Tuesday, October 31, 2023

আলোচনা 'হাইফেন' গল্প - শঙ্কু চক্রবর্তী


যৌনতা মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি৷ সমলিঙ্গে হোক বা বিপরীত লিঙ্গ, যৌনতার প্রতি আকর্ষণ মানুষ মাত্রই থাকবে৷ এই ধারণাই বেশিরভাগ মানুষ পোষণ করেন৷ কিন্তু এর বাইরেও রয়েছে আরও একটি শব্দ৷ অযৌনতা বা এসেক্সুয়ালিটি। কোনও রোগ বা প্রবৃত্তি নয়, LGBT+-র একটি প্রকারভেদ।

'হাইফেন' আমরা সাধারণত বুঝি - 'একটি বিরাম চিহ্ন যা শব্দগুলিকে যুক্ত করতে এবং একটি একক শব্দের সিলেবল আলাদা করতে ব্যবহৃত হয়'। তো এই শব্দকে নামকরণ করেছেন লেখক শঙ্কু চক্রবর্তী  তাঁর গল্পের (হাইফেন)। গল্পের প্রতিটা অংশ অসাধারণ শব্দ বুননে তৈরি।শুরুর দিকে প্রচন্ড রিচুয়াল ফেমিলি যে নিজের মেয়ের বিয়ে নিয়ে মেট্রিমনি থেকে শুরু করে হাঁসের সঙ্গে বিয়ে। মাঙ্গলিক দোষ কাটিয়ে পেয়েছেন - 'জামাই আমার সোনার ছেলে'। সামাজিক কায়দার বহির্ভূত তো নয়, বিয়ে মানে শুধুই নাতির মুখ দেখা।  উৎসুক, পরিবার থেকে নিকটাত্মীয়ের ক্যাটাগরি। তাই পারমিতা কবে মা হচ্ছে ওর পেট খুদতে অস্থির ঠাম্মা থেকে দিদারা।

গল্পটা যতবারই পড়েছি 'তুমি সুখ যদি নাহি পাও,যাও, সুখের সন্ধানে যাও' এই লাইন বারবার মনে আসতে থাকে। পারমিতা আর অর্ণব ইঞ্জিনিয়ার হলেও রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস সাংঘাতিক টুইস্ট। ইন্ট্রোভার্ট একটা মানুষের সাথে পারমিতা, যে সারাক্ষণ বকবক করতে পারে। বুঝাতে চেয়েছে অর্ণবকে কাপোলরা শুধু একছাদের তলায় থাকা নয়, সেক্স ও জরুরি, উই আর লিগেলি হাজবেন্ড এন্ড ওয়াইফ। কিন্তু অর্ণবের কথা কি ফেলা যায়, বিয়েতে সেক্স নির্ভর 'লিগেলাইজড প্রস্টিটিউশনস'। সেই জায়গায় গল্প বলছে অর্ণব অন্য কিছু বলতে চাইছে যা পারমিতা বুঝতে পারছে না।

'সেক্স' মানুষের দৈনিক চাহিদা। শরীরের অন্যান্য চাহিদার মতো এটাই একটা। মূলত আমরাই এটাকে কনজারভেটিভ করে ফেলেছি। সেজন্য পর্যাপ্ত যৌন শিক্ষারও প্রয়োজন। সেক্সুয়েল ওরিয়েন্টেশনের বাইরেও তো থাকা যায়। যেটা অর্ণব চাইছিল। পরিবারের ভয়ে ডিভোর্স দিতে পারছে না। আর অন্যদিকে পারমিতার জন্যও তার মন খারাপ। কিন্তু এই মন খারাপের মাঝে অর্ণব পরিচয় করিয়ে দেয় টার্কিস ছেলে সেলিমের সঙ্গে পারমিতাকে। সম্পর্কের ডানা মেলে ঠোঁটে ঠোঁট ঘনত্ব বেড়ে যায় বেডরুম পর্যন্ত -
'Down the way
Where the nights are gay
And the sun shines daily on the mountaintop'। এখানেই একটা কিন্তু থেকে যায়, অর্ণব কোন প্রেক্ষিতে পারমিতার জীবন নিয়ে খেললো। তাঁর মেইল ইগোর জন্য ?

