Wednesday, June 29, 2022

ধর্মানুভূতি: আহত ও আঘাত এই কথা দুটিতে জড়িয়ে থাকে

"আমি হিন্দু" "আমি মুসলমান একথা শুনতে শুনতে কান ঝালা-পালা হয়ে গেলো।কিন্তু “আমি মানুষ” একথা কাহাকেও বলতে শুনি না। যারা মানুষ নয়, তারা হিন্দু হোক আর মুসলমান হোক, তাদের দিয়ে জগতের কোনো লাভ নেই।"
                                  -----রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


ধর্মান্ধতাই ধর্মের মৌলবাদ। এই মৌলবাদই দেশে দেশে শিল্প ও সংস্কৃতির জন্য হুমকি হয়ে পড়েছে। ধর্মান্ধতা মানুষের একটি কমন ত্রুটি। এর প্রধান ভিত্তি হচ্ছে কোন নির্দিষ্ট বিধিবিধান বা প্রথার প্রতি যাচাই বাছাই না করে অন্ধ আনুগত্য করা। তাইতো অভিজিৎ রায়ের কথায় ‘ধর্মান্ধতা, মৌলবাদের মতো জিনিস নিয়ে যখন থেকে আমরা লেখা শুরু করেছি, জেনেছি জীবন হাতে নিয়েই লেখালিখি করছি।’

প্রচলিত ধর্মগুলি মানুষকে হিংসা বিদ্বেষ শিক্ষা দেয়, সুস্থ মানসিক বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, কর্মবিমুখ অলস পরনির্ভরশীল করে গড়ে তোলে, মানুষের মধ্যে তৈরি করে বিভেদ বিভাজন। এখনো এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে, জ্ঞান বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষের সময়েও তা থেমে যায়নি। বিশ্বের সভ্য মানুষেরা যখন ধর্মের আদলে কর্মে মনোযোগ দিয়ে যাচ্ছে এগিয়ে, তখন কতিপয় ধুরন্ধর মতলববাজ পরজীবী শ্রেণী সাধারণ মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে বাড়িয়ে চালাচ্ছে তাদের পুঁজিবাদী ব্যবসা! ছড়াচ্ছে উন্মাদনা! মানুষকে ঠেলে দিচ্ছে অন্ধকারে! থামিয়ে দিচ্ছে উন্নতির অগ্রযাত্রাকে! মানুষ ঠকছে, হচ্ছে প্রতারিত! তাইতো কখনো 'রামের' নামে আবার কখনো 'গোস্তাকে রসুলের' নামে মারছে-মরছে।

সাহাদাত হোসেন মান্টো ধর্মান্ধতা নিয়ে বেশ কিছু কাজ করেছেন। তার ‘ঠাণ্ডা গোস্ত’ গল্পে দেখি,দেশভাগের সময়কার দাঙ্গায় মুসলমানের রক্তে হাত রাঙানো শিখ যুবক ঈশ্বর সিংহ ঘরে ফিরে কিছুতেই প্রেমিকার সঙ্গে সঙ্গম করতে পারছে না। প্রেমিকার সন্দেহ হয়, তার পুরুষ নিশ্চয় অন্য নারীসঙ্গে মজেছে। ঈর্ষার জ্বালায় ঈশ্বরের কৃপাণ কোষমুক্ত করে সে ক্ষতবিক্ষত করে তাকে। মুমূর্ষু ঈশ্বর স্বীকার করে, সে এক অচেতন মুসলিম বালিকাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ক্রমশ বুঝতে পারে আসলে সে বালিকাটির শবের সঙ্গে... আখ্যানের তীব্র সংবেদনশীলতা বোঝেনি পাকিস্তান। ‘আমরা মুসলমানরা এতই আত্মমর্যাদারহিত যে আমাদের মৃত কন্যাদেরও শিখরা ধর্ষণ করে যায়?’—এমন প্রশ্ন তুলে লাহোর আদালতে মামলাও ঠুকে দেয় পাক আমলাতন্ত্র। যাইহোক এই কথাগুলো বলার কারণ হলো আমরা আর কত এভাবে একে অপরের রক্তস্নানে নিজেকে পবিত্র করবো ?

অনেক বড় ধরনের দূর্ঘটনা দেখেও আমরা খুব শক্ত থাকতে পারি। সেটা যতই মানবাধিকার লঙ্ঘণ হোক, সেটা যতই দেশের উন্নয়নে বাধা হোক, জনগণের স্বাধীনতা হরণ হোক আমরা মাথা ঠান্ডা রাখতে পারি। শ্রেণী সংগ্রামের পথে না গিয়ে আমরা চলছি ভোটের রাজনীতিতে, তাতে কোন ভাবেই আমাদের অনুভূতিতে আঘাত আনতে পারে না। কিন্তু যখন দেখি ধর্ম নিয়ে একে অপরের মন্তব্য বা কেটে মেরে রক্ত ঝরায়, তখন আমাদের আবেগ তীব্র উল্কাপিন্ড হয়ে যায়। হাত পা ঠান্ডা হয়ে যায়,শক্ত হয়ে যায়। মনে হয় নিজের শরীরে যন্ত্রনা হচ্ছে।পৃথিবীতে মনে হয় ধর্মের চেয়ে কেউ আত্মার এত কাছে থাকে না।

ধর্ম যে কতটা ঠুনকো কতটা ভঙ্গুর তার বারবার প্রমাণিত।মানুষ হতে ধর্মের কোনো প্রয়োজন নেই। একুশ শতকের আগের একটা মহান শিক্ষা আজ‌ও আমরা আমাদের বাচ্চাদের দিতে পারিনি - 'ধর্মের বেশে মােহ যারে এসে ধরে অন্ধ সে জন মারে আর শুধু মরে'।

খারাপ মানুষকে ধর্ম ভালো করতে পারছে না। মানুষের ধর্ম নিজের ও মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা, ভালোকথা ভালোবাসা দিয়ে মানুষকে খুশি করা। জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রসারে, মনুষ্যত্ব মানবতাবোধ অর্জনের মধ্য দিয়ে, নিশ্চয়ই একদিন বিভাজন দূরীভূত হবে।

ছবিঋণ : জিষ্ণু রায়চৌধুরীর ফেসবুক ওয়াল থেকে।

Saturday, June 25, 2022

অভিভাবকগণ, সাবধান! ফুবিং আপনার সন্তানকে ধ্বংস করবে!


একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে বেশিরভাগ তরুণ-তরুণীই ফুবিংয়ে ভুগছেন এবং শুধুমাত্র তাদের স্মার্টফোনের জন্য তাদের সঙ্গী, পিতামাতা এবং তাদের আশেপাশের লোকজনকে উপেক্ষা করছেন। এক গবেষণায় এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

 হায়দ্রাবাদের তরুণদের মধ্যে পরিচালিত একটি গবেষণায় উদ্বেগজনক ফলাফল এসেছে। এই অধ্যয়নের সহ-লেখক এবং হায়দ্রাবাদের ইএসআইসি হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ সুধা বালা তার গবেষণায় বলেছেন, 'হায়দ্রাবাদের যুবকদের মধ্যে মানসিক যন্ত্রণার উপর ভয় দেখানোর পরিণতি' এটি বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সাথে তাদের সম্পর্কের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।

'ফুবিং' শব্দটি হল 'ফোন' এবং 'স্নাবিং'-এর একটি পোর্টম্যানটো— তার অর্থ দাঁড়ায় অন্যের দিকে মনোযোগ না দিয়ে নিজের ফোনে ব্যস্ত থাকা। দুটি শব্দের সংমিশ্রণ এবং এটি একটি প্রচারণার অংশ হিসাবে ২০১২ সালে একটি অস্ট্রেলিয়ান বিজ্ঞাপন সংস্থা তৈরি করেছিল যা পরে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

 ২০১৮ সালে ICMR-এর সহযোগিতায় শহরের ডাঃ বালা, ধরনি টেককাম এবং হর্ষল পান্ডাওয়ে এই গবেষণাটি চালু করেছিলেন। তারা ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিসিন এবং কলা বিভাগের মোট ৪৩০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে গবেষণাটি পরিচালনা করেন।

 সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে যে শহুরে যুবকদের মধ্যে ফুবিংয়ের প্রবণতা বেশি, তাদের মধ্যে ৫২ শতাংশই ফুবিংয়ে নিমগ্ন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে, ২৩ শতাংশ ফুবিংয়ের ফলে গুরুতর মানসিক যন্ত্রণার সম্মুখীন হয়েছিল, যখন ৩৪ শতাংশের মাঝারি মানসিক যন্ত্রণা ছিল। এটি বলেছে, ফুবিংয়ের পরিমাণ এবং মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে একটি পরিসংখ্যানগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

অনেক ক্ষেত্রে, বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে, ফুবিং গেমিং আসক্তিতে পরিণত হতে দেখা গেছে। শহরের একটি হাসপাতালের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১৪ বছর বয়সী একটি ছেলে দশম শ্রেনীর পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি সত্ত্বেও অনলাইন গেম খেলে দিনে ১৮ ঘন্টা পর্যন্ত ব্যয় করে।

 যাইহোক, এই ফুবিং কিশোর বা তরুণদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় রেনোভা হাসপাতালের কনসালটেন্ট সাইকিয়াট্রিস্ট এবং সাইকোঅ্যানালাইটিক সাইকিয়াট্রিস্ট ডাঃ আসফিয়া কুলসুম বলেন, কখনও কখনও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ফুবিং পাওয়া যায়।

 তিনি বলেন, অনেক উদাহরণ রয়েছে যে স্ত্রীরা তাদের ফোনে বেশি সময় ব্যয় করে তাদের স্বামীদের সাথে দাম্পত্য কলহের দিকে নিয়ে যায়। সংক্ষেপে শুধু এটাই বলা যায় যে, ফুবিং আধুনিক মানুষকে গ্রাস করতে শুরু করেছে। এর আগে থেকে এর প্রিকিউশন অবলম্বন না করলে অদূরে মানসিক বিকারগ্রস্থতার স্বীকার অনিবার্য।

(নীচের এই লিংকে ক্লিক করে আরও পড়তে পারেন)

https://www.deccanchronicle.com/lifestyle/culture-and-society/170622/half-of-city-youth-in-grip-of-phubbing-study.html

https://www.newportacademy.com/resources/mental-health/phubbing-why-its-bad-for-us/

Friday, June 24, 2022

সমতুল্য


তখন রোদ্দুর সীমার গাইনোকলজিস্ট এর সাথে ফোনে কথা বলছিল। চারিদিকে জল এমনকি রোদ্দুররার গ্রাউন্ড ফ্লোরটা পর্যন্ত। তাই চেকাপেরর জন্য মেডিকেল এ নেয়া সম্ভব হচ্ছিল না। উপরের তলায় খুব কষ্ট হচ্ছে সীমার। আর চার পাঁচ দিন সময় হাতে। জল নিয়ে রোদ্দুর খুব চিন্তায়। ফ্লাডে একতো খাবার শেষ হওয়ার পথে আর পান করার জলটাও প্রায় শেষ। মিনারেল ও পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু সীমার দিকে তাকিয়ে সব ম্যানেজ করতে জানে রোদ্দুর। খুব ভালোবাসে।

গর্ভবতী স্ত্রী কথোপকথন শেষে সত্যিই নিজে মেয়ে জাতি হওয়ার এবং নিজের পেটে নিজের বাচ্চা সৃষ্টির, লালন পালনের আনন্দে আনন্দিত হয়ে এই বাস্তবতার জ্ঞানে সমৃদ্ধ স্বামীকে গর্বে জড়িয়ে ধরে সীমা। রোদ্দুর চোখ মুছে বলে তোমাদের ঋণ শোধ করতে নেই মনে রাখতে হয়। পুরুষ কখনোই নারীর সমতুল্য হতে পারে না।

Sunday, June 19, 2022

নৌকা বাইচ বরাকের ঐতিহ্যবাহী দৌড় প্রতিযোগিতা


আবহমানকাল থেকে নৌকা দৌড় বাইচ বাংলার লোকসংস্কৃতির নদী কেন্দ্রীক পরিচায়ক। কালের পরিক্রমায় হারিয়ে গেলেও সাম্প্রতিক কয়েক বছরে তা আবার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এক সময় এ দেশে যোগাযোগ ছিল নদী কেন্দ্রিক আর বাহন ছিল নৌকা। এখানে নৌ শিল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে বিভিন্ন শিল্পকেন্দ্র। এসব শিল্পে যুগ যুগ ধরে তৈরি হয় দক্ষ ও অভিজ্ঞ কারিগর। এভাবে একসময় বিভিন্ন নৌযানের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। কালের পরিক্রমায় `মেসোপটেমিয়ার` মানুষদের শুরু করা খেলাটি বাংলাদেশের জনপ্রিয়তার সাথে সাথে আমাদের দেশেও চলে আসে।

নৌকা দৌড় বরাক উপত্যকার ঐতিহ্য বহন করে। বিশেষ করে আমাদের করিমগঞ্জ জেলায় এই নৌকা দৌড় প্রতিযোগিতা এই অঞ্চলের মানুষের আনন্দের সঞ্চার জোগায়। কালের পরিক্রমায় হারিয়ে গেলেও জনপ্রিয়তা ও সমাদর লোক হৃদয়ে আজও আছে এক বিশেষ স্থান দখল করে।

এক সময় এ দেশে যোগাযোগ ছিল নদী কেন্দ্রিক আর বাহন ছিল নৌকা। নৌ শিল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল বিভিন্ন শিল্পকেন্দ্র। এসব শিল্পে যুগ যুগ ধরে তৈরি হয় দক্ষ ও অভিজ্ঞ কারিগর।কালের বিবর্তনে পাশ্চাত্যের ভাবধারায় আধুনিক সুযোগসুবিধার সম্মিলনে কতক শহর গড়ে উঠলেও গ্রামবাংলায় নৌকা দৌড়ের কদর এখনও ব্যাপক। নৌকা বাইচে আমজনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই তার প্রমাণ।

