Wednesday, August 29, 2018

নষ্টালজিক

শূণ্যতার দ্রাক্ষারসে জারিত জীবন
আহত পালকের মত
গলিত আঁধারে ঢাকে অকস্মাৎ,
ধূসর মুখের এলেবেলে প্রতিশ্রুতি
শুকনো জলে সাঁতার কাটে নিনাদ ভরা ভোরের পাখি।

দেখি, কেমন যেন প্রতিশ্রুতি মিলে
এ বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে
পীপাসায় স্তন চুষা বেয়াদব
মানচিত্র বেঁচে খণ্ড-খণ্ড পঙক্তির গোলমালে,
চোখের দৃষ্টি কোলাহলের স্রোতে আত্মমগ্ন
আয়না ঋতুশেষে আলোহীন অশ্লীলতায়
জড়িয়ে বুনিছে প্রেম।

শব্দের ফাটোলে মসৃণ পাতার ঘুমন্ত অলংকার
চরকির মতো ঘুরপাক খায়,
বিকৃত খবরের প্রতিটা শিরোনাম
হোল-সেল রেট দরে বিক্রি,হাটে....
কিছু পুঁজ পড়া হাতে।

হতভাগা পৃথিবীটা ক্ষয়িত ক্যান্সারে
ধ্বস্ত অনুরাগে তিলে তিলে
ডুবন্ত রবি শেষ প্রান্তে।

Sunday, August 26, 2018

পাগলীটা ও মা হয়েছে

ছিন্ন বস্ত্রে এলো পাথারি কেশে রাজপথে
বাবুদের গেটে
রাত পোহাতো যে মেয়েটি
জানো, আজ মা হয়েছে!
সে তো পাগলী,
দশ মাস আগে রোজ দেখা যেতো গলির মোড়ে
কদিন হলো আর পাত্তা পাইনি।

আজ গেটের সামনে দেখি কন্যা শিশুটি
স্তন টানছে ওর,
সমাজপতির দানব লালসায় নগ্ন-ভগ্ন দেহটা
স্নান করে বীর্যের অপবিত্র জলে,
মানবতার কষাঘাত তবুও আমি নিঃশ্চুপ!
নিষ্টুর চাহনি আর মেকি ক্ষুধা মেটানো বুঝি
পাগলীটাই ছিল?

এ কেমন হরমন দোষ,রেহাই দিলি না পাগলীটারে
তোরা বিষাক্ত উত্তেজনা থেকে
রাতের অন্ধকারে চাহিদা মেটালো যারা
আর্তনাদটা শুনলো না রাস্তার কুকুর ছাড়া
পাগলী তো জানে যৌবন কি!
ক্ষণিক অগ্নিঝরা ঘর্ষণে রঙিন বাসর
রাজপথ ভাসে অভিশপ্ত রক্তস্রোতে।
কলুষ ধরনী চেয়ে দেখো চক্ষু মেলিয়া
স্রোষ্টার আসন আরস ছেদিয়া
নির্বাক সভ্য দালাল আজিকে
পাগলীটা ও মা হয়েছে।

সর্বনাশী বন্যা

বন্যার জল ফুলিছে আবার চারিদিক হাহাকার
বাড়ী-ঘর আর পথ-ঘাট সব হলো নাজেহাল
ঘর ছাড়া দেখো হাজারও মানুষ জলের উপর ভাসে
অসহায় তারা কাঁদছে কেবল নেই যে কেহ পাশে।

বন্যার করাল গ্রাসে প্রাণীকুল অসহায়
উপোস থাকি,কষ্টে ভাসি মোরা সব নিরুপায়
ভাত নাই,পানি নাই,নাইকো কোন আশা
ছারখার  মানবকুল,আজিকে করুনদশা।

নয়ন মেলিয়া যখনই দেখি অভিশপ্ত জলরাশি
জীবন বুঝি অকালে যাবে! কোন অভিশাপে নাজানি
চুপসে গেলো বস্ত্র সবই,শীতে কাঁপি থরথর
ভাসছে জলের উপর গাড়ি বাড়ি ঘর।

কাঁদছে শিশু বৃদ্ধ কাঁদে,কাঁদে মানবকুল
সর্বনাশী বন্যায় শুধু কেরল নয় গোটা দেশ ব্যাকুল
বাজছে শুনো হে বিবেক অভিশপ্ত মরণ বীণ
বাড়াও সাহায্যের হাত ঐ কষ্টের দিন।

উৎকণ্ঠ রাজপথ জনতার ভিড়,লেলিহান জলরাশি
বিঘ্ন জন-জীবন বন্যা সর্বনাশী।

Saturday, August 25, 2018

লাশটা রাখবো কোথায়!

