Thursday, January 3, 2019

এশিয়া মহাদেশের প্রথম মহিলা শিক্ষিকা

সে  এক মেয়ে ছিল, যে ভারতে প্রথম গার্লস স্কুল তৈরি করেছিল। তাও আবার ছোট জাতের মেয়েদের জন্য, যাদের পড়াশোনার কথা কেউ ভাবতে পারত না।

আঠেরো বছরের হেড-দিদিমণি ঘর থেকে বেরনোর সময়ে ব্যাগে রাখত বাড়তি শাড়ি। রাস্তায় এত লোক কাদা ছুড়ত, যে ইস্কুলে গিয়েই শাড়ি বদলাতে হত।

তাতেও শিক্ষা হয়নি মেয়ের। গর্ভবতী হয়ে-পড়া ব্রাহ্মণ ঘরের বিধবাদের ডেকে এনে ঠাঁই দিত ঘরে।  যাদের কথা শুনলে আজও লোকে আঙুল দেয় কানে।  

একশো কুড়ি বছর আগে মারা গিয়েছেন সাবিত্রীবাই ফুলে। এই মার্চেই। নারী দিবসের দু’দিন পরে, ১০ মার্চ তাঁর মৃত্যু দিন। মারা গিয়েছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু যে বছর জন্মেছিলেন, সেই ১৮৯৭ সালে।

কিন্তু রোহিত ভেমুলার এই যুগে তাঁর মতো জ্যান্ত আর কে আছে? সনাতন হিন্দুত্বের যখন জয়জয়কার, ভ্যালেন্টাইন্স ডে শুনলে খেপে মারতে আসে লোক, দলিত লেখককে কুপিয়ে খুন করা হয়, তখন সাবিত্রীর জীবনকথা— এমনকী তার মৃত্যুর কথাও— চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় জাতীয়তা মানে কী, দেশপ্রেম কাকে বলে। কাকে বলে নারী অধিকার, সমমর্যাদা। তাঁরই উদ্যোগে পুণে শহরে সব নাপিত হরতাল করে এক দিন। বিধবা হলেই মাথা কামাতে হবে মেয়েদের? মানব না।

সাবিত্রীবাইয়ের জীবন থেকে গোটা পাঁচেক সিরিয়াল, গোটা দুয়েক হিন্দি সিনেমা, আর কয়েক ডজন নাটক-উপন্যাস নামিয়ে ফেলা যায়।

ধরা যাক রাস্তায় হেনস্থার এপিসোডটা। শুধু কাদা নয়, পাথরও ছুড়ত লোকে। আটকাতে রাখা হল এক বডিগার্ড, বলবন্ত সখারাম কোলে। স্মৃতিকথায় তিনি লিখেছেন, সাবিত্রীবাই বলতেন, ‘তোমাদের গোবর, পাথর— আমার কাছে ফুল।’

যখন শুরু এ গল্পের, কোম্পানির সেপাইরা বিদ্রোহ করেনি। কলকাতায় বেথুন সাহেবের ইস্কুল তৈরি হয়নি। জেলায় জেলায় বালিকা পাঠশালা বিদ্যাসাগরের মাথায় একটা আইডিয়া। সেই ১৮৪৮ সালে একটা একুশ বছরের ছেলে তার আঠেরো বছরের বউকে নিয়ে মেয়ে-ইস্কুল খুলে ফেলল পুণেতে।

ফল মিলল হাতে হাতে। বাবা বাড়ি থেকে বার করে দিলেন ছেলে-বউকে। জ্যোতিরাও ফুলে আর তাঁর স্ত্রী সাবিত্রীবাই। ফুল থেকে ‘ফুলে’, মালির জাত।  সোজা কথায়, দলিত। একে মালি হয়ে মাস্টারি, তা-ও  দলিত আর মুসলিম মেয়েদের স্কুল?

টাকা-পয়সা জোগাড়ে বেরোলেন জ্যোতিরাও, দুই বন্ধুর তত্ত্বাবধানে চলল সাবিত্রীর তালিম। ফের ১৮৫১ সালে স্কুল খুলল। সাবিত্রী প্রধান শিক্ষিকা, স্কুলের প্রাণকেন্দ্র। বছর দুয়েক না যেতে ‘পুনে অবজার্ভার’ কাগজ লিখছে, ‘মেয়েদের ইস্কুলে ছাত্রীরা অনেক ভাল শিখছে সরকারি ইস্কুলের ছেলেদের চাইতে। সরকার কিছু করুন, নইলে মেয়েরা বেশি ভাল ফল করলে আমাদের মাথা নিচু হয়ে যাবে।’

তত দিনে ঈশ্বরচন্দ্র বেথুন স্কুলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তাঁর নির্দেশে ছাত্রীদের গাড়ির পাশে লেখা হয়েছে মহানির্বাণতন্ত্রের বাণী, ‘কন্যারাও সমান যত্নে পালনীয়, শিক্ষণীয়।’ কিন্তু মেয়ে শিক্ষক তৈরির প্রস্তাব বাতিল করে দিয়েছেন ঈশ্বরচন্দ্র। মেয়েরা বাড়ির বাইরে কাজ করবে, এটা মানার জন্য সমাজ তৈরি নয়, ছোটলাটকে চিঠিকে লিখেছিলেন। তিনি নিজেই কি রাজি ছিলেন? নিজের স্ত্রী, দুই কন্যাকে লেখাপড়া শেখাননি তিনি।