এই নৌকা দৌড় প্রতিযোগিতা বিশেষ করে বর্ষাকালে হয়ে থাকে। নদীতে বা বিলে যখন জল ভর্তি হয় কানায় কানায়, প্রায় কিছু জায়গায় বন্যার আকার ধারন করে। ঠিক সেই সময় আনন্দ উপভোগ জোগাতে এই প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। তবে একসাথে সব জায়গায় এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়না। এক এক জায়গায় এক এক সময়ে হয়ে থাকে।করিমগঞ্জে বিশেষ করে শণবিল,বদরপুর ঘাট, শনিবাড়ি,সুতারকান্দী (কৈয়া বিল) এইসব অঞ্চলে হয়ে থাকে। নৌকা বাইচের নৌকা হয় সরু ও লম্বাটে। কারণ, সরু ও লম্বাটে নৌকা নদীর পানি কেটে দ্রুত গতিতে চলতে সক্ষম। নৌকার সামনে সুন্দর করে সাজানো হয় এবং ময়ুরের মুখ, রাজ হাসের মুখ বা অন্য পাখির মুখের অবয়ব তৈরি করা হয়। দর্শকদের সামনে দৃষ্টিগোচর করতে নৌকাটিকে উজ্জ্বল রংয়ের কারুকাজ করা হয়।

নৌকাবাইচের সময় মাঝি-মাল্লারা সমবেত কণ্ঠে গান গায়। এতে তাদের যেভাবে উৎসাহ বাড়ে ঠিক দর্শকদেরও বাড়ে আগ্রহ। তৈরি হয় এক মনোরঞ্জক পরিবেশ। প্রতিযোগিতায় আরও রয়েছে বিজয়ীদের পুরস্কারের ব্যবস্থা। পুরষ্কার হিসেবে দেওয়া হয়ে থাকে মোটা অংকের টাকা,টিভি, নৌকা ইত্যাদি। আমাদের এলাকায় এই দৌড় প্রতিযোগিতা হয় কৈয়া বিলে বা শনিবাড়ি লঙ্গাই এ। দৌড়ের নৌকাগুলোর নাম ও আছে যেমন সোনার তরী, অগ্রদূত, পঙ্খিরাজ, ময়ুরপঙ্খী ইত্যাদি। 

এই জনপ্রিয় নৌকা দৌড়ে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বস্তু হলো জনপ্রিয় সারিগান। তাল, করতাল বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে সারিবদ্ধভাবে চলে গান। শাহ আবদুল করিমের --

চন্দ্র-সূর্য বান্ধা আছে নাওয়েরই আগায়
দূরবীনে দেখিয়া পথ মাঝি-মাল্লায় বায়
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায় ।।

রঙ-বেরঙের যতো নৌকা ভবের তলায় আয়
রঙ-বেরঙের সারি গাইয়া ভাটি বাইয়া যায়
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায় ।।

একটার পর একটা চলে

আল্লায় বলিয়া নাও খোল রে
ভাই সক্কলি।
আল্লাহ বলিয়া খোল।।
ওরে আল্লা বল নাও খোল
শয়তান যাবে দূরে।।
ওরে যে কলমা পইড়া দেছে
মোহাম্মদ রাসূলরে
ভাই সক্কল।...

বা এটাও

যাত্রাকালে বাধা দিওনা বিদায় দেওগো সকালে
আমার নীলগো রতন কাল রতন সাজাইয়া দে…
রাধিকা সুন্দরী জল ভরিতে যায় সোনার নুপুর বাজে রাঙা পায়।
দেখরে কার রমনী জলে যায়।

(এই গানগুলো এক প্রতিযোগির কাছ থেকে সংগ্রহ করা, নাম - গফুর চাচা)।

নৌকা দৌড় শ্রাবণ মাস থেকে শুরু করে ভাদ্র-আশ্বিন মাস পর্যন্ত হলেও মূল আকর্ষণ শ্রাবণ সংক্রান্তির নৌকা দৌড়। কালের বিবর্তনে যদিও আমরা বিশ্বায়নের যুগে তবু নিজের লোকসংস্কৃতির ইতিহাস মিটিয়ে দেয়া কোন ভাবেই সম্ভব নয়। তাইতো এর মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব আজ পর্যন্ত বহাল রেখেছে এতদাঞ্চলের মানুষ।

Sunday, June 12, 2022

মাই গড ইজ আ ওম্যান

মূল লেখিকা - নূর জহির

মাই গড ইজ আ ওম্যান! বইটি সম্পর্কে যেদিন প্রথম জানতে পারি তখন থেকেই টানটান উত্তেজনা। হওয়ারই কথা, কারণ টাইটেলটাই আমার পক্ষে যথেষ্ট ছিল, উৎসাহের কারণও বটে।এই বইটিতে আসল মশলা যোগ করা হয়েছে সে কারণে বিরক্তিকর টাইপের কোথাও অবকাশ নেই। আমি শুধু চেয়েছিলাম বইটি আরও বড় কিছু ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু চরিত্রগুলির অসামান্য আকর্ষণ, এবং শেষে আপনি আপনার পছন্দের তুলনা থেকে অতুলনীয় হয়ে ওঠে। এই বই পছন্দের বিষয় হল সঠিক বিজ্ঞানমনস্কে মূল্যায়ণ হয়েছে, যখন কেউ জানে না ঈশ্বরের মনে কী আছে!

নয় বছর বয়সী সাফিয়া মেহেদীকে একটি ম্যাগাজিনের অহানিকর নিবন্ধে পর্দার জগতে পৌঁছে দেয়। তার বাবা তাকে বিয়ে দেন লখনৌয়ের বিখ্যাত জাফরি ​​পরিবারের ছেলে আব্বাস জাফরির সাথে। আব্বাস একজন ব্যারিস্টার এবং একটি বিতর্কিত বইয়ের লেখক। সাফিয়ার বাবা আশা করেছিলেন যে তিনি তার বিচ্যুত স্বামীকে 'আল্লাহর সত্য বিশ্বাসে' ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবেন। হাস্যকরভাবে, আব্বাস যিনি একটি স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন দেখেন যেখানে নারীরা পুরুষের মতো সমান অধিকার ভোগ করবে, সাফিয়াকে একজন ঐতিহ্যবাহী মুসলিম নারীর স্টেরিওটাইপ থেকে মুক্ত হতে পরিচালিত করবে। স্বাধীনতা-পূর্বের উত্তাল সময়ের বিপরীতে, স্বামী-স্ত্রী জুটি একটি প্রগতিশীল জাতির পথকে ব্যাখ্যা করে একটি যাত্রা শুরু করে।

যাইহোক, যখন সবকিছু ঠিকঠাক ভাবে চলছিল, তখন আব্বাসকে ইমামের মুখোমুখি হওয়ার জন্য একটি ফতোয়া জারি করা হয়, নারী ও পুরুষের মধ্যে বৈষম্য প্রচার করা হয়। তার মার্কসবাদী পার্টিও তাকে দেশের মুসলিম মহিলাদের দুঃখজনক অবস্থার জন্য শরিয়তের সমালোচনা করার জন্য তাকে বঞ্চিত করে। ফলস্বরূপ, আব্বাসকে মুসলিম ধর্মান্ধদের দ্বারা হত্যা করা হয় এবং সাফিয়াকে নিজের এবং তার মেয়ের জন্য একাকী রেখে দেওয়া হয়। সময়ের সাথে সাথে, সাফিয়া দৃঢ়তা এবং সাধারণ জ্ঞান অর্জন করে। একজন নারী হওয়ার তার 'শক্তিতে' তার প্রকাশ্য ধার্মিকতা এবং নিখুঁত বিশ্বাসে সজ্জিত, সাফিয়া নারীর ক্ষমতায়নের কারণকে এগিয়ে নিয়ে চলে। কিন্তু সে কি সেই বহুল প্রতীক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারে নাকি সমাজের দমনমূলক গোঁড়ামির শিকার হয়? 