নারী ও পুরুষের যৌন চেতনায় বিরাট একটা পার্থক্য আছে তাঁদের এসেক্সুয়ালিটি নিয়ে। এদের বৈশিষ্ট হলো, এঁরা কোনো জেন্ডারের প্রতিই সেক্সুয়ালি এট্রাকটেড ফীল করে না। এঁরা ইম্পটেন্ট নয়, শারীরিক ভাবে যৌন মিলনে খুবই সক্ষম। কিন্তু এঁরা তাঁদের কারো সাথে যৌনতা ইনক্লুসিভ কোনো রোমান্টিক সম্পর্কে জড়ান না বা জড়াতে পারেনই না। একজন পুরুষ জন্মসূত্রে এসেক্সুয়াল না হলে তাঁদের জন্য আর কখনোই এসেক্সুয়াল হওয়া সম্ভব না। অথচ জন্মসুত্রে এসেক্সুয়াল নন, এমন একজন নারীর জন্য জীবনের একটি পর্যায়ে সেক্সুয়ালি একটিভ জীবন যাপন করার পরেও অন্য একটি পর্যায়ে এসেক্সুয়াল হয়ে যাওয়া মোটেও অসম্ভব না। স্থায়ীভাবে একা থাকা কোন মহিলা যৌন বিবর্জিত হওয়ার জন্য প্রথম দিকে কিছু অসুবিধা ফিল হলেও কিন্তু কিছুদিন এভাবে চলবার পর তাঁরা নিজে থেকেই এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠেন এবং এই এসেক্সুয়ালিটিতে এতটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েন যে বাকিটা জীবন তাঁদের জন্য এই এসেক্সুয়াল জীবনযাপনে আর কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু এখানেই গল্পের 'হাইফেন'। পারমিতা  'লিউট'-র শব্দে আর সামলাতে পারলনা নিজেকে প্রশান্তি দিলো সেলিমের নগ্ন মসৃণ বুকের লোমে তার মাথা রেখে। যেখানে গল্পটা বলছে পারমিতা একটা পার্টিকুলার রীতিমতো এরেঞ্জড মেরেজ করেছে। কিন্তু অর্ণবের সাথে শীতল সম্পর্ক পারমিতা সেই জায়গায় 'হাইফেন' বসায় - 'লক্ষণরেখাকে মনে হয়, 'মাই ফুট, ফাকিং রেখা'। 

শঙ্কু দা'-র 'হাইফেন'-এ মেলোডিয়াস এবং চাহিদা আর উত্তেজনার ককটেল আমার কাছে উত্তরপূর্বের গল্প সমগ্রে এনেছেন এক অভিনবত্ব। পারমিতা-অর্ণব-সেলিম এই ত্রিশঙ্কু পরিচয়কে এক বৃত্তে কেন্দ্রভূত করা চারটে খানে বিষয় নয়। এসেক্সুয়ালিটি একটি স্বাভাবিক বিষয় খুব সাবলীল ভাবে বলে গেলেন। এসেক্সুয়ালিটি এতটাই কমন ব্যাপার জীবন যাপনে অসুবিধে তো দূরের কথা অভ্যস্ত হওয়া স্বাভাবিক। তাই 'হাইফেন' সবদিক থেকেই এক স্বার্থক উদ্ধার।

Wednesday, October 11, 2023

বাল্যবিবাহ রোধ: শুধু চমকে নয়, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানেই এর সমাধান


বাল্যবিবাহ একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে বাল্যবিবাহের হার সবচেয়ে বেশি। ইউনিসেফ এর তথ্যানুযায়ী প্রতিবছর প্রায় দেড় লক্ষ বাল্যবিবাহ হয়ে থাকে ভারতে। বাল্যবিবাহ মেয়েদের উপর স্বাস্থ্য সমস্যা সহ বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বাল্য বিবাহের কারণে তাদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত হওয়া, গার্হস্থ্য সহিংসতা বৃদ্ধিসহ নানা ধরনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ভারতবর্ষে বাল্যবিবাহের বেশ কিছু জটিল ও আন্তঃসম্পর্কিত কারণ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্য, লিঙ্গ বৈষম্য, শিক্ষার অভাব, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রীতিনীতি, সীমিত আইনি সুরক্ষা, সংঘাত ও স্থানচ্যুতি ইত্যাদি।

ভারতবর্ষে অনেক পরিবার অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তাদের মেয়েদের তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দেয়। বাল্যবিবাহকে প্রায়ই আর্থিক বোঝা কমানোর এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা উন্নত করার উপায় হিসেবে দেখা হয়। প্রচলিত পিতৃতান্ত্রিক রীতিনীতি এবং লিঙ্গ বৈষম্য কন্যা সন্তান ও নারীদের অবমূল্যায়নের দিকে নিয়ে যায়। বাল্যবিবাহকে প্রায়ই মেয়েদের সতীত্ব ও সম্মান রক্ষার উপায় হিসেবে দেখা হয় এবং তাদের স্বাধীনতা ও চলাফেরা সীমিত করা হয়। শিক্ষার অভাব এবং বাল্যবিবাহের নেতিবাচক পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতার অভাব এর প্রসারে ভূমিকা রাখে। গ্রামাঞ্চলের অনেক পরিবার তাদের মেয়েদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামগ্রিক সুস্থতার উপর বাল্যবিবাহের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে অবগত নয়।

সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রীতিনীতি বাল্যবিবাহের ধারণাকে প্রচার করে, বিশেষ করে কন্যাশিশুদের ক্ষেত্রে। এই নিয়মগুলি প্রায়শই ধর্মীয় নেতা, মোল্লা, পুরোহিত, সমাজের প্রবীণ এবং পরিবারের সদস্যদের দ্বারা জোরালোভাবে সমর্থন করা হয়। যদিও বাল্যবিবাহ বেআইনি, তবুও মেয়েদের বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করা খুবই সংগ্রামের। সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির সময়ে, বাল্যবিবাহ বৃদ্ধি পেতে পারে কারণ পরিবারগুলো তাদের মেয়েদের নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতা থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। বাল্যবিবাহ মেয়েদের এবং তাদের পরিবারের জীবনে বেশ কিছু নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যে সব মেয়ের অল্প বয়সে বিয়ে হয় তাদেরসহ শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে, সেইসাথে গর্ভাবস্থা এবং প্রসবের সাথে সম্পর্কিত জটিলতার ঝুঁকি থাকে। তারা তাদের স্বামীর কাছ থেকে শারীরিক ও যৌন সহিংসতার শিকার হতে থাকে।

যে সকল মেয়ের অল্প বয়সে বিয়ে হয়- তারা প্রায়ই স্কুল ছেড়ে দেয়, যা তাদের শিক্ষা এবং ব্যক্তিগত বিকাশের সুযোগ সীমিত করে। এটি দারিদ্র্য এবং বৈষম্যের চক্রকে স্থায়ী করতে অবদান রাখে। বাল্যবিবাহ মেয়েদের অর্থনৈতিক সুযোগে প্রবেশ সীমিত করে এবং আর্থিক স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষমতা হ্রাস করে। এটি দারিদ্র্য এবং লিঙ্গ বৈষম্যের চক্রকে স্থায়ী করে তোলে। যেসব মেয়ের অল্প বয়সে বিয়ে হয় তাদের প্রায়ই সীমিত সামাজিক সমর্থন থাকে এবং তারা তাদের পরিবার এবং সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন হতে থাকে। বাল্যবিবাহের শিকারে একটি মেয়ে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা পড়ে, যেমন হতাশা, উদ্বেগ এবং চাপ, বিশেষ করে যদি মেয়েটিকে বিয়েতে বাধ্য করা হয়।বাল্যবিবাহ মেয়েদের পছন্দ এবং তাদের জীবনের পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ সীমিত করে। তারা শারীরিক এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার আগে প্রাপ্তবয়স্কদের ভূমিকা এবং দায়িত্ব নিতে বাধ্য হয়, যা তাদের শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতার উপর প্রভাব ফেলে।

আসাম তথা ভারতের অনেক জায়গায় বাল্যবিবাহ একটি বড় সমস্যা।  প্রথা রোধ করার লক্ষ্যে আইন ও নীতি তৈরি করা সত্ত্বেও, বাল্যবিবাহ এই অঞ্চলে একটি বিস্তৃত সমস্যা রয়ে গেছে।  বাল্যবিবাহ বলতে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুর বিয়েকে বোঝায়, কখনও কখনও ছয় বা সাত বছরের কম বয়সী। আসামে বাল্যবিবাহের প্রধান কারণ হল দারিদ্র্য, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রীতিনীতি, ধর্ম বিশ্বাস এবং শিক্ষার অভাব।  রাজ্যের অনেক গ্রামীণ এলাকায়, পরিবার বাল্যবিবাহকে তাদের মেয়েদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার উপায় হিসেবে দেখে।  তারা বিশ্বাস করে যে অল্প বয়সে বিয়ে করলে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং সামাজিক কলঙ্ক এড়ানো যাবে।  কিছু সম্প্রদায়ের মধ্যে, বাল্যবিবাহকে পরিবারের মধ্যে সামাজিক মিত্রতা স্থাপনের একটি উপায় হিসেবেও দেখা হয়। আসামের পুলিশ বাল্যবিবাহ ঠেকাতে এখনও পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। বাল্য বিবাহ করেছে, এমন কম বয়সী ছেলেরা যেমন এর মধ্যে আছে, তেমনই ধরা হয়েছে তাদের পরিবার আর কাজী – পুরোহিত যারা ওইসব বিয়ে দিয়েছেন, তাদেরও।

অসমে বাল্যবিবাহ পুরোপুরি বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর রাজ্য সরকার। কোভিড অতিমারির বিস্তার রোধে ২০২০ সালে কঠোর লকডাউনের সময় দেশে অন্যান্য অপরাধের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে  কিন্তু বাল্যবিবাহ বাড়ছিল বেশ উর্ধ গতিতে। কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের মতে, ২০২০ সালে অন্য বছরের তুলনায় দেশে বাল্যবিবাহ ৩৩ শতাংশ বেড়েছে।  শুধুমাত্র আগস্টেই এই সংখ্যা ৮৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায়। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো অনুসারে, এই সময়ের মধ্যে দেশে অন্যান্য অপরাধের সংখ্যা ১৩.২৬ শতাংশ কমেছে।  তবে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের অধীনে নথিভুক্ত মামলার সংখ্যা ১৬৭.৯২ শতাংশ বেড়েছে।  রাজ্যে বাল্যবিবাহ নিয়ে চলমান সরকারি প্রচারণা এবং বিতর্কের আলোচনায় এই পরিসংখ্যানগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অসমে বাল্যবিবাহ পুরোপুরি বন্ধ করতে গত সোমবারে বাল্যবিবাহ করা এবং এর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ১ হাজার জনকে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই রাজ্যে বাল্যবিবাহ বন্ধ করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। চলতি বছরেই শুরু হয়েছে বাল্যবিবাহ বিরোধী অভিযান। ফেব্রুয়ারি মাসেই শুরু হয় বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে রাজ্যব্যাপী এই অভিযান । প্রথম দফার অভিযানে সেখানে গ্রেফতার করা হয় ৩ হাজার ১৪১ জনকে। কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে করা এবং ওই বিবাহর ব্যবস্থা করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তাঁদের।

রাষ্ট্ৰসংঘের সংস্থা ইউনিসেফের মতে, দারিদ্র্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অভাব এবং পুরুষতন্ত্রের মতো সামাজিক স্টিরিওটাইপ বাল্যবিবাহের প্রধান কারণ। ৷ বিশ্বে ভারতের বাল্যবিবাহের প্রকোপ  অনেক বেশি এবং ইউনিসেফ এর পিছনে গভীর আর্থ-সামাজিক কারণগুলিকে মোকাবেলা করার জন্য বেশ কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে ৷ কন্যাশিশুর  মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, পুষ্টির যত্নের প্রচার এবং তাদের স্বাস্থ্যকর, উৎপাদনশীল এবং শক্তিশালী প্রাপ্তবয়স্ক করার জন্য তাদের প্রতিভা অনুসারে তাদের বৃত্তিমূলক দক্ষতা বৃদ্ধি করার জন্য জেলা পর্যায়ে কাজ করার দিকে মনোনিবেশ করেছে। ৷ একইভাবে, ভারত সরকার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন ২০০৬ প্রণয়নের মতো আইনি প্রতিকার গ্রহণ করেছে এবং বিভিন্ন শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ৷ কর্মসূচির তীব্রতাও বাড়ছে  এর ফল আমরা দেখছি পরিসংখ্যান মতে দেশে বাল্যবিবাহের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে ৷ ২০০৫ সালে, বাল্যবিবাহের হার ছিল ৪৭.৪ শতাংশ এবং ২০২১ সালের মধ্যে তা ২৩.৩ শতাংশে নেমে আসে ৷ বিপরীতে, আসামের পরিসংখ্যান কিন্তু সন্তোষজনক নয় ৷ সর্বশেষ জাতীয় পারিবারিক স্বাস্থ্য সমীক্ষা (২০১৯-২১) অনুসারে, গ্রামীণ আসামের ২০-২৪ বছর বয়সী এক তৃতীয়াংশ নারীর বয়স হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যায় ৷ এ ক্ষেত্রে আসামের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে শুধু বিহার ও ঝাড়খণ্ড ৷ জরিপে আরও জানা গেছে যে ১১.৭ শতাংশ কিশোরী ১৫ থেকে ৯ বছর বয়সে হয়ে যায় মা অথবা গর্ভবতী৷ এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে বাল্যবিবাহ রোধে সক্রিয় পদক্ষেপ প্রয়োজন  কিন্তু বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন এবং পোকসোর (protection of children from of sexual offences) মতো কঠোর আইনের অধীনে হাজার হাজার পুরুষকে গ্রেপ্তার করা এবং পরিবারগুলিকে হঠাৎ করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত করা কি এই সক্রিয়তার অংশ হতে পারে?

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...