লাশটা আমার রাখবো কোথায়....
আবর্জনা মৃত্তিকায়!
মাকড় ঝালে বেড়ি পরা পৃথিবী
অশান্ত ভুবনে শান্তির খুঁজে
দিবে কি যোগ্য সমাধিস্থান?

হয়রান আমি ক্লান্ত
মনমরা বিষাদে জর্জরিত,
জানো,নেই এমনও স্থান বিন্দু-বিসর্গ
মিলে নাই, মহাসিন্ধু অতল বলো আর
মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাঁড়ি,অশান্তিটা দেখি হিমালয়ে
প্রতিযোগীদের ভীড়,নাম রৌশনের খিদে
নিস্তার নেই সুনীল-শান্ত আকাশ,বিভীষিকায় বিকল
মনব-যন্ত্র,সব কিছু ছেঁদো
বীজ গাড়া হিজলের,ভীত-সন্ত্রস্ত
ক্লান্ত যৌবনের অস্তাচলে সমস্থ,তাই
হৃদয়ে হৃদয়ে মিলবে এ লাশের ঠাঁই।

Sunday, August 19, 2018

কলঙ্কিনী সতী

"কলঙ্কিনী সতী"
   আ.জাহিদ রুদ্র
"""""""""""""""""""
হে সমাজ অট্টালিকার ইট খুলে দেখো
নৈশব্দিক রাতে ঠোঁটে লিপষ্টিক একে স্বল্প বস্ত্রাভুষনে
লেম্পপোষ্টের নীচে ব্যস্ত খদ্দের সন্ধানে,
নিষিদ্ধ নগরীর অন্ধকার গলির মোড়ে
ব্যবসায় মত্ত দেহ অনাকাঙ্খিত বিষন্ন মনে
আমি পতিতা কলঙ্কিত সমাজে।

ক্ষত-বিক্ষত দেহটারে খাবলে খায়
ব্রাণ্ডেড সুশীলে চুপিসারে
ফেলে যায় বিষাক্ত ভাইরাসের রেতকে,
মগজের কারফিউ তোলে উরুসন্ধিতে
ভাড়াটে বিছানা সাক্ষী কলঙ্ক দাগে
যদিও নিগ্রহ করে সভ্যদের ভিড়ে।

পরিহাসে লজ্জা নেই কারণটা যে যন্ত্রণা
স্বাদে মনোরমা আমি সুশীলদের বনলতা
ভাগাড়ে স্বপ্ন পরিণত এক পতিতা,
মহাবিশ্বে অনাদি ও ঈশ্বর শূণ্য
জগৎ খপুংসকের দখলে
কোরান-বেদ বা যাই বলো রচিত প্রবৃত্তির আস্তানা!

নারীর অধিকারে আওয়াজ তুলে যারা
আধুনিক সমাজ তারে বেশ্যা ডাকে
দৃপ্ত কণ্ঠে ফুল ভলিওমে,
হতাশায় মুক্তির তালিমারা স্বপ্ন আঁকে
নিয়নেয় অশ্রুঝরা রাতে
কি সত্যিই মুক্তি হবে এফিডেভিট করে।

Sunday, August 12, 2018

ঈর্ষা

আ. জাহিদ রুদ্র

মানবজাতি তন্ময় আজ ঈর্ষায়
ব্যস্ত সে কুল রক্ষায়,
ঠেলছে তারে কালের মোহনায়
রাজপথে চলে যত অসুর দাম্ভিকতায়।

ঈর্ষা এক মরণ ব্যাধি,
যেথায় হারে অস্তিত্বের মানহানী
ঝগড়া-বিবাদ ঈর্ষার লাগি
আছে প্রমাদ,গালাগালি,হানাহানি।

দ্বন্ধ সংঘাতে বাড়ায় ভেদাভেদ
ঈর্ষা এক স্বার্থপর আবেগ
শান্তি সম্প্রীতি পুড়ে হাটে ঘাটে
রাজপথ উত্তপ্ত কুকুরের ঘেউয়ে।

পুড়ছো কেন পরের জশে
চেষ্টা কর আপনার হবে
লোভ-লালসার মোহ ছেড়ে
বিলাও জীবন পরের তরে।

ঈর্ষা বড়ায় মিথ্যা অহংকারী
এরাই নীচু কার্পণ্যতার অধিকারী।
যদি কর ঈর্ষা পরিহার
রাঙিবে সুমধুর এ সংসার।

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...