তিনি কি মুসলিম নারীদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করতে পারেন, তাদের শক্তভাবে বন্ধ আঙ্গুলগুলো খুলে দিতে এবং তাদের ভাগ্যের উপযোগী একটি পৃথিবী গড়তে বের হতে পারেন? নারীরা কি সেই ঈশ্বর হতে পারে যেটা তারা সবসময় হতে চেয়েছিল?  

মাই গড ইজ আ ওম্যান বইটিতে চলুন কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি। একটি অত্যন্ত চিন্তাশীল বই, যা সংস্কারের বিবরণ উন্মোচন করে বা বরং মুসলিম নারীদের উন্নত অবস্থার জন্য মুসলিম পুরুষদের দ্বারা আনার চেষ্টা করে, যাকে তার নিজের লোকেরা হত্যা করেছিল। এটা আমাকে ভাবতে বাধ্য করেছে কেন মুসলিম নারীদের অবস্থা বর্তমানে এমন হচ্ছে। শরিয়ত কি মুসলিম নারীদের বিরুদ্ধে? আমি তাই মনে করি না. যেমন দাবি করা হয়, যদি এটি ঈশ্বরের একটি শব্দ হয়, তাহলে ঈশ্বর কেন পরামর্শ দেবেন বা এমনকি তার একটি জাতিকে অন্যের দ্বারা আধিপত্য করতে চান যে এটি মানবতার কাছে একটি প্রশ্নচিহ্ন হয়ে ওঠে। “শরীয়ত” কেন দেশের আইনের ঊর্ধ্বে বিবেচিত হতে পারে? আমি উত্তর খুঁজে পাওয়ার আশা করি, এবং অনুসন্ধানে আমি আমার অনেক মুসলিম (পুরুষ) বন্ধুদের চেক করেছি যারা ভেড়ার মত হয়ে গেছে। কেন এত বড় ধর্ম এই অবস্থায় এসেছে যে তার বিরুদ্ধে এত প্রশ্ন উঠেছে? মহান ধর্মের বাহক কি “ইসলাম” সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম নয়। শরিয়তের পরিবর্তন না হলে, শরিয়তের ব্যাখ্যা করতে চাওয়া লোকেদের কি পরিবর্তন দরকার নয়?

মাই গড ইজ আ ওম্যান এর লেখিকা নূর জহিরের ২০ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে রচিত উপন্যাস। এটি ধর্মীয় আইনের ব্যবধানে মুসলিম মহিলাদের দমনের সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কাজ করে। বইটি প্রতিফলিত করে কিভাবে একদিকে নারীরা বাধ্য হয়ে পর্দা পালন করতে বাধ্য হয়েছিল, শিক্ষা লাভের সুযোগ দেওয়া হয়নি, যার ফলে তারা অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে আছে। অন্যদিকে, 'তিন তালাক' অভ্যাস তাদের অসহায় ও নিঃস্ব জীবনযাপনের জন্য আরও দুর্বল করে তুলেছে।

Friday, June 3, 2022

ম্যা নি ফে স্টো



১) হাংরি জেনারেশন

জাতীয় নিরাপত্তা’ বলতে বুঝি জীবন ছাড়া
 বিবেকের কাছে বেঁচে থাকার বিনিময় প্রথা 
 এবং যে কোন কিছুর জন্য অন্ধ ‘হ্যাঁ’ হয়ে থাকা
 অশ্লীল বলে বিবেচিত হওয়া মনে,
অনুকূলতার সামনে সেজদা করতে শেখেছে
‘জাতীয় নিরাপত্তা’ বিপন্ন লবণাক্ত ঠোঁটে।
 'সবচেয়ে বিপজ্জনক' কথা
 শ্রম লুট শ্লোগান ধরেছে ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন।
 এমনকি লোভ থেকে বিশ্বাসঘাতকতা
 আর কোনো সতর্কতা ছাড়াই গ্রেফতার
 এতোটা ভয়ঙ্কর হয় না
 নীরবতা ভয় পায় যতটা।

নিজের ভিতর থেকে
পৃথিবীর সভ্যতায় গজিয়ে ওঠা ধাবমান ট্রেনগল্পে
ইন্টেলিকচ্যুয়েল বার্তাজীবি লিখছে 'ঘুম পাড়ানি মাসিপিসি মোদের বাড়ি এসো'।
 ক্ষীণ কৃমির আলোয় পড়া
 ভ্রুকুটি নিয়ে জীবনের মধ্য দিয়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে ভালো নয়,
 তবু স্বমূত্র গোমূত্র স্নানজল পান করা ফোবিয়া
 নিজের জন্য নিষ্ক্রিয়তায় কমিয়ে দেয় 
 ইচ্ছা তীব্রতার অভাবে।

সবকিছু সহ্য করতে
রুটিনের প্রাণী হয়ে ওঠা স্বপ্ন- মৃত্যু
ক্লান্ত ঝোকা কাঁধে 'উলঙ্গ রাজার কলিং বেল বাজায়
শব্দ আসে - হাংরি জেনারেশন।

২) গরীবের ক্লিওপেট্রা

স্তব্ধতার মৌন মিছিলে একটি দীর্ঘ এবং নীরব রাস্তা
তবু হাঁটো, ট্রেপে পড়ো ;আওয়াজ তো আসবেই 
ওঠো আর অন্ধভাবে পদক্ষেপ নাও
কিন্তু এখন বুলডোজার সাম্রাজ্য
যেখানে ছাদ ভাঙে আমার দেশ
যেখানে নিঃশব্দ পাথর আর শেকড় ছেঁড়ে আমার দেশ,
ভয় আর কংক্রিট মিক্সার যৌন উত্তেজনায় ক্ষুধা মেটায়
বংশের চিরাগ জ্বালিয়ে,
দেখি নতুন ইতিহাসবিদ গর্বমুখে।

থালা আর বাটিতে লাভ কোথায়
দুবার রাসনের চাল মিলে তবু অভাবীরা বলে তেল দাও
অদ্ভুত ইশারায় পৃথিবী
 দৌড়ে দৌড়ে ঘুরছে শুকনো জিহবাটা নামিয়ে
চিৎকার দিয়ে বলে 
 সবকিছু কালো, প্রস্থান কর...!

এবং ভুনা গোস্ত আর রেড ওয়াইন
 নীল পৃথিবীর রাস্তায় নিয়ে যায়
ভালোবাসা ছেড়ে আদিমতার এক ফ্লোক কনসার্টে,
যেখানে কেউ আমার অপেক্ষা করে না,অনুসরণ করে না,
আছে কিছু হ্যাংলা মানুষ।

৩) পৃথিবীর মুখ
( চে গুয়েভারা কে মনে রেখে )

থেকেছ আর বীরের মতো লড়াই করেছ
একা মরার শব্দ নেই, কিন্তু চে'তনার কোন মৃত্যু নেই
অক্লান্ত গিরিখাত বা খাদে সত্তার প্রাচীন টুকরো আছে,
তবু পৃথিবীর মুখ কেঁপে যায়,আমায় ভয় দেখিয়ে।
আমাকে সরিয়ে দিয়ে বলে উচ্ছৃঙ্খল চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়না
 আমার মধ্যে রয়েছে তিনটি উপাদান: ভয়, অপমান, মৃত্যু
 একটি ঝাপসা ছবি আর অপেক্ষা করা 
 এবং যাকে আমরা প্রেম বলি!

