Monday, October 31, 2022

শিশুর বিকাশে মানসিক ও সামাজিক পরিবেশ


 ‘যে ব্যক্তি শিশুকে স্নেহ করে না, তার বাবা-মা কিংবা শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা নেই।’ --- বার্ট্রান্ড রাসেল

আগামী দিনে শিশুরা হবে রাষ্ট্রনায়ক, সরকারপ্রধান, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সচিব, শিক্ষক, নজরুল, ঈশ্বরচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, সাবিত্রী বাঈ ফুলে। এ জন্য সুষ্ঠু ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে, নৈতিকতা মূল্যবোধ শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। শিক্ষা একটি চলমান প্রক্রিয়া। মানবসন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে শিখতে শুরু করে। তবে জন্মের পর থেকে ১০ বছর বয়সে পৌঁছা পর্যন্ত সময়ই শিশুর মস্তিস্ক বিকাশের জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই বয়সেই শিশুদের মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা, অনুসন্ধিৎসা প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিভা বিকশিত হয়। সুতরাং এই বয়স থেকেই একজন শিশুকে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ চর্চায় অভ্যস্ত করা জরুরি। এ সম্পর্কে দালাই লামার উক্তি প্রণিধানযোগ্য ‘শিশুর নৈতিকতা ও মূল্যবোধের বীজ গ্রথিত হয় পরিবারে। তা বিকশিত হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর চর্চা হয় সমাজে।’ তাই সার্বিক নৈতিকতা ও মূল্যবোধের শিক্ষাপ্রক্রিয়ায় পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র প্রত্যেকেই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

একটি শিশুর মানসিক বিকাশের সাথে সামাজিক পরিবেশের একটা কগনেটিভ সম্পর্ক থাকে। বিকাশ যেভাবেই হোক না কেন, এটা সদাই একটা ক্রমবর্ধমান গতিতে অগ্রসর অর্থাৎ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি হয়। সেইজন্য মানসিক বিকাশের সাথে নিত্য পরিবৰ্তন হয়ে থাকা পরিস্থিতির একটা প্ৰভাব থাকে। উদাহরণস্বরূপ দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময়ে আমাদের দেশে বিশেষভাবে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা কম বয়সী যুদ্ধরত সৈন্যদের ক্ষেত্ৰে মানসিক রোগ দেখা দিয়েছিল এবং সেই সময়ে আমাদের ভারতবৰ্ষে মানসিক রোগীর জন্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল সৈনিকদের চিকিৎসার জন্য। দেশের পরিস্থিতি এবং সমাজের অস্থিরতা মানুষের মনের বিকাশ, চিন্তা এবং মানসিক স্বাস্থ্যে প্ৰভাব ফেলে এবং সাথে তা নিয়ন্ত্ৰণও করে। উদাহরণস্বরূপ আমাদের যখন কোভিড১৯ র জন্য বন্ধ হয়েছিল স্কুল-কলেজ এবং দেশে এক অনিশ্চিত পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল। তখন একটি বিকাশরত শিশুর মানসিক বিকাশকে বৃহত্তর বা কম পরিমাণে প্রভাবিত করেছিল।

এই ধরনের পরিবেশে একটি শিশুর মনে কেমন অনুভব বা ধারণ করে তা বোঝা কঠিন, তবে আমাদের উচিত শিশুদের যতটা সম্ভব দুশ্চিন্তা থেকে দূরে রাখা এবং তাদের মানসিক বিকাশে সহায়তা করার জন্য তাদের সবসময় একটি সুস্থ পরিবেশে রাখা উচিত। সমাজে চলিতমান রাজনৈতিক অস্থিরতা বা ধর্মীয় বাতাবরণ থেকে শিশুদের দূরে রাখতে হবে। এই ক্ষেত্ৰে সামাজিক মাধ্যমে কিছু সচেতন হতে হবে। সব সময় ঋণাত্মক ভাবধারা পরিহার করে কিছু ইতিবাচক চিন্তা এবং ভালো ও সুস্থ স্বপ্ন দেখাতে হবে। মহামারি কি আমরা জানি কিন্তু একটি ১২-১৪ বছরের শিশুর ক্ষেত্রে এটা খুব হতাশজনক বিষয়। ভয় পাবে এবং মনে দুঃখ ভাব আসতে পারে। দীর্ঘকালীন এই ভাবধারা হলে স্বল্প পরিমাণে হলেও মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। সেইজন্য শিশুর সঙ্গে কোনো ধরনের আতংকময় পরিবেশের সূচনা আপনাকে পরিহার করতে হবে।

