Monday, October 29, 2018

মানুষের পৃথিবীটা

মানুষের পৃথিবীটা আস্ত একটা যৌনখানা
ন্যাংটো হয়ে যেই বিছানাটা নাচতে শুরু করলো
ফরমান এলো
মানচিত্রের কাঁধের কাছ থেকে আড়াই কেজি মাংস কেটে নেয়া হবে
অবাক হবেন না।

শুকনো জিহ্বা কত টানবে উপচে পড়া ব্লাউজের রস
রয়েল-বেঙ্গল টা ন‍্যাশনেল পার্কে
স্বপ্ন বিহারে বিভোর
আর্য-শ্লোকের বর্জ‍্য চিৎকারে
থালায় প্রসাদ, চেষ্টায় ঘুম ভাঙানো।

নাস্তিকতা এবং বিশ্ব প্রেক্ষাপট

নাস্তিকদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে পুরো বিশ্ব, সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশের তালিকায় বাংলাদেশ।
আন্তর্জাতিক এক গবেষণা বলছে, বিশ্বের ৮৫টি দেশে ধর্মে অবিশ্বাসী বা নাস্তিকরা প্রচণ্ড বৈষম্য-নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
এর মধ্যে, গত এক বছরে অন্তত সাতটি দেশে নাস্তিকদের বিরুদ্ধে চরম নির্যাতন হয়েছে। এই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং মালয়েশিয়া।
ধর্ম বা সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাসীদের জন্য ৩০টি সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম রয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিস্ট এ্যান্ড এথিক্যাল ইউনিয়ন (আইএইচইইউ) নামে একটি সংস্থার উদ্যোগে পরিচালিত গবেষণা প্রতিবেদনটি দু সপ্তাহ আগে ইউরোপীয় সংসদে পেশ করা হয়েছে।

কোন কোন দেশ সবচেয়ে বিপজ্জনক?

গত এক বছরে নাস্তিকদের ওপর হামলা নির্যাতনের প্রসঙ্গে পাকিস্তান, ভারত, সৌদি আরব, সুদান এবং মালয়েশিয়ার নাম একাধিকবার এসেছে।
এপ্রিল মাসে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে অন্য ছাত্ররা পিটিয়ে হত্যা করেছে।
তার কয়েক সপ্তাহ আগে, মালদ্বীপে এক ব্লগার, যিনি ধর্ম নিরপেক্ষতার স্বপক্ষে নিয়ে লেখালেখি করতেন এবং মাঝে মধ্যে ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ করতেন, তিনি নিজের ঘরে ছুরিকাঘাতে নিহত হন।
সুদানে মোহামেদ আল দোসোগি নামে একজন মানবাধিকার কর্মী তার জাতীয় পরিচয় পত্রে মুসলিম পরিচয় বদলে নাস্তিক হিসাবে পরিচিত হতে চাইলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পাকিস্তান অন্যতম বিপজ্জনক দেশ।

ধর্মে অবিশ্বাসীদের জন্য পাকিস্তান চরম বিপজ্জনক দেশ। এরকম কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরে আইএইচইইউ বলছে - যে সব মানুষ ধর্ম, সৃষ্টিকর্তা এসব মানেনা, এসব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তাদের ওপর পৃথিবীর দেশে দেশে অত্যাচার, নির্যাতন, বৈষম্য বাড়ছে।
তাদের গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে বিশ্বের ৮৫টি দেশে এই ধরণের নির্যাতন "চরমে পৌঁছেছে।

তার মধ্যে সাতটি দেশে - ভারত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মৌরতানিয়া, পাকিস্তান, সুদান, সৌদি আরব - ধর্ম অবিশ্বাসীদের ধরে ধরে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে।
৩০টি সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম রয়েছে।
এই তালিকায় আরো রয়েছে মিশর, কাতার, আফগানিস্তান, ইরান ও ইরাক। এর মধ্যে ১২টি দেশে ধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছ।
এই ৩০টি দেশেও গত এক বছরে নাস্তিক তকমা দিয়ে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের অনেক ঘটনা ঘটেছে। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়েছে, তথাকথিত ধর্ম অবমানকারীদের গুম করার ঘটনাও ঘটেছে।

পশ্চিমা দেশও ঝুঁকিমুক্ত নয়

যে সব দেশে নাস্তিকরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশই মুসলিম প্রধান দেশ।
কিন্তু কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রেও ধর্মে অবিশ্বাসী লোকজনের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
"বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মে অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা বা বৈষম্য সাধারণ ঘটনা," বলছেন ব্রিটেনের কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্ম বিষয়ক গবেষক ডঃ লোয়া লি।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের তথাকথিত বাইবেল-বেল্টে নাস্তিকদের বিরুদ্ধে অসহিষ্ণুতা দিন দিন বাড়ছে।
গত এক বছরে ৮৫টি দেশে ধর্মে অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে নানা নির্যাতন বৈষম্যের ঘটনা ঘটেছে

কেন এই প্রবণতা?

অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, এসব হত্যা নির্যাতনের খবর বেশি শোনা যাচ্ছে তার কারণ বিশ্বজুড়ে ধর্ম বিশ্বাস যত তীব্র হচ্ছে, তেমনি বহু মানুষ নতুন করে নিজেদের অবিশ্বাসী হিসাবে পরিচিত করছে। ফলে দ্বন্দ্ব বাড়ছে।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের হিসাবে, ২০৬০ সালে সারা বিশ্বে নাস্তিক এবং ধর্মে অবিশ্বাসীদের সংখ্যা বেড়ে ১২০ কোটিতে দাঁড়াবে। তবে আশংকাজনকভাবে  ধর্মে বিশ্বাসীদের সংখ্যা তার চেয়ে বেশি হারে বাড়বে!!

তবে এই হিসাবের সঙ্গে আমি একমত নই। আমার ধারনা এই হিসাবে মারাত্মক ভুল আছে! প্রযুক্তি এবং তথ্য যেভাবে আগাচ্ছে তাতে আমার ব্যক্তিগত ধারনা আগামী ৫০ বছরের মধ্যে পৃথিবী থেকে ধর্মের বিলুপ্তি ঘটবে! এ ক্ষেত্রে আপনার কি মত ?

সূত্রঃ বিবিসি নিউজ এবং অন্যান্য ওয়েবসাইটের কনটেন্ট অবলম্বনে লিখিত।

Wednesday, October 24, 2018

মৌলবাদ সৃষ্টি পুঁজিবাদ থেকে

পুঁজিবাদী ব্যবস্থার কায়েম করতে মৌলবাদ সৃষ্টি করা হয়ে থাকে! সাম্রাজ্যবাদী এই বিশ্বায়নের যুগে নব্য পুঁজিবাদী উপনিবেশবাদ এবং রমরমা হাতিয়ার বানিজ্য কায়েম করতে ধর্মীয় শাসন ব্যবস্থা জন্য ধর্মীয় মৌলবাদ খুবই রমরমা গোটা বিশ্ব জুড়ে! বিশেষ করে ষাটের দশক থেকে তা শুরু হয়েছে! সমাজতন্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পুঁজিবাদী আমেরিকা ঠান্ডা যুদ্ধের ফর স্বরূপ পৃথিবীর বুকে এই ধর্মীয় মৌলবাদ মারণাস্ত্র হয়ে আছে! সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর সাম্রাজ্য বিস্তার এবং ঔপনিবেশিক শাসনের ফলে তা বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকশো গুন! ------
মধ্য প্রাচ্যের, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার সংকট পরিকল্পনা মাফিক তৈরী! আফগান যুদ্ধ থেকে শুরু ইরাক পুঁজিবাদী শাসন ব্যবস্থা কবল থেকে মুক্তি পেতে ধর্মীয় শাসন ব্যবস্থা জন্য ধর্ম নামক আফিম দিয়ে কত রক্ত বয়ে যাচ্ছে তার হিসেব নেই!

 
ধর্মীয় মৌলবাদ আজকাল পৃথিবীর বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পৌঁছে গেছে! নিউরো সাইন্সটিস আফিয়া সিদ্দিকী থেকে শুরু ক্যালিফোর্নিয়ার মেধাবী আরিফ পর্যন্ত! আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে ঠিক সেইরকম! উচ্চ শিক্ষাতে পাঠরত অনেক ছেলেমেয়ে মগজ ধোলাই এর ফলে বিপদে চলে যাচ্ছে! সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার থেকে আই টি এবং মেডিক্যালের ছাত্রছাত্রী! ভারতের কাশ্মীরের আফজল গুরু থেকে শুরু বুরহান বানী অনেকেই মেধাবী ছাত্র ছিল! কয়েক সপ্তাহ আগে ভারতের নামী টপ টেন আলিগড় ইউনিভার্সিটির ছাত্র পিএইচডি স্কলার  মান্নান বানী উগ্রবাদের দিকে চলে গেল এবং বন্দুক যুদ্ধে মারা গেল! ভারতের সিমি একটি একটি নিষিদ্ধ সংগঠন যারা সদস্য সবাই উচ্চ শিক্ষা পাঠরত ছাত্রছাত্রী !