সেই তৃতীয় শ্রেণীর ইন্টারলকার, যা বেঁচে থাকার বিনিময় তৈরি করেছে,
 মূল্যটা যুদ্ধ দিয়ে।
মাথার খুলির ভিতরে তাকিয়ে দেখো
 আমি এক দুঃসময়ের যুবক,
যার হাসিতে নেমে আসে ধ্বংস, ব্লক জীবন নিয়ে
এখন খুব ধীরে ধীরে লোমগুলো কালো থেকে সাদার পথে, 
চোখের গোলাগুলিতে, এখন শুধু খালি সকেট
 যার চোখ দেখেছে
পৃথিবীর মুখ।
 যার ঠোঁটে একবার চুমু খেয়েছিল 
 টর্চলাইটের আলোতে একা একজন মহিলা।

 মৃত্যু একটি কবিতা, একটি সময়ের গান
 একজন সৈনিকের মৃত্যু হল- ফাঁক গল্প,
 যারা তাকে একবার ভালোবাসতো তাদের জন্য ট্র্যাজেডি,
 যারা গণনা করতে চেয়েছিলেন তাদের জন্য শুকনো সংখ্যা।
মনে রাখতে হবে মেরে ফেলা মানে মুছে ফেলা নয়।

৪) হুইস্কির একটি ফ্লাক্স ও গ্রেনেড
     ( ভালোবাসার কাশ্মীর )

 এখনও যে চিৎকার কানে আসে না
 ঢাল উজ্জ্বল থার্মোপাইলে যা গর্বিত
 স্পার্টানে এখন ইম্পেরিয়াল স্বর্গরাজ্য সংজ্ঞায়িত করে
 লাল জামা পরে,
গেটিসবার্গ দাসত্বের অত্যাচার- জীবন
শাম্মী কাপুরের 'ইয়া-হু' বলা বরফের উচ্ছৃঙ্খলতা হারিয়ে
হুইস্কির একটি ফ্লাক্স ও গ্রেনেড শরীরীগরম শেষে
গণকবরের মেতে ওঠা শব্দ আসছে বরাবর।

অগণিত হাজার হাজার অজানা যুদ্ধমৃত শতাব্দী নিচে
জিভ কেটে ঝুলিয়ে আছে কাঁটাতারে
 যুদ্ধের অকথ্য ভাষা আমাদের মধ্যে
 বীরত্বের কবিতা পরে ঘুমের দেওয়ালে কারফিউ
লকডাউন এখন প্রত্যেকটা শালায়
লিগেছি যুক্ত দেশের স্ট্যাম্পে পরিচয় গুপ্ত 
 ফিরিয়ে আনতে পারে, সেই হৃদয় কোথায়?

 এখনও সময় আসেনি, সময় শুধু
ধোঁয়া আর ধ্বংসস্তুপ থেকে মারজানা আর ইয়াকুবরার
জিভ,দুর্লভ চোখ,যৌবন, আর কিছু হাড়, খুড়ে নেওয়ার
পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে নিয়েছে শুধু নিষ্পাপ উপত্যকা।

এখানে কবরের রাস্তায় আপেল গাছ
সাত দশকের প্রতিক্ষায় সে ---
তৃষ্ণা নেই, ক্ষুধা নেই
দাসের মতো বেঁচে থাকা, যে দড়ি দিয়ে সে বাঁধা
শুধু একটা আওয়াজ 'আমি ভালো আছি'।

৫) পুরুষফুল

মুক্তি এবং বিপ্লবের মধ্যে,
এটা সেই ক্ষুরের কিনারা কাটা রক্ত-
রাজপথে তাদের বিদ্রোহে কালো মানুষ,
পার্টি নেতাদের উৎসাহে মৃত্যু স্থবিরতায় হরিণেরা 
একটি উদযাপন মাত্র, বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক।
আমার নির্ভুল আবিষ্কার
স্পন্দিত নিঃশ্বাসে আধখানা শরীর খুলে রেখে 
তুলে নেয় একটি বন্দুক,আর
সমীকরণ মেলায় দর্শকদের ওমর খৈয়াম।

৬) আত্মকথন

তবু নিজেকে নিয়ে কাজ করাটা বড় কঠিন
শূণ্যে  কি আর যোগ করে লাভ হয়?
কোন এক দশকের তো আর আমি কবি নই

শুধু আপাদমস্তক কবিতাময় জীবন

আমি দেশ-বিদেশ তো দূরের
করিমগঞ্জ শিলচর বা কলকাতা বা ঢাকা কেন্দ্রিক ও কোন কবি নই

আদৌ কোনো নাগরিক কবি বা রাজকবিও নই
আমি চাই শুধু এই পৃথিবীর বাসযোগ্য একটুকরো জমি 

আমি নই কোন করপোরেট মিডিয়া- মদদপুষ্ট 
আমার অনীহা আকাদেমি বা একাডেমির সহায়তা
রাজনৈতিক মদদপুষ্ট বুদ্ধিজীবী কবি নই 

শুধুমাত্র জল, জমি, জঙ্গল জীবন চাই

মৌলবাদ বা প্রগতিশীলতার বাধাদানকারী
আমি ঘৃণা করি।

একমাত্র আমার চেতনার কম্পাসই আমার দিক নির্দেশনায় চলি
প্রয়োজন নেই আমার কোন পত্রিকায় বা সামাজিক মাধ্যমে বাহ্ বাহ্ নেবার

তাতে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই

নেই কোন পা চেটে পুরষ্কারের আসক্তি
প্রত্যাখ্যান করি তৈলমর্দন করে কারো ঠোঁটে ওঠে প্রশংসা কোড়াবার, এতে প্রবল বিতৃষ্ণা

আমি অমুক কবি তমুক কবি নই
আমি নিতান্তই এক সাধারণ মানুষ 

কেউ পড়ুক বা না ই পড়ুক
কিছু বলুক বা না ই বলুক 
অনুরাগে বুকে তুলে নিক বা দূরে ছুঁড়ে দিক
আমার ইচ্ছে শুধু
লক্ষ চোখের অন্তরালে আগুন ভরা স্বপ্নগুলো
আঁধার থেকে টেনে আনা।

কারণ দুর্ভিক্ষের চেয়ে অশ্লীলতা আর কিছু হতে পারে
আমার জানা নেই!
ঝাপসা আর স্বচ্ছের মধ্যবর্তী ফ্রেমে আটকা
শুধু এই

আত্মকথন।

৭) কন্ডোম আর ক্যাপাচিনো সংলাপ

প্রিয়তমা, বলেছিলে এই পৃথিবী আমাদের বাসযোগ্য হয়েছে
প্রেম শিখেছে, ঠোঁটে ঠোঁট ঘনত্ব মাপছে, শরীর বিছানা বিছিয়ে স্বপ্নাতুর  ভাষায় কথা বলছে

কিন্তু প্রিয়তমা শরণার্থী চোখে 
নিপীড়িত পাশাখেলার জীবনযাপন
কুম্ভীরাশ্রু দেখে শ্রেণী আর মেরুদণ্ডের ফারাক ভুলে গেছো