একটা কথা বলা হয় যে সমাজের সঙ্গে নিজেক খাপ খাইয়ে চলার জন্য শিশুর কিছু অভিজ্ঞতার আবশ্যক। কিন্তু আমি মনে করি যে সেই অভিজ্ঞতা মাতৃ স্নেহের থেকে পরিপুষ্ট পরিবেশে হতে হবে বা অভিভাবকদের উচিত আপদকালীন সময়ের আলোচনা থেকে আত্মবিশ্বাসীমূলক শব্দে শিশুকে কিছু শেখানো বা বোঝানো।

যখন আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে করোনা কালে ঘরে বসে অনলাইন পদ্ধতির মাধ্যমে পড়তে দেয়া হয়েছিল তখন তাদের মনের এমন ভাব হয়েছিল যে তারা যেন সর্বদা এইভাবে ঘরে থেকে সময় অতিবাহিত করতে হবে না কি? বা ভবিষ্যত কি হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। আমরা যারা অভিভাবক এবং শিক্ষক ছেলেমেয়েদের ইতিবাচক দৃষ্টিতে পরিবেশ- পরিস্থিতি বুঝতে বা বুঝাতে চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিতে হবে। এই ধরনের মহামারী ১০০ বছর আগেও হয়়েছিল এবং সমস্ত সমস্যার সমাধান আছে বা একমাত্র ধৈর্য ধারণ ও বিজ্ঞানের উপর বিশ্বাস রাখাটা খুব জরুরী। শিশুদের সৃষ্টিকৰ্তার বিপরীতে বিজ্ঞানের উপর বিশ্বাস রাখার উপদেশ দিতে হবে। শুধু বিশ্বাস না প্রমাণ সহ বুঝিয়ে দিতে হবে। যা একটি শিশুর মানসিক বিকাশে ও পরবর্তী সময়ে প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করবে।

শিশুর মানসিক বিকাশে পরিবেশের প্রভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যে শিশু যে রকম সামাজিক পরিবেশে বড় হয়, তার মানসিকতাও সেভাবে গড়ে ওঠে। শিশুর পারিবারিক পরিবেশ, তার পরিচিত গণ্ডি ও আত্মীয়-স্বজন সবার একটা প্রভাব শিশুর ওপর পড়ে। এমনকি এই বলয়ের মধ্যে তার স্কুলের শিক্ষক, প্রতিবেশী ও বন্ধুবান্ধব সবার সম্মিলিত প্রভাবে শিশুর ভেতর একটি মনস্তত্ত্ব গড়ে ওঠে। শিশু ধীরে ধীরে তার পড়াশোনা ও বয়সের পাশাপাশি তার চারপাশের সামাজিক পরিবেশ থেকে যে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান লাভ করে, তা-ই তার মানসপটে একটি আসন তৈরি করে নেয়। একইভাবে শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য ব্যায়াম, খেলাধুলা, সঙ্গীত, সাহিত্য ও শিল্পকলায় অংশগ্রহণ করতে হবে। তাদের শেখানো উচিত, যা শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে উৎসাহিত করে। শিশুদের উপর অতিরিক্ত চাপ দেয়া উচিত নয় এবং তাদের সবকিছুতে দক্ষ করতে তাদের মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। এটা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

আজকের শিশুকে আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে তার জন্য একটি উপযুক্ত সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলা আবশ্যক। কিন্তু এতসব জটিল সমীকরণ সামনে রেখে শিশুদের জন্য একটি সর্বজনীন সামাজিক পরিবেশ তৈরি করা সত্যি কঠিন একটি কাজ। তারপরও কাজ যত কঠিনই হোক, সেটি অসম্ভব মোটেই নয়। এ সত্যকে সামনে রেখে দেশের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে শিশুবান্ধব নীতি-কৌশল প্রণয়ন করেছে ভারত সরকার।

একইভাবে আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রে সমাজ ব্যবস্থা পরিচালিত হয় কিছু প্রতিষ্ঠিত আইনের দ্বারা; যেখানে কিছু নির্দেশনা থাকে, যদ্বারা সমাজে কল্যাণ সাধন করা হয়। এইক্ষেত্ৰে শিশুর জন্য আমাদের দেশে কয়েকটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। যেমন —