প্রশ্ন হচ্ছে এই মেধাবী ছাত্রছাত্রী কেন বিপদে যাচ্ছে, কেন তাদের মগজ ধোলাই হচ্ছে এবং কারা করছে? যারা মগজ ধোলাই এর শিকার হচ্ছে মনোবিজ্ঞানের দিক থেকে বিচার করলে এরা অসুস্থ বিজ্ঞানের ভাষায় তাদের বলা এনোমমিলাযান এন্টোবিযান সাইকোলি! এদের যথাযথ কাউন্সিলং হলে এরা সুস্থ হয়ে উঠবে! এদের উল্টো মগজ ধোলাই করতে হবে এবং যে বা যে সংগঠন তাদের মগজ ধোলাই করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে! রোগীকে মেরে লাভ নেই রোগ প্রতিরোধ করতে হবে ঐ রোগের ভাইরাস মারতে হবে!

 
আই এস হচ্ছে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে নৃশংস ভয়ংকর উগ্রবাদী কিন্তু তাদের যোদ্ধা অধিকাংশ উচ্চ শিক্ষত! ঠিক সেই রকম পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে হাজার হাজার উগ্র মৌলবাদী উগ্রবাদী সংগঠন! তাদের হাতিয়ার থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক মদতদাতা সৌদি আরব, ইজরায়েল এবং আমেরিকার! মধ্য প্রাচ্যের তেল আর আফ্রিকার খনিজ সম্পদ লুট করতে আর বিশ্ব জুড়ে আধুনিক হাতিয়ার বানিজ্য জিরিয়ে রাখতে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, ভাষা, সংস্কৃতি, আঞ্চলিকতা ইত্যাদি বিভিন্ন ধারালো হাতিয়ার ব‍্যবহার করছে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা ! রাষ্ট্র ব্যবস্থা এবং ধর্ম হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ধারালো হাতিয়ার!

Monday, October 22, 2018

কবি নজরুলের ধর্মমত।।

নজরুল ইসলামকে কেউ খুবই ভালোবেসেছেন,কেউ বা অসম্ভব ঘৃণা করেছেন। কিন্তু কেউই তাকে অবহেলা করতে পারেননি। তিনি যখন জনপ্রিয়তার একেবারে তুঙ্গে, তখনোকেবল প্ৰশংসার জোয়ারে ভাসেননি, বরং তীব্র নিন্দা আকর্ষণ করেছেন অনেকের তরফ থেকে। যেমন, মৌলবীরা (নজরুলের ভাষায় মৌ-লোভীরা) ফতোয়া দিয়েছিলেন যে, তিনি কাজী হলেও কাফের। আর হিন্দুরা তাকে উপাধি দিয়েছিলেন ‘পাত-নেড়ে’। তাঁর ভাষায়, পুরুষেরা তাঁকে নারীঘেষা বলে গাল দিয়েছেন, মেয়েরা তাকে অভিশাপ দিয়েছেন নারীবিদ্বেষী বলে।

কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম, কোনো রাজনৈতিক দল, কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে তিনি একাত্ম হতে পারেননি। তার মানবতার সংজ্ঞার সঙ্গে কারো ষোলো আনা মিল হয়নি।নজরুল হয়তো ঠিকই বলেছেন–তিনি বর্তমানের কবি, ভবিষ্যতের নবী নন। হয়তো তাঁর সাহিত্য চিরকালীন সাহিত্য নয়। কিন্তু তিনি যে-মানবতার কথা বলেছিলেন, তা চিরকালের। তাঁর আগে অথবা পরে কোনো বাঙালি সাহিত্যিক, কোনো দার্শনিক, কোনো ধর্মীয় নেতা, এমন দ্ব্যর্থহীন ভাষায় মানবতার জয় গান করতে পারেননি–মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।” সত্য বটে, তাঁর অন্তত দু শতাব্দী আগে চণ্ডীদাস বলেছিলেন, ‘সবার উপরে মানুষসত্য তাহার উপরে নাই।” কিন্তু চণ্ডীদাসের মানুষ এবং নজরুলের মানুষ এক নন। চণ্ডীদাস মনের মানুষের কথা বলেছিলেন। নজরুল বলেছিলেন রক্তমাংসের মানুষের কথা।
মানুষের প্রতি এই অকৃত্রিম ভালোবাসার জন্যেই নজরুল বলতে পেরেছিলেন। যে, জগতের সব পবিত্র গ্রন্থ এবং ভজনালয়ের চেয়ে একটি মানুষের ক্ষুদ্ৰ দেহ অনেক বেশি পবিত্র। মানুষকে ঘূণা করে যারা ধর্মগ্রন্থ পড়েন, তিনি তাঁদের কাছ থেকে ধর্মগ্রন্থ কেড়ে নেওয়ার আহবান জানিয়েছিলেন। মন্দির-মসজিদ ভেঙে ফেলার জন্যে কালাপাহাড় এবং গজনি মামুদকে আহবান জানিয়েছিলেন। সকল সাম্প্রদায়িকতার উর্ধে তাঁর এই যে-মানবগ্ৰীতি, তা-ই তাকে হিন্দু নয়, মুসলমান নয়, খাটি বাঙালিতে পরিণত করেছিলো।অথচ নজরুল রীতিমতো মুসলমান হতে পারতেন। তিনি যে,-অশিক্ষিত পরিবারে জন্মেছিলেন, সে পরিবারে আনুষ্ঠানিক ইসলাম ধর্মই পালিত হতো। আর, ছেলেবেলা সেই ধর্মের শাস্ত্র পড়েই মাত্র দশ বছর বয়সে মসজিদে নামাজ পড়ানোর চাকরি পেয়েছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি যেসব ইসলামী গান লিখেছিলেন, তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কোরান-হাদিস তিনি ভালোই জানতেন। কিন্তু ছেলেবেলার এই শিক্ষা সত্ত্বেও তিনি মোল্লাহ হলেন না, বরং কয়েক বছরের মধ্যে ‘কাফের কাজী” উপাধি লাভ করেন। পরিণত নজরুল যে কেবল ইসলাম ধর্মের কতোগুলো বিধানের বিরোধিতা করলেন, তাই নয়; আনুষ্ঠানিক ধর্মেরই তিনি বিরোধিতা করলেন। খোদার আসন আরশ ছেদ করে উঠলেন, ভগবানের বুকে পদচিহ্ন এঁকে দিলেন। কিকরে এটা সম্ভব হয়েছিলো, বলা শক্ত। ছাত্রজীবনে এবং সেনাবাহিনীতে থাকার সময়ে তিনি অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের ঘনিষ্ঠতায় এসেছিলেন–এই একটি তথ্য দিয়েই এর ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না।ধর্ম যে মানুষের তৈরি এবং অর্থহীন, তারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। “হত-আহতদের ক্ৰন্দনে মসজিদ টলিল না, মন্দিরের পাষাণ দেবতা সাড়া দিল না। শুধু নির্বোধ মানুষের রক্তে তাহাদের বেদী চিরকলঙ্কিত হইয়া রহিল।’ কিন্তু হতাশা দিয়েই তাঁর বক্তব্য তিনি শেষ করেননি। আশা করেছেন “সেই রুদ্র আসিতেছেন, যিনি ধর্ম-মাতালদের আডডা ঐ মন্দির মসজিদ-গীর্জা ভাঙিয়া সকল মানুষকে এক আকাশের গম্বুজতলে লইয়া আসিবেন।” “হিন্দু-মুসলমান’ প্ৰবন্ধে লিখেছেন, এই দুই সম্প্রদায়ের বিরোধের প্রধান কারণ মোল্লা-পুরুতের দেওয়া শাস্ত্রের অপব্যাখ্যা। হিন্দুত্ব মুসলমানত্ব দুই সওয়া যায়, কিন্তু তাদের টিকিন্তু দাড়িত্ব অসহ্য, কেননা ঐ দুটোই মারামারি বাধায়। টিকিন্তু হিন্দুত্ব নয়, ওটা হয়ত পণ্ডিতত্ত্ব! তেমনি দাড়িও ইসলামতত্ত্ব নয়, ওটা মোল্লাতৃত্ব!’

