ে বড় হ্রাস। গাড়ির বিক্রয় হ্রাস পেলে টায়ার প্রস্তুতকারক থেকে ইস্পাত এবং স্টিয়ারিং উৎপাদনকারী ইত্যাদিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে । বাহ্যিকভাবে, অনেক অটো ডিলারশিপ বন্ধ বা সঙ্কুচিত হচ্ছে। যানবাহনের লোণের প্রবৃদ্ধিও পাঁচ বছরের নীচে নেমে এসেছে ৫.১ শতাংশে। তার সাথে দ্বি-চাকার বিক্রিও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে দ্বি-চাকার গাড়ি বিক্রি ১১.৭ শতাংশ কমেছে। ২০০৮ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বরের পর এটিই সবচেয়ে বড় হ্রাস। মোপেডও বিক্রি হচ্ছে না। তাদের বিক্রয় ১৯.৯ শতাংশ কমেছে। তার সাথে ট্রাক্টর বিক্রয় গ্রামীণ চাহিদার একটি ভাল সূচক। কিন্তু ট্র্যাক্টর বিক্রয় এপ্রিল থেকে জুন ২০১৯ এর মধ্যে ১৪.১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গত চার বছরে এই হ্রাস সর্বোচ্চ।
কাপড় কলের মালিকরা কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে জানিয়েছেন, বস্ত্র শিল্পের অবস্থা খুব খারাপ। বাজার নেই। কাপড় কলের মধ্যে তিনভাগের একভাগ এই বছরই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। লোকসান করায় মিল মালিকরা ব্যাংকের টাকা শোধ করতে পারছে না। ওদের হিসেবেই তুলো চাষিদের নিয়ে কয়েক কোটি মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে খেয়ে পরে বাঁচে। তাঁদের ভবিষ্যৎ কী কেউ জানে না। বিদেশে রফতানিও কমেছে দ্রুত। তার থেকেও বড় কথা ক মাস বাদেই নতুন তুলো উঠবে। তার বাজার মূল্য ৮০ হাজার কোটি টাকা। বিক্রির বাজার না থাকলে মিল মালিকরা তা কিনবে কেন? কিংবা আরও সস্তায় কিনবে। ফলে তুলো চাষিদের আত্মহত্যা আরও বাড়বে।
কম্পিউটার এর জন্য অনুসঙ্গ বানানো কোম্পানি mosarbaer এর মালিক আজই দেনার দায়ে গ্রেফতার হয়েছে। ভিডিওকন আগে থেকেই বন্ধ। মালিক বেনুগোপাল জানিয়ে দিয়েছেন, হাজার কোটি টাকা ব্যাংকের দেনা তার পক্ষে শোধ করা সম্ভব নয়। বেশ কিছু সিমেন্ট কারখানাও বন্ধ। ঝাড়খণ্ডের জয় বালাজি স্টিল কোম্পানি উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ ইস্পাত এর বাজার নেই। টাটা স্টিল ও ওই পথ নিতে পারে, তা বিচিত্র নয়। গত দুই মাসে শুধু ঝাড়খণ্ড এ বেকার হয়েছে ৩ লাখ শ্রমিক। লোকের হাতে টাকা না থাকায় বা থাকলেও খরচ করতে ভয় পাওয়ার ফলে হোটেলে খাওয়া কমেছে। সাবান থেকে বিস্কুট সব কিছুর বিক্রি কমছে। এফএমসিজি (ফাস্ট মুভিং কনজিউমার গুডস) এর মতে প্রতিদিনের গ্রাহক আইটেমগুলির বিক্রয় হ্রাস পাচ্ছে। আমরা যদি হিন্দুস্তান ইউনিলিভার লিমিটেড পণ্যগুলির বিক্রয়কে লক্ষ্য করি, তবে এপ্রিল থেকে জুন ২০১৯ এর মধ্যে বিক্রয় বৃদ্ধি আগের বছরের ১২ শতাংশের তুলনায় এখন পাঁচ শতাংশ। আমরা যদি ডাবর ভারতের প্রবৃদ্ধির হারকে লক্ষ্য করি তবে তা গত বছরের ২১ শতাংশ থেকে ছয় শতাংশে নেমে এসেছে। এটি উদ্বেগের বিষয় যে লোকেরা প্রতিদিনের কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছে। তেল, সোনা, রৌপ্যগুলির চাহিদাও একটি ভাল সূচক যে লোকে আমদানিকৃত পণ্য কিনছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই আমদানি ৫.৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, গত বছরের একই সময়ে এটি ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেয়েছিল।
পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে একটাই পথ সরকারি সম্পত্তি বিক্রি। লাভের মুখ দেখা বেঙ্গল কেমিক্যাল থেকে অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি সব বিক্রি করে দাও। রেলের টিকেট বিক্রি থেকে IRCTC সব বেসরকারি হাতে তুলে দাও। আরে কিনবে কে? পরিষেবা দেবে কে ? তা জানি না। তিনবার দরপত্র হাঁকার পর আজ অব্দি কেউ air India কিনলো না! সেখানে কাশ্মীরি জনগণের মৌলিক অধিকার বন্দুকের বেয়নেট এর জোরে কেড়ে নিতে প্রায় ৬ লাখ সেনা নিয়োগ করতে হয়েছে। তার বিপুল খরচ। কোনো যুদ্ধের থেকে খুব কম নয়। তা কিন্তু জোগাতে হবে। কারণ কাশ্মীর আগ্নেয়গিরির মত ফুটছে। ক্ষমতাসীনদের পরিয়ে দেওয়া কাজলে আমরা এতটাই অন্ধ, তা দেখতে পাচ্ছি না। আর মিডিয়া দেখাচ্ছে, সব স্বাভাবিক।
এর ফলে কি কি হয় বা হতে চলেছে ? পেট্রোল , ডিজেল বেশী দামে কিনতে হবে এবং বেশী দামে বেচতে হবে সরকারকে। যার ফলে জিনিষের দাম বাড়বে। তাতে অবশ্য মধ্যবিত্তের অবশ্য কিছু আসবে যাবে না রেস্টুরেন্টে খাবেন আর আচ্ছে দিনে আরো ভালো আছেন তার সেলফি দেবেন। কিন্তু অনেক মানুষের অনেক কিছুই আসবে যাবে। যারা জোমাট্যো বা স্যুইগি তে কাজ করেন তাঁদের কাজ যাবে সুতরাং বাড়িতে ডেলিভারি পেতে একটু দেরী হবে। তাই একটু ছবি আপলোড দিতে দেরী হবে এই যা । তবে জিও সব লাইন ফ্রি বলে এতে অসুবিধা কম হবে। এটিএম না থাকলেও সমস্যা নেই, টাকা না পারলেও ডাটা আছে তো , তাহলেই হবে। এরপর বাড়ির পরিচারিকাদের ও টাকা না দিয়ে ডাটা দিন। সব ভারচুয়াল ! এর মাঝে বেশ কিছু লোকের চাকরি যাবে তবে সেগুলো আচ্ছে দিনের কোল্যাটারাল ড্যামেজ, ওসব নিয়ে ভাবতে হবে না।
১৯৮৪ সালে নাইজেরিয়াতে ডিমনিটাইসেশন হয়েছিল তার ফল এখনো সেই দেশ দিচ্ছে। তবে কথা হলো, কাশ্মীরে ৩৭০ তুলে দেওয়ার ফলে মুসলমানদের তো টাইট দেওয়া গেছে। আমি খেতে পাই না পাই ওই মোল্লা গুলো তো বাঁশ খেলো। এরপর জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিল আনলেই হিন্দুরা সংখ্যায় বাড়বে তাহলেই তো হিন্দু রাষ্ট্র। আর ফেবুতে পোস্ট দেওয়া হচ্ছে " বামপন্থীদের জন্য এক দু:স্বপ্ন...চিদম্বরম সাহেব ধরা পড়লেন!, বিজেপি বিরোধী লিখলেই বিজ্ঞ"। কি মজা না। এটি পরিষ্কার, প্রায় সমস্ত সূচক দেখায় যে আমাদের অর্থনীতিতে সবকিছু ঠিকঠাক হচ্ছে না, পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। সরকারের কথা বলছি, আপনি যখন এই সমস্যাটিকেও মেনে নিচ্ছেন না, তখন কীভাবে সমাধান পাব আমরা?
----- সন্তানেরা খেতে পাবে তো ?