জ্যোতিরাও ঈশ্বরচন্দ্রের চাইতে সাত বছরের ছোট, সাবিত্রী এগারো বছর। তাঁদের কাজের গোড়া থেকেই ছাত্রী তৈরি আর শিক্ষিকা তৈরি চলেছে পাশাপাশি। বিদ্যাসাগর যখন অতি কষ্টে কায়স্থদের ঢোকাতে পারছেন সংস্কৃত কলেজে, সুবর্ণ বণিক ছাত্রকে ঢোকাতে না পেরে আক্ষেপ করছেন, তখন একেবারে ‘অস্পৃশ্য’ মাং, মাহার, মাতং  পড়তে আসছে সাবিত্রীবাইয়ের নেটিভ ফিমেল স্কুলে।

আজকের ইতিহাস বইতে দলিত আন্দোলনের চ্যাপ্টারে সাধারণত লেখা হয় জ্যোতিরাও ফুলে-র কথা। সাবিত্রী তার ফুটনোট। অথচ আশ্চর্য, ব্রাহ্মণ বিধবাদের দুঃখ নিজের মধ্যে অনুভব করেছেন সাবিত্রী। সময়টা ১৮৬৩। কাশীবাই নামে এক ব্রাহ্মণ বিধবাকে গর্ভবতী করে কেটে পড়ে এক শাস্ত্রীজি। কাশীবাই জন্ম দিয়ে গলা কেটে মারে শিশুকে। ‘খুনি’ কাশীবাইকে ইংরেজ সরকার আন্দামানে পাঠায়। আহত ফুলে দম্পতি গোটা শহরে পোস্টার সাঁটেন, শিশুহত্যা না করে আমাদের আশ্রমে আসুন। পরের কুড়ি বছরে প্রায় ৩৫ জন ব্রাহ্মণ বিধবাকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন সাবিত্রী।

মেয়েদের জন্য রামমোহন, বিদ্যাসাগর অনেক লড়াই করেছেন, কিন্তু ভালবেসেছেন  কি?  রামমোহনের তিন স্ত্রী ছিল, কারও সঙ্গেই মনের ঘনিষ্ঠতার কথা জানা যায় না। শোনা যায়, তাঁর দত্তক নেওয়া সন্তান রাজারাম নাকি মুসলিম উপপত্নীর গর্ভজাত। বিদ্যাসাগরের বিপুল কর্মকাণ্ডে স্ত্রী দয়াময়ী কই? অথচ একই প্রজন্মের মানুষ জ্যোতিরাও-এর মেয়েদের স্কুলে সাবিত্রী চালিকাশক্তি, তাঁর সত্যশোধক সমাজে সাবিত্রী ৯০ জন মেয়ে নিয়ে শামিল, সম্মেলনে তিনি সভানেত্রী। ১৮৬৮ সালে স্বামীকে সাবিত্রী চিঠি লিখছেন, ‘এক ঘটনা হয়ে গেল। এই গণেশ ছেলেটি ব্রাহ্মণ, মেয়েটি মাহার। মেয়েটি  গর্ভবতী জেনে সবাই ওদের পিটিয়ে মারার চেষ্টায় ছিল। আইনের ভয় দেখিয়ে আমি অনেক কষ্টে বাঁচিয়েছি। তোমার কাছে পাঠালাম।’ ওই যুগলের কী হয়েছিল, জানা যায় না। তবে এক বিধবার গর্ভজাত পুত্রকে দত্তক নেন ফুলে দম্পতি। সেই ছেলে যশোবন্তের বিয়ে সম্ভবত আধুনিক ভারতের প্রথম অসবর্ণ বিবাহ।

তবে তার চাইতেও যা চমকে দেয় তা হল, বিয়ের আগে পুত্রবধূ লক্ষ্মীকে বাড়িতে এনে রেখেছিলেন সাবিত্রী। যাতে ছেলে-বউ এ-ওর  মন বুঝতে পারে। সিরিয়ালের শাশুড়িদের দেখলে মালুম হয়, আজও এমন মেয়েকে চিত্রনাট্যে ফিট করা সোজা হবে না। মঞ্চে নারীবাদী বিস্তর, সংসারে বিরল।

আশ্চর্য এই মহিলা প্রায় আড়ালে রয়ে গেলেন। দাবি উঠেছে, ৩ জানুয়ারি, তাঁর জন্মদিনটি ‘শিক্ষক দিবস’ বলে পালন করা হোক। সর্বেপল্লি রাধাকৃষ্ণণ বরেণ্য দর্শনবিদ, আদর্শ শিক্ষক। শিক্ষার উৎকর্ষ তাঁকে দেখে শিখতে হয়। কিন্তু যে শিক্ষক সব শিশুকে সমান শিক্ষা না দেওয়ার অপরাধে গোটা দেশকে বেঞ্চে দাঁড় করাতে পারেন, প্রথম পাঠ নিতে হবে তাঁর থেকেই। ‘শিক্ষার অধিকার’ মানে কী, জানতে হলে সাবিত্রীর জীবনটা জানতে হবে। শেষ অবধি তাঁর জন্মদিনে তেমন কিছুই হয়নি, তবে গুগল তাঁকে নিয়ে ডুড্‌ল করেছিল সে দিন। তাঁর দুই বাহুর মধ্যে মেয়েরা, সবাইকে যেন তিনি টেনে নিচ্ছেন কাছে। গত তিন দশকে তাঁর উপর তেমন কোনও বইও লেখা হয়নি। পেশোয়া বাজিরাওকে ভালবাসার টানে বুন্দেলখন্ডের রাজকুমারী মস্তানির লড়াইটা নতুন করে চিনল সবাই। কিন্তু মেয়েদের  স্কুলে আনার লড়াইটা স্বামীর পাশে দাঁড়িয়ে যে মরাঠি মেয়েটি লড়ে গেল সবার আগে, বিস্মৃতির বাঘ তাকে খেয়ে গিয়েছে।