(১) শিশু শ্রম নিবারণ আইন ১৯৮৬।
(২) বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধকরণ আইন ২০০৬। 
(৩) শিশুর সুরক্ষা এবং আদর-যত্ন এবং কিশোর ন্যায় আইন ২০০০।
(৪) শিশুর অধিকার সংরক্ষণ আয়োগ আইন ২০০৫।
(৫) বিনামূল্যে শিক্ষার অধিকার আইন ২০০৯।
(৬) শিশুর উপর হওয়া যৌন নির্যাতন প্ৰতিরোধ আইন ২০১২।

এগুলি হল রাষ্ট্রের সম্মিলিত প্রয়াস যাতে শিশুদের মানসিক বিকাশ এবং তাদের সকল প্রকারের উন্নতি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়। এই আইনগুলি কার্যকর করার মাধ্যমে, আমরা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী এবং সুস্থ সমাজ গঠনের চেষ্টা করছি। তাই সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের আজকের শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। সরকারের এসব উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের সব নাগরিক নিজ নিজ অবস্থান থেকে আমাদের শিশুদের জন্য একটি অনুকূল সামাজিক পরিবেশ তৈরিতে সচেষ্ট থাকলেই আমরা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাব আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে।

Friday, October 21, 2022

মানবতার শেষ দান হোক 'মরণোত্তর দেহদান'


‘ মরণোত্তর দেহদান ' ব্যাপারটি সচেতন মানুষের কাছে এখন পরিচিত হলেও অনেকের কাছে সামগ্রিক ধারণাটি তেমনভাবে স্পষ্ট নয়। মরণোত্তর দেহদান হল মৃত্যুর পর শবদেহ ধর্মীয় প্রথাসিদ্ধ মতে সৎকার না করে চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্বার্থে দান করা। ক্ষণস্থায়ী জীবনে আমাদের সবার উচিত ভালো কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা। তাই মরণোত্তর অঙ্গ বা দেহদান এমনই একটি কল্যাণকর কাজ। তবে অঙ্গদান নিয়ে মানুষের মাঝে একটা আবেগ কাজ করে। এখন প্রযুক্তিতে আমরা অনেক এগিয়ে যাচ্ছি। এখন মানবিকভাবে আরও এগিয়ে যেতে হবে।

চিকিৎসায় গবেষণা ও শিক্ষার উদ্দেশ্যে মৃত্যুর পর সমগ্র দেহ দান করা। মানবদেহ বুঝতে এবং বিজ্ঞানের অগ্রগতির জন্য মেডিকেল ছাত্র এবং গবেষকদের সাহায্য করার জন্য শরীর দান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যে কোন ব্যক্তি তাদের দেহ দান করতে ইচ্ছুক, মৃত্যুর আগে স্থানীয় মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল বা একটি এনজিওর সাথে পূর্বে ব্যবস্থা করতে পারেন। ইচ্ছুক ব্যক্তিরা একটি মেডিকেল প্রতিষ্ঠান বা একটি এনজিও থেকে একটি সম্মতি ফর্মের জন্য অনুরোধ করতে পারেন, যারা সম্ভাব্য দাতা মারা যাওয়ার পরে অনুসরণ করা নীতি এবং পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য দেবে। যাইহোক, একটি পূর্বের সম্মতি ফর্মে স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক নয় তবে এটি বাঞ্ছনীয় যাতে আপনার পরিবার আপনার সিদ্ধান্ত এবং আপনার ইচ্ছা পূরণে তাদের যে ভূমিকা পালন করা দরকার সে সম্পর্কে সচেতন হয়। কিন্তু আমাদের দেশে সহজে তা পাওয়া যায় না। এখানে ধর্মীয়, পারিবারিক, সামাজিক অনেক কিছু জড়িত। তবে ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে তো তর্ক করে লাভ নেই। এটা যার যার বিশ্বাস। অনেকই অঙ্গদানে ভয় পান। এতে অনেক সময়ে ডোনারের সঙ্কট দেখা দেয়। দেহদান করতে হয় স্বেচ্ছায়। যে কেউ চাইলেই দেহ দিতে পারেন।