সাহিত্যের মান বিচার করলে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে নজরুলের কোনো তুলনা চলে না, কিন্তু ঐহিত্য সমন্বয়ের প্রশ্ন উঠলে স্বীকার করতেইহবে যে, নজরুল যেমন করে হিন্দু-মুসলিম ঐহিত্যের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন, রবীন্দ্রনাথ তা আদৌ করতে পারেননি। করার চেষ্টাও করেননি। বস্তুত, বাড়ির কাছের পড়শিদের প্রাঙ্গণের ধারে গেলেও তিনি তাদের বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করেননি। অপর পক্ষে, নজরুল তা কেবল করেননি, সার্থকভাবে করেছিলেন। তিনি যেভাবে তৎসম-তদ্ভব শব্দের সঙ্গে আরবি-ফারসি শব্দের মিলন ঘটিয়েছিলেন, তাও একমাত্র তারই রচনায়দেখা যায়। এবং তিনি এটা করেছিলেন, আধুনিক বাংলা ভাষার জন্মদাতা এবং পালক রবীন্দ্রনাথ যখন “খুন’ শব্দের ব্যবহারে বিরক্ত হয়েছেন, সেই প্রতিকূল সময়ে।

সন্তানদের নামকরণ এবং শিক্ষায়ও এই অসাম্প্রদায়িকতার প্রমাণ দিয়েছিলেন। নজরুল। তাঁর প্রথম সন্তানের নাম তিনি দিয়েছিলেন কৃষ্ণ মহাম্মদ। মুসলমানদের মধ্যে এখন বাংলায় নাম রাখেন অনেকেই। কিন্তু কৃষ্ণ এবং মহাম্মদের মিলন ঘটিয়ে নয়।দ্বিতীয় পুত্রের নাম দিয়েছিলেন অরিন্দম খালেদ। তৃতীয় এবং চতুর্থ পুত্রের নাম দিয়েছিলেন যথাক্রমে সব্যসাচী আর অনিরুদ্ধ। অরিন্দম, সব্যসাচী এবং অনিরুদ্ধ–তিনটি নামেরই ধর্মনিরপেক্ষ অর্থ থাকলেও, তাদের ধর্মীয় অনুষঙ্গই প্রধান। মুসলমানরা এতে তাঁর প্রতি প্ৰসন্ন হতে পারেননি। কিন্তু নজরুল সে সমালোচনা অগ্রাহ্য করতে পেরেছিলেন। কারণ, আনুষ্ঠানিক ধর্মের চেয়েও মানবিক এবং ভাষিক পরিচয় তার কাছে বড়ো ছিলো। সন্তানদের তিনি কোনো ধর্মীয় শিক্ষাও দেননি। নিজেও ব্যক্তিগত জীবনে কোনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতেন না।

নজরুল একদিনে মরেননি। তিনি নির্বাক হয়ে বেঁচেছিলেন পয়তিরিশ বছর। তারপর কেটে গেছে আরও তিরিশ বছর। এই প্ৰায় পয়ষট্টি বছরের মধ্যে তিনি কয়েকবার মারা যান। তাঁর গানের চরম অনাদর থেকে মনে হয়, তিনি প্রথম বার মারা যান পশ্চিম বাংলায়, দেশবিভাগের ঠিক পরে। মনে হয়, তার পেছনেও ছিলো। সাম্প্রদায়িকতা। দ্বিতীয় বার তিনি মারা যান পূর্ব পাকিস্তানে, তাকে খণ্ড খণ্ড করে হাজির করায়। তৃতীয়বার মারা যান বাংলাদেশে, শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করায়। চতুর্থবারও মারা যান বাং–মৌলবাদীদের হাতে। এবারে কেবল ব্যক্তি নজরুল নন, তাঁর আদর্শও ভূত অর্থাৎ অতীত হয়ে যায়। নজরুল মরেও মুসলিম জাতীয়তাবাদের হাত থেকে রেহাই পাননি। পরিজনের মতামত ছাড়াই তাকে যে ঢাকায় সমাধিস্থ করা হয়, সেও ইসলামের প্রতীক হিশেবে তাঁর নাম ব্যবহার করার জাতীয়তাবাদী উদ্দেশ্য থেকেই।অথচ ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের প্রভাবে উভয় বাংলাতেই বাঙালিত্ব যখন বিপন্ন, এমন কি, বিপন্ন যখন মনুষ্যত্ব, তখন নজরুলের বেঁচে থাকাটাই খুবই দরকার ছিলো। বস্তুত, একজন নজরুল নয়, খুবই দরকার ছিলো ঘরে ঘরে নজরুলের।