বেঁচে থাকতে সম্মান কম পাননি সাবিত্রী। পণ্ডিতা রমাবাই, আনন্দীবেন জোশি, রমাবাই রণদে, সে কালের শিক্ষিতা মেয়েরা এসে দেখা করে গিয়েছেন। সাবিত্রী ছিলেন মাঝারি গড়নের, সুমুখশ্রী, শান্ত মানুষ। তাঁকে কেউ নাকি রাগতে দেখেনি। যা করার, হাসিমুখে করে গিয়েছেন।

জীবনের শেষ দিন অবধি ব্যতিক্রমী সাবিত্রী। প্লেগ তখন মহামারী। মায়ের কথায় যশোবন্ত সেনাবাহিনীতে ডাক্তারির চাকরি থেকে ছুটি নিয়ে পুণেতে প্লেগের ক্লিনিক খুলে বসলেন। সাবিত্রী
নিজে রোগীদের সঙ্গে করে নিয়ে আসতেন। রোগ ছোঁয়াচে, তা জেনেও। শেষে একদিন পরিচিত
এক মাহার পরিবারের বালক সন্তানকে পিঠে করে নিয়ে এলেন ক্লিনিকে। ছোঁয়াচে রোগ বাসা বাঁধল তাঁরও শরীরে।  তাতেই মারা গেলেন ১৮৯৭ সালে।

এত নির্ভয় কোনও মেয়ে হতে পারে, ভাবলেও ভয় করে।( লেখাটি  আনন্দবাজার পত্রিকা থেকে সংগৃহীত)

Wednesday, January 2, 2019

আগমনী বার্তা::--

হযরত মুহাম্মদের আগমনী বার্তা কি হিন্দু ধর্মে উল্লেখ আছে?

পাকিস্তান আমলে একবার হঠাৎ শোনা গেলো কুরআন শরীফে নবীজির দাড়ি মোবারক পাওয়া যাচ্ছে! সাধারণ বিশ্বাসী মুসলমান ওযু করে বিসমিল্লাহ বলতে বলতে কুরআনের পৃষ্ঠা খুলতে লাগল দুরু দুরু বক্ষে হঠাৎ দেখতে পায় ভেতরের ভাঁজে মেহেদী রাঙানো একটা দাড়ির মত চুল! মানুষের সেই পশমে চুমু খেতে খেতে অজ্ঞান হওয়ার দশা। আমার নানীর মুখে শুনেছি এই ঘটনা যিনি নিজেই কুরআনে নবীজির দাড়ি মোবারক খুঁজে পাওয়া ভাগ্যবানদের একজন! তবে তিনি একা নন, তাদের প্রতিবেশী কয়েক ঘরেই কুরআন খুলে নীবিজির দাড়ি পাওয়া গিয়েছিল। অনেকেই পাননি, যারা পাননি তারা নিজেদের দুর্ভাগা মনে করেছিল। ১০-১২ বছর আগে ঠিক এরকম একটা ঘটনা যেটা আমার চোখের সামনে ঘটতে দেখেছি। হিন্দু অধ্যুষিত একটা পাড়ায় কিছু তথ্য সংগ্রহর কাজে গিয়েছিলাম, হঠাৎ সেখানে মহিলাদের মধ্যে খুব চাঞ্চল্য দেখা গেলো। গীতাতে নাকি লোকনাথ বাবার দাড়ি পাওয়া যাচ্ছে! এক মহিলা আমার সামনেই সেটা খুঁজে পেলেন! এরকম অলৌকিক ঘটনা যদি আপনি নিজের চোখে ঘটতে দেখেন, এরকম অবিশ্বাস্য, নবী বা অবতারদের চিহৃ যদি এভাবে ঘরে এসে আপনাকে আর্শিবাদ করে যায় তো ধর্মের উপর আপনার ভক্তি আর শ্রদ্ধা কতখানি বাড়বে ভেবে দেখুন। আর এই ভক্তি আর শ্রদ্ধাই তো মসজিদ-মন্দিরগুলি ছড়ি ঘুরাবে তাদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের উপর। যারা এই প্রতারণাগুলি ঘটান তাদের অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত কোন লাভ-লোকসান থাকে না। তারা ধর্মের প্রসারের, ধর্মের প্রতি মানুষের প্রবল অনুরাগ বাড়াতেই এই মিথ্যাচারের আশ্রয় নেন। ইসলামের পরিভাষায় একে “তাকিয়া” বলা হয়ে থাকে। জাকির নায়েক থেকে শুরু করে মুহাম্মদ কাসিম নানোত্বি, মীর্জা গুলামের মত ইসলামিক পণ্ডিতরা সবাই “তাকিয়ার” আশ্রয় নিয়ে মিথ্যাচার করেন কোন রকম অনুতাপ ছাড়াই। কারণ এরকম মিথ্যাচার ইসলাম ধর্মে বৈধ। হিন্দু ধর্মের এরকম প্রতারণাকে কি বলে জানি না। তবে কুরআনের সেই দাড়ি মুরারক ও গীতায় লোকনাথের ব্রাহ্মচারীর দাড়ি যথাক্রমে যারা কুরআন ও গীতায় ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন তারা ধর্ম প্রচারকারী কোন সংগঠন নিশ্চত করেই। এরা প্রকাশিত কুরআন, গীতা বা অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থে আগে থেকে এরকম লোম (বিড়ালের নাকি মানুষের কে জানে!) বইয়ের পাতার ভাঁজে ঢুকিয়ে রাখে। এই চক্রটি নিজেরা বইটি বিপনন করে। তাদের নির্ধারিত এড়িয়াতেই বইগুলি সাপ্লাই করা হয়। একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বইগুলি বিক্রি, কখনো বিনামূল্যে বিতরণের পর এক বা দুই বছর পর সেই এলাকাগুলিতে একটা গুজব ছড়ানো হয় যে- কুরআনে নবীজির দাড়ি পাওয়া যাচ্ছে, বা গীতায় লোকনাথের দাড়ি পাওয়া যাচ্ছে! যদি পঞ্চাশ জন মানুষও সেটা খুঁজে পান তো গোটা দেশে সেই হিউমার ছড়াতে সময় লাগবে ২৪ ঘন্টা। আর আজকের মোবাইলের যুগে কয়েক ঘন্টা মাত্র…।