কিন্তু এই দান ভারী অদ্ভুত। যাঁর মৃতদেহ তিনি কিন্তু নিজে এই দান করতে পারেন না, সেটাই স্বাভাবিক। কারন মৃত্যুর পর তিনি দান করবেন কিভাবে? কোন ব্যক্তি জীবিতকালে শুধুমাত্র তাঁর এই ইচ্ছার কথা অঙ্গীকারের মাধ্যমে জানিয়ে রাখতে পারেন শুধু। তাঁর ইচ্ছাপূরণের দায়টা কিন্তু নিকটজনের। আর এই ইচ্ছাপুরণটা যাতে হয় সেক্ষত্রে অঙ্গীকারকের একটা ভূমিকা আছে। তা হল এই অঙ্গীকারকের বিষয়টি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা প্রয়োজন। যা দিয়ে সে নিকটজনকে মোটিভেটেড করতে পারবেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন করা হবে এই দান? তাহলে আমাদের জানতে হবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে মৃতদেহের প্রয়োজনীয়তা কোথায়? আধাত্মিক, আত্মা, পরলোক ইত্যাদি ধারণা থেকে আমরা যে ধর্মীয় মতে বিশ্বাসী, সেই ধর্মের বিধান অনুসারে আমাদের মৃতদেহের অন্তিম কাজ করা হয়। যা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও অবৈজ্ঞানিক। যে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের বিধান অনুযায়ী আমরা চলি তার বয়স খুব বেশি হলে প্রায় তিন হাজার বছর। কিন্তু বিবর্তনের ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি আধুনিক মানুষ, বিজ্ঞানীরা যাকে হোমো সেপিয়েন্স বলে অভিহিত করেছেন সেই সময়ের একটা পর্যায়ের পর মানুষ মারা গেলে সেই মৃতদেহ কবর দেওয়া হত। মৃতদেহের সাথে খাবার সামগ্রী দেওয়া হত। কিন্তু এর সঙ্গে আত্মা বা ঐশ্বরিক কিংবা এই জাতীয় কোনো চিন্তার যোগ ছিল না। আমার এই মতে মৃতদেহ কবর দেওয়ার ব্যাপারটা এসেছে মৃতদেহের পচন ও সেই পচন থেকে দূর্গন্ধের জন্য। আগুনে পোড়ানো অনেক পরে এসেছে।এক সময় নদীতেও ভাসিয়ে দেওয়া হত।

আরজ আলী মাতুব্বর মৃত্যুর কিছুদিন আগে তার লেখা ‘কেন আমার মৃতদেহ মেডিকেলে দান করেছি’ শীর্ষক প্রবন্ধে তিনি বলেন – 'আমি আমার মৃতদেহটিকে বিশ্বাসীদের অবহেলার বস্তু ও কবরে গলিত পদার্থে পরিণত না করে, তা মানব কল্যাণে সোপর্দ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। আমার মরদেহটির সাহায্যে মেডিক্যাল কলেজের শল্যবিদ্যা শিক্ষার্থীগন শল্যবিদ্যা আয়ত্ত করবে, আবার তাদের সাহায্যে রুগ্ন মানুষ রোগমুক্ত হয়ে শান্তিলাভ করবে। আর এসব প্রত্যক্ষ অনুভূতিই আমাকে দিয়েছে মেডিকেলে শবদেহ দানের মাধ্যমে মানব-কল্যাণের আনন্দলাভের প্রেরণা।’

মৃত মানবদেহ (যাকে ক্যাডেভার বলা হয়) ছাত্রদের অ্যানাটমি, শরীরের গঠন অধ্যয়ন এবং এটি কীভাবে কাজ করে তা শেখানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি চিকিৎসক, সার্জন, ডেন্টিস্ট এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কোর্স। নতুন জীবন-রক্ষাকারী অস্ত্রোপচার পদ্ধতির উন্নয়নে গবেষণা চিকিৎসকদের দ্বারাও মৃতদেহ ব্যবহার করা হয়, উদাহরণস্বরূপ, অন্যদের মধ্যে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ অঙ্গে অস্ত্রোপচার পদ্ধতি। চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলি স্বেচ্ছায় অনুদানের মাধ্যমে মৃতদেহ গ্রহণ করে, সেইসাথে পুলিশ যারা দাবিহীন মৃতদেহ দান করে তাদের কাছ থেকেও। এই দানগুলি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে কর্মীরা এবং ছাত্রদের দ্বারা অত্যন্ত মূল্যবান।