এটা কলেজ লাইফ নয়
হাতে হাত চোখে চোখ রেখে কথাবলা
ক্যান্টিনে অনার্স ক্লাস বাদ দিয়ে হাসিঠাট্টা,
এখানে প্রিয়তমা বাজি রেখে রেসকোর্সে ঘোড়া ছুটানো হয়।

তুমিতো জানো কিভাবে ককটেল খেতে হয়
কাছাড় ক্লাবে সেদিনের মত
গ্ল্যামার-শিল্পের আলোকসজ্জার সিন্ডিকেট
এখানে যৌন-উত্তেজনার আওয়াজটাও পুঁজিবাদী

ভয় নেই প্রিয়তমা এমন দিন এনে দেবো
ভুলে যাবে -যত গণহত্যার অশ্লীলতাকে,
শিল্পের বাস্তবতায় প্রতি রাতে ধর্ষণকে,
উপোস থাকার যন্ত্রণাকে,
বেকারত্বের অভিশাপ থেকে,

এ লড়াই তোমার আমার, 
এ লড়াই বাঁচার লড়াই, 
এই লড়াইয়ে জিততে হবে...
শুধু একটি কাজ তোমায় দিলাম প্রিয়তমা 
ঝান্ডার রঙ যদি ফিকে হয় রক্তে রাঙিয়ে দিও।

৮) সিনোটাফ

আমি তোমাকে আরো ভালোবাসি
মাংস এবং হাড়ের চেয়ে, শুধুমাত্র সত্য বলে
আমাতে তোমার আকৃতি খোঁজে পেয়ে 
আর যদি বলি, ভালোবাসি বল, 
ভালোবাসি তোমার মুখ,
পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত 
আড়ালে যে তোমার চোখ ছুঁয়ে যায়
প্রেমের প্রদীপ হয়ে!
আর আমার
আসলে কোন চোখ নেই আছে দুটো জোনাকির আলো
খোঁজে পায় নিঃশর্ত গহীন হৃদয়ে।


 আমার ভেতরে যা আছে ভালোবাসা 
 তোমার হাসি, এবং তোমাকে ধরে রাখা
 সেই প্রিয় অংশের কাছাকাছি থাকতে
হাতড়ে বেড়াই ক্যানভাসের ছবি হয়ে।

সিনোটাফে
আমার প্রতিদিনের প্রয়োজন, তুমি 
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত।
যেন তুমি 
ফিলিস্তিন থেকে কাশ্মীর, আথের জিয়া থেকে মাহমুদ দারবিশ  
দুনিয়া শরীরী আকর্ষণ – এইখানে।

৯) হিমুর ভুবন

এবং ছায়ার মত দূরে বিবর্ণ হয়ে আছি
কয়েক বছর আগে এই সব ছিল স্বপ্নের মতো
আমি যেখানে ছিলাম সেখান থেকে শুরু করেছি আবার 
কয়েক বছর আগেও আমার অস্তিত্ব কেউ জানত না
যেভাবে এটি শুরু হয়েছিল
বর্তমানের কাছে ফিরে এসেছি এখন তারা জানে
একটি শিশু থেকে একটি কিশোর যেভাবে বড় হয়
আমার যেভাবে হওয়া উচিত সেভাবেই করছি
এক মুহুর্তের জন্য বিরতি এবং তারপর একটি ঠাঁই
আজ এখানে আছি
আর ছায়ার মত আমি বিবর্ণ।

  গান দিয়ে শুরু তারপর আবার কবিতায়
  জ্যামিতির মত লাইন যে সব
  আমার মতো জীবন ফিরিয়ে দিতে চায়।
  
অনেক প্রশ্ন ছিল আমার দাঁড়ানো নিয়ে 
আমি অভদ্র ছিলাম না, ভালোও ছিলাম না
ওরা যেভাবে ভালো শব্দের উদাহরণ দিয়ে থাকে!

১০) নীলজলে নৌকা 

তোমার কোমল মুগ্ধতা
সকালের সোনা রোদের মতো 
এটি চায় কাছে এসে জড়াতে, এক অদ্ভুত ইশারায়
জানালা খুলে দেই সেই মুগ্ধতা আরও ভেসে আসে 
স্প্যানিশ গিটারের ক্লাসিক্যাল হয়ে।

যেন মনোযোগ আকর্ষণ করা তোমার
বিমূর্ত শিল্পের বাস্তবতায় মূর্ত আকাঙ্খা,
শেষ থেকে শেষ পর্যন্ত ঠোঁটে হাসি
বিকেলে সূর্য, বইপড়া, একটি অবিশ্বাস্য কথোপকথন 
এবং প্রচুর হাসি একটি কৌতূহলী শিশুর চোখ
কল্পনার ইচ্ছেডানা আলগে রেখে
তুমি যা চাও, তা উন্মুক্ত হওয়ার স্বাধীনতা।

তোমার নীলজলে আমার নৌকা
ডোবাবো কীভাবে, গভীর শ্বাস ফেলে খোঁজে পাই শরীরী মানচিত্র,
কমে আসে ওষ্ঠের দূরত্ব
পড়ে থাকে শুধু পরিভাষাহীন
মৃগতৃষ্ণায় নগ্ন বুক।


১১) ম্যানিফেস্টো

দীর্ঘ একটা সময় নেই তবে এতে অবাক হওয়ার কিছু নয়
পৃথিবীতে আসতে আর কতক্ষন
সময় লাল রঙ ফিকে হলে রক্ত ঢেলে দেয়ার
পরজীবিরা তো  বাধা দেবেই, আগামীর দ্বারপ্রান্তে স্যাটেলাইট বিক্রির রমরমা ব্যবসা এখন
পৃথিবীর গলাটিপে পাড়ি জমাবে বর্হিগ্রহে।

প্রেম-গোপনতায় শব্দচাষিরাও পুঁজির তল্লাশে
কলম ধার নেয় সত্তাকে রূপান্তর করে
তবু হ্যাংলা চোখে পোঁদপোছা উপন্যাস লেখে
জব কার্ডের হ্রদ খোদা বিশ্ব বীজ।

লন্ঠন হাতে ঝিমিয়ে থাকা শহর
ব্রেনগুলো ড্রেন থেকে তুলে
ম্যানিফেস্টো পড়।

১২) আমার ঔপনিবেশিকতায় 

এপিটাফের কারুকার্য বারবার প্রমাণিত করে
সুরের আড়ালে ক্ষয়ের আর্তনাদ,
শ্রেণীসাপেক্ষ নীরবতায় আহা ভেসে থাকা 
ঔপনিবেশ কথোপকথন
একটু দূরত্ব রাখে
বর্ণমালার আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বক্তব্য অনুযায়ী
শ্রদ্ধাবনত স্তোত্র পাঠ করে।

শহিদ মিনার,ভাষা শহিদ স্মৃতিসৌধ, ভাষা শহিদ স্টেশন
ধূলোবালি ঝেড়ে মাকড়ের জাল মুছে রঙ পড়ে প্রতিবার
ফিরে পায় নতুন উদ্যম, শপথ নেয় একটি সত্তাকে জাগ্রত করার, আমি পারি!

দিনশেষে অজ্ঞান উলঙ্গ জলভেজা হয়ে
ফিরে যাই পৃথক ক্ষেত্রসীমায়,
ব্যুরো রিপোর্ট তদন্তে
নিজেকে খুব ছোট্ট প্রাণহীন মাছ মনে হয়!