এই ধরণের প্রতারণা যতটুকু নিরহ ধাঁচের ততটুকুই হিংস্র যখন আপনি অন্যের ধর্মীয় বইতে আপনার নবীর কেশ খুঁজে পাবেন! এটা একটা ঝগড়া লাগনোর মত বিষয়। যদি এর সত্যতা বিন্দু পরিমাণও থাকতো তাও কথা ছিল, কিন্তু কোন রকম প্রমাণের ধার না ধেরে, মনগড়া অপ্রমাণিত বক্তব্য রেখে ধর্মীয় বিদ্বেষ জিইয়ে রাখা ধর্মীয় অধিকারের মধ্যে পড়ে কিনা বিজ্ঞজন মতামত দিবেন। তাওরাতে স্বয়ং হযরত মুহাম্মদ নিজের নাম খুঁজতে গিয়ে সেই ধর্মের সমস্ত ধার্মীকদের মিথ্যাবাদী, জোচ্চোর, শঠ, প্রতারক বানিয়ে ছেড়েছেন! যদিও এ সম্পর্কে কোন প্রমাণ তিনি দাখিল করতে পারেননি। শুধু কুরআনকে দেখিয়ে উনি বলেছেন, এখানে লেখা আছে ইহুদীরা তাওরাত বিকৃত করে ফেলেছে!

জাকির নায়েক “বেদে” হযরত মুহাম্মদের আগমনের বার্তা খুঁজে বের করতে পারলেও (!) তার নবী মুহাম্মদ তাওরাতে নিজের নামখানা বের করে দেখাতে পারেননি। তবে তার নাম যে লেখা ছিল তার অকাট্ট প্রমাণ হাজির করেছিল ঠিকই! তিনি দাবী করেছিলেন, ইহুদীরা তাওরাত বিকৃত করে উনার নাম মোবারক মুছে ফেলেছে! “হযরত মুহাম্মদের আগমনী বার্তা কি তাওরাতে উল্লেখ আছে?”- এই নামে একটি লেখা আগেই লিখেছিলাম বলে এখানে সে বিষয়ে আর কিছু বলবো না। সেই লেখাতে বেদে মুহাম্মদের আগমনি বার্তা থাকার কথা ইচ্ছে করেই রাখিনি লেখার পরিধি বড় হয়ে যাবে বলে। এই বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি লেখা লিখবো বলে আগেই মনস্থির করেছিলাম। আমরা তাই এই লেখায় দেখবো হিন্দু ধর্মে সত্যিই কি হযরত মুহাম্মদের আগমনি বার্তার কথা লেখা আছে?

একটা জিনিস খেয়াল করে দেখবেন প্রায় সব ধর্মেই একজন করে শেষ অবতার বা পথপ্রদর্শক নবীর আগমনের কথা বলা আছে। একইভাবে একজন অধর্ম, নরাধাম, দজ্জালের আগমনের কথাও উল্লেখ আছে। এর উদ্দেশ্য ধর্মকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটা পথ তৈরি রাখা। একইভাবে একজন শত্রুকে খাড়া করে ধর্মের প্রয়োজনীয়তাকে অবারিত রাখা। ধর্ম যেন কালের ফেড়ে অপ্রয়োজনীয় হয়ে না পড়ে, মানুষ যেন তার সময়ে ধর্মকে অসাড় মনে না করে- সেই লক্ষ্যে এই সব শেষ ত্রাতা, শেষ শত্রু বলে মিথ চালু রাখা হয়। ধর্মবেত্তাদের চিন্তা যে একদমই ভুল ছিল না সেটা দেখতে পাই এই কালে এসেও জর্জ বুশকে দজ্জাল ও বিন লাদেনকে ইমাম মাহেদী বলে সাধারণ ধর্ম বিশ্বাসীরা ধর্মের সত্যাসত্য ও প্রয়োজনীয়তার কথা ভেবে নিশ্চিন্ত হন।