'মানুষের দেহ থেকে আত্মাটা বেরিয়ে গেলে দেহটাকে তখন বলা হয় শবদেহ বা লাশ যেটাকে আত্মীয়-স্বজন- প্রতিবেশীরা সমাহিত বা দাহকার্য সম্পন্ন করতে পারলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন। পুড়িয়ে দিলে ভস্মে পরিণত হয় অথবা কবরস্থ করলে পচে গলে মাটিতে পরিণত হয় এবং এটাই বাস্তব। তো সেই অপ্রয়োজনীয় শবদেহের কিছু অংশ দিয়ে যদি কিছু জীবিত মানুষের উপকার হয়, তাহলে সৃষ্টিকর্তার রুষ্ট হওয়ার কথা নয়। এটাই হলো বিজ্ঞানভিত্তিক যুক্তি। কিন্তু, সমস্যা হলো ধর্মের প্রতিনিধিদের নিয়ে। এক একজন মুফতি মাওলানা মুখস্থ করা হাদিসের কিছু বিবৃতি আপনাকে শুনিয়ে দিবেন। কিন্তু তাঁদের জানা উচিত ভারতে আজ পর্যন্ত যত সংখ্যক অঙ্গ প্রতিস্থাপন হয়েছে তার প্রায় ৪৫% প্রতিস্থাপিত হয়েছে কোনো মুসলমানের দেহে। তাহলে ব্যাপারটা কি দাঁড়ালো? মুসলমানেরা অন্যের মৃতদেহের অঙ্গ গ্রহন করতে পারবে কিন্তু নিজের মৃতদেহের অঙ্গ অন্যকে দান করতে পারবেনা -তাই তো? মুফতি মাওলানারাও আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ নেন এবং তাঁরা এটাও জানেন যে, যে ডাক্তারেরা তাঁদের চিকিৎসা করেছেন বা করছেন তাঁদের প্রত্যেককে মৃতদেহের উপর রিসার্চ করে ডাক্তার হতে হয়েছে। তারমানে, তাঁরা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সুযোগ নিবেন, কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়নে সহযোগিতা করবেন না। এই দ্বিচারিতা মেনে নেওয়া যায় না। আবার কেউ কেউ তো আধুনিক চিকিৎসাটাও নিতে চান না। একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি। কয়েকদিন আগে আমার একজন মাওলানা মামা আমাকে ফোন করে জানতে চাইলো রায়গঞ্জে কোনো লেডি গাইনো ডাক্তার আছেন কিনা। আমি তাঁর খোঁজ দিলাম। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা গেল মামীর জরায়ুতে একটি সিস্ট আছে। সেটা এমন পর্যায়ে আছে যে অপারেশন না করলে সেটি ওষুধে সারবেনা। শুরু হয়ে গেল কাঁচুমাচু। ধমক দিয়ে বললাম তোমার একটা অপারেশনের দরকার হলে তুমি করাতে না। শেষ পর্যন্ত অনিচ্ছা সত্বেও ওটি করালো এবং এখন মামী বেশ সুস্থ আছে। বাইরের লোককে কি বুঝাব, আমার নিজের পরিবারেই এমন অনেকে রয়েছেন। বিজ্ঞানের সাথে হাদিসের একটা সংঘর্ষ আছে। আর এই হাদিস লিখিত হয়েছিল ১৫০০ বছর আগে, তখন কিন্তু বিজ্ঞানের এতো অগ্রগতি হয়নি। মুসলমানেরা অনেক বিজ্ঞান মেনেও নিয়েছেন এবং প্রয়োজনের তাগিদে মেনে নিতে হবেই। তাহলে এ বিষয়ে কয়েকটি গল্প বলি। আজ থেকে ২৫-৩০ বছর আগেও অনেক মুসলমান ঘড়ি ব্যবহার করতেন না। তাঁরা ইফতার কিংবা সেহেরি করতেন সূর্যের আভা দেখে অথবা নামাজ পড়তেন নিজের ছায়া দেখে। এখন ঘড়ি দেখে তা করা হয় এবং প্রায় প্রত্যেকটি মসজিদে ঘড়ি এবং নামাজের সময় সারণি দেখতে পাবেন। কয়েকবছর আগে মুয়াজ্জিনরা খালি গলায় আজান দিতেন, এখন মাইকে দেন। এভাবেই মানুষের প্রয়োজনে বিজ্ঞানকে সমর্থন করতেই হবে। 