১৩) ভিড়ের মধ্যে তার মুখ দেখেছি

ভিড়ের মধ্যে তার মুখ দেখেছিলাম,
তার চোখে গর্বের যৌবন-ভেদন ইস্পাত এর ঝলক
যা
বিশ্বকে জাগ্রত করার দৃঢ়প্রতিজ্ঞায়
মে দিবসে।
                                                                                                                                         
শ্রমিকের ক্লান্ত জামায়
প্রতিরোধ ও ভালোবাসার গোলাপ শুকায়
 এই দিনে প্রতিরোধের প্রতীক রূপে,
 সে রেড স্কোয়াডে অন্যদের সাথে মিছিল করে,
 আমি আমার দেশে তার মত আর দেখিনি!
 তার সাহস গোলাপের মতো বিরল।

 এখন আমাদের অসন্তোষের বসন্ত
ধারাভাষ্যকার মানুষ সে ছিল ঠিকই
ঈশ্বর চেহারা খোঁজার চেষ্টায় জেলভরে সে,
দেয়াল লিখনের শব্দ মিছিলে, এখন 
হাতরিয়ে উঠে আসে স্নিগ্ধময় নগ্ন কবিতা।

১৪) বেঁচে থাকা ফ্লুরোসেন্ট রোদে

পৃথিবীর বুকে এতো হাঁটাহাঁটি করেও
একটু ঘুমোনোর জায়গায় মধ্যাকর্ষণে ঝুলে যাই
তবুও সেখানে আমার শরীরটা ছেড়ে দিতে সাধ হয়
যেখানে সামান্য সেঁকা রুটি অবশিষ্ট ছিলো।

মতবাদ দিওনা বন্ধু এখানে নৈঃশব্দ্য, হিরোশিমার জেনেটিক্যাল ফিউশন। তবু পৃথিবীর মুখ নিঃসঙ্গ ব্ল্যাকহোলে টাইট্রন থেকে প্রক্সিমা পর্যন্ত  জীবনানন্দ কলিং বাজায় ইস্কাপনের রাজা। আর দেরি হলে প্রাচীরের অর্থহীন অবরোধে লিখা হবে ইতিহাস তোমার! পৃথিবীর প্রাক্তনভাগে আমরা বেঁচে ছিলাম ক্ষুধায়। আবার লিখা হবে নয়াগণতন্ত্র।

১৫) মাহমুদ দারবিশের মৃত্যু

আমি আমার প্রতিবেশী শিল্পীকে বলি: অস্ত্র আঁকো না,
এবং অপেক্ষা করো, যদি না হতে পারো তুমি লেখক!
 মাহমুদ দারবিশ

 মাহমুদ দারবিশ তার কোনো মৃত্যু নেই,
 তিনি শব্দ ও জলের অমর পাত্র
 ফিলিস্তিনের,
 তার মুখ, তার অঙ্গভঙ্গি ইতিহাসে আবির্ভূত হয়েছে,
 অলিভ গাছের কাঠে,
 আল-বিরওয়া গ্রামে প্রতিধ্বনিত তার প্রতিদিনের কণ্ঠে,
 রামাল্লার রাস্তায় যেখানে বিক্রেতারা
 তার প্রশংসায় গান গায়।

১৬) কুশিয়ারার পরিষ্কার আকাশে মেঘ

 নীলের মধ্যে মেঘগুলোকে খুব সুন্দর লাগছে
 ভেসে যায় দেখি কুশিয়ারার অবাধ আকাশে
 শীতল বাতাসের জন্য চাওয়াটুকু তার অবাধ স্বাধীনতা
 যেন অনেক উঁচুতে ওঠার চেষ্টায়....।

নির্ধারিত ভাবে আকাশ আর গিরগিটির পোশাক বদলে শীতকালের সকাল আর গ্রীষ্মের দুপুরে ডাহুক পাখির ডাকে। সময়ক্ষণটির ছায়ার পিছনে আবদ্ধ হয়।
ডাকছে আর ভাঙছে শীততাপনিয়ন্ত্রিত ঈষদুষ্ণ শরীরী কারু-কোষ ।

রাতের নক্ষত্রখচিত আকাশ। জোৎস্নার শব্দহীন উল্লাস। ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে তার কত রূপে রঙিন হয়ে। আবছায়া হয়ে আছে ক্লান্ত ছবি, তীব্র আন্দোলন, মায়াবী আকর্ষণ। যানজট পেরিয়ে চাঁদ ন্যুড সোসাইটির সিলগালাতে খোঁজে পায় তার জোৎস্না।

১৭) হাফলং এ প্রশ্ন করা এক বনসাই বৃক্ষ 

আসলে এই গোলকটা প্লুটোনিয়াম ঘেঁষা
ব্যালকোনির শোভা বর্ধনে ঠিক বিশাল বট বৃক্ষের বনসাইয়ের মতো। টবে বার্ধক্য রোধে করণীয় কি সে বিষয়ে
এখন রীতিমতো অনুসন্ধান চলছে তার, গবেষণাগারে
জন্মপত্র থাকলে বয়স হয়তো পাহাড়ের আয়তন ও ঝাটিংগার জল্পনা ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতো !

হিলিয়াম ভরে দেওয়া স্তন পড়ে থাক আ'ম-মানুষে…
গাছ উড়ে যায় বনসাই হয়ে 
বৃদ্ধ হয়
এপাশে ভ্যাম্পায়ার ওদিকে ড্রাকুলা
তাদের পাশ ঘেঁষে দজ্জাল 
তৃতীয় চক্ষু-স্ফুরণে বিশ্বাস জন্মায়
আমিই খোদা!

নীরব দ্রোহে কাল্পনিক প্রেমিকারা —
তারা মাঝে মাঝে উপস্থিতি ফেলে যায়
আমার পাশে ছোট রেস্তোরাঁর টেবিলে
আর মলিন এন্টারটেইনার বনসাই বৃক্ষ
মোলায়েজের গানে দূরের পৃথিবীতে ডুবে গেছে
শুধু তার পাওনা ছিল পাহাড় কে জড়িয়ে ধরবার।

১৮) পাবলো নেরুদার জন্ম

 নেরুদা, ভেজা মাটিতে তোমার কবর থেকে,
 যেখানে তুমি এখন ঘুমাও, তোমার কবিতা মুখস্ত ও উচ্চারিত হয়
 মহাবিশ্বের ইতিহাসের মতো--
 স্মৃতিস্তম্ভের সেই মহান স্ল্যাগগুলো,
 জনগণের মধ্যে এখানে-সেখানে উঠছে,
 যেখানে তুমি প্রাচীন চিলি থেকে এসেছিলে।

 আমি কি তোমাকে ভুলতে পারি, 
এমনকি শব্দ ছাড়াই, তুমি প্যারালে জন্মেছিলে,
 যেখানে প্লাম গাছ, প্লাজা আর রেলপথ
 পৃথিবী জুড়ে দেখা যায়,
 প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে বরাবর রেশম ফিতায়।

 জুলাইয়ের উত্তপ্ত আলোড়নের মধ্যে এই দিনে,
 যেমন মার্কিন আগ্নেয়গিরির মতো বিস্ফোরিত হয়
 তার মানুষের রক্ত ​​দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে
 দেশ জুড়ে লাভার মত,
 নৃশংস গণহত্যায় ভেঙে পড়েছে তাদের ‘অসাধারণ’ জীবন,
 ভ্রাতৃহত্যা এবং কোভিড প্লেগে,
 পাবলো নেরুদা, আমি তোমার জন্মকে সম্মান করি,
 তোমার জীবন যা মানুষের ভাষা তৈরি করেছে,
 আগুন, পাথর এবং জলের সেই ভাষা
 আমারও জীবন জ্বালানো,
তোমার আমেরিকা কবিতা যা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল---
অন্ধকার ধ্বংসাবশেষে তারা দেখতে পায়
ডোরাকাটা দাগে ।