হযরত মুহাম্মদ তাওরাতে উনার আগমনি বার্তাকে প্রমাণ করতে না পেরে বলেছিলেন ইহুদীরা সেকথা জেনেশুনে মুছে ফেলেছে। তবে উনার “কল্কি শিষ্য” জাকির নায়েক গুরুর থেকেও মহা ঘুঘু মাল! এই লোক একদম প্রমাণই করে ফেলেছে তার নবীর নাম হিন্দুদের ধর্মীয় কিতাবে লেখা আছে! কৌতূহল জাগতে পারে হিন্দু “বেদে” কি মুহাম্মদ ও তার বাবা-মার নামধাম সহ কিছু উল্লেখ আছে? ভাবলে অবাক লাগে, একজন মানুষ কতখানি আমড়াগাছি করতে পারলে হিন্দু ধর্মে হযরত মুহাম্মদকে আবিষ্কার করতে পারেন! কয়েক হাজার বছর আগে যদি বেদে মুহাম্মদের কথা বলাই থাকবে তাহলে বেদের ঋষিদের পৌত্তলিকতা জারি থাকে কিভাবে? সেমিটিক ও প্যাগণ ধর্ম দুই পৃথিবীর বাসিন্দা। মুহাম্মদ জাতে মাতাল হলেও তালে ঠিক ছিল বলে নিজেকে সেমিটিক ধর্মের নবী দাবী করে প্যাগন ধর্মে নিজের ভবিষ্যত বার্তা দাবী করেননি, করেছেন সেমিটিক ইহুদী ধর্মে। কিন্তু “কল্কি শিষ্য” জাকির নায়েক বেহেড মাতালই বলতে হবে। আসুন দেখি তার মাতলামীর নমুনা।

কোন একটা ধর্মীয় গ্রন্থে হাজার বছর আগে কোন মানুষের জন্মের অগ্রিম কথা লেখা আছে এমন দাবী আসলে সেই ধর্ম ও তার গ্রন্থকে ঐশ্বরিকভাবে মেনে নেওয়া। সেমিটিক ধর্মের পৌত্তলিক ধর্মকে মেনে নেয়ার নজির একমাত্র ইসলামের দেখা যায়। জাকির নায়েক ও তার মত পেশাদার ইসলামী বক্তাদের যতগুলি ভিডিও ও লেখা পড়লাম সেখানে কল্কি পুরাণ ও ভবিষ্য পুরাণের কথাই উল্লেখ করেছে। পুরাণ আর বেদ কি এক জিনিস? আমি হিন্দু ধর্মের বিশেষজ্ঞ নই। যতদূর জানি পুরাণ হিন্দুদের কোন ধর্মীয় গ্রন্থ নয়। পুরাণকে প্রায় গালগল্প বলা চলে। জাকির নায়েক তার একটা লেকচারে হিন্দু ধর্মে হযরত মুহাম্মদের আগমনি বার্তার প্রমাণ দেখাতে গিয়ে বলেছিলেন,

// “এতস্মিন্নন্তিবে সেত্দচ্ছ আচার্যেন সমন্বিতঃ। মহামদ ইতিখ্যাতঃ শিষ্যশাখা সমন্বিত।। নৃপশ্চৈব মহাদেবং মরুস্থ নিবাসিম্ম। চন্দনাদিভির ভ্যর্চ্য তুষ্টাব মনসাহরম্নমস্তে গিরি জানাথ মরুস্থল নিবাসিনে। ক্রিপুবাসুরনাশায় বহুমায়া প্রবর্তিনে॥" (ভবিষ্যপুরাণ ৩:৩:৩)//

// "তম্মান্মুসলবন্তো হি জাতয়ো ধর্ম্ম দূষকাঃ। ইতি পৈশাচধমশ্চ ভবিষ্যতি ময়াকৃতঃ। ” (ভবিষ্যপুরাণ শ্লোকঃ১০-২৭।) 

অর্থ্যাৎ,  ত্রিপুরাসুর নামে একজন আসবেন। মুহামদ নামে জন্ম নেবে ও একটা আসুরী ধর্ম প্রচার করবে। এই ধর্মের অনুসারীদের মুসলমান বলা হবে। তারা মাংস ভক্ষক হবে। মাথায় শিখার বদলে তারা দাঁড়ি রাখবে। তারা লিঙ্গ কর্তন করবে।

… মুহাম্মদের লিঙ্গ ৪০ বছর বয়েসে কর্তন করা হয়েছিল এরকম কোন তথ্য কোন ইসলামী সূত্রেই পাওয়া যায় না। আরব মূর্তি পুজারীরা খৎনা করত না। হযরত মুহাম্মদের প্রথম দিকের সমস্ত শিষ্য যারা কুরাইশ মূর্তি পুজারী ছিল তারা কেউ সেই বুড়ো দামড়া বয়েসে নুনু কেটে ঘরে বসেছিল এরকম কোন হাদিস বা অন্য কোন সূত্রে জানা যায় না। বড় কথা হচ্ছে হযরত মুহাম্মদ  ভারতবর্ষে কোনদিন আসেননি। তাছাড়া কোন ঈমানদার বান্দা কি ইসলাম ধর্মকে “অসুরের ধর্ম” বলে মেনে নিবেন? তাহলে ভবিষ্য পুরাণে কোথায় হযরত মুহাম্মদের কথা বলা হয়েছে? হযরত মুহাম্মদ স্বয়ং কি কোনদিন বলেছেন যে ভারতের ধর্মীয় গ্রন্থে উনার কথা বলা আছে? ভারতবর্ষ কোন অনুল্লেখ্য স্থান নয়। ভবিষ্যতে এরকম বিতর্ক যেখানে শুরু হবে তা নিয়ে কি “সত্য ধর্মের একমাত্র নবী” কিছু বলে যাবেন না? সবচেয়ে বড় কথা ভবিষ্য পুরাণে কথিত এই মুহাম্মদকে নিচ, পিশাচ, পাপী, অধর্ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে! ভবিষ্য পুরাণের এই দাবীকে সত্য ধরলে ইসলাম ধর্মকে শয়তানের ধর্ম ছাড়া অন্য কিছু বলা যায় না। টাউট জাকির নায়েক সাধারণ হিন্দুদের মনে ধাক্কা দিতে ও সাধারণ মুসলিমদের আমোদ দিতে ভবিষ্যপুরানের প্রায় সকলের অগোচড়ে থাকা এই বিষয়টি আলোচনায় নিয়ে এসেছে যেখানে মুহাম্মদকে একটা পাপাত্মা বলে পরিচয় করে দেয়া হচ্ছে। বেদ বা হিন্দু ধর্মের সত্যিকারের প্রাচীন কোন গ্রন্থেই হযরত মুহাম্মদের কথা বলা থাকবে না এটা বৈজ্ঞানিকভাবেই নিশ্চিত করা যায়। কিন্তু ধার্মীক তো বিজ্ঞানকে মানবে না। তারা তাই পরস্পর একে অপরকে অভিযুক্ত করে যাবে। ভন্ড জাকির এসব তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করবে। এখন আসা যাক ভবিষ্য পুরাণে মুহাম্মদের নামধাম সহ তাকে পাপাত্মা বলে উল্লেখ করা থাকলো কিভাবে? এটা জানার আগে আপনাকে জানতে হবে হিন্দু ধর্মের মূল গ্রন্থ কোনগুলি। ভবিষ্যপুরাণ, মৎস্য পুরাণ, কল্কি পুরাণ এরকম যত পুরানই আছে তা হিন্দু ধর্মের গালগল্প ছাড়া কিছু না। মীর মোশারফ হোসেনের বিষাদ সিন্ধু যেমন কারবালার ঘটনা নিয়ে লেখা কাব্য, তেমনি হিন্দু দেবদেবীদের নিয়ে লেখা নানা কাহিনী বাজারে পাওয়া যায় নানা জন নানাভাবে লিখেছেন। পুরাণ আপনিও লিখতে পারবেন। অনেকদিন আগে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রাধা-কৃষ্ণকে নিয়ে একটা ছোট উপন্যাস লিখেছিলেন- সেটা কোন ধর্মীয় গ্রন্থ নয় নিশ্চয়? আপনিও দেব-দেবীদের নিয়ে নিজস্ব ভাল লাগা বা পছন্দের দেব-দেবীদের বেশি বীরত্ব দেখিয়ে কোন পুরাণ লিখতে পারেন যেটা অন্যেদের লেখা কাহিনী থেকে ভিন্ন হতে পারে। এ জন্য হিন্দুদের পুরাণের কাহিনী একেক জায়গায় একেক রকম দেখা যায়। যেমন গণেশের মাথা কাটার কয়েকটি কারণ দেখেছি যা একটির সঙ্গে অন্যটির মিল নেই। যেহেতু হিন্দুরা তাদের ধর্ম সম্পর্কে শিক্ষিত নয়, আর মুসলিমরা সংগত কারণেই হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে কোন জ্ঞান রাখে না, এটা জেনেই চতুর জাকির হিন্দু ধর্মে মুহাম্মদকে খুঁজে পেয়েছেন বলে দাবী করেছে। এবং এটা করতে গিয়ে পাপাত্মা বলে অভিহত করা মুহাম্মদকে দেখাতেও তিনি কসুর করেননি। আসলে তথাকথিত এইসব ভবিষ্য পুরাণ গুলি খুব বেশিদিন আগের লেখা নয়। বেশির ভাগই মুঘল আমলে লেখা। সম্রাট আকবর নিজেই একজন নবী হতে গিয়ে হিন্দু-ইসলাম ধর্মকে মিলিয়ে মিশিয়ে একটা ধর্ম তৈরি করতে চেয়েছিলেন। সেই ধর্মের প্রেক্ষাপট তৈরি করতে গিয়ে নানা রকম পুরাণ লেখান তার লোকজনদেরকে দিয়ে। হিন্দু ধর্মে ইসলামের নবীর কথা বলা আছে এটা বলে তিনি হিন্দুদের নিজ ধর্ম আকড়ে থাকার অনড় অবস্থান থেকে সহনশীল করতে চেয়েছিলেন। একইভাবে নিজে একটি ধর্মের ঘোষণা দিয়ে মুসলিমদের নিজ ধর্ম ত্যাগ করাতে চেয়েছিলেন। এসব করতে গিয়ে তিনি হিন্দু পন্ডিতদেরকে দিয়ে পুরাণ লেখান। এটা করতে গিয়ে তিনি হিন্দু-মসলিম দুই পক্ষেই বিরাগ ভাজন হন। সেই প্রতিক্রিয়ায় হযরত মুহাম্মদের শয়তানের মত আর্বিভাবের কথা হিন্দু ধর্মে কে কবে লিখে রেখেছে তা আজ আর কে বলতে পারবে। তবে আমাদের উল্লেখিত ভবিষ্য পুরাণের শ্লোকটি আকবরের সময়ের লিখিত না বখতিয়ার খিলজির সময়ে লিখিত বলা মুশকিল। বখতিয়ার খিলজির সঙ্গে এই শ্লোকের কথাগুলি কিন্তু বেশি মেলে। বখতিয়া সাক্ষাৎ পাপাত্মার রূপ ধরেই এসেছিল ভারতবর্ষে।

ভবিষ্য পুরান বেদের কোন অংশ নয়। কল্কি পুরাণও তাই। জাকির নায়েক এসব গালগল্পকেই মুহাম্মদের আগমনি বার্তার মাধ্যম বলে দাবী করে চরম অবিবেচনার পরিচয় দিয়েছেন। যেখানে স্বয়ং হযরত মুহাম্মদ তাওরাতে নিজের পরিচয়কে প্রমাণ করতে পারেননি সেখানে জাকির কিভাবে হিন্দু পুরাণে মুহাম্মদকে প্রমাণ করবেন?

ইন্টারনেটে সার্চ করে এ সম্পর্কে যতগুলি লেখা পেলাম, দুই পক্ষে কাঁদা ছুড়াছুড়ির মাঝে জাকির নায়েকের অনুসারীদের মিথ্যাচার স্পষ্ট হয়েছে। হযরত মুহাম্মদ তাওরাতে নিজের নাম খুঁজে না পেয়ে শেষে যে আশ্রয় নিয়েছিলেন (ইহুদীরা তাওরাত বিকৃত করে ফেলেছে) এখানেও দেখলাম অনেকে বলার চেষ্টা করেছেন পুরাণকে বিকৃত করে ফেলা হয়েছে! তবু জাকির নায়েক কল্কি পুরানে কল্কির সঙ্গে হযরত মুহাম্মদের মিল খুঁজে পেয়েছে! স্বঘোষিত শেষ নবী মুহাম্মদ আসছেন এটা নাকি কল্কি পুরাণে বলা হয়েছে। ইমাম মাহেদী যেমন দুনিয়াতে ডজন খানেক এরিমধ্যে জন্মে নিয়েছেন, আরে নিবেন, এই আসা-যাওয়া থামবে না। হিন্দুদের বহু বাবাজি নিজেকে কল্কি পুরাণের কল্কি বলে নিজেকে দাবী করেছেন। আরো করবেন সামনে। কারণ এই পুরাণের সঙ্গে এক-দুই ভাগ যে কোন মানুষের সঙ্গে মিলে যাবে। আর চাপাবাজ শিষ্যরা থাকলে সেটাকেই আকাশে তুলে দিবে। জাকির কল্কিপুরাণের কল্কিকে নবী মুহাম্মদ বলে দাবী করেছেন অথচ বর্ণিত কল্কির সঙ্গে তার কোন মিলই পাওয়া যায় না! কোন কোন ক্ষেত্রে শব্দের অর্থকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। এই বিষয়ে যত বিতর্ক ইন্টারনেটে দেখলাম তাতে আমার নিজের মত হচ্ছে, জাকির নায়েক কথিত কল্কির সঙ্গে নবী মুহাম্মদের কোন মিলই দেখাতে পারেননি। হিন্দুদের কল্কি অবতার একটা ভাওতাবাজি। ইমাম মাহাদীর মতই এটি ধর্মকে প্রাসঙ্গিক ও চালিয়ে নিয়ে যাবার রাস্তা। জাকির নায়েকের লেকচারের দাবী ও এ সংক্রান্ত জবাবে বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় সংস্থা, ইন্টারনেট ওয়েব সাইটে প্রকাশিত হয়েছে মোটামুটি নিচের এই অংশগুলিকে ঘিরেই।-

কল্কি পুরান এ বলা আছে কল্কি অবতার এর পিতা মারা যাবে তার জন্মের পর (1:2:15 Kalki Purna)
-হযরত মুহাম্মদের বাবা মারা যান তার জন্মের পূর্বে! বিসমিল্লাতেই ধরা!

কল্কি তার মাতা সুমতির ৪র্থ সন্তান রুপে পৃথিবীতে আসবেন (কল্কি পুরান ২.৩১ )
-হযরত মুহাম্মদ গর্ভে থাকাকালে তার পিতার মৃত্যু হয়েছিল তাই সঙ্গত কারণেই তার আর কোন ভাই-বোনের জন্ম হবার কথা নয়। তার মাতা আমিনা আবার বিয়ে করেছেন এমন কোন তথ্য আমাদের জানা নেই। কল্কির সঙ্গে এখানেও মুহাম্মদ মেলে না। হযরত মুহাম্মদ তার বাবা-মার একমাত্র সন্তান ছিলেন।

তিনি জন্ম নিবেন মাসের এক ১২ তারিখে (কল্কি পুরান 2nd অধ্যায় ১৫নং অনুচ্ছেদ)
-হযরত মুহাম্মদের ১২ রবিউল আওয়াল জন্মেছেন তার কোন প্রমাণ ইসলামের কোন সূত্রে পাওয়া যায় না। কোন আলেম বা বিশেষজ্ঞই এবিষয়ে একমত নন। তবে ১২ তারিখকে ধরে নেয়া হয়।

কল্কির বাবার নাম হবে “বিষ্ণুযশ” যার অর্থ হবে "ঈশ্বরের গর্ব"। জাকির নায়েক দাবী করেছেন কল্কি নাম নাকি লেখা আছে  বিষ্ণুইয়াসি যার অর্থ সৃষ্টিকর্তার গোলাম। এর সঙ্গে মুহাম্মদের বাবার নাম আবদুল্লাহ (আল্লার দাস) মিলিয়েছেন। হিন্দু পন্ডিতদের চেয়ে জাকির নায়েক সংস্কৃত বেশি বুঝবেন আর জাকির মিয়ার চাইতে কোন হিন্দু পন্ডিত কুরআন বেশি বুঝবেন সেটা আমি দাবী করি না মানিও না। কাজেই জাকির নায়েক এই জায়গায় “তাকিয়া” খেলেছেন সংগতভাবেই। এক জায়গায় দেখতে পেলাম সংস্কৃত সভা না কি একটা সংঘ এই বিষয়ে বিতর্কের আমন্ত্রণে জাকির নায়েক কোন সাড়া দেননি!