Wednesday, August 29, 2018

নষ্টালজিক

শূণ্যতার দ্রাক্ষারসে জারিত জীবন
আহত পালকের মত
গলিত আঁধারে ঢাকে অকস্মাৎ,
ধূসর মুখের এলেবেলে প্রতিশ্রুতি
শুকনো জলে সাঁতার কাটে নিনাদ ভরা ভোরের পাখি।

দেখি, কেমন যেন প্রতিশ্রুতি মিলে
এ বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে
পীপাসায় স্তন চুষা বেয়াদব
মানচিত্র বেঁচে খণ্ড-খণ্ড পঙক্তির গোলমালে,
চোখের দৃষ্টি কোলাহলের স্রোতে আত্মমগ্ন
আয়না ঋতুশেষে আলোহীন অশ্লীলতায়
জড়িয়ে বুনিছে প্রেম।

শব্দের ফাটোলে মসৃণ পাতার ঘুমন্ত অলংকার
চরকির মতো ঘুরপাক খায়,
বিকৃত খবরের প্রতিটা শিরোনাম
হোল-সেল রেট দরে বিক্রি,হাটে....
কিছু পুঁজ পড়া হাতে।

হতভাগা পৃথিবীটা ক্ষয়িত ক্যান্সারে
ধ্বস্ত অনুরাগে তিলে তিলে
ডুবন্ত রবি শেষ প্রান্তে।

Sunday, August 26, 2018

পাগলীটা ও মা হয়েছে

ছিন্ন বস্ত্রে এলো পাথারি কেশে রাজপথে
বাবুদের গেটে
রাত পোহাতো যে মেয়েটি
জানো, আজ মা হয়েছে!
সে তো পাগলী,
দশ মাস আগে রোজ দেখা যেতো গলির মোড়ে
কদিন হলো আর পাত্তা পাইনি।

আজ গেটের সামনে দেখি কন্যা শিশুটি
স্তন টানছে ওর,
সমাজপতির দানব লালসায় নগ্ন-ভগ্ন দেহটা
স্নান করে বীর্যের অপবিত্র জলে,
মানবতার কষাঘাত তবুও আমি নিঃশ্চুপ!
নিষ্টুর চাহনি আর মেকি ক্ষুধা মেটানো বুঝি
পাগলীটাই ছিল?

এ কেমন হরমন দোষ,রেহাই দিলি না পাগলীটারে
তোরা বিষাক্ত উত্তেজনা থেকে
রাতের অন্ধকারে চাহিদা মেটালো যারা
আর্তনাদটা শুনলো না রাস্তার কুকুর ছাড়া
পাগলী তো জানে যৌবন কি!
ক্ষণিক অগ্নিঝরা ঘর্ষণে রঙিন বাসর
রাজপথ ভাসে অভিশপ্ত রক্তস্রোতে।
কলুষ ধরনী চেয়ে দেখো চক্ষু মেলিয়া
স্রোষ্টার আসন আরস ছেদিয়া
নির্বাক সভ্য দালাল আজিকে
পাগলীটা ও মা হয়েছে।

সর্বনাশী বন্যা

বন্যার জল ফুলিছে আবার চারিদিক হাহাকার
বাড়ী-ঘর আর পথ-ঘাট সব হলো নাজেহাল
ঘর ছাড়া দেখো হাজারও মানুষ জলের উপর ভাসে
অসহায় তারা কাঁদছে কেবল নেই যে কেহ পাশে।

বন্যার করাল গ্রাসে প্রাণীকুল অসহায়
উপোস থাকি,কষ্টে ভাসি মোরা সব নিরুপায়
ভাত নাই,পানি নাই,নাইকো কোন আশা
ছারখার  মানবকুল,আজিকে করুনদশা।

নয়ন মেলিয়া যখনই দেখি অভিশপ্ত জলরাশি
জীবন বুঝি অকালে যাবে! কোন অভিশাপে নাজানি
চুপসে গেলো বস্ত্র সবই,শীতে কাঁপি থরথর
ভাসছে জলের উপর গাড়ি বাড়ি ঘর।

কাঁদছে শিশু বৃদ্ধ কাঁদে,কাঁদে মানবকুল
সর্বনাশী বন্যায় শুধু কেরল নয় গোটা দেশ ব্যাকুল
বাজছে শুনো হে বিবেক অভিশপ্ত মরণ বীণ
বাড়াও সাহায্যের হাত ঐ কষ্টের দিন।

উৎকণ্ঠ রাজপথ জনতার ভিড়,লেলিহান জলরাশি
বিঘ্ন জন-জীবন বন্যা সর্বনাশী।

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...