আমার কথাগুলো তোমার শরীরের সূর্যালোকিত মুক্তো ভালোবেসে, গোলমাল চরিত্রগুলো দেখে ঠিক বোঝতে পারি, সিংহ এখন দাঁত দেখায় কেনো? 
তোমার কবিতা লাল সুতোয় বোনা জামা
উপহার দিয়েছে আমায়।

১৯) জাল দৃশ্যকল্প

জাল দৃশ্যকল্প,
সর্বত্র
প্রতিটি মুখেই হাসি লেগে আছে
ক্যামোফ্লেজে আক্রান্ত আত্মায় 
শুধু দুহাতে ধরতে চায় এই গোলার্ধ
অথচ এই আকাশ থেকে একফোঁটাও বৃষ্টি হয় না,
অপরমাণুতে বিভক্ত পৃথিবীর বায়ুহীন ফুসফুসে
সাধারণত মিথ্যা বলা হয়ে থাকে।

 মাঝে মাঝে মন খারাপ হয়।
 যা কিছুই নয়, শুধু 
 অলসতা?
মূর্দাকে যতই ডাকো
বার্মীকম্পোজ ছিটাও, গণিতের নিয়ম মেনে  
সে কি আর মুঠি তোলে
অস্তিত্বের মহীরুহে হলদে গোলাপ ফোঁটা ছাড়া,
 মানুষ তার পছন্দকে
ফ্ল্যাক্সিবেল এপয়েন্টমেন্টে চায় করুণাময় ঈশ্বরের কাছে, 
ভরসা হারায়, শুধু শান্তনা দেয় জাল দৃশ্যকল্পে।

 এই কবিতা শেষ হওয়ার পর,
 তুমি কি আবার জিজ্ঞেস করবে,
 "কেমন ছিলে?"

২০) কবিতা এবং শূন্য থেকে মহাবিশ্ব

দেখলেই কি আর সব দেখা হয়ে যায়
রয়েছে আকাশগঙ্গা থেকে পৃথিবীর সঙ্গম পথ
 তুমি কে । অপহরণ কবিতা
 নাকি র‌্যাঁবো, সে এক বিশাল ইতিহাস।

এখানে যখন সূর্য ক্লান্ত হয়
বদলেয়ার,মাতিস সবুজ রেস্তোরাঁয় গড়ে
কবিতার নকশা ;
শুধু আমি টক্সিন প্রেমে, চলি 
নরকে ঋতু পর্যবেক্ষণ।
সাম্রাজ্যিক ইন্দ্রজালে
কবিতারা ও জানে
'হিউম্যান ল্যান্ডস্কেপ ফ্রম মাই কান্ট্রি'।

২১) তিনটি মুখ 

ফিরে যাই পৃথক ক্ষেত্রসীমায়
দিন দিন বৃষ্টি নামে, এক একটা ফোটা ঘেঁষে
অঙ্কুরহীন শরীরী অরণ্যে 
এই অরণ্য, মনের শূন্য লোকালয়
ঘাস নেই পাখি নেই
আছে ঘর তবু স্বাদ নেই।

বুক জুড়ে চাষ হয় নীল সমুদ্র
জীবন ভাসিয়ে চলা ছায়ায় মাছেরা সাঁতার কাটে
ফুলকায় খবরাখবর রাখে
শরীরে শরীর মিলে
কী পরিপক্কতা পায় ?

কারণ, একটা সূর্যাস্ত একটা জীবনের মৃত্যু
নীবিড়তা পেরিয়ে নাভিশ্বাস শব্দ শোনা পৃথিবী
বেঁচে থাকে প্লাটফর্ম মানুষ হয়ে।

২২) আরও একবার

আমাদের কবে সর্বনাশ হয়ে গেছে 
সাহস ভরো বন্ধু 
উত্তেজিত হও অনিবার্য বিপ্লবের জন্য
প্রস্তুতি, শুরু করে দাও 
প্রজ্জ্বলিত ক্রোধ নিয়ে
দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে যেভাবে রুখে দাঁড়ায় 
আক্রান্ত দুর্বল
বিধ্বস্ত জাহাজ যাত্রীরা 
আঁকড়ে ধরে ভাসমান পাটাতন
তেমনি একাগ্রতা নিয়ে
আসন্ন বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নাও।

তোমার শত্রু 
যে কথা বলতে ভয় পায়
যে পুঁজিপতি সাপের মত পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে
সম্পদ লুট করে
ভালোবাসতে গিয়ে মিথ্যা কারণ ছড়ায়

প্রস্তুতি বুকে নাও সিন্ধুর চেতনা নিয়ে 
তোমার কন্ঠে বাজুক 
নয়া অরণ্যের গান।

Wednesday, June 1, 2022

একটি ভালোবাসার পর.....


যুগে যুগে শতচ্ছিন্ন অবাস্তব স্বপ্নেরা
মুঠোভরা বীজমন্ত্রে শারীরিক নেশা হারায়
মনে রাখেনা সানাইয়ের সুর।
গলায় হাহাকার আর তিক্ত কঠিন জীর্ণ নূড়িপাথর
পতিত সৈন্যদের গর্ভধারণে স্মৃতিযোগ্য হয়
লুকিং গ্লাসে অক্সিজেন দেয়া  ভেন্টিলেশনে!
রুটি আর গানের সাথে, স্বপ্নকবিতা সহ,
জীবনের বিশালতা ফিতা টেনে দৈনন্দিন জরিপ চালায়
বিস্তৃত প্রত্যেকের সাথে ফুসফুস পর্যন্ত---
দ্বিতীয় ও প্রতিটি নিঃশ্বাসের সাথে, যোগ্য হতে চায় ডিমেনশিয়া রোগির মতো!

লোকেদের !
হৃদয় যখন মনে রাখেনা
সুখের দাম কি ছিল,
অনুগ্রহও করে, দাঁড়িপাল্লার কড়ায়গণ্ডায় !
গানগুলো আকাশভ্রমণে ইনহেলার নেয়া অ্যান্টিবডিতে
চলছে টু-লেট বিজ্ঞাপন দূরবীনচোখে,
তাদের সম্পর্কে, যারা গাইবে না, - মনে রাখবেনা!

অনন্ত পৃথিবীর সমস্ত সময়
ক্লাইন্ট জুটাচ্ছে স্পেসশিপগুলির তারার কাছে,
বসন্ত দেখা, পৃথিবীর সব মানুষ.
যুদ্ধ হত্যা,
অভিশাপ,
বিছানাযুদ্ধ!
বছরের পর বছর স্বপ্নবহন জীবন
অনুভব করে ধূসর ম্যানুস্ক্রীপ্ট
কিন্তু মনে রাখেনা
আগ্রাসন একতরফা হয়না,অ্যাজিত্রমাইসিন গেলার পর
বির্য পতনে শুধু পৌরুষ হারে থেকে যায় প্রীয়তমার ক্ষুধা।

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...