কল্কির মায়ের নাম হবে সুমতি। এটাকে জাকির নায়েক আরবী আমেনা বানিয়েছেন। আমেনা অর্থ শান্ত আত্মা। আরবী জাকির ভালই জানেন আগেই বলেছি। কিন্তু সুমতি শব্দটি একজন বাঙালী হিসেবে আমার নিজের কাছে তো অচেনা নয়। এর অর্থ কিছুতে ভাল আত্মা হতে পারে না! শরৎচন্দ্রের “রামের সুমতি” নামের শিশুতোষ রচনাটির অর্থ নিশ্চয় রামের শান্ত আত্মা নয়!

বলা আছে কল্কিকে তার গুরু রামদেব বেদ শেখাবেন (কল্কি পুরান, 3/43)

-হযরত মুহাম্মদ বেদ জানতেন এটা কি কোথায় পাওয়া যায়? মুসলিমরা গর্ব করে বলেন উনি অশিক্ষিত ছিলেন! তো রামদেব নামের মুহাম্মদের কোন শিক্ষকের নামও তো কখনো শুনিনি!

কল্কি পৃথিবীর প্রত্যেকটি প্রান্তে যাবেন এবং সেখানকার খারাপ লোকদের হত্যা করবেন, এতে খুব কম লোকই অবশিষ্ট থাকবে এবং তাদের মাধ্যমে আবার সত্যযুগ শুরু হবে। (Brahmanda purana (1/2/31/76-106), vayu purana (58/75-110)

-এটা কিন্তু ইমাম মাহাদীর সঙ্গে দারুণ মিলে যায়! ঐ যে বললাম ধর্মের রাস্তা খুড়ে রাখা আগামীদিনের জন্য। কিন্তু হযরত মুহাম্মদের সঙ্গে কি এটা মিলে? হযরত মুহাম্মদ মারা যাওয়ার আগে মাত্র ১০ হাজার অনুসারীকে রেখে গিয়েছিলেন। তার ধর্ম তখন পর্যন্ত প্রসার লাভ করেনি। কথিত “সত্য যুগ” কি মুহাম্মদের জন্মের পর আজ অবধিকে কোনমতে বলা যায়?

কল্কি ও তার স্ত্রী নিরামিষভোজী হবেন। (কল্কি পুরান 3/43)

-হযরত মুহাম্মদ নিরামিষ ভোজি ছিলেন এমনটা তার শত্রুও বলতে পারবে না! উনার প্রিয় ছিল বকরির ঠাংয়ের রোস্ট। এই ঠ্যাং খেতে গিয়েই বিষক্রীয়ায় শেষ পর্যন্ত মারা গিয়েছিলেন এই আলোচিত-সমালোচিত ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ।

কেন এই মিথ্যাচার? ধর্ম তো বিশ্বাসের জিনিস। কেন ইসলাম ধর্মকে বিজ্ঞানের মধ্যে, অন্যের ধর্মের মধ্যে আবিস্কার করতে হবে? এর একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রতারণা! প্রতারণা করে অন্যকে ধর্মে আকৃষ্ট করা, স্বধর্মের প্রতি মনোযোগি করে তোলা। নিজ ধর্ম সম্পর্কে অন্যকে আকৃষ্ট করা সম্ভবত একজন ধার্মীকের অধিকারের মধ্যেই পড়ে। কিন্তু যেটি অধিকারের মধ্যে পড়ে না, বরং পুরোপুরি একটা ক্রাইম সেটি হচ্ছে এইরকম মনগড়া ব্যাখ্যা হাজির করে অন্যের ধর্মের কিতাবকে নিজের ধর্মের বিতর্ক তুলে ধরা। হযরত মুহাম্মদ নিজে তাওরাতকে বিকৃত করে ফেলা হয়েছে- এরকম অপ্রমাণিত উক্তি করে চরম ধর্মানুভূতিতে আঘাত করেছেন সমস্ত ইহুদী-খ্রিস্টানদের। তার এই উক্তি, তার কুরআনের এই ভাষ্য আজো পৃথিবীতে এই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সংঘাত, দ্বন্ড, অবিশ্বাস, ঘৃণা, বিদ্বেষ জারি রেখেছে। এটি পৃথিবী ইতিহাসে সবচেয়ে প্রতিক্রিয়াশীল উক্তি। আজতক মানবজাতি তার মাসুল দিয়ে যাচ্ছে। জাকির নায়েকদের মত পেশাদার ইসলামজীবীদের যদি এখনি রুখা না যায় তো, তারা এমন তরো সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, অবিশ্বাস, ঘৃণা ছড়াতে থাকবে। ধর্মের এই আরোপিত বিতর্ক বিভক্ত পৃথিবীকে আরো বিভক্তই করবে। জাকির নায়েকদের ধর্মীয় অধিকার কতটুকু সেটা এখনি নির্ধারণ করে না দিলে সামনের পৃথিবীতে ধর্মীয় সংঘাত আরো বাড়বে। এদের মুখোশ তাই প্রতিনিয়ত খুলে দিতে হবে। মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে।

- সংগৃহীত

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...