এখন মুসলমান পরিবারের প্রচুর ছেলেমেয়ে ডাক্তার হচ্ছে। তাঁদেরকেও অন্যের মৃতদেহ কাঁটাছেঁড়া করে ডাক্তারী দক্ষতা অর্জন করতে হয়। হাদিস অনুসারে তাঁরা একাজ করতে পারেন না। তাহলে মেনে নিচ্ছেন কেন? মনে রাখতে হবে মানুষের প্রয়োজনে হাদিস, হাদিসের প্রয়োজনে মানুষ নয়। অর্থাৎ যে হাদিস মুসলমানদের কল্যাণের অন্তরায় তাকে এড়িয়ে চলুন। তাছাড়া, যে হাদিসগুলো নিয়ে মুসলমানেরা বিভ্রান্ত ছিল, ইসলামিক স্কলারেরা মানুষের কল্যাণে সেগুলির অনেকটাই স্পষ্টীকরণ ঘটিয়েছেন এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মানুষের কল্যাণে মুসলমানদের আরো যুক্তিবাদী হয়ে উঠতে হবে। হাদিস অনুসারে মুসলমানদের বিশ্বাস মৃতদেহকে কবরস্থ করার পর কবরের মধ্যেই তার পাপপুণ্যের হিসাব শুরু হয়। ঠিকই আছে বিশ্বাসের খাতিরে তা বিশ্বাস করলাম। কিন্তু যে সব মুসলমানের মৃতদেহ দুর্ঘটনার কারণে বা যুদ্ধের কারণে বা অন্য কোনো কারণে পাওয়া যায় না বা কবরস্থ করা সম্ভব হয়না, তাদের পাপপুণ্যের হিসাব কোথায় শুরু হবে এবং কিভাবে শুরু হবে? আমি বিশ্বাস করি ইসলাম একটি আধুনিক এবং বস্তুনিষ্ঠ ধর্ম। সমাজ গঠনে এই ধর্মের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু সেই ধর্ম যদি একপেশে আলেমের বগলদাবা হয়ে থাকে, তাহলে মুসলিমরা মুক্ত হবে কিভাবে? আলোচনা হোক। আমি যে প্রশ্নগুলি উত্থাপন করেছি, কোনো সহৃদয় আলেম যদি তার যুক্তিনির্ভর উত্তর গুলি দেন তাহলে আমি বাধিত হবো।' (লিখেছেন শাহীদুর রহমান, ফেসবুক পোস্ট)

দুঃখের বিষয় হলো একবিংশ শতাব্দীতেও আমাদের দেশে সাধারণ মানুষদের মধ্যে এই প্রক্রিয়াটি এখনো জনপ্রিয় করা যায়নি। বেহেস্তের বা স্বর্গের অলীক হুর-পরীর লোভ, নরক কিংবা দোজখের ভয়, কুসংস্কার আর অপবিশ্বাসের পাশাপাশি অশিক্ষিত এবং অর্ধশিক্ষিত মোল্লা -- পুরোহিত ছড়ি ঘোরানো যে সমাজে প্রবল সে সমাজে এই ধরণের ব্রাত্য ধারণাকে জনপ্রিয় করাটা কষ্টকরই বটে। কিন্তু উদ্যোগ তো নিতে হবে কাউকে না কাউকে একটা সময়। আসলে সেই ভাবনা থেকেই লেখাটির শুরু। আমি নিজেও এ ধারনায় নতুন সৈনিক। অনেক কিছু জানার চেষ্টা করছি। যতটুকু জেনেছি বুঝেছি এর নিরিখেই প্রবন্ধটি লেখা। আমার দৃঢ় বিশ্বাস পাঠক মহলে নিশ্চিত আগ্রহ বাড়বে। আমাদের দেশে যদিও ইতিমধ্যে বিরাট প্রসার ঘটছে তৎসংগে বরাক উপত্যকায়ও এর সাড়া মিলছে বিশেষ ভাবে। ধন্যবাদ জানাতে হয় সেই সকল ব্যক্তিদের যারা বিভিন্ন এনজিও বা সংগঠনের হয়ে এর প্রচার ও প্রসারে নিরলসভাবে কাজ করে আসছেন। আমরা বিভিন্ন সময়ে পত্র-পত্রিকায় তা দেখি। এই আগ্রহ এবং সাড়া শুভবুদ্ধিধারী মুক্তমনা মানুষদের আগ্রহের চারাগাছ। এই চারাগাছ ধীরে ধীরে বড় হবে, কালের মহীরুহ হয়ে ছড়িয়ে পড়বে আনাচে কানাচে।

ক্লাইমেট চেঞ্জ: গ্লোবাল ওয়ার্মিং ও আমাদের দায়ভার


দিন যত গড়াচ্ছে, ততই চরম হচ্ছে জলবায়ু। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনাও বাড়ছে খুব তীব্র ভাবে। সংকটময় এমন পরিস্থিতির মধ্যে শঙ্কা জাগা তথ্য দিয়েছে রাষ্ট্রসংঘ। বিশ্ব সংস্থাটি বলছে, দুর্যোগের পূর্বাভাস বা আগাম সতর্কতা পেতে আধুনিক সরঞ্জাম নেই বিশ্বের অর্ধেক দেশের কাছেই। পৃথিবীর তাপমাত্রা,দশ বছরে সমুদ্রের জলস্তর প্রায় দুগুন বাড়ছে, গ্লেসিয়া গলছে, বড় বড় আইসবার্গগুলো ভেঙে পড়ছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ দ্রুত হারে বাড়ছে।সামগ্রিকভাবে, আমরা আমাদের নিজেদের প্রজন্মকে আমাদের চেয়েও খারাপ জীবন দিতে চলেছি। নাসার ওয়েবসাইট থেকে ক্লাইমেট চেঞ্জ সেকশনে যদি নজর দেয়া হয় তবে আমরা নিশ্চয় বুঝতে পারবো যে  জীবন সহজ করতে আমাদের সকল কৌশল, আবিষ্কার, উদ্ভাবন সমগ্র মানবজাতিকে মারাত্মক বিপদে ফেলেছে। এই খারাপ পর্যায়টি ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে এবং এই পর্যায়টি আগামী অন্তত এক শতাব্দী ধরে চলতে থাকলে, যা সময়ের সাথে সাথে আরও খারাপ হতে পারে। এর পরিণাম এতোটাই খারাপ হতে পারে যে আমাদের প্রজন্ম কখনো অতি খরা, কখনো বন্যা, কখনো ঘূর্ণিঝড়, আবার কখনও সুনামীর মতো ভয়ঙ্কর প্রলয় পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে শুধু নিজেকে বাঁচানোর প্রচেষ্টায় থাকবে।

১৮৫০ এর উদ্যোগিক কালের শুরুর সাথে সাথেই পৃথিবীর দূর্ভাগ্য লেখার কাজ আধুনিক মানুষেরা নিজের হাতে সংকল্পবদ্ধ হয়ে নিয়েছে। আমাদের নিশ্চয় মহান বৈজ্ঞানিক আর্লবার্ট আইনস্টাইন এর নাম মনে আছে। যিনি তাঁর সময়ে দাবি করেছিলেন যে আগামী একশ বছরে পৃথিবীর জনসংখ্যা এত বেশি হয়ে যাবে যে, কোথাও জমায়েত বা ভিড় করার প্রয়োজন হবে না। কারণ আপনি যেখানে দাঁড়াবেন সেখানেই ভীড় পরিলক্ষিত হবে ! তার এই বক্তব্য নিশ্চয় এখন প্রশ্নবোধক চিহ্নের নির্দেশ দেয়। কারণ আইনস্টাইন, যিনি ১৯৫৫ সালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন, তিনি কখনোই চাননি যে পুরো সত্য ঘটনা বলতে এবং সেই যুগের ধর্মান্ধ চিন্তা জগতের সাথে শত্রুতা করতে। আইনস্টাইনের মৃত্যুর পর থেকে পৃথিবীতে কার্বন ডাই অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, মিথেন ইত্যাদি গ্যাসের মাত্রা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।এগুলি এমন গ্যাস যা একটি নির্দিষ্ট আনুপাতিক স্তরে জীবনের জন্য সামঞ্জস্য তৈরি করে, কিন্তু গত পঞ্চাশ বছরে তাদের অনুপাত আশ্চর্যজনকভাবে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে, যারফলে এক প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

 এই গ্যাসগুলির বৃদ্ধির প্রধান কারণগুলি হল মোটর গাড়ি থেকে নির্গত ধোঁয়া, কারখানার ধোঁয়া, ক্রমাগত বন কাটা ইত্যাদি।পাহাড়ে আমরা অনেক অন্যায় করেছি, অপরাধ করছি, অমানবিক কাজ করছি। এই কাজগুলি আমাদের সকলের জন্যে গ্লানির। ইতিহাস আমাদেরকে ক্ষমা করবে না। আমি একদিন মরে যাবো, আজকের যে তরুণ তিনিও একদিন বুড়ো হবেন, তার একদিন মৃত্যু হবে- কিন্তু ইতিহাসে এই কথাটা থেকে যাবে যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পাহাড়ের সাথে অন্যায় করেছি এবং সেই অন্যায়ের দায় আমার নামে আপনার নামে সকলের খাতায়ই যুক্ত হবে। এই ধরনের মানবিক কার্যকলাপ, যাকে আমরা বিজ্ঞানের আবিষ্কার বলে মনে করি, আধুনিক মানুষ অর্থাৎ আমরা আমাদের জীবনকে সহজ করে তুলেছি। এই গ্যাসগুলোর আপনি যদি গ্রাফ আকারে ক্রমবর্ধমান স্তরের দিকে তাকান তবে আগামী ২৫ বছরে যদিও কোন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ (যদিও আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব) না আসে তবুও আমরা আমাদের প্রজন্মের অক্সিজেন ক্রয় করে জীবন বাঁচাতে হবে যেভাবে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীকে অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে দেয়া হয়।এমতাবস্থায় তো অক্সিজেন উৎপাদনকারী বড় কারখানা থেকে অতিরিক্ত গ্যাস হিসেবে হাইড্রোজেনও নির্গত হবে।

গত চল্লিশ বছরে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণতা সমগ্র পৃথিবীর পৃষ্ঠের তাপমাত্রা মাত্র এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে, মহাসাগরের গড় তাপমাত্রাও বেড়েছে মাত্র অর্ধ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা সমুদ্রপৃষ্ঠের ১০০ মিটার উপরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার সাথে বরফ গলে যাওয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আট ইঞ্চি বেড়েছে। যেখানে চল্লিশ বছরের এই পরিসংখ্যান পৃথিবীর তাপমাত্রার উপর এত বড় প্রভাব ফেলেছে, যেখানে ২০১৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত খুব স্বল্প সময়, অর্থাৎ মাত্র ছয় বছর। সেখানে পৃথিবীর দশ হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ তাপমাত্রার সময় রেকর্ড করা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের বড় প্রমাণ আমাদের চারপাশে তা দৃশ্যমান, অকালীন বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা যা বর্তমান সময়ের আলোচিত সমস্যা, নাসার প্রতিবেদনে সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ দেখানো হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন মৌমাছির উপর তীব্র প্রভাব ফেলছে , তাদের পরাগায়নের ক্ষমতা দুর্বল হচ্ছে বলে জানা গেছে।  অনেক জায়গায় মৌমাছির অস্বস্তিকর মৃত্যু হচ্ছে।  মৌমাছির উপর যে হুমকির সৃষ্টি হয় তা আমাদের ফ্লোরার উপর সরাসরি প্রভাব পড়ে।  মৌমাছির অবসানের সাথে সাথে, পৃথিবী সেই সমস্ত উদ্ভিদের খারাপ প্রভাবও দেখতে পাবে যা পরাগায়ন করছে, যার প্রভাব সরাসরি মানব জাতিকে একটি সংকটজনক পরিস্থিতিতে নিয়ে যাবে।

পরিস্থিতিতন্ত্রের অবনতির সাথে সাথে, জীবনের সম্ভাবনা সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে, যার পর আমাদের প্রজন্ম আমাদের সরাসরি প্রশ্ন করতে পারে যে জীবন মিশ্রিত ছিল, তাহলে কেন আমরা পৃথিবীতে জীবন শেষ করেছি এবং মঙ্গল গ্রহে প্রাণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি? বিশ্বজুড়ে সরকার এই বর্তমান সৃষ্ট সমস্যাটি মোকাবেলা করার জন্য দৃঢ় এবং উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একটি গুরুতর প্রয়োজন দেখছে, তবে এটি দুঃখের বিষয় যে বৈশ্বিক রাজনীতি এখনও কেন্দ্রীভূত শক্তি, পুঁজিবাদ এবং কর্মক্ষমতার উপর আড়ষ্ট রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যখন মানবজাতির ওপর সংকটের মেঘ ঘনীভূত , তখন বিশ্বের সরকারগুলোকে সম্পূর্ণভাবে দায়ী না করে ভোগবাদের জগৎ সরকার নয়, সাধারণ মানুষের তৈরি।  এই সময়ে, যখন মানবজাতির ভবিষ্যত সম্পূর্ণরূপে মানুষের হাতে, তখন সমস্ত মানুষের একত্রিত হয়ে সরকারকে সতর্ক করার একটি বড় প্রয়োজন,  এবং এটিই একটি সমাধানের পথ প্রশস্ত করে।

'হে মোর চিত্ত,পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে'

পরিস্থিতি যত উদ্ভট, সমাজের পরিবেশ যত প্রতিকূল, মূলত সময় এখন প্রশ্রয় দেয় অজ্ঞতায়। অন্তরস্থ ভাঙন তত তরান্বিত। সাধারণ ভাবে